Skip to main content

গল্প ।। সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি ।। দীনেশ সরকার


 

   সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি

 

 দীনেশ সরকার   

 

 

                   প্রায় দু’শ বছর আগে পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সমসাময়িক আর এক পন্ডিত মদন মোহন তর্কালংকার তার “আমার পণ” কবিতায় লিখেছিলেন, ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি / সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।‘ সারাদিন ভালো হয়ে চলা যে কি দুরূহ কঠিন কাজ তা সত্যসুন্দরবাবুর চেয়ে ভালো আর কে জানেন!  ছা-পোষা কেরানি সত্যসুন্দরবাবু ইতিপুর্বে বেশ কয়েকবার সকালে উঠে পণ করেছেন, ‘আজ আমি ভালো হয়ে চলব। কারও সাথে খারাপ ব্যবহার করব না, কাউকে কটু কথা বলব না, অহেতুক উত্তেজিত হব না, কারণে-অকারণে মেজাজ হারাব না। সবার সাথে সারাদিন সুমধুর ব্যবহার করব।‘ কিন্তু দিনের কোন না কোন সময়ে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যাতে তিনি নিজেকে সামলাতে পারেন নি। উত্তেজিত হয়েছেন, রাগারাগি করেছেন। একবার তো সারাদিন ভালোয় ভালোয় কাটিয়ে, একটুও রাগারাগি না করে রাত্রে বিছানায় শুয়ে মনে মনে বলতে যাবেন, ‘আমি পেরেছি, একটা দিন আমি ভালো হয়ে চলতে পেরেছি।‘ কিন্তু মনে মনে বলার আগেই কলঘর থেকে গিন্নির চিৎকার, ’ও, বাবাগো, মরে গেলাম গো।‘

                 সত্যসুন্দরবাবু কলঘরে ছুটলেন। গিন্নি পা পিছলে চিৎপটাং। সত্যসুন্দরবাবুর মেজাজ বিগড়ে গেল, ‘একটু দেখেশুনে পা ফেলতে পার না। জানই তো কলঘরটা একটু পিচ্ছিল হয়েছে। আমি তো রোববারের আগে ঘষামাজা করতে পারব না। দুটো দিন একটু দেখে শুনে পা ফেলতে পারলে না।‘

                 গিন্নিও চিৎকার করে উঠলেন, ‘আমি কি ইচ্ছে করে পড়েছি নাকি! আমি তো কলতলায় এঁটো বাসনপত্র রাখতে গেছিলাম। আর তখনই পা পিছলে - - -, ‘ও বাবা গো, ব্যথার পা-টায় আবার ব্যথা লাগল।‘ 

                 সত্যসুন্দরবাবু গিন্নিকে ধরে ধরে শোয়ার ঘরে এনে বিছানায় বসিয়ে পায়ে বরফ ঘষার জন্য বরফ আনতে ফ্রিজ খুলে দেখেন ফ্রিজ সাফ, ফ্রিজে কোন বরফ নেই। শোয়ার ঘর থেকে গিন্নি চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘ওগো, তুমি বরফ পাবে না। আজ আমি ফ্রিজের ভিতরটা পরিষ্কার করেছি। তারপর আর ফ্রিজে বরফের জল রাখা হয় নি।‘

                শুনে সত্যসুন্দরবাবুর মেজাজ সপ্তমে উঠল, ‘এত রাতে আমি কার বাড়ি তোমার জন্য বরফ চাইতে যাব!’

                গিন্নি বললেন, ‘ওগো, বরফ লাগবে না। তুমি আমার পায়ে একটু আয়োডেক্স মালিশ করে দাও।‘

              গিন্নির পায়ে আয়োডেক্স মালিশ করতে করতে সপ্তমে ওঠা মেজাজে সত্যসুন্দরবাবু ভাবতে লাগলেন, ‘আয়োডেক্স এ যদি কাজ না হয়, যদি মচকে গিয়ে থাকে তবে তো কালই ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যেতে হবে। কিন্তু কাল তো আমার অফিস ইন্সপেকশন, কোনভাবেই ছুটি নেওয়া যাবে না। একি ফ্যাসাদে পড়লাম রে বাবা।‘

              সারাদিন নিজেকে সংযত রেখেও শোয়ার সময় আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না, মেজাজ হারালেন। তাই সেদিনের মতো ভালো হয়ে চলা আর হ’ল না।

             

              কিন্তু ছাড়বার পাত্র নন সত্যসুন্দরবাবু। আজ আবার সকালে উঠেই মনে মনে পণ করলেন, ‘আজ আমি সারাদিন ভালো হয়ে চলব। মানুষ এত অসাধ্য সাধন করছে আর আমি একটা দিন ভালো হয়ে চলতে পারব না! যাই ঘটুক না কেন আজ আমি মেজাজ হারাব না, রাগারাগি করব না, কারও সাথে বাগবিতন্ডা, ঝগড়াঝাঁটি কিছুই করব না। আজ আমি ভালো হয়ে চলবই চলব।‘

              সকালে চা খেয়ে সত্যসুন্দরবাবু বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাজারে বের হতে যাবেন, রান্নাঘর থেকে আঁচলে হাত মুছতে মুছতে গিন্নি বললেন, ’আমার পায়ের জেলটা ফুরিয়ে গেছে, হাঁটুর ব্যথাটা আবার বেড়েছে। একটা জেল নিয়ে এসো।‘

               অন্যদিন হলে সত্যসুন্দরবাবু মেজাজ চড়িয়ে বলতেন, ‘আজ মাসের ছাব্বিশ তারিখ সে খেয়াল আছে তোমার। মাসের শেষে ছা-পোষা কেরানিদের পকেটের কি হাল হয়, এত বছর সংসার করছ সেটা কি তুমি জান না? পাঁচ দিন পরে জেলটা আনলে কি খুব অসুবিধা হবে?’ 

