গুচ্ছ কবিতা ।। ডাঃ মোহাম্মদ নাঈম
১.
সবুজ বনের দ্বীপ
মাল্লা তোরা হাল ধরিতে জলদি করে আয়
দূর দ্বীপের ঐ নিশান দেখা যায।
চার দিকে তার জলে ঘেরা, মাঝখানেতে বন
ঐ খানেতে মানুষের বাস, বলছে আমার মন।
মাল্লা তোরা দেখ না সবাই চোখ খানি আজ মেলে
সৈকতে কত মানব শিশু বালি নিয়ে খেলে।
কোমল পানিতে ভিজিয়ে পা, ছেড়ে খোপার চুল
কত ললনা সেথায় বানায় শামুকের মালা, দুল।
মাল্লা তোরা শুন সকলে হাওয়ায় পেতে কান
পুবালী বায়ু বয়ে আনছে ঝাউ বনেরই গান।
সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ছড়ায় আলো দ্বীপে
নজরকারা ফুল ফুটেছে দ্বীপের কেয়া ঝোপে।
শত পাখির ডাকাডাকিতে আলোড়িত চারপাশ
বনের ভেতর জন্ম নিয়েছে কচি নরম ঘাস ।
মাল্লা তোরা জলদি চল সবুজ বনের দ্বীপে
হঠাৎ করে সাগরবক্ষ উঠেছে এখন ফেঁপে
এর পরতে পেল তারা দ্বীপের একটি কূল
নোঙর করার সুযোগ পেয়ে মন হল আকূল।
মাল্লা তোদের দ্বারা আজ শাম্পান পেল তীর
সত্যি তোরা হলি এক দুঃসাহসী বীর।
২.
বিচ্ছেদ পত্র
অগ্রে ফোঁটা ফুল ঝরে যায় অগ্রে বিধাতার নিঠুর খেলা,
সুবর্ণ সুদিন পাড়ি দিয়ে আজ এসেছে বিদায় বেলা।
যাদের সৌরভে, দীপ্ত গৌরবে মেতে ছিল নিকুঞ্জ,
শত স্মৃতি আর হাসি খেলাতে হৃদয়ে হয়েছে পুঞ্জ।
বিচ্ছেদের ব্যাথা হিয়ার আকাশে তোলে শোকের গর্জন,
অগ্রজের বিদায় আখিযুগলে ঝরায় দুখের বষর্ণ।
তবু চলে যাবে, তব রয়ে যাবে স্মৃতির আকাশে অম্লান,
থেকে যাওয়া পদচিহ্ন করিবো অনুসরণ, গাইবো ভাতৃত্বের জয়গান।
৩.
বাংলার গ্রাম
তোমার মাঝে পাখির ছোঁয়া পেয়েছিলাম ভোরে,
গ্রাম বাংলার নদীর তীরে
কূলে একা বসে।
দেখেছিলাম ময়না শালিক,
দেখেছিলাম হাঁস,
গরুগুলো নদীর তীরে খাচ্ছিল যে ঘাস।
নদীর পানি আদর করে
পায়ের কাছে এসে,
কেউ বা আমায় পাগল ভেবে
মুখ লুকিয়ে হাসে।
শহরের সব কোলাহল থেকে পেলাম পরিত্রাণ,
গ্রামের এই পরিবেশে মুগ্ধ হলো প্রাণ।
-----------------------------------
ঠিকানা: সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

Comments
Post a Comment