Skip to main content

অপরাজিতা ।। শাশ্বতী চট্টোপাধ্যায়

  nabapravat july 2026

অপরাজিতা

শাশ্বতী চট্টোপাধ্যায়

 

বিকেলের ম্লান আর বিষণ্ণ আলোটা এসে পড়েছিল ঘরের এককোণে রাখা পুরোনো ভারী কাঠের টেবিলটার ওপর। ধুলোর সূক্ষ্ম কণাগুলো সেই আলোয় অলসভাবে ভাসছে। স্বাতী পরম যত্ন আর সজল চোখে হাত বোলাচ্ছিল তার বাবার ছবিটার ওপর। চশমার আড়ালে প্রখর অথচ শান্ত একজোড়া চোখ, কপালে চিন্তার গভীর ভাঁজ।
তার বাবা—সুধাময় চ্যাটার্জী—যিনি ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের একজন অত্যন্ত উচ্চপদস্থ, নীতিবান আমলা। একাধারে আন্তর্জাতিক স্তরে উচ্চশিক্ষিত এবং প্রখর ব্যক্তিত্বের অধিকারী। ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে বসেও সততা, নম্রতা আর মধ্যবিত্তের চিরায়ত আদর্শই ছিল তাঁর জীবনের মূল ভিত্তি।
স্বাতী ছোটবেলা থেকেই সেই আদর্শকে নিজের জীবনের ধ্রুবতারা বানিয়েছিল। সে ছিল অসম্ভব আবেগপ্রবণ, সাহিত্যে অনুরাগী এবং শুদ্ধ ভালোবাসায় বিশ্বাসী এক মেয়ে। সুধাময়বাবু প্রায়ই স্বাতীর মাথায় হাত রেখে বলতেন,
"মা রে, সততা হলো একটা অদৃশ্য বর্ম। বাইরে থেকে মনে হতে পারে তুই একা, কিন্তু এই বর্ম তোকে কখনো কোনো ঝড়ে ভেঙে পড়তে দেবে না। নিজের আত্মসম্মান বিক্রি করে পাওয়া সুখের চেয়ে, মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার দুঃখও অনেক বেশি পবিত্র।"
বাবার সেই গভীর কণ্ঠস্বর আজও যেন এই ঘরের দেওয়ালে দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়। কিন্তু নিয়তির এক নির্মম পরিহাসে তার বিয়ে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াবাসি  প্রবাসী ভারতীয় নীলয়ের সাথে, যে সব দিক থেকেই ছিল তার বাবার সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর বাসিন্দা।
নীলয়ের পড়াশোনা থেকে শুরু করে যোগ্যতা, মেধা কিংবা চাকরি—কোনো কিছুতেই সে স্বাতীর বাবার ব্যক্তিত্বের ছায়ার কাছাকাছি দাঁড়ানোর যোগ্য ছিল না। কিন্তু নিজের কোনো মেধা বা বিশেষ যোগ্যতা না থাকলেও, নীলয়ের ছিল তার বাবার অঢেল এবং অবৈধ উপার্জনের টাকা। আর সেই বাপের টাকার জোরেই সে সিডনিতে গিয়ে একটা মাঝারি মানের ছোট্ট আইটি চাকরি জুটিয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, ওই সামান্য অর্জন আর বিদেশের তকমাটা নিয়েই নীলয়ের নিজের পুরুষাকারের ওপর ছিল আকাশচুম্বী, অন্ধ অহংকার। তার কাছে মানুষের ভালোবাসা, আবেগ কিংবা সততা—সবই ছিল অর্থহীন বিলাসিতা এবং বোকা মানুষদের দুর্বলতা।
আজ যখন স্বাতী সেই পুরোনো টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে, তখন তার জীবনের চারপাশের আকাশটা এক অদ্ভুত ধূসর রঙে ঢেকে গেছে। প্রকৃতিও যেন তার ভেতরের ভাঙাচোরা অবস্থাটাকে অনুভব করছিল। চারপাশে একটা পাথরের মতো ভারী নীরবতা, অথচ সেই নীরবতার ভেতরেই ছিল অসংখ্য শব্দ—সমাজের অভিযোগ, অপমান, আর অদৃশ্য আঙুল তুলে বিচার করার নিষ্ঠুরতা।
সেদিন সকালে স্বাতী যখন কোর্টের ভেতর থেকে বেরোচ্ছিল, তার হাতে ছিল একটা কাগজ। আইনের ভাষায় সেটা ছিল “বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রি”—আর তার নিজের জীবনের ভাষায়, সেটা ছিল একটা রক্তাক্ত ক্ষতের দলিল এবং স্বপ্নের নির্মম বিসর্জন।
কোর্ট চত্বরের বটগাছটার নিচে সেদিন এমন অনেক মানুষ ছিল, যারা সম্পর্কে স্বাতীর খুবই কাছের মানুষ, আত্মীয়, পরিচিত, প্রতিবেশী—যারা একসময় তার রাজকীয় বিয়েতে হাততালি দিয়ে হিংসা করেছিল, তারাই আজ তার এই ভাঙা অবস্থাটাকে দেখতে ভিড় করেছে। পাড়ার সুরজিৎ  কাকা, যিনি একসময় সুধাময়বাবুর কাছে উপকারের জন্য হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকতেন, তিনিই আজ চশমার ওপর দিয়ে বাঁকা চোখে তাকিয়ে খোঁচা মারলেন। কেউ সরাসরি মুখে কিছু না বললেও তাদের চোখের কুৎসিত ভাষা, ঠোঁটের কোণে চাপা উপহাসের হাসি, আর ফিসফিস শব্দগুলো স্বাতীর কানে পরিষ্কার পৌঁছাচ্ছিল।
"মেয়েটা এত বড় ঘরের বউ হয়েও সংসার করতে পারল না..."
"নিশ্চয়ই মেয়েরই কোনো গোপন দোষ আছে... এতো অহংকার আর দেমাক কি মেয়েদের মানায়? ও তো নিজেও লইয়ার ছিল, আইনের গরম দেখিয়েছে নিশ্চয়ই!"
"ডিভোর্সি মেয়ে… এখন তো সেই বাপের নাম ভাঙিয়ে আর বাপের পেনশনের টাকায় অন্নধ্বংস করবে। সমাজ কি করে ওকে আবার  গ্রহণ করবে?"
