Skip to main content

গল্প ।। সন্দেহ ।। লিপিকর

Nabapravat

সন্দেহ

লিপিকর

 
এক বছর! আজ থেকে ঠিক একবছর আগে উনি অবসর নিয়েছিলেন। এখানকার হেড-পোস্টাফিসে সিনিয়র-ডিভিশ্যন কেরাণীর চাকরিতে তখনও আমার এগারো মাসের মেয়াদ বাকি। তারপরে যে ক’মাস আমি ব্যাগ কাঁধে বেরোতুম, উনি নিজেকে ডুবিয়ে রাখতেন স্কুল-লাইব্রেরির বইয়ের ক্যাটালগটি পুরোপুরি কম্পিউটারাইজড করার কাজে। কাজটা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর জন্যেই হোক, বা অফিসটাইমের ট্র্যাফিক জ্যাম কর্তার চিরকালের না-পসন্দ বলেই হোক, উনি এসময় থেকে সকালবেলা মাঝেমাঝে টুকটাক রান্না করা শুরু করলেন। কলেজিয়েট স্কুল, তার কলেজের স্টাফ-ক্যান্টিনে প্রবেশাধিকার তাঁর তখনও ছিল, কিন্তু ওখানকার খাবার কোনওদিনই কি তাঁর মুখে রুচেছে! আমি নেয়ে-খেয়ে অফিস যাব বলে ছুটোছুটি করছি, সেই ব্যস্ত সময়ে উনি এসে, “কুসুম, তুমি রিটায়ার করলে আমরা সমুদ্রের ধারে যে যে জায়গায় বেড়াতে যাব, সেই লিস্টে আরো তিনটে নাম রাখলুম।” বললে কে না বিরক্ত হয় বলুন তো! সত্যি বলতে কী, সুখস্বপ্ন একটু একটু আমিও বুনতে শুরু করি নি, এমনতো নয়! এর চেয়ে, এখন মনে হয়, যদি উনি গতানুগতিকভাবে “আজ কী রান্না হচ্ছে!” মার্কা প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করে চলতেন, তাহলে হয়তো আমার এখনকার এই একা, বন্ধ্যা, বদ্ধ জীবনটা একটু কম ভারাক্রান্ত হতো।


একাকিত্ব। এটাই তো আমাদের চারদশকের বিবাহিত জীবনের সবচেয়ে বড় লেইট্‌মোটিফ্‌। ওঁকে বিয়ে করার জন্যে যখন বাড়ি থেকে পালিয়েছি তখন আমার বয়স সাড়ে আঠেরো। জানতুম শুধু একটা মানুষকে আর দুটো তথ্য - একঃ আমার আঠেরো বছর বয়স পূর্ণ হয়ে গেলে আইনতঃ আমি যাকে খুশী বিয়ে করতে পারি। আর আমাদের ছোটবেলার সেই গঞ্জ-শহরে আইনে যেহেতু লোকের বিশেষ বিশ্বাস ছিল না, ওখানে থাকলে আমাদের দুজনেরই মারা পড়ার আশঙ্কা ছিল। বিপদ যে হয় নি, তার সম্ভবতঃ একমাত্র কারণ ছিলেন আমার স্বর্গগতা শাশুড়ি-মা। আগুনে পুড়ে আত্মহত্যা করার আগে আমার স্বামীর পিতামহকে উদ্দেশ্য করে যে চিঠি লিখে গিয়েছিলেন তাঁর পুত্রবধূ, তাতে বংশের প্রথম লিখি-পঢ়ি বহু’র আবেগপ্রবণ অনুরোধ ছিল যাতে আমাদের দুজনের কোন ক্ষতি না হয়। এছাড়াও তাঁর স্ত্রীধনের সবচেয়ে মোটা চুড়িটি তিনি আশীর্বাদস্বরূপ আমার জন্যে রেখে যান। আমার স্বামীর পরিবার সেই মৃত্যুপথযাত্রিণীর শেষ ইচ্ছের অমর্য্যাদা করেছিল, এমনটা বলব না। অশৌচের মধ্যেই সেই চুড়ির জোড় তৈরী করিয়ে, চুড়ি দু’গাছা আমার বরের হাতে সঁপে তাঁর পিতামহ জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে পরিবারের কোনও দায় বা অধিকার - কোনটাই যেন আমরা দাবী না করি। আমার বিবাহিত জীবনের প্রথম পঁয়ত্রিশ বছরে আমি আমার শ্বশুরবাড়ির কোন আত্মীয়কে দেখি নি, নিজের বাপ-মা বা অন্য আত্মীয়বন্ধুদের তো আর কখনোই নয়। যদিও উনি বরাবর, বারবার বলে এসেছেন যে আমাকে ভালোবাসতে গিয়ে যা কিছু ওঁকে বিসর্জন দিতে হয়েছে, তা নিয়ে ওঁর কোনও খেদ বা অনুতাপ নেই, আমাদের দু’জনের দাম্পত্যজীবনে কিন্তু আমার সেই কখনো দেখা-না-হওয়া মহিলার এক দৃঢ় প্রভাব থেকেই গিয়েছে। কোনদিন এবিষয়ে একটি কথাও ব্যয় না করে আমরা দুজনেই যেন জানতুম সেই নিষ্ঠ বধূর মৃত্যুর সমস্ত দায় আমাদের প্রেমের, আমার অবিমৃশ্য ভালবাসার, একমাত্র দায়িত্বজ্ঞানহীন আমার, শুধুই বেজাতে জন্মানো আমার। সেজন্যেই অবচেতনে সেই মৃত্যু আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে নতুন প্রাণের জন্মে বাধা দিয়েছিল।


এতগুলো বছরের আমাদের সহ-বাস, অনস্বীকার্যভাবেই, একঘেয়ে ছিল। তবুও এখন আমাকে যে সন্দেহ কুরেকুরে খাচ্ছে, সে তুলনায় গত জীবনটা শান্তির ছিল। ভিতুর ডিম একটা! পলায়নপর, মেরুদন্ডহীন, পোড়া চ্যালাকাঠের ছাওয়াল! এই যে অন্ধকার ভাবনাটা আমার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়ে গেল, এটা থেকে আমি কী করে মুক্তি পাবো? এটা থেকে কি আমি আদৌ মুক্তি পাবো? এখন আমার ঐ একঘেয়ে জীবনটাতেই ফিরে যেতে ইচ্ছে করছে, যেখানে সকালে চোখ খুললেই সেই মানুষটাকে দেখতে পাওয়া যেত, যাকে সারাজীবন নির্ভর করে এসেছি। যাকে এই কদিনের দুঃস্বপ্নের কথা বললেই তিনি সস্মিতমুখে বলবেন, “কুসুম, ঐজন্যে বলি, সূর্য ডোবার পরে মাছ-মাংস খেও না।”


আমার যখন চাকরী থেকে অবসরের আর সপ্তাহচারেক বাকি, তখন আমার পোস্টাফিসের বড়বাবু আমাকে বললেন, “কুসুম, আমরা আপনার রিটায়ারমেন্টের কাগজপত্র তৈরী করেছি। কিন্তু আমার একটা অনুরোধ ছিল, আপনি যে আপনার আর্নড লিভগুলো নিয়ে নেবেন ভেবেছিলেন, সেটা করা যাবে না। রুক্মিণীর প্রেগন্যান্সিতে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে, ডাক্তার ওঁকে পুরো বেডরেস্টে থাকতে বলেছে। আর কিষেণবাবুও সামনের কদিন থাকবেন না, সামনেই ওঁর ছোট মেয়ের বিয়ে,জানেনই তো … তাছাড়া আমি ফিন্যান্স-কে আপ্রুভ্যাল দিয়ে দিয়েছি আপনার সমস্ত ছুটি বিক্রি করে টাকা জমা করে দিতে … এখন নতুন হিসেব কষাও ঝামেলা, আর আপনিই বা টাকাকটা ছাড়বেন কেন? বুঝতেই পারছেন ক্যাল্কুলেশ্যন গোড়া থেকে করতে হলে টাকা হাতে পেতে অনেকদিন লেগেই যাবে।”


আগ বাড়িয়ে আমার হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা আমার পছন্দ হয় নি, কিন্তু আমি খুব একটা আপত্তি করি নি। আমার এই চারসপ্তাহে কিছু করার পরিকল্পনা ছিলও না। তাছাড়া এই অফিসে অনেকদিন কাজ করেছি তো, জানি, পরিবার থেকে খেদিয়ে দেওয়া বাঁজা মেয়েদের ব্যক্তিগত ইচ্ছে-অনিচ্ছের চেয়ে তাদের সহকর্মীদের (বা, সহকর্মীদে্র সন্তান-সন্ততিদের) জীবনের জন্ম-পরীক্ষা-বিবাহ-আনন্দানুষ্ঠান ছুটি মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব পায়। আর বলে ক্ষতি বিনে লাভ নেই, “ইন্সেন্সিটিভ” শোনার ব্যাপারে আজকাল আমি সেন্সিটিভ হয়ে গিয়েছি।


আমার কাজের শেষদিন, ৩০শে নভেম্বর, ছিল বুধবার। ২০ তারিখে, আমার চাকরীজীবনের শেষ উইকেন্ডের আগের রোববারে, ভোরবেলা উনি আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তুললেন। “কুসুম, আমার পেটে অসহ্য যন্ত্রণা হচ্ছে, আমি অ্যান্টাসিড, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সব খেয়ে ফেলেছি … কিন্তু কিছুতেই কমছে না, কিছু একটু করো, যাতে আমি একটু আরাম পাই!”