               গিন্নিও সুর চড়াতেন, ‘থাক্‌, আনতে হবে না। অত কথার কাজ কি! আমি ব্যথায় কাতরালে তোমার কি!’

                সত্যসুন্দরবাবু গরম মেজাজেই বলতেন, ‘ঠিক আছে এসে যাবে।‘

                কিন্তু আজ? আজ একমুখ হেসে বললেন, ‘ঠিক আছে গো। নিয়ে আসব।‘

               গিন্নি চমকে উঠলেন, লোকটা তো এভাবে কথা বলে না। কিছুক্ষণ স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে রান্নাঘরে ঢুকে গেলেন। 

               মেয়ে পড়ার ঘর থেকে বলল, ‘বাবা, বাজার যাচ্ছ? কবে থেকে বলছি আমার অঙ্কখাতা এনে দাও। আর মাত্র চার-পাঁচটা পাতা বাকি আছে। তুমি আজকেই আমার অঙ্কখাতা নিয়ে আসবে।‘

               অন্যদিন হলে সত্যসুন্দরবাবু বলতেন, ‘মাসের শেষ, আর তোর অঙ্কখাতা ফুরিয়ে গেল। চার-পাঁচটা দিন দেরি কর না। এক তারিখে ঠিক তোর অঙ্কখাতা এনে দেব।‘

               কিন্তু আজ সত্যসুন্দরবাবু খুব মোলায়েম করে বললেন, ‘ঠিক আছে মা, তুই অঙ্ক কর, আমি তোর অঙ্কখাতা আজই নিয়ে আসব।‘  

              কাছেই বাজার। যাওয়ার সময় পায়ে হেঁটেই যান, আসার সময় ব্যাগ যখন বেশ ভারী হয় তখন একটা টোটো নিয়ে ফেরেন নাহলে হেঁটেই ফেরেন। এতে যেমন শরীরচর্চা হয়, তেমনি পাঁচটা মানুষের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হয়, আলাপ পরিচয় হয়। এই আজ যেমন রাস্তায় পা রাখতেই প্রতিবেশী ভবানীবাবুর মুখোমুখি। ভবানীবাবু মোহনবাগানের অন্ধ ভক্ত আর সত্যসুন্দরবাবু ইস্টবেঙ্গলের কট্টর সমর্থক। ভবানীবাবু দাঁড়িয়ে পড়ে শুরু করলেন, ‘কি সত্যবাবু, মোহনবাগানের কাছে আবার হারলেন তো। আপনার ইস্টবেঙ্গলের কি আছে বলুন তো? না আছে ভালো স্ট্রাইকার,না আছে ভালো ডিফেন্ডার।‘

             অন্যদিন হলে সত্যসুন্দরবাবু মুখের উপর জবাব দিতেন, ‘পাঁচ গোলের ঘা এখনও তো শুকায় নি। এত বছরেও তো বদলা নিতে পারলেন না। তা অত বড়াই কিসের?’

               কিন্তু আজ পণ করেছেন, অহেতুক বাগবিতন্ডায় জড়াবেন না। তাই মিষ্টি হেসে বললেন, ‘খেলা মাত্রেই তো হার-জিৎ আছে ভবানীবাবু। আপনারা ভালো খেলেই জিতেছেন। আচ্ছা, চলি, বাজারে দেরী হয়ে যাচ্ছে।‘ ভবানীবাবু সত্যসুন্দরবাবুর দিকে হা করে তাকিয়ে রইলেন। এ কোন্‌ সত্যবাবু, পাঁচ গোলের খোঁচা না দিয়েই বাজারে চলে গেল।

                 মাছ বাজারে ঢুকে জ্যান্ত কাতলা মাছের দর জিজ্ঞেস করলেন। মাছওয়ালা বলল, ‘তিন শ টাকা।‘

                  সত্যসুন্দরবাবু বললেন, ‘ওজন কর।‘

                 মাছওয়ালা একটু চমকে উঠল। যে লোকটা তিনশ টাকা বললে আড়াইশ টাকা থেকে দরদাম শুরু করে দু’শ আশি টাকায় রফা করে সে আজ এক কথায় তিনশ টাকায় রাজি হয়ে গেল। মাছওয়ালা একটু হকচকিয়ে গেল। জিজ্ঞেস করল, ‘বাবু আপনার শরীর ঠিক আছে তো। মুখ-চোখ কেমন শুকনো শুকনো লাগছে।‘

                  সত্যসুন্দরবাবু বললেন, ‘না-না, আমি ঠিক আছি। একটু তাড়া আছে এই আর কি।‘

             মাছ ওজন হ’ল। মাছওয়ালা চোখের সামনে দাঁড়ি মারল দেখেও সত্যসুন্দরবাবু কিছুই বললেন না। অন্যদিন হলে দুবার ওজন করতে বলতেন, দুটো কথা শোনাতেন। মাছের দাম মিটিয়ে সবজি বাজারে ঢুকলেন।  

                সবজিবাজার আগুন। দরদাম করলে কথাকাটাকাটি, বাগবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। আজ আর কোন দরদাম নয়। কোন্‌ জিনিসটা কতটা লাগবে সবজিওয়ালাকে শুধু সেটাই বলতে লাগলেন। সবজিওয়ালা একটু অবাকই হ’ল। যে খিটখিটে লোকটা দরাদরি না করে কোন সবজি কেনে না সে আজ কোন জিনিসের দাম পর্যন্ত জিজ্ঞেস করছে না। ব্যাপারটা তার কাছে গোলমেলে মনে হ’ল। সত্যসুন্দরবাবু সবজি নিয়ে বুঝলেন ব্যগটা ভালোই ভারী হয়েছে। টোটো নিতে হবে। গিন্নির হাঁটুব্যথার জেল আর মেয়ের অঙ্কখাতা নিয়ে সত্যসুন্দরবাবু টোটোওয়ালার কাছে গিয়ে কত নেবে জিজ্ঞেস করতে টোটোওয়ালা পঞ্চাশ টাকা হাঁকল। অল্প দূরত্ব, অন্যদিন হলে দরদাম করে ওটা ত্রিশ টাকায় দাঁড় করাতেন। কিন্তু আজ কিছু না বলে টোটোয় উঠে পড়লেন। টোটোওয়ালাও একটু অবাক হ’ল। লোকটা দরদাম না করে তো কোনদিন টোটোয় চাপে না। আজ লোকটার হ’লটা কি!  

