কলেজ প্রেম
সমীর মন্ডল
বাবা মায়ের একটি মেয়ে
দেখা হলো কলেজে গিয়ে
প্রথম দিনেই প্রথম আলাপ
টুকিটাকি তুচ্ছ কথায়
এক সাথে কলেজ বদলে
বাংলা ক্লাসে আবার দেখা
তারপর কথা হয় না তেমন
নবীন বরনে তোর কবিতা
বুঝেছি মেয়ে রূপেতে না হোক
গুনেতে সে লক্ষ্মী হবেই
সত্যজিৎ বাবুর পদাবলী ক্লাসে
সাক্ষাৎ হলো সেই, মেঘবালিকার সাথে
রাধার মতো আবিষ্ট চোখে
সেই প্রথম কৃষ্ণ হলাম
মাঠে বসলে এক সারিতে
একটু দূরে তুই বসেছিস
লাইব্রেরিতে রিডিং রুমে
বইয়ের র্যাকে,চোখে চোখ রেখেছিস
সাইকেল স্ট্যান্ডে তোর টোকেন নিয়ে
অপূর্ব এক খুশির মক্কায়, দিন কেটেছে
পরীক্ষার হলেও পিছন ফিরে
বারবার মুগ্ধ তোর হাসিতে
সেই তোর দেখা পাইনি
সোস্যাল এলে এডুকেশন ট্যুরে
মলিন আকাশে দুঃখ লুকিয়ে
মনটা তখনও ভাঙেনি আমার
গুজব ছড়ালো বন্ধু বাতাসে
তোর নামেতে অনেকেই সুখী!
সেই সত্যে সিলমোহর পেলাম
যখন চিঠি এলোনা ফেরত।
দেখা হয় না কথা হয় না
তবু তাকে ভুলতে পারিনা
মেঘেরা একা ঘুরে বেড়ায়
এবার তারা বন্ধু পেলো
তিনটি বছর চলে গেলেও
চৈতন্য হয়ে রয়েছি বেঁচে
মাঝে মাঝে সেই কবিতায়
তোর ছবিটাই আঁকছি বসে
নিঠুর হলেও, উপচে পড়া বাঁধের জলে
তোর সাথে ফের বেরিয়ে পড়ে,নৌকাবিহার।
আমগাছ
অরিদের আমগাছটি ছাদের উপরেই দাঁড়িয়ে আছে
ফলন হলে কাঁচা থেকে পাকা পর্যন্ত ছাদ থেকেই ওরা আম পাড়ে।
এ দৃশ্য দেখার পর থেকে টুনির মায়েরও খুব ইচ্ছে এমন একটি আম গাছের
কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যে তার স্বাদ পূর্ণ হওয়ার নয়।
এমন সময় এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটলো
কালবৈশাখী ঝড়ে পাশের বাড়ির মাঝারি আমগাছটি
হেলে পড়লো আমাদের ছাদে।
শুভদের গাছটি এভাবে আমাদের বাড়ি দখল করায়
উচ্ছিষ্ট পাতা, শুকনো ডালপালার উৎপাত সহ্য করার কথা কল্পনা করে
বিরক্তি ও রাগে জীবন ঝালাপালা হয়ে ওঠে।
টুনির মা এতে ভীষণ খুশি হয়
কেননা গর্ববতী আমগাছে ততদিনে মুকুল এসেছে
আমের গুটিতে ভরে আছে তার জগত
এতদিনে ঠাকুর মুখ তুলে চেয়ে তার মনের আশা পূরন করেছে।
হোকনা গাছের কান্ডটি ওদের
ডালপালা নিয়ে ও তো আমাদের বাড়িতেই উঠেছে!
দিন যায় রাত যায়, শিশিরে স্নান ও সূর্য প্রনাম সেরে
আমগাছ যখন ধ্যানস্থ হয়
টুনির মা ছাদে আসে।
গাছের পাতায় গুটিতে হাত বোলায়
একটু পরে আমডাল হবে
দুপুরে লঙ্কা নুনে একটা কাঁচা আম পেড়ে মাখানো হবে
আম হলুদ বর্ণ ধারন করলে সুমিষ্ট গন্ধে মুহুর্ত গুলো ভরে ওঠে ছাদের বর্নময় চত্ত্বরে
টুনির মায়ের আনন্দের সীমা থাকে না।
এভাবে শুভর মায়ের কানাঘুষো শুনতে শুনতে তিন চার বছর কেটে গেছে
এমন সময় অবিরত বৃষ্টির জোলো আবহাওয়ায় আম গাছটি অসুখে পড়ে
পাতাগুলো ঝরে পড়ে, হয়ে ওঠে কাঠের কঙ্কাল।
ওর সাথে এতদিনের ঘনিষ্ঠতায় হৃদয়ে ঘন মেঘ জমে ওঠে
হোক না ও অন্যের পোষ্য
শীতল ছায়ায় আমরাই ছিলাম ওর
সব চেয়ে আপনজন।
ছাদে যেতে আর ভালো লাগে না
শূন্যতায় ভরে ওঠে উঠোন বাড়িঘর গাছপালা পরিবেশ
কিছুদিন পর ওর স্মৃতিতে নতুন একটি চারাগাছ পুতেছি ছাদের পাশে।
শতছিন্ন জীবন
শতছিন্ন জীবন নিয়ে সত্যের পথে চলা!
সুবিধাবাদী মানসিকতায় ন্যায়ের কথা বলা!
নষ্টনীড়ের কষ্ট কথা দেদার চলন সই
গরম বালির মধ্যে ছড়ানো ধান, হচ্ছে ফুটে খই
আয়না গুলো হাসতে থাকে দেখলে একা রোজ
মনের কথা মনেই থাকে নেয়না কেউ খোঁজ
মুখের উপর জ্যোৎস্না ফেলে ঘোরাতো নয় হবে
হাসির ডোজ যাচাই করে পা ফেলবে কবে?
যেখানে পা রাখবে তুমি
রয়েছে ফাঁদ পাতা
জীবন চরিত লেখার জন্যে
রয়েছে পড়ে খাতা
দৃষ্টির সীমায় জমছে দূষণ
এয়ারকুলারে সাজানো কুশোন
ধূলোর মতো উড়ছে জীবন
দিব্ব্যি চলন সই।
কথার উপর বোমার মতো
রয়েছে একটু জন্ম ক্ষত
ভুলের গর্ভে দূরদৃষ্টি
জন্ম হচ্ছে নতুন সৃষ্টি
চাইলেও তাই লতায় পাতায়
বিমূর্ত জীবন সত্য!
সমীর মন্ডল
ঠিকানা - শাঁকারীপাড়া, কাঞ্চননগর, পূর্ব বর্ধমান, পিন-৭১৩১০২
ল্যান্ড মার্ক- কঙ্কালেশ্বরী কালীবাড়ি

Comments
Post a Comment