প্রতিটা কথা যেন ধারালো কাঁচের টুকরোর মতো স্বাতীর ভেতরটা ফালাফালা করে দিচ্ছিল। সে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। মনে হচ্ছিল এই বিশাল পৃথিবীটা হঠাৎ খুব ছোট হয়ে গেছে। যেন তার জন্য কোথাও আর কোনো জায়গা নেই। যেন সে একটা জ্যান্ত ভুল, একটা চরম ব্যর্থতা—যাকে সবাই এড়িয়ে যেতে চায়, অথবা ছুঁড়ে ফেলে দিতে চায় ডাস্টবিনে।
বিয়ের পর যখন স্বাতী প্রথম সিডনি গিয়ে নেমেছিল, তখন তার চোখে ছিল এক বুক ভরা স্বপ্ন। স্বাতী নিজেও পড়াশোনাতে অত্যন্ত ভালো ছিল। উপরন্তু সে ভারতের একটি নামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন পাস করে হাইকোর্টে লইয়ার হিসেবে খানিকটা নামডাকও করেছিল। স্বাধীনচেতা অথচ ঐতিহ্যপ্রেমী স্বাতী নীলয়ের সাথে তার জীবনদর্শন  না মিললেও, মনে-প্রাণে ভালোবেসেছিল নিজের স্বামীকে। সে ভেবেছিল নিজের ভালোবাসা, ধৈর্য আর নমনীয়তা দিয়ে নীলয়ের ভেতরের এই মেকি অহংকার আর কঠিন হীনম্মন্যতার পাথরটাকে একদিন ঠিকই গলিয়ে জল করে দিতে পারবে। কিন্তু প্রতিদানে সে পেয়েছে কেবলই শীতল অবহেলা, সন্দেহ আর কুৎসিত কটূক্তি।
বিদেশের সেই ঝাঁ চকচকে তিন কামরার অ্যাপার্টমেন্টটি স্বাতীর কাছে ধীরে ধীরে একটা সোনার খাঁচায় পরিণত হয়েছিল। নীলয় তার স্বাধীনভাবে চলাফেরা বা অস্ট্রেলিয়ার ল-কাউন্সিলে রেজিস্ট্রেশন করার চেষ্টাকে মোটেও ভালো চোখে দেখেনি।
একদিন রাতে ডাইনিংটেবিলে নীলয় মদের গ্লাসে চুমুক দিয়ে বলেছিল,
"শোনো স্বাতী, এখানে এসে আবার কোর্ট-কাছারির চক্কর কাটার কোনো প্রয়োজন নেই। আমার বাপের যা সম্পত্তি আছে আর আমি যা কামাই, তাতে তোমার মতো দশটা মেয়ে বসে খেতে পারবে। ঘরে থাকবে, ঘর সামলাবে। একজন কর্পোরেট এক্সিকিউটিভের বউয়ের মতো স্ট্যাটাস বজায় রেখে party-তে হাসিমুখে কথা বলবে—ব্যস, এটাই তোমার কাজ।"
স্বাতী শান্ত গলায় প্রতিবাদ করে বলেছিল, "নীলয়, পড়াশোনা আর কেরিয়ারটা আমার কাছে শুধু টাকা উপার্জনের মাধ্যম নয়। ওটা আমার আত্মপরিচয়। আমার বাবা আমাকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন।"
'বাবা' শব্দটা শুনলেই নীলয়ের ভেতরের হীনম্মন্য রাক্ষসটা জেগে উঠত। সে বাঁকা হেসে উপহাসের সুরে বলত,
"ওহ! প্লিজ! তোমার ওই বাবার মহানতার গল্প আমাকে শুনিও না। তোমার বাবা সরকারের একজন  বড় অফিসার হতে পারেন, কিন্তু ওনার ওই তথাকথিত সততার মূল্য খোলা বাজারে দু-পয়সাও না। এই সততা দেখিয়ে কী লাভ হলো ওনার? রিটায়ারমেন্টের পর একটা ছোট্ট  ফ্ল্যাট ছাড়া ব্যাংক ব্যালেন্স তো আর আমার বাবার মতো কোটি কোটি বানাতে পারলেন না! সততা হলো আসলে অক্ষমদের অজুহাত।"
স্বাতীর চোখে জল আসত, বুকটা অভিমানে আর ক্ষোভে ফেটে যেতে চাইত। যে ছেলে নিজের বাপের দুর্নীতির টাকায় বিদেশ গিয়ে সস্তা দেখনদারি করে, সে কীভাবে একজন সৎ, দেশপ্রেমিক ও উচ্চশিক্ষিত মানুষের জীবনদর্শনকে মূল্যায়ন করবে?
স্বাতী প্রথম প্রথম মুখ বুজে সহ্য করত, কারণ সে ঘর ভাঙতে চায়নি। সে মধ্যবিত্ত সংস্কারে বিশ্বাস করত। তার বিশ্বাস ছিল সেই চিরন্তন সত্যটার ওপরে—"ভালোবাসা নিরক্ষর হলেও চলবে, কিন্তু মন হতে হবে সুশিক্ষিত।" কিন্তু দিন যত যাচ্ছিল, স্বাতী ততই বুঝতে পারছিল যে নীলয়  সিডনিতে  চাকরি করলেও, দামী ব্র্যান্ডের জামাকাপড় পরলেও, তার মনটা আসলে ছিল চরম অশিক্ষিত, সংকীর্ণ আর বর্বর। আর সেই অশিক্ষিত, হীনম্মন্য মনটাই বারবার স্বাতীর সুশিক্ষিত ভালোবাসার গায়ে গভীর,রক্তাক্ত ক্ষত এঁকে দিচ্ছিল।
অপমান যতক্ষন  চার দেওয়ালের মধ্যে  সীমাবদ্ধ ছিল, তাও স্বাতী মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, কিন্তু নীলয়ের অত্যাচার মানসিক নির্যাতন থেকে ধীরে ধীরে শারীরিক লাঞ্ছনার দিকে মোড় নিতে শুরু করল। স্বাতী যদি কখনো ভারতের কোনো বান্ধবীর সাথে বা বাবার সাথে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলত, নীলয় ফোন কেড়ে নিয়ে আছাড় মারত। সন্দেহ করত তার চরিত্র নিয়ে।
"কাকে অত ফোন করা হচ্ছে? ইন্ডিয়াতে কোনো পুরনো বয়ফ্রেন্ড রেখে এসেছ বুঝি? ল-কলেজের কোনো চেনা জর্জ বা উকিল?" নীলয়ের এই কুৎসিত ইঙ্গিতগুলো স্বাতীর আত্মসম্মানকে প্রতিদিন চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিত। সে একসময় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই নিজেকে চিনতে পারত না। এই কি সেই উজ্জ্বল, আত্মবিশ্বাসী স্বাতী, যে জুরির সামনে দাঁড়িয়ে সওয়াল জবাব করত?

