শিখর চক্রবর্তী
১)
নির্মোক
আত্মপরিচয় ভুলেছি
বৃক্ষের ঐশ্বর্য, নদীর উচ্ছ্বাস
আত্মপরিচয় লেখনীতে, হয়তো নির্মোক --
প্রাণের স্রোতে ভাসিয়েছি ঘর পরিজন
তবু কাঁঠালতলা দিয়ে আবছা আঁধার পথ,
পুরনো ঠিকানায় কড়া নাড়লে অজানা মুখ।
বন্ধু আয়নাই চেনে মুখোশের আড়াল
বাকি সব -- "ভালো আছো" ?
আর," বেশ আছি।"
২)
লালমাটি পরিচয়
এ সব পায়ে চলা নুড়ি,
লাল কাঁকর বৈরাগ
আমার চেনা।
কখনো কবিতা আসে নি,
কবিও আসে নি।
বৃষ্টির জলধোয়া শোণিত ভ্রম আসে নি
তবু আমাকে ডাকনামের মতো ঠোঁটে রাখে।
ভ্রম আরও হয় বিষণ্ণ যৌবনে
বিদায়ের ঋতুর পাশে গাছেদের শব সব
চিত্রার্পিত আকাশমণির খোয়াবে
কেউ লিখছে কোপাইয়ের গান আমার উৎসর্গে।
আমার জৈষ্ঠ্যে অতিথিশালায় বাতাসের তাপ
লালমাটি আমায় চেনে যেমন কিঙ্করকে বীরভূমি।
৩)
তোমাদের জন্য
এরকম শূন্যতা দিয়ে নিজেকে ঢাকলাম।
শাটারে আঙুল প্রথাগত,
শুষ্ক আকাশে আক্ষেপ ভাসুক,
নিদাঘও থাকুক বন্ধুর মতো।
দূরে দূরে ছড়িয়ে আছে একান্ত আপন --
সুখ থাক, বিচ্ছেদ দূরত্ব থাক
লুকোনো সত্ত্বা থাক, চকচকে ধার দেওয়া।
আবার ধার দেওয়া প্রেম থাক
জং লুকিয়ে।
আর কিছুদিন পর হয়তো বর্ষা --
ভিজে যাবো পুরনো পোশাকে।
রঙ যদি কিছু থাকে, মুখে ও মুখোশে
এ কদিনের দারুণ অবিশ্বাসে, ভালো করে
নিও শুকিয়ে।

Comments
Post a Comment