ভ্রমণের গল্পগাছা
ঝরণার গান শুনতে
অরুণ চট্টোপাধ্যায়
সুরের এই ঝর্ণাধারাঃ
“সুরের এই ঝর ঝর ঝরনা
ঝরনা হায় মরি হায় মরি হায় রে
ঝরনা ঝরে রে
ফুলের এই গুন গুন গুঞ্জন
দুজনায় যাই চলি যাই চলি যাই রে
রহে না ঘরে রে
ঝরনা ঝরে রে রহে না ঘরে রে
ঝরনা ঝরে রে রহে না ঘরে রে...”
না, এই গানটি বর্তমানের এই লেখকের নয়। সকৃতজ্ঞে সে ধার নিয়েছে বিখ্যাত সুরকার সলিল চৌধুরীর কথায় ও সুরে সবিতা চৌধুরীর গাওয়া এককালের একটি বিখ্যাত গানের কতগুলি মন আলোড়ন করে দেওয়া পংক্তি থেকে। ঝরণার এই গান যেমন মনকে দুলিয়ে দিয়ে যায় মন মাতানো ছন্দে তেমনি দুলিয়ে দিয়ে যায় ঝরণা নিজেও। আজ তাই বলব দুটো বিখ্যাত ঝরণার কথা। যারা অবস্থিত উড়িষ্যার সিমলিপাল জঙ্গলে। জঙ্গল কথাটা শুনলে অনেকে ভয় পেয়ে যায়। তাই এখন থেকে নাহয় ফরেস্ট কথাটাই ব্যবহৃত হবে।
৭ নভেম্বর,
দুপুর পৌনে তিনটে নাগাদ ধরেছি হাওরা-পুরী শতাব্দী এক্সপ্রেস। ঘন্টা তিনেক বা তার কিছু পরে গিয়ে পৌঁছেছি বালাসোর বা সাবেক বালেশ্বর স্টেশন। স্টেশনে থেকে বেরিয়ে গাড়ি ধরে নিই। দারুন রাস্তা। এটির নাম মুম্বাই রোড। এর উৎস কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া। এই রাস্তায় গাড়ি তেমন চোখে পড়ল না অথচ রাস্তা বিরাট চওড়া আর মসৃণ। দুপাশে বৃক্ষরাজি। পরিবেশ ভারি সুন্দর আবার তাতে সন্ধ্যার অন্ধকার আর স্নিগ্ধ বাতাসে ভরপুর।
রাত আটটা নাগাদ এলাম মুম্বাই কোলকাতা হাইওয়ের পাশে একটা বিশেষ স্থানে।। বংরিপোসির খৈরি রিসর্টে। এর ঠিক পাশ দিয়েই বয়ে গেছে খৈরি নদী তাই হয়ত এই নাম। এখানে আজ রাতটা কাটিয়ে কাল ভোরেই রওনা হতে হবে সিমলিপাল ফরেস্টের দিকে।
বাংলো খুব সুন্দর। ঘর বিরাট। সুন্দর ডিনার। তবু গরম, মশা আর নতুন জায়গা বলে রাতে আমাদের তেমন ঘুম হল না। ঘুমের ঘোর, ছেঁড়া ছেঁড়া ঘুম আর স্বপ্ন এই সব নিয়ে দিয়েই কেটে গেল রাতটা। ভোরে উঠে যাত্রা শুরুর প্রস্তুতি।
৮ নভেম্বর,
সুন্দর ব্রেকফাস্ট করে সকাল আটটা নাগদ সিমলিপাল ফরেস্টের দিকে রওনা হওয়া গেল। কিছুদিন আগেই বেশ একটা বিরাট ঝড় বয়ে গেছে। তাই গত ঝড়ের ক্ষতিতে পিঠাবাটা গেট আপাতত বন্ধ। তাই আমাদের আরও অনেক বেশি কিছুটা গিয়ে যোশিপুর দিয়ে ঢুকতে হবে। পিঠাবাটা গেট দিয়ে ঢুকলে যেমন দূরত্ব কম হত তেমনই সরাসরি গভীর জঙ্গলে ঢোকা যেত।
সিমলিপালের কিছু পরিচয়ঃ
সিমলিপাল প্রধানত বাঘের অভয়ারণ্য মানে টাইগার রিজার্ভ ফরেস্ট। তাই পর্যটকদের বিশেষ অনুমতি নিয়েই প্রবেশ করতে হয়। নামে ব্যাঘ্র সংরক্ষণ বলা হলেও এই বনে পাওয়া যায় আরও কিছু পশু। জঙ্গল ঘুরতে যাওয়ার অর্থই তো বন্যজীবন দর্শন। তাই প্রাকৃতিক শোভার সঙ্গে বন্যপশুদের দেখার আশা যথাযথ।