মানুষের সহ্যশক্তিরও একটা শেষ সীমা থাকে।আর  স্বাতীর সেই চেনা জগৎটা সেইদিনই ওলটপালট হয়ে গেল, যখন সে দেশ থেকে একটা ফোন পেল। ফোনের ওপার থেকে দাদার কান্নাভেজা গলা ভেসে এল—বাবা আর নেই। এক আকস্মিক, তীব্র হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি চিরতরে চোখ বুজেছেন।
স্বাতীর মাথার ওপরে যেন এক মুহূর্তে আস্ত আকাশটাই ভেঙে পড়েছিল। সে তার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়, তার আদর্শ, তার পরম ভরসার বাতিঘরকে হারাল। সে পাগলের মতো কাঁদতে কাঁদতে নীলয়কে বলল, "নীলয়, আমার টিকিটের ব্যবস্থা করো। আমি এখনই দেশে যাব। আমার বাবা চলে গেছেন নীলয়..."
কিন্তু সেই চরম শোকের মুহূর্তে নীলয়ের আচরণ ছিল অভাবনীয় রকমের নিষ্ঠুর, অমানবিক ও উদাসীন। নীলয় স্বাতীকে সান্ত্বনা দেওয়া তো দূর, অত্যন্ত হালকা চালে তার ল্যাপটপে অফিসের কাজ করতে করতে, কফির কাপে চুমুক দিয়ে বলল,
"আরে এত কান্নাকাটির কী আছে? জন্ম হলে তো মৃত্যুই হবে, এটা জীবনেরই একটা অংশ। ওনার বয়স হয়েছিল, গেছেন। এটা নিয়ে এত নাটক করার কী মানে? জীবন তো আর কারুর জন্য থেমে থাকবে না। আর উনি তো দেশের জন্য অনেক সততা দেখিয়েছেন, কোনো উপরি টাকা নেননি। দেখো এখন তোমাদের ভগবান উনার জন্য কী স্বর্গ তৈরি করেন! এবার ওনার চিন্তা বাদ দিয়ে একটু প্র্যাক্টিক্যাল হও। আমার সামনের সপ্তাহে একটা ইম্পর্টেন্ট ক্লায়েন্ট মিটিং আছে, আমি এখন লিভ নিতে পারব না। আর তুমিও একা একা গিয়ে কী করবে? শ্রাদ্ধ- শান্তি তো ওখানকার পুরুত মশাইরাই করিয়ে দেবে।আর সে সব তো তোমার মা -দাদাই মিটিয়ে নিতে পারবে।"
নীলয়ের এই একটা কথাই যেন জ্বলন্ত আগুনে এক গ্যালন পেট্রোল ঢেলে দিল। স্বাতী স্তম্ভিত হয়ে, চোখের জল স্তব্ধ করে নীলয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। যে মানুষটা নিজের যোগ্যতাহীনতার দেমাক দেখাতে গিয়ে একটা মেয়ের মৃত বাবার চলে যাওয়াকে 'নাটক' বলতে পারে, যে মানুষটা একটা সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় শোককে এতটা সস্তা উপহাসে উড়িয়ে দিতে পারে, তার সাথে আর যাই হোক—আর এক ছাদের নিচে থাকা যায় না।
স্বাতীর মনে হলো, নীলয়ের ভেতরের পুরুষাকার আসলে একটা ফাঁপা রঙিন বেলুন, যা কেবল বাপের কালো টাকার জোরে বাতাসে ভাসছে। নীলয়ের চরম অশিক্ষিত মন আজ স্বাতীর আত্মসম্মান ও পিতৃভক্তিতে এমন এক কুৎসিত আঘাত করেছে, যার কোনো উপশম নেই, কোনো ক্ষমা নেই।
স্বাতী আর একটা মুহূর্তেও দ্বিধা করেনি। সে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল, যে সংসারে নিজের আবেগের, নিজের শিক্ষার কোনো মূল্য নেই, যেখানে তার উচ্চশিক্ষিত ও আদর্শবান মৃত বাবার প্রতি ন্যূনতম কোনো শ্রদ্ধা নেই, সেখানে টিকে থাকা মানে নিজের আত্মাকে প্রতিদিন বিষ খাইয়ে হত্যা করা। তার চেয়ে সারাজীবন একলা থাকা, সমাজের গালি খাওয়া অনেক শ্রেয়। সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকাটাই এখন তার জীবনের একমাত্র মূলমন্ত্র।
পরদিন সকালে, সিডনির আকাশে যখন ভোরের আলো ফুটছে, নীলয় তখনো মদের ঘোরে গভীর ঘুমে মগ্ন। স্বাতী কোনো শোরগোল করল না, কোনো ঝগড়া বা অভিযোগের ঝড় তুলল না। সে নিঃশব্দে তার পাসপোর্ট, কিছু দরকারি সার্টিফিকেট আর একটা ছোট ট্রলি ব্যাগ হাতে তুলে নিল। নীলয়ের দেওয়া সমস্ত গয়না, দামী শাড়ি সে ড্রেসিং টেবিলের ওপর সাজিয়ে রেখে দিল।
