কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
শিবাশিস মুখার্জী
একপশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে একটু আগেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের লাল ইটের ভবনগুলোর
গায়ে তখনও বৃষ্টির জল চিকচিক করছে। কৃষ্ণচূড়ার পাতাগুলো ধুয়ে আরও সবুজ
হয়ে উঠেছে। ভেজা মাটির গন্ধে সন্ধ্যা ধীরে ধীরে নেমে আসছে ক্যাম্পাসে।
সেদিন পরীক্ষার ডিউটি শেষ হতে একটু দেরি হয়ে গিয়েছিল।
দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা উত্তরপত্রের ভেতর অন্য মানুষের ভবিষ্যৎ খুঁজতে খুঁজতে
নিজের ভেতরটাও কেমন যেন ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। শিক্ষকতার একটি অদ্ভুত
একাকীত্ব আছে — সারাদিন আমরা অসংখ্য মানুষের মধ্যে থাকি, অথচ দিনের শেষে
নিজের নীরবতার কাছেই ফিরে আসি।
বাড়ি ফেরার তাড়া ছিল না।
বরং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে বইয়ের দোকানে যাওয়া আমার বহু বছরের
অভ্যাস। নতুন বই এসেছে কি না, কোনও অচেনা লেখকের নাম চোখে পড়ে কি না,
কিংবা বহুদিনের খোঁজ করা কোনও বই হঠাৎ তাকের কোণে অপেক্ষা করছে কি না—এই
আশাতেই আমি প্রায় প্রতিদিনই কিছুক্ষণ পুরোনো বইয়ের
দোকানগুলোতে ঘুরে বেড়াই। কেউ কেউ হাঁটতে হাঁটতে নিজের ক্লান্তি ঝরিয়ে
ফেলে; আমি বইয়ের তাকের সামনে দাঁড়িয়ে আমার দিনভর জমে থাকা শব্দের
ক্লান্তি নামিয়ে রাখি।
সেদিন বিশেষ করে খুঁজছিলাম পোস্ট-কলোনিয়াল তত্ত্বের ওপর নতুন কিছু বই।
এডওয়ার্ড সাঈদের Orientalism, হোমি ভাভার The Location of Culture,
গায়ত্রী স্পিভাকের প্রবন্ধ—এসব বহুবার পড়েছি। তবু ভালো বইয়ের সঙ্গে
সম্পর্ক কখনও শেষ হয় না। একই বই মানুষ বারবার পড়ে না;
বরং প্রতিবারই নতুন একজন মানুষ সেই বই পড়ে। কারণ বই বদলায় না, বদলে যায়
পাঠকের জীবন।
দোকানের দিকে হাঁটতে হাঁটতে দেখলাম, বৃষ্টির পর শহরটা যেন হঠাৎ আরও ব্যস্ত
হয়ে উঠেছে। সবাই বাড়ি ফেরার তাড়ায়। অফিসফেরত মানুষ বাস ধরার জন্য
দৌড়চ্ছে, কারও হাতে ভেজা ছাতা, কারও কাঁধে ল্যাপটপের ব্যাগ। টিউশন থেকে
ফিরছে ছাত্রছাত্রীরা; তাদের চোখে ক্লান্তি, তবু আগামী
পরীক্ষার চিন্তা। স্কুলপড়ুয়া শিশুরা বাবার বা মায়ের হাত শক্ত করে ধরে
হাঁটছে। কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা কেউ ভিজে রাস্তা ধরে হাসতে
হাসতে এগিয়ে যাচ্ছে, কেউ বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছে। মনে
হচ্ছিল, এই শহরের প্রতিটি মানুষ যেন কোনও না কোনও
ঘরের দিকে ফিরে যাচ্ছে—যেখানে অপেক্ষা করে আছে এক কাপ চা, কিছু পরিচিত
মুখ, কিংবা অন্তত একটি জ্বলন্ত বাতি।
হঠাৎ মনে হলো, এই মানুষগুলোর প্রত্যেকের মনেই হয়তো একই অদৃশ্য বাক্য
ঘুরছে—আজকের দিনটা শেষ হলো, কিন্তু আগামীকাল আবার বেরোতে হবে। আবার সেই
অফিস, সেই টিউশন, সেই স্কুল, সেই কলেজ, সেই বিশ্ববিদ্যালয়, সেই মিটিং, সেই
ক্লাস, সেই বাস, সেই ট্রেন, সেই একই রুটিন। আমরা যেন
প্রতিদিন বাড়ি ফিরি শুধু পরদিন আবার বেরিয়ে পড়ার জন্য। জীবনকে বাঁচার
