ভূতের ডাক
মনিকা চট্টোপাধ্যায়
একটা অদ্ভুত ঘটনা বলি—এই গল্পটা আমাদের গ্রামের পাশের এক পুরোনো জমিদার বাড়িকে নিয়ে।
আমাদের গ্রামের নাম সবুজগ্রাম। সেখানে একটা বহু পুরনো জমিদার বাড়ি ছিল। সারাই- এর অভাবে জমিদার বাড়িটা ভেঙেচুরে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছিল | দিনের বেলায়ও কেউ সেখানে যেত না, আর রাতে তো প্রশ্নই ওঠে না। লোকজন বলত, সেখানে নাকি এখনও জমিদারের আত্মা ঘোরে।
একদিন শহর থেকে সমীর নামে গ্রামে এক ছেলে এলো। সে ভূতে বিশ্বাস করত না। গ্রামের লোকদের ভয়কে সে কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দিল। তাই এক রাতে সে ঠিক করল—জমিদারবাড়িতে গিয়ে থাকবে।
রাত তখন প্রায় বারোটা। আকাশে চাঁদ নেই, চারদিক নিস্তব্ধ। সমীর একটা টর্চ আর মোবাইল নিয়ে ঢুকে পড়ল ভাঙা জমিদার বাড়িটার ভেতর। ভাঙা দরজা ক্যাচ ক্যাচ আওয়াজ করে খুলে গেল।
ভেতরে ঢুকেই সে একটা ঠান্ডা হাওয়া অনুভব করল। যেন কেউ খুব কাছে দাঁড়িয়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। তবুও সে নিজেকে সামলে নিল।
হঠাৎ করেই ওপরতলা থেকে “ঠক… ঠক… ঠক…” শব্দ ভেসে এল।
সমীর ভাবল, হয়তো ইঁদুর বা বাতাস। সে ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে লাগল।
উপরে গিয়ে সে দেখল একটা দরজা আধখোলা। দরজাটা ঠেলে খুলতেই—তার টর্চের আলো পড়ে একটা পুরোনো আয়নার ওপর। আর সেই আয়নায়… সে নিজের পেছনে আরেকটা ছায়া দেখতে পেল!
সে ঘুরে তাকাল—কেউ নেই।
আবার আয়নার দিকে তাকাতেই ছায়াটা আরও কাছে!
হঠাৎ পিছন থেকে একটা কর্কশ গলা— “ কে এখানে?”
সমীরের শরীর কেঁপে উঠল। সে ধীরে ধীরে পিছনে ঘুরল।
একজন বৃদ্ধ, ধবধবে সাদা পোশাক, চোখ দুটো অস্বাভাবিক জ্বলজ্বল করছে।
“আমি… আমি…. শুধু দেখতে এসেছি,” সমীর কাঁপা গলায় বলল।
বৃদ্ধ হেসে উঠল—একটা শীতল, অদ্ভুত হাসি।
“অনেকেই দেখতে আসে… কিন্তু সবাই ফিরতে পারে না।”
হঠাৎ চারদিকের ভাঙ্গা দরজা-জানালা নিজে নিজেই বন্ধ হয়ে গেল। টর্চটা নিভে গেল। ঘর অন্ধকার।
সমীর দৌড়াতে লাগল, কিন্তু মনে হলো সে একই জায়গায় ঘুরছে।
আর সেই গলাটা বারবার বলছে— “থেমে যা …. থেমে যা….”
পরদিন সকালে গ্রামের লোকেরা জমিদারবাড়ির সামনে সমীরের মোবাইলটা খুঁজে পেল।
তারপর খোঁজাখুঁজি করতে করতে এই জমিদার বাড়ি পেছনদিকে সমীরকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া গেল | তাকে সবাই তুলে নিয়ে এসে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করল |
সমীর সুস্থ হওয়ার পর আর গ্রামে থাকতে রাজি হলো না | তবে যাওয়ার আগে সেদিন রাতে এই গল্পটা এই গল্পটা সবাইকে বলে গেছিল।
এরপর থেকে লোকজন বলে—রাতে জমিদারবাড়ির ভেতর থেকে মাঝে মাঝে একটা নতুন গলা শোনা যায়—
“কে আসবি আয় …. আয়?”
তবে কারো সাহসে তুলনা গিয়ে সেখানে দেখবে যে কে ডাকছে।
—-------------------
মনিকা চট্টোপাধ্যায়
উত্তম ঘোষ লেন, সালকিয়া, হাওড়া - ৭১১১০৬

Comments
Post a Comment