Skip to main content

বড়গল্প ।। এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে ।। শাশ্বত বোস

এক বসন্ত স্বাধীনতার জন্যে

শাশ্বত বোস



জঙ্গলের গা ঘেঁষে পাহাড়চূড়োর মতন অনন্ত নরম আকাশে, বসন্ত যেন উড়ে এসেছে মিহি রঙের গুঁড়ো আবিরের মতো। ওপাশে আপার তেন্দু ফরেস্ট আর এ পাশে পরপর চা বাগান পেরিয়ে গরুমারা ন্যাশনাল পার্ক। মাঝে বিগত যৌবনা কোন স্থানীয় রমণীর মতন, নিমগ্ন আলোড়নে ক্ষীণ রেখাটি হয়ে এঁকে বেঁকে বয়ে চলেছে মূর্তি নদী! শরীর জুড়ে তার অসংখ্য যাযাবর নুড়ি পাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, যেন কুচি কুচি জোনাকির দানা! হিমালয়ের পাদদেশে আষ্টে পৃষ্টে জড়ানো আবছা কুয়াশা ঘেরা বিস্ময় আর মহাশূন্য থেকে খড় কুটো মুখে করে নেমে এসে, সারাদিন উড়ে উড়ে-ঘুরে ঘুরে বেহিসেবী পথ খুঁজতে থাকা ক্লান্ত বসন্তবৌরীর মায়া শিসের মৌতাত হয়ে, বয়ে চলেছে সে বিহানবেলার আনন্দবিলাসী কোন এক নেশাতুর ম্যাজিক বিভঙ্গের লোভে। এ আকাশ সে আকাশে এখন আগুন খোঁজে কামতাপুরী ভাওয়াইয়া গানের সুর! এমন সুন্দর একখানি মধুময় ভূমিখণ্ডের সাথেই তো জন্ম জন্মান্তরের ঋণে জড়িয়ে যাওয়া যায়! গলায় এক আঁজলা অঞ্জলী জড়িয়ে গেয়ে ওঠা যায়, “এই অরণ্য, নদী, পর্বত, নুড়ি পাথরে ভরা এই ভূখণ্ড, আমার দেশ! আমার একার দেশ! “মোর দেশ, মোর স্বর্গ!”



কাল রাতে চা বাগানে চিতা বেরিয়েছিল। আজ সকালে এ বাড়ির গোয়াল ঘরের সামনে চিতার পায়ের ছাপ দেখেছে পার্বতী বর্মন। পার্বতী এ বাড়ির বড় বৌ। সকাল বেলায় গোয়ালে ধবলী গরুর দুধ দোয়াতে গিয়ে, আধমরা রক্তাক্ত অবস্থায় গরুটাকে পড়ে থাকতে দেখে সে। দুদিনের বাছুরটাকে মুখে করে তুলে নিয়ে গেছে বাঘটা। সেই নিয়ে চিৎকার করে সে বাড়ি মাথায় করেছে। তার ত্রাহি চিৎকার শুনে আশেপাশের ঘর থেকে লোকজন ছুটে এসে ছোটখাট একটা ভিড় জমিয়ে ফেলেছে ওদের উঠোনে। হিংস্র শ্বাপদের গবাদি পশু শিকার এই জঙ্গলে হয়তো খুব সাধারণ একটা ঘটনা! আকছার ঘটে! তবু যে এই ঝুপড়িটার চারপাশে এই যে এতো উদ্বেলতা, বিচলিত গুঞ্জন, বিষয়বস্তুর বিষণ্ণতা ব্যতিরেকে ভাঙা ভাঙা কিছু রাজবংশী শব্দের স্থানিক বিস্ফোরণ এবং এই স্বভাবসুন্দর মায়াবী প্রকৃতি আর তার গা সওয়া নিষ্ঠুরতার প্রশ্নে বেশ স্বস্তিদায়ক মধ্যবর্তী নিজস্ব একটা বলয় তৈরী করে নিতে চাওয়া, এগুলোকে শুধুই রহস্যময়ী এই অরণ্যের মাঝে ওঁৎ পেতে থাকা তামাম বিপদসংকূলতাকে, এদের নিজেদের যূথবদ্ধতার বর্ম দিয়ে আটকে দেবার একটা মরিয়া প্রচেষ্টা বলেই ধরে নেওয়া যেতে পারতো। এই রহস্যময়ী অরণ্যের প্রাচীন সুর, স্বর আর শীতল আলস্যের গায়ে অনুচ্চারে লেগে থাকা বেদনার পারম্পরিক দ্বন্দ্বের আখ্যানে, ট্রাজিক উপাদান হিসেবে হয়তো তাকে আরও ভাল মানাতো। কিন্তু যারা জানার তারাই শুধু জানে, এই লঘু জীবনে শুধু বয়ে যাওয়া কিছু মুহূর্তের কাছে কোলাহলপ্রিয় এই জটলাটা ঠিক কতটা আরামদায়ক এবং কিছু ক্ষেত্রে কতকটা মুখরোচকও! সেখানে শোক কিংবা ভীতি প্রদর্শন আর প্রাধান্য পায় না বরং নিরাপত্তাহীনতা, সংশয় কিংবা উদ্বেগ এসবের মাঝেই প্রকৃতির স্থিতিশীল নির্জনতা আর নির্বিকার খাদ্যশৃঙ্খলের মাঝে পড়ে, নিজেদের আব্রুহীন জীবনে সে যেন এক অবান্তর উদযাপন হয়ে ওঠে! সীমিত সাধ্যের এইসব জীবনগুলোয় ঘটে যাওয়া এরকম অধিকাংশ ঘটনায় যখন নিজেদেরই কোন হাত থাকে না, তখন এইসব গল্প করে বা গল্প শুনে তবু তো মানবিক অনুভূতিগুলো সজাগ থাকে পূর্ণমাত্রায়! কাল জঙ্গলে কাঠ কাটতে যাবার সময় পার্বতী হাতির পালের মুখে পড়েছিল। সে কথা হাত পা নেড়ে এরই মধ্যে সে সকলকে বলতে শুরু করেছে। হাতি প্রায়ই এখানে জঙ্গল ছাড়িয়ে বসতির কিনারায় এসে পড়ে। সরু পাথুড়ে রাস্তায় এসে এমনভাবে দল বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে, যেন সাক্ষ্যাৎ মাশান দেব! মৃত্যুর ঠিক আগের রূপকের খোঁজে, মিছিল করে জঙ্গল ছেড়ে বেরিয়ে ফেরার পথ ভুলেছে। আসলে এই হিরণ্ময় উন্মুক্ত অরণ্যের মাঝে এদের আসা যাওয়া তো এমনই! জঙ্গল যেন শুধু এদেরই! এই চরাচর জুড়ে খেলা করে বেড়ানো বালিহাঁস, ডাহুক, চোখগেল, পাপিয়া, দলছুট হাতিদের দল, এরাই তো জঙ্গলের গর্ভকাল নির্ধারণ করে। ডুয়ার্সের এই জঙ্গলটা বারবার যেন এই আদিম বন্যতাকে জন্ম দেয়, সযত্নে বড় করে তোলে, শারীরবৃত্তিয় শৃঙ্খলে বেঁধে পথভোলাদের ঘরে ফেরায়। আবার এদের গর্ভেই হয়তো সংক্রামিত প্রেম আর ভালোবাসার অনর্গল সঙ্গমে নতুন করে জন্ম নেয় এই মোহক বনাঞ্চল! এদেরই পাপহীন দেহে বিমর্ষ শিশুটির মতো ঘুমিয়ে থাকার ভান করে মুখ গুঁজে, চোখ বুজে পড়ে থাকে। চন্দ্রাহত জ্যোৎস্নায় প্লাবিত এ জগৎ সংসারে, রাতচোরা হুতোমের ধূসর চোখে জঙ্গলের সেই ঘুমন্ত মুখের দিকে চেয়ে চেয়ে, কমলা জেগে থাকে সারারাত। তার ঝুপড়ির কয়েক কিলোমিটারের ভেতর কলকল কলাকৌশল আর স্রোতস্বীনি জাদুটোনার হাত ধরে তখন এক আচ্ছন্ন ঘুমের আবেশ তৈরী হয়। স্মৃতির নক্ষত্রেরা শিশিরভেজা জলছবি আঁকে তার ভাবনার ভিতর, নিদ্রাবিহীন স্বপ্নের ভিতর।



