Skip to main content

ছয় দিনের ব্যবধান ।। ইদ্রিস মণ্ডল

nabapravat july 2026

ছয় দিনের ব্যবধান

 

ইদ্রিস মণ্ডল


ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। শিউলি গাছের নিচে সারা রাত ঝরে পড়া ফুলে সাদা হয়ে আছে উঠোন। কুয়াশার পাতলা চাদর মুড়ে শহরের পুরোনো পাড়াটা যেন আরও নীরব, আরও আপন হয়ে উঠেছে। দূরের মসজিদ থেকে ফজরের আজান ভেসে এলে একতলা ছোট্ট বাড়িটির একটি ঘরে আলো জ্বলে ওঠে।

এ বাড়িতে এটাই নিয়ম।

আজানের আগেই ঘুম ভাঙে কাশেম সাহেবের। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই, তবু জীবনযাপনের ছন্দে কোনো আলস্য নেই। তিনি ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে উঠে বসেন, পাশে ঘুমিয়ে থাকা স্ত্রী মিরা বেগমের দিকে একবার তাকান। ঘুমের ভেতরেও মিরা বেগমের মুখে অদ্ভুত এক প্রশান্তি লেগে থাকে। এত বছর একসঙ্গে থাকার পর মানুষটিকে আর নতুন করে দেখার কিছু নেই, তবু প্রতিদিন ভোরে তাঁর মনে হয়—এই মানুষটিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

ওজু সেরে নামাজ পড়ে তিনি বারান্দায় এসে বসেন। শীতের বাতাসে তুলসীপাতার গন্ধ মিশে আছে। একটু পরেই মিরা বেগম দু'কাপ ধোঁয়া ওঠা চা নিয়ে এসে পাশে বসেন।

— "চায়ে চিনি কম দিয়েছি। ডাক্তার তো বারবার নিষেধ করেছেন।"

কাশেম সাহেব কাপ হাতে নিয়ে হেসে বললেন,

— "ডাক্তার যতটা নিষেধ করেন, তুমি তার চেয়েও বেশি করো।"

মিরা বেগম চোখ রাঙানোর ভান করলেন।

— "বয়স হয়েছে, তবু কথাগুলো একদম ছোট ছেলেদের মতো।"

কাশেম সাহেব মৃদু হেসে উঠলেন।

এই হাসির ভেতরে কোনো উচ্ছ্বাস নেই; আছে দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছরের একসঙ্গে পথচলার নিশ্চিন্ত উষ্ণতা।

সংসারের শুরুটা এমন ছিল না।

বিয়ের পর ভাড়া বাড়ির একটি ছোট ঘরে তাদের নতুন জীবন শুরু হয়েছিল। বেতন ছিল অল্প, চাহিদা ছিল অনেক। মাসের শেষে চালের হাঁড়ি ফাঁকা হয়ে যেত, কিন্তু আশা ফুরাত না। মিরা বেগম নিজের একটি সোনার চুড়ি বিক্রি করেছিলেন কাশেম সাহেবের জন্য নয়, সংসারের জন্য। আর কাশেম সাহেব বহু ঈদে নিজের জন্য নতুন জামা না কিনে সেই টাকায় সন্তানদের বই কিনেছিলেন।

সেই ত্যাগের ইট দিয়েই একদিন গড়ে উঠেছিল এই বাড়ি।

লোকজন বলত, "বাড়িটা খুব সুন্দর।"

কাশেম সাহেব মনে মনে বলতেন, "সুন্দর বাড়ি নয়, সুন্দর সংসার গড়তে পেরেছি বলেই বাড়িটা সুন্দর লাগে।"

মিরা বেগম ছিলেন সেই সংসারের নীরব ছায়া। কার কখন কী খেতে ভালো লাগে, কার কোন ওষুধ শেষ হয়ে এসেছে, কোন প্রতিবেশীর ঘরে অসুস্থ মানুষ আছে—এসব যেন তাঁর বুকের ভেতর লেখা থাকত।

মহল্লার কেউ বিপদে পড়লে সবার আগে ছুটে যেতেন তিনি।

কখনো এক বাটি খিচুড়ি নিয়ে, কখনো এক গ্লাস স্যুপ, কখনো শুধু দুটো সান্ত্বনার কথা নিয়ে।

তিনি বলতেন,

— "মানুষের পাশে দাঁড়ালে নিজের দুঃখটাও ছোট হয়ে যায়।"

এ কারণেই মহল্লার সবাই তাঁকে 'মিরা ভাবি' বলে ডাকত। কেউ তাঁকে শুধু একজন গৃহিণী হিসেবে দেখেনি; তিনি ছিলেন সবার আপন মানুষ।

কাশেম সাহেবও মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন তাঁর সততার জন্য।

ছত্রিশ বছর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন। অবসর নেওয়ার পরও সপ্তাহে কয়েক দিন পার্টটাইম কাজ করেন।

টাকার জন্য নয়।

ঘরে বসে থাকতে তাঁর ভালো লাগে না।

তিনি বলতেন,

— "কাজ মানুষকে শুধু রোজগার দেয় না, বেঁচে থাকার কারণও দেয়।"

মহল্লার মুদি দোকানদার রশিদ মিয়া একদিন মজা করে বলেছিলেন,

— "কাশেম ভাই, আপনার নামে তো দোকানে কোনো বাকিই নেই। আজকাল এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার।"

কাশেম সাহেব হেসে উত্তর দিয়েছিলেন,

— "ধার করে জিনিস কেনা আমার অভ্যাস নয়। যা আজ কিনতে পারি না, কাল কিনব। কিন্তু অন্যের পাওনা রেখে শান্তিতে ঘুমাতে পারব না।"

এই সরল বিশ্বাস নিয়েই তিনি জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু জীবনের সব হিসাব কি মানুষের হাতে থাকে?

