Skip to main content

প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী

Nabapravat

প্রবীণ জনগণ

 শ্যামল হুদাতী 



২০৫০ সালে ভারতে প্রতি পাঁচ জনে একজন প্রবীণ। জনমিতিক পরিবর্তন, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার এক বিশদ পর্যালোচনা

ভূমিকা

ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম তরুণ জনসংখ্যার দেশ হিসেবে পরিচিত। বহু দশক ধরে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, কর্মশক্তির বিস্তার এবং সামাজিক পরিবর্তনের পেছনে এই তরুণ জনগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু জনমিতির চাকা কখনো স্থির থাকে না। জন্মহার হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তনের ফলে ভারত দ্রুত একটি নতুন বাস্তবতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে - একটি প্রবীণমুখী সমাজের দিকে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে প্রতি পাঁচ জনে একজন মানুষ হবেন প্রবীণ, অর্থাৎ ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী।
এই পরিবর্তন শুধু একটি পরিসংখ্যানগত ঘটনা নয়। এটি ভারতের অর্থনীতি, সমাজ, পরিবারব্যবস্থা, স্বাস্থ্যনীতি এবং সাংস্কৃতিক কাঠামোকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। যেখানে একদিকে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, জ্ঞান এবং সামাজিক অবদান দেশের জন্য সম্পদ হতে পারে, অন্যদিকে তাদের স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।
আমরা বিশদভাবে আলোচনা করব কেন ভারত দ্রুত প্রবীণ সমাজে পরিণত হচ্ছে, এর সম্ভাব্য প্রভাব কী, কী ধরনের চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে এবং এই পরিবর্তনকে কীভাবে ইতিবাচক সুযোগে রূপান্তর করা সম্ভব।

ভারতের জনমিতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট

গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভারতের গড় আয়ু ছিল প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ বছর। আজ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০ বছরের কাছাকাছি। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি, টিকাদান কর্মসূচি, শিশুমৃত্যুর হার কমে যাওয়া এবং উন্নত পুষ্টি।
একই সঙ্গে ভারতের মোট জন্মহার ক্রমাগত কমছে। আগে একটি পরিবারে চার থেকে পাঁচটি সন্তান হওয়া স্বাভাবিক ছিল, এখন অধিকাংশ পরিবার এক বা দুই সন্তানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর ফলে জনসংখ্যার বয়স কাঠামো পরিবর্তিত হচ্ছে।
জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার অনুমান অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতের প্রবীণ জনসংখ্যা ৩০ কোটিরও বেশি হতে পারে। অর্থাৎ দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ হবে প্রবীণ।
এই পরিবর্তনকে বলা হয় Population Ageing বা জনসংখ্যার বার্ধক্য।

প্রবীণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণ:

১. গড় আয়ু বৃদ্ধি
আধুনিক চিকিৎসা এবং প্রযুক্তিগত উন্নতির ফলে মানুষ দীর্ঘদিন বেঁচে থাকছে। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যানসারের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগ এখন অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রণযোগ্য;

২. জন্মহার হ্রাস
ভারতের অধিকাংশ রাজ্যে প্রজনন হার প্রতিস্থাপন স্তরের নিচে নেমে গেছে। এর ফলে তরুণ জনগোষ্ঠীর অনুপাত কমছে;

৩. উন্নত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা
পরিষ্কার জল, উন্নত স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা মানুষকে দীর্ঘজীবী করছে; এবং 