ঘরে তার প্রায় ডজন খানেক ছেলে মেয়ে। সাতটি ছেলে, পাঁচটি মেয়ে। শেষেরটির বয়স এখন কুড়ি দিন। নেহাতই দুধের শিশু! তবে তাতে ওর স্বামী হীরেন ঠিক যেন নিশ্চিন্ত হতে পারে না! আসলে এরা শুধু তো সন্তান নয় ওদের কাছে বরং এরা এই বর্মন দম্পতির জন্য এদেশে ক্রমশঃ বাড়াতে থাকা মৌলিক অস্তিত্ত্বের শিকড়! এই বনাঞ্চল, পায়ের নীচের পাতালকক্ষ, মাথার উপরে অনন্ত সীমাহীন নক্ষত্রবীথি, পরিব্যাপ্ত মহাকাশ এসবের মাঝে প্রতিস্থাপন করা একটা নিজস্ব ‘আমি’কে স্থায়ী নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করার অলংকার! প্রতিবার পোয়াতি হলে সদরের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয় কমলা। প্রতিবার বাচ্চার সাথে নতুন সরকারি কাগজ। আসলে কমলা-হীরেন-পার্বতী মায় পুরো এই বর্মন পরিবার, এমনকি এই জনপদের অধিকাংশ বাসিন্দাই তো এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা নয়! এদের অনেকেই কয়েক যুগ আগে পরিযায়ী হয়ে চলে এসেছে বাংলাদেশ থেকে। কেউ আবার এসেছে আসাম থেকে। এদের স্বাভাবিক জীবনভঙ্গিমায়, স্বত্ত্বায়, প্রবণতায় এপার ওপার মিলে মিশে গেছে খুউব সহজ বিবর্তনে। এদের শৈশব কৈশোর হয়তো সনাতনী জল হাওয়ার মতোই ভাগ হয়ে গেছে দেশকালের সীমানায়। কিন্তু ভাষা, সংস্কৃতি, সুর এগুলোকে কি এতো সহজে ভাগ করা যায়? ইদানীঙ সরকারি অফিস থেকে ভোটের কাজ করতে এসে বাঁকা চোখে তাকায় ওরা এদের দিকে। সে দৃষ্টিতে কখনো কখনো কপট চাতুরীর সাথে চিনির মতো গুলে থাকা মৌলিক বঞ্চনাবাদের ভ্যাজাল দৃষ্টিকটুভাবে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে! প্রতি রাতে তাই হীরেনের পুরুষ শরীর জেগে ওঠে, সদ্য খোলস ছাড়া চা বাগানের রাজগোখরোর মতন! বর্ষার মেঘের মতো ছড়ানো চুলে কুসুমিত কামিনী তেলের হাহাকার নিয়ে পড়ে থাকা কমলার লোলচর্মসার শরীরটাকে জড়িয়ে ধরে সে হাতড়ায় কামড়ায়! তার আঙুলের প্রতিটা নখে লেখা হতে থাকে লালা, মাংস আর রক্তের অযুত সহজপাঠ! আকাঙ্খার উন্মাদ আগুন জ্বলে যেন! কমলার স্তনের বোঁটা বেয়ে দুধ বেরিয়ে এসে ভিজে যায় চারপাশ! হীরেনের দাপাদাপি তবু থামে না! যেন কাঁটা বসানো ক্ষুরধার লিঙ্গ তার! কমলার জরায়ুর বেদনা ভুলতে দিতে চায়না সে কোনোমতে! ঢুকিয়ে, পেঁচিয়ে প্রতিদিন নতুন করে খনন করে চলে সে কমলার যোনিদেশ! তিরতির করে কাঁপতে থাকা লম্ফের আলোয় সে গমন পথে রাতের অবয়ব ক্রমশঃ স্পষ্ট হয়ে ওঠে! ফুলে ওঠা ঠোঁট, শরীর জোড়া কালো কালশিটে, ঝুলে যাওয়া স্তনবৃন্তে কস্তুরীহীন, চিনচিনে, হেঁচড়ানো সম্ভ্রমহীনতা নিয়ে দূরে কান পাতে কমলা। রাতের বুক চিরে তখন পাথরে পাথরে জলের ধাক্কা লাগার শব্দ, জঙ্গলের নিস্তরঙ্গ নীরবতা এড়িয়ে নিশাচর পাখিদের ডাক, নিশিকৃষ্ণতিথিতে অদ্ভুত লয়ে নিরলস জৈবিক কসরতে ব্যস্ত ঝিঁঝিঁ পোকার ঝমাঝম নগরকীর্তন, আশ্লেষী হায়নার পিশাচ হাসি এসবের পাশাপাশি ঝুপড়ির ঠিক বাইরেটা থেকে লোহার শিকলের একটা হালকা ঠুনঠুন শব্দ ভেসে আসে। জঙ্গলের ভেতর গাছপালার গভীরতা ভেদে যেমন আলো আঁধারি বাড়ে কমে, ঠিক তেমন নদীর বুক বেয়ে বয়ে চলা বিভ্রান্ত হাওয়াটার ধাক্কায় শব্দগুলোর গভীরতা যেন কমতে থাকে! কেমন ফাটা ফাটা অস্পষ্ট হয়ে মাত্রা হারিয়ে ফেলে শেষে! ফি বছর হীরেনের স্থায়ী নাগরিকত্ত্বের পক্ষে দাখিল করতে চাওয়া চামড়া মাংসের কাগজপত্রগুলোকে নিজের গর্ভ দিতে না পাড়ার পাপ ধুয়ে ফেলতে ফেলতে, কমলা যেন দেখতে পায় বাইরে বাঁধা হাতিটা ভীষণ অস্থির হয়ে উঠেছে এখন! ঘন ঘন মাথা নাড়ছে! পিছনের দুপায়ের মাঝে শিকলটাকে হ্যাচকা টানে খুলে ফেলতে চাইছে! এ আজ নতুন কিছু না। কমলা দেখেছে প্রায় প্রতি রাতেই এই সময়টায় হাতিটা যেন ক্রমশঃ অস্থির হয়ে ওঠে। ওদের সঙ্গমের তীব্রতা যত বাড়ে তত যেন চঞ্চল হয়ে ওঠে সে! মাস ছয়েক হোল মূর্তি বিট অফিস থেকে হাতিটাকে দিয়ে গেছে হীরেনের জিম্মায়। জলদাপাড়া ফরেস্ট অফিস যখন হস্তীশাবকটিকে ওর মায়ের থেকে আলাদা করার পদ্ধতি শুরু করেছিল তখন হয়ত সেটির বয়স চার বছর! ফি বছরই এই কাজ চলে। মায়ের থেকে আলাদা করার সময় মা হাতিটির অস্থিরতায় তটস্থ থাকতে হয় বনদপ্তরের সকলকে! এসময় তাকে শান্ত রাখে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের অন্যান্য কুনকি হাতির দল। এসবই কমলা শুনেছে হীরেনের মুখে। হীরেন বেশ কয়েক বছর ধরে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টে একটা পার্ট টাইম কাজ বাগানোর ধান্দায় ছিল। মাহুত হবার ট্রেনিং নিয়েছে সে বেশ কিছুদিন। নিজে হাতে হাতি বাঁধার দড়ি বানিয়েছে। ওর মতন আরো অনেকেই ট্রেনিং