যাওয়ার আগে, আলমারির ওপর সে একটা সাদা কাগজে কলম দিয়ে লিখে রেখে গেল একটিমাত্র ছোট্ট লাইন—
"মন যদি অশিক্ষিত হয়, তবে শিক্ষিত  ভালোবাসাও কেবল আঁকবে ক্ষত।"
সে নীলয়কে তার মেকি অহংকারের চাদরে ঘুমন্ত রেখেই নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে ক্যাব ধরে এয়ারপোর্টে চলে  এল। চিরদিনের জন্য সে অস্ট্রেলিয়ার সেই বিলাসবহুল খাঁচাকে বিসর্জন দিল।
ইন্ডিয়াতে ফিরে আসার পর স্বাতীর জীবনটা মোটেই সুগম হয়নি। বাবার মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই শুরু হলো সম্পর্কের এক নতুন এবং রূঢ় মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। যে মা (করুণাদেবী) সারাজীবন সুধাময়বাবুর আদর্শের ছায়ায় থেকে এক ধরণের সামাজিক সুরক্ষায় অভ্যস্ত ছিলেন, তিনিও  স্বাতীর এই ফিরে আসাকে সহজভাবে নিতে পারলেন না।
স্বাতী যখন ভাঙা মন নিয়ে চ্যাটার্জী বাড়ির দরজায় দাঁড়াল, করুণাদেবী কপালে হাত দিয়ে কেঁদে উঠলেন,
"একী অলক্ষুণে কাণ্ড করলি স্বাতী? জামাইয়ের ঘর ছেড়ে চলে এলি? লোকে যে মুখে চুনকালি দেবে! মেয়েদের একটু মানিয়ে-গুছিয়ে চলতে হয়। তোর বাবার ওই অতিরিক্ত অহংকার আর নীতিটাই তোকে শেষ করল। উনি তো মরে বেঁচে গেলেন, এখন  আমি সমাজকে মুখ দেখাব কী করে?"
মায়ের এই আকস্মিক ভোলবদল এবং বাবার আদর্শকে দোষারোপ করাটা স্বাতীর বুকে নীলয়ের অত্যাচারের চেয়েও বড় ধাক্কা হয়ে লাগল। সে বুঝল, তার মা আসলে সমাজের চোখে 'ভালো মা' ও 'ভালো শাশুড়ি' সাজার মোহে অন্ধ।
এদিকে ভাই-বোনের সম্পর্কের রসায়নটাও এক লহমায় বদলে গেল। স্বাতীর বড়দা, সৈকত, যিনি একসময় বোনের সাফল্যে গর্ব বোধ করতেন, এখন তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষ। সৈকতের নিজের চাকরির পরিবেশটা  ভালো যাচ্ছিল না, তায় আবার বাবার মৃত্যুর পর সম্পত্তির উত্তরাধিকারের প্রশ্ন এসেছে। স্বাতীর ফিরে আসাটাকে তিনি এবং তাঁর স্ত্রী (বৌদি সুমনা) দেখছেন এক বিশাল বোঝা এবং ভাগীদার হিসেবে।
একদিন ড্রয়িংরুমে সৈকত রুক্ষ গলায় বলল,
"দেখ স্বাতী, তুই যদি ভাবিস বাবার এই ফ্ল্যাটে সারাজীবন ডিভোর্সি তকমা নিয়ে বসে থাকবি, আর আমরা পাড়ার লোকের কথা শুনব, তা কিন্তু হবে না। এত অলীক অহংকার দেখানোর কী দরকার ছিল? নীলয় একটু আধটু শাসন করেছে তো কী হয়েছে? টাকা তো দিচ্ছিল! এখন তুই ল-ইয়ারগিরি করবি আর কোর্টের লোক আমাদের দিকে আঙুল তুলবে, এটা আমি বরদাস্ত করব না।"
বৌদি সুমনা পাশ থেকে আলতো করে বিষ ঢাললেন, "আসলে কী জানো বোনটি , বেশি পড়াশোনা করলে আবার  মেয়েদের মাটিতে পা থাকে না। এখন বাপের পেনশনের টাকায় আর  কদিনই বা  টানবে? শেষমেশ তো দাদার ওপরেই চাপবে !"
স্বাতী অবাক হয়ে দেখল, রক্তের সম্পর্কগুলোও  কীভাবে টাকার মাপকাঠিতে এবং সামাজিক সম্মানের দাঁড়িপাল্লায় বদলে যায়। যে ভাই ছোটবেলায় তাকে চকোলেট এনে দিত, আজ সে-ই তাকে পর ভাবছে। আত্মীয়দের কটূক্তি, সমাজের বাঁকা চাউনি, আর কোর্টের চত্বরে দাঁড়িয়ে মানুষের ফিসফিসানি স্বাতীর জীবনকে আরো বিষময় করে তুলেছিল। কিন্তু স্বাতীর ভেতরে ছিল তার বাবার রক্ত। সে ভেঙে পড়লেও মচকে যেতে রাজি ছিল না।