চার মেয়ে—কনিকা, কুহেলী, কাজরী আর কবিতা—সবাই এখন নিজেদের সংসারে সুখে আছে। ঈদে কিংবা কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠানে তারা বাবার বাড়িতে এলে বাড়িটা আবার উৎসবের রঙে ভরে ওঠে।

মিরা বেগম রান্নাঘরে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

কাশেম সাহেব বারান্দায় বসে নাতি-নাতনিদের খেলতে দেখেন।

তখন তাঁর মনে হয়, জীবনের সব পরিশ্রম সার্থক হয়েছে।

শুধু একটি জায়গায় যেন কোথাও একটি অপূর্ণতা থেকে গেছে।

ছোট ছেলে শাহেদ।

ছেলেটিকে মানুষ করার জন্য কাশেম সাহেব কত চেষ্টা করেছেন, তার হিসাব তিনি নিজেও জানেন না।

স্কুল পালিয়ে বেড়ানো সেই ছেলেটি কোনো দিনই পড়াশোনায় মন বসাতে পারেনি।

আজ সে অটোরিকশা চালায়।

বিয়ে করেছে।

তার পাঁচ বছরের একটি মেয়েও আছে।

কিন্তু সংসারের দায়িত্ব যেন এখনো তার কাঁধে এসে পৌঁছায়নি।

মাসের পর মাস কেটে যায়, বাবা-মায়ের হাতে একদিনও বাজারের ব্যাগ তুলে দেয় না।

মায়ের হার্টের ওষুধ শেষ হয়েছে কি না, বাবার চশমার কাচ ভেঙেছে কি না—এসব জানার চেয়ে বন্ধুদের আড্ডা, নেশা আর হোটেলের খাবারই যেন তার কাছে বেশি জরুরি।

কাশেম সাহেব মাঝে মাঝে ছেলেকে কিছু বলতে গিয়েও থেমে যান।

মিরা বেগম আস্তে করে বলেন,

— "ছেড়ে দাও। হয়তো একদিন বুঝবে।"

কাশেম সাহেব জানালার বাইরে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন।

— "সব বাবা-মা শেষ পর্যন্ত এই 'একদিন'-এর অপেক্ষাতেই বুড়ো হয়ে যায়, মিরা।"

মিরা বেগম কোনো উত্তর দেন না।

শুধু স্বামীর দিকে তাকিয়ে থাকেন।

সেই দৃষ্টিতে অভিযোগ নেই, অভিমানও নেই।

আছে শুধু দীর্ঘ জীবনের সঙ্গে জন্ম নেওয়া এক নীরব মমতা।

তখনও তাঁরা কেউ জানতেন না—

জীবন তাদের জন্য এমন একটি পরীক্ষা লিখে রেখেছে, যার উত্তর কোনো মানুষ নিজের ইচ্ছেমতো লিখতে পারে না।

আর সেই পরীক্ষার শুরু হবে মাত্র কয়েকটি দিনের ব্যবধানে।


(২)

শীত যত গাঢ় হতে লাগল, কাশেম সাহেবের বাড়িটাও যেন আরও শান্ত হয়ে উঠল। ভোরের শিউলি কুড়িয়ে মিরা বেগম ছোট্ট একটি পিতলের বাটিতে রেখে দিতেন। তারপর উঠোনে পানি ছিটিয়ে ঝাড়ু দিতেন। ভেজা মাটির গন্ধে সকালটা অন্য রকম হয়ে উঠত।

কাশেম সাহেব বারান্দায় বসে খবরের কাগজ পড়তেন। মাঝেমধ্যে চশমার ওপর দিয়ে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বলতেন,

— "তোমার বয়স বাড়ছে, কিন্তু কাজের বয়স কমছে না। একটু বসো।"

মিরা বেগম হেসে উত্তর দিতেন,

— "সংসারে মায়েদের অবসর বলে কিছু নেই। একদিন শুয়ে থাকব, সেদিনই ছুটি পাব।"

কথাটা শুনে কাশেম সাহেব হেসেছিলেন বটে, কিন্তু বুকের ভেতর কোথাও যেন একটা অজানা কষ্ট খচখচ করে উঠেছিল।

তিনি জানতেন, মিরা বেগমের হার্টের সমস্যা অনেক দিনের। নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়। চিকিৎসক বারবার বিশ্রাম নিতে বলেছেন। কিন্তু বিশ্রাম যেন তাঁর অভিধানে লেখা নেই।

সকালে রান্না, নাতনির খোঁজ, প্রতিবেশীর অসুস্থ মাকে দেখে আসা, আবার বিকেলে সেলাইয়ের সুতো আনতে রিনাকে মনে করিয়ে দেওয়া—সবই তিনি করেন নীরবে।

মহল্লার লোকেরা বলত,

— "মিরা ভাবি, নিজের শরীরটারও একটু খেয়াল রাখুন।"

তিনি শুধু মৃদু হেসে বলতেন,

— "নিজের কথা ভাবতে ভাবতেই তো জীবন শেষ হয়ে যায়। মানুষ যদি মানুষের কাজে না লাগে, তবে বেঁচে থাকার মানে কী?"