নিয়েছে যদিও। তার পর প্রধান মাহুত বাসের আলীকে হাত করে, এটা সেটা ফাই-ফরমাস খেটে দিয়ে, কিশোরগঞ্জের দোক্তা পাতা সাপ্লাই দিয়ে, আস্তে আস্তে মাহুত হবার বিশ্বাস সে অর্জন করেছে। এখন সে নিজেই বুক ফুলিয়ে, ছুঁচলো গোঁফের আগা সরু করে বলে, “হামরা বর্মন! মাহুতের জাত! মোর দাদা পরদাদা আসাম থাকি হাতি ধরি আনি, পোষ মানি খেলা দেখাইত।” হাতিটাও দিব্যি এখন হীরেনের পোষ মেনেছে। হীরেনই বলতে গেলে এখন ওর ‘মাহুত বন্ধু’! হাতিটাকে সেই এখন চান করায়, খেতে দেয়, তার পিঠে চেপে জঙ্গল, নদীর ধার চড়তে বেরোয়। রোজ একবার বিট অফিসে রিপোর্ট করে আসে। সেসময় রাখালিয়া বাঁশিতে সুর তোলে হীরেন। তার বাঁশির সুরে জঙ্গলের শাল-সেগুন-গামার গাছে জন্ম নেয় কয়েকশো চুমুর রোমান্টিকতা! হয়তো ওর না বলা ভালোবাসাগুলো অব্যক্ত প্রেম আর ব্যর্থযাপনের কবিতা হয়ে তাতে মিশে থাকে। যেন এক আদিম অরণ্যমানবের সবুজ হারানো উদাস কথকতা, দূরের পাহাড়ের গায়ে তোলা অদৃশ্য দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে ফিরে ফিরে আসে, এক ফোঁটা গাঢ় বাদামী রঙের জাদু ধ্বনি হয়ে! হাতিটা সত্যি দিব্যি পোষ মেনেছে হীরেনের! পেছনে বাড়ি মেরে ‘বোট’ বললে হাটু গেঁড়ে বসে পড়ে! হাতের বেতের লাঠিটা দিয়ে একটু খুঁচিয়ে ‘মাইল’ বললে উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করে! আবার একটু চেঁচিয়ে ‘তিরে’ বললে কাত হয়ে শুয়ে পড়ে! হাতিটার সামনে গিয়ে হীরেন ‘ধের’ বললে কেমন শুঁড়ে করে পেঁচিয়ে ধরে ওকে! ব্যালেন্স করে ওর কাঁধে চড়ে বসে হীরেন। প্রতিদিনের কাজের ফাঁকে এসবই দূর থেকে লক্ষ্য করে কমলা। হাতিটার পেছনের পা দুটো একটা মোটা দড়ি দিয়ে বাঁধা এখনো! পাটের দড়িটা রোদে পুড়ে জলে ভিজে হলদে হয়ে গেছে। দড়িটা সোজা উঠে হাতিটার পেটের তলা দিয়ে ঘুরিয়ে লেজের তলায় পাক দিয়ে বাঁধা। একে মাহুতদের ভাষায় ‘জাঙ্গিয়া’ বলে। এই বাধনটার ফলে তার লেজটা একটু উঁচু হয়ে আছে এবং লেজ নাড়লে হাতিটার ঈষৎ কালচে যোনিদেশ বেরিয়ে পড়ছে মাঝে মাঝে। হাতিটা এখন আপন মনে আখের ছোলা চিবোচ্ছে। ধীর পায়ে সেটার কাছে এগিয়ে যায় কমলা। প্রশিক্ষণের প্রথম কয়েক মাস গলার কাছে রশি দিয়ে কষে বাঁধা থাকে। একে বলে ‘ফাঁদ’! তাছাড়াও বুকের কাছ থেকে জড়িয়ে সামনের পা দুটোও বাঁধা থাকে। তাকে মাহুতেরা বলে ‘বুক ফারা’। হীরেনের মুখে শুনেছে কমলা, পোষ মানানোর প্রথম দিনের কথা! সে দৃশ্য বড় নির্মম! হাতিটার চারটে পা চারটে খুঁটির সাথে বেশ মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে এই বাঁধনগুলো পড়াবার কাজ চলে। সেসময় হস্তীশাবকটির কান ফাটানো চিৎকারে পুরো জঙ্গল কেঁপে ওঠে! অনেক টানা হ্যাঁচড়ার পর স্ব-যাপনের যুদ্ধে হেরে যায় হাতিটি! তার শূন্য, ক্লান্ত শরীর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে! স্তব্ধ হয় তার যাবতীয় তর্জন গর্জন! স্মৃতি ঘোলাটে হয়, অনুজ্জ্বল চোখদুটো জুড়ে তার ঘুম নেমে আসে। হাতিটার গায়ে বাঁধনগুলো হয়তো তখন কষে বসে গেছিল! সে দাগ এখনো সুস্পষ্ট! জায়গাগুলোয় হাত রাখে কমলা। ওর হাতের তালুর নীচে কয়েকটা অমসৃণ বলিরেখা ভেসে চলে যায়। ওর হাতের নাগালের ভিতর হাতিটার পিঠের শুকিয়ে যাওয়া ফোস্কাগুলো জেগে থাকে শুধু, শুকনো পাথরের গায়ে ঋতুর হাত ধরে জন্ম নেওয়া, অদৃশ্য ফাটলের অন্ধকার নিয়ে। মাকে ছেড়ে আসার শোক, শৈশব হারিয়ে ফেলার অভিমান আর লড়াই করে বেঁচে থাকার অহংকার এসব নিয়েই কবে যেন বড় হয়ে গেছে এই হস্তীশাবক। সে এখন তার মাহুতকে ভোলাতে জানে। সময় সময় নাকরা করে ব্যস্ত করে তুলতে পারে। পৃথিবীর বুকে এর থেকে বড় ভালোবাসার দৃশ্য হয়তো আর কিছু নেই! শুধু কমলা কাছে এলেই হাতিটা পিছন ফিরে দাঁড়ায়! মুখ ঘুরিয়ে নেয় অন্যদিকে! কমলা যেন ওর কতকালের সতীন! এই মুহূর্তে হাতিটার সাথে একটা চেনা অচেনার আত্মময়তা অনুভব করে কমলা। শিরা ধমনীতে বহমান নিঃশব্দ সে আবেগ, মূর্তির কুলুকুলু স্রোতের মতোই স্নিগ্ধ, স্বচ্ছ! একদিন মা বাপের ঘর ছেড়ে সেও এসেছিল হীরেনের কাছে। ঘরকন্যার সুখ পেতে জঙ্গলের বুকে হঠাৎ করে উড়ে এসে জুড়ে বসা নিতান্ত অপ্রয়োজনীয় শিয়ালকাঁটার মতোই হয়তো সেও ভেসে এসেছিল। এখন গোটা শীতকাল জুড়ে পেয়ে বসা স্মৃতির অবসন্নতা আর মূর্তির প্রায় নিশ্চিহ্ন শরীর জুড়ে বেছানো ঠান্ডা বিছানার চাদর চিরে, সদ্য যুবতীর সোহাগের ওম এনে দেওয়া চৈত্র শেষের তপ্ত রোদকে ফিকে করে দিয়ে, ডেকে যায় শুধু নিখাদ ভালোবাসার লোভে কপাল পোড়ানো, কুলত্যাগী কোন এক চরিত্রহীনা কোকিলা! কমলার নিজের বিয়ের দিনের গীত মনে পড়ে যায়।