৪. সামাজিক পরিবর্তন
শিক্ষা বৃদ্ধি, নারীর কর্মসংস্থান এবং নগরায়নের কারণে পরিবার পরিকল্পনার প্রবণতা বেড়েছে।
প্রবীণ ভারতের সামাজিক চিত্র ২০৫০ সালের ভারত হবে এমন একটি সমাজ যেখানে বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পাবে। শহরের পার্কে, গ্রামীণ চৌরাস্তা, হাসপাতাল, ব্যাংক, পরিবহন - সব জায়গায় প্রবীণদের উপস্থিতি আরও বেশি হবে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই মানুষরা কীভাবে জীবনযাপন করবেন?
একদিকে থাকবে সক্রিয়, শিক্ষিত, প্রযুক্তি-সচেতন প্রবীণ শ্রেণি; অন্যদিকে থাকবে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, একাকী, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা বহু প্রবীণ।
ভারতের প্রবীণ সমাজ একরকম হবে না - এতে থাকবে বৈচিত্র্য।
পরিবারব্যবস্থার পরিবর্তন ও প্রবীণদের অবস্থান
ভারতীয় সংস্কৃতিতে যৌথ পরিবার দীর্ঘদিন ধরে প্রবীণদের নিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি ছিল। পরিবারের বড়রা ছিলেন সম্মানিত এবং সিদ্ধান্তগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নগরায়ন, কর্মসংস্থানের জন্য স্থানান্তর এবং ছোট পরিবার গঠনের প্রবণতা যৌথ পরিবারকে দুর্বল করেছে।
ফলাফল প্রবীণদের একাকীত্ব বৃদ্ধি
সন্তানদের সঙ্গে দূরত্ব
মানসিক অবসাদ
পরিচর্যার অভাব
অনেক প্রবীণ আজ "Empty Nest Syndrome"-এর শিকার, যেখানে সন্তানরা বিদেশে বা অন্য শহরে বসবাস করে এবং বাবা-মা একা থাকেন।
স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর প্রভাব প্রবীণ সমাজ মানেই স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বৃদ্ধি।
বৃদ্ধ বয়সজনিত সাধারণ সমস্যা -
হৃদরোগ,
ডায়াবেটিস,
উচ্চ রক্তচাপ,
আর্থ্রাইটিস,
স্মৃতিভ্রংশ,
আলঝেইমার,
পারকিনসনস,
দৃষ্টি ও শ্রবণ সমস্যা
ভারতের বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থা এখনো মূলত মাতৃস্বাস্থ্য ও সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বেশি মনোযোগী। কিন্তু ভবিষ্যতে Geriatric Care বা প্রবীণ চিকিৎসা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
প্রয়োজন হবে -
বিশেষায়িত জেরিয়াট্রিক হাসপাতাল,
বাড়িভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা,
টেলিমেডিসিন,
পুনর্বাসন কেন্দ্র,
মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা,
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

প্রবীণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ভারতের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
১. নির্ভরশীলতার হার বৃদ্ধি
কম কর্মক্ষম মানুষের ওপর বেশি নির্ভরশীল মানুষ থাকলে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ে;
২. পেনশন চাপ
সরকারি ও বেসরকারি পেনশন ব্যবস্থার ওপর চাপ বৃদ্ধি পাবে;
৩. স্বাস্থ্য ব্যয় বৃদ্ধি
বৃদ্ধদের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয়বহুল; এবং 
৪. শ্রমবাজারে পরিবর্তন
কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী কমে গেলে উৎপাদনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রবীণদের দারিদ্র্য ও আর্থিক নিরাপত্তা
ভারতের বহু প্রবীণ এখনও আনুষ্ঠানিক পেনশন সুবিধার বাইরে।
বিশেষ করে -
গ্রামীণ শ্রমিক
অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী
গৃহিণী
বিধবা নারী
তাদের আয়ের প্রধান উৎস পরিবার বা সামান্য সঞ্চয়।
২০৫০ সালে এই সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে যদি এখন থেকেই সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে না তোলা হয়।

প্রবীণ নারী: দ্বিগুণ চ্যালেঞ্জ
ভারতে নারীরা সাধারণত পুরুষদের তুলনায় বেশি দিন বাঁচেন। ফলে প্রবীণ জনগোষ্ঠীতে নারীর সংখ্যা বেশি হতে পারে।
কিন্তু তারা প্রায়ই -
আর্থিকভাবে নির্ভরশীল
বিধবা
সম্পত্তিহীন
সামাজিকভাবে উপেক্ষিত
প্রবীণ নারীদের জন্য আলাদা নীতি অত্যন্ত জরুরি।
মানসিক স্বাস্থ্য ও একাকীত্ব
একাকীত্ব এখন প্রবীণদের অন্যতম বড় সমস্যা।
সন্তান দূরে, সঙ্গী হারানো, শারীরিক দুর্বলতা - সব মিলিয়ে বিষণ্নতা বাড়ে।