তাছাড়াও আকর্ষণ আরও কিছু আছে। এখানে আছে বেশ কয়েকটি জলপ্রপাত। উল্লেখযোগ্য পাঁচটি জলপ্রপাত যেমন উস্কি, বরেহিপানি, জোরান্ডা, দেবকুন্ড আর সীতাকুন্ড। আমাদের পক্ষে অবশ্য মাত্র দুটি ছাড়া আর কিছু দেখা সম্ভব হয় নি। পিঠাবাটা দিয়ে ঢুকতে পারি নি তা আগেই বলেছি। আমরা যেদিক দিয়ে ঢুকেছি তার কাছাকাছি পড়েছিল প্রথম দুটি জলপ্রপাত উস্কি আর বহেরেপানি। বাকি তিনটি দেখা সম্ভব হয় নি দূরত্ব আর সময়ের জন্যে।
এখানে চারটি নেচার পার্ক আছে। কুমারী, গুরগুরিয়া, বহেরিপানি, রামতীর্থ ও জামুয়ানি। এই সমস্ত প্রাকৃতিক অবস্থানগুলি এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ আর আবহাওয়া অনুযায়ী খাবার ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করে। তাই খাদ্য আর বাসস্থানের জন্যে নেচার পার্কগুলির আশ্রয় নেওয়াই শ্রেয়। তাছাড়া জঙ্গল অঞ্চল এত বড় যে বাইরে বেরোতেই বেশ কয়েক ঘন্টা লেগে যায়। তাই একবার জঙ্গলে এসে আবার বাইরে বেরিয়ে আবার ঢোকা সম্ভব নয়।
খৈরি নদী আমাদের পাশে পাশেই চলছে। তাকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি বেশ আনন্দে। মাঝে মাঝে নেমে তার পাশে বসছি, তার সঙ্গে কথা বলছি আর তার গান শুনছি। নদী যে এখানে খুব গভীর তা নয়। তবে সবে পাহাড় থেকে নামার উৎসাহে উচ্ছ্বল বড়। তাই বইছে সে নাচের ছন্দে ছন্দে কুল কুল শব্দ করে। তাল লয় সব ঠিক থাকছে কিনা জানি না তবে ছন্দটা বড় সুন্দর আর মনোহর।
জঙ্গল পথ মসৃণ তেমন নয়। তবে এখানে এখনও ততটা বন্ধুর হয় নি এটাতেই আমরা নিরুদ্বিগ্ন থাকলাম। আপাতত আমাদের গন্তব্য কুমারী গ্রাম। আর তার অন্তর্গত নেচার পার্ক। অবশেষে বেলা সাড়ে এগারটা নাগাদ আমরা পৌঁছে গেলাম আমাদের বুক করা রিসর্টে। ফোন করে যদিও লাঞ্চ রেডি রাখতে বলা হয়েছিল। খেয়েই জঙ্গলে ঘুরতে যাবার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তাই জঙ্গলে ঢুকতে দেরি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা হয়ত ছিল না।
রিসর্টে ঢোকার মুখে আমাদের এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছিল। বলা বাহুল্য হয়ত যে এই পরিস্থিতি যদিও একটু নতুন আমাদের কাছে তবু এটি আমাদের মনে বেশ প্রীতি আর সৌহার্দের বাতাবরণ উপস্থিত করল। এখানকার প্রথা অনুযায়ী এরা পুষ্প, ধান-দূর্বা, চন্দন ইত্যাদি দিয়ে শঙ্খধ্বনি সহ অতিথিদের বরণ করে।