চেয়ে, জীবনের প্রস্তুতি নিতেই আমাদের সময় বেশি কেটে যায়।
আমি কিছুক্ষণ ফুটপাথে দাঁড়িয়ে সেই ছুটে চলা মানুষগুলোর দিকে তাকিয়ে
রইলাম। মনে হলো, প্রত্যেকেই যেন সময়ের বিশাল এক যন্ত্রের ছোট্ট একটি চাকা।
কেউ থামতে পারে না, কেউ নিজের ইচ্ছেমতো ধীরে চলতে পারে না। অথচ আশ্চর্য,
এত মানুষের ভিড়ের মধ্যেও প্রত্যেকেই ভীষণ একা।
হয়তো এ কারণেই দিনের শেষে মানুষ একটি ঘর খোঁজে। কিন্তু ঘর কি সত্যিই
ইট-সিমেন্টের চার দেওয়াল? নাকি ঘর সেই জায়গা, যেখানে মানুষ নিজের সমস্ত
মুখোশ খুলে রাখতে পারে? আমার কাছে সেই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল, একটি ভালো
বইয়ের দোকানও এক ধরনের ঘর। সেখানে কেউ কাউকে প্রশ্ন
করে না, তবু প্রত্যেকে নিজের উত্তর খুঁজে পায়।
এইসব ভাবতে ভাবতেই আমি বইয়ের দোকানের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালাম। বাইরে
পৃথিবী তখনও তাড়াহুড়োয় ছুটছে, কিন্তু ভেতরে সময় যেন অন্য এক নিয়মে
প্রবাহিত হচ্ছে। সেই নীরবতার মধ্যেই প্রথম দেখা হয়েছিল সেই বৃদ্ধ মানুষের
সঙ্গে।
দোকানের ভেতরে তখন এক ধরনের নীরবতা। বাইরে ভেজা রাস্তার উপর দিয়ে বাস চলে
যাচ্ছে, মানুষের ছাতা ভিজে উঠছে, হর্নের শব্দ দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু
দোকানের ভেতরে যেন অন্য এক সময় বাস করে। পুরোনো কাগজের গন্ধে মিশে আছে
বৃষ্টির সোঁদা গন্ধ। আমার বহুদিনের বিশ্বাস, পৃথিবীর
সবচেয়ে গভীর সুগন্ধ যদি কিছু থাকে, তবে তা হলো ভেজা মাটি আর পুরোনো
বইয়ের কাগজের গন্ধ। এই গন্ধ মানুষকে অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায় না; নিজের
ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
আমি একটি তাকের সামনে দাঁড়িয়ে বই উল্টেপাল্টে দেখছি। ঠিক তখনই আমার চোখে
পড়ল একজন বৃদ্ধ মানুষ। ধবধবে সাদা চুল, খুব সাধারণ পোশাক, হাতে একটি
পুরোনো কাপড়ের ব্যাগ। তাঁর মুখে এমন এক শান্তি, যা কেবল দীর্ঘ জীবন পার
করে আসা মানুষের মুখেই দেখা যায়। তিনি বই খুঁজছিলেন
না। তিনি যেন বইগুলোর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।
তিনি একটি বই তুলে নিলেন। বইটি খুললেন না। শুধু মলাটে হাত বুলিয়ে মৃদু হাসলেন।
সেই হাসিটা আমাকে থামিয়ে দিল।
মনে হলো, মানুষটি বই স্পর্শ করছেন না; বহুদিনের এক বন্ধুর মুখ স্পর্শ করছেন।
আমি তাকিয়ে থাকতে দেখে তিনি বললেন,
"আপনিও কি বই খুঁজতে এসেছেন, নাকি নিজেকে?"
প্রশ্নটা এত অপ্রত্যাশিত ছিল যে আমি কিছুক্ষণ উত্তর দিতে পারলাম না।
তারপর বললাম,
"দুটোই বোধহয়। বই খুঁজতে এসে মানুষ শেষ পর্যন্ত নিজেকেই খুঁজে পায়।"
তিনি মাথা নাড়লেন।
"ঠিক বলেছেন। বই কখনও উত্তর দেয় না। বই শুধু এমন কিছু প্রশ্ন জাগিয়ে দেয়, যেগুলো আমরা সারাজীবন এড়িয়ে চলি।"
আমরা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বই দেখতে লাগলাম। অদ্ভুত ব্যাপার, মানুষের সঙ্গে
পরিচয় হতে অনেক সময় নামের দরকার হয় না। কিছু মানুষকে মনে হয়, বহুদিন
ধরেই চিনি। তিনি হঠাৎ বললেন,
"আমি রোজ আসি এখানে।"
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,
"রোজ?"