শারীরিক ব্যথা সহ্য করার ব্যাপারে আমার স্বামীর ক্ষমতার সঙ্গে আমার ভালোই পরিচয় আছে। একবার আমাদের এখানে একটা রাজনৈতিক বিক্ষোভের সময়ে কয়েকজন গুন্ডা কলেজ লাইব্রেরিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। অন্যান্য কর্মচারীরা বিপদ দেখে ‘চাচা, আপন প্রাণ বাঁচা’ নীতিগ্রহণ করেছিল, উনি কপালে ডান্ডার বাড়ি খেয়েও সেই বদমাইশদের একজনকে ধরে লাইব্রেরীর দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়েছিলেন, ফলে গুন্ডারা আর পুলিশ আসার আগে আগুন লাগিয়ে উঠতে পারে নি। তাঁকে উদ্ধার করতে দু’ঘন্টার ওপরে সময় লেগেছিল। এই দুটিঘন্টা তিনি কপাল থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় ঝরে পড়া রক্ত নিয়েও নাহোক দশ বছরের ছোট, পেশাদার একজন দুষ্কৃতিকে লাইব্রেরিতে আটকে রেখেছিলেন, শুধু বই বাঁচাতে। এখন তিনি ‘অবসরপ্রাপ্ত’ বৃদ্ধ বটে, কিন্তু কষ্টটা প্রচন্ড না হলে আমাকে সেই অভিশপ্ত ভোরে ওভাবে ঘুম থেকে ওঠাতেন না, সে বিষয়ে আজও আমি নিশ্চিত।


আমাদের মফঃস্বল শহরে ভোরে ডাক্তার-বদ্যি পাওয়া যায় না। সেদিন রোববার। আমাদের যিনি পারিবারিক চিকিৎসক তিনি দু’সপ্তাহ আগে বেড়াতে গিয়েছেন, মঙ্গলবারের আগে ফিরবেন না। আমি প্রথমে ওঁকে কিছু ঘরোয়া দাওয়াই দিলুম, কিন্তু তাতে ওঁর কোন উপশমই হল না। আমার দন্তশূলের জন্যে একটা পেনকিলার আনানো হয়েছিল, সেটা খেয়ে উনি চোখ বন্ধ করে আচ্ছন্নের মত শুয়ে রইলেন সাময়িকভাবে। ওঁকে শহরের আরেকজন ডাক্তার, যাঁর কাছে আমরা আগেও গিয়েছি অবরেসবরে, তাঁর চেম্বারে নিয়ে গেলুম। যথারীতি নোটিশ ঝোলানো আছে, ‘রবিবার বন্ধ।’, এদিকে উনি তখন যন্ত্রণায় প্রায় অজ্ঞান। অটোরিক্সা করে আরো দুজন ডাক্তারের চেম্বারে গিয়েও কাউকে পাওয়া গেল না, তখন উনি অর্ধনিমীলিত চোখে আমাকে বললেন, “কুসুম, চলো, আমরা সদর হাসপাতালের এমার্জেন্সীতে যাই।”


সেই প্রথমবার সাময়িক নিরাময়ের ব্যাকুলতা কাটিয়ে দীর্ঘকালীন স্বাস্থ্য-দুশ্চিন্তা আমার মনে এল। যে লোকটাকে আমাদের বিয়াল্লিশ বছর আটমাসের যৌথজীবনে নিজের জন্যে ডাক্তার, ইঞ্জেকশ্যন, হাসপাতাল - সবরকম আধুনিক চিকিৎসাকে দূরে রাখতে দেখেছি (আমার জন্যে অবশ্য তাঁর আধুনিক চিকিৎসা ও চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে কখনো আপত্তি হতে দেখি নি), সেই মানুষটা কিনা পেটব্যথার জন্যে হাসপাতালের এমার্জেন্সীতে যেতে চাইছে। এ তো কোন সাধারণ অসুখ নয়!


হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা শুরু করতে ঘন্টা দুই লাগলো। ওখানেও কর্মী অপ্রতুল। আরো একঘন্টা পরে মেট্রন এসে ওঁকে ঘুমপাড়ানি ইঞ্জেকশ্যন দিলেন, তখন অসহ্য ব্যথায় তিনিও ধুঁকছেন, তাঁর কষ্ট দেখতে না পেরে আমিও কাঁদছি।


সেদিন দুপুরে আমাদের দুজনের খাওয়া জোটে নি। আমি তো আগে কখনো এরকম মেডিক্যাল এমার্জেন্সী’র সম্মুখীন হইনি। জুনিয়র একজন হাউসস্টাফ রাউন্ডে আসবেন শুনে তাঁর জন্যে হত্যে দিচ্ছিলুম। সেই ডাক্তার ডাক পেয়ে এসে যখন ওষুধ আর অনেক টেস্ট লিখে দিলেন তখন চারটে বেজে গিয়েছে। সেরাতে ওঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখতে আমাকে একবার বাড়ি এসে নিজের আর ওঁর আই-কার্ড নিয়ে গিয়ে সব সইসাবুদ করতে আরো ঘন্টাখানেক লাগলো। তারপরে সকালের মেট্রন নিজে বাড়ি যাওয়ার সময়ে আমাকে বললেন আমার এখানে আজ আর কিছু করণীয় নেই, এলাকাটা খারাপ, আমি যেন বাড়ি গিয়ে রাতে বিশ্রাম নিয়ে কাল আবার আসি।


সেরাতে নিজেকে খুব একাএকা, অসহায় লাগছিল। এই একাকিত্বটা চল্লিশবছর ওঁর পাশে শুয়ে যে একাকিত্ব অনুভব করেছি, তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।


এক হিসেবে, আমাদের চার দশকের বাঁচাটা তো একরকমের মরে থাকাই। আমরা এসে দুজনের নতুন সংসার পেতেছিলুম এক ছোট্ট শহরে, যেখানে একজন মানুষও আমাদের আগে চিনতো না। উনি এই কলেজিয়েট স্কুলে লাইব্রেরিয়ানের চাকরি পেয়েছিলেন বলেই আমরা দু’বাড়িতে নিজেদের বিয়ের সিদ্ধান্ত জানাতে পেরেছিলুম। এখানে এসেই উনি আমাকে প্রাইভেটে ঠেলেঠুলে গ্র্যাজুয়েট বানিয়ে তুললেন, আর তারপরেই পোস্টাফিসের কেরাণির চাকরীটাও আমার কোনও উমেদারি ছাড়াই জুটে গেল। উনি আমাকে সাহিত্য ভালোবাসানোর চেষ্টায় মেতে উঠলেন। আমরা নিতান্তই সাংসারিক প্রয়োজন ছাড়া কটাই বা বাড়তি কথা বলতুম? যেদিন উনি আমার শাশুড়ির অশৌচগৃহ থেকে একজোড়া সোনার বালা হাতে ফিরে এলেন পূর্বাশ্রমের সবকিছু খুইয়ে, আগের চেনা প্রেমিক মানুষটি কেমন যেন অন্যরকম হয়ে গেলেন। নিজের সাধ্যমত যত্নে আমাকে রাখতে কোনোদিন তাঁর ত্রুটী হয় নি। কিন্তু সংসারে, আমি সহজেই টের পেতুম, তাঁর টান নেই। আমরা সহ-বাস করেছি দশকের পর দশক, সহবাসও দাম্পত্যজীবনের প্রাকৃতিক টানে করেছি নাহোক কয়েকশো বার, কিন্তু সহধর্মী বা সহধর্মিণী হয়ে উঠতে কি আমরা উদ্বুদ্ধ হয়েছি, উন্মুখ থেকেছি? এক অদৃশ্য দূরত্ব আমাদের মধ্যে থেকেই গিয়েছে। যে দেড়-কামরার ভাঙা বাড়িটিতে আমরা প্রথম সংসার পেতেছিলুম, সেই বাড়িটিই আমরা পরে সস্তায় কিনে নিই। অথচ, বাড়িটা যে তাঁর কলেজ বা আমার পোস্টাফিস, কারও কাজের জায়গা থেকেই হাঁটাপথের দূরত্ব ছিল - এমন না। আমাদের তখন যা আর্থিক সঙ্গতি, আমরা আরেকটু বড় বাড়ি আরেকটু সম্ভ্রান্ত পাড়ায় কিনতেই পারতুম, কিন্তু আমাদের কারোরই কোনও উৎসাহ ছিল না ব্যাপারটায়।