সম্ভাব্য সমস্যা:
Depression
Anxiety
Dementia
Social withdrawal
মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা ছাড়া প্রবীণদের সুস্থ জীবন অসম্ভব।
প্রযুক্তি ও প্রবীণ জীবন
প্রযুক্তি প্রবীণদের জীবন সহজ করতে পারে।
উদাহরণ, স্মার্ট স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ,অনলাইন চিকিৎসা, ডিজিটাল ব্যাংকিং, ভিডিও কল,
জরুরি সহায়তা ডিভাইস, AI সহকারী
কিন্তু ডিজিটাল বিভাজন একটি বড় বাধা। অনেক প্রবীণ প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বচ্ছন্দ নন।
তাই Digital Inclusion অপরিহার্য।
প্রবীণদের সম্ভাবনা ও অবদান
প্রবীণরা কেবল নির্ভরশীল নন; তারা একটি মূল্যবান সম্পদ।
তাদের অবদান, অভিজ্ঞতা, জ্ঞান,পরামর্শ,
পারিবারিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, শিশু লালনপালনে সহায়তা, স্বেচ্ছাসেবা
অনেক প্রবীণ অবসর গ্রহণের পরও নতুন কর্মজীবন শুরু করেন।
Silver Economy
প্রবীণদের ঘিরে একটি নতুন অর্থনৈতিক ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে -
স্বাস্থ্যসেবা, ভ্রমণ, বিশেষ বাসস্থান, সহায়ক প্রযুক্তি, বীমা
এটিকে বলা হয় Silver Economy।
সরকারের ভূমিকা
ভারত সরকার ইতিমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যেমন—
National Policy on Older Persons
Atal Pension Yojana
Ayushman Bharat
Senior Citizen Savings Scheme
কিন্তু ২০৫০-এর জন্য আরও বৃহৎ পরিকল্পনা দরকার।
যা করতে হবে
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা
প্রবীণ স্বাস্থ্যবিমা
জেরিয়াট্রিক হাসপাতাল
প্রবীণ-বান্ধব শহর
সুলভ গণপরিবহন
আইনি সুরক্ষা
ডিজিটাল প্রশিক্ষণ
প্রবীণ-বান্ধব নগর পরিকল্পনা
ভবিষ্যতের শহরগুলোকে হতে হবে Age-friendly।
প্রয়োজনে , র‍্যাম্প, লিফট, নিরাপদ ফুটপাত, বসার জায়গা, পার্ক, সহজ গণপরিবহন, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা।
গ্রামীণ ভারতের বিশেষ চ্যালেঞ্জ -
গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা সীমিত, পেনশন পৌঁছায় না, সন্তানরা শহরে চলে যায়।
ফলে বহু প্রবীণ গ্রামে একা বসবাস করেন।
গ্রামীণ প্রবীণদের জন্য দরকার -
মোবাইল মেডিকেল ইউনিট
স্থানীয় সহায়তা কেন্দ্র
সামাজিক নিরাপত্তা
সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন
প্রবীণদের প্রতি সম্মান ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ হলেও বাস্তবে অনেক সময় তারা অবহেলিত হন।
Ageism বা বয়সভিত্তিক বৈষম্য বাড়ছে।
এই মনোভাব বদলাতে হবে।
বিদ্যালয়ে আন্তঃপ্রজন্ম শিক্ষা, মিডিয়ায় ইতিবাচক উপস্থাপনা এবং সামাজিক সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, জার্মানি - এই দেশগুলো ইতিমধ্যে প্রবীণ সমাজে পরিণত হয়েছে।
তাদের অভিজ্ঞতা থেকে ভারত শিখতে পারে -
দীর্ঘমেয়াদি যত্নব্যবস্থা,
প্রবীণ প্রযুক্তি,
সামাজিক অংশগ্রহণ,
সক্রিয় বার্ধক্য নীতি।

সক্রিয় বার্ধক্য: নতুন ধারণা
Active Ageing মানে শুধু বেঁচে থাকা নয়, মর্যাদার সঙ্গে বাঁচা।
প্রবীণদের জন্য দরকার -
সামাজিক অংশগ্রহণ,
শারীরিক কার্যকলাপ,
মানসিক উদ্দীপনা,
আজীবন শিক্ষা ।

২০৫০ সালে ভারতে প্রতি পাঁচ জনে একজন প্রবীণ হওয়ার সম্ভাবনা একটি গভীর সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এটি কেবল একটি চ্যালেঞ্জ নয়; এটি একটি সুযোগও।
যদি ভারত এখন থেকেই স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, পরিবার, প্রযুক্তি এবং সামাজিক নীতিতে যথাযথ প্রস্তুতি নেয়, তবে প্রবীণ জনগোষ্ঠী দেশের বোঝা নয়, বরং শক্তি হয়ে উঠতে পারে।
প্রবীণরা আমাদের অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং সুখ নিশ্চিত করা মানে আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত করা।
একটি সভ্য সমাজের মান নির্ধারিত হয় সে তার প্রবীণদের কীভাবে দেখভাল করে। ২০৫০-এর ভারত যদি সত্যিই উন্নত ভারত হতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই হতে হবে প্রবীণ-বান্ধব ভারত।

