কবিতাগুচ্ছ ।। রকিবুল ইসলাম
মানুষ!
অকস্মাৎ কোন দৈব দুর্বিপাকে খড়কুঁটো হয় যখন আশা।
বাণে তখন যায় গো ভেসে সাধের নিবাস খানা।
পশু,পাখি,মনুষ্য জীব আজ সকলে দিক হারা।
খাবে কি!থাকবে কোথায়? হতবিহবল মনন! ভ্রান্ত চিন্তাধারা।
সসীম সাহস তবু অসীম আশায় বাঁচার মিছিলের ধারা,
টিকবে কি!?অতি যতনে গড়া সাধের নিবাস খানা।
উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠায় কাল হয় পার নির্ঘুম নিশি যেপে,
এই এলো বাণ, সকলে বুঝি যাবে এবার ভেসে।
দূর গগনে অপলক নয়নে রয়েছে চেয়ে সম্বল হারা,
বইবে কখন?আসবে নেমে খোদার অপার রহমের ধারা!
গগনবিদারী চিৎকার আর থর কম্পনে প্রকম্পিত সারা ধরা,
তবুও ভাই নিশ্চল, নিশ্চুপ!ঠাঁই দাঁড়িয়ে (অ)মানুষের দলেরা।
ঘর গেছে,ফসল গেছে,সম্পদ গেছে আজ ভেসে!
তথাপি তাদের রয় গো শ্বাস,বাঁচে প্রবল আশে।
প্রকান্ড কোন মেঘের খন্ড ঢাকে যখন সব আলো,
রবির কিরণে দূরীভূত হয় তমসা,হারায় নিকেশ কালো।
আসুন সবে সমবেত হই, দাঁড়াই! সব বানভাসীদের পাশে,
হোক দূর,মুছে যাক জরা, প্রণয় মমতার পরশে।
মানুষের মত দেখতে হলেই মানুষ কি কয় তারে?
মানুষ তো সে!মানুষের তরে যে প্রাণ হরে।
"যুদ্ধ নয়!শান্তি চাই!"
চারিদিকে আজি বাজিছে যুদ্ধের দামামা।
ছাড়িছে সবে গর্ব ভরে রণ হুঙ্কার।
নির্বিচারে মারছে মানুষ ধ্বংস হচ্ছে আশরাফুল মাখলুকাত।
ধ্বংস হচ্ছে শান্তির পৃথিবী ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।
আজ আমি যার বক্ষে চালাচ্ছি গুলি,
প্রিয়জন তার করছে আহাজারি।
আমারে করেছে পয়দা যে কুদরতি,
সেও তো ওই মহান সত্তারই সৃষ্টি।
তবে কেন এত হিংসা-বিদ্বেষ, ভেদাভেদ!?
এসো না গড়ি ঐক্যের পৃথিবী, হয়ে যাই অভেদ।
এসো সবে জাতপাত ভুলি,
এই ধরাতে শুধু মানুষ হয়ে বাঁচি।
ধর্ম যার যার পৃথিবী সবার,
রোধ করি সকলে মিলে অন্যায় অনাচার।
এসো সবে রুখি মানব হত্যাযজ্ঞ,
গড়ে তুলি ধরায় শান্তি,যতই হোক তা দূর্বোধ্য।
এসো সবে গায়ে শান্তির লেবাস জড়িয়ে নিই,
প্রতিজ্ঞা করি আর নয় যুদ্ধ নয় হানাহানি।
এক হয়ে আজ সব মানবে বলি সহসাই,
গড়তে হবে নতুন পৃথিবী-"যুদ্ধ নয় শান্তি চাই!"
অপেক্ষার প্রহর!
ছল ছল অপলক নয়নে,
বাতায়ন খোলা রেখে,
দর্শেছি তব নিঠুর প্রস্থান।
ভেবেছিনু তবু সহাস্য বদনে,
আসবে আবার ফিরে,
সাথে নিয়ে রঙিন ফাগুন।
উপহাস আর অবজ্ঞা ভুলে,
মিলব তোমার সনে,
ধরায় যতই জ্বলুক আগুন।
কল্প হাওয়ার ডানায় দুলে,
মেঘের ভেলায় ভেসে,
মাখব গায়ে দখিনা সমীরণ।
পুষ্পের নির্মল সুবাস মেখে!
ভ্রমর'কে সহযাত্রী করে,
চাইলে অন্য ধরার পবন।
যদিও এলে আর নারে,
রইলে অধরা পড়ে,
অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ করে।
পুষ্পস্নান!
তোমার অম্বরে রবির দীপ্তি,
প্রবল খরায় বারীর আবাহন!
আমি দাহ হই, মরি খরতাপে,
বহেনা ধরায় দক্ষিণা পবন।
তোমারে রাঙায় সাতরঙা আবির,
হর্ষ আমোদে জোড়ায় নয়ন।
তোমার প্রাতে শিশিরের হাসি,
আমার ভোরে দীর্ঘশ্বাসের গান।
তোমার পথে ফুলের সমারোহ,
আমার পথে কাঁটারই আহ্বান।
তুমি হাসো নবপল্লবের ছায়ায়,
আমি জ্বলি বিরহের অগ্নিবায়।
আমার আকাশ ঢাকা মেঘে,
অবিরত চলে দুঃখের দহন।
যাতনারা এসে ভিড় করে,
করে যায় মোরে চুম্বন।
স্বর্গীয় সুখের নিবিড় আলিঙ্গনে,
আবিষ্ট তুমি কর পুষ্পস্নান।

Comments
Post a Comment