                 নাকে-মুখে গুঁজে ট্রেন ধরার জন্য বের হতেই পিছন থেকে গিন্নি ডাকলেন, ‘ওগো শুনছ, আমি তোমাকে বলতে একদম ভুলে গেছি। লক্ষ্মীর মা আজ পাঁচশ টাকা নেবে, কাল বলে গেছে। তুমি পাঁচশ টাকা রেখে যাও।‘

                  অন্যদিন হলে সত্যসুন্দরবাবু পিছু ডাকার জন্য রেগেমেগে বলতেন, ‘এই তো দিন তিনেক আগে পাঁচশ টাকা নিল। আজ আবার পাঁচশ। মাসের শেষে তাহলে আর কতটুকু হাতে পাবে? ওকে বলে দিও, মাস শেষ হলে  একবারে পুরো টাকা নিয়ে নিতে।‘

                   গিন্নি বলতেন, ‘আহা, ওর টাকার দরকার বলেই তো চাইছে। শেষে যদি টাকা দাও নি বলে কাজ ছেড়ে দেয় তখন কি হবে?’    

                  কিন্তু আজ আর সত্যসুন্দরবাবু কোনরূপ বাগবিতন্ডায় জড়ালেন না। পার্স খুলে গিন্নির হাতে পাঁচশ টাকা দিয়ে দেখলেন পার্সে আর কয়েকশ টাকা পড়ে আছে। আবার এ টি এম থেকে টাকা তুলতে হবে। ঘর থেকে এ টি এম কার্ডটা নিয়ে সত্যসুন্দরবাবু ট্রেন ধরতে ছুটলেন।   

                   প্লাটফর্মে পৌঁছে দেখলেন রোজকার মতো আজও থিকথিক করছে মানুষ। অফিস টাইমের চেনা ছবি। লোকাল ট্রেন দাঁড়াতেই হুড়মড়িয়ে সবাই উঠতে লাগল। যে দুএক জন নামার লোক ছিল তারা নামতে পারছে না দেখে তাদেরকে টেনে টেনে নামিয়ে দেওয়া হ’ল। তারপর ধাক্কাধাক্কি করে কোনরকমে ট্রেনের হ্যান্ডেলটা ধরতে পারা। সত্যসুন্দরবাবু ধাক্কাধাক্কি করে ট্রেনে উঠলেন বটে কিন্তু ভিতরে ঢুকতে পারলেন না। দরজার পাশে হ্যান্ডেল ধরে দাঁড়িয়ে রইলেন। ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে তখনও কেউ কেউ দরজার বাইরে ঝুলছে। যারা দরজায় দাঁড়িয়ে তারা ‘মারো টান হেঁইয়ো’ করে যারা ঝুলছিল তাদেরকে গরু-গাধার মতো দরজার ভিতরে ঢুকিয়ে নিল। একজনের কনুই এসে লাগল সত্যসুন্দরবাবুর বুকে। সত্যসুন্দরবাবু মুখ বুঁজে সহ্য করলেন। এটুকু ধাক্কাধাক্কি সহ্য করতে না পারলে আর ডেলি প্যাসেঞ্জার কিসের। মনে মনে হাসলেন সত্যসুন্দরবাবু। এই ভিড়ের মধ্যেই এক ঝাল্মুড়িওয়ালা তার কাঁধে মুড়ির টিন নিয়ে পাঁকাল মাছের মতো ঠেলেঠুলে ট্রেনের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করতেই মুড়ির টিনটা ঠক করে লাগল সত্যসুন্দরবাবুর মাথায়। অন্যদিন হলে রেগেমেগে মুড়িওয়ালাকে দু-চারটে কথা শুনিয়ে দিতেন, ‘তোরা এই অফিস টাইমটাকে ছাড় দিতে পারিস্‌ না! মুড়ির টিন নিয়ে ভিতরে ঢুকবি কি করে আর মশলামুড়ি বানিয়ে বেচবি কি করে। শুধু শুধু ধাক্কাধাক্কি করছিস্‌।‘

                  মুড়িওয়ালা শান্তভাবে জবাব দিত, ‘কী করব বাবু। পেটের দায়ে ধাক্কাধাক্কি করছি। আপনি একটু ওইদিকটায় মাথাটা বেঁকিয়ে রাখুন আমি ঠিক ঢুকে যাব।‘

                   সত্যসুন্দরবাবু সুর চড়িয়ে বলতেন, ‘তোদের জ্বালায় এবার আমাদের অফিস যাওয়া ছেড়ে দিতে হবে। যত্তসব!’

                   কিন্তু আজ? মুড়ির টিনটা মাথায় লাগলেও খুব শান্তভাবে বললেন, ‘একটু দেখে শুনে টিনটা নিয়ে যা ভাই।‘

                ‘কী করব বাবু’ বলে মুড়িওয়ালা পাঁকাল মাছের মতো গলে গলে ট্রেনের ভিতরে ঢুকে গেল। সত্যসুন্দরবাবু মনে মনে হাসলেন, ‘আমিও তো পেটের দায়ে ধাক্কাধাক্কি করে অফিস যাচ্ছি আর মুড়িওয়ালাও পেটের দায়ে ধাক্কাধাক্কি করে মুড়ি বেচছে। দুজনেরই উদ্দেশ্য এক।‘   