বিয়ের কিছু বছর পরেও যখন আমরা নিঃসন্তান, তখন আমি ওঁকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলেছিলুম। যে ডাক্তারের কাছে আমরা প্রথমবার গিয়েছিলুম তিনি পরীক্ষা করে আমাদের দুজনকেই পাশ করিয়ে দিয়েছিলেন। তারপরেও যখন কিছু হল না, তখন অন্য কোনও ডাক্তার দেখানোর কথা যতবার বলতুম, উনি শুনে প্রতিবারই হুঁ-হাঁ করতেন, কিন্তু তারপরেই আলোচনাটা কেমন পিছলে বা মিইয়ে যেত, ফলপ্রসূ কোনকিছু আর করা হত না। শেষে আমি এই সিদ্ধান্তে আসি, তাঁর মায়ের আত্মহত্যার জন্যে পরোক্ষভাবে হলেও দায়ী মহিলার গর্ভে উনি নিজের বংশের বীজ বপন করতে অনিচ্ছুক। নিজের শারীরিক ক্ষুধা আমার মাধ্যমে তৃপ্ত করতে চাওয়ার ব্যগ্রতা কখনোই আমি তাঁর মধ্যে লক্ষ্য করি নি, অথচ আমার ডাকে সাড়া দিতে তিনি ক্বচিৎ অরাজি হতেন। আমি যে পরিবেশে বড় হয়েছি, সেখানে অন্য জাতের নারী বা পুরুষকে প্রেম নিবেদন করার উদাহরণ সামনে ছিল, কিন্তু স্বামীর সঙ্গে এক বিছানায় শুয়ে, তাঁকে কিভাবে বলতে হয় যে মূল ব্যাপারটায় তিনি উদ্যোগ নিলে, সম্ভোগে আদিম হলে আমার ভালো লাগবে, সেই সোজাসাপ্টা হওয়ার মত নির্লজ্জ প্রগলভতাটা আমার শিক্ষায় ছিল না। তা’বলে কি আমাদের মধ্যে কিছুই হত না? হত তো, আমরা দুজনেই কিভাবে যেন টের পেতুম আজ ‘হওয়ার’ দিন আছে, দুজনেই ঘেঁষে আসতুম, সচেতন উদ্যম ছাড়াই অন্ধকারে আমাদের অভিসাররথ নিজেনিজেই যাত্রাপথ তৈরী করে নিত।


আমার জন্যে ওঁর একটা সর্বব্যাপ্ত আর সহজাত স্নেহ, প্রতিক্ষণে টের পেতুম মানুষটা আমাকে মুড়ে রাখতে চায়, দিতে চায় সার্বিক নিরাপত্তা। আমার ছোটখাটো অসুবিধে নিয়ে তাঁর মাথাব্যথা (অথচ বড় জিনিসগুলোর খেয়াল নেই!) আর এই নরম রক্ষাকর্তার ভূমিকাতেই তিনি আমার মনে চরম ভয় জাগাতেন। একপৃথিবী আত্মীয়-বন্ধু, সমাজ-সংসার, ছোটবেলা ছেড়ে এসেছি যে একটিমাত্র মানুষের কাছে থাকার জন্যে, তাঁকে হারানোর, আঘাত করার, দূরে সরানোর ভয় আমাকে সবসময়ে তাড়িয়ে বেড়াত। এই নিরাপত্তাহীনতার ভয়ের নিরাপত্তাহীনতা আমার ভেতরে জন্ম দিয়েছিল এক বিষাদের, আরো তীব্র, তীক্ষ্ণ করে তুলেছিল আমার একাকিত্বকে। আমি সবসময়ে সচেষ্ট থাকতুম, সম্পর্কের নতুন কোনও মাত্রা আবিষ্কার বা উপভোগ করতে না পারি, এমনকিছু আমার করা চলবে না যাতে এই মানুষটা কষ্ট পেতে পারে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটুকুকেও রুখতে আঁকড়ে ধরার মত অনেককিছুকেই দূরে সরিয়ে রেখেছিলুম!


জানেন, প্রতিবছর আমরা নিয়ম করে দু’বার বেড়াতে যেতুম। সমুদ্রসৈকতের হৈচৈতে, বা নদীকূলবর্তী ভ্রমণকেন্দ্রে, মাঝেসাঝে কোনও পাহাড়ে আমরা কাটিয়ে আসতুম কটা দিন। দেশের প্রায় প্রত্যেকটি রাজ্যেই আমরা গিয়েছি, মন্দির-স্থাপত্য-দুর্গ-মহানগরী-যাদুঘর আমরা কোটি-কোটি বৈশিষ্ট্যহীন ভ্রামণিকের মতই দেখেছি, সামনাসামনি দেখার উচ্ছ্বাস স্মৃতিতে কিছু দাগ রেখেছে বটে, কিন্তু আমাদের সম্পর্ককে নিবিড় করে তোলে নি। বড় সাধ ছিল কোনো নির্জন বনবাংলোতে কটা দিন কাটাবো, যেখানে তখন আমরা ছাড়া কেউ নেই, আদিম হব দুজনে, বিয়ের আগে ভেবেছিলুম যেসব হরকৎ-কসরৎ, প্রকৃতির সান্নিধ্যে সেগুলো নিয়ে মেতে কয়েকটা দিন এমনভাবে কাটিয়ে আসবো যে ফিরে এসেও আমাদের সম্পর্কে থাকবে কিছু বিদ্যুৎঝলক, যা আমাদের প্রতিদিনের জীবনকে দেবে আরেকটু নিবিড়তা। এখন দেখি, অ্যালবামে ধরা পড়া শুধু ঢেউ-স্রোত-গাছপালা-মিনার-সৌধ-প্রত্ননিদর্শন, আমি মানুষটা অদৃশ্য। লাইব্রেরিয়ান মহোদয় প্রত্যেকবার এই ছবিগুলোর মধ্যে থেকেই কেন একটা-দুটো ছবি আলাদা করে অন্য একটা আলবামে সাজিয়ে রাখতেন, আজো বুঝি নি।


