গুচ্ছকবিতা ।। সুমিতা চৌধুরী
রাখাল ও তুই
আজ তোর রাখালের অবসর নেই কোনো,
ছুটে চলেছে আমার সাথে দিকবিদিক....
কখনো যেন আগুন হয়ে ঝরে পথের বুকে,
কখনো পতাকা বাহক হয়ে দেখায় পথের হদিশ।
তবুও কোনো শ্রান্ত দিনের অবসরে
তোকে খোঁজে আজও চোখ,
চোখ-মনের সতৃষ্ণ দৃষ্টিতে
কেবলই ভাসে রাখালের স্রষ্টারই মুখ...
যেদিন এসে দাঁড়াস পথে
নিশান হাতে পথের নির্দেশে,
সেদিন আমার বিপ্লবের ঘোড়া ছোটে
সব বাধাকে চূর্ণ করে, লক্ষ্য জেতার উদ্দেশে....
যেদিন একান্ত চাহিদায় দিয়েছিলি তোর রাখালকে
আমার পথের নিত্য সঙ্গী করে,
সেদিন তুই জানিসনি তারই মাঝে আমি নিয়েছিলাম তোকেই
আজীবনের মনের সঙ্গী-তে বরে।
তবু, মাঝে-মাঝে তোর একান্ত উপস্থিতির তৃষায়
আজও ভীষণ উজাড় হয় মন,
হাজার ভিড়ে, হাজার ব্যস্ততায়
তোর অপেক্ষার প্রহরে বসে কাটে আমার একলাক্ষণ।।
ছেড়ে যাওয়া মোড়
যতদিন পর দেখা হোক,
যত যুগ পরে ,
দেখবি একই মোড়ে দাঁড়িয়ে আজও আমি,
যেখানে ঠিক গিয়েছিলি ছেড়ে।
যতদিন পর কথা হোক,
যত যুগ পরে,
দেখবি স্মৃতির সোঁদা গন্ধ বয়ে শুভেচ্ছারা,
ভিজে পাতায় যাচ্ছে আজও ঝরে।
আজও জানিস আকাশ ভেঙে
ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামলে পরে,
আমি ভিজে যাই তোর স্মৃতিতেই
যুগ যুগান্ত ধরে...
আজও সেই নীল ভোরটা যত্নে রেখেছি
আমার গোধূলির খামে ভরে,
গচ্ছিত কতো টুকরো কথার ঝাঁপি রেখেছি কুলুঙ্গিতে,
দেবো, যদি চাস, যতদিন পরে।
শুধু হাতড়ে বেড়াই আকুল হয়ে
তোর সেই সুগন্ধি চিরকুটগুলোকে খুঁজে মরে,
তোর ছেড়ে যাওয়া পথের মোড়ে
যুগ যুগান্ত ধরে....।।
আজও অপেক্ষায়..
অনেকটা মেঘ জমলে বুঝি
বৃষ্টি এমন ব্যথা গলায়...
হাজারো নীরব চিৎকার জমলে কি
আকাশ এমন আগুন ঝরায়?
অনেকগুলো প্রশ্ন জমেছে
তোর মনের কাছে,
তোর উঠোনে বোধহয় তাই আজ দেখ
চিঠিরা ভিড় করে আছে....
পেলি হদিশ?
নাকি শূণ্য দৃষ্টিতে দেখছিস সব ফাঁকা....
যেমন করে ফিরতি পথে রেখে গেছিস আমায়
এক্কেবারে একা...
যদিও তোর আজ ভীষণ তাড়া
গন্তব্যে পৌঁছানোর,
আর আমার সময় দাওয়ায় বসে
ফুরসৎ খোঁজে তোর জিরানোর!
আঁচলটা আজ পায় না নাগাল
তোর ক্লান্তির ঘামের,
শুধু নোনা জলে ভিজে সারা হয়
অগুন্তিবার তোর নামে....
তবু ক্লান্ত হয় না জানিস,
প্রতি ফোঁটায় "ভালো থাকিস" বলায়!
তুই যে ছেড়ে গেছিস সে বলা,
যাকে ঘিরে আজও অপেক্ষারা বসে ঠায়....!!

Comments
Post a Comment