                   শিয়ালদা স্টেশনে ট্রেন থামতেই লাভাস্রোতের মত জনস্রোত আছড়ে পড়ে প্লাটফর্মে। মুহূর্তে সারা প্লাটফর্মে থিকথিক করে কালো মাথা। যাদের ডালহাউসিতে অফিস তারা ট্রেন থেকে নেমে পায়ে হেঁটেই গলির ভিতর দিয়ে ডালহাউসি পৌঁছে যায়। বাসের জন্য অপেক্ষা, তারপর শম্বুকগতির বাসে চেপে ডালহাউসি যাওয়ার চেয়ে পায়ে হেঁটে যাওয়াই তাদের কাছে শ্রেয়। সত্যসুন্দরবাবু ট্রেন থেকে নেমে ডালহাউসির উদ্দেশ্যে হনহনিয়ে হাঁটা লাগালেন। চলার পথে প্রথম যে এ টি এমটি পেলেন সেখানে ঢুকে দেখলেন মেসিনের গলায় হার পরানো। হারের লকেটে লেখা “ Out of Order”, দ্বিতীয় এ টি এম কাউন্টারে ঢুকেও টাকা তুলতে পারলেন না। মনে হ’ল, “Link failure.” কিন্তু তার রাগ হ’ল না। মনে মনে হাসলেন, হায় রে ডিজিটাল ইন্ডিয়া।

                   গলদঘর্ম হয়ে সত্যসুন্দরবাবু অফিসে এসে ঢুকলেন। ওয়াশরুমে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে নিজের চেয়ারে এসে বসলেন। এখন তার প্রথম কাজ এক গ্লাস জল খাওয়া। কিন্তু ক্যান্টিনবয় অমল আজ জলের গ্লাস টেবিলে রাখে নি তো। কী ব্যাপার! অন্যদিন হলে চেঁচিয়ে অফিস মাথায় করতেন, ‘কিরে অমল, জল কি তোর কাছ থেকে চেয়ে চেয়ে খেতে হবে? জলের জন্য তুই পয়সা পাস্‌ না!’

                    অমল জল নিয়ে ছুটে আসত। কাচুমাচু মুখ করে বলত, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে। জল গ্লাসে ভরে রেখেছিলাম, দিতে ভুলে গেছি।‘

                     সত্যসুন্দরবাবু চেঁচিয়ে বলতেন, ‘এ রকম ভুল যেন আর না হয়।‘

                  আজও তো অমল সেই একই ভুল করেছে। জল দিতে ভুলে গেছে। সত্যসুন্দরবাবুর ইচ্ছা হচ্ছিল চেঁচিয়ে অমলকে ডেকে দুটো কথা শুনিয়ে দিতে। কিন্তু না, আজ তিনি কোনমতেই উত্তেজিত হবেন না। অতিকষ্টে নিজেকে সংযত করলেন। কাজে বসে গেলেন।

                   একটু পরে অমল চা দিতে এসে দেখে সত্যসুন্দরবাবুকে জল দেওয়া হয়নি। ‘ইস্‌ আপনাকে জল দেওয়া হয়নি’ বলেই একছুটে ক্যান্টিন থেকে জলের গ্লাস এনে সত্যসুন্দরবাবুর টেবিলে রেখে বলল, ‘আমার বড় ভুল হয়ে গেছে। আসলে জল ভরে আপনাকে গ্লাসটা দিতে আসার সময় দেখি চায়ের দুধটা উতলে উঠেছে। দুধ দেখতে গিয়ে আপনাকে জল দিতে ভুলে গেছি।‘

                  অন্যদিন হলে সত্যসুন্দরবাবু অমলকে দুচার কথা শুনিয়ে দিতেন। কিন্তু না, আজ তিনি কোনভাবেই কটুকথা বলবেন না। মৃদু হেসে বললেন, ‘ভুল তো মানুষেরই হয় রে। দে দেখি, জলের গ্লাসটা বাড়িয়ে দে, জলটা খাই। তারপর চা দে।‘   

                   সত্যসুন্দরবাবুর কথা শুনে অমল চমকে উঠল। সে তো তার ভুলের জন্য সত্যসুন্দরবাবুর কাছে বকা খেতে মনে মনে প্রস্তুত ছিল। সত্যসুন্দরবাবু তো বকলেন না, উলটে মিষ্টি করে কথা বলছেন। ওনার আজ হ’লোটা কী!’

                    কিছুক্ষণ পরে পিয়ন কালীপদ এসে বলে গেল, ‘বড়বাবু আপনাকে ডাকছেন।‘ 

                   সত্যসুন্দরবাবু ছুটলেন বড়বাবুর ঘরে। বড়বাবু বললেন, ‘বসুন সত্যবাবু।  হেড অফিস থেকে একটা জরুরি চিঠি এসেছে, আজই তার রিপ্লাই দিতে হবে। কাজটা মানিকবাবুর। কিন্তু মানিকবাবু দুদিন আসবেন না । আমি ফাইলটা আপনার টেবিলে পাঠিয়ে দিচ্ছি আপনি একটু রিপ্লাইটা করে দিন প্লীজ।‘

                   অন্যদিন হলে সত্যসুন্দরবাবু তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠতেন। বলতেন, ‘কেউ না এলে তার কাজটা আপনি আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেন। আমার কাজটা কে করবে বলুন তো? অফিসে তো আরও লোক আছে, তাদের দিয়েও তো কাজটা করাতে পারেন। তা না করে অন্যের কাজটা সবসময় আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেন। এটা ঠিক না।‘

                  বড়বাবু জানেন তাকে রাগলে চলবে না। সত্যবাবুকে দিয়েই কাজটা করাতে হবে। তিনি মৃদু হেসে বলতেন, ‘অন্যের সঙ্গে আপনি আপনার তুলনা করছেন সত্যবাবু। আপনি জানেন না ওদের কাজের standard. কি রকম ভুলভাল করে। প্রতিটা ফাইল আমাকে correction করে আবার টেবিলে ফেরৎ পাঠাতে হয়। আপনাকে কাজ দিয়ে আমি নিশ্চিন্তে থাকি। শুধু সই করে ফাইল ছেড়ে দিই।‘