“বালির বাবার বাড়ি রে।

কলা সারি সারি রে।।

কোথা গিয়া পাইলা মধু।

বৈদেশী ভ্রমরা রে।।”



কুশে বাঁধা পড়েছিল দুটো হাত। আলতা চিহ্ন মাখামাখি সে হাতের রেখা যেন তখন তৃপ্ত মধুভান্ডের মতোই পূর্ণ! এতদিন এই যুগল পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। কিন্তু সেই লগনে রূপবতী লাবণ্যে যেন পুনর্জন্ম হয়েছিল কমলার। মধুল গান, সারি গান, পান-তামুল, খৈ ছেটানো আর কলা গাছের সারিকে স্বাক্ষ্মী রেখে, উজ্জ্বল প্লাবনে ভেসে গেছিল কমলার যৌবনবতী শরীর, ডাগর ডাগর চোখ, ডিঙি নৌকার মতন বাঁকানো মুখ, ভারী বুক, টিকোলো চিবুক! যেন চাঁদের আলোয় ভিজছে বনস্থলী! ফেলে আসা জীবনের যাবতীয় দুঃখ গন্ধকে মুছে ফেলে সে যেন তখন এক নতুন জীবনের আলোয় ফেরা। পাথুরে পথের ধুলো জড়িয়ে আরো নব নব প্রাণে ছড়িয়ে পড়া তেল হলুদের গন্ধমাখা আঁচলে। ওর ভাতারকে সেই প্রথমবার দেখে ওর পছন্দ হয়েছিল খুব। বেশ নির্মেদ, পেশীবহুল, টানটান চেহারা যেন ফুট ছয়েক লম্বা ধনুকের একটা ছিলা। দেখলেই কেমন যেন ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। মরদ হীরেনকে দেখে কমলার নরম বুকে তীব্র কর্ষণ ইচ্ছা জেগে উঠেছিল সেদিন! ঠিক ততক্ষণ কর্ষণ যতক্ষণ না অবধি ফাঁপা কুয়োয় জমে থাকা ধাতুরস দুকূল ছাপিয়ে গৃহস্থের বাড়ি ভাসিয়ে দেয়। শ্বশুরবাড়িতে এসে বৌ দেখানোর সময় এই পার্বতীই ওর মুখ দেখে বলেছিল, “এ ছয়রি মায়া জানেই! আজি থেকেই মোর দেবর বশ হল!” আঁকা বাঁকা সর্পিল পথে স্থিরচিত্রের মত স্থির হয়ে যাওয়া যায় এমন একটা জড়তা ছিল সেদিন পার্বতীর চোখের চাহনিতে! তারপর চোখে ঈষৎ বাঁকা দৃষ্টি এনে সামনে রাখা ধানের গোছা থেকে বেশ কিছুটা ধান মুঠো করে নিয়ে, ওর সিঁথিতে ছড়িয়ে দিয়েছিল। সে দৃশ্যে এসে সজোরে ধাক্কা দিয়ে একখানা আস্ত রামধনু এঁকে দিয়ে গেছে তখন, টলটলে দু একটা ভবঘুরে হাওয়ার স্মৃতি! পাশে বসা পুরুষটির মুখে তখন নির্নিমেষ তৃপ্তির হাসি। আসে পাশে শুধু পক্ককেশ রাজবংশী বৃদ্ধা গোষ্ঠীর মুখরিত গুঞ্জন। আশীর্বাদ পর্ব সেরে পার্বতী তার দেবর আর দেবরানীর কপালে আলতো করে চুমু দিয়েছিলো। শ্রাবনের জলভরা মেঘ যেমন স্রোত নিয়ে আসে মূর্তির বুকে, জঙ্গল ঋতুমতী হয়, ওজন লাগে তার ভারী শরীরে, ঠিক তেমন একটা সমর্পিত স্তনভারে পার্বতীর শরীরটা ঝুঁকে পরেছিলো সামনের দিকে। অনিমেষ মায়ায় ভরা সে চুম্বন! যেন অনেক দূর দিয়ে ভেসে গেছে নির্বাক কল্পনারা! দিনের দূরগামী আলোর গভীরে যেন তাতে বোনা হয়ে আছে, ক্রোধ-ভয় আর সমবেদনার রূপবতী অক্ষর! এর পরের সাংসারিক জীবনে অবশ্য পার্বতী আর বিশেষ সদ্ভাব রাখেনি কমলার সাথে! জঙ্গলে কাঠ কুড়ানো, শুয়োর গরু প্রতিপালন, রাত জেগে হাতির হাত থেকে ক্ষেত পাহারা দেওয়া, এসব কাজ সমানে সমানে ভাগ হয়ে গিয়েছে। এমনকি বিষুয়ায় আটকলাই-বাটকলাই ভেজে বাড়ির চালে ছড়ানো, ঘরের দরজায় পিয়াজ-রসুন-পানিমুদ্রি পাতা-বেতের ডাল ঝোলানো ইদ্যাদি লোকাচার কিংবা বকা পিঠা, পাকন পিঠা, চিতই পিঠা বা নাড়ু বানানো এইসবই ওরা করেছে হাসিমুখে। সবার সামনে দেখিয়েছে ওরা কত ভাল আছে! মিলে মিশে আছে! কিন্তু কমলা ঠিকই বুঝতে পারে ওর বিয়ের পর থেকেই ভিতরে ভিতরে একটা জং ধরা কাতরতায় ডুবে গেছে পার্বতী! নিজের অসম্পূর্ণতাকে চেপে রেখে সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকে, অপছন্দকে গ্রহণ করলে যেমন হয় কিংবা যেমনটা হয় নিজের একান্ত পছন্দকে বুকে পাথর চেপে পর করে দিলে! কমলার কাছে এর কোনো নির্দিষ্ট উত্তর নেই তাই আর এসব নিয়ে ভাবলে কষ্টও হয়না ওর! হাতে হাতে তিল আর খেঁজুর গুড় জড়ো করে ঢেঁকিতে দেয় পার্বতী আর তালে তালে পা চালায় কমলা। যেন একই পুরুষের সাথে সফল আসক্ত একটি সঙ্গমের পর কোনো কাল্পনিক নাগরদোলার দুই মাথায় চড়ে বসেছে দুই নারী! একদিকে শর্তাধীন নীরবতা আর অন্যদিকে অশুচী একাকীত্ত্ব! দুজনেই আপাত ক্রিয়াশীল কিন্তু ভেতরে ভেতরে কি ভীষণ হিসেবী! যেন চরম ব্যক্তিগত কোন সুখে বা অসুখেও কেউ কাউকে একবার জিজ্ঞেস করবে না, “কেনে আছো?” (কেমন আছো?)



