তুমি
সঞ্জয় কুমার চ্যাটার্জী
তোমার সুন্দর হাসি, জুড়িয়ে যায় ব্যথা,
মনে হয় যেন মরুভূমির তপ্ত বুকে জলের রেখা।
রাগেমাখা মুখখানি দপ করে জ্বলে উঠলে ,
খুঁজে পাই এক অনন্ত ছায়া ,
বিগলিত হৃদয় আনন্দে উড়ে চলে।
সমস্যার সাগরে ভাসতে ভাসতে যখন তোমার সুর ভেসে আসে,
ডুবে যাবো জেনেও , বেঁচে আছি হয়তো এর টানে।
যখন তুমি চুপ থাকো , ভুলে যাই তোমারও একটা জগৎ আছে,
স্বার্থপরের মত তাকিয়ে থাকি চাতকের মত ।
আসলে কোথায় যেন একটা মায়াবী দ্বীপের মত
দেবী হয়ে অলীক বন্ধনে জড়াও ।
রূপহীন ,গুনহীন কন্টকাকীর্ণ এক অতি সাধারনের
না পাওয়ায় থেকে এ সান্নিধ্য অপার পাওয়া,
সর্বদা চেয়ে থাকি, স্বার্থপরের মত,
ভুলে যাই তোমারও একটা জগৎ আছে।
আছে দিন রাত, আছে উত্তম গতি,
সেখানে ঢুকে পড়েছি গ্ৰহ বা উপগ্ৰহ নয়,
রয়েছি গ্ৰহানু হয়ে।
সব রঙের প্রভায় আলোকিত হয়েছি,
উৎফুল্ল হয়েছি সুবাসে।
জীবন উপন্যাসের কটা পাতা বাকী তা জানা নেই,
স্বার্থপরের মত চাই প্রানবায়ু।
যদি ওই দিনগুলো ....
সঞ্জয় কুমার চ্যাটার্জী
ভাসিয়ে ছিলেন নৌকা খানি ভাটির পথে,
উৎরাই পথে চলা , তাই থেমে যায় সে স্মৃতির প্রস্তরে ।
যৌবনের মধ্য গতিতে চঞ্চল হল পাল ,
তখন সে তো অসম্ভবকে সম্ভব করার বেঁধেছে হাল।
ভাবতে থাকে, কত বাঁধ না মানা শব্দ করতো হিল্লোল।
কত না দেখাকে রূপ দিতো স্বপ্ন দেখা রাত্রি,
উৎসেচকের উপদ্রবে ভুল না ঠিক মানেনি তার
বাইতে বাইতে কখন এলো চঞ্চলতার উদ্ধ গতি ,
জীবনের যা কিছু শেখা সেতো এখানেই রেখেছে মতি।
সুবাস ছিল, ছিল না কর্তব্যে হারিয়ে যাওয়া ভয়,
শিক্ষা যেখানে শ্রদ্ধা স্নেহের অদৃশ্য ডোরে ছিল ঘেরা,
জীবনের দর্শন খুঁজে ফিরি ফেলে আসা সেই ক্ষণের।
পূজো মানেই
সঞ্জয় কুমার চ্যাটার্জী
স্তুপ মেঘের খামে নীলাকাশের চিঠি,
স্বপ্নেরা সব বাস্তবে এসে চোখ মেলে মিটি মিটি।
পূজো মানেই জীবনে উজ্জ্বল মোমের আলো ,
তিনশো পঁয়ষট্টির মধ্যে ভালোর থেকে ভালো।
ব্যথা ,দুঃখ , হতাশার মাঝে কেবল নির্মল শ্বাস,
চারটি দিনের জন্য আশার মধ্যে বাস।
সারা বৎসরের ভুলে থাকি না পাওয়া,
ব্যস্ততার অগোচরে একটু প্রানের হাওয়া।
প্রেম, আর্থিক সাফল্য বা কাব্য কাহিনীর রেখা,
আবাহন থেকে বিসর্জন কিছু শোনা বা কিছু দেখা।
শিল্পী থেকে শিল্প, গুঞ্জন থেকে নহবত,
ভ্রাতৃত্বে একাকার সবে বঙ্কিম ও বরকত।
আড্ডা সেতো বাঙালিকে করে তোলে অতি ,
মাতৃ সকাশে সে যেন পায় নির্ভেজাল গতি ।

Comments
Post a Comment