বেড়াতে যাওয়ার মাঝের সপ্তাহগুলো আমরা সকালে উঠতুম, দুজনে মিলে জলখাবার তৈরী করতুম আর খেতুম একসঙ্গে, তারপর যে যার অফিসের জন্যে বেরিয়ে পড়তুম। ক্বচিৎ তাঁর আমার আগে ছুটি হ’লে তিনি আমার আপিসের সামনে অপেক্ষা করতেন, দু’হাতে দুটো ভেলপুরির ঠোঙা নিয়ে। ব্যস, ঐটুকুই। তারপরে বাড়ি ফিরে সেই রান্না করা, খাওয়াদাওয়া’র মাঝে টুকটাক কথাবার্তা, খাওয়া শেষ হলেই দু’জনে দুটো বই নিয়ে নিঃশব্দে নিজেদের পড়ার জগতে ঢুকে পড়া। ঠিক এগারটায় ওঁর ঘড়িতে রাতের অ্যালার্ম বাজতো, উনি সেটা বন্ধ করে মুখেচোখে জল দিয়ে বিছানায় শুতে আসতেন। আমার অবশ্য পড়া অত সময় মেনে শেষ হত না। ভালো না লাগলে আমি সাড়ে নটাতেও আলো নিভিয়ে শুয়ে একলা ছটফট করেছি, আবার পাঠ্যবইটির প্রসাদগুণে রাত দেড়টা অব্দি আলো জ্বালিয়েও গোগ্রাসে ছাইপাঁশ গিলেছি। ওঁর তাতে ঘুমের কোনও ব্যাঘাত হত না। যেদিন ফেরোমোন বা টেলিপ্যাথি কিছু একটা থেকে জানতুম, আজ রাতে কিছু ‘হওয়ার’ আছে, সেদিন একসঙ্গে পড়া সাঙ্গ হতো, দুজনে জন্মদিনের পোষাকে একে অপরকে আঁকড়ে ধরতুম, দুজনেরই দীর্ঘশ্বাসে বিষাদ মিশে থাকত অনেকটা করে, কেন কে জানে! জৈবিক যা কিছু হতো, তা দৈবিক না হলেও আধা বেহুঁশে, মাঝরাতে, ঘুমের ঘোরে, স্বপ্নের শুরুতে এমনভাবে মিশে যেত, যে কোনটা ঘটেছিল, আর কোনটা ভেবেছি, স্পষ্ট ফারাক মনে পড়ত না পরদিন সকালে।


খারাপ খবরটা পেলুম ওঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার দু’দিন পরে। পাকস্থলীর ক্যান্সার, তৃতীয় স্টেজ।


“কুসুম” উনি বাড়ি এসে ভাবলেশহীন গলায় বললেন, “ডাক্তাররা বলছে বটে কেমোথেরাপি করালে আমি এখনো এক বছর বাঁচবো, কিন্তু আমার মন বলছে, একবার ওদের পাল্লায় পড়লে আমার মেয়াদ আর তিন মাসের বেশি নয়। আমি হিমালয়ের একটা আয়ুর্বেদ চিকিৎসাকেন্দ্রের খোঁজ পেয়েছি, ওখান থেকে একবার ঘুরে আসি, তুমি আমাকে পনেরোটা দিন সময় দাও, তাতে আমি হান্ড্রেড পার্সেন্ট রোগমুক্ত হয়ে ফিরে না এলে এসব তো রইলোই।”


আমি তখনো দুঃসংবাদের অভিঘাতে অস্থির, তাছাড়া কোনদিন তো এইসব রোগ, রোগী, চিকিৎসা, হাসপাতাল নিয়ে সেরকম বিপদে পড়তে হয় নি, তাই খুব শক্তভাবে সেই উদ্ভট পরিকল্পনাটাকে উড়িয়ে দিতে পারলুম না তক্ষুণি। আর যাদুকররা যেমন টুপি থেকে খরগোস বের করে, অনেকটা অবিকল সেই ভঙ্গিমায় তিনি নিজের ফতুয়ার পকেট থেকে একটা ট্রেনের টিকিট আমার সামনে মেলে ধরলেন, আর তাঁর গলায় একটা আকুতি ফুটে উঠল, “তুমি যদি একবারও না বলো কুসুম, তাহলে আমার আমার এই যাওয়া সফল হবে না! … তুমি কোন চিন্তা কোরো না, তুমি চাকরি থেকে রিটায়ার করতে করতে আমি ক্যান্সারকে বিসর্জন দিয়ে তোমার কাছেই ফিরে আসবো।”


জামাকাপড় গুছোতে তাঁর আধঘন্টার বেশি সময় লাগল না, সন্ধ্যেবেলা আমরা স্টেশ্যনের কাছে একটা বড় ধাবাতে নৈশভোজ সারলুম, আমরা দুজনে প্রথা ভেঙে রাতের বেলাও মাংস খেলুম। এখানে ওঁর শেষরজনীতে আমার হাতের রান্না আর ওঁর খাওয়া হলো না। এতগুলো বছরের নিত্যিনিশির রান্নায় আমার তরফ থেকে যে দিনগত পাপক্ষয়ের অযত্ন চুইয়ে ঢুকে পড়েছিল, তা শোধরানো আর হল না আমার। তারপর তিনি ট্রেনে উঠে আমাকে চিরকালের জন্যে ফেলে রেখে চলে গেলেন। এবার আমি একলা হলুম আরেকভাবে, অনেক বেশি আক্ষরিক অর্থে, চিরতরে। এখন খুব ইচ্ছে করে জানেন, ওঁর জন্যে যত্ন করে ওঁর প্রিয় পদগুলো আবার রান্না করি। ওঁর শেষ খবর যবে থেকে পেয়েছি, তবে থেকে আর আলাদা করে রাতের রান্না করি না। সারাদিনে একবার চাল-ডাল একসঙ্গে ফুটিয়ে নিই, তাতে অন্যমনস্কভাবে একেকদিন একেকরকম মশলা চিমটিখানেক ফেলে দিই ফুটন্ত হাড়িতে, সেটাই কয়েক হাতা করে খাই এক বা দু’বার, বেশির ভাগটাই ফেলে দিই পরের দিন। এটা করে আমার সন্ধ্যেগুলো আরো ফাঁকা, বিবর্ণ হতে পেরেছে। আরো একলা হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে আমার নিঃসঙ্গতাকে। এই বেঁচে থাকা, যেখানে আমার বিচ্ছেদব্যথার সঙ্গে প্রতি মুহুর্তের সহচর এক অকথ্য সন্দেহ, আমার জীবনকে সত্যিই দুর্বিষহ করে তুলেছে।


আমার স্বামী এই অকালসফরে যাওয়ার পরে প্রথম কদিন আমি নিজেকে চূড়ান্ত ব্যস্ত রেখেছিলুম। অফিসে অ্যাসিস্ট্যান্ট মাস্টার নীরবসাহেবকে কাজ বোঝাচ্ছি, নিজের আর কিষেণের কাজ সামলাচ্ছি, আর ফাঁকেফাঁকে মারণরোগ নিয়ে পড়াশুনো করছি। খোঁজ নিচ্ছি চিকিৎসা-পদ্ধতি আর চিকিৎসকদের নিয়ে। তখনই মনে কু ডাকছিল যে পনেরোদিন দেরী করাটার চড়া দাম দিতে হবে। এদিকে উনি কল করতে বারণ করেছেন, শুধু মেসেজিং ভরসা। ওঁকে বকাবকি করে চলে আসতেও বলতে পারছি না, পুরোপুরি নিঃসংশয়ে। দু-একটা অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফোনেই জোগাড় করার উপক্রম দেখছিলুম, কিন্তু যেই তারা শোনে যে রোগী আমার সঙ্গে নেই, আর কবে হিমালয় থেকে নামবে তাও নিশ্চিত নয়, অমনি তারা কথাবার্তা থামিয়ে দেয়। এদিকে আমি এইসব আলোচনা করছি যথাসাধ্য সঙ্গোপণে, আত্মীয় তো আমাদের কেউই ছিলো না কোনদিন, পরিচিত বা প্রতিবেশীদের যাদের সঙ্গে এতদিনেও সখ্য নিতান্তই আলগা-আলগা, তাঁদের মেকী সহানুভূতি, যা আমরা সারাজীবন দূরে-দূরেই রাখতে পছন্দ করেছি, সেসবের যতদূর সম্ভব ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে। তখনও কি জানতুম আমার চল্লিশ বছরের বরটি এইরকম কাপুরুষ! আমি তো আসলে ভুলেই গিয়েছিলুম আত্মহত্যার পাপ ওর রক্তে, মা’র কাছ থেকে পাওয়া স্বভাব আর যাবে কোথায়! মাঝখান থেকে শুধু আমার জন্যই এক সন্দেহের বীজ রেখে গেল বাকী জীবনের জন্য।