একটি দেশের উন্নয়ন কেবল তরুণদের শক্তির ওপর নির্ভর করে না; প্রবীণ জনগণের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান, নৈতিকতা ও দীর্ঘ জীবনের শিক্ষা জাতির জন্য এক অমূল্য সম্পদ। আধুনিক বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।  ফলে প্রশ্ন উঠছে - এই বিপুল প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে কীভাবে দেশের কাজে লাগানো যায়?
অনেক সময় প্রবীণদের শুধুমাত্র “নির্ভরশীল” বা “অবসরপ্রাপ্ত” হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে তারা হতে পারেন জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি। একজন প্রবীণ ব্যক্তি তার দীর্ঘ কর্মজীবন, বাস্তব অভিজ্ঞতা, সামাজিক জ্ঞান ও মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজকে এমন অনেক কিছু দিতে পারেন যা তরুণ প্রজন্মের পক্ষে সহজে অর্জন করা সম্ভব নয়।
অতএব, প্রবীণ জনগণকে বোঝা হিসেবে নয়, বরং “জাতীয় সম্পদ” হিসেবে দেখতে হবে। তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত একটি শক্তিশালী, মানবিক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারে।

প্রবীণ জনগণের গুরুত্ব:
প্রবীণ জনগণ সমাজের জীবন্ত ইতিহাস। তারা দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী। তাদের অভিজ্ঞতা জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রবীণদের প্রধান শক্তি
দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা
ধৈর্য ও বিচক্ষণতা
সামাজিক ও পারিবারিক নেতৃত্ব
নৈতিক মূল্যবোধ
সংকট মোকাবিলার দক্ষতা
বাস্তব জীবনের জ্ঞান
এই গুণাবলিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে দেশ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।

দেশগঠনে প্রবীণ জনগণকে কাজে লাগানোর উপায়
১. শিক্ষা ও জ্ঞান বিনিময়ে প্রবীণদের অংশগ্রহণ
অভিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে ভূমিকা
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, অধ্যাপক, বিজ্ঞানী ও  গবেষকরা বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।
তারা বিশেষ ক্লাস নিতে পারেন
ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং করতে পারেন
গবেষণায় সহায়তা করতে পারেন
শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা দিতে পারেন

