তিনটি কবিতা ।। বিকাশ দাশ
আমন
এত যে টেরিকাটে লাঙলের ফলা
কতটা সংগ্রাম লেখা হয় তাতে জানে কৃষক
আমনের অভিষেক পর্বে বেজে ওঠে খামারের বাজনা
গ্রামান্তরে ভেসে বেড়ায় ফসলের গান
মাঠ জুড়ে লাঙল কী লেখে এত
মানুষের ভবিষ্য, নাকি রক্ত মাংস হাড়?
বাজনা ধ্বনিত হয় আমন অভিষেকে
জড়ো হয় এক বারান্দা কান্নার স্বরলিপি
ঝরঝর ধারাপাতে কেঁপে ওঠে মাটির কোরক
মাটি পাথর জল কিম্বা আগাছাও জানে না
কতটা মায়া লেপে দেবে মুনিশ-কামিন
তবুও লাঙলের ফলায় নেচে উঠবে শস্যখেতের অহংকার।
সন্ধি
দুটো পথ যখন একবিন্দুতে একীভূত হয়
তখন বিস্তার শূন্য হয়,
জেগে ওঠে নম্রতার গান, আত্মবিশ্লেষণ
দু-পাশের অর্জুনগাছও টের পায় না
পথিক তবু বাঁক নেয়, প্রতিটি বাঁকের শেষে
সন্ধির সুগন্ধি বাতাসে ছড়ায়।
আমাদের সন্ধির ইতিহাস একইরকম
বিবর্ণ ইচ্ছার পাঁজরে নম্রতার নকশিকাঁথা
চিরকাল একই লয়ে সেলাই করা সংসারের মতো
জোড়াতালি, সন্ধি মানে তো উৎকর্ষহীন, মরাগাছ
কেবল পায়ে পায়ে শিকল জড়ায়।
কৃষক উবাচ
গ্রামগুলোর সকালও জানলো না
টিয়ার পালকের মতো সবুজ ধান খেত ফেলে
ডুংরির কোলে অস্ত গেল কোন্ কৃষক?
লালধুলোর রাস্তা অন্ধকারে ভিজলো কেবল
সোনাঝুরির বনে বিশ্বাসের ছায়া বিপন্ন বিকেল
অবশেষে রাস্তাটাই ভয় পেয়ে থমকে গেছে
বিশ্বাস রঙের আশ্রয়ে এসে।
ডুংরির কোলে পথ হারিয়েছে অজস্র শপথ
বাইরের রাস্তাটা টলতে টলতে ঘরে ঢুকলে
কাঁহাতক আর কৃষক থাকা যায়?
..........................
বিকাশ দাশ
১৭২ ন্যাশনাল প্লেস
বাকসাড়া, হাওড়া-৭১১১১০

Comments
Post a Comment