সে আবার কোর্টের কালো কোটটা গায়ে জড়াল। চার বছরের গ্যাপের পর আবার নতুন করে ওকালতি শুরু করা সহজ ছিল না। জুনিয়ার উকিলরা তাকে দেখে হাসত, মক্কেলরা একাকী নারীর যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করত। কিন্তু স্বাতী হাল ছাড়েনি। দিনে কোর্টের ফাইলের পর ফাইল পড়া, আর রাতে বাবার ছবির সামনে বসে চোখের জল ফেলা—এই ছিল তার দিনলিপি।
কোর্টে প্রায়ই তার বিপক্ষের পুরুষ উকিলরা তাকে মানসিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করত। কেস চলাকালীন ব্যক্তিগত আক্রমণ করত,
"ম্যাডাম তো নিজের ঘরটাই সামলাতে পারলেন না, তিনি আবার মক্কেলকে  জাস্টিস কীভাবে পাওয়াবেন ? যার নিজের জীবনেই আইন খাটেনি, সে অপরের জন্য কী সওয়াল করবে?"
এজলাসের ভেতরে সেই সমস্ত কটূক্তির উত্তর স্বাতী মুখে দিত না। সে উত্তর দিত আইনের ধারালো যুক্তিতে, অকাট্য নথিপত্রে। তার চোখের জল তখন আর দুর্বলতা ছিল না, তা হয়ে উঠেছিল এক একটি জ্বলন্ত অঙ্গার। সে সমাজের এই রূঢ় বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছিল যে, এখানে একটা মেয়েকে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে গেলে পুরুষের চেয়ে দশগুণ বেশি খাটতে হয়।
ধীরে ধীরে স্বাতীর সততা, প্রখর মেধা আর নির্ভীক সওয়াল-জবাব কোর্টের করিডোরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠল। সে একের পর এক কঠিন এবং প্রায় হেরে যাওয়া কেস জিততে শুরু করল।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এল তার পরিবারে। যখন স্বাতী নিজের ক্ষমতায় একটি বড় কেস জিতে সংবাদপত্রের শিরোনামে এল এবং নিজের উপার্জনে আলাদা ফ্ল্যাট কিনে মাকে নিজের সাথে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিল, তখন দাদা সৈকত ও বৌদি সুমনার গলার সুর রাতারাতি বদলে গেল।
সৈকত একদিন লজ্জিত মুখে এসে বলল, "স্বাতী, আমি আসলে বুঝতে পারিনি বোন... তুই যে এতটা লড়তে পারবি। বাবার আসল যোগ্য উত্তরসূরি তো তুই-ই।"
মা করুণাদেবীও মেয়ের এই অনমনীয় জেদ আর সততার সামনে নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। তিনি স্বাতীর হাত ধরে কেঁদে ফেলে বললেন, "আমাকে ক্ষমা করিস মা। আমি সমাজের ভয়ে তোর বাবার আদর্শকেই  ভুলে গিয়েছিলাম। আজ বুঝলাম, তুই তোর বাবার মান রেখেছিস।"
বিশেষ করে যেসব নারীরা গার্হস্থ্য হিংসার শিকার, তাদের জন্য স্বাতী হয়ে উঠল এক ভরসার নাম। সে তাদের হয়ে নিখরচায় লড়তে লাগল, কারণ সে নিজে সেই নরকযন্ত্রণা ভোগ করে এসেছে।
  এইভাবে  বছরের পর বছর কেটে গেছে। অনেক কষ্ট, অনেক একাকী রাত, অনেক ব্যর্থতার গ্লানি আর সমাজের হাজারো কটূক্তি মাথায় নিয়ে স্বাতী আজ ভারতের একজন অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এবং সম্মানীয় আইনজীবী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আজ সমাজের মানুষ তাকে ‘ডিভোর্সি মেয়ে’ বলে অবহেলা করে না, বরং তাকে দেখে মায়েরা তাদের মেয়েদের বলে, "স্বাতীর মতো সাহসী হতে শেখো।"
আজকের দিনটা স্বাতীর জীবনে এক পরম প্রাপ্তির দিন। সুপ্রিম কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তাকে ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যান্ড লিগ্যাল জাস্টিস’ সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে। দিল্লির এক সুবিশাল কনভেনশন হলে ভারতের আইনমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি এবং হাজার হাজার গুণী মানুষের সামনে স্বাতী মঞ্চে এসে দাঁড়াল। হলের দর্শকাসনে বসে আছেন তার মা করুণাদেবী, যাঁর চোখে আজ অনুশোচনা ছাড়িয়ে গর্বের অশ্রু।