গ্রামীণ শিক্ষায় অবদান -
গ্রামে বহু শিশু মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। প্রবীণ শিক্ষিত ব্যক্তিরা স্বেচ্ছাশিক্ষক হিসেবে কাজ করতে পারেন।
লোকজ জ্ঞান সংরক্ষণ -
প্রবীণদের মধ্যে অনেকের কাছে কৃষি, হস্তশিল্প, লোকসংস্কৃতি ও প্রাচীন চিকিৎসা সম্পর্কে মূল্যবান জ্ঞান রয়েছে। এই জ্ঞান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
২. কৃষিক্ষেত্রে প্রবীণদের ব্যবহার
ভারতের বহু প্রবীণ কৃষকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তারা - প্রাকৃতিক কৃষি শেখাতে পারেন
জল সংরক্ষণ পদ্ধতি জানাতে পারেন
বীজ সংরক্ষণে সাহায্য করতে পারেন
তরুণ কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিতে পারেন
কৃষি উপদেষ্টা বোর্ড
প্রতিটি গ্রামে প্রবীণ কৃষকদের নিয়ে কৃষি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা যেতে পারে।
৩. শিল্প ও ব্যবসায় প্রবীণদের ভূমিকা
অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার, ইঞ্জিনিয়ার, ম্যানেজার, উদ্যোক্তা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা নতুন উদ্যোক্তাদের গাইড করতে পারেন।
তারা যেভাবে সাহায্য করতে পারেন
স্টার্টআপ পরামর্শ
ব্যবসা পরিচালনার শিক্ষা
আর্থিক পরিকল্পনা
বাজার বিশ্লেষণ
কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ
Mentorship Program
সরকার ও বেসরকারি সংস্থা মিলে প্রবীণ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করতে পারে।
৪. প্রশাসন ও নীতিনির্ধারণে প্রবীণদের অংশগ্রহণ
প্রবীণদের অভিজ্ঞতা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
যেভাবে কাজে লাগানো যায়
স্থানীয় উপদেষ্টা পরিষদ
গ্রামসভা নেতৃত্ব
সামাজিক সমস্যা সমাধান
দুর্নীতি প্রতিরোধে নজরদারি
অনেক অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, পুলিশ কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সমাজে ন্যায়বিচার ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারেন।
৫. স্বাস্থ্য ও মানসিক সেবায় প্রবীণদের ভূমিকা
অনেক প্রবীণ স্বাস্থ্যসেবা বা সামাজিক সেবায় কাজ করতে আগ্রহী।
তারা যা করতে পারেন
স্বাস্থ্য সচেতনতা প্রচার
রোগীদের কাউন্সেলিং
মানসিক সহায়তা
প্রবীণদের সহায়তা গোষ্ঠী পরিচালনা
বিশেষত একাকী মানুষদের মানসিক সমর্থন দিতে প্রবীণ স্বেচ্ছাসেবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
৬. শিশু ও কিশোরদের নৈতিক শিক্ষায় ভূমিকা
আজকের সমাজে নৈতিক অবক্ষয় একটি বড় সমস্যা। প্রবীণরা শিশুদের মানবিক মূল্যবোধ শেখাতে পারেন।
তারা শেখাতে পারেন
সততা, শৃঙ্খলা, সামাজিক দায়িত্ব, পারিবারিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম
দাদা-দিদিমাদের গল্প, অভিজ্ঞতা ও জীবনের শিক্ষা শিশুদের মানসিক বিকাশে সহায়ক।
৭. স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ
প্রবীণরা সমাজসেবায় বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
ক্ষেত্রসমূহ
বৃক্ষরোপণ
পরিবেশ রক্ষা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
রক্তদান শিবির
গ্রন্থাগার পরিচালনা
নারী শিক্ষায় সহায়তা
৮. সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় প্রবীণদের অবদান
ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রবীণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা করতে পারেন
লোকসংগীত শেখানো
আঞ্চলিক ইতিহাস সংরক্ষণ
প্রাচীন শিল্পকলার প্রশিক্ষণ
ভাষা ও সাহিত্য চর্চা
৯. প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ দিয়ে ডিজিটাল অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
অনেক প্রবীণ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে তারা পিছিয়ে পড়েন।
প্রয়োজন -
ডিজিটাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র
স্মার্টফোন ব্যবহার শিক্ষা
অনলাইন ব্যাংকিং শেখানো
টেলিমেডিসিন ব্যবহার শেখানো
প্রযুক্তি জানলে প্রবীণরা ঘরে বসেই বহু কাজে অংশ নিতে পারবেন।
১০. প্রবীণ উদ্যোক্তা তৈরি
অবসর নেওয়ার পরও অনেক মানুষ নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান।
সম্ভাব্য ক্ষেত্র
হস্তশিল্প
খাদ্য উৎপাদন
পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান
অনলাইন শিক্ষা
ছোট শিল্প
সরকার প্রবীণ উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ দিতে পারে।
১১. প্রবীণদের জন্য খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান
সব প্রবীণ পূর্ণকালীন কাজ করতে সক্ষম নন। তাই তাদের জন্য নমনীয় কর্মব্যবস্থা দরকার।
যেমন
Part-time কাজ
Work from Home
পরামর্শক পদ
প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ
১২. আন্তঃপ্রজন্ম সংযোগ গড়ে তোলা
তরুণ ও প্রবীণদের মধ্যে দূরত্ব কমানো জরুরি।
যেভাবে সম্ভব
বিদ্যালয়ে প্রবীণ বক্তৃতা
কমিউনিটি প্রোগ্রাম
যৌথ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
পারিবারিক সংলাপ
এতে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বাড়বে।
১৩. গ্রামীণ উন্নয়নে প্রবীণদের ব্যবহার
গ্রামের প্রবীণরা স্থানীয় সমস্যার বাস্তব সমাধান জানেন।
তারা সাহায্য করতে পারেন
পানীয় জল ব্যবস্থাপনা
কৃষি পরিকল্পনা
সামাজিক বিরোধ মীমাংসা
গ্রামীণ ঐক্য বজায় রাখা
১৪. প্রবীণদের নিয়ে গবেষণা ও নীতি উন্নয়ন
দেশে প্রবীণ বিষয়ক গবেষণা বাড়ানো দরকার।
প্রয়োজন
বিশ্ববিদ্যালয়ে Aging Studies
প্রবীণ কল্যাণ ইনস্টিটিউট
তথ্যভিত্তিক নীতি

সরকারের করণীয়
১. জাতীয় প্রবীণ নীতি শক্তিশালী করা
প্রবীণদের শুধু ভাতা নয়, সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।
২. দক্ষতা পুনঃপ্রশিক্ষণ
নতুন প্রযুক্তি ও কাজ শেখানোর জন্য প্রশিক্ষণ দরকার।
৩. প্রবীণ কর্মসংস্থান পোর্টাল
অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাজের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।
৪. প্রবীণ স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক
জাতীয় পর্যায়ে Senior Volunteer Corps গঠন করা যেতে পারে।
৫. কর ছাড় ও প্রণোদনা
যেসব প্রতিষ্ঠান প্রবীণদের নিয়োগ করবে তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।
সমাজের করণীয়
প্রবীণদের সম্মান করা
সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের যুক্ত করা
পরিবারে তাদের গুরুত্ব দেওয়া
একাকীত্ব দূর করা
সমাজ যদি প্রবীণদের অবহেলা করে, তবে ভবিষ্যতে সেই সমাজ মানবিকতা হারাবে।
প্রবীণদের নিজেদের করণীয়
প্রবীণদেরও সক্রিয় থাকতে হবে।
তাদের উচিত
নতুন কিছু শেখা
সামাজিক কাজে যুক্ত থাকা
শারীরিক ব্যায়াম করা
প্রযুক্তি শেখা
আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা
চ্যালেঞ্জসমূহ
১. স্বাস্থ্য সমস্যা
সব প্রবীণ দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারেন না।
২. প্রযুক্তিগত অদক্ষতা
অনেকে আধুনিক প্রযুক্তিতে পিছিয়ে।
৩. সামাজিক অবহেলা
বয়সজনিত বৈষম্য বড় সমস্যা।
৪. অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা
অনেক প্রবীণ দরিদ্র অবস্থায় জীবনযাপন করেন।
সমাধানের পথ
প্রবীণ-বান্ধব নীতি
স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ
সামাজিক সচেতনতা
প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ
আর্থিক নিরাপত্তা