                 সত্যসুন্দরবাবু উত্তেজিত হয়ে বলতেন, ‘ তাহলে এবার থেকে আমিও ভুলভাল করব। তখন বুঝবেন।‘

                বড়বাবু হাসতে হাসতে বলতেন, ‘আপনি চেষ্টা করলেও পারবেন না সত্যবাবু। এত বছর আপনাকে দেখছি। আমি মানুষ চিনি সত্যবাবু।‘  

                 সত্যসুন্দরবাবু রাগে গাঁইগুঁই করতে করতে নিজের টেবিলে ফিরে আসতেন।

                কিন্তু আজ? আজ উনি কোনভাবেই রাগারাগি করবেন না। সত্যসুন্দরবাবু হেসে বললেন, ‘ঠিক আছে স্যার, ফাইলটা পাঠিয়ে দিন। আমি রিপ্লাই করে দিচ্ছি।‘  

               সত্যসুন্দরবাবু নিজের টেবিলে ফিরে এলেন। বড়বাবু অবাক হয়ে ভাবতে লাগলেন, ‘লোকটার আজ হ’লটা কী! একটুও রাগারাগি করল না। হাসিমুখে কাজটা করতে রাজি হয়ে গেল!’   

               ছুটির পরে অফিস থেকে বেরিয়ে অফিসের কাছাকাছি এক এ টি এম কাউন্টারে গিয়ে দেখলেন কয়েকজনের লাইন আছে। তারমানে এ টি এম ঠিক আছে, এখানে টাকা পাওয়া যাবে। সত্যসুন্দরবাবু লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লেন। একটু পরে দেখলেন, একজন “কী রে, কেমন আছিস্‌?” বলে আরএকজনের সামনে ঢুকে পড়ে খোশমেজাজে গল্প করে যাচ্ছে। যেন লাইনের মাঝে ঢুকে পড়াটা তার জন্মগত অধিকার। রাগে সত্যসুন্দরবাবুর মাথাটা গরম হয়ে গেল। ইচ্ছে হচ্ছিল টেনে লাইন থেকে বার করে এনে সবার পিছনে দাঁড় করিয়ে দিতে। তবেই ওদের উচিৎ শিক্ষা হবে। কিন্তু না, আজ তিনি রাগারাগি করবেন না। অতিকষ্টে নিজেকে সংযত করে লাইনে দাঁড়িয়ে রইলেন। শেষে টাকা তুলে ছুটলেন শিয়ালদা স্টেশনের দিকে।

                আবার গাদাগাদি ভিড়, ঠেলাঠেলি, হকারদের উপদ্রব। এসব সইতে না পারলে ডেলি প্যাসেঞ্জার কিসের! অন্যদিন হলে তবু রাগারাগি করতেন, মৃদু প্রতিবাদ করতেন। কিন্তু আজ সবকিছু মুখবুঁজে সহ্য করলেন।

                গেট খুলে বাড়িতে ঢুকে দেখলেন ঘরের সামনে কয়েকজন যুবক দাঁড়িয়ে। তাদের একজন বলে উঠল, ‘এই যে কাকু এসে গেছে।‘

                সত্যসুন্দরবাবু বললেন, ‘তোমরা?’

               দলের পান্ডা জবাব দিল, ‘কাকু আমরা ‘অগ্রগামী’ সংঘ থেকে এসেছি। শ্যামাপুজোর চাঁদার জন্য।‘ ‘অগ্রগামী সংঘ’ পাশের পাড়ার ক্লাব। ওরা শ্যামাপুজো করে, প্রতিবছরই চাঁদা নিয়ে যায়। বসবাস করতে গেলে খাওয়াদাওয়া হোক আর না হোক পুজোর চাঁদা দিতেই হবে, এটা সত্যসুন্দরবাবু ভালোমতোই জানেন।

              দলের একজন বলে উঠল, ‘গতবার আপনি পাঁচশ টাকা দিয়েছিলেন, এবার কিন্তু কাকু হাজার টাকা দিতে হবে। বুঝতেই তো পারছেন বাজার আগুন, জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। বিল দিয়ে যাচ্ছি। আমরা দু তারিখে আসব টাকা কালেকশন করতে।‘

                অন্যদিন হলে রেগেমেগে বলতেন, ‘জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া সে আমি জানি। তাই বলে পাঁচশ টাকাটা বেড়ে একলাফে হাজার টাকা? এটা কি যুক্তিগ্রাহ্য। গতবার পাঁচশ ছিল এবার ছ’শ নাও। এর বেশি আমরাই বা দেব কোত্থেকে বলতে পার?’

               তখন হয়তো ছেলেরা বলত, ‘ঠিক আছে কাকু ছ’শ না আপনি সাতশ দিন, এটা আমাদের দাবি।‘

               সত্যসুন্দরবাবু তখন গম্ভীরগলায় বলতেন, ‘ঠিক আছে। দু তারিখে নিয়ে যেও।‘

              কিন্তু আজ? আজ কিছু বললে কথায় কথা বাড়বে, রাগারাগি হবে। আজ তিনি কিছুতেই রাগারাগি করবেন না। তাই তিনি অতিকষ্টে নিজের রাগ প্রশমিত করে বললেন, ‘ঠিক আছে ভাই। তোমরা দু তারিখে নিয়ে যেও।‘

               তখন একজন আরএকজনকে বলল, ‘এই কাকুর নামে হাজার টাকা লিখে রাখ।‘

             ঘরে পা রাখতেই গিন্নি একহাত নিলেন, ‘তুমি কী গো? ওরা হাজার টাকা চাঁদা চাইল আর তুমি সেটা মুখবুঁজে মেনে নিলে? তুমি তো ছশ টাকা বলতে পারতে, সাতশ টাকা বলতে পারতে। একেবারে ডবল!  বুঝি না বাপু আজ তোমার কি হয়েছে।    

