ফান্দে পড়িয়া বগা
শংকর ব্রহ্ম
আঠাশে ফেব্রুয়ারির সকাল। আকাশে তুলোর মতো মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনেহল, সকালটা কী মনোরম সুন্দর। এমনদিনে তার হোয়াইট হাউজে একা বসে থাকতে ভাল লাগছিল না। সে ইজরায়েলের প্রধান মন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে কফি ও স্যান্ডউইচ খেতে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানালেন। হোয়াইট হাউজে চলে আসতে বললেন।
- আসছি বস, কৃতজ্ঞতার সুরে বলে উঠলেন নেতানিয়াহু।
- তাড়াতাড়ি চলে এসো।
- আচ্ছা, বস।
ডোনাল্ড ট্রাম ভাবলেন, নেতানিয়াহু এলে, কফি আর স্যান্ডউইচ খেতে খেতে, তার সাথে পরামর্শ করা যাবে, কিভাবে দিনটা আনন্দ আর মজা করে কাটানো যায।
একটু পরেই নেতানিয়াহু এসে উপস্থিত হলেন। ট্রাম্প তাকে সাদরে আমন্ত্রণ জানিয়ে বললেন, আরে এসো, এসো। কফির টেবিলে এসে বসো। এত দেরি করলে কেন?
- আর বলবেন না বস। হেলিক্যাপ্টারের কাছে এসে দেখি, পাইলট নেই। খোঁজ নিযে জানতে পারলাম সে নাকি বাথরুমে গেছে। তার ডাইরিয়া হয়েছে। তা শুনে আমি অন্য পাইলট জোগাড় করে এখানে এসেছি। তাই একটু দেরি হয়ে গেছে। বলতে বলতে নেতানিয়াহু এসে কফির টেবিলে বসলেন।
- আরে, ঠিক আছে, ঠিক আছে বলে ট্রাম্প তার দিকে কফির কাপ ও স্যান্ডউইচের প্লেট এগিয়ে দিলেন।
নেতানিয়াহু কফির কাপে একটা চুমুক দিয়ে, প্লেট থেকে একপিস স্যান্ডউইচ তার ডান হাতে তুলে নিয়ে বললেন, বলুন স্যার এতো সকালে আমায় ডেকেছেন কেন?
ডোনাল্ড ট্রাম্প কফির কাপ তুলে নিয়ে, তাতে একটা চুমুক দিয়ে, রহস্যের সুরে চোখ নাচিয়ে হাসি মুখে বললেন, কেন ডেকেছি বলো তো?
নেতানিয়াহু স্যান্ডউইচে একটা কামড় বসিয়ে বললেন, আমি কেমন করে জানব?
- একটু ভেবে বলো।
- আচ্ছা বলে, নেতানিয়াহু স্যান্ডউইচ চিবোতে চিবোতে জানলার বাইরের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলেন।
তা লক্ষ্য করে একটু পরে ট্রাম্প তাকে বললেন, কি বলতে পারছ না তো?
নেতানিয়াহু তার দিকে তাকিয়ে বললেন, মনে হচ্ছে আজকের দিনটা ঘরে বন্দি হয়ে না থেকে, আপনার ইচ্ছে দিনটাকে খুব মজা করে কাটানোর।
- ঠিক ধরেছ। এবার বলো তো, কি করে মজা করে কাটানো যায়?
- ইরান পারমানবিক বোমা বানাচ্ছে, এই অজুহাতে ইরানের উপর আজ রাতে, ওদের হকচকিয়ে দিয়ে, আচমকা বোমা নিক্ষেপ শুরু করি। আয়াতুল্লা খোমিনীকে হত্যা করে ফেলতে পারলে। ওদের নেতৃত্বের সংকট দেখা দেবে। তখন আমরা আমদের নির্বাচিত সরকারকে সেখান বসিয়ে, সেখান থেকে, খনিজ তেল ও ইউরিয়াম লুট করব।
- এটা তো তুমি মন্দ বলোনি তো।
- হ্যাঁ বস, আপনার পক্ষে কিছুই করা অসম্ভব নয়। যেভাবে আপনি ৩রা জানুয়ারী রাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেস্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক বন্দি করে এনে বিচারের নামে জেলে পুরে রেখেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম তার কথা শুনে স্যান্ডউইচ চিবোতে চিবোতে, গর্বে হা হা করে হেসে উঠতে গিয়ে আচমকা বিষম খেলেন।
আঠাশে ফেব্রুয়ারির রাতেই আচমকা ইরানের উপর বোমাবর্ষণ শুরু হলো। মধ্যপ্রাচ সেই আলোড়ণে কেঁপে উঠলো। ইরানও চুপ করে বসে থাকল না। তারাও যথপোযুক্ত প্রত্যাঘাত শুরু করল। ট্রাম্প আর নেতানিয়াহু ইরানকে যতটা দুর্বল ভেবেছিল, ইরান মোটেও তা নয়, সেটা বুঝতে যুদ্ধে করতে করতে তাদের একমাস কেটে গেল। বর্তমানে ইরান দুর্জয় হয়ে উঠেছে তাদের কাছে। ট্রাম্প এবার বুঝেছে, কত ধানে কত চাল। এই যুদ্ধ করার ফলে দেশের অর্থনীতি ভূলুন্ঠিত। দেশেের মানুষের কাছেও তার সম্মান ধুলায় লুটোচ্ছে। এখন যেন তার অবস্থা হয়ে উঠেছে, ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি’। ইরান এবার আর ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। সে এখনই যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করতে রাজি নয়। তারা হরমুজ প্রনালীর দখল নিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যে, যে সব দেশের জাহাজ বর্তমানে হরমুজ প্রনালী দিয়ে যেতে চায়, তারা ইরানকে টোল-ট্যাক্স দিলে, জাহাজ নিরাপদে নিয়ে যেতে পারবে। অন্যথায় যে সব জাহাজ টোল ট্যাক্স না দিয়ে, জোর করে জাহাজ নিয়ে যেতে চাইবে, তাদের জাহাজ মাইন দিয়ে মুহূর্তে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে নেমে ট্রাম্প পড়েছেন মহা ফাঁপরে। সারা পৃথিবীতে এখন তার দাদাগিরি ধূলিসাৎ। এখন তার অবস্থা, ‘ফান্দে পড়িয়া বগা, কান্দে রে।’
====
----------------------------------------------------------------------------
নাম - ঠিকানা - ফোন নম্বর
----------------------------------------------------------------------------
SANKAR BRAHMA.
8/1, ASHUTOSH PALLY,
P.O. - GARIA,
Kolkata - 700 084.
PHONE NUMBER - 98306 36623 (Whats App).
----------------------------------------------------------------------------
Comments
Post a Comment