চারটে কবিতা ।। রণেশ রায়
ইচ্ছের জাগরণ
তুমি করতে পারো না তা নয়,
তুমি করতে চাও না;
তাই তো হয়ে যাও অকর্মা।
তুমি বলতে পারো না তা নয়,
তুমি বলতে চাও না;
তাই রয়ে যাও অবলা।
তুমি চলতে পারো না তা নয়,
তুমি চলতে চাও না;
তাই হয়ে পড়ো অচলা।
তুমি চোখে দেখো না তা নয়,
তুমি দেখতে চাও না;
তাই জীবনটা রয়ে যায় অদেখা।
তুমি শুনতে পারো না তা নয়,
তুমি শুনতে চাও না;
তাই রয়ে যাও অশ্রুতা।
তুমি বোঝো না তা নয়,
তুমি বুঝতে চাও না;
তাই হয়ে পড়ো অবুঝ।
তাই তো বলি তোমায়—
ইচ্ছেটা এবার জাগিয়ে তোলো;
করো, চলো, বলো, দেখো, বোঝো আর শোনো।
অকর্মণ্য হয়ে থেকো না আর,
জেগে উঠুক তোমার প্রাণসত্তা;
ফিরে পাও নিজেকে নিজে।
আকাশ, বাতাস, মানুষ আর প্রকৃতি,
এই সুন্দর জীবন—
সবাই হয়ে উঠবে আপনজন।
রাগ, অনুরাগ, বিরহ কিংবা মিলন—
হাতছানি দিয়ে যায় সবাইকে;
তুমি শুনবে জীবনে নতুনের গান।
প্রাণবন্ত এক মানুষ তুমি,
স্বাদে, আস্বাদে আর সুবাসে—
খুঁজে পাবে জীবনের স্বজনে।
আজও চিনিনি তোমাকে
রণেশ রায়
০৯/০৬/২০২৬
আজও চিনিনি তোমাকে—
ভালো না মন্দ,
নরম না গরম,
দয়ালু না নির্দয়।
হয়তো কোন একটা,
নয়তো দুটোই;
হতেও পারে কোনটাই নও,
শুধুই ভনিতা।
সে যেটাই হও,
আমার কিছুই না;
আমি যে তোমাকে চিনিই না।
তবু আমার ভয়—
যদি হও মন্দ,
আমার কী হবে ভালো?
না, হতে পারে মন্দ।
আর যদি তুমি গরম,
পুড়ব আমি—পোড়া কপাল।
কিন্তু যদি তুমি দুটোই হও,
ভয় আমার আরও বেশি;
থাকতে হবে সাবধান,
নাকি নিজের মতো স্বাধীন?
কী জানি! বুঝি না তুমি কোনটা,
কোনটায় আমার ভালো।
কথার খেলাঘর
কথাটা আমার
এই আসে, এই যায়,
মুহূর্তে কোথায় হারায়,
বিস্মৃতির সমুদ্রে ভেসে যায়।
রুগ্ণ অতীতের শয্যায়
আমার কবিতা থাকে অবলায়,
আমি বাকহারা পড়ে থাকি
নির্জন নিরালায়।
কখন যে ঘুমিয়ে পড়ি,
নেই আমার জানা;
নিভে আসে মনের প্রদীপ,
থেমে যায় কথার আনাগোনা।
সুশ্রুষায় সেরে ওঠে স্মৃতি,
আমার হৃদয়-প্রণয়িনী—
ফিরিয়ে আনে কথা আমার,
জাগিয়ে তোলে হারানো বাণী।
আমি ফিরে পাই কথা,
ঘুম থেকে জেগে উঠি,
মুহূর্তে অক্ষরে অক্ষরে
সেজে ওঠে কবিতা।
নবচেতন
বিশাল, বিশাল এক ভাবনা
ছুটে আসে আমার চেতনায় ,
খুলে যায় রুদ্ধ দুয়ার,
মালা গাঁথে অক্ষরে অক্ষরে,
সেজে ওঠে কবিতায়।
জেগে ওঠে আমার চেতনা,
বলে যায় জীবনের কথা;
আমি বেরিয়ে আসি খোলা উঠোনে,
আকাশের নিচে, মাটির কাছে,
মুক্ত বাতাস দোল খায় মাথায়।
না-বলা কথা ভাষা পায়,
প্রলয়-বৈশাখী ঝঞ্ঝায়
নামিয়ে আনে জমে থাকা মেঘ;
ভেঙে পড়ে বর্ষার ধারায়,
আশ্বিনের আগমনী সুরালায়
জীবন-ক্ষেতে ফলে সোনালি ফসল।
আমার জমে থাকা বিষাদ-বেদনা
স্বাদে, সুবাসে, উচ্ছ্বাসে
নেচে ওঠে প্রাণের কল্লোলে;
তখন আমার কবিতা
পথ দেখায় আমাকে।
পথের খোঁজে
পথের খোঁজে পথে নেমেছি,
পথই আমায় পথ দেখায়;
পথের বাঁকে পথ দু'দিকে,
কোন পথে যাই, মন ভাবায়।
দু'টি পথের দ্বিধার মাঝে
বেছে নিতে হয় নিজের চলা ;
সঠিক ভুলের হিসেব কষে
গড়ে ওঠে পথচলাটা।
চলার পথে বাধা আসে,
আসে কত সংশয়-ভয়;
তবু পথিক থামে না কভু,
চলাতেই তার পরিচয়।
পথের শেষে নতুন পথের
আহ্বান ভেসে আসে হায়;
পথের খোঁজে পথে নেমেছি,
পথই আমায় পথ দেখায়।
Comments
Post a Comment