উপসংহার:
প্রবীণ জনগণ কোনো দেশের বোঝা নয়; তারা জাতির অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও জীবনবোধকে কাজে লাগাতে পারলে ভারত আরও শক্তিশালী, নৈতিক ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।
একটি সভ্য সমাজ সেই সমাজ, যেখানে প্রবীণদের সম্মান দেওয়া হয় এবং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। ২০৫০ সালের ভারতের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রবীণ জনগোষ্ঠীকে মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে দেশের উন্নয়নে যুক্ত করা।
যদি সরকার, সমাজ ও পরিবার একসঙ্গে কাজ করে, তবে প্রবীণ জনগণ দেশের অগ্রগতির এক বিশাল শক্তিতে পরিণত হতে পারেন। তাদের অভিজ্ঞতা হবে জাতির পথপ্রদর্শক, আর তাদের অংশগ্রহণ হবে উন্নত ভারতের অন্যতম ভিত্তি।

------------------------------

শ্যামল হুদাতী 
Prince Anwar Shah Road,
P.O. Jodhpur Park,
Kolkata - 700 068


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত

যাত্রা এবং ফাত্রা লোক অরবিন্দ পুরকাইত কী টানই না ছিল ছোটবেলায় যাত্রা দেখার! আশেপাশে কোথাও যাত্রা হলে কে রোখে! ‘টিকিট সেল’ যাত্রা দেখা তো অনেক পরে, এমনিই চারিদিকে কত যাত্রা হত! নিজের পাড়া বা গ্রামের অন্যত্র থেকে পাশের গ্রাম ঘনশ্যামপুর, মাখালিয়া, মাইতির হাট, আতাসুরা, মগরাহাট…। কলকাতার বড় বড় দলের পালা যেমন কোথাও কোথাও দেখা যেত বিনা টিকিটে, অ্যামেচার দলে যাত্রা করতে করতে বড় দলে সুযোগ পাওয়া বা দলটাই বড় মাপের হয়ে যাওয়াও তো ছিলই। আমাদের পাশের পাড়া ডোঙাঘাটায় দ্বিজপদ নস্করের ব্যবস্থাপনায় তাঁর গৃহসংলগ্ন মাঠে সাধক রামপ্রসাদ পালায় রামপ্রসাদরূপী জলদকুমারের ‘… কালীনামে দাও রে বেড়া ফসলে তছরুপ হবে না…’ গাইতে গাইতে সেই বেড়া দেওয়া আর পিছন থেকে কন্যারূপে কালীর দড়ি যোগানো— ছোটবেলার সে স্মৃতি মুছবে কি কোনোদিন! সুজিত পাঠক তো বলতে গেলে আমাদের প্রতিবেশী গ্রামেরই— তসরলা— গ্রামের বাসিন্দা হয়ে গেলেন! তিনি আমাদের পাশের গ্রাম ঘনশ্যামপুরেও যাত্রা করেছেন।১ তাঁর পুত্র প্রশান্ত পাঠকও অভিনয় করেন। কন্যার বিয়ে দিয়েছেন আমাদের গ্রাম গোকর্ণীতেই, জামাতা রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তীদের পরিবারও অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। আমি করেছিলাম ক...