সেই উপভোগ্য অনুষ্ঠানের পরে আমরা কুটিরে গিয়ে আমাদের চান টান ইত্যাদি করে নিলুম। তারপর বেরোতে বেরোতে বারোটা হয়ে গেল। বন্যকুটিরে এদের সুসজ্জিত ডাইনিং কাম কিচেন। সুভোজ্য মহ্যাহ্ন পর্ব শেষ করে গাড়িতে উঠি।
এবার জঙ্গলেঃ
ঘড়িতে তখন সাড়ে বারটার আশেপাশে। গাড়ি জঙ্গলের দিকে রওনা হয়ে গেল। আমাদের গাড়ি রিসর্ট ছেড়ে এবার বেরিয়ে এল একেবারে মেঠো আর বন্য রাস্তায়। একেবারে তাজা রক্তের মত টকটকে লাল রঙ সেই মাটির। যতই যেতে লাগল পথ আরও হতে লাগল বন্ধুর। রাস্তা এত খারাপ বলেই কোনও ছোটো গাড়িকে অনুমতি দেওয়া হয় না এই রাস্তায়। তেমন বড় আর শক্তপোক্ত গাড়ি না হলে উল্টি খেয়ে গাছের গুঁড়িতে ঠুকে বা খাদে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।
বেশ কিছুদূর যাবার পরেই দেখা গেল উস্কি (Uski) নামের বোর্ড। তার পাশ দিয়ে পথ। গাড়ি এখানে রেখে সেই পথ বেয়েই আমাদের চলতে হবে। কিন্তু এতই বন্ধুর যে চলা বেশ দুঃসাধ্য। পথটি ক্রমে আরও দুর্গম হতে লাগল আর মাঝে মাঝে জঙ্গলের ফাঁক দিয়ে দিয়ে উস্কির গর্জনময় উপস্থিতি দৃশ্যমান করে তুলতে লাগল। মনে তবে আশার একটু ঝলকও যে আমাদের দর্শনীয় প্রথম ঝরণা দেখা গেল।
প্রচন্ড দুর্গম পথের মাঝখানে যে আদৌ উস্কি আমাদের দেখা দিচ্ছে কিনা ঠিক বোঝা যাচ্ছিল না। ভাবছিলাম যেটুকু দেখেছি সেই হয়ত সবটা। কিন্তু সে ভুল ভাঙ্গল যখন আমরা একটা এমন রেলিং ঘেরা জায়গার সন্ধান পেলাম যার মাত্র হাত কয়েক দূরেই উচু আকাশ থেকে ঝরুণাটা যেন তড়াক করে লাফিয়ে পড়ছে। তার ভঙ্গি আর গর্জন শুনে তাকে বিশাল এক সিংহের সঙ্গে তুলনা করাটা মোটেই অযৌক্তিক হবে বলে মনে হয় না। মূল প্রবাহের আশেপাশে শাখা-প্রবাহগুলিকে অনায়াসেই সেই ঝর্ণা-সিংহের কেশর বলে ধরে নেওয়া যেতেই পারে।
বিশাল তার চেহারা কিন্তু মনোরম তার ভঙ্গি। এই দর্শন আমাদের বেশ প্রীত করল। হ্যাঁ একটা দর্শনের মত দর্শন বটে। ঝর্ণা দেখেছি এর আগে অনেক। যেমন দেখেছি গিরিডির উশ্রী। তার ডাক মনে রেখেছি এখনও। যোজন দূর থেকে শোনা গেছে তার সিংহ গর্জন। যখন কাছে যাবার চেষ্টা করেছি তখন কে যেন কান চেপে ধরে বলেছে আর কারোর কথা নয়। শুধু শুনবে আমার কথা। আমার গর্জন। শুধু তাই নয় তাই নেমে আসা জলের ধারা পাথরে পাথরে ধাক্কা খেয়ে রেণু রেণু হয়ে মিশে যাচ্ছে বাতাসে। আমাদের গা আর মন দুই ভিজিয়ে দিচ্ছে।
কিন্তু এখনও কিছু বাকি আছে আসল দৃশ্যের। মানে আমাদের এই ভ্রমণ-দৃশ্যের। এই পর্বের সেই দৃশ্য হল এর থেকে বড় এক ঝর্ণার দেখা পাওয়া। কাজেও বড় আর নামেও। নাম তার বরেহিপানি। যদিও ওড়িয়া ভাষায় বরেহি মানে দড়ি বা rope. তখনও বুঝি নি তার আসল নামমাহাত্ম। বোঝা গেল কিছু পরে যখন সময় এসে আমাদের দাঁড় করিয়ে দিল তার ঠিক পাশেই। দুজনে আছি দুই পাহাড়ে।। মাঝে এক বিরাট খাদের দূরত্ব। দূরত্বের এই বিরাট পরিসর হয়ত প্রকৃতিই করে দিয়েছে তাকে ভালো করে দেখার সুযোগ দেবার জন্যে।
