বর্ষা : নগর, নক্ষত্র ও অন্তর্জলের ভাষা
রোকেয়া ইসলাম
বর্ষা কেবল আকাশের কান্না নয়,সময়ের ক্লান্ত কপালে জেগে ওঠা এক নীল শিরা
জমে থাকা অপ্রকাশিত সভ্যতার ধুলো
নগরের কংক্রিট-বন্দী দীর্ঘশ্বাস,
মানুষের ভিতরে মূল হারানোর গোপন ইতিহাস।
প্রথম বৃষ্টিধারায় প্রাচীন কবি তার অসমাপ্ত পান্ডুলিপি
মেঘের ভাঁজে লুকিয়ে রেখে
পৃথিবীর ডাকবাক্সে জলরঙের চিঠি।
ভেজা রাস্তায় নিয়ন আলোয় ভাঙা স্বপ্ন কুড়িয়ে
নিজের প্রতিচ্ছবিকে ভালোবাসতে শেখে।
বর্ষা আমার প্রিয় কদমফুল বর্ষা নগরের ড্রেনভরা অবহেলা
জলজটে থেমে থাকা অ্যাম্বুলেন্স,রিক্সা চালকের দুশ্চিন্তা
ছাতা বিহীন শিশুর হাসিতে ব্যর্থ রাস্ট্রের বিস্ফোরণ
তবু এই বৃষ্টি অদ্ভুতভাবে পবিত্র
সে ধুয়ে দিতে চায়, আমাদের জমাট অহংকার
উন্নয়নের বিলবোর্ড, অসংবেদনশীল ধুসর ধুলো
জানালার কাঁচে টুপটাপ শব্দ তোলে, হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনেরা
বর্ষা এক অন্তর্জাগরণ, অস্তিত্বের গভীরে নিক্ষিপ্ত প্রশ্ন
আমরা কি সত্যিই বেঁচে আছি নাগরিক বিস্মৃত স্মৃতিতে
অতঃপর সন্ধ্যা নামে,, বারান্দায় একাকী একজন
ভেজা বাতাসে দোলনচাপার অদৃশ্য গন্ধ, দূরে প্রার্থনার সুর
মহাবিশ্বের ক্ষণস্থায়ী উষ্ণতায় আত্মা আর পরমাত্মার সখ্য
মানবিক দ্বার খুলে মহাসত্যের কাছে সমর্পিত হই.....

Comments
Post a Comment