আমার ফোন করা বারণ ছিল বটে, কিন্তু ওঁর তো এসব কোন বারণ-বাধা-বিধিনিষেধ কোনকালে ছিল না! শেষ দুদিন উনি খুব ঘনঘন ফোন করছিলেন, মেসেজ পাঠাচ্ছিলেন, কোথাও যেন একটা স্বভাববিরুদ্ধ উচ্ছলতা ফুটে উঠছিল ওঁর মধ্যে। আমি চিকিৎসা-ডাক্তার নিয়ে যতবারই আলোচনা করতে চাইলুম, উনি সব মন দিয়ে শুনলেন, প্রশ্ন করলেন, তারপরে বললেন, “প্ল্যানটা ঠিকই করেছ কুসুম, তবে আমি গিয়ে তারপরে টাকা-পয়সা পেমেন্ট করবো।” আমিও, তা হোক না যতই পোস্টাফিসের কেরাণী, তো ত্রিশ বছরের ওপরে চাকরী করেছি, আমি কি এই খরচটা দিতে পারি না! কিন্তু উনি কিছুতেই রাজি হলেন না, সেই এক কথা, “না কুসুম, পুরো বিশ্বাস না থাকলে এই আধ্যাত্মিক পথে আরোগ্য হয় না। আমি ফেরার আগে তুমি কোনো ডাক্তার বা হাসপাতালকে পয়সা দিও না।” আমি কি তখনও একবারও বুঝেছি ওঁর আসল মতলবটা কী? এর মধ্যে তিনি স্মার্টফোনে ওঁর সেই আশ্রমের পাশের পাহাড়, নদী - এসবের ছবি পাঠাতে শুরু করলেন। সেগুলোর কোনটাতেই ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, যোগী, চিকিৎসক কেউ নেই, কিছু নেই, শুধুই সুন্দর, সমাহিত, শান্ত প্রকৃতি। আমি বেশ কয়েকবার জানতে চাইলুম, চিকিৎসা বা নিরাময়ের কতদূর কী হলো, দেখলুম উনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছেন।


এরপরে ওঁর কাছে ওঁর সেই বোনঝি তরলা’র কথা শুনলুম, যে নাকি ওঁর আশ্রম থেকে মাত্র আধঘন্টার দূরত্বেই থাকে। সন্ধ্যেবেলা একটা ছবি পাঠালেন, সেখানে এই কদিনে প্রথমবার ওঁর মুখ দেখতে পেলুম আর দেখলুম সেই মেয়েটির মুখ, যে মুখ এ জীবনে না দেখলেই বোধ করি বেশি ভালো ছিল!


মেসেজ করে জানতে চাইলুম, “এই কি তরলা?”


উনি জবাবে শুধু একটা হাসি-হাসি স্মাইলি পাঠালেন। দুজনের মুখের কী আশ্চর্য মিল! হঠাৎ আমার এই মারণ রোগাক্রান্ত মানুষটাকে খুব ভালবাসতে ইচ্ছে করল, ভালবাসি জানাতে ইচ্ছে করল। মনে হল, কেন উনি আমার কাছে নেই! আমি নির্লজ্জের মত ওঁকে মেসেজ করলুম, “আই লাভ ইয়ু!” সে মেসেজে পাঠ করার দুটি নীল টিক ফুটে উঠল। তারপর, সব চুপ … পরের দু’দিন কোনও মেসেজ, কল, অন্য ফোন থেকে ওঁকে ফোন বা যোগাযোগ করার চেষ্টা - সব বিফলে গেল।


পুলিশের পক্ষ থেকে তৃতীয়দিন ফোনটা এসেছিল সন্ধ্যে ৬টা ৪৭ মিনিটে। কেজো গলায় আমার পরিচিতি নিশ্চিত করার পরে নিরাবেগ কণ্ঠে আমার স্বামীর পাহাড়ী নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করার খবর জানিয়ে শব মর্গ থেকে সংগ্রহ করার নিয়মকানুন জানিয়ে তারা ফোনটি কেটে দেয়। আমাকে অবশ্য তাঁর নিষ্প্রাণ দেহটি হিমালয় থেকে আবাহন করে আমাদের শহরে আনতে হয় নি। তরলা, ওর মামাতো ভাই সুমিত, সুমিতের বাবা-মা সেই কাপুরুষটার পোস্টমর্টেম করা দেহাবশেষ নিয়ে আমার কাছে হাজির হয়েছিলেন। “আই লাভ ইয়ু” বলার পাওনা-দেনা তো এভাবেই মেটায় চল্লিশ বছরের থাকা ও না-থাকা সম্পর্ক!


অশৌচের সময়টা তরলা আমার এই দেড়কামরার ঘরে রইলো। সুমিতরা সামলালো সমস্ত আয়োজন। আমি বারবার ওদের মুখ দেখছিলুম, আর ভাবছিলুম, ওঁর মুখের সঙ্গে ওদের দুজনেরই কী প্রচন্ড সাদৃশ্য রয়েছে। বিশেষ করে তরলা’র মুখ তো কেটে বসান যেন। আচ্ছা, এতটাই মুখের মিল কি কাকা বা মামাদের সঙ্গে কারুর হয়?


উনি গবেষণার জন্য দেহদান করে গিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশের ছুরিকাঁচি সে সম্ভাবনাকে রদ করেছিল। তবে নিজের অদ্ভুত শেষ ইচ্ছেটুকু উনি একজন লাইব্রেরিয়ানের দক্ষতায় এমনভাবে লিপিবদ্ধ করে গিয়েছিলেন, সেগুলোকে এড়ানোর পন্থা কারো জানা ছিল না। জীবনের শেষ ঝাঁপ দেওয়ার সময়েও তাঁর শরীরে শক্ত করে আটকানো ছিল একটা প্লাস্টিকের চেনবন্ধ বটুয়া, যাতে ছিল ওঁর ভোটার আই-কার্ডের প্রতিলিপি, আত্মহত্যা করার কারণ (সেই রবিবারের এক মাস আগে থেকে তিনি জানতেন এই রোগ তাঁর শরীরে বাসা বেঁধেছে ও কতটা বিস্তার লাভ করেছে, অথচ পাশে শুয়েও আমি কোনদিন তা টেরও পাই নি।), আমার এবং সুমিতের যোগাযোগের নম্বর ও কীভাবে ওঁর শেষ ইচ্ছালিপিখানি খুঁজে পাওয়া যাবে । ঐ একই পাউচে ছিল তাঁর স্মার্ট ফোনটাও। এবং কী আশ্চর্য! যে আছাড়ে একটা মানুষের প্রাণ চলে গেল, সেই পতন এবং দীর্ঘক্ষণ জলের মধ্যে থেকেও সেটাও প্রায় অক্ষতই ছিল। চার্জে বসানো থাকা অবস্থায় ছুঁলে সেটা এখন একটু শক দেয় বটে, কিন্তু যে শক জীবন আমাকে দিয়েছে, সে তুলনায় এ আর কী! এখনও সেখানে আমাদের দুজনের সব বার্তালাপ পড়া যায় ইচ্ছে করলেই।


ওঁর শেষ ইচ্ছালিপি যখন আমাদের বাড়ির দেরাজ থেকে বের করে পড়া হচ্ছে, তখন আমার অস্বস্তি আরো বাড়লো। উনি প্রত্যাশা করেছেন তরলা তাঁর অন্ত্যেষ্টিতে যোগ দেবে, সেটা অবশ্য দুই কাজিনে না জেনেই করেছিল। এই চিঠিতেই আমার জন্যে রাখা ছিল ওঁর শেষ উপরোধ! সেটা পড়ার পরে, বিশ্বাস করুন, আমার যেটুকু জিজীবিষা বাকী ছিল, চলে গিয়েছে। উনি বলেছেন, যদি ওঁর শেষকৃত্যে তরলা আসে, তাহলে আমি, যদি ইচ্ছে করি, তাহলে সেই সোনার বালাদুটো তরলাকে দিতে পারি। আমি কেন সেই আদেশ অমান্য করতে যাবো। ও জিনিশ তো চার দশকে দু’বার পরেছি, একবার ওঁর চাকরীজীবনের রৌপ্যজয়ন্তীপূর্তির সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে, আর একবার সেই সাহসিকতার জন্যে পুরষ্কার দেওয়ার বেলায়। হুহ! সাহসিকতা! তখন কে জানত, লোকটা একটা ভিতুর ডিম, ঠিক ওর মায়েরই মত! শ্রাদ্ধের দিন ওঁদের দিকের আত্মীয়স্বজন, ওঁর প্রাক্তন সহকর্মী, আমার (বর্তমান, না প্রাক্তন, এখনও জানি না, আমার অবসরের কাগজপত্র, সইসাবুদ এখনও সব ঝুলে আছে) সহকর্মীদের সামনে আমি সেটা তরলার জন্যে তুলে দিয়েছি সুমিতের মা’র হাতে। তরলা কেঁদে আকূল হচ্ছিল, আর ওর কান্নায় ভিজে যাওয়া, ভেঙে চুরমার হতে থাকা মুখে আমি স্পষ্ট হয়ে উঠতে দেখছিলুম আমার স্বার্থপর পতিটিকে, এই দীর্ঘ চার দশকে যে কর্কটরোগ, সমস্ত কান্না ছাড়াও আমার থেকে না জানি আর কীকী লুকিয়ে রেখেছে! তাঁকে আমি কোনদিন কাঁদতে দেখি নি তো! পুরুষমানুষ! সাহসী পুরুষমানুষ!