এই সরল কথাগুলোর জন্যই সবাই তাঁকে শ্রদ্ধা করত।

তবে সংসারের ভেতরে একটি অদৃশ্য টানাপোড়েন ছিল।

শাহেদের স্ত্রী রিনা বাড়িতেই দর্জির কাজ করত। হাতের কাজ ভালো হওয়ায় রোজগারও মন্দ ছিল না। কিন্তু টাকার ব্যাপারে সে ছিল অদ্ভুত রকমের হিসাবি। নিজের প্রয়োজন ছাড়া সহজে একটি টাকাও খরচ করত না।

একদিন দুপুরে বাথরুমের বাতিটি হঠাৎ নষ্ট হয়ে গেল।

রিনা দেখল।

শাহেদও দেখল।

কেউ কিছু বলল না।

সন্ধ্যায় অন্ধকারে হোঁচট খেয়ে মিরা বেগম প্রায় পড়ে যাচ্ছিলেন।

পরদিন কাশেম সাহেব বাজার থেকে নতুন বাতি কিনে এনে নিজেই লাগাতে লাগাতে হেসে বললেন,

— "একটা বাতি নষ্ট হলে ঘর অন্ধকার হয়, আর দায়িত্ব নষ্ট হলে সংসার।"

কথাটা কাউকে উদ্দেশ করে বলা নয়।

তবু সবাই বুঝেছিল।

রিনা মুখ নিচু করে নিজের ঘরে চলে গেল।

মিরা বেগম ধীরে এসে বললেন,

— "ওকে কিছু বোলো না। বয়স কম। সংসার করতে করতে একদিন সব শিখে যাবে।"

কাশেম সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

— "তুমি আজও সবাইকে ক্ষমা করতে পারো, মিরা।"

— "ক্ষমা না করলে সংসার টেকে?"

উত্তর দিতে পারলেন না কাশেম সাহেব।

শুধু স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে রইলেন।

সন্ধ্যায় শাহেদ বাড়ি ফিরল।

অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করেছে, তার বেশির ভাগই বন্ধুদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া আর নেশায় উড়িয়ে এসেছে।

রাতের খাবার খেতে বসে বলল,

— "আম্মা, কাল বড় একটা ইলিশ আনবে। অনেক দিন ভালো মাছ খাই না।"

মিরা বেগম ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন,

— "দেখি বাবা, বাজারে ভালো পেলে আনব।"

কাশেম সাহেব চুপচাপ ভাত খাচ্ছিলেন।

খাওয়া শেষে শুধু বললেন,

— "মাছের কথা বলার আগে একবার জিজ্ঞেস করতে পারতে, তোমার মায়ের ওষুধ আছে কি না।"

শাহেদ বিরক্ত হয়ে গ্লাসটা নামিয়ে রাখল।

— "আবার শুরু করলে, আব্বা?"

ঘরের ভেতর নীরবতা নেমে এল।

মিরা বেগম দ্রুত কথার মোড় ঘুরিয়ে দিলেন।

— "আনিকা, দাদুর কাছে যা তো। দেখ, দাদু তোর জন্য মিষ্টি এনেছে।"

পাঁচ বছরের আনিকা দৌড়ে এসে দাদুর কোলে উঠতেই কাশেম সাহেবের মুখে আবার হাসি ফুটে উঠল।

নাতনির মাথায় হাত বুলিয়ে তিনি মনে মনে ভাবলেন—

সব সম্পর্ক এক রকম হয় না। তবু মানুষ ভালোবাসতে জানে বলেই সংসার ভেঙে পড়ে না।

সেদিন রাতে খাওয়া শেষে বারান্দায় পাশাপাশি বসেছিলেন কাশেম সাহেব আর মিরা বেগম।

চারদিকে শীতের কুয়াশা।

দূরের কোনো বাড়ি থেকে ভেসে আসছে পুরোনো একটি গানের সুর।

মিরা বেগম আস্তে বললেন,

— "শুনছো, একটা কথা বলি?"

— "বলো।"

— "যদি আমি তোমার আগে চলে যাই..."

কাশেম সাহেব সঙ্গে সঙ্গে বাধা দিলেন।

— "এই কথাটা আর কোনো দিন বলবে না।"

মিরা বেগম মৃদু হেসে বললেন,

— "না, শুনো। যদি সত্যিই এমন হয়, তাহলে নিজের খেয়াল রাখবে। সময়মতো ওষুধ খাবে। আর মেয়েরা এলে কখনো যেন মনে না করে, তাদের মা নেই।"

কাশেম সাহেবের চোখ ভিজে উঠল।

তিনি ধীরে স্ত্রীর হাতটা নিজের হাতে নিয়ে বললেন,

— "এত বছর ধরে তুমি আমার সংসারকে ঘর বানিয়েছ। তোমাকে ছাড়া এই বাড়িতে আমি একদিনও থাকতে পারব না।"

মিরা বেগম কোনো উত্তর দিলেন না।

শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

কুয়াশার আড়ালে সেদিন চাঁদটাকেও বড় মলিন লাগছিল।

কেউ জানত না, সেই রাতই ছিল তাদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের শেষ শান্ত রাত।

পরদিন গভীর রাতে হঠাৎ মিরা বেগমের বুকের ভেতর অসহ্য ব্যথা শুরু হলো।

ঘুম ভেঙে উঠে কাশেম সাহেব দেখলেন, তাঁর সারা শরীর ঘামে ভিজে গেছে।

বুক চেপে ধরে তিনি শুধু বললেন—

— "কাশেম... আমার খুব কষ্ট হচ্ছে..."

