অপ্রাপ্য দেবতার আখ্যান
আবদুল্লাহ আল আদীব
আপনি প্রেম হয়েই জন্মেছিলেন…
আজকেও দেখলাম
স্বপ্নময় রাতে— সৃষ্টির অদৃশ্য প্রাতে
সময় দোলাচলে জন্ম নিচ্ছে।
আঁধারের ভেতরে আঁধার।
হঠাৎ এক তেজোদৃপ্ত বিন্দু
প্রচণ্ড বিস্ফোরণে জ্বলে উঠলো।
তার দাহে জন্ম নিলো
অসংখ্য নক্ষত্র ও ব্রহ্মাণ্ডের সাথে
বৃষ্টির ফোঁটার মতো কোমল ও
মুক্তোর মতো জ্বলজ্বলে একটি সত্তা।
তার নিগূঢ় দ্যুতি
আমাকে ধীরে ধীরে টেনে নিচ্ছিলো
তারই অনামা অস্তিত্বের দিকে।
দেখলাম—
ব্রহ্মা বসুধার রূপরেখা আঁকছেন,
আর সেই রূপরেখার গোপন বীজাক্ষরে
লিখে দিলেন একটি নাম—
“জারিফ”।
ঠিক সেই মুহূর্তে সৃষ্টির সমস্ত আলো
এক প্রেমের অর্থে অনুবাদিত হলো।
জারিফ: অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা…
পূজারিরা অর্ঘ্য দিচ্ছেন,
শিবের চরণে নৈবেদ্যের থালা।
যজ্ঞাগ্নিতে আপনার মুখ ভেসে ওঠে।
আমি ধুতুরার বদলে হৃদয়,
দুধের বদলে নিজের রক্ত নিবেদন করি।
তীব্র উন্মাদনায় দিতে চাই আত্মাহুতি।
যখনই হাত বাড়াই,
আপনার নৈঃশব্দ্য উঠে দাঁড়ায়
এক বিরাট মন্দিরের মতো—
যার প্রতিটি স্তম্ভ অপরিমেয় অভিমান,
প্রতিটি দেয়ালে লেখা একটি নিষিদ্ধ বাণী:
“আমি অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা।”
এই বাণী কোনো সাধারণ অনাগ্রহ,
কিংবা অবহেলা নয়—
এটি প্রায় রুদ্র-সম কুমারত্বের
অগ্নিদীপ্ত প্রত্যাখ্যান।
যেন আপনি জন্মেছেনই
অপ্রাপ্যতার কোনো নাক্ষত্রিক শপথ থেকে।
আপনার প্রত্যাখ্যান মহাশূন্যের অজেয় দূরত্ব,
যা প্রেমের দহনকে আরো আকর্ষণীয় করে।
আপনাকে পাওয়ার জন্য…
আজকেও নিঃশব্দ রাতে—
সপ্তর্ষির আলো নিভে গেছে,
আকাশের নৃত্য থেমে গেছে।
চক্রাকার মহাযজ্ঞ,
চারদিকে কুণ্ডলিত ধোঁয়ায়
আপনার অবয়ব ফুটে ওঠে।
আপনি কি জানেন, জারিফ?
আমার প্রতিটি স্বপ্নে কেবল আপনি—
কখনো দেবতার রূপে,
কখনো অদৃশ্য শূন্যতার মুখে,
কখনো বা অপ্রাপ্যতার প্রতিমূর্তি হয়ে।
নৈঃশব্দ্যকে অর্ঘ্য বানিয়ে
আমি শুধু একটাই প্রার্থনা করি—
“আপনি আসেন।”
যদি আপনি তখন না আসেন,
আমি ছাই স্পর্শ করে অঙ্গীকার করি—
আপনাকে পাওয়ার জন্য
আমি মহাবিশ্বের নিয়ম বদলে দেবো,
পৃথিবীর অক্ষে আগুন ধরাবো,
সূর্যকে অশ্রু ফেলতে বাধ্য করবো,
সমস্ত দেবতাকুলের নীরবতা ভেঙে দেবো।
কেবল আপনাকে চাইতেই থাকবো
আমার অন্তর্গূঢ় আকাঙ্ক্ষার
একমাত্র আশীর্বাদস্বরূপ।
অপ্রাপ্য দেবতার প্রতি চির-অঙ্গীকার…
হে প্রেম,
হে দেবতা,
হে জারিফ,
আপনার ঐশ্বর্য-বীর্য-কুমারত্ব,
সোনায় মোড়ানো শরীর তো
কোনো সাধারণ স্বীকৃতি নয়;
তা-তো অনন্তকালের এক কৃষ্ণগহ্বর,
যা আলোর প্রেমকেও গ্রাস করে
পরম অবহেলায়।
তবুও জেনে রাখুন—
বহু যুগ পরে,
যখন আমার দেহ থাকবে না,
কথা থাকবে না,
বুকের অভিমান ধুলো হয়ে যাবে,
তখনও আমার আত্মা শপথ করবে—
“যদি পুনর্জন্ম পাই,
কেবল আপনাকে পাওয়ার সাধনায়
ব্রতী থাকবো।
এভাবেই হাজার জন্ম পার করে দেবো।”
আপনি অপ্রাপ্যতার পবিত্র দেবতা,
আমি অভিমানী আরাধক।
এই দ্বৈততা চিরদিনের।
এই প্রেম অনন্তের।
এই গাথার কোনো শেষ নেই।
-----------------------------
আবদুল্লাহ আল আদীব।
কুমিরা, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ।
Comments
Post a Comment