স্বাতীর পরনে রয়েছে একটি সাধারণ সিল্কের  শাড়ি, চুলে হালকা পাক ধরেছে, কিন্তু চোখে সেই বাবার মতোই এক প্রখর, দীপ্ত এবং শান্ত চাউনি। তার হাতে তুলে দেওয়া হলো সেই সম্মানজনক ট্রফি। পুরো হলঘর তখন করতালি আর প্রশংসার বন্যায় ভেসে যাচ্ছে। ক্যামেরার ফ্ল্যাশলাইটগুলো তার মুখের ওপর এসে পড়ছে।
মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড়িয়ে স্বাতী কিছুক্ষণ নিথর হয়ে রইল। তার চোখের সামনে ভেসে উঠল সিডনির সেই অন্ধকার ঘর, আলমারির ওপর ফেলে আসা সেই চিঠি, আর বাবার সেই শান্ত ছবিটা। বাবার সেই কথাটি আবার মনে পড়ল—“নিজের আত্মসম্মান বিক্রি করে পাওয়া সুখের চেয়ে, মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার দুঃখও অনেক বেশি পবিত্র।” আজ স্বাতী বাবার সেই ঋণ কানায় কানায় শোধ করেছে।
সে গভীর একটা নিশ্বাস নিয়ে বলতে শুরু করল,
"আজ আপনারা আমার যে জয় দেখছেন, যে সম্মান দেখছেন, তার পেছনে একটা গভীর ক্ষত এবং একটি মহাপবিত্র বিসর্জনের গল্প লুকিয়ে আছে। আজ থেকে অনেক বছর আগে, আমি যখন আমার আত্মসম্মান, আমার শিক্ষা আর আমার বাবার আদর্শকে বাঁচানোর জন্য আমার সংসার বিসর্জন দিয়েছিলাম, তখন এই সমাজ আমাকে অযোগ্য বলেছিল। আমাকে বলা হয়েছিল, আমার কোনো ভবিষ্যৎ নেই। সমাজ ভেবেছিল স্বামী ছাড়া নারীর কোনো অস্তিত্বই  থাকতে পারে না।"
স্বাতীর গলাটা একটু কেঁপে উঠল, কিন্তু সে সামলে নিল। সে ট্রফিটার দিকে তাকিয়ে বলল,
"আমি সেদিনই  বুঝেছিলাম, ভালোবাসা মানে সবসময় একটা কুৎসিত, অপমানজনক সম্পর্কের খাঁচায় আটকে থাকা নয়। কখনো কখনো নিজের আত্মমর্যাদাকে বাঁচানোর জন্য দূরে সরে যাওয়াটাও ভালোবাসার এবং জীবনের গভীরতম বহিঃপ্রকাশ। আমি আমার জীবনের সেই সোনালী খাঁচাকে বিসর্জন দিয়েছিলাম বলেই, আজ এই মুক্ত আকাশে ডানা মেলতে পেরেছি। আজ আমার এই জয় সেই সমস্ত নারীদের জন্য, যারা প্রতিদিন চার দেওয়ালে নিজের আত্মাকে হত্যা করছে। মনে রাখবেন, সমাজ আপনাকে তখনই মানবে, যখন আপনি নিজে নিজের মর্যাদা রক্ষা করতে শিখবেন।"
পুরো হলঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল। অনেকের চোখেই তখন জল। স্বাতী মঞ্চ থেকে নেমে এল।
আজ স্বাতী অনেক দূরে, নিজের তৈরি করা এক নিজস্ব জগতে শান্তিতে বাস করছে। তার বুকে এখন আর নীলয়ের প্রতি কোনো হাহাকার নেই, কোনো ক্ষোভ বা রাগও নেই। সে বুঝে গেছে, নীলয় হয়তো সারাজীবন তার বাপের কালো টাকার অহংকার, তার স্বল্প অর্জিত বিদেশী চাকরি, আর সংকীর্ণ মানসিকতার ছোট বৃত্তেই বন্দি থাকবে। সে কোনোদিনও জানতে পারবে না মুক্ত আকাশের স্বাদ কী, সুশিক্ষিত মনের গভীরতা কী।
আর স্বাতী? সে স্মৃতির অস্পষ্ট ভিড়ে নীলয়কে চিরতরে হারিয়ে দিয়েও নিজের ভেতরে খুঁজে পেয়েছে এক পরম আত্মমর্যাদা ও অনাবিল শান্তি। একলা পথ চলার এই দীর্ঘ মরুভূমি পার হয়ে সে আজ এক মুক্ত আকাশ ছোঁয়া পাখি, যার ডানায় আর কোনো ক্ষতের দাগ নেই, আছে শুধু ওড়ার অফুরন্ত আনন্দ। সে রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে শুধু একটাই প্রার্থনা করে—
"ভালো থেকো তুমি তোমার মতন, তোমার চেনা ছোট জগতে। আমি মুক্ত, আমি অপরাজিতা।"

