কবিতাগুচ্ছ ।। সুতপা সোঽহং
১) খেয়ালী ক্যামোফ্লেজ
সেদিন চৈত্রের দুপুর, দেহ পুড়ে খাক
ক্লান্তিতে ভঙ্গুর যখন শুনলাম ডাক!
সে ডাক তোমার ছিল আরাম শীতল
কর্ণকুহরে মধু দিল আর আগুনে জল!
সম্মোহিত হরিণ আমি ছুটলাম ঘোরে
তোমার সামনে স্থির হলাম দৃষ্টির শরে।
কী ছিল সে দৃষ্টিতে? কী ছিল সেই চোখে?
অনাথ আশ্রয় পায় অপ্রতিরোধ্য রোখে।
দুজনেই মূক বধির যেন বিবাহ-ভঙ্গিমা
বিরল সে সমর্পণ সমবায়ী কমা!
(তারপরেই অকস্মাৎ,)
চোখ, গাল, ঠোঁট ছেড়ে ছুঁয়েছো কপাল;
মুগ্ধ অবলোকনে হৃদি উথালপাথাল!
প্রলুব্ধ হাওয়া এল বিস্ময়কর শ্বাস
প্রেম-ভস্মে পিপাসার্ত ঠোঁটেদের চাষ!
কম্পিত বুকে তখন শব্দহীন সিম্ফনি
প্রথম প্রণয় চুম্বন আগে তো জানিনি!
শিহরিত অস্থিরতা ডানার ভিতর
সমস্ত দিলাম, নিঃস্ব, ওড়ার কী জ্বর!
হায়! সেই প্রথম সেই শেষ মায়ার খেলা।
কী খেয়ালে ডেকেছিলে সেই দুপুরবেলা?
একযুগ পরে বুঝি সমস্তই অসার
টান শুধু একপক্ষের, তুমি নির্বিকার!
(জানি) বাড়ি ফিরে বিরহের ছেড়েছ পোষাক
তবু এক বুক আগুন শুধু আমার জন্য থাক!
২) নামকরণ
ও মেয়ে,
পলক ভেজাও যে জলে
তিনি আমার বিরহ হন।
যে বাতাসে ওই চুল ওড়ে
তাকেও ডাকি আত্মীয় জন!
তোমায় যে আলোর কণা
দিচ্ছে যত রূপ রস গুণ
দিব্যি প্রেমিক ডেকেও আমি
তাকে সম্বোধনে করছি খুন!
যে মাটিতে পা রেখেছো
সাঁইয়ের নামে মাথায় তুলি।
বুকের ভেতর আগুন পোষো
‘প্রেম’ বলে নাম ফুটছে বুলি!
সবাই পেল নাম উপাধি
হাজার বছর ব্যাপ্তি শেষে।
শুধু তুমিই রইলে বাকি
সুপ্ত হয়ে হৃদ-সমাজে!
৩) বিরহ-মগ্ন ও কথক
লুন্ঠন খেলায় এসে বসে থাকে যে অন্ধকার
হে বিরহ-মগ্ন, ক্ষতে পরিচয় দিচ্ছো কার?
স্বপ্নদ্রষ্টাও লীলা চেনে আত্মজন ডুবুরির
তুমি শুধু জানলে না সংবাদ, এই ভীড়!
তারপর তদন্ত, অর্ধেকের পাঁচালি
কে জানাবে জাদুবিদ্যা পূর্ণ না খালি?
শুধু প্রেমের আগুনে ঢেলেছ তো ঘৃত
প্রশ্ন তোলোনি কোনোদিন আগে কে দিত
শেষে জীবিকা বদলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা
বজায় রেখে কথক বলে যায় এইসব কথা!
৪) মৃত্যুপরবর্তী কথোপকথন
পুড়াবে বলে ফেলে দিলে কাঠ
এত সূক্ষ্ম মনের জন্য এত খানি খড়ি!
আগুন ঘুরেছে তায় ঘর হতে মাঠ
শ্মশানের শরীর দেয় পারানির কড়ি।
শেষকৃত্যে ডেকে আনো গঙ্গা শীতল
শ্মশানবন্ধুকে দাও পরে মুড়ি, চিড়া, দই।
উন্মাদ, জানি তুমি ফেলবেই দুফোঁটা জল
ছন্নছাড়া আবেগ আর দুধ সাদা খই!
=============================
Sutapa Sohohang
shibram pally, Haiderpara, p.o- Rabindra sarani, Siliguri, 734006
Comments
Post a Comment