Skip to main content

Posts

Showing posts from June, 2026

তিনটি কবিতা ।। বিকাশ দাশ

তিনটি কবিতা ।। বিকাশ  দাশ  আমন  এত যে টেরিকাটে  লাঙলের ফলা   কতটা সংগ্রাম লেখা হয় তাতে জানে কৃষক   আমনের অভিষেক পর্বে বেজে ওঠে খামারের বাজনা  গ্রামান্তরে ভেসে বেড়ায় ফসলের গান   মাঠ জুড়ে লাঙল কী লেখে এত  মানুষের ভবিষ্য,  নাকি রক্ত মাংস হাড়?  বাজনা ধ্বনিত হয় আমন অভিষেকে  জড়ো হয় এক বারান্দা কান্নার স্বরলিপি   ঝরঝর ধারাপাতে কেঁপে ওঠে মাটির কোরক  মাটি পাথর জল কিম্বা আগাছাও জানে না  কতটা মায়া লেপে দেবে মুনিশ-কামিন  তবুও  লাঙলের ফলায় নেচে উঠবে শস্যখেতের অহংকার।  সন্ধি দুটো পথ যখন একবিন্দুতে একীভূত হয়  তখন বিস্তার শূন্য হয়,  জেগে ওঠে নম্রতার গান, আত্মবিশ্লেষণ  দু-পাশের অর্জুনগাছও টের পায় না  পথিক তবু বাঁক নেয়, প্রতিটি বাঁকের শেষে  সন্ধির সুগন্ধি বাতাসে ছড়ায়।  আমাদের সন্ধির ইতিহাস একইরকম   বিবর্ণ ই...

তিনটি কবিতা ।। সোমনাথ লাহা

তিনটি কবিতা ।। সোমনাথ লাহা নৈঃশব্দ্যের ছায়া লুপ্ত জীবনের উঠোন ছেড়ে, শুদ্ধতায় বাঁধা পড়তে চাইছে মন— ভারহীন পৃথিবীর বুকে গণতান্ত্রিক মায়ায়। প্রবেশ ও প্রস্থানের সিঁড়িপথ বেয়ে খুঁটি গেঁড়ে, পিছনে তবু রয়ে গিয়েছে নৈঃশব্দ্যের ছায়া। নির্ভেজাল খরস্রোতা পাহাড়ের গা বেয়ে আসছে; দুঃখ এখনও, জন্মবধি, দাঁড়িয়ে রয়েছে কাঠগড়ায়। সহজাত নিপুণ হাতে আলাদা করছি প্রস্তরখণ্ডের জাল, মাইলফলকের ভিতরে এখনও রয়ে গিয়েছে নৈরাজ্য। রঙিন আলোর ভিতরে জমাট বাঁধছে অন্ধকার! গন্তব্যের রণভূমির বুকে শব্দের সমাবেশে, নিরাময়ের অনন্ত স্পর্শে রয়েছে ভারসাম্যের সমাধান। উত্তরণ বিরাট শূন্যতার মাঝে খুঁজে বেড়াচ্ছি— সুস্পষ্ট পথের ঠিকানা নিরন্তর… গোলকধাঁধা পেরিয়ে, আকাশের দিকে মাথা তুলে, খড়কুটো ধরে নিজের কাছেই পেতেছি দু’হাত। নশ্বর দুনিয়ায় খুঁজে বেড়াচ্ছি প্রত্যাশার বীজ; পটপরিবর্তনের ভাঙা রূপকথার মাঝে দাঁড়িয়ে— পাতার শব্দ শুনে, অনন্তকালের অন্তহীন পথ চলছি। হারানো অতীত এত বিষণ্ন, অস্বচ্ছ হয়! অস্তরাগের বলিরেখায় দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে আরেকবার মেঠোপথ ধরে দিকশূন্যপুরের দিকে নতুন করে শুরু কর...

তিনটি কবিতা ।। লালন চাঁদ

প্রিয়া  ----------- আকাশে মরা চাঁদ  আলো নেই  দড়ির আলনায় ঝুলে আছে ঘন অন্ধকার  পাল্টে যাচ্ছে দিন  ক্ষুধা নিয়ে জন্ম নিচ্ছে কতো পৃথিবী  থেমে যাচ্ছে নদী  তৃষ্ণার বসতি জুড়ে গহন রাত  বিকৃত ইতিহাস আঁকে মেকি ইতিহাসবিদ  রক্তাক্ত পদাতিক  রঙিন দিনগুলো গুছিয়ে রেখেছিলো যারা  তারা আজ নেই  এখন চারদিকে ত্রাস  ত্রাসের সাম্রাজ্য ভাঙছে হাজারো শ্রমিক  অনিবার্য বিপ্লব বৃষ্টি নেই কতোদিন  ছাদের টবে শুকনো চন্দ্রমল্লিকা  দাবদাহ  হৃদয় থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে পারাবত প্রিয়া  নদী  --------- বেলা নিভে আসে  মেঠোপথ পেরিয়ে যায় সময় অসময়  অসময়ের নিত্যযাত্রী যারা  তারা নিরুদ্দেশ  উঠোন জুড়ে হাঁটুজল শান্ত নদী এখন ঘরের ভেতর  জলে ভাসে উনোন  ক্ষুধার্ত পৃথিবী কুরে কুরে খায় চাঁদে...