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

বাংলা সাহিত্যের সেরা কয়েকটি চরিত্র ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত

বাংলা সাহিত্যের সেরা কয়েকটি চরিত্র মানস কুমার সেনগুপ্ত সাহিত্যের পাতা থেকে চলচ্চিত্রের পর্দায় চিত্রায়িত কিছু সেরা চরিত্র আজও আমার মনের মণিকোঠায় ভীড় করে আসে।  কিশোর বয়সে দেখেছিলাম মনোজ বসুর আংটি চাটুজ্যের ভাই' অবলম্বনে নির্মিত 'পলাতক ' ছায়াছবি ‌। ছবির মূল চরিত্র বসন্ত জমিদার বাড়ির সুখ আরাম বিসর্জন দিয়ে গ্রামের পথে, মুক্ত প্রকৃতির মাঝে নিজেকে সঁপে দিতে চেয়েছে। গানপাগল বসন্ত চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করে নিয়ে ভেবেছি, এমনটা যদি আমি পারতাম। ছবিতে বসন্ত জীবন পথের পথিক হয়ে সংসার ছেড়ে, ঠিকানাবিহীন হয়ে বেরিয়ে পড়েছিল মনের খবর খুঁজতে।  রবীন্দ্রনাথের 'অতিথি ' গল্প নিয়ে নির্মিত ছায়াছবির মূল চরিত্র তারাপদও কৈশোরকালেই বেড়িয়ে পড়েছিল ঘরের বাঁধন ছেড়ে। মুক্ত প্রকৃতির কোলে তারাপদর সঙ্গে গেয়ে উঠেছি-' 'এই আকাশে আমার মুক্তি আলোয় আলোয়, আমার মুক্তি ধূলায় ধূলায় ঘাসে ঘাসে।  যৌবনকালে দেখা রমাপদ চৌধুরীর উপন্যাস 'বনপলাশীর পদাবলী অবলম্বনে নির্মিত ছায়াছবির মূল চরিত্র উদাস গেয়ে উঠেছে -' মনের কথা কারে বলি আর,...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতা ।। পিতৃ-মাতৃ- সুধা ।। সুদামকৃষ্ণ মন্ডল

পিতৃ-মাতৃ- সুধা সুদামকৃষ্ণ মন্ডল এই সেই হাত পাখা বেতের লাঠি  বাবার চশমা খাট বিছানা । চৌকি জঁক ঘাট পুকুর কুল আম গাছতলা মায়ের পরশ লেগে আছে হুঁকো কলকে আর পানের বাটায় । পুরানো সেই থমথমে গম্ভীর বারান্দা চিরস্মরণীয়  উভয়ের প্রতিকৃতি ফ্রেমে বাঁধা । তাকিয়ে সদাহাস্যোজ্জ্বল  আমাদের দিকে । মায়ের সিন্দুকে আচার খুচরো দু'আনা পয়সা কত গল্পের মাটি মাটি সুগন্ধি জানালা ! এখন  তুলসীতলার প্রদীপ জ্বলে না বলে - কত আফসোস  গোধূলিতে নেই সিঁথি সিঁদুর ! আহা জন্মভিটার  রাঙামাটি নমস‍্য মাতৃ সুধা । =========== সুদামকৃষ্ণ মন্ডল গ্রাম: পুরন্দর পুর (অক্ষয় নগর) পোস্ট : অক্ষয় নগর থানা : কাকদ্বীপ জেলা : দঃ চব্বিশ পরগণা পিন কোড :743347

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। স্বপন চক্রবর্তী

স্বপন চক্রবর্তী জগন্নাথ কাহিনী পুরী জগন্নাথধাম                    করিব প্রভুর নাম                    আজি মোর কাব‍্যের ছন্দে, জগদীশ্বর তিনি                       জোগান সবারে চিনি                     রাখেন মোদের ভালো-মন্দে।  নীলাচলে এক নারী                  ভক্তির ধ্বজাধারী                       ঈশ্বর-প্রেম ছিল অপার, কর্মাবাঈ নামে তিনি                    প্রভুর হৃদয় জিনি                       করিতেন দিব্য সংসার। ভিখারিণী অতি দীন                    বার্ধক্যে শক্তিহীন              ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

আশিস চৌধুরীর মুক্তগদ্য

বাদল বাউল বাজায় রে একতারা গ্রীষ্মের প্রবল দাবদাহে যখন শরীর মন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে তখন আমরা চাতকের মত আকাশপানে চেয়ে থাকি,দেখি মেঘ করেছে কি-না। এ যেন যক্ষপ্রিয়ার মত মেঘের অপেক্ষায় বসে থাকা।এখন অবশ্য বর্ষা সময়মত আসে না। বড় অভিমানী হয়েছে সে। মৌসুমীবায়ু যে সময়ে এই বাংলায় প্রবেশ করার কথা তা এখন করে না,কিছুটা বিলম্বিত বলা যায় । ঋতুচক্রে এখন অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটে গেছে বিশ্ব-উষ্ণায়নের কারণে একথা আমরা আজ সকলেই জানি।আর এই বিশ্ব-উষ্ণায়নের মূল কারণ হচ্ছে অতি আধুনিক মানুষের লাগামছাড়া ভোগবিলাস।কাজেই বর্ষার আগমন একটু দেরিতে হলেও আমরা আগের মত অস্থির হই না,অনেকটা গা-সওয়া হয়ে গেছে। সুতরাং বর্ষা দেরি করলেও আমরা তাকে অভ্যর্থনা জানাতে কার্পণ্য করি না।তার আগমনে আমাদের হৃদয় ময়ূরের মত নেচে ওঠে।আমরা যেন এইভাবে অভ্যর্থনা জানাই-‘এসো শ্যামল সুন্দর/আনো তব তাপহরা তৃষাহরা সঙ্গসুধা। ’ ঋতুচক্রের নিয়মানুযায়ী আষাঢ় , শ্রাবণ-এই দু ’ মাস বর্ষাকাল।তা সত্ত্বেও ভাদ্রমাসেও কিন্ত যথেষ্ট বৃষ্টি হয়।তবু আষাঢ়-শ্রাবণ কে নিয়েই আমাদের যত কাব্য , গান আর নস্টালজিয়া।এই মুহূর্তে আমারই মনে পড়ে গেল-আষাঢ় শ্রাবণ মানে না তো মন..... ...

