অশোক দাশ
কালবৈশাখী -১
তপ্ত দহন ঝরছে আগুন
ফুটি ফাটা মৃত্তিকা,
বাতাসে জ্বলন ঘামে হাঁসফাঁস
উন্মুখ বৃষ্টির প্রত্যাশা।
আকাশে ঘনায় কালো মেঘ
প্রলয় তাণ্ডব ঘূর্ণি,
এলো ওই কালবৈশাখীর মাতন
লন্ডভন্ড সব চূর্ণী।
ঝড়ে পড়ে গাছ ভাঙ্গে ঘর
শস্য লুটায় ভূমিতে,
আকাশে গর্জায় বজ্রনিনাদ
অবশেষে স্বস্তি বৃষ্টিতে।
তাপদগ্ধ ধরিত্রী হয় শীতল
ঝর-ঝর বৃষ্টি বারিতে,
প্রাণে - প্রাণে নব বার্তা
অঙ্কুরিত নব কিশলয়ে।
কারও জীবনে বহে অভিশাপ
কেহ পায় আশীর্বাদ,
কারও দুঃখ - বেদনা - যন্ত্রনা
তবুও জাগে রাঙা প্রভাত।
বাদল দিনে-২
অবিরাম বৃষ্টি জল থৈ- থৈ
মাঠ -ঘাট -প্রান্তর,
ভরা নদী দু'কুল ছাপায়
বানভাসিতে রিক্ত অন্তর।
নেই কাজ, দুখীর জোটে না ভাত
উপোসী জঠরে যন্ত্রনা,
থালা -ঘটি- বাটি নেই কিছু আর
থামে না কচি শিশুর কান্না।
জলে ভিজে রায়বাগানে দুখী
কুড়িয়েছে দুটি পাকা তাল,
নিরন্ন পেটে পরম আনন্দে
তাল আটি খায় করে ভাগ।
জুঁই কদমের গন্ধ বিলাসে
ঘুমায় ধনীর নন্দন,
ভাঙা ঘর ফুটো চালে সারারাত
দুখী শিশু বুকে থামায় ক্রন্দন।
ঘনঘোর বাদল দিনে
ভিন্ন স্রোতে বহে জীবনধারা,
ধনীর ঘরে ইলিশে আমোদ
গরিবের অন্ন ছাড়া মরে বাঁচা।
মেঘ- বৃষ্টি-৩
রোদ- বৃষ্টি প্রকৃতির খেলা
চলে নিরন্তর,
কালো মেঘে ঢাকা আকাশ
নেই তো রোদ্দুর।
এই রোদ এই বৃষ্টি
মেঘের সয়ম্ভর,
গুরু- গুরু গরজি গগনে
শুরু বর্ষার আড়ম্ভর।
মাঠে -মাঠে কাদা জলে
কৃষানের উচ্ছ্বাস,
নতুন বীজ রোপনে ভরবে খেত
সবুজের উল্লাস।
শরতের রোদ- বৃষ্টি
লুকোচুরি খেলা,
এই ভাব এই আড়ি
খুনটুসিতে কেটে যায় বেলা।
দুঃখ- সুখের এই ধরণীতে
আলো-ছায়া নিত্য সঙ্গী,
অমাবস্যা -পূর্ণিমা ভরা কোটালে
ভাসাই জীবন তরী।
রোদ -বৃষ্টি আলো -আঁধারে
ঝঞ্ঝা কে ভাবি না ত্রাস,
ভাঙ্গনের কূলে পেতেছি সজ্জা
জীবন যুদ্ধ বারমাস।

Comments
Post a Comment