তিনটি কবিতা ।। তুষার ভট্টাচাৰ্য

তিনটি কবিতা ।। তুষার ভট্টাচাৰ্য  ডাক হরকরা চাঁদ ভাঙা জানালায় পূর্ণিমার ডাকহরকরা চাঁদ উড়ে এলে আমি মেঘের পালকে নীরবে ভাসিয়ে দিই রূপকথা স্বপ্নের অক্ষর, কারুকাজ ; তারপর হতাশার ঝুলকালি ঝেড়ে জেগে উঠি বেঁচে থাকার আনন্দে l কালের রাখাল হয়ে এই প্রাচীন জনপদ, জল, আলো বাতাস, শস্যভূমি অরণ্য, উর্বর পলিমাটির শিকড়ে আমি কালের রাখাল হয়ে নীরবে ছড়িয়ে দিই মুঠো মুঠো স্বপ্ন বীজ ; পাললিক শিলার বুকে খোদাই করে লিখে দিই ভোরের কৈশোরের গোপন ভালবাসার উঠোনজোড়া স্মৃতি কথা ; নিরর্থক এই জাবরকাটা দিনগুলির কথা ভুলে কালের যাত্রায় বাড়িয়ে দিই পা ; বন জোছনার গন্ধ নিয়ে একদিন পরিযায়ী পাখির মতন উড়ে চলে যাব ওই আকাশ গঙ্গায় ; শুধু রেখে যাব - সন্তানের টোল পড়া গালে স্নেহ ভালবাসার অন্তিম চুম্বনের স্মৃতি চিহ্নটুকু l রাত জাগা স্বপ্নগুলি দুঃখগুলি জমে জমে পাথর হয়ে গেছে ভাঙা বুকের পাঁজরে তবু রাত জাগা রূপকথা স্বপ্নগুলি উড়ে আসে রুপোলি জোছনার নরম গন্ধ নিয়ে খোলা জানালায় ; আর তখনই চোখের অশ্রুচিহ্ন মুছে মনের আয়নায় নীরবে আঁকি সূর্যমুখী সকালের ছবি ; জীবনের সব ব্যর্থতা আর অপমানের কথা ভুলে নুন ঘাম শ্রম...

তিনটি কবিতা ।। নীলাঞ্জনা হাজরা

বিচ্ছেদ  হাত ধরা ছিল কঠিন  হাঁটা হয়নি কোনদিন  স্কুলের  মেঠো পথে পুকুর ছিল অদূর।  সামন ধানের ক্ষেত  শীতকাল হলে সর্ষে আমার চোখে তুমি  হলুদ ফুলে অপরূপ। একদিন কিছু কথা সাজিয়ে চিঠি লেখা সাহস ছিল কম  বিনিদ্র রাত জাগা। আঠারোর আগে  আবেগ বাঁধ ভাঙ্গা বেগতিক  তোমাকে ভুলিনি প্রথম  শিমূল বসন্ত  স্মৃতি। শান্তিনিকেতন  একদিন হেঁটে গিয়েছিলে তুমি বোলপুর থেকে শান্তিনিকেতন।  আমার অবাধ্য মন আমার চির বাঁধন।  সঙ্গী ছিল সাথী প্রিয় হাতের মুঠি ভালবাসার  দ্যুতি। সন্ধ্যার নক্ষত্র শব্দহীন পূর্বপল্লীর মাঠে চাঁদের গায়ে কলঙ্কের দাগ, সৌজন্য বিহীন  ভবিষ্যত দ্বন্দ্বের অকৃত্রিম  প্রতীক স্বরূপ।  তানে তানে ফুরিয়ে যাওয়া সময় যা কখনও  হারায় না।   জানালা বাড়ির উত্তর দিক...

গুচ্ছকবিতা ।। সুশান্ত সেন

গুচ্ছকবিতা ।। সুশান্ত সেন  শুনলাম শুনলাম তুমি কোনো দিন কলেজ স্ট্রিট এর কফি হাউসে বসে কফি খেলে না, তাহলে কি করে  পারিষদ মাঝে এসে বসবে গো তুমি ?  উত্তাল সত্তর ভাঙা প্রেসিডেন্সির আলো হিন্দু স্কুল এর কাছে বসে পড়ে যৌবন বিকায় দেখো নি ত তুমি। তাহলে কি করে  পারিষদ মাঝে এসে বসবে গো তুমি