নদী তীরে
পার্থ প্রতিম দাস
অজয়ের চিন্তা জুড়ে সবুজ ঘাসের একটা হিন্দোল আছে। পায়ের তলায় থেকেও ঘাস,
শত আঘাত সহ্য করে মাথা তুলে সূর্যকে বলছে, "আমি আছি, আদিমতম সৃষ্টির
কাছাকাছি।"
জমির মধ্যে বাড়ি তৈরীর জন্য মাটি জমা
হয়ে পড়ে আছে। সেই উঁচু মাটির স্তুপের ওপর বড় বড় ঘাস হয়েছে। অজয় সেই ঘাসের
মধ্যে দিয়ে হেঁটে যায়, শুধু ঘাসের পরশ পাওয়ার জন্য।
গ্রীষ্মের মরা সুবর্ণরেখার বালিয়াড়িতে বসে সে আকাশের দিকে চেয়ে থাকে।
এক পশলা বৃষ্টি যদি হতো। গ্রীষ্ম পেরিয়ে পয়লা আষাঢ় এসে গেছে। তবুও বৃষ্টির
দেখা নাই।
ফেসবুকে সে পোষ্ট করে, "বৃষ্টি না
এলেও সারাটা দিন পয়লা আষাঢ়।" মনে মনে সে চলে যায় মালবিকার দেশে। বৃষ্টি
মুখর প্রাচীন নগরির বারান্দায় বসে সে শোনে কালিদাসের মেঘদূত।হাওয়ায় ভেসে
আসছে যেন মহাকালের ঘন্টা ধ্বনি।
অবশেষে এলো
বৃষ্টি। ছাদের ওপর বনে বনান্তে শুরু হল বর্ষার সেই মদনমোহনী নৃত্য। ডুবে
গেছে বালিরাশি। ভরা নদীর বুকে ভেসে চলেছে একটা শুকনো কাঠের গুঁড়ি। আর সেই
কাঠ জড়িয়ে আছে প্রাচীন অজগর।
অজয় ঝাঁপ দিল
নদীতে। সবাই তাই দেখে রে রে করে উঠলো। সে দিকে তার ভ্রুক্ষেপ নাই। সাঁতরে
অজগরের কাছে গিয়ে সাপটাকে কাঁধে তুলতেই গিয়ে পড়লো চোরা ঘূর্ণিতে। রাক্ষুসী
চোরা ঘূর্ণির হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করলো। কিন্তু সব চেষ্টা হল বৃথা।
সাপটা সহ তলিয়ে গেল নদীর জলে। তীরে দাঁড়িয়ে সবাই দেখলো। কেউ পারলো না
বাঁচাতে।

Comments
Post a Comment