বাইরে তখনও ফজরের আজান হয়নি।

শীতের নিস্তব্ধ রাত যেন অদৃশ্য কোনো আশঙ্কায় আরও ভারী হয়ে উঠল।


(৩)

রাত তখন শেষ প্রহর। জানালার কাঁচে কুয়াশা জমেছে। দূরের মসজিদ থেকে এখনো আজানের ধ্বনি ভেসে আসেনি। বাড়ির চারপাশে এমন নীরবতা, যেন পুরো পৃথিবী ঘুমিয়ে আছে।

হঠাৎ সেই নীরবতা ভেঙে উঠল মিরা বেগমের চাপা গোঙানিতে।

কাশেম সাহেব ঘুম ভেঙে উঠে বসলেন।

দেখলেন, মিরা বেগম বুকের ওপর হাত চেপে ধরে কষ্টে শ্বাস নিচ্ছেন। কিছুক্ষণ পরপর বমি হচ্ছে। শরীরটা নিস্তেজ হয়ে এসেছে।

— "মিরা, কী হয়েছে? বুকে বেশি ব্যথা?"

মিরা বেগম উত্তর দিতে পারলেন না। শুধু মাথা নাড়লেন।

কাশেম সাহেব তাড়াতাড়ি এক গ্লাস গরম পানি এনে দিলেন। কপালে হাত রাখতেই বুঝলেন, শরীর ঠান্ডা হয়ে আসছে।

এত বছরের সংসারে তিনি স্ত্রীর অসুখ অনেকবার দেখেছেন, কিন্তু আজকের মতো আতঙ্ক কোনো দিন তাঁর বুকের ভেতর নামেনি।

ভোরের আলো ফুটতেই তিনি বড় জামাইকে ফোন করলেন।

কাঁপা কণ্ঠে শুধু বললেন,

— "বাবা, তোমার আম্মার অবস্থা ভালো না। যদি পারো, এখনই চলে এসো।"

ওপাশ থেকে কোনো প্রশ্ন এল না।

— "আমি রওনা হচ্ছি, আব্বা।"

ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই বড় জামাই এসে পৌঁছাল।

মিরা বেগমকে দেখে সে বিস্মিত হয়ে বলল,

— "আব্বা, শাহেদ কোথায়?"

কাশেম সাহেব কিছু বলার আগেই মিরা বেগম দুর্বল কণ্ঠে বললেন,

— "ও রিনাকে নিয়ে কুয়াকাটা গেছে। গতকাল বিকেলে বেরিয়েছে।"

ঘরের ভেতর হঠাৎ এক অস্বস্তিকর নীরবতা নেমে এলো।

কাশেম সাহেব মাথা নিচু করলেন।

তিনি কোনো অভিযোগ করলেন না।

শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

অ্যাম্বুলেন্স ডেকে মিরা বেগমকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলো।

জরুরি বিভাগে চিকিৎসকেরা দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করলেন।

স্যালাইন চলল।

ইসিজি হলো।

রক্ত পরীক্ষা করা হলো।

করিডোরে দাঁড়িয়ে কাশেম সাহেব একের পর এক তসবিহ পড়ে যাচ্ছিলেন।

মনে হচ্ছিল, প্রতিটি দানার সঙ্গে তিনি নিজের জীবনটাও আল্লাহর কাছে সমর্পণ করছেন।

দুই ঘণ্টা পর চিকিৎসক বেরিয়ে এলেন।

— "ভয়ের কিছুটা কেটে গেছে। হার্টের রোগী হওয়ায় একটু জটিলতা হয়েছিল। এখন আপাতত স্থিতিশীল আছেন। কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখব।"

কাশেম সাহেব যেন বুকভরে শ্বাস নিলেন।

চোখ তুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে শুধু বললেন,

— "আলহামদুলিল্লাহ।"

বিকেলের দিকে মিরা বেগম কিছুটা সুস্থ বোধ করলেন।

কাশেম সাহেব তাঁর পাশে বসে হাত ধরে রইলেন।

মিরা বেগম ধীরে বললেন,

— "তুমি কিছু খেয়েছ?"

কাশেম সাহেব হেসে বললেন,

— "তুমি অসুস্থ, আর আমি খাওয়ার কথা ভাবব?"

মিরা বেগম মৃদু অভিমান করে বললেন,

— "আমি না থাকলে তোমাকে কে বকবে?"

কাশেম সাহেব চোখ নামিয়ে নিলেন।

তিনি জানতেন না কেন, হঠাৎ বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে উঠছে।

সন্ধ্যার আগে চিকিৎসক বললেন,

— "রোগী এখন অনেকটাই ভালো। আজ বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন। তবে সাবধানে থাকবেন। কাল আবার দেখাবেন।"

বাড়িতে ফিরে চার মেয়ে একে একে এসে মায়ের খোঁজ নিল।

রাতের কিছু পরে শাহেদ আর রিনাও কুয়াকাটা থেকে ফিরে এল।

শাহেদের মুখে ক্লান্তির ছাপ।

রিনা এসে শাশুড়ির পায়ে হাত রেখে বলল,

— "আম্মা, আমরা খবর পেয়েই চলে এসেছি। এখন কেমন আছেন?"

মিরা বেগম শুধু বললেন,

— "আল্লাহর রহমতে একটু ভালো আছি।"

তিনি আর কিছু বললেন না।

মায়েরা অনেক সময় অভিযোগ জমিয়ে রাখেন না।

কাশেম সাহেবও কোনো কথা তুললেন না।

শুধু ছেলের মুখের দিকে একবার তাকালেন।

সেই দৃষ্টিতে রাগ ছিল না।

ছিল গভীর ক্লান্তি।

সেদিন রাতে মিরা বেগম খুব অল্প ভাত খেলেন।

ওষুধ খেয়ে শুয়ে পড়লেন।

ঘুমানোর আগে কাশেম সাহেব ধীরে জিজ্ঞেস করলেন,

— "এখন কেমন লাগছে?"