             সত্যিই তো গিন্নি কী করে বুঝবেন সত্যসুন্দরবাবুর আজ কী হয়েছে। তিনি যে ভলো হয়ে চলার পণ করে বসে আছেন।

            নিঃঝুম রাত। পাশে গিন্নি ঘুমিয়ে পড়েছেন, মৃদু নাসিকা গর্জন শোনা যাচ্ছে। সত্যসুন্দরবাবু শুয়ে শুয়ে সকাল থেকে এই মাঝরাত পর্যন্ত তিনি কি কি করেছেন, কাকে কি বলেছেন, সবকিছু ভাবতে লাগলেন। না, আজ তিনি মেজাজ হারাননি, রাগারাগি করেননি, কাউকে কটুকথা বলেন নি। মনে মনে বললেন, ‘আমি পেরেছি! মদনমোহনবাবু, আমি পেরেছি! ‘সারাদিন ভালো হয়ে চলা’র পণ রক্ষা করতে আমি পেরেছি। আমি পেরেছি!’

             এক অনাবিল প্রশান্তিতে সত্যসুন্দরবাবুর হৃদয় ভরে গেল। এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এ এক পরম শান্তি। পরম শান্তিতে সত্যসুন্দরবাবু ঘুমিয়ে পড়লেন। আসুন না, আমরাও পণ করি, সপ্তাহের একটা দিন আমরাও সারাদিন ভালো হয়ে চলব।

 

                                                                                ****************************************************    

দীনেশ সরকার

১৪০ ডি, হিজলি কো-অপারেটিভ সোসাইটি,

প্রেমবাজার, খড়্গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর --- ৭২১৩০৬

মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ নংঃ ৯৮০০৪২১৫৩৫    

         

         

               

                       


Uploaded Image

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত

 তিনটি কবিতা ।। নবনীতা রক্ষিত নবপ্রভাতের   আহ্বান রাতের   শেষে   ফুটল   ভোর , সোনার   রঙে   রাঙে   ঘোর।   শিশির ভেজা   ঘাসের   বুকে , সূর্য   হাসে   মিষ্টি   মুখে। পাখিরা   গায়   নতুন   গান , জেগে   ওঠে   সারা   প্রাণ। নদীর   জলে   রোদের   নাচ , মেঘের   গায়ে   আলোর   আঁচ। ফুলের   ডালে   মধুর   গন্ধ , মনটা   ভরে   আনন্দ। হাওয়া   বয়ে   আনে   সুখ , মুছে   দেয়   সব   দুঃখ। নতুন   দিনের   নতুন   ডাকে , স্বপ্ন   জাগে   হৃদয়   ফাঁকে। চলার   পথে   আশা   সাথি , সাহস   থাকে   প্রতি   রাতে। পরিশ্রমে   ফুটুক   ফুল , ভেঙে   যাক   সব   ভুল। ভোরের   আলো   বলে   তাই , জীবন   জয়   করবই।   বৃষ্টির   সুরে   বাংলা কালো   মেঘে   ঢাকে   আকাশ , বৃষ্টি   নামে   উচ্ছ্বাস। কদম...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

কবিতাগুচ্ছ ।। মেশকাতুন নাহার

কবিতাগুচ্ছ ।। মেশকাতুন নাহার  অঙ্কুরের অদম্যতা কিছু ছায়া বৃক্ষের পাশে জন্মে, অথচ বৃক্ষের উচ্চতাই তাদের অসহ্য— তাই তারা শিকড়ে নয়, ডালে ডালে নীরব অবরোধের ভাষা লেখে। কিছু কুয়াশা সূর্যকে নিভাতে চায় না, শুধু দিগন্তের দৃশ্য আড়াল করে— অথচ প্রভাত তার নিজস্ব মহিমায় কুয়াশার সমস্ত অস্তিত্ব অতিক্রম করে। কোনো কোনো নদীকে পথ দেওয়ার বদলে পাথর সাজানো হয় তীরে, কোনো কোনো পালকে বাতাসের বদলে অদৃশ্য ভার চাপানো হয় ধীরে ধীরে; তবু স্রোতের নিয়তি সাগর, আর পাখির নিয়তি নীলিমা— বাঁধের প্রজ্ঞা যতই কূটিল হোক, প্রকৃতির বিধান তার চেয়েও প্রাচীন। যে কুঁড়ির অন্তর্গত বসন্তকে দূর থেকে বোঝা যায় না, তার সুবাসকে বন্দী করতে কোনো প্রাচীরই যথেষ্ট নয়। কারও অঙ্কুরোদ্গমে নীরব অস্বস্তি জন্ম নিলে জন্মাক— বীজ তো কারও অনুমতির অপেক্ষায় মহীরুহ হয়ে ওঠে না। জগতের কিছু দরজা বন্ধ হয়, কিছু পথ ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্গম করা হয়,...

POEMS ।। PRASENJIT DAS

FIVE POEMS ।।  PRASENJIT DAS POETIC MOON The moon passes behind the clouds, it steals a g lance and shie s. Lovely mystery kept in shrouds, beyond which the wonder lies. Each streak of light glows, to change from dark to white. Removing all the gloomy shadows, into perpetual joy and light. The moon speaks of love and desire, with silver glimmer so bright. For those always gloomy in despair, you give hope and set things right. LOST WINGS The childhood days, now nowhere - memories of old strewn in the air. Past glee and whispers have dried - Oh! Those colourful days, joyful ride! As the yesteryears are flipped - aware how far we have leaped.  Mind full of joy, now laid bare - childhood spent in love and care. The joyous wings used to flutter - now tied in bond and worldly clutter. The edges of study desks rotten - Old and new, some mates forgotten.  Days flipping books, a real zinger - the aroma of innocence still linger. Days of jolly pranks, fooling friends - treaded aiml...