বাংলা সাহিত্যের দুশো বছর ।। রানা জামান

বাংলা সাহিত্যের দুশো বছর রানা জামান ভূমিকা: দুই শতাব্দী মানে কী? ২০০ বছর মানে ৮টা প্রজন্ম। ১৮২৬ খৃস্টাব্দে যে শিশু "বর্ণপরিচয়" পড়েছে, তার নাতির নাতি ২০২৬-এ ChatGPT দিয়ে বাংলা গল্প লিখছে। এই সময়ের মধ্যে বাংলা সাহিত্য ৩টা সাম্রাজ্য দেখেছে: ব্রিটিশ, পাকিস্তানি, এবং গ্লোবাল-ডিজিটাল। সাহিত্য শুধু বই হয়নি। এটা আদালত হয়েছে, আন্দোলন হয়েছে, পাসপোর্ট হয়েছে, প্রতিবাদ হয়েছে। আলোচনার সুবিধার্থে আলোচ্য সময়টাকে ৫টা মহাদেশে ভাগ করা হবে। মহাদেশ ১: গদ্যের ভিত্তি স্থাপন - ১৮২৬ হতে ১৮৬০ খৃস্টাব্দ ১৮২৬ খৃস্টাব্দের বাংলা সাহিত্য ছিলো মূলতঃ পদ্যের। "চণ্ডীমঙ্গল", "অন্নদামঙ্গল", "পাঁচালি" ইত্যাদি। গদ্য মানে ছিলো সরকারি চিঠি আর দলিল। ১. রাজা রামমোহন রায় - যুক্তির গদ্য তিনি প্রথম দেখালেন বাংলা দিয়ে দর্শন লেখা যায়। "বেদান্ত গ্রন্থ", "গৌড়ীয় ব্যাকরণ"। তিনি সতীদাহের বিরুদ্ধে কলম ধরলেন। তার লেখার ভাষা ছিলো শক্ত, কিন্তু যুক্তিনির্ভর। তিনি প্রমাণ করলেন বাংলা "অপভাষা" না। ২. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর - শিক্ষার গদ্য "বর্ণপরিচয় ১ম ও ২য় ভাগ" উপহার...

ফেনাভাত ।। অনিন্দ্য পাল

ফেনাভাত অনিন্দ্য পাল ১. অফিসের কাঁচের দরজাটা ঠেলে বাইরে পা রাখতেই পুষ্পলের মনে হলো, সে বুঝি আস্ত একটা জ্বলন্ত চুল্লির মধ্যে ঢুকে পড়েছে। কলকাতার বৈশাখী দুপুর তার সমস্ত রুদ্ররূপ নিয়ে যেন ঝাঁপিয়ে পড়ল শরীরের ওপর। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরের কৃত্রিম ঠাণ্ডায় বসে বোঝার উপায় ছিল না যে, বাইরের পৃথিবীটা এভাবে গনগনে আগুনে রূপ নিয়েছে। পিচগলা রাস্তা থেকে একটা ভ্যাপসা গরম হাওয়া এসে চোখে-মুখে ধাক্কা মারল। পুষ্পল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাঁধের ব্যাগটা একটু গুছিয়ে নিয়ে শিয়ালদা স্টেশনের দিকে হাঁটতে শুরু করল। ঠিক তখনই বুক ঠেলে একটা টক ঢেকুর উঠে গলাটা যেন অ্যাসিডে পুড়িয়ে দিয়ে গেল। অম্বলের তীব্র জ্বালায় মুখটা তেতো হয়ে উঠল তার। মনে মনে নিজেকেই একটা গাল দিল পুষ্পল—দুপুরের টিফিনে ওই রাস্তার ধারের নোংরা কড়াইয়ে ভাজা শিঙাড়া আর কড়া লিকারের দুধ-চা-টা না খেলেই হতো। কিন্তু উপায়ও তো ছিল না। রুমিটা গত দুদিন ধরে জ্বরে শয্যাশায়ী। গা যেন পুড়ে যাচ্ছে ওর। রোজ সকালে রুমিই পরম যত্নে পুষ্পলের টিফিন গুছিয়ে দেয়। আজ আর তা হয়ে ওঠেনি। সকালে বেরোনোর সময় তড়িঘড়ি নিজেই চারটে পাঁউরুটি সেঁকে নিয়েছিল। শুকনো মুখে সেই রুটি চিবিয়েই সকাল কেটেছে। আর ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার

২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম উৎপল সরকার বাংলার ইতিহাসে কিছু দিন কেবল ক্যালেন্ডারের তারিখ হয়ে থাকে না; তারা মানুষের বিবেকের ভেতর অম্লান প্রদীপ হয়ে জ্বলে। ২৯ জুলাই তেমনই একটি দিন।বাংলার শিশুশিক্ষার ইতিহাসে তাঁর অবদান আজও অম্লান। তিনি ‘বর্ণপরিচয়’ প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ রচনা করেন, যা বাংলার লক্ষ লক্ষ শিশুর প্রথম পাঠ্যপুস্তক হয়ে ওঠে। ‘বর্ণপরিচয়’ কেবল একটি পাঠ্যপুস্তক নয়; এটি বাংলার অসংখ্য শিশুর প্রথম স্বপ্ন, প্রথম অক্ষরচেনা, প্রথম ভাষাপ্রেম।এই দিনটি ফিরে এলে বাংলার আকাশে যেন এক অদৃশ্য নীরবতা নেমে আসে। মনে হয়, কোনো বিশাল বটবৃক্ষের ছায়া হঠাৎ সরে গেছে, অথচ তার শিকড় এখনো মাটির গভীরে আমাদের অস্তিত্বকে ধরে রেখেছে। ১৮৯১ সালের এই দিনে নিভে গিয়েছিল এক মানুষের দেহজীবন, কিন্তু জ্বলে উঠেছিল তাঁর আদর্শের অনির্বাণ প্রদীপ। সেই মানুষটির নাম ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর—যিনি ছিলেন বিদ্যার সাগর, মানবতার মহাসমুদ্র এবং সমাজ-সংস্কারের এক অবিনাশী আলোকস্তম্ভ। বিদ্যাসাগরকে কেবল একজন পণ্ডিত বললে তাঁর প্রতি অবিচার করা হয়। তিনি ছিলেন এমন এক মানুষ, যিনি জ্ঞানের সঙ্গে হৃদয়ের, যুক্...