এখানে এখন ধূসর আকাশ মাথার ওপর ঝুলে থাকে সুঠামদেহী কোন পরপুরুষের মতন! তার গায়ে মেঘেরা লেগে থাকে লুকোনো কোন বিষণ্ণতা নিয়ে। অলক্ষ্যে ভিজে ওঠে বাতাস। শ্যামলা রঙের বিকেলবেলাটায় যেন পুরোনো কোন কান্নার গন্ধ মিশে থাকে। এখানে এখন জন্ম-মৃত্যু-যৌনতা-নাগরিকত্ত্ব চাপা পরে থাকে ছেঁড়াফোড়া শুকনো পাতার মতন। পাথুরে মাটির গা বেয়ে উল্লাস আর বিষাদের লুকোচুরি খেলতে খেলতে ক্লান্ত হয়ে পড়া মূর্তি নদীর শীতল জলে পা দিলে, এই ক্ষরতপ্ত বসন্তের বিকেলবেলাতেও হালকা শীত শীত ভাব হয়। নদীর পশ্চিমের তট বরাবর ধানক্ষেত নেমে গেছে ধাপে ধাপে। এসময় বেশ অনেকক্ষণ ধরে বেশ অনেকটা ওপর থেকে, পরিশ্রমী চিলের আতসী চোখে মূর্তিকে দেখলে মনে হয়, অন্ধকারের গভীর থেকে উঠে আসা শীর্ণকায় এক বালুপথ! যেন ঋতুমতী নিঃসঙ্গ তরুণীটি! আশেপাশের পরিচিত সবকিছুর ছোয়াঁচ বাঁচিয়ে সে একাকী হেঁটে চলেছে দূরে, কিছু রঙিন ফুল আর সুগন্ধীর বন্ধুত্ত্বের আশায়। দিনের আলো শেষে বিকেলের ছায়াতেই অন্ধকার নামে একটু একটু করে। নোনাধরা দুপুরের শেষে নিষ্প্রাণ যৌবনের মতো একা তেতে পুড়ে শেষ হয়ে যেতে পারে এমন একটা জীবন অবশিষ্ট থাকে শুধু! ঠিক সেই রকম একটা জীবনকে সাথে করে আজ নদীর ধারে এসেছে কমলা। সেই জীবনের যে রং চোখে দেখা যায়, সেই রং নয় বরং চোখের আড়ালে গাঢ় হয়ে ঝিম ধরে যে রং সেই রং নিয়ন্ত্রণ করে বেঁচে থাকার ছলাকলা! এতক্ষণ ঠিক সেই রঙের পৃথিবীটাকে একটা কাঁচের বোতলে বন্দী করে তাতে চোখ রেখেছিল কমলা। এদিক সেদিক থেকে কিচির মিচির পাখির ডাক ভেসে আসছে। ওরা গান গাইতে চাইছে বোধহয়! ভালোবাসার গান! ঠিক তখনি তাকে আবার দেখা গেল! পরনের সেমিজটা হাঁটুর উপর গুটিয়ে, একটা সুরতি মোষের পিছু পিছু গোড়ালি জল ডিঙিয়ে মূর্তি পারাপার করছে সে। মূর্তি নদীর জলে বোনা ঝাপসা আয়নায় তার কোন স্পষ্ট ছায়া পড়ে না! তার পায়ে পায়ে খেলা করে যায় বোরোলি মাছের ঝাঁক! দৃশ্যটার ভেতর অনেকখানি মায়া, অনেকখানি জাগতিক মাদকতা লুকিয়ে থাকে যেন! সেদিকে দেখতে দেখতে বুঝি কমলার মনের ভেতর শিরশিরে বাতাস বয়! বুকের মাঝে অজস্র খঞ্জনি বেজে ওঠে ঝনঝন! সব আনন্দ যেন ঠেসে জমা হয়েছে দৃশ্যটায়! এ দৃশ্য যেন তার বহুদিনের চেনা। যেন এর আগেও কয়েক হাজারবার দেখেছে সে। তবু আজ আবার তাকে দেখে ছন্নছাড়াভাবে স্বাধীন হবার বোধটা বুঝি আবার সজীব হয়ে উঠলো কমলার মনের ভেতর। সে যেন দেখতে ঠিক সেরকম, যেমনটা সংসারের শুরুর দিনগুলোতে কমলাকে দেখতে ছিল। ডাগর ডাগর চোখ, ঈষৎ ভারী বুক, বাঁকানো চিবুক, ডিঙি নৌকার মতন মুখ। বহু কাঙ্খিত ঘুমের ভাব থেকে সরে আসা একটা নিষ্পলক চাহনি নিয়ে সে যেন ওকে ওর গতজন্মের কথা বলে। জীবনের অলিগলি, ভুলভুলাইয়া পথে হারিয়ে যাওয়া অতীত খুঁড়ে, স্বযত্নে তুলে আনে একখানা আধপোঁড়া স্বপ্নের ফালি। ওকে দেখলেই খুব ভালোবাসতে ইচ্ছে করে কমলার! কিরকম একটা বৃষ্টি শুরু হয় ভেতর ভেতর! প্রথমে ঝিরঝিরে, তারপরে আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে বেগ। মনে মনে বেজে ওঠে রংপুরী ভাওইয়ার সুর।

“মইষাল রে, তোর মইষের গলার ঘন্টি

বাজে ঠুন ঠুনাইয়া রে...