— "অনেক ভালো। তুমি দুশ্চিন্তা কোরো না।"

কথাটা শুনে কাশেম সাহেবের বুকের পাথর যেন একটু নেমে গেল।

তিনি মনে মনে ভাবলেন—

হয়তো আল্লাহ বড় বিপদ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন।

কিন্তু মানুষের আশা আর নিয়তির পথ কখনো এক হয় না।

পরদিন দুপুর।

শীতের রোদ উঠোনে নেমে এসেছে।

মিরা বেগম বারান্দায় বসে আনিকার সঙ্গে গল্প করছিলেন।

হঠাৎ তাঁর মুখের রঙ বদলে গেল।

ডান হাত বুকের ওপর চেপে ধরলেন।

শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।

ঠোঁট কাঁপছে।

তিনি কষ্ট করে বললেন—

— "কাশেম... আবার... বুকটা..."

কথা শেষ হওয়ার আগেই তিনি চেয়ারের ওপর ঢলে পড়লেন।

কাশেম সাহেব ছুটে এসে তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন।

তাঁর কণ্ঠ কেঁপে উঠল—

— "শাহেদ! গাড়ি ডাক! এক মুহূর্ত দেরি করিস না!"

মুহূর্তের মধ্যে বাড়ির শান্ত উঠোন আবার অস্থির হয়ে উঠল।

যে বাড়িতে কিছুক্ষণ আগেও নাতনির হাসির শব্দ ছিল, সেখানে এখন শুধু উৎকণ্ঠা, কান্না আর দৌড়ঝাঁপ।

আর কাশেম সাহেবের ঠোঁটে তখন একটাই প্রার্থনা—

"হে আল্লাহ, আমার আয়ু থেকে যত দিন ইচ্ছে কেটে নিন, কিন্তু মানুষটাকে ফিরিয়ে দিন। ওকে ছাড়া কেমনে কটবে দিন।


(৪)

অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শীতের বিকেলের নিস্তব্ধতা চিরে এগিয়ে চলেছে।

কাশেম সাহেব মিরা বেগমের মাথাটা নিজের কোলে তুলে বসে আছেন। তাঁর কাঁপা হাত বারবার স্ত্রীর কপালে ছুঁয়ে যাচ্ছে। ঠোঁট নড়ছে, কিন্তু শব্দ বেরোচ্ছে না। হয়তো সূরা ইয়াসিন পড়ছেন, হয়তো শুধু আল্লাহকে ডাকছেন।

মিরা বেগম আধখোলা চোখে একবার স্বামীর দিকে তাকালেন।

সেই দৃষ্টিতে ছিল না কোনো ভয়।

ছিল দীর্ঘ পথচলার এক নিঃশব্দ ক্লান্তি।

সদর হাসপাতালে পৌঁছাতেই চিকিৎসকেরা তাঁকে দ্রুত জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলেন।

দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল।

দরজার ওপারে চিকিৎসা।

এপারে অপেক্ষা।

অপেক্ষার চেয়ে দীর্ঘ আর কিছু নেই।

খবর পেয়ে একে একে চার মেয়েই এসে পৌঁছাল।

কনিকা ছুটে এসে বাবার সামনে দাঁড়াল।

— "আব্বা..."

একটি শব্দের পর আর কিছু বলতে পারল না।

কাশেম সাহেব শুধু মাথা নাড়লেন।

চোখের নিচে রাত জাগার গভীর কালো দাগ।

মনে হচ্ছিল, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মানুষটা আরও অনেকটা বুড়ো হয়ে গেছেন।

কুহেলী চুপচাপ বাবার পাশে বসে রইল।

বাবার হাতে ধরা তসবিহটা কখন যে থেমে গেছে, কেউ খেয়াল করেনি।

হাসপাতালের করিডোরে শুধু দেয়ালঘড়ির কাঁটা এগিয়ে যাচ্ছিল।

সময় চলছিল।

কিন্তু অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলোর কাছে সময় যেন থেমে ছিল।

একজন চিকিৎসক বেরিয়ে এলেন।

গম্ভীর কণ্ঠে বললেন,

— "রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। হার্টের বড় ধরনের জটিলতা হয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আপনারা দোয়া করুন।"

'দোয়া করুন'—

দুটি শব্দ।

কিন্তু সেই দুটি শব্দই যেন সবাইকে বুঝিয়ে দিল, মানুষের ক্ষমতারও একটি শেষ সীমা আছে।

কাশেম সাহেব ধীরে উঠে হাসপাতালের ছোট্ট নামাজঘরে গেলেন।

সিজদায় মাথা রেখে অনেকক্ষণ আর উঠলেন না।

চোখের জল নীরবে জায়নামাজ ভিজিয়ে দিল।

কেউ তাঁর কান্নার শব্দ শোনেনি।

তিনি কাঁদছিলেন না।

তিনি ভেঙে পড়ছিলেন।

অনেক বছর আগে বিয়ের রাতের কথা তাঁর মনে পড়ল।

মিরা বেগম লাজুক মুখে বলেছিলেন—

— "আমার বেশি কিছু চাওয়া নেই। শুধু পাশে থাকবেন।"

কাশেম সাহেব হেসে উত্তর দিয়েছিলেন—

— "আল্লাহ যত দিন রাখেন, তত দিন।"

আজ সেই কথাগুলো বুকের ভেতর ছুরির মতো বিঁধছিল।

একসময় আইসিইউ থেকে একজন নার্স এসে বললেন,

— "রোগী তাঁর স্বামীকে একবার দেখতে চাইছেন।"

কাশেম সাহেব ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকলেন।

বিছানায় শুয়ে থাকা মানুষটিকে দেখে তাঁর বুকটা হুহু করে উঠল।

এ কি সেই মিরা?