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ।। অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস)

  প্রাকৃতিক দুর্যোগ  অঙ্কিতা পাল (বিশ্বাস) সেদিন ছিল ২৫ শে জুন ১০-ই আষাঢ় বৃহস্পতিবার, প্রতিদিনের মতো সকালের কাজ শেষ করে দুই মেয়েকে নিয়ে স্কুলে এসেছিলাম। বাড়ি ফিরে মধ্যাহ্ন ভোজনের আয়োজন সেরে স্নান করে আবারও চললাম বিদ্যালয়ের দিকে............... ঠিক দুপুর ২ টো তে বিদ্যালয়ের পঠন পাঠন সমাপ্ত হয়, তাই আমরা একটা পনেরো নাগাদ বেড়িয়ে পরি। আমরা সাথে একজন বৌদি তার বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে একসাথে স্কুলে যায়। দুজনে কবে যেন ঠিক বোনের মতো হয়ে গেছি জানিনা, আমাদের যাতায়াত চার বছরের মনে হয় যেন একটাই পরিবার। আবার কখনো মনে হয় সে আমার বড় জা বা বন্ধু। দুজনেই গল্প করতে করতে চলেছি....... প্রতিদিনের মতোই । কিছুটা পথ অতিক্রম করার পর ;  কোথা হতে এক কালো রাক্ষসে মেঘে নীল আকাশ ছেয়ে গেলো কেমন যেন নিস্তব্ধতা নিস্তরঙ্গ চারিপাশে। হঠাৎ এই দূরভাষ নামক যন্ত্রটি বেজে ওঠে কর্তা মশাইএর ফোন - বজ্রপাত হলে কোথাও দাঁড়িয়ে যেও, ফোনে বার্তা এসেছে। চলেছি টোটো তে................. কাঁঠালিয়া স্কুল আসতেই শব্দে একের পর এক আলোক  স্ফুলিঙ্গের মতো বজ্রপাত হতে থাকে। শঙ্কিত মনে অশান্ত প্রকৃতি...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু

তিনটি কবিতা ।। পদ্মাবতী কুন্ডু  কবিতা  কবিতা ভালবাসি জন্মাবধি । কবিতা বেসেছি  ভালো সারাটি জীবন । ভেবেছিলাম জীবনটা হবে কবিতাময়, কিন্তু কঠিন গদ্যময় এখন আমার জীবন।  আমার জীবনটা কাঁটাময় ঝোপঝাড় , আঘাতে আঘাতে  দেহ থেকে রক্ত ঝরে । তবু কবিতাকেই ভালবাসি আমি , চাই ফুটাতে ফুল কাঁটাময় সংসারে । ওগো কবিতার দেবী,আমাপ্রাতি প্রসন্ন হও। ফুটাও ফুল আমার কাঁটাময় দেহ 'পরে-- যে কয়দিন বাঁচি, যেন কবিতার সঙ্গেই  বাঁচি, কবিতা ছাড়া কোন বন্ধু নেই, নিঠুর এ সংসারে। সুখে  কবিতা, দু:খে কবিতা, কবিতা থাক আমার মরণেরও পরে। যদি একজনও পড়ে আমার কবিতা, ধন্য জীবন  মানি  এ কঠিন  সংসারে। এসেছে  আষাঢ়  এসেছে আষাঢ় । ঝরছে অমিয়  ধারা  ঝর ঝর ঝর। মাটির উত্তপ্ত হৃদয়  শীতল  হলো বৃষ্টির মায়ায়। চলছে চাতকের আকণ্ঠ জলপান। গাছে গাছে পাখিদের গান। গুরু গুরু মেঘের গর্জন, সাথে বিজলী মেয়ের নাচন। বাদলের ধারা ঝরছে অবিরত, কদম, কেয়া বৃষ্টিতে অবনত। আনচান করে ওঠে মন।...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...