উন্নতির মানে
গোপা ঘোষ
গ্রামের নাম কেতুগ্রাম। ২০১৫ সাল পর্যন্ত কারেন্ট এলে উৎসব হত। রাস্তায় কাদা, স্কুলে একটা কম্পিউটার তাও বন্ধ।
সেই গ্রামের ছেলে রাতুল। বাবা ভ্যান চালায়। রাতুল শহরে গিয়ে কোডিং শিখেছিল। চাকরি পেয়েছিল বেঙ্গালুরুতে।
করোনার সময় বাড়ি ফিরল। দেখল গ্রাম সেই আগের মতোই। বাচ্চারা ফোনে ক্লাস করতে পারে না, নেট নেই। দিদারা ইউপিআই বোঝে না।
রাতুল ঠিক করল, চাকরি ছাড়বে। সবাই বলল, "পাগল হয়েছিস?"
সে
পঞ্চায়েতের একটা ঘর ভাড়া নিল। নাম দিল "ডিজিটাল পাঠশালা"। নিজের জমানো
টাকা আর ক্রাউডফান্ডিং করে ৫টা ল্যাপটপ, একটা প্রজেক্টর আর সোলার প্যানেল
বসাল। জিওর টাওয়ারকে অনুরোধ করে গ্রামে একটা বুস্টার বসল।
প্রথম দিন ৩ জন এল। মাসে তিনজন থেকে হল তিরিশ।
বুড়ো কাকারা এল ইউপিআই শিখতে। "বাবা, বাজারে QR স্ক্যান করলে ঠকে যাব না তো?"
মেয়েরা এল অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ শিখতে।
স্কুলের মাস্টারমশাই এলেন ইউটিউব থেকে ক্লাসের ভিডিও ডাউনলোড করতে।
দুই বছরে ছবিটা বদলেছে।
গ্রামের হাতের কাজ এখন Etsy তে বিক্রি হয়। কৃষকরা অ্যাপে আবহাওয়ার খবর নেয়। পঞ্চায়েতের সব কাজ এখন অনলাইন। টাকা মারার সুযোগ কমেছে।
গত মাসে রাতুলের পাঠশালার মেয়ে মিতা JEE ক্র্যাক করল। বাড়িতে হ্যারিকেন ছিল না, কিন্তু ফোনে নেট ছিল। রাত জেগে ক্লাস করেছে ছাদে।
উদ্বোধনে মন্ত্রী এসে বললেন, "উন্নতি মানে শুধু ফ্লাইওভার না। উন্নতি মানে একটা গ্রামের ছেলের ফোনে দুনিয়া ঢুকে যাওয়া।"
সেদিন রাতে কারেন্ট গিয়েছিল। কিন্তু পাঠশালার সোলার লাইট জ্বলছিল।
রাতুল জানলার বাইরে দেখল, কয়েকটা বাড়িতে এখন ওয়াই-ফাই এর আলো জ্বলে। আর কেউ হ্যারিকেন খোঁজে না।
উন্নতি মানে প্রযুক্তি না। উন্নতি মানে সুযোগ সবার হাতে তুলে দেওয়া।

Comments
Post a Comment