তরলা ওর ফোনে দেখিয়েছে, ওঁদের দুজনের একসঙ্গে তোলা একটা ছবি। মৃত্যুর তিনদিন আগে তোলা। যে পাহাড় থেকে ঐ কাপুরুষটা ঝাঁপ দিয়েছিল, তার কাছের একটা সরাইয়ে দুজনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। উনি আমাকে যে ছবিটা পাঠিয়েছিলেন, সেটার সেই একই পোষাক সে এখানেও পরে আছে। পেছনে একই নদীর দুর্দ্ধর্ষ পশ্চাদপট। তরলা’র কথা অনুযায়ী, উনি ওকে ডেকেছিলেন এই বলে যে ‘তোর কলেজের কাছাকাছি আসছি, অমুকদিন সন্ধ্যেবেলা তুই ফাঁকা থাকলে এসে দেখা করিস, কফি খাওয়া যাবে, আর তুই চাইলে আমাদের একসঙ্গে কয়েকটা ছবিও তোলা থাকবে!’ অবিশ্বাস করি নি সে কথা, কিন্তু বড় ধাক্কা লেগেছে, যখন জেনেছি এর আগে ওঁদের দুজনের আরো একবার দেখা হয়েছিল বছরখানেক আগে, নাকি নেহাৎই ঘটনাচক্রে, যখন নিজেদের কলেজের হয়ে তরলা এসেছিল ওঁদের কলেজে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে।


জানি, মৃত্যু অনেক কিছু মুছিয়ে দেয়, অনেক প্রশ্ন যা ছিল জ্বলন্ত জীবৎকালে, তাকে করে দেয় গুরুত্বহীন, পছন্দের না হলেও অশান্ত, বিক্ষুব্ধ , সন্দিগ্ধ হৃদয়ে ও সম্পর্কের ওপর অনেক সময়েই চাপিয়ে দেয় এক চরম অন্ত, যার বিরুদ্ধে আর কোন আবেদন-নিবেদনেই আর কোন কাজ হওয়ার নয়। কিন্তু যখন মৃত্যু থেকেই জন্ম নেয় সন্দেহ, তখন জীবিত মানুষগুলোর দুর্বিষহ জ্বালা অপনোদনের আর কোনই উপায় থাকে না। ঐ ভিতুটা ঐ কাজটা কেন করেছিল, তার যুক্তিগ্রাহ্য কোন কারণ খুঁজে না পেলেও আমি নিজেকে এই বলে সান্ত্বনা দিই যে যার মা বিংশ শতাব্দীতেও সতীর মৃত্যুবরণে গৌরব পান, তার রক্তেই আছে কাপুরুষতার বীজ, সে না পালিয়ে যাবে কোথায়! কিন্তু তরলা?


এত মুখের মিল, আমার যদি একটা মেয়ে আজ থাকত! তরলাকে দেখার পর থেকেই আমার মনে কুটকুট করা শুরু করেছে। ধরে নিই, যদি ধরে নিই, মাতাপিতৃহীন তরলা নিছকই ওঁর ভাগ্নি নয়, তরলা ওঁর …


এই অনুমানটা বোধহয় ওঁর গত একবছরের অনেক বিদঘুটে আচরণকে চমৎকারভাবে ব্যাখ্যা করে ফেলতে পারে, তাই না! এ এক অদ্ভুত চিন্তা, যা আমি বুঝে ফেলেছি বাকী জীবন আমাকে তাড়া করে বেড়াবে, কুরে কুরে খাবে! সবচেয়ে বড় কথা, এই ভাবনাটা আমি কারো সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবো না, কারো কাছে চাইতে পারবো না সহানুভূতি বা যৌক্তিক বিশ্লেষণ বা প্রতিকার, কারণ যে একটামাত্র মানুষকে অবলম্বন করে, যাকে সর্বতোভাবে বিশ্বাস করে সমস্ত সামাজিক সম্পর্ককে উপেক্ষা করে গেছি গত চারদশক, সেই লোকটাই আমাকে এই সন্দেহের মধ্যে ডুবিয়েছে। ভিতু! কাপুরুষ! সতীর বাচ্চা!


একা হওয়ার রকমফের আছে। সমস্ত পরিবার, আত্মীয়বন্ধু-চ্যুত হয়ে জীবননির্বাহ করার অভিজ্ঞতা তো আমার কমদিনের নয়। সামান্য সময়ের জন্য হলেও উনি যখন অসুস্থ কিন্তু জীবিত ছিলেন, তখনও অনুভব করেছি এক ভিন্ন ধরণের একাকিত্ব ও অসহায়তা। কিন্তু এই সন্দেহদীর্ণ যাপন অসহনীয়।


মিথ্যে বলবো না, তরলা আর ওর পিসি-কাকিরা আমার নিয়মিত খোঁজ রাখে। রোজকার স্বাচ্ছন্দ্যের খোঁজখবর নেয়, বারবার অনুরোধ করে একবার, অন্ততঃ একবার, ওদের সেই পারিবারিক ভিটেতে গিয়ে দাঁড়িয়ে ওদের ক্ষমা চাইবার সুযোগ করে দিতে। এমনকী তরলা এও বলেছিল, যদি আমি ফিরতে চাই আমার বেড়ে ওঠার সেই গঞ্জশহরটিতে, কাটাতে চাই বাকী দিনগুলো, আমার জন্যে ছোট একটা একতলা বাড়িও নাকি দেখে রেখেছে ওরা, আমার স্বাধীনভাবে থাকবার জন্যে। ভেবেছিলুম জানতে চাইবো ওদের কীসের গরজ আমাকে নিয়ে? কিন্তু সে প্রশ্ন করার আগেই তরলা উপযাচক হয়ে উত্তর দিয়েছে, “তোমার সম্পত্তির লোভে এমনটা করছি মনে হলে আমাকে বিদেয় করে দিয়ো! কিন্তু ঐ একটা সন্ধ্যের আলাপে মামা আমাকে নতুন একরকম শান্তি দিয়ে গিয়েছে মাইমা!”


“শান্তি”? “নতুন শান্তি”? “একরকম নতুন শান্তি”? শব্দেরা মাঝে মাঝে কী অসম্ভব ধারালো হয়, তাই না? এত ভালো মেয়েটা! অথচ তাকে ভালো বাসতেও পারছি না মন খুলে এই দুঃসময়ে!


ইচ্ছে করে, সময়ের কাঁটা উল্টোদিকে ঘুরিয়ে দেখি আমার মন থেকে এই কাঁটাটা উপড়ে ফেলতে পারি কিনা! সেই ধুসর, উষর, একঘেয়ে, ক্লান্তিকর প্রাত্যহিকতাকে কোনওমতে একবার, আরেকটিবার ফিরিয়ে আনা যায় যদি, যেখানে প্রতিমুহূর্তে আমাকে অবাস্তবপ্রায় সন্দেহে জর্জরিত হতে হতো না। কখনো নিজেকে শাসন করার চেষ্টা করি এই বলে যে এগুলো সবই অমূলক দুর্ভাবনা, আর তখন এক অপরাধবোধ আমাকে গ্রাস করে। কে জানে, যদি লোভে পড়ে ঐ “আই লাভ ইয়ু”টুকু না লিখতুম, হয়তো আজ জীবনটা এমন হতো না। আমাদের চল্লিশ বছরের ভালোবাসা, না-বাসার দিনগুলো তো এভাবেই কেটে গেলো, এর আগে শেষবার মুখ ফুটে প্রকাশ করেছিলুম সেই একদিনই মাত্র, যেদিন তিনি আমাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তারপরেই আবার মনে হয়, কে জানে চল্লিশ বছর যে জীবন কাটিয়েছি, তা হয়তো ধোঁকার টাটিই ছিল! পুরুষমানুষ, দিনের শেষে তো পুরুষমানুষই।


আমার জীবনের বাকি দিনগুলো নিয়ে আমার আর কোন আগ্রহ নেই। নিজের অতীত জীবনেই যেখানে এরকম এক অসঙ্গতি, ভয়, নিরাপত্তাহীনতা, সবকিছুই প্রপঞ্চময়, সেখানে আমার বয়সে এসে ভবিষ্যৎ নিয়ে কীইবা ভাবি, বলুন! শুধু জানি, আমার বর্তমানটুকু থেকে আমি ছিটকে বেরোতে চাই, ছিঁড়ে ফেলতে চাই এই দৈনন্দিনকে। কী ভাববো, তা-ই আজকাল আমার মাথায় খেলে না।


ভগবান! আমাকে ঐ ভিতুটার সাহসটুকু দাও! হে ভগবান, আমাকে ঐ কাপুরুষটার কাছে পৌছনোর সম্বলটুকু দাও!