যে সারাজীবন সংসারের সব ঝড় নিজের বুকে সামলেছে?

অক্সিজেনের মাস্কের ভেতর থেকেও মিরা বেগম তাঁকে চিনে ফেললেন।

চোখের কোণে ক্ষীণ হাসি ফুটল।

কাশেম সাহেব তাঁর হাতটি নিজের দুই হাতে তুলে নিলেন।

হাতটা অস্বাভাবিক ঠান্ডা।

তিনি কাঁপা গলায় বললেন,

— "মিরা... আমি এসেছি।"

মিরা বেগম খুব কষ্ট করে ফিসফিসিয়ে বললেন,

— "মেয়েদের... কষ্ট... দিও না..."

কাশেম সাহেব চোখ মুছলেন।

— "তুমি নিজেই বলবে ওদের। তুমি সুস্থ হয়ে বাড়ি যাবে। উঠোনে বসে আবার শিউলি কুড়াবে।"

মিরা বেগম খুব ধীরে মাথা নাড়লেন।

তারপর অস্পষ্ট কণ্ঠে বললেন—

— "সব... গাছগুলোতে... পানি... দিও..."

কথাগুলো শেষ হতে না হতেই তাঁর চোখ বেয়ে দুটি অশ্রুবিন্দু গড়িয়ে পড়ল।

কাশেম সাহেব আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না।

তিনি স্ত্রীর কপালে কপাল ছুঁইয়ে নিঃশব্দে কেঁদে উঠলেন।

কোনো শব্দ নেই।

কেবল কাঁধ দুটো কেঁপে উঠছিল।

যেন দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছরের সংসার নীরবে ভেঙে ভেঙে পড়ছে।

বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা কনিকা কাচের জানালা দিয়ে সেই দৃশ্য দেখে মুখ চেপে ধরে ফুঁপিয়ে কাঁদছিল।

কুহেলী এসে বোনের কাঁধে হাত রাখল।

কেউ উচ্চস্বরে কাঁদছিল না।

হাসপাতালের করিডোরে শুধু চাপা কান্নার শব্দ।

যে কান্না বুকের ভেতর জমে থাকে, ঠোঁট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।

হঠাৎ আইসিইউর ভেতরে ব্যস্ততা বেড়ে গেল।

চিকিৎসকেরা ছুটে এলেন।

মনিটরের শব্দ দ্রুত বদলে যেতে লাগল।

দরজাটা আবার বন্ধ হয়ে গেল।

করিডোরের বাতাস যেন আরও ভারী হয়ে উঠল।

কয়েক মিনিট...

তারপর আরও কয়েক মিনিট...

সময় যেন আর এগোতে চাইছিল না।

অবশেষে দরজাটি ধীরে খুলল।

চিকিৎসক এগিয়ে এলেন।

চশমাটা খুলে নিচু স্বরে বললেন—

— "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন... আমরা তাঁকে আর বাঁচাতে পারলাম না।"

শব্দগুলো শেষ হতেই কনিকা দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে মেঝেতে বসে পড়ল।

কাজরী দেয়ালের সঙ্গে হেলান দিয়ে নিঃশব্দে কাঁদছিল।

কবিতার চোখে জল ছিল, কিন্তু কোনো শব্দ ছিল না।

কুহেলী শুধু বাবার দিকে তাকিয়ে রইল।

কাশেম সাহেব স্থির দাঁড়িয়ে ছিলেন।

মনে হচ্ছিল, তিনি কিছুই শুনতে পাননি।

ধীরে ধীরে তিনি আইসিইউর দরজার কাছে গেলেন।

স্ত্রীর নিথর মুখের দিকে একবার তাকালেন।

তারপর খুব আস্তে তাঁর কপালে হাত রেখে বললেন—

— "মিরা... আজ প্রথমবার তুমি আমার অপেক্ষা না করেই চলে গেলে..."

এরপর আর কোনো কথা বলতে পারলেন না।

চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ছিল।

তিনি শিশুদের মতো হাউমাউ করে কাঁদেননি।

শুধু ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিলেন।

যে কান্নার শব্দ বাইরে শোনা যায় না—

কিন্তু ভেতরে ভেতরে একজন মানুষকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়।

(৫)

মিরা বেগমকে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হলো।

আসর নামাজের পর জানাজা শেষ হতে না হতেই শীতের আকাশে একঝাঁক সাদা বক উড়ে গেল। মানুষের ভিড় ধীরে ধীরে কমে এল। কেউ কাঁধে হাত রেখে সান্ত্বনা দিল, কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে গেল। কিন্তু কাশেম সাহেব নড়লেন না।

তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন।

ভেজা মাটির দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সমস্ত শব্দ যেন তাঁর কানে পৌঁছানো বন্ধ হয়ে গেছে।

ধীরে ধীরে তিনি হাঁটু গেড়ে বসলেন।

আঙুল দিয়ে কবরের মাটি ছুঁয়ে খুব আস্তে বললেন,

— "মিরা... এত তাড়াতাড়ি কথা রাখলে? বলেছিলে, আমায় একা রেখে যাবে না।"

বাতাসে শুকনো পাতা উড়ে গেল।

কোনো উত্তর এল না।

শুধু দূরে একটি শালিক ডেকে উঠল।

...