সেই ঘন্টির শব্দে মোর পরান

কান্দে উঠে গুমরাইয়া রে।“



কিন্তু তারপর আর সুর মেলে না, তাল কেটে যায়! চৈত্র শেষের ঝোড়ো হাওয়ায় অবিন্যস্ত হয়ে পড়ে তার জট পাকিয়ে যাওয়া রুক্ষ্ম চুল। তার খোঁপা থেকে নদীতে পড়ে ভেসে যায় গোলাপী রঙের এক নাম না জানা ফুল। কমলাকে দেখে সে মাঝনদীতে দাঁড়িয়ে পড়েছে ততক্ষণে। ঈষৎ স্তনভারে সামনের দিকে ঝুঁকে গেছে তার শরীর। অর্ধ উন্মীলিত বক্ষদেশের নীচে তার নির্মেদ কটিদেশ বেরিয়ে রয়েছে, শাল জঙ্গলে পথ হারানো ভীরু হরিণীর মতো! না সেখানে মাতৃত্ত্বের কোন চিহ্ন নেই! হাত দুয়েক দূরত্ত্বে মন্ত্রমুগ্ধের মতো স্থির দুটো মানুষকে জড়িয়ে ধরে, ধোঁয়ার কুন্ডলী পাকানো এই হিম হিম কালবেলায় রচিত হয় এক অসীম, অপার মায়ার মাধুকরী। ও সুমিত্রা! নামটা অবশ্য কমলারই দেওয়া। খুব ছোটবেলায় যখন কমলার মা মারা গেল বসন্ত রোগে সেদিন প্রথম ওকে দেখেছিল কমলা। তারপর থেকে বেনের পুতুল নাচের আসরে, কাউনিয়ার বাড়ির আনাচে কানাচে, একা পুকুর ঘাটে, সন্ধ্যেবেলা তুলসীতলায়, ঋতু আসার আগে বা খুব নিকটজনকে দাহ করে ফিরে অশুচী হয়ে যাবার সময়ে আবার নিকট পরিবার পরিজনের হাতে ‘খারাপ’ হতে গিয়ে, ওর নিজের না বলা কথায়, বলে ফেলা সব কথায়, স্মৃতির পাতা হাতড়ে, সব খানে কমলা শুধু তাকেই দেখতে পায়। যৌবনের প্রথম মিলন কামনায় চঞ্চলা কিশোরীর মতন প্রবল কামজ্বরে পুড়েছে কমলা ওকে ঘিরে। ওদের দেহতাপে পুড়ে গেছে সেই গৃহস্থ দুপুরগুলো! আজও রাতের অন্ধকারে যখন ওর শোবার ঘরে বাঁধ ভাঙা রতির সন্ত্রাস চলে, ওর যোনিদেশে আঁকা হয় ভবিষ্যৎ নাগরিকত্ত্বের স্থায়ী বন্দোবস্ত, যখন ওর বুকে হৃৎপিণ্ডের দৌড়োনো বেড়ে যায় প্রায় দুন্দুভি শব্দের বেগে, ওর নিম্নাঙ্গে ধেয়ে আসে রাতনিবিড়ের নিটোল চাকভাঙা মহুলের গন্ধতরল, ঠিক সেই সময় কাঁপা কাঁপা আলোয় তাকে প্রহেলিকার মতন ঘরের এককোণে বসে থাকতে দেখেছে কমলা! প্রেমিক চোখে ওর নাভির গভীরে আলতো জিভের ছোঁয়ায় দেশ-কাল-মানুষের মানচিত্র আঁকতে দেখেছে! সম্ভোগ শেষে হীরেন ওকে ছেড়ে দেবার পর ওর যন্ত্রণাক্লিষ্ট শরীরটার পাশে এসে বসেছে সুমিত্রা। ওর বিবশ শরীর জুড়ে বুলিয়ে দিয়েছে ময়ূর পালক। উন্মুক্ত জিহবা দিয়ে চেটে নিয়েছে ওর সব রক্ত-স্বেদ-বেদনা-ক্লান্তি! নরম হাতের পরশে ওর চোখ জুড়ে নেমে এসেছে বহু কাঙ্খিত হেমন্তের রাত! ঠিক যেন ওর মায়ের স্পর্শ! ওর কানে কানে এসে সে শুনিয়েছে, ছেলেবেলায় কমলার বাবার গলায় শোনা গাড়িয়ালের গান,

“ও মুই নাই ওর আর না জাইম গাড়িয়াল

তোমার গাড়িত চড়ি।

তোমার গাড়ির হাঙরাত বাজি

ছিরি গেইল মোর বিয়ার শাড়ি।”



সুর, গান এসব কমলার রক্তে! ওর বাবা নিজেই কত ভাওইয়া রচনা করেছেন! সুর দিয়েছেন! তা হয়তো কোথাও লেখা-জোকা নেই। মানুষের মুখে মুখে ঘুরে ঘুরে প্রচলিত তকমা পেয়ে গিয়েছে। কামতাপুরের আকাশ, বাতাস, ভাষা, লোকগানের সুর, পাখির শিস এই সব কিছুর ওপর ওদের আকণ্ঠ ঋণ! তাই তো মাতৃসম ভাষার বঞ্চনার বিরুদ্ধে গিয়ে নিজেদের দেশ গড়ার জন্য বাপ বেটায় মিলে সুর ছেড়ে বন্দুক নিয়েছিল হাতে। পুলিশের গুলি খেয়ে লাশ হয়ে ভেসে গেছিল বুড়িবাসরার জলে। দেশ বানায় মানুষ, মানুষই মানুষের স্বাধীনতার সীমানা বাঁধে! সেই মানুষ আবার সুরও তো বাঁধে! সুরের সাথে মিলেমিশে যেতে পারলে মানুষ নদী হয়ে যায়! স্রোতের মতন ঝর্ণা হয়ে গড়িয়ে পরে এক দেশ থেকে অন্য দেশে! খুব তীক্ষ্ণ একটা পাখির শিস ভেসে আসছে এখন। সুরটা বড় চেনা লাগে কমলার। ইষ্টিকুটুম! দূরের সজনে গাছে পাতায় মোড়া পিঁপড়ে বাসা, হাওয়ায় দোল খাচ্ছে ফুটবলের মতন। আগত বৈশাখের রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শ এসব উপলব্ধি করে জঙ্গলের বুকে গাছেরা নতুন পাতা বোনার সুর তোলে। সময়ের বাঁকে গোত্তা খেয়ে সে সুর হয়তো জঙ্গলেই হারিয়ে যায়! সাধারণ মানুষের কান অবধি এসে পৌঁছয় না। তবু তো এ পৃথিবীতে সবই তৈরী হয়, দুঃখ-আনন্দ-হাসি-জন্ম-মৃত্যু-উৎসব! সব কিছু! নদীর বুকে কোন শ্রমজীবী জল ছেঁচে পাথর তুলছে এখন! এতে করে হয়তো মূর্তির বুক পরিষ্কার হবে! স্রোত আসবে! কমলা সুমিত্রা এখনও মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। মাঝে হয়তো সাদা দেওয়াল! বেপরোয়া প্রেমিকার মতন দুহাত দিয়ে সে আচ্ছাদন সরিয়ে নদী-মাঠ-পাহাড়ের আহবান নিয়ে সুমিত্রায় মিশে যেতে ইচ্ছে করে কমলার! যেন ওর আমি মিশে যাবে ওর নিজের আমিতেই! যেমন নদী গিয়ে শেষ হয় বড় নদীতে কিংবা শেষমেশ বাউল আঁকড়ে ধরে নিজের দোতারাকেই!

“কালা তোর দোতরার ডাং

কালা তোর ভাওইয়া গান

উরাং বাইরাং মোর মন থাকিবার না পারে

ও কালা রে..”