তখন দুপুর প্রায় তিনটে। উস্কি থেকে বেরিয়ে প্রায় এক ঘন্টার ওপর লেগেছে আমাদের এই বরেহিপানিতে আসতে। যদি না জলের গতি বোঝা যে্তো বা শব্দ কিছুটা না শোনা যেতো, তবে দূর থেকে এটাকে একটা ছবি বলেই মনে হত। উস্কির মত তার একক সত্ত্বা নেই। কারণ বহুধা বিভক্ত হয়ে সে পড়ছে। আর সেই বহু ধারা আবার যেন একটার সঙ্গে আর একটা গাঁট বেঁধে নেমে চলেছে। এবার ওড়িয়া ভাষায় এই ‘বরেহি’ কথাটার তাৎপর্য সম্যক বোঝা গেল। কিছুটা যেন মেয়েরা আগে যেমন করে চুলে গাঁট দিয়ে বিনুনি তৈরি করত তেমনই। অর্থাৎ জলধারা তেমনভাবেই বিনুনির গাঁটের মতই ঘুরে ঘুরে পড়ছে নিচে। তবে বিনুনির পাক আর বাঁক যত বেশ সংখ্যায় হয় এগুলি তার চেয়ে অনেক কম তবু তুলনা জুগিয়েই যায়।
দূর থেকে আমার তো একটা গ্লেসিয়ার বলে মনে হচ্ছিল। দৃশ্যপট উস্কির খুব ছোট হলেও বরেহির ক্ষেত্রে কিন্তু অনেক বিশাল। কেন না এর প্রেক্ষাপট এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত ছড়ানো এক বিশাল পাহাড়। পাহাড়টা এত বড় আর এত উঁচু সেটা তার পাশের খাদ থেকে সহজেই প্রতিপন্ন হয়। আমরা দেখছি যে পাহাড়ে ঝরণাটা বইছে তার ঠিক পাশের পাহাড় থেকে দেখে ঝরণাটি আমাদের কাছে যেন ক্যানভাসে আঁকা ছবি বলে মনে হচ্ছে।
বরেহির ক্ষেত্রে পর্দায় প্রকৃতির শিল্পনৈপুণ্য আছে। দৃশ্যপটের ব্যাপ্তি অনেক বেশি। কিন্তু তুলনায় উস্কি অনেক বেশি প্রবল অনেক বেশি দামাল। অনেক বেশি জীবন্ত তাই মনে প্রভাব ফেলে অনেক বেশি। যে পাহাড়ে টুরিস্টদের জন্যে বানিয়ে দেওয়া পার্কের রেলিং-এর পাশে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছি তা এই জলপ্রপাত নিয়ে যাওয়া পাহাড়টার দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ার ঝর্ণার অনেকটা অংশ একসঙ্গে দেখতে পাচ্ছি। উস্কির ক্ষেত্রে যেটা সম্ভব হয় নি। এই বরেহিপানির ক্ষেত্রে ঝরণাটি যেমন পাকিয়ে পাকিয়ে নেমেছে তেমনি বহু নিচে যে উপত্যকায় পড়েছে আর কতগুলি ভাগ হয়ে আবার প্রবাহিত হয়েছে সেটাও স্পষ্ট ভাবেই দেখা যায়। অর্থাৎ ঝরণাটির আগাপাস্তলা বা একটি পূর্ণাংগ চিত্র আমরা পেয়ে যাচ্ছি একটি মাত্র চিত্রপটে। অবশ্য তার জন্যেই কাছ থেকে দেখার যে রোমাঞ্চ সেটা ঠিক অনুভব করা যাচ্ছে না। উস্কিকে যেমন ভাবে আমরা কাছে পেয়েছিলুম তেমন করে কিন্তু পাওয়া গেল না বরেহিকে এটা বলতে মোটেই দ্বিধা হচ্ছে না। তবে উস্কির থেকে বহেরির প্রবল বিশালত্বকে অস্বীকার কিছুতেই করা যায় না। কিন্তু সজীবতার দিক থেকে উস্কিকেই যেন বড় আপন বলে মনে হয়েছে।