বাড়িতে ফিরে দরজা খুলতেই বুকের ভেতরটা হু-হু করে উঠল।

এই তো সেই ঘর।

এই তো সেই বারান্দা।

এই তো সেই চেয়ার, যেখানে বসে প্রতিদিন বিকেলে মিরা বেগম সুপারি কাটতেন।

সবকিছু আছে।

শুধু মানুষটি নেই।

বিছানার পাশে ভাঁজ করে রাখা শাড়িটি তিনি হাতে তুলে নিলেন।

শাড়ির আঁচলে এখনো মৃদু আতরের গন্ধ।

কাশেম সাহেব শাড়িটি বুকের সঙ্গে চেপে ধরলেন।

চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।

কেউ দেখল না।

মানুষটি সারা জীবন সংসারের সামনে নিজের কান্না লুকিয়ে রেখেছেন।

আজও পারলেন না বদলাতে।

রাত নামল।

অভ্যাসবশত তিনি বললেন,

— "মিরা, ওষুধ খেয়েছ?"

কথা শেষ করেই থমকে গেলেন।

ঘরের নীরবতা তাঁর প্রশ্নটিকে ফিরিয়ে দিল।

সেই রাতে তাঁর আর ঘুম আসেনি।

ফজরের আগে তিনি উঠোনে বেরিয়ে এলেন।

শিউলি গাছের নিচে অসংখ্য ফুল ঝরে আছে।

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

বাংলা সাহিত্যের সেরা কয়েকটি চরিত্র ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত

বাংলা সাহিত্যের সেরা কয়েকটি চরিত্র মানস কুমার সেনগুপ্ত সাহিত্যের পাতা থেকে চলচ্চিত্রের পর্দায় চিত্রায়িত কিছু সেরা চরিত্র আজও আমার মনের মণিকোঠায় ভীড় করে আসে।  কিশোর বয়সে দেখেছিলাম মনোজ বসুর আংটি চাটুজ্যের ভাই' অবলম্বনে নির্মিত 'পলাতক ' ছায়াছবি ‌। ছবির মূল চরিত্র বসন্ত জমিদার বাড়ির সুখ আরাম বিসর্জন দিয়ে গ্রামের পথে, মুক্ত প্রকৃতির মাঝে নিজেকে সঁপে দিতে চেয়েছে। গানপাগল বসন্ত চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করে নিয়ে ভেবেছি, এমনটা যদি আমি পারতাম। ছবিতে বসন্ত জীবন পথের পথিক হয়ে সংসার ছেড়ে, ঠিকানাবিহীন হয়ে বেরিয়ে পড়েছিল মনের খবর খুঁজতে।  রবীন্দ্রনাথের 'অতিথি ' গল্প নিয়ে নির্মিত ছায়াছবির মূল চরিত্র তারাপদও কৈশোরকালেই বেড়িয়ে পড়েছিল ঘরের বাঁধন ছেড়ে। মুক্ত প্রকৃতির কোলে তারাপদর সঙ্গে গেয়ে উঠেছি-' 'এই আকাশে আমার মুক্তি আলোয় আলোয়, আমার মুক্তি ধূলায় ধূলায় ঘাসে ঘাসে।  যৌবনকালে দেখা রমাপদ চৌধুরীর উপন্যাস 'বনপলাশীর পদাবলী অবলম্বনে নির্মিত ছায়াছবির মূল চরিত্র উদাস গেয়ে উঠেছে -' মনের কথা কারে বলি আর,...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতা ।। পিতৃ-মাতৃ- সুধা ।। সুদামকৃষ্ণ মন্ডল

পিতৃ-মাতৃ- সুধা সুদামকৃষ্ণ মন্ডল এই সেই হাত পাখা বেতের লাঠি  বাবার চশমা খাট বিছানা । চৌকি জঁক ঘাট পুকুর কুল আম গাছতলা মায়ের পরশ লেগে আছে হুঁকো কলকে আর পানের বাটায় । পুরানো সেই থমথমে গম্ভীর বারান্দা চিরস্মরণীয়  উভয়ের প্রতিকৃতি ফ্রেমে বাঁধা । তাকিয়ে সদাহাস্যোজ্জ্বল  আমাদের দিকে । মায়ের সিন্দুকে আচার খুচরো দু'আনা পয়সা কত গল্পের মাটি মাটি সুগন্ধি জানালা ! এখন  তুলসীতলার প্রদীপ জ্বলে না বলে - কত আফসোস  গোধূলিতে নেই সিঁথি সিঁদুর ! আহা জন্মভিটার  রাঙামাটি নমস‍্য মাতৃ সুধা । =========== সুদামকৃষ্ণ মন্ডল গ্রাম: পুরন্দর পুর (অক্ষয় নগর) পোস্ট : অক্ষয় নগর থানা : কাকদ্বীপ জেলা : দঃ চব্বিশ পরগণা পিন কোড :743347

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

তিনটি কবিতা ।। স্বপন চক্রবর্তী

স্বপন চক্রবর্তী জগন্নাথ কাহিনী পুরী জগন্নাথধাম                    করিব প্রভুর নাম                    আজি মোর কাব‍্যের ছন্দে, জগদীশ্বর তিনি                       জোগান সবারে চিনি                     রাখেন মোদের ভালো-মন্দে।  নীলাচলে এক নারী                  ভক্তির ধ্বজাধারী                       ঈশ্বর-প্রেম ছিল অপার, কর্মাবাঈ নামে তিনি                    প্রভুর হৃদয় জিনি                       করিতেন দিব্য সংসার। ভিখারিণী অতি দীন                    বার্ধক্যে শক্তিহীন              ...

