অধ্যায় ১: কৌতুক ও হাস্যরস ছড়া
রণেশ রায়
১.১ দই চাই, দই !
দই চাই দই
তার সংগে খই।
দই কিনলে দশ আনা
খই-এর পয়সা লাগে না।
এই বন্ধু, শোন না,
আমায় একটু দাও না!
পয়সা দেব কি করে !
সেটা নেই আমার ঘরে।
বন্ধু আমার, পারলাম না
তোমার কথা রাখলাম না,
বিক্রি না করলে চলবে না
খাবার আমার জুটবে না।
পয়সা পাই বিক্রি হলে
তাতে যে সংসার চলে,
হলে পরে বিক্রি
খাওয়াবো তোমায় চিংড়ি।
১. ২ বেহিসেবের খাতা
বেড়ালের সাধ নেই মাছ ভাত খেতে
গরু দেখ ডানা মেলে চায় উড়ে যেতে,
বাঁদরকে ধরলো ওই ওলা ওঠা রোগে
শেয়াল পিলের রোগে দিনে রাতে ভোগে।
বাঘের গজিয়েছে বড় লম্বা শিং
ভোঁদড় ওই নাচে ধিন্ ধিনা ধিন্ ধিন্,
ফুলে ফুলে মৌমাছি, পায় না মধু
সব মধু খেয়ে নেয় আমাদের হদু।
টিক্ টিকি দেওয়ালে করে মিট্ মিট্
ঘড়ি কাঁদে টিক্ টিক্ চলে না যে ঠিক
সিংহের পিঠে চড়ে পিঁপড়ে যায় বিলেতে
হাতি তবলা বাজায় ছাগলের পিঠেতে।
সবই দেখি বে-হিসেব হিসেবের খাতায়
কে বসে রক্তচোষা দুনিয়ার মাথায়।
১. ৩ সমাচার
টক্ টক্ লাগে কেন পেলে পরে গন্ধ
তখন দেখেছি চেখে নয় স্বাদে মন্দ।
ঢক্ ঢক্ করে কেন খেলে পরে জল
সমুদ্রে ডুব দিলে পাই না যে তল।
জামা জুতো পড়লে কেন করে ঢল্ ঢল্
ল্যাক প্যাক আমি যে, তাই করি টল্ মল্।
সূর্যের আলোয় জল টল্ টল্
পাখি সব কত রব করে কোলাহল।
কে যেন মাঝ রাতে করে টক্ টক্
বুক আমার ভয়ে কাঁপে করে ধক্ ধক্।
সোনা যদি নকল হয় করে চক্ চক্
রান্না মাংসের গন্ধে জিভ লক্ লক্।
কাশি তার গলায় করে খক্ খক্
জান না কিছুই শুধু কর বক্ বক্।
কেবল ধান্দাবাজি বুকে নেই বল্
বিপদে পড়লেই খুঁজে ফের ছল্।
১. ৪ আয় সবে
আয়রে পাগল খামখেয়ালি
খেয়া ডিঙা বেয়ে আয়
আয়রে তুই সব হারানি
স্বপ্নপুরী জাগিয়ে আয়।
আয়রে বেতাল আয় মাতাল
স্বর্ণপুরী জ্বালিয়ে আয়,
দেখ ওখানে ওই যে ছাগল
কোথায় সে মরতে যায় !
যাবে কোথায় বলরে ভাই
যার কোথাও যাবার নাই
মরার আগেই মরে থাকে
সে যে মরে সবার আগে ।
১.৫ কেমন পাগল
বিষ্টুপুরের কেষ্টবাবু লোকটা কেমন পাগল
সকালবেলা অফিস যায় সঙ্গে তার ছাগল,
কেউ যদি বলতে আসে নেয় নাম লিখে
তার নামে মামলা করবে নেয় তার ঠিকে,
বাড়ি ফেরে রাতে, খেয়ে একটা ধোকা
ধোকা খেয়ে ট্যাক খালি, নয় কিন্তু বোকা,
খুঁজে বেড়ায় বাঘের মাংস, খাবে সেটা সেঁকে
বাঘের খোঁজে কেষ্টবাবু দৌড়য় এঁকে বেঁকে।

Comments
Post a Comment