তিনটি কবিতা ।। মো.ফারহান (কাহিনী)
দোকানদার
শহরের এক সাধারণ দোকানদার আবদুল,
সারাদিন থাকে সে নানান চিন্তায় মশগুল।
কখনো বাইরে, আবার কখনো থাকে দোকান ঘরে,
কখনো চকলেট চোষে, আবার কখনো বই পড়ে।
ব্যবসা করার জন্য নেই তার উপযুক্ত পুঁজি,
কোম্পানির কাছ থেকে জিনিস কিনে বকা খায় রোজই।
যখন ক্রেতারা এসে জিনিস চায়,
তখন বলে, এটি ছিল, শেষ, এখন আর নাই।
অতি ফাঁকা আবদুলের দোকান ঘর,
নতুন নতুন দোকান গড়ে উঠেছে সারা শহর।
বহু দোকান আছে সেগুলো থাকে জিনিসে ভরে,
অনেকেই হয়েছে কোটিপতি দোকানে ব্যবসা করে।
অনেক দোকান খোলা থাকে সারা দিন-রাত,
আবদুলের দোকান থাকে বন্ধ যখন খেতে যায় ভাত।
আবদুল বাড়িতে ঘুমায় নিশ্চিন্ত মনে,
খারাপ আচরণ করেনা সে কোনো জীবনে।
বহু বছর ধরে সে ব্যবসা করে দোকানে এসে,
নিশ্চিন্ত মনে বাড়ি ফিরে যায় সব কাজের শেষে।
তালগাছ
তালগাছ, তালগাছ,
দুলে দুলে নাড়ে মাথা,
সবুজের ঢেউ খেলানো পাতা,
ছুটে যেতে চায় দূর আকাশে, যখন হয়ে বাতাস।
তালগাছে বসে পাখির হালখাতা,
সব গাছ ছাড়িয়ে তার সর্বোচ্চ উচ্চতা।
তালগাছে বাবুইয়ের কুঁড়েঘর হালকা হাওয়ায় দোলে,
কাঠবিড়ালি লুকিয়ে থাকে পাতার আড়ালে।
তালগাছ দাঁড়িয়ে থাকে মেঘের নিচে,
বাতাসের ঝাপটায় সে মাথা দুলে নাচে।
তালগাছে ঝুলে থাকে পাকা পাকা তাল,
রোদে শুকে ঝরে যায় গাছের মরাডাল।
দূর থেকে উড়ে আসে বকের দল,
সারা গাছ জুড়ে তারা করে কোলাহল।
উঁচু হাওয়ায় উর্বর মৃত্তিকায় দাঁড়িয়ে থাকে তালগাছ,
প্রকৃতি দেখার আনন্দে ছুতে চায় আকাশ।
তালগাছ, তালগাছ,
তালগাছ অপরূপ সাজে প্রকৃতির সৌন্দর্যের ছোঁয়ায়,
শীতের মৃদু হাওয়ায় আলোর স্পর্শ পায়।
পাখিরা দল বেঁধে সেখানে করে বসবাস।
আকাঙ্ক্ষা
প্রত্যেকের মনে থাকে,
যেকোনো জিনিস পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
কোন জিনিস না পেলে,
তাদের মনে জন্মায় শঙ্কা।
যে পায়ে হেঁটে কাজে যায়-
তার মনে হয়,
যদি একটি সাইকেল পাই
তাহলে ভালো হয়।
সাইকেল চালক যখন বাইক দেখে,
তখন মনে করে বাইক থাকলে ঘুরতাম অজানা ঠিকানায়।
বাইকচালক আবার গাড়ি দেখে করে আফসোস,
মনে করে গাড়ি থাকলে দূর-দূরান্তে যেতাম রোজ রোজ।
গাড়িওয়ালা আবার গাড়ি নিয়ে থাকে না তৃপ্তিতে,
মনে মনে ভাবে- প্লেন থাকলে পারতাম আকাশ পাড়ি দিতে।
প্লেনের মালিকের থাকে মহাকাশ নিয়ে স্বপ্ন,
তার আফসোস হয় রকেট কেনার জন্য।
কল্পনায় ভাবে- রকেট থাকলে যেতাম দূর মহাকাশ,
দু'চোখ ভরে নিতাম সুখের নিশ্বাস।
মনের চাহিদা কখনো নেয় না বিদায়,
যারা অল্পতেই তৃপ্তি পায় তারা পড়েনা কোনো ঝামেলায়।
===================
মো.ফারহান (কাহিনী)
বাসা- ২৭, রোড- ১৯, উপশহর বগুড়া।
Comments
Post a Comment