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির

ধাঙড় মোঃ চাঁন মিয়া ফকির           বাংলাদেশে অনেকগুলো জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে | সাধারণভাবে বাংলাদেশী বলতে আমরা বুঝি দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ভূখণ্ডে বসবাসকারী বা অধিবাসী জনগণ | বাংলাদেশের সংবিধানের ৬ ধারার ২ উপধারায় বলা হয়েছে যে , বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন | বাংলাদেশীদের মধ্যে রয়েছে বাঙালি এবং কিছু উপজাতি , নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় , বিভিন্ন সময়ের শাসক শ্রেণি কর্তৃক আনিত ও বাঙালি কর্তৃক আনিত শ্রমজীবি , পেশাজীবী সম্প্রদায় |         ধাঙড় (মেথর/ঝাড়ুদার/হরিজন) একটি পেশাজীবী সম্প্রদায় | তারা শহর , বন্দর , গঞ্জ ও জনবহুল (রেলস্টেশন/বাসস্টেশন) এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ময়লা , আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজে পেশাদার শ্রমজীবি হিসেবে কাজ করে | স্থানীয় হাট বাজারে এদেরকে ভূঁইমারি বা ঝাড়ুদার বলা হয় | সমাজে ধাঙড় বা মেথরদের অবস্থান ব্রাহ্মণ , ক্ষত্রিয় , ˆ বশ্য এবং শূদ্রের বাইরে পঞ্চম হিসেবে তারা অস্পৃশ্য | এদের পর্যায়ে আরো আছে চামার , কামার , কুমার , জেলে , ব্যাধ , জোলা , ডোম যাযাবর ইত্...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। বাঙালি বিজ্ঞানী গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য ।। অনিন্দ্য পাল

  বাঙালি বিজ্ঞানী গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য  অনিন্দ্য পাল  "ডুগডুগি বাজালেই ছেলেরা সেখানে ছুটে যায় ... কেউ কেউ উলঙ্গ হয়ে চলে আসে। কোনও খেয়াল থাকে না। সেরকম আপনারাও তাদের টেনে আনুন - বিজ্ঞানের ডুগডুগি বাজিয়ে। যা শিখেছেন, বিজ্ঞানের যে খবরটি পড়েছেন সেগুলিকে তাদের কাছে নিয়ে যান ... এতে মানুষের কল্যাণ হবে, দেশের উন্নতি হবে। "--এই মন্তব্য যার, বাঙালি তাকে এখন ভুলতে বসেছে। তিনি বাঙালি বিজ্ঞানী গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্য। আত্মপ্রচারবিমুখ এই প্রকৃতি বিজ্ঞানী একদিকে যেমন আজীবন খুব কম আয়োজনে বিজ্ঞান গবেষণা করেছেন তেমনি বিজ্ঞানের কঠিন ও জটিল বিষয় গুলোকে সহজ সরল ভাবে সাধারণ মানুষের উপযুক্ত করে প্রকাশ করেছেন, যাকে বিজ্ঞান- সাহিত্য বলাই যায়।  গোপাল চন্দ্র ভট্টাচার্যের বিজ্ঞানী হয়ে ওঠা আসলে একটা সংগ্রামের ইতিহাস। প্রথাগত শিক্ষায় ম্যাট্রিক পাশ হলেও বিজ্ঞান চর্চার একটা নতুন দরজা খুলে দিয়েছিলেন। ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে আইএ তে ভর্তি হলেও আইএ পাশ করা হয়ে ওঠেনি।  সংসার চালানোর জন্য স্কুলে শিক্ষকতার চাকরি নিয়ে আবার জন্মভূমি ফরিদপুরের লোনসিং এ। প্রথমে পাশের গ্রামের পাতিসার হাইস্কুলে তা...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী দীর্ঘ গ্রহণকাল  এ যেন এক দীর্ঘ গ্রহণের কাল     নিকষ কালো অন্ধকারে   ডুবছে সবটুকু....   চারিদিকে পড়ে আছে  ধ্বংসের চিহ্ন ইতস্তত  আলো ডুবে গেছে কোন সে ধূধূ..... কত শত খোলস  নিত্য খসছে সরীসৃপের গমনাগমনের পথে.... বসতি ছেড়ে গড়ে উঠছে সরীসৃপেরই বসতি দিনে-রাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণকালের সাথে!! ফাঁদ হিংসার লেলিহান শিখায়  পুড়ছে ঘর-বার, সমাজ-সংসার,  দগ্ধ অন্তর.... রঙিন পসরায় লহুর নিশান    জীবন দুস্তর,     যাপন যাযাবর....  জয়-পরাজয়ে ত্রাসের আবহ    বাড়ছে লাশের বহর,     জুড়ে মাঠ-ঘাট প্রান্তর.... তুমি-আমি আজ ফাঁদে বন্দী     না জানি কার শিকার!      কি হবে অতঃপর.... অলীক অপেক্ষারা  ...

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল  শীতল জলের বাঁধ তুমি তো কোন মানবী নও তুমি শীতল জলের বাঁধ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তৃষ্ণার্ত চিত্তে পান করি অবাধ। ভালোবেসে আবার মুক্তও করি অলিখিত এক ধারায় সিক্ত করো চরাচর তবু ফিরে এসে ডাকো না আর আমায়। তোমার আকাশে উড়ে বেড়ায়  দুরন্ত পানকৌড়ি ডুবে ডুবে সে খুঁজেও নেয় নীরব ভাষার সুগন্ধি মৌরি। আরো কত অজানা নামে কাটায় দীর্ঘ দিন শীতের দিনের একটি বেলায় দেখা হলো, বেহিসাবী ঋণ। চমক ভাঙে নৌকা বিহারে দোদুল্ল্যমান বেশ যতবার মনে পড়ে তোমায় তুমি থাকো বিশেষ। অকাল বর্ষনে অকাল বর্ষনে বজ্র বিদ্যুৎ সঙ্গে নিয়ে  কে তুমি ডাকো? একলা পথে ভিজে রোদ্দুরে লজ্জা শরমের বালাই না রেখে  অসহায় আত্মসমর্পণ। কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে গন্তব্যে স্থির উচ্ছ্বসিত আবেগ  ফুলের গন্ধে বুদ হয়ে থেকেও  আপন মনে কাজ করে চলে। ঝড়ে কাঁপা...

তিনটি কবিতা ।। সোমনাথ লাহা

তিনটি কবিতা ।। সোমনাথ লাহা নৈঃশব্দ্যের ছায়া লুপ্ত জীবনের উঠোন ছেড়ে, শুদ্ধতায় বাঁধা পড়তে চাইছে মন— ভারহীন পৃথিবীর বুকে গণতান্ত্রিক মায়ায়। প্রবেশ ও প্রস্থানের সিঁড়িপথ বেয়ে খুঁটি গেঁড়ে, পিছনে তবু রয়ে গিয়েছে নৈঃশব্দ্যের ছায়া। নির্ভেজাল খরস্রোতা পাহাড়ের গা বেয়ে আসছে; দুঃখ এখনও, জন্মবধি, দাঁড়িয়ে রয়েছে কাঠগড়ায়। সহজাত নিপুণ হাতে আলাদা করছি প্রস্তরখণ্ডের জাল, মাইলফলকের ভিতরে এখনও রয়ে গিয়েছে নৈরাজ্য। রঙিন আলোর ভিতরে জমাট বাঁধছে অন্ধকার! গন্তব্যের রণভূমির বুকে শব্দের সমাবেশে, নিরাময়ের অনন্ত স্পর্শে রয়েছে ভারসাম্যের সমাধান। উত্তরণ বিরাট শূন্যতার মাঝে খুঁজে বেড়াচ্ছি— সুস্পষ্ট পথের ঠিকানা নিরন্তর… গোলকধাঁধা পেরিয়ে, আকাশের দিকে মাথা তুলে, খড়কুটো ধরে নিজের কাছেই পেতেছি দু’হাত। নশ্বর দুনিয়ায় খুঁজে বেড়াচ্ছি প্রত্যাশার বীজ; পটপরিবর্তনের ভাঙা রূপকথার মাঝে দাঁড়িয়ে— পাতার শব্দ শুনে, অনন্তকালের অন্তহীন পথ চলছি। হারানো অতীত এত বিষণ্ন, অস্বচ্ছ হয়! অস্তরাগের বলিরেখায় দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে আরেকবার মেঠোপথ ধরে দিকশূন্যপুরের দিকে নতুন করে শুরু কর...

তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল

  তিনটি কবিতা ।। দীপক পাল নবপ্রভাত কথা  আমি জন্মেছিলাম এক সাহিত্য প্রেমির বাড়ীর বারান্দার এক কোণে। বাড়ছিলাম একান্ত অবহেলায় একটু একটু করে তার চোখের সামনে; বারান্দায় পড়তে পড়তে সেই সাহিত্য প্রেমি হঠাৎ চেয়ে থাকত আমার পানে কি যেন ভাবতো আর খাতায় লিখে যেত অনর্গল, বোধহয় আমাকে নিয়ে। একদিন কি খেয়ালে সে আমাকে সাজালো রঙিন করে সাহিত্যের রঙে আমি হলাম খুশী, সে কিন্তু ঘুরিয়ে ফিরিয়ে আমাকে দেখে পেল খুব আনন্দ। পরে আরো কিছু সাহিত্যপ্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে গড়তে চাইলেন এক পরিবার তারা সব কিছু দেখে শুনে সংস্কৃতির পরিসরের আশায় রাজী হলেন সানন্দে। ঠিক করলেন তারা গল্প কবিতা প্রবন্ধ দিয়ে ভরিয়ে তুলবেন আমার পাতাগুলি। তারপর সাহিত্যিকরা আলোচনা করে আদর করে আমার নাম দিল নবপ্রভাত। ভাল ভাল লেখকদের ভাল ভাল লেখায় উৎকর্ষতা বাড়তে থাকলো আমার, বছর বছর আমি বড় হতে লাগলাম, তার সাথে আমারো নাম হতে থাকলো, সাহিত্য-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের মাঝে আমি পরিনত হলাম এক মহীরুহে অন লাইনে ছড়িয়ে পড়লাম আমি সবার মাঝে, দিকে দিকে বহু পাঠক হলো বইমেলায় জায়গা পেল আমার প্রকাশিত বিভিন্ন প্রকারের বই বছর বছর। থরে থরে সাজান হয় সেসব ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

যুদ্ধের দামামা ।। সুবিনয় হালদার

যুদ্ধের দামামা সুবিনয় হালদার যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে সাইরেনের শব্দ শুনতে কি পাচ্ছো ? লাল বাতি নীল বাতি ছোটাছুটি করছে , সুস্থ অসুস্থ নয় তো বা অন্য কিছু যাচ্ছে ফিসফাস চুপচাপ কানাঘুষো কত কথা হচ্ছে ; যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । ঢং ঢং আওয়াজে- রাত জাগে মানুষে- (২) চারিদিকে স্তব্ধ ঘরে ঘরে নিঃশব্দ ভেসে আসে কোলাহল- কারা করে চিৎকার- ? ধুমধাম গর্জন মনে হয় কম্পন আলোর রোশনাই সব হলো পুড়ে ছাই ; তাই শুনি বলতে বারুদে লাগাও তবে সলতে ভনিতা অনেক এবার হয়েছে লাশের পাহাড় দেখি জমেছে যুদ্ধের দামামা ওই দেখো বেজেছে । শুধু দেখি হায়- ভয়ের চাপে সরে যায় জয় কে ধরবে হাল- কে-বা দেবে চাল- ? মাঝি বুঝি নাইরে ; কল্কির কেল্লা শুরু হলো হল্লা কোথা যাবে জনগণ এ-যে বুঝি মহারণ অনেক হয়েছে দ্বন্দ্ব সোজা করো মেরুদন্ড । নাই তবে নিস্তার হও সবে সোচ্চার চাপ দাও দন্ডে ভর সাথে ভার তবে সরবে বসে বসে সবে মিলে সময় গুনছে ; তাঁর নাম করছে তাঁর বাণী পড়ছে ! যুদ্ধের দামামা ওই- দেখো- বেজেছে- । ___________________ সুবিনয় হালদার পিতা - ঈশ্বর প্রদীপ হালদার গ্রাম - দৌলতপুর পোস্ট - দিঘীরপাড় বাজার থানা - ফলতা জেলা - দক্ষিণ ২৪ পরগ...

পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার

  পয়লা বৈশাখ :  বাঙালির প্রাণের উৎসব উৎপল সরকার গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গে পয়লা বৈশাখ মানেই মাটির গন্ধে ভরা এক সহজ, আন্তরিক আনন্দের উৎসব। কাঁচা রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মেলার দিকে যাওয়া, লোকগানের সুর, আর প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সুখ—সব মিলিয়ে এক গভীর মায়াময় যাপনের অনুভূতি তৈরি হয়। অন্যদিকে শহুরে পশ্চিমবঙ্গে এই দিনটি ধরা দেয় একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মাঝেও নতুন পোশাক, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়ায় উৎসবের রূপ বদলায়, কিন্তু আনন্দের সুর একই থাকে। পয়লা বৈশাখ বাঙালির জীবনে এক বিশেষ দিন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এটি শুধু নতুন বছরের শুরু নয়, বরং নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর শেকড়কে নতুন করে মনে করার বহমান একটি সুন্দর উপলক্ষ। এই দিনটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালির মিলন উৎসব, যেখানে আনন্দ আর আশার বার্তা একসঙ্গে ধ্বনিত হয়। পয়লা বৈশাখ আসার কয়েক দিন আগে থেকেই উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বাড়ির ছোট-বড় সবাই মিলে ঘরদোর পরিষ্কার করে, নতুন করে সাজিয়ে তোলে। দোকানপাটেও তখন আলাদা ব্যস্ততা দেখা যায়। ব্যবসায়ীরা নতুন বছরের শু...

শিক্ষক—আলোর দিশারী ।। অর্পিতা মল্লিক

শিক্ষক—আলোর দিশারী অর্পিতা মল্লিক শিক্ষা এমন এক শক্তিশালী অস্ত্র যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হলে জাতির উন্নতি হয়। কাউকে অপমান করতে যোগ্যতা না লাগলেও সন্মান করতে যোগ্যতা লাগে আর প্রকৃত শিক্ষাই সেই যোগ্যতা তৈরি করে। 'শিক্ষা হলো জাতির মেরুদণ্ড '... প্রকৃত শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান দেয় না, মনুষ্যত্ব শেখায় , অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত করে। আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক বাবা মা। শিশু জন্মের পর বাবা মায়ের থেকে প্রাথমিক আচার আচরণ শেখে। ছোট থেকে অন্যর সাথে নিজের বাচ্চাকে তুলনা করা উচিত নয় -- এতে বাচ্চার হীনমন্যতা তৈরি হয়। প্রত্যেক বাচ্চার‌ই নিজস্বতা থাকে। বাবা মায়ের উচিত প্রতিযোগিতায় না ঠেলে নিজস্বতা বিকাশে সাহায্য করা।  প্রকৃত শিক্ষা পুঁথিগত শিক্ষাতে আবদ্ধ নয় বরং এটি একটি নিরন্তর প্রক্রিয়া—যা মানুষকে ঠিক ভুল বিচার করতে শেখায় , সুন্দর ও সুস্থ সমাজ গঠনে সাহায্য করে। সত্যিকার অর্থে শিক্ষিত ব্যক্তি সে ,যে জ্ঞানকে ব্যবহার করে শুধু নিজেকে নয় সমাজকেও উন্নতির পথে নিয়ে যায়। শিক্ষা প্রসারের প্রধান ভিত্তি হলো শিক্ষক।'গুরু বিনা জ্ঞান নাই'...শিক্ষক ছাত্র ছাত্রী...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,