কবিতা ।। মুক্তির সকাল ।। রাজর্ষি রায় চৌধুরী

মুক্তির সকাল  রাজর্ষি রায় চৌধুরী  অবশেষে কেটে গেল অন্ধকারের রাত, ভোরের আলোয় হাসছে স্বাধীন প্রভাত। পাখিরা গাইছে গান মুক্তির সুরে, কালো মেঘ কেটে গেছে বহু দূরে। গেরুয়া সাদা সবুজ পতাকাটা আকাশে ওড়ে, আনন্দের জোয়ার আজ প্রতিটি ঘরে। বুকের ভেতর জাগে এক নতুন আশা, চারিদিকে ছড়ায় শুধু ভালোবাসা। এই সকাল আমাদের স্বপ্নের দিন, শহীদদের রক্তে মাখানো এই ঋণ। হাসিমুখে পথ চলি নির্ভয়ে আজ, গড়ে তুলি এক এক অনন্য নতুন সমাজ।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু ।। দীপক পাল

সদা অন্যমনস্ক গোলকবাবু  দীপক পাল  গোলক বাবু প্রতিদিন সকাল ছটার সময় ঘুম থেকে ওঠেন একেবারে ঘড়ি ধরে ছটায় নয়, কোন কোন দিন সোয়া ছটা ও বেজে যায়। তারপর চোখ মুখ ধুয়ে নিজের জন্য চায়ের জল বসান। গিন্নী জয়া ওঠে দেরি করে। রাতে শুতেও যায় সে দেরি করে। কারণ কোনএকটা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে সে। তাই শুতেও তার দেরী উঠতেও দেরী। রান্নার লোক ও ঘর দোর পরিষ্কার করার লোক আছে। তারা ওরকিছু ফাই ফরমাসও খেটে দেয়। গোলক বাবু ওসব কিছুর ধার ধারেন না। তিনি কারো কাছে কিছু চান না। চা টা তিনি বেশ ভালইকরেন। বিকেলেও তিনি প্রায়সই করে থাকেন। গিন্নী তার করা চা ভালই খান। চায়ের কাপ আর বিস্কুটের কৌটো নিয়ে তিনি দক্ষিনের বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপে একটা স্নেহের চুমুক দিলেন। ইজি চেয়ারটা পাতাই ছিল। তিনি অতি সাবধানে চায়ের কাপটা মাটিতে রেখে কৌটো খুলে দুটো বিস্কুট বার করে কৌটো নামিয়ে চায়ের কাপটা তুলে নিলেন হাতে। গায়ে অবশ্য শাল জড়াতে তিনি ভোলেননি। যদিও নভেম্বর মাসের এখনও কটা দিন বাকি আছে। তাই একমাত্র রাত নটার পর এবং সকালের দিকটা বেশ ঠান্ডাঠান্ডা লাগে। গোলক বাবু এক গভর্নমেন্ট আন্ডারটেকিং অফিসে ...

কবিতা ।। মেঘের দেশে ভিজুক মন... ।। কাবেরী মিত্র

মেঘের দেশে ভিজুক মন... কাবেরী মিত্র  অন্ধকারে একলা ঘরে বসে আছি স্মৃতির জানলা খুলে, সোনালি সেই দিনগুলোকে ফিরে পেতে,  ও বৃষ্টি, আমি তোমায় চাই ছুঁতে। ও মেঘ, ও মেঘ, সেদিন যে কথা দিলে জানলার ওই শার্সি ছুঁয়ে আমায় তুমি নিয়ে যাবে — তোমার প্রিয় সঙ্গী করে। দেখব আমি বৃষ্টিগুলো কেমন করে ঝমঝমিয়ে — পড়ে বকুল ফুলের মাথার পরে, রামধনুরা কেমন করে আবির খেলে নীল আকাশকে রঙিন করে। কেমন করে বৃষ্টিফোঁটার তালে তালে পানকৌড়ি ডুবসাঁতারে খেলা করে গভীর জলের বুকের মাঝে, কেমন করে মেঘেরা লুকোচুরি খেলে ওই পাহাড়টাকে সাক্ষী রেখে। নিয়ে যাও মেঘ—ভিজুক আমার মন, আর কত রাখব ধরে কান্নাগুলো হৃদয় ভরে! আবার একবার ফিরতে চাই সেই মাতাল করা দিনগুলোতে। ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৭তম সংখ্যা ।। চৈত্র ১৪৩২ মার্চ ২০২৬ ।। নারী বিষয়ক সংখ্যা

 সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে :  শুধুমাত্র 'নারী' বিষয়ক লেখাই এই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ের ভালো লাগা কিছু লেখা আগামী সংখ্যার জন্য রইল। সকলকে ধন্যবাদ। ~নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নারীমুক্তির কালিতে লেখা ইতিহাসের কটি পাতা ।। ডাঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায় সাহসী এবং লড়াকু নারীরা ।। উৎপল সরকার পল গগ্যাঁর চিত্রে নারী ।। ড. সবুজ সরকার সুন্দরবনের নারীদের গল্প "নোনাজলের নীরবতা" ।। কাবেরী মাতৃত্ব অন্তকোষীয় স্থপতি ।। মেশকাতুন নাহার অপ্রয়োজনীয় ।। শ্যামাপ্রসাদ সরকার নারী: উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অপরিহার্য শক্তি ।। চঞ্চল পাণ্ডে নিরুদ্দেশ ।। স্বাতী রায় চৌধুরী ইলা ঘোষ : বাংলার প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস অক্ষরের আলো ।। জয় মণ্ডল প্রতিশোধ ।। কাবেরী মিত্র বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব ।। পাভেল আমান যে পথ হারিয়েছে দূরে ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় সেই লাল ফ্রকটা ।। সৈকত প্রসাদ রায় অন্য এক নারীর গল্প ।। অদিতি চ্যাটার্জি শৃঙ্গার ।। চন্দ্রকান্ত চক্রবর্তী একালের অর্জুন ।। জয়শ্রী সরকার এক সাহসিনী সিন্ধু ক...

