আপাতত একা আছি
শ্যামল বিশ্বাস লামশ্যা
সমস্ত রাত লন্ঠন উঁচু করে ধরে
সীমাপুরীর গোল চক্করে দাঁড়িয়ে ছিলাম
দিনকাল যা পড়েছে
বলা যায় না কখন কি হয়
তোমার তো আবার কোন ঠিকঠিকানা নেই
হয়ত হুট করে না বলে না কয়ে একা একা চলে এলে
দুশো একাশী দিলশাদ গার্ডেন কেন্দ্রীয় সচিবালয়,
তিন শো পঁচাত্তর দিলশাদ গার্ডেন নেহরু প্লেস
নয় শো একাত্তর আনন্দ বিহার রোহিণী অবণ্তিকা
একে একে সব এল আবার ফিরেও গেল
মাঝে মধ্যে কিছু বাহারি মুদ্রিকা সহ বেশ কিছু ছোট গাড়ি
সব গাড়ি এল গেল শেষ রাত অবধি তুমি এলে না যে রাতে শব্দ পোকাগুলোকে মুক্তি দিয়ে শুয়ে পরি
সে দিন বেদনাময় গাড়ি হাতুড়ির ঘায়ে ঘুম ভাঙ্গায়
ছড়িয়ে দিয়ে যায় স্বজন হারানো হাহাকার
হাল্কা আলোয় পা দোলাতে দোলাতে দেওয়াল ঘড়ি বলে
শুয়ে পর অনেক রাত বাকি বিষন্ন ভয় জড়িয়ে ধরে
সমস্ত শরীরে কাঁটা দেয় মনে হয় পৃথিবীতে একা বেঁচে আছি
========================================
আর দেখা হয়নি
শ্যামল বিশ্বাস লামশ্যা হাত পেতে অঙ্গীকারের ছলে জীবন চাইলে
যেন ছেড়ে দিই তোমার শৈল শহর, দিলাম
আজও অছ্যুত তোমার মাটি আর আকাশ।
অনুনয় কণ্ঠে আদেশ করলে নির্মম সময়ের
দায়িত্বে রয়েছে পলক হীন চোখের পলক
ব্যাস অনুরোধের হাত ধরে চোখ বুঝলাম।
সূর্যাস্তে নজর রেখে পশ্চিমে পা বাড়িয়েছি
এ পাড়া ও পাড়া চৌহদ্দি ছেড়েছি , তখনি
নির্বিকার ভাবনাগুলো চির স্থায়ী হয়ে গেল।
=======================================
আলোর সন্ধানে
অচ্ছেলাল! কেমন আছ তুমি?
কেমন বোধ করছ এখন?
অচ্ছেলাল! বাড়ি গেছিলে?
কেমন আছে মা বাবা স্ত্রী পুত্র?
অচ্ছেলালের হাত নেই, পা নেই,
মাথা নেই, চিন্তা নেই, ক্ষুদা নেই,
রোগ নেই, সর্বোপরি শরীর নেই,
নেই নেই অচ্ছেলালের কিছুই নেই।
অচ্ছেলাল বৈরাগী হয়ে গেছে
পরিবার পরিজন সব তুচ্ছ করে।
আমিষ- নিরামিষে রুচি নেই অচ্ছেলালের
রুচি হারিয়েছে ভগবানে, ভালবাসায়।
অচ্ছেলাল! তোমার সঙ্গীরা কোথায়?
যারা একই দিনে বিবাগী হয়েছে?
তোমরা কেমন করে বেঁচে আছ
পরিবার পরিজন ছেড়ে?
বেঁচে থাকলে শরীর থাকে,
শরীর থাকেলে চাহিদাও থাকে।
উদয় অস্তের মাঝে ক্ষুদা থাকে,
সবশেষে একটু ভালবাসাও থাকে।
যাওয়ার পথে অচ্ছেলাল
ক্ষুদার রুটি, রোজগারের টাকা,
হাত খরচ কিছুই নিয়ে যায় নি শুধু প্রাণটা হাতে করে নিয়ে গেছে।

Comments
Post a Comment