আমাদের আসতে আসতে সন্ধ্যে গড়িয়ে গেল। তাতে ক্ষতি নেই। পথের সৌন্দর্য বড় কম নয়। এটা শহর নয়, জঙ্গলপথ। তাই আকাশের আলোটুকু আমরা আর সমবেত বৃক্ষরাজি ভাগাভাগি করে নিচ্ছিলুম। আমাদের ভাগে কিছু কম পড়লেও ক্ষতি নেই।। যেটুকু পড়ছিল জঙ্গলশীর্ষে বা পাতার পিঠে তার অপরূপ ছটায় আমরা মোহিত হয়ে গেলাম।
৯ নভেম্বর,
পরের দিন সকালে ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে পড়ি। একটু পেছিয়ে গুরগুরিয়ায় এসে একটু বিশ্রাম। এটা আর একটা নেচার পার্ক। এখানেও কুমারী নেচার পার্কের মত সব ব্যবস্থা আছে। তবে জঙ্গল এখানে বড় ঘন আর বিশাল উঁচু উঁচু ঘন পাইন বনের মধ্যে ঢুকতে গায়ে রোমাঞ্চ আসে মাথা একেবারে আকাশের দিকে তুলে দিয়ে তবে গাছেদের মাথা দেখতে হয়। এখানে জঙ্গল সাফারির ব্যবস্থা আছে যা আজ আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ সাফারি শুরু হয় একেবারে ভোরে। তবে সাফারির গাড়িগুলি দেখলাম। বেশ ভালো লাগল। মনে আশা জাগায়। ছিটোয় উত্তেজনার আগুন। আবার কবে জঙ্গলে আসব তার ঠিক নেই। সাফারি করতে পারব কিনা তারও ঠিক নেই। তবু সাফারির সরঞ্জাম আমাদের মনকে বেশ চাঙ্গা করে রাখল এটা বলতেই হবে।
ভ্রমণ গাইডঃ
হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে খড়গপুর হয়ে যে সমস্ত ট্রেন চেন্নাই অভিমুখে যাচ্ছে তা ধরে বালাসোর। বালাসোর থেকে গাড়ি ভাড়া করতে হবে এবং সেটা টাটা সুমো বা বোলেরোর থেকে কম হালকা হলে চলবে না। তবে আগের দিন এলে সেই রাতে অন্যত্র কোথাও থেকে সকালে রেঞ্জারের অফিস থেকে পারমিট জোগাড় করে বেরোতে হয় ফরেস্টের উদ্দেশ্যে। কারণ নেচার পার্কে পৌঁছে জঙ্গল ঘুরে ঝরণা দেখতে সারাদিন লাগে। তাই নেচার পার্কেই রিসর্ট বুকিং করা সঠিক।
থাকার জায়গাঃ
জঙ্গলের ভেতরে নেচার পার্কে না থাকলে হবে না। তাই যে ক’টি নেচার পার্ক বলা হল সেগুলোর যেকোনো একটিতে অথবা একাধিকে থাকলে একাধিকে অনলাইন বুকিং করে নিতে হবে। থাকা আর খাওয়া সমেত বুকিং করতে হয়।
গুরগুরিয়াতে জঙ্গল সাফারি শুরু হয় সকাল সাড়ে পাঁচটায় ট্রিপ শুরু হয় আর ফেরে বেলা সাড়ে দশটায়। মোট পাঁচ ঘন্টার জন্যে পুরো গাড়ির ভাড়া বুকিং-এর সময় নেওয়া হয়।
ADDRESS:
DR. ARUN CHATTOPADHYAY
G.T.ROAD (GANTIR BAGAN)
P.O. BAIDYABATI
DIST. HOOGHLY (PIN 712222)
WEST BENGAL
Email: chattopadhyayarun@gmail.com



Comments
Post a Comment