
কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…
আবদুল্লাহ আল আদীব
তোমাকে ভালবাসি বলেই…
বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”,আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি,
অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির-
দুঃখ করো না।
তোমাকে ভালবাসি বলেই
আজ এই দূরত্ব—
যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে!
তোমাকে ভুলিনি—
তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে
পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো,
এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ।
প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়,
যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়।
ভুলতে চেয়েছি—
কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে,
যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি।
তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না,
প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা
আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ।
তোমার স্পর্শ নেই,
নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম—
তবু তুমি আছো
অদৃশ্য, অমোঘ,
যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে
চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু।
ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি…
প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার,
কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা,
মোহময় আকর্ষণ,
বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়!
তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে
আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃসঙ্গ উপত্যকায়
ভীষণ প্রার্থনা প্রবণ হয়ে তোমাকে চাই।
বাঁশি জানে—
কাণ্ড থেকে ছিন্ন হওয়ার সেই প্রাচীন ক্ষতই
তাকে দেয় জ্যোতির্ময় আর্তসুরের অধিকার।
তেমনি আমিও—
তোমার অনুপস্থিতির গূঢ় সুধাবিষ পান করে
পরিণত হয়েছি এক অদলিত প্রতিধ্বনির পরিক্রমাতে।
এখন আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস হয়ে ওঠে
অন্তরীক্ষে বিলীন এক প্রাচীন মরমি রাগ,
যেখানে বিরহ আর প্রেম একই অবগুণ্ঠনে মিলেমিশে
আমাকে পরিণত করে অদ্বৈত ধ্বনির বাহকে।
তোমার বিচ্ছেদই আমার ভেতরে সৃষ্টি করেছে
এই অন্তসলিল নীরবতার গোপন জ্যোতিঝর্ণা,
যার প্রতিটি কলধ্বনিতে
তোমারই অনামা আলো স্পন্দিত হয়।
আমি এখন— এক ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি,
যার প্রতিটি রন্ধ্রে তোমার অস্তিত্বের শূন্য-স্বর্ণলিপি ভাসে,
আর প্রতিটি আর্তসুরে জাগে,
চিরকালীন মিলনের অদৃশ্য প্রতিশ্রুতি।
তবুও আমি শূন্যহৃদয়…
কি না দেখেছি আমি!
পুরাপাথর যুগের গুহাবাসী আরণ্যক চোখ থেকে
সুমেরীয় কাদার ফলকে খোদিত গিলগামেশ মহাকাব্য,
কিছুদূর অতীতে
ক্লিয়োপ্যাট্রা ও অ্যান্টনির প্রণয়ে উচ্ছ্বসিত
নীলাভ সমুদ্রে তারামাছের পুলিশিং
আর রুপোলী জ্যোৎস্নামাখা চাঁদের হৃৎপিণ্ড।
দেখেছি আরো-
অপত্য পাতার হিন্দোল,
আত্মজ প্রস্ফুটিত ফুলেদের সৌরভে ডুবে থাকা
আগত মহাকাননের স্বপ্ন।
শুনেছি শরতের শুভ্রতামাখা নিশীথের একাকীত্বে
শিশিরের টুপটাপ ঝরে পড়ার সুরে
আমার হৃদয়লোপী পাখি প্রিয় “বাংলাবিদের”
রক্তিম অধর ছোঁয়া চিত্তের অনুরাগ ব্যথিত গান।
তার পদ্মরাগী চোখে-
আরুণীমার নৈঃশব্দ্যে মিশে থাকা
কুহেলী প্রেমের আবছায়া প্রণয়ের ঝড় তুলে
গোধুলির আলো-আঁধারের মোহময়তায়।
চারিদিকে প্রণয়ের আকণ্ঠ আবহে ধরিত্রী প্রেমময়,
তবুও আমি শূন্যহৃদয়।
শতবর্ষী উদ্ভিদের মতই এক চিলতে ভালবাসা পেতে
আমি আজও অপেক্ষমান।
আমার পাপিরাস জুড়ে লেখা প্রেমাক্ষরের বদলে
প্যাঁচার ভেংচি মুখের উপহাস,
অবহেলা, অবজ্ঞা আর তাচ্ছিল্যতা।
ফেলফেল চোখের অপেক্ষা…
আমাকে তোমরা কাল ভালবেসো।
আজ তো দিলে অবহেলা, অবজ্ঞা আর ঘৃণা।
ওভিডের মতই কৃষ্ণসাগরের তীরে
টমিসের কঠোর নির্মমতায় আজ আমার প্রেম
একাকী নির্বাসিত হলো।
আমার ভালবাসা আজ কারাবন্দি অস্কার ওয়াইল্ড।
তোমাদের ব্যঙ্গ চোখে আমি লিলি অব দ্য ভ্যালি,
রংহীনতায় লুকিয়েছি প্রকৃতির বিচিত্র সাতটি রং।
তোমাদের হিপোক্যাম্পাস থেকে সরে গেছি,
আমার অ্যামিগডালা পঁচা জীবনের রসায়ন
কেঁচোর মতই গোপন করেছি দুর্গন্ধ ছড়ানোর ভয়ে।
আর কি চাও?
ট্র্যাশ থেকেও মুছে গেছি।
হার্ডডিস্ক ক্র্যাশ, পিক্সেল ভেঙে যাওয়া মুখ-
কিছুই অবশিষ্ট রাখিনি।
ডিএনএ-তে লেখা দুঃখ,
নিউট্রন তারার মত ঘন কষ্ট
হৃদয়ের গ্র্যাভিটির কাছে নিঃস্ব-
আমি যেন ব্লাকহোল কিছুই ছেড়ে যায়না।
ডোপামিন ফুরিয়ে গেছে,
শ্বাসকোষে মরিচা ধরেছে।
আমার ডিলিটেড ফোল্ডারে জমে আছে কিছু স্বপ্ন-
কিউনিফর্ম লিপির গিলগামেশ ও এনকিদু,
নাকের উষ্ণ নিশ্বাসে মাতোয়ারা
নিয়াঙ্কখনুম ও খনুমহোটেপ,
পেডেরাসটি ঘনিষ্ঠতা।
তোমার পদ চুম্বনে আমি আশীর্বাদ খুঁজি,
তুমিই আমার অ্যান্টিনিঅস।
যদি ভালবাসতে-
আমি পৃথিবীর সাথে লড়ে যেতাম
হয়ে থিবসের স্যাক্রেড ব্যান্ড।
সামাজিক হিপোক্রেসির দখলে
এসবের সবই এখন মৃতসাগর।
আজ নয়- আমাকে কাল একটুখানি ভালবেসো,
আমি মাটির ঘরে শুয়ে তোমাদের নিয়ে
ভালবাসার কবিতা লিখবো।
তোমাদের দিকে ফেলফেল চোখে তাকিয়ে থাকবো।
বিনীত
নাম (লেখা): আবদুল্লাহ আল আদীব।
ঠিকানা: কুমিরা, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।
পড়াশোনা: সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম।
বয়স: ২৪ বছর।
মোবাইল: 01338744721
Comments
Post a Comment