পূর্ণিমার রাত
আজ পূর্ণিমার সন্ধ্যায় উঠেছে
পূর্ব আকাশে গোলগাল চাঁদ,
উঠানের মাঝে চাঁদের আলো যেন
করছে ছড়িয়ে রূপের হাহাত।
সন্ধ্যায় আমার লেখার টেবিলে
আড্ডায় কেটে গেল কিছুটা সময়,
ততক্ষণে সেই রূপালী চাঁদটি
মাথার উপরে এসে উদয়।
চাঁদের আলোয় চিকমিক করে
দূরের ওই নারকেল গাছের পাতা,
সবুজ গাছেরা আলোয় হাসছে
খুলে যেন এক রূপকথার খাতা।
আহা, এই চাঁদের আলোর বাহার
এমন তো আগে দেখিনি কখনো,
জীবনানন্দ আর বিশ্বকবিও তাই
এই রূপে মুগ্ধ হয়েছিলেন এখনো।
পূর্ণিমার ঐ রাতের মায়ায়
চাঁদের মুখে মিষ্টি হাসি,
মনটা আমার কেড়ে নিল যেন
বাজিয়ে রূপের মোহন বাঁশি।
গভীর রাতে চারিদিক নিঝুম
সবাই যেন ঘুমে চুপচাপ,
দূর থেকে শুধু কুকুরের দলে
কেউ একজন দিল জোরে ডাক।
যেমন ভাবনা তেমনই তো কাজ
নিস্তব্ধতায় ঘেরা এই রাত,
কেউ পাশে নেই, তবু মনে কোনো
জাগেনি তো রাগ বা অনুপাত।
অপেক্ষা
কোন এক নিঝুম নিশীতে
লিখব কবিতা একাকী বসে ,
আমায় দেখে যেন মিটিমিটি
ওই আকাশের চাঁদ হাসে।
চুপিচুপি মিশে যাব
জোনাকির ওই দলে,
হাতছানি দেবে মেঘেরাও
ডাকবো আমায় 'কবি' বলে।
মনে পড়ে যাবে
কিছু কথা প্রজাতির,
একলা দ্বিপের সাথি হব
ছায়া হয়ে পাশে দাঁড়াব।
তার ওই শিখল ভেঙ্গে
চুপি সারে এসে ,
অবাক করে দিবে আর
কবিতা শুনবে পাশে বসে।
কত দিন গেল কেটে
সেতো আজো আসেনি,
কত রাত হয়েছে বাসি
কেউ কথা রাখেনি।
ভাগ করে নিব আমি
আছে যত ব্যাথা,
এক গোধুলিতে সে
দিয়েছিল আমায় কথা।
মাঝি
ধানের ক্ষেতে বাতাস যায়
দামাল ছেলের মত,
ডাক দিয়ে বলে
আয়রে তোরা ডাকব আর কত।
মুক্ত মায়ের মিষ্টি হাওয়া,
যোটে না যায় ভাগ্য পাওয়া।
হারস নে ভাই অবহেলায় রে
দিন যায় গত,
ধানের ক্ষেতে বাতাস নেচে
যায় চপল ছেলের মতো।
ছোট নদী কোন সুদুরে
যায় বক্ষে রজত ধারা ,
ডাক দিয়ে কয়
আয়রে ছুটে আয় রুগ্ন সাহস হারা।
লাগলে মাঠায় বৃষ্টি বাতাস ,
উলটে কি যায় সৃষ্ট আকাশ ।
রোদের ভয়ে থাকলে শুয়েরে
নৌকা বইবে কারা,,
ছোট নদী কোন সুদুরে
ধায় বক্ষে রজত ধারা ।
===============
নুর ই আল সাহাত চৌধুরী
উপজেলা : ডোমার ৫৩৪০
জেলা : নীলফামারী
দেশ : বাংলাদেশ
Comments
Post a Comment