আজ এতক্ষণে নিশ্চয়ই ওদের ঝুপড়িটা ঘিরে আবার একটা জটলা জুটে গেছে। প্রতি দুপুরের মতো এই দুপুরেও ঝুপড়িতে ওদের ঘরে একাই ছিল কমলা। মাটিতে কোলেরটাকে শোয়ানো ছিল। আজ সকাল থেকে সেটা চিল চিৎকার করে কান্না জুড়েছে। বারবার চেষ্টা করেও তাকে থামাতে পারেনি কমলা। এখন ওর বুকে আর এক ফোঁটাও দুধ নেই! ভয়ংকর বেসুরো ওটা! ভয়ংকর বেতালা! লয়ের সাথে লয় মেলে না মোটে! সোম এ পড়ে যায় ফাঁকি! বড় ছেলেটা বাকিগুলোকে নিয়ে ইস্কুলে গেছে। ওদের মধ্যে তিনটে তিন ‘কেলাসে’ পড়ে আর বাকিগুলো ইস্কুলের বাইরে বসে থাকে, মিড ডে মিলের জন্য। হীরেন গেছে বিট অফিসে। এই সুডৌল বসন্তে নিজের কঙ্কালসার শরীরে নিদারুণ স্তন্যহীনতা আর অন্যদিকে খিদের জ্বালায় দুগ্ধপোষ্যের বিষম চিৎকার এই দুয়ের মাঝে পড়ে দিশেহারা হয়ে গেছিল কমলা। ওটাকে চুপ করাতে দুহাতে সজোরে ওর গলাটা চেপে ধরেছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই একেবারে চুপ! যেন রক্তচক্ষু দিয়ে শ্বাস রোধ করা হল ক্ষোভের! যে কোনো মৃত্যুই চাপাকান্নার শব্দ বয়ে নিয়ে আসে। কোথাও মৃত্যু হয় একটা গোটা জন্মেরই! কমলা এখন নির্বাক! ওর চোখে জল কিন্তু চেতনায় কোথাও শোক নেই হয়তো! ওর গলার কাছে দলা পাকিয়ে আছে মুক্তিহীন, অবসরহীন, অগোছালো দৃশ্যেরা। কাউনিয়ার সবুজ ধানক্ষেত, আলের উপর দিয়ে ছুটে চলে দুইটি মেয়ে, দেখতে হুবহু এক! ইন্ডিয়া থেকে বয়ে আসা সরু নদীগুলোয় ঝাঁপায় তারা অহরহ! সাঁতরে চলে যায় ওপারে। সর্ষে ক্ষেতের ভেতর দুজনে জড়াজড়ি করে শুয়ে থাকে সারা বেলা। দূরে মুখ তুলে দেখে ইন্ডিয়ার বর্ডার, বিএসএফ এর চেকপোস্ট। সন্ধ্যেবেলা বাড়ি ফিরে আসে তারা ছায়াঘেরা সবুজ বাঁশবনের ভেতর দিয়ে। তুচ্ছ বেঁচে থাকা ও মরে যাওয়ার মাঝে, গৃহহীন, রাষ্ট্রহীন ওই দুইজন কান পেতে থাকে রাতের তারার দিকে। সুরেলা মিঠে বাতাসে কোমল নিষাদের মতন তখন ভেসে আসে অনাম্নী কোন সাধকের গাঁথা বিনিসুতোর ভাওয়াইয়া,

“উড়িয়া যায় চখুয়ার পঙ্খী বগীক বলে ঠারে

ওরে তোমার বগা বন্দী হইছে ধল্লা নদীর পারে রে।

ফান্দে পরিয়ে বগা কান্দে রে..”



জঙ্গলে এখন বৃষ্টি নেমেছে হঠাৎ করেই। অবিরাম বৃষ্টি! মূর্তির শীর্ণ শরীরে যেন হঠাৎ করে বান ডেকেছে! অনুভূতির দুর্বলতম জায়গায় গভীর আঘাত পেয়ে এক মাঝি নদী পাড়ে হাপুস নয়নে কাঁদতে বসেছে! বৃষ্টির তোরে তার নৌকাখানা ভেসে গেছে। জঙ্গলের পাখিদের ডানার পালক ভিজে ভারী হচ্ছে ক্রমশঃ। অসুখের দুঃখ, অন্যায়ের দুঃখ, বঞ্চনার দুঃখকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রেখে একটা নতুন জন্মকে আর নিজের পরিচয়ের দলিল বানাতে এখন নারাজ কমলা। সে চাইছে পাখি হয়ে বাঁচতে শুধু বাঁচার আনন্দে।
....................................



শাশ্বত বোস

শাশ্বত বোস
ডাক্তার বাগান লেন
পোস্ট- মল্লিকপাড়া
শ্রীরামপুর,হুগলী
পিন -৭১২২০৩











Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির

ধাঙড় মোঃ চাঁন মিয়া ফকির           বাংলাদেশে অনেকগুলো জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে | সাধারণভাবে বাংলাদেশী বলতে আমরা বুঝি দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী বা অধিবাসী জনগণ | বাংলাদেশের সংবিধানের ৬ ধারার ২ উপধারায় বলা হয়েছে যে , বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন | বাংলাদেশীদের মধ্যে রয়েছে বাঙালি এবং কিছু উপজাতি , নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় , বিভিন্ন সময়ের শাসক শ্রেণি কর্তৃক আনিত ও বাঙালি কর্তৃক আনিত শ্রমজীবি , পেশাজীবী সম্প্রদায় |         ধাঙড় (মেথর/ঝাড়ুদার/হরিজন) একটি পেশাজীবী সম্প্রদায় | তারা শহর , বন্দর , গঞ্জ ও জনবহুল (রেলস্টেশন/বাসস্টেশন) এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ময়লা , আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজে পেশাদার শ্রমজীবি হিসেবে কাজ করে | স্থানীয় হাট বাজারে এদেরকে ভূঁইমারি বা ঝাড়ুদার বলা হয় | সমাজে ধাঙড় বা মেথরদের অবস্থান ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , ˆ বশ্য এবং শূদ্রের বাইরে পঞ্চম হিসেবে তারা অস্পৃশ্য | এদের পর্যায়ে আরো আছে চামার , কামার , কুমার , জেলে , ব্যাধ , জোলা , ডোম যাযাবর ইত্...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। বাঙালি বিজ্ঞানী গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ।। অনিন্দ্য পাল