মাসের বাছাই

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

এ যুগের নারী ।। সঞ্জয় বৈরাগ্য

  এ যুগের নারী সঞ্জয় বৈরাগ্য নই আর মোরা সত্তাবিহীন, সে যুগের মতো নই পরাধীন নই তো আমরা অবলা, কূপমন্ডকী সুযোগ, সুবিধা, শুধুই সুখভোগী। আমরা, এ যুগের নারী। মোরা ভয় করি নাকো ঝড়-তুফানে লক্ষ্য মোদের সদা জয় পানে। দিতে পারি মোরা দিক-দিগন্তে পাড়ি যুগ-যুগান্তের নৌকা ধরি। আমরা, এ যুগের নারী। আমরা ঘোচাবো ভাবনা মা, বাবা'র 'কন্যাদায়' --- এ কথাটি তাদের ভুলিয়ে দেবো, হয়ে যে অনন্যা আমরা যে যত সাহসী কন্যা। আমরা, এ যুগের নারী। পুরুষের থেকে কম নই মোরা আমরাই ভুবনে সৃষ্টির আধার।  পার হতে পাড়ি কাটিয়ে শত ভয়, সাগরের ঐ অতল জলরাশি; আমরা, এ যুগের নারী।   =============== সঞ্জয় বৈরাগ্য কৃষ্ণনগর, নদীয়া।

গল্প ।। আত্মরক্ষার অধিকার ।। রণেশ রায়

আত্মরক্ষার অধিকার রণেশ রায় উনার নাম সুমন বোস। বয়স পঞ্চান্ন ছাপ্পান্ন হবে।  চব্বিশপরগনার আমতলায় নিজের পৈতৃক বাড়িতে স্ত্রী সুজাতা কন্যা কল্যাণীকে নিয়ে থাকেন। একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী করেন। অবস্থা খুব ভালো না হলেও খারাপ নয়। দিব্বি চলে যায়। ভ্রমণ রসিক মানুষ। ছুটি পেলেই পরিবার নিয়ে কোথাও না কোথাও বেড়াতে যাওয়া। স্ত্রী ঘর সামলান মেয়েকে নিয়ে। মেয়ে  দেখতে শুনতে তেমন না হলেও তার দৃপ্ত হাসিমুখ নজর কাড়ে। সে প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী নিকটবর্তী কলেজে বিষ্ণুপুর এলাকায়। পড়াশুনায় মোটামুটি। একটু বারমুখী ।  বাবার সঙ্গে খুব খাতির। ওর মায়ের অভিযোগ বাবার কাছে মেয়ে প্রশ্রয় পায় তাই পরশুনায় তেমন মন নেই। তবে মায়ের সাহায্যে যে সে তৎপর  সে বিষয়ে মায়েরও সন্দেহ নেই।  মেয়ে একটু  বহির্মুখী বলে মায়ের চিন্তা। বাবা মেয়ের এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত। আর সেটাই মেয়েকে একটু বেয়ারা করে তুলেছে বলে মায়ের ধারণা। সব নিয়ে ভালো মন্দে সুমনবাবুদের সংসার। সুমনবাবু মেয়ের বহির্মুখী কাজে উৎসাহ দেন সন্দেহ নেই। সেটা যেন তাঁর গর্ব আর সেটাই স্ত্রী সুজাতার রাগের কারণ। মেয়ে কল্যাণী পাড়ায় ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলায় উৎস...

কবিতা ।। আটক ।। তাপসী লাহা

আটক তাপসী লাহা  সময়টি নিঃসন্দেহে অতি তরল, তরঙ্গময় ঘোরের বারান্দায় পাখি দাঁড় করিয়ে রাখা চমৎকার লৌহশানিত খাঁচা  বিড়ালিনীর শেষ রাতে চুপিসারে এঁটো করা দুগ্ধ পাত্রটি,  ঠনক্ শব্দে কেঁপে ওঠে নিত্যগৃহী, ঘুম গহ্বর থেকে অতর্কিতে ফিরে আসা নিঃসার ধ্বংসছ্যাক শোভাহীন শুকনো ফুলের তোড়া তবু তো মায়া! স্নেহ বিপন্ন বস্তুসুলভ গাছ...... আহারে মেছো প্রাণ ------ মাংস দাঁতটির কি হবে ভাবতে ভাবতে সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছে ধুলোদের ঘরকন্না। ============ Tapashi Laha  Birnagar  733134 Raiganj  Uttar Dinajpur 

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

কবিতা ।। রক্ত গোলাপ ।। অমিত কুমার রায়

রক্ত গোলাপ  অমিত কুমার রায় এস অতুলপ্রসাদী গান গাই  'আ - মরি বাংলা ভাষা,  এসো, প্রতুলের গাওয়া গান গাই  'আমি বাংলার গান গাই  আমি বাংলায় গান গাই....." যারা মাতৃভাষায় কলঙ্ক লেপে উল্লাসে উঠেছে ক্ষেপে উপেক্ষা বাতাসে ভাসিয়ে দাও প্রতিবাদ ঝড় তীব্রতর হোক  তাদের বুকের ভেতর অশ্রদ্ধা উঠুক কেঁপে। এসো বাংলার ঘরে বাংলা স্বরে  বাংলা ভাষার ডিঙ্গা ভাষাই।  এসো বাংলার পথে বাংলার সত্য  ব্রতে লালনের গান গাই  লালনের গান গাই। এসো ফাগুনের কবি বৈশাখী রবি  আগুন শহীদ পাখি  এসো আগুনের ফুল ফাগুনের ফুল  আকাশের তারা আখি। ভাসে ভাষা ফুল মানবতাব গুল  রক্ত গোলাপে রাখী রক্ত গোলাপে ঢাকি।   ================== --- অমিত কুমার রায় হাওড়া  পশ্চিমবঙ্গ  ভারত