কবিতা ।। স্রষ্টা ।। বৈশাখী রায়

  স্রষ্টা   বৈশাখী রায় তাদের খুঁজছি, খুঁজেই চলেছি... মস্তিষ্কের গভীর-গোপন কোণগুলিতে। তবুও প্রকাশ্যে আসেনি তারা, শব্দের ভিড় নামেনি হাতে। চাহিদার প্রাচুর্য! সংখ্যা বাড়ছে খুব... আমি স্রষ্টা, রচনাই আমার আরাধনা, সৃষ্টি সাধনা জলাঞ্জলি যাক! জবরদস্তি প্রতিযোগিতায় নামা। মনের ভাব প্রকাশ পায় না, তবুও লেখার স্বাধীনতা।  অর্থ মিলুক ছাই না মিলুক , কঠিন তবু শব্দ খোঁজা।  কলমে তারা ধরা না দিলে, মস্তিষ্ক শব্দ ধার করে । অনুভূতিরা আপন হয় না, অন্যের অনুভবে অট্টালিকা গড়া। উফ! শব্দ মেলানো কঠিন কাজ, মন এবার শব্দের ছক বাধে। ব্যস্ততা, সময়সীমা, প্রতিযোগিতার জটাজালে, স্বতঃস্ফূর্ততা হাঁপিয়ে ওঠে...।।               ___________       নাম-বৈশাখী রায়  ঠিকানা- ঠাকুরনগর (বণিক পারা) ডাক-ঠাকুরনগর  থানা-গাইঘাটা  পিন-৭৪৩২৮৭

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য ।। পাভেল আমান

    বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষক দিবস পালনের তাৎপর্য যিনি শিক্ষা দান করেন তিনিই শিক্ষক। শিক্ষা বলতে কেবল প্রথাগত শিক্ষা বা পুঁথিগত শিক্ষা নয়, বৃহৎ অর্থে প্রথা বহির্ভূত জ্ঞান ও কর্মের বাস্তব অভিজ্ঞতা। রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করে বলা যায় যে, উত্তম শিক্ষক হবেন উত্তম ছাত্র। শিক্ষকের মধ্যে ছাত্রত্ব বেঁচে না থাকলে ছাত্রেরা তাঁর মনের নাগাল পেতে সমর্থ হয় না।শিক্ষকরা হলেন সমাজ গড়ার কারিগড়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথ প্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকেরা। আদিকালের সামাজিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সেই আবাসিক গুরুকুল শিক্ষা ব্যবস্থার যুগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে ছিল নিবিড় ও মধুর সম্পর্ক। পিতা মাতার পর দ্বিতীয় পিতা বা অভিভাবক হিসেবে শিক্ষকদেরকে মান্য করতেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের কাছে শিক্ষক ছিলেন পরম গুরু। গুরুর আশীর্বাদ ও দাক্ষিণ্য ছাড়া জীবনে সাফল্য অধরা থেকে যায়। গুরুর নির্দেশিত পথে অনুগমন করলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কম। শিক্ষক তথা গুরুর প্রতি ছাত্র তথা শিষ্যের আনুগত্য, ভক্তি, বিশ্বাস ও আত্মনিবেদন ছিল দৃষ্টান্ত মূলক। প্রাচীন ভারতে গুরু গৃহে গুরুর সাহচর্যে বসবাস করে শ...

প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির

ধাঙড় মোঃ চাঁন মিয়া ফকির           বাংলাদেশে অনেকগুলো জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে | সাধারণভাবে বাংলাদেশী বলতে আমরা বুঝি দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী বা অধিবাসী জনগণ | বাংলাদেশের সংবিধানের ৬ ধারার ২ উপধারায় বলা হয়েছে যে , বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন | বাংলাদেশীদের মধ্যে রয়েছে বাঙালি এবং কিছু উপজাতি , নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় , বিভিন্ন সময়ের শাসক শ্রেণি কর্তৃক আনিত ও বাঙালি কর্তৃক আনিত শ্রমজীবি , পেশাজীবী সম্প্রদায় |         ধাঙড় (মেথর/ঝাড়ুদার/হরিজন) একটি পেশাজীবী সম্প্রদায় | তারা শহর , বন্দর , গঞ্জ ও জনবহুল (রেলস্টেশন/বাসস্টেশন) এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ময়লা , আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজে পেশাদার শ্রমজীবি হিসেবে কাজ করে | স্থানীয় হাট বাজারে এদেরকে ভূঁইমারি বা ঝাড়ুদার বলা হয় | সমাজে ধাঙড় বা মেথরদের অবস্থান ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , ˆ বশ্য এবং শূদ্রের বাইরে পঞ্চম হিসেবে তারা অস্পৃশ্য | এদের পর্যায়ে আরো আছে চামার , কামার , কুমার , জেলে , ব্যাধ , জোলা , ডোম যাযাবর ইত্...