  বাঙালি বিজ্ঞানী গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য  অনিন্দ্য পাল  "ডুগডুগি বাজালেই ছেলেরা সেখানে ছুটে যায় ... কেউ কেউ উলঙ্গ হয়ে চলে আসে। কোনও খেয়াল থাকে না। সেরকম আপনারাও তাদের টেনে আনুন - বিজ্ঞানের ডুগডুগি বাজিয়ে। যা শিখেছেন, বিজ্ঞানের যে খবরটি পড়েছেন সেগুলিকে তাদের কাছে নিয়ে যান ... এতে মানুষের কল্যাণ হবে, দেশের উন্নতি হবে। "--এই মন্তব্য যার, বাঙালি তাকে এখন ভুলতে বসেছে। তিনি বাঙালি বিজ্ঞানী গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য। আত্মপ্রচারবিমুখ এই প্রকৃতি বিজ্ঞানী একদিকে যেমন আজীবন খুব কম আয়োজনে বিজ্ঞান গবেষণা করেছেন তেমনি বিজ্ঞানের কঠিন ও জটিল বিষয় গুলোকে সহজ সরল ভাবে সাধারণ মানুষের উপযুক্ত করে প্রকাশ করেছেন, যাকে বিজ্ঞান- সাহিত্য বলাই যায়।  গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্যের বিজ্ঞানী হয়ে ওঠা আসলে একটা সংগ্রামের ইতিহাস। প্রথাগত শিক্ষায় ম্যাট্রিক পাশ হলেও বিজ্ঞান চর্চার একটা নতুন দরজা খুলে দিয়েছিলেন। ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে আইএ তে ভর্তি হলেও আইএ পাশ করা হয়ে ওঠেনি।  সংসার চালানোর জন্য স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নিয়ে আবার জন্মভূমি ফরিদপুরের লোনসিং এ। প্রথমে পাশের গ্রামের পাতিসার হাইস্কুলে তা...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী দীর্ঘ গ্রহণকাল  এ যেন এক দীর্ঘ গ্রহণের কাল     নিকষ কালো অন্ধকারে   ডুবছে সবটুকু....   চারিদিকে পড়ে আছে  ধ্বংসের চিহ্ন ইতস্তত  আলো ডুবে গেছে কোন সে ধূধূ..... কত শত খোলস  নিত্য খসছে সরীসৃপের গমনাগমনের পথে.... বসতি ছেড়ে গড়ে উঠছে সরীসৃপেরই বসতি দিনে-রাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণকালের সাথে!! ফাঁদ হিংসার লেলিহান শিখায়  পুড়ছে ঘর-বার, সমাজ-সংসার,  দগ্ধ অন্তর.... রঙিন পসরায় লহুর নিশান    জীবন দুস্তর,     যাপন যাযাবর....  জয়-পরাজয়ে ত্রাসের আবহ    বাড়ছে লাশের বহর,     জুড়ে মাঠ-ঘাট প্রান্তর.... তুমি-আমি আজ ফাঁদে বন্দী     না জানি কার শিকার!      কি হবে অতঃপর.... অলীক অপেক্ষারা  ...

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল  শীতল জলের বাঁধ তুমি তো কোন মানবী নও তুমি শীতল জলের বাঁধ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তৃষ্ণার্ত চিত্তে পান করি অবাধ। ভালোবেসে আবার মুক্তও করি অলিখিত এক ধারায় সিক্ত করো চরাচর তবু ফিরে এসে ডাকো না আর আমায়। তোমার আকাশে উড়ে বেড়ায়  দুরন্ত পানকৌড়ি ডুবে ডুবে সে খুঁজেও নেয় নীরব ভাষার সুগন্ধি মৌরি। আরো কত অজানা নামে কাটায় দীর্ঘ দিন শীতের দিনের একটি বেলায় দেখা হলো, বেহিসাবী ঋণ। চমক ভাঙে নৌকা বিহারে দোদুল্ল্যমান বেশ যতবার মনে পড়ে তোমায় তুমি থাকো বিশেষ। অকাল বর্ষনে অকাল বর্ষনে বজ্র বিদ্যুৎ সঙ্গে নিয়ে  কে তুমি ডাকো? একলা পথে ভিজে রোদ্দুরে লজ্জা শরমের বালাই না রেখে  অসহায় আত্মসমর্পণ। কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে গন্তব্যে স্থির উচ্ছ্বসিত আবেগ  ফুলের গন্ধে বুদ হয়ে থেকেও  আপন মনে কাজ করে চলে। ঝড়ে কাঁপা...

তিনটি কবিতা ।। সোমনাথ লাহা

তিনটি কবিতা ।। সোমনাথ লাহা নৈঃশব্দ্যের ছায়া লুপ্ত জীবনের উঠোন ছেড়ে, শুদ্ধতায় বাঁধা পড়তে চাইছে মন— ভারহীন পৃথিবীর বুকে গণতান্ত্রিক মায়ায়। প্রবেশ ও প্রস্থানের সিঁড়িপথ বেয়ে খুঁটি গেঁড়ে, পিছনে তবু রয়ে গিয়েছে নৈঃশব্দ্যের ছায়া। নির্ভেজাল খরস্রোতা পাহাড়ের গা বেয়ে আসছে; দুঃখ এখনও, জন্মবধি, দাঁড়িয়ে রয়েছে কাঠগড়ায়। সহজাত নিপুণ হাতে আলাদা করছি প্রস্তরখণ্ডের জাল, মাইলফলকের ভিতরে এখনও রয়ে গিয়েছে নৈরাজ্য। রঙিন আলোর ভিতরে জমাট বাঁধছে অন্ধকার! গন্তব্যের রণভূমির বুকে শব্দের সমাবেশে, নিরাময়ের অনন্ত স্পর্শে রয়েছে ভারসাম্যের সমাধান। উত্তরণ বিরাট শূন্যতার মাঝে খুঁজে বেড়াচ্ছি— সুস্পষ্ট পথের ঠিকানা নিরন্তর… গোলকধাঁধা পেরিয়ে, আকাশের দিকে মাথা তুলে, খড়কুটো ধরে নিজের কাছেই পেতেছি দু’হাত। নশ্বর দুনিয়ায় খুঁজে বেড়াচ্ছি প্রত্যাশার বীজ; পটপরিবর্তনের ভাঙা রূপকথার মাঝে দাঁড়িয়ে— পাতার শব্দ শুনে, অনন্তকালের অন্তহীন পথ চলছি। হারানো অতীত এত বিষণ্ন, অস্বচ্ছ হয়! অস্তরাগের বলিরেখায় দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে আরেকবার মেঠোপথ ধরে দিকশূন্যপুরের দিকে নতুন করে শুরু কর...

তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল

  তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল নবপ্রভাত কথা  আমি জন্মেছিলাম এক সাহিত্য প্রেমির বাড়ীর বারান্দার এক কোণে। বাড়ছিলাম একান্ত অবহেলায় একটু একটু করে তার চোখের সামনে; বারান্দায় পড়তে পড়তে সেই সাহিত্য প্রেমি হঠাৎ চেয়ে থাকত আমার পানে কি যেন ভাবতো আর খাতায় লিখে যেত অনর্গল, বোধহয় আমাকে নিয়ে। একদিন কি খেয়ালে সে আমাকে সাজালো রঙিন করে সাহিত্যের রঙে আমি হলাম খুশী, সে কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমাকে দেখে পেল খুব আনন্দ। পরে আরো কিছু সাহিত্যপ্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে গড়তে চাইলেন এক পরিবার তারা সব কিছু দেখে শুনে সংস্কৃতির পরিসরের আশায় রাজী হলেন সানন্দে। ঠিক করলেন তারা গল্প কবিতা প্রবন্ধ দিয়ে ভরিয়ে তুলবেন আমার পাতাগুলি। তারপর সাহিত্যিকরা আলোচনা করে আদর করে আমার নাম দিল নবপ্রভাত। ভাল ভাল লেখকদের ভাল ভাল লেখায় উৎকর্ষতা বাড়তে থাকলো আমার, বছর বছর আমি বড় হতে লাগলাম, তার সাথে আমারো নাম হতে থাকলো, সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের মাঝে আমি পরিনত হলাম এক মহীরুহে অন লাইনে ছড়িয়ে পড়লাম আমি সবার মাঝে, দিকে দিকে বহু পাঠক হলো বইমেলায় জায়গা পেল আমার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকারের বই বছর বছর। থরে থরে সাজান হয় সেসব ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,