"হ্যাঁ। বই কিনতে নয়। দেখা করতে।"
আমি তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
তিনি যেন আমার বিস্ময় পড়ে ফেললেন।
"সব ভালোবাসা নিজের করে নিতে হয় না। কিছু ভালোবাসার সামনে প্রতিদিন পাঁচ মিনিট দাঁড়ালেই জীবনটা একটু সহনীয় হয়ে ওঠে।"
সেদিন প্রথম বুঝলাম, বইয়ের দোকান কেবল বই বিক্রির জায়গা নয়। এটি এমন এক
আশ্রয়, যেখানে মানুষ নিজের হারিয়ে যাওয়া সময়ের সঙ্গে দেখা করতে আসে।
পরের দিনও আমি গেলাম।
তিনি ছিলেন।
তারও পরের দিন।
তারও পরের দিন।
ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে কথাবার্তা বাড়ল। জানলাম, তিনি অবসরপ্রাপ্ত
স্কুলশিক্ষক। তাঁর স্ত্রী বহু বছর আগে চলে গেছেন। একমাত্র ছেলে কানাডায়,
মেয়ে বেঙ্গালুরুতে। নিয়মিত ফোন আসে, টাকা আসে, ওষুধ আসে, উৎসবের সময়
উপহার আসে।
শুধু মানুষ আসে না।
তিনি একদিন মৃদু হেসে বললেন,
"জানো, আধুনিক পৃথিবীতে মানুষ সব পাঠিয়ে দিতে পারে—টাকা, ছবি, ভিডিও, শুভেচ্ছা। শুধু নিজের উপস্থিতিটা পাঠাতে পারে না।"
আমি চুপ করে রইলাম।
আমার মনে হলো, পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিঃসঙ্গতা সেই মানুষদের, যাদের সব আছে, শুধু পাশে বসে চা খাওয়ার একজন মানুষ নেই।
তিনি একটি রবীন্দ্ররচনাবলী খুললেন।
পাতার উপর হাত রেখে বললেন,
"আমার স্ত্রী কবিতা খুব ভালোবাসতেন। আমি বুঝতাম না। ভাবতাম, সংসারটাই সব।
এখন বুঝি, সংসার মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে, সাহিত্য মানুষকে জীবিত রাখে।"
তারপর কিছুক্ষণ নীরব থেকে বললেন,
"জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল জানো কী?"
আমি উত্তর দিলাম না।
তিনি নিজেই বললেন,
"আমরা ভাবি, সময় আছে। অবসর নিলে পড়ব, ভালোবাসব, বেড়াব, ক্ষমা চাইব। অথচ সময়ের অভিধানে 'পরে' বলে কোনও শব্দ নেই।"
আমি যেন নিজের জীবনটার কথাই শুনছিলাম।
সেদিন বাড়ি ফিরে বই খুলেও পড়তে পারিনি।
সারারাত তাঁর কথাগুলো মনে পড়ছিল।
এরপর থেকে আমি তাঁকে খুঁজেই দোকানে যেতাম।
একদিন তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম,
"আপনি এত বই পড়েন। শেষ পর্যন্ত কী পেলেন?"
তিনি হেসে বললেন,
"আগে ভাবতাম বই আমাকে জ্ঞান দেবে। এখন বুঝি, বই আমাকে বিনয় শিখিয়েছে। যত পড়েছি, তত বুঝেছি আমি কত কম জানি।"
আমি বললাম,
"তাহলে বইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী?"
তিনি তাকের দিকে তাকিয়ে বললেন,
"মানুষকে বিচার করার আগে তার গল্পটা শুনতে শেখা। প্রতিটি মানুষ একটা
অসমাপ্ত উপন্যাস। আমরা প্রথম অধ্যায় পড়েই শেষ অধ্যায়ের বিচার করে ফেলি।"
আমি বিস্মিত হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলাম।
তিনি আবার বললেন,
"আর একটা কথা মনে রাখবেন। মানুষ মারা যায় না যেদিন তার শ্বাস বন্ধ হয়।
মানুষ মারা যায় যেদিন তাকে কেউ আর মনে রাখে না। বই সেই কারণেই অমর। তারা
মানুষের স্মৃতিকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখে।"
তারপর তিনি একটি পুরোনো বইয়ের পাতা খুলে গন্ধ নিলেন।
"এই গন্ধটা জানেন কী?"
আমি মাথা নাড়লাম।
তিনি বললেন,
"এটা সময়ের গন্ধ। এখানে আছে সেই ছাত্রের স্পর্শ, যে পরীক্ষার আগের রাতে এই
বই পড়েছিল। আছে সেই প্রেমিকের আঙুল, যে বইয়ের ভেতর শুকনো শিউলি ফুল রেখে
দিয়েছিল। আছে সেই বৃদ্ধের দীর্ঘশ্বাস, যে শেষ বয়সে এসে আবার রবীন্দ্রনাথ
পড়তে শুরু করেছিল। বই কখনও একা থাকে না।
প্রতিটি বইয়ের ভেতরে অসংখ্য মানুষের জীবন জমা থাকে।"
আমি আর কোনও কথা বলতে পারছিলাম না।
বাইরে তখন আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
দোকানের টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ পড়ছে।
তিনি মৃদুস্বরে বললেন,
"শুনছেন?"
"কী?"
"বৃষ্টি আর বইয়ের শব্দ আলাদা নয়। দুটোই মানুষের ভেতরের ধুলো ধুয়ে দেয়।"
একদিন আমি দোকানে গিয়ে তাঁকে পেলাম না।
ভাবলাম, হয়তো শরীর খারাপ।
পরদিনও এলেন না।
তৃতীয় দিনও না।
এক সপ্তাহ পরে দোকানদার খুব আস্তে বললেন,
"জানেন, কাকু আর নেই।"
মুহূর্তের জন্য মনে হলো, দোকানের সমস্ত বই যেন নিঃশব্দ হয়ে গেছে।
কোনও শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম না।
শুধু তাকগুলোর দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, তিনি হয়তো এখনও কোথাও দাঁড়িয়ে
আছেন। হয়তো কোনও বইয়ের মলাটে হাত রেখে বলছেন, "আবার দেখা হবে।"
আমি তাঁর প্রিয় জায়গাটায় গিয়ে দাঁড়ালাম।
সেখানে একটি বই রাখা ছিল।
ভিতরের পাতায় ছোট্ট করে লেখা—
"যে মানুষ বইকে ভালোবাসে, সে কখনও একা নয়। কারণ প্রতিটি বই একটি নীরব বন্ধু, যে মৃত্যুর পরও কথা বলতে জানে।"
আমি জানি না লেখাটি তাঁর, না অন্য কারও।
কিন্তু সেদিন মনে হয়েছিল, এই কথাটুকুই হয়তো তাঁর সমস্ত জীবনের সারাংশ।
দোকান থেকে বেরিয়ে দেখি, আবার একপশলা বৃষ্টি হয়েছে।
রাস্তার আলো ভেজা জলে কাঁপছে।
হঠাৎ মনে হলো, মানুষ আসলে চলে যায় না। সে রয়ে যায় তার প্রিয়
জায়গাগুলোয়। কেউ রয়ে যায় নদীর ধারে, কেউ পুরোনো বাড়ির বারান্দায়, কেউ
একটি গানের সুরে, আর কেউ প্রতিদিন বিকেলে আসা একটি বইয়ের দোকানের
নীরবতায়।
সেদিন বাড়ি ফিরতে ফিরতে আমার মনে হচ্ছিল, হয়তো আমরা সবাই জীবনের শেষ
অধ্যায়ে গিয়ে একটি বইয়ের দোকানই খুঁজি। কারণ পৃথিবীর সব সম্পর্ক একদিন
না একদিন শেষ হয়ে যায়; শুধু বইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের কোনও বিচ্ছেদ নেই। বই
কখনও আমাদের ছেড়ে চলে যায় না। আমরা চলে যাই,
বই অপেক্ষা করে।
হয়তো সেই অপেক্ষার নামই সাহিত্য।
হয়তো সেই কারণেই এখনও পৃথিবী পুরোপুরি নিষ্ঠুর হয়ে ওঠেনি।
যতদিন কোনও মানুষ বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় ক্লান্ত শরীর নিয়ে একটি পুরোনো
বইয়ের দোকানে ঢুকে একটি বইয়ের মলাটে হাত বুলিয়ে নীরবে হাসতে পারবে,
ততদিন এই পৃথিবীতে আশা বেঁচে থাকবে। কারণ সভ্যতাকে শেষ পর্যন্ত রাজনীতি
নয়, অর্থনীতি নয়, প্রযুক্তিও নয়—বাঁচিয়ে রাখে মানুষের
গল্প। আর সেই গল্পগুলোর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় আজও একটি ছোট্ট, নীরব,
পুরোনো বইয়ের দোকান।

Comments
Post a Comment