তিনটি কবিতা ।। সোমনাথ লাহা
নৈঃশব্দ্যের ছায়া
লুপ্ত জীবনের উঠোন ছেড়ে,
শুদ্ধতায় বাঁধা পড়তে চাইছে মন—
ভারহীন পৃথিবীর বুকে গণতান্ত্রিক মায়ায়।
প্রবেশ ও প্রস্থানের সিঁড়িপথ বেয়ে খুঁটি গেঁড়ে,
পিছনে তবু রয়ে গিয়েছে নৈঃশব্দ্যের ছায়া।
নির্ভেজাল খরস্রোতা পাহাড়ের গা বেয়ে আসছে;
দুঃখ এখনও, জন্মবধি, দাঁড়িয়ে রয়েছে কাঠগড়ায়।
সহজাত নিপুণ হাতে আলাদা করছি প্রস্তরখণ্ডের জাল,
মাইলফলকের ভিতরে এখনও রয়ে গিয়েছে নৈরাজ্য।
রঙিন আলোর ভিতরে জমাট বাঁধছে অন্ধকার!
গন্তব্যের রণভূমির বুকে শব্দের সমাবেশে,
নিরাময়ের অনন্ত স্পর্শে রয়েছে ভারসাম্যের সমাধান।
উত্তরণ
বিরাট শূন্যতার মাঝে খুঁজে বেড়াচ্ছি—
সুস্পষ্ট পথের ঠিকানা নিরন্তর…
গোলকধাঁধা পেরিয়ে, আকাশের দিকে মাথা তুলে,
খড়কুটো ধরে নিজের কাছেই পেতেছি দু’হাত।
নশ্বর দুনিয়ায় খুঁজে বেড়াচ্ছি প্রত্যাশার বীজ;
পটপরিবর্তনের ভাঙা রূপকথার মাঝে দাঁড়িয়ে—
পাতার শব্দ শুনে, অনন্তকালের অন্তহীন পথ চলছি।
হারানো অতীত এত বিষণ্ন, অস্বচ্ছ হয়!
অস্তরাগের বলিরেখায় দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে আরেকবার
মেঠোপথ ধরে দিকশূন্যপুরের দিকে নতুন করে
শুরু করে যাত্রা; সবুজের সরলতায় রাঙা সজল চোখে,
মননসিক্ত হয়ে বিশ্বধরার মাঝে নতুন কর্মগানে—
ফুলের বেশে সেজে ওঠার অপেক্ষায়।
উন্মোচন
যখন শামিয়ানার নিচে বসে লিখি,
জং ধরা শরীরের কপাটগুলো আপনি খুলে যায়।
শিখার উপরে থাকা নির্ভরতার আঁচে
তপ্ত হতে থাকি; শব্দেরা বর্ণমালার রূপ নিয়ে
জোছনা-ঘেরা প্রান্তরে জোনাকির সঙ্গে নেভে-জ্বলে।
তরঙ্গের মধ্যে ডানা মেলে আলোর শিখা,
সবুজের মায়ায় ঘেরা প্রান্তরে তখন বয়ে যায় দখিনা বাতাস।
বৃষ্টির কয়েক ফোঁটা ঝরে পড়ে আকাশের বুক থেকে,
খসে পড়া পাতা শরীরে কেটে যায় আঁকিবুঁকি—
অক্ষরের পল্লবে প্রসবিত হয় দীর্ঘ কবিতা।
স্তবকের উৎসারিত আলো মাইলফলকের মাথায়;
একা বসে তখন পাতায় লেখা মানবতার কণ্ঠস্বর।
সুরভিত বর্ণে তখন চোখে জল চলে আসে,
সম্মুখে এসে সেই সময়ে এসে দাঁড়ান ঈশ্বর।
নাম : সোমনাথ লাহা ঠিকানা : ৯১/৩এ, সাউথ সিঁথি রোড, কলিকাতা -৭০০০৩০। মোবাইল নাম্বার : ৭০৪৪১২৬৪০৮.
Comments
Post a Comment