তিনটি কবিতা ।। দিশা দাস
১. বিচ্ছেদ
বিচ্ছেদ?
সে কি কেবলই দুটি দেহের মধ্যে নয়?
আচ্ছা, মনের বিচ্ছেদ কি অতই সহজে হয়?
তোমার কি ধারণা এখন আর তারে পরে না মনে...?
আরে, মনে পড়লেই কি বলে বেড়ানো যায় জনে জনে?
সে যে আমার একান্তই ব্যক্তিগত...
যা একসময় ছিল সুখ.... এখন হয়েছে দুঃখে পরিণত...
রাত জাগাটা সে ধরিয়েছিল আমায়, সে ছেড়ে গেলেও রাত জাগাটা ছেড়ে যায়নি....
হাজার মানুষের ভিড়ে তারে খুঁজেছি বারবার, বুঝলাম সে আমায় হারালেও আমি তারে হারায়নি...
সে এখনও বিরাজ করে আমার সেই না লেখা কবিতায়
তার ভালোবাসা এখনও রয়েছে সেই শুকনো কাঠগোলাপের প্রত্যেকটি পাতায়....
এখনও, যেন রাস্তা পার হওয়ার সময় আমার হাত তার স্পর্শ অনুভব করে....
জমে থাকা তার স্মৃতিগুলোতেই বারবার বেঁচে উঠে আবারও যাই মরে...
তাই তো প্রতিনিয়ত বলি,
"যদি সত্যিকারের ভালোবাসা হয়
তবে, মনের বিচ্ছেদ কখনোই সম্ভব নয়"
কারণ,
"প্রিয় যবে দূরে চলে যায়
সে যে আরও প্রিয় হয়ে যায়..."
২. দুর্গা দুর্গতিনাশিনী
যুগে যুগে যথা সময়ে এসেছে সংকট, তথা সময়ে ততোধিক রূপে মা হয়েছেন প্রকট।
কখনো মা সৃষ্টির উৎস কখনো বা বিনাশকারী,
কখনো মা স্নেহময়ী কখনো বা ভয়ংকরী।
কখনো মা মস্তকছেদী কখনো বা অন্নদাত্রী,
কখনো মা জগতের মাতা রূপে স্বয়ং জগদ্ধাত্রী ।
স্বামী নিন্দা মহাপাপ বলে সতী দিয়েছিলেন প্রাণ,
পিতৃ গৃহে সেই হেতু দেবী করেন অগ্নিস্নান।
এই দেহ খন্ড হয়ে যখন পড়ে ৫১ টি স্থানে,
সেই সবে পবিত্র পীঠ তৈরি হয় মায়ের ভিন্ন নামে।
একদা যখন মা ক্ষুদার্থই বড় কৈলাসে নেই ভোজন,
মহাদেব ধ্যানে মগ্ন দেবীর ক্রোধ হয় ভীষণ !
ক্রোধে ক্ষোভে ভোজন রূপে যখন মা স্বামীরেই করেন গ্রহণ,
চারিদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয় যেন সৃষ্টির হতে চলেছে মরণ
মহেশ্বর অভিশাপ রূপে মাকে দেন বৈধব্যের বেশ,
পরনে তার সাদা শাড়ি বিচলিত কেশ,
সেই থেকে আরেকটি রূপে প্রচলিত হন সতী,
তিনি হলেন কাকেদের দেবী স্বয়ং মা ধূমাবতী।
কঠোর তপস্যায় মহেশ্বর হইতে লাভ করিল বরদান,
সে যে মহিষাসুর এক বড় হৃদয়হীন প্রাণ,
তার ইচ্ছে কোন পুরুষ শক্তি যেন তাকে বধ না করতে পারে,
নারীরা তো অবলা ভয় কি আবার তারে!
তবে ভুল ছিল সে, সৃষ্টি বাঁচাতে নারী শক্তিরই সৃষ্টি হল অবশেষে।
দশভূজা, ত্রিনয়না, সিংহ বাহিনী,
মহিষাসুরমর্দিনী, মা কৈলাসবাসিনী,
আশ্বিনের সারদ প্রাতে মায়ের হয় আগমনী
তিনিই মা দুর্গা স্বয়ং দুর্গতিনাশিনী।
৩. আক্ষেপহীন
আচ্ছা চাঁদ ভায়া বলতো,
আমাদের দুজনের মধ্যে কে বেশি কলঙ্কিত ?
তোমার সাদা বর্ণের ত্বকে গভীর কালো ছোপ,
আমার সারা দেহ জুড়ে তাকে হাড়ানোর ক্ষোভ,
বলতে পারো চাঁদ কে বেশি অবহেলিত?
অন্যের দেওয়া দানে ও চাঁদ তোমার আলো জ্বলে,
তাকে নিয়ে দেখা ভবিষ্যৎ আমার, এখন একাকী কথা বলে,
তবে এবার চাঁদ সত্যি সত্যিই বলত
আমাদের দুজনের মধ্যি কে বেশি ঋণে জর্জরিত ?
চাঁদ তোমায় স্পষ্ট দেখি যখন সূর্য থাকে না আসমানে,
আমি সর্বস্ব ত্যাগ করে পরে রই তাহার চরন পানে,
ও চাঁদ একটু ভেবে চিন্তে বলোতো
আমাদের দুজনের মধ্যে কে বেশি সমর্পিত ?
চাঁদ তুমি অমবস্যা এলেই দাও যে কেবলই ফাঁকি,
আমি তাহার ব্যর্থ আশায় দিন গুণতে থাকি,
এবার বলই না চাঁদ গবেষনা করে ভালোমত,
আমাদের দুজনের মধ্যে কে বেশি অপেক্ষারত ?
অপেক্ষার শেষ নেই গো জানি,
মিলন হবেনা তাহাও মানি!
তবু ও চাঁদ তোমার মত হতে পারি না অভিমানী, নিয়ে গালভরা হাসি !
কারণ আমি চেয়েছিলুম আমি হব শুকতারাটি এবং সে সন্ধ্যেবেলার বাঁকা অর্ধশশী।
আর আমি তো কেবল সাথী হতে চেয়েছিলুম, হতে চেয়েছিলুম জলপট্টি তাহার জ্বরে,
তবুও ও চাঁদ কেহ বলিল না আমায় চাহিল না কেহ ফিরে,
বলিল না কেহ তোমার জায়গায় একবারও আমার নামটি ধরে,
মনে নিয়ে আক্ষেপ,
"চাঁদ কেন আসেনা আমার ঘরে"।।
~দিশা দাস

Comments
Post a Comment