আশিস চৌধুরীর মুক্তগদ্য

বাদল বাউল বাজায় রে একতারা গ্রীষ্মের প্রবল দাবদাহে যখন শরীর মন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে তখন আমরা চাতকের মত আকাশপানে চেয়ে থাকি,দেখি মেঘ করেছে কি-না। এ যেন যক্ষপ্রিয়ার মত মেঘের অপেক্ষায় বসে থাকা।এখন অবশ্য বর্ষা সময়মত আসে না। বড় অভিমানী হয়েছে সে। মৌসুমীবায়ু যে সময়ে এই বাংলায় প্রবেশ করার কথা তা এখন করে না,কিছুটা বিলম্বিত বলা যায় । ঋতুচক্রে এখন অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটে গেছে বিশ্ব-উষ্ণায়নের কারণে একথা আমরা আজ সকলেই জানি।আর এই বিশ্ব-উষ্ণায়নের মূল কারণ হচ্ছে অতি আধুনিক মানুষের লাগামছাড়া ভোগবিলাস।কাজেই বর্ষার আগমন একটু দেরিতে হলেও আমরা আগের মত অস্থির হই না,অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গেছে। সুতরাং বর্ষা দেরি করলেও আমরা তাকে অভ্যর্থনা জানাতে কার্পণ্য করি না।তার আগমনে আমাদের হৃদয় ময়ূরের মত নেচে ওঠে।আমরা যেন এইভাবে অভ্যর্থনা জানাই-‘এসো শ্যামল সুন্দর/আনো তব তাপহরা তৃষাহরা সঙ্গসুধা। ’ ঋতুচক্রের নিয়মানুযায়ী আষাঢ় , শ্রাবণ-এই দু ’ মাস বর্ষাকাল।তা সত্ত্বেও ভাদ্রমাসেও কিন্ত যথেষ্ট বৃষ্টি হয়।তবু আষাঢ়-শ্রাবণ কে নিয়েই আমাদের যত কাব্য , গান আর নস্টালজিয়া।এই মুহূর্তে আমারই মনে পড়ে গেল-আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন..... ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য ।। পাভেল আমান

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য যিনি শিক্ষা দান করেন তিনিই শিক্ষক। শিক্ষা বলতে কেবল প্রথাগত শিক্ষা বা পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বৃহৎ অর্থে প্রথা বহির্ভূত জ্ঞান ও কর্মের বাস্তব অভিজ্ঞতা। রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করে বলা যায় যে, উত্তম শিক্ষক হবেন উত্তম ছাত্র। শিক্ষকের মধ্যে ছাত্রত্ব বেঁচে না থাকলে ছাত্রেরা তাঁর মনের নাগাল পেতে সমর্থ হয় না।শিক্ষকরা হলেন সমাজ গড়ার কারিগড়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকেরা। আদিকালের সামাজিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সেই আবাসিক গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থার যুগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিল নিবিড় ও মধুর সম্পর্ক। পিতা মাতার পর দ্বিতীয় পিতা বা অভিভাবক হিসেবে শিক্ষকদেরকে মান্য করতেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কাছে শিক্ষক ছিলেন পরম গুরু। গুরুর আশীর্বাদ ও দাক্ষিণ্য ছাড়া জীবনে সাফল্য অধরা থেকে যায়। গুরুর নির্দেশিত পথে অনুগমন করলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। শিক্ষক তথা গুরুর প্রতি ছাত্র তথা শিষ্যের আনুগত্য, ভক্তি, বিশ্বাস ও আত্মনিবেদন ছিল দৃষ্টান্ত মূলক। প্রাচীন ভারতে গুরু গৃহে গুরুর সাহচর্যে বসবাস করে শ...

প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির

ধাঙড় মোঃ চাঁন মিয়া ফকির           বাংলাদেশে অনেকগুলো জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে | সাধারণভাবে বাংলাদেশী বলতে আমরা বুঝি দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী বা অধিবাসী জনগণ | বাংলাদেশের সংবিধানের ৬ ধারার ২ উপধারায় বলা হয়েছে যে , বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন | বাংলাদেশীদের মধ্যে রয়েছে বাঙালি এবং কিছু উপজাতি , নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় , বিভিন্ন সময়ের শাসক শ্রেণি কর্তৃক আনিত ও বাঙালি কর্তৃক আনিত শ্রমজীবি , পেশাজীবী সম্প্রদায় |         ধাঙড় (মেথর/ঝাড়ুদার/হরিজন) একটি পেশাজীবী সম্প্রদায় | তারা শহর , বন্দর , গঞ্জ ও জনবহুল (রেলস্টেশন/বাসস্টেশন) এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ময়লা , আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজে পেশাদার শ্রমজীবি হিসেবে কাজ করে | স্থানীয় হাট বাজারে এদেরকে ভূঁইমারি বা ঝাড়ুদার বলা হয় | সমাজে ধাঙড় বা মেথরদের অবস্থান ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , ˆ বশ্য এবং শূদ্রের বাইরে পঞ্চম হিসেবে তারা অস্পৃশ্য | এদের পর্যায়ে আরো আছে চামার , কামার , কুমার , জেলে , ব্যাধ , জোলা , ডোম যাযাবর ইত্...