৩টি কবিতা ।। চৈতি সরকার
পুষ্প খোঁজে নিজ মূল্য
কেউ কহে- পুষ্প, তুই বিনেই পূর্ণ হইবে সাজি
কত পুষ্প এই সাজিতে ঠাঁই পেতে তো রাজি।
পুষ্প কহে - তাই আমায় তুই নিস না তুলে ওরে
প্রতীক্ষায় রই ,কেউ তো আসুক শুধুই আমার তরে।
সাজি হাতে সে,পরিহাসে কহে পুষ্পপানে-
বৃথা আশ নিয়ে তবে, রইবি পড়ে এ স্থানে।
পুষ্প কহে - বেশ। তবু তোর লাগি যাব নাকো হেলায়
ভাগ্যের দানে তাই শ্রেয়- মোর একাই কাটুক নিরালায়।
সে ফের কহে- বৃথাই জীবন কাটিবে নাকি, নেই তার ভয়?
অলীক স্বপ্ন রেখে, ঠাঁই নে এ সাজিতে-তাই শ্রেয় হয়।
পুষ্প কহে- অলীক তো নয় ? সত্যি হলেই শ্রেষ্ঠ পাওয়া।
জানি, নিজ মূল্য সবের বড়ো, হোক প্রতীক্ষায় তাই চাওয়া ।
শুভক্ষণে মোর দ্বারে
এক শুভক্ষণে মোর দ্বারে
ছিল তব আগমন
যেন লাগে ভাঙ্গা ঘরে
পড়িল চন্দ্রকিরণ।
এনেছিলেন হাতে করে
বকুলের মালা খানি
বেঁধেছিলে বাহুডোরে
আওড়িয়ে কত বাণী।
দেখিয়াছি তব চোখে
কত গাঁথা মোর লাগি
সাধ হয় ঐ চোখে চোখ রেখে
দিবানিশি রই জাগি।
বুঝিয়াছি ধরামাঝে
প্রণয়েতে তরী বয়
তব রূপের নব সাজে
মোরে করিল পরাজয়।
চাহি তব মুখ পানে
শুধিয়েছি আর্তবেশে-
অনন্তকাল প্রতি ক্ষণে
রহিবে কি ভালোবেসে?
তব মনে ছিল নাকি
মোর লাগি শেষ প্রণয়
এমনে তাই দিয়ে ফাঁকি
মোরে করিলে জয়।
হেলায় ফিরেছো
মনে পড়ে কি গো আজ? তোমার মনে পড়ে?
সেদিন শ্রাবণ দিবসে ঝরঝর বাদল ঝরে।
তুমি শ্রান্ত পথিক বেশে এসেছিলে মোর দ্বারে
সুধা বাণী আওড়িয়ে ডেকেছিলে বারে-বারে।
সেই ক্ষণে কর্ম স্রোতে ডুবিয়া ছিনু তো জানি
তব পানে চেয়ে দুটো কইনি গো সুধা বাণী।
মনে পড়ে গো আজ মোর ঢের মনে পড়ে
সেদিন যতোনে তোমায় ঠাঁই দেই নাই ঘরে।
দেখেছিনু এক ঝলক - ঐ আঁখি দুটো ছলছল
অবহেলে ভেবেছিনু এ তো নিছকই এক ছল।
মোর কত হেলা সয়ে ফিরেছো যে নিজ লয়ে
এলে নাকো কভু আর কতকাল গেল বয়ে।
মনে পড়ে গো তাই ক্ষণে-ক্ষণে, কত মনে পড়ে
সে কোন এক বুদ্ধি ভ্রমে সেদিন ধরেছিল যে মোরে।
পারো যদি ক্ষমা করে দেখা দিও ফের মোরে
দেখে নিও এইবারে রাখি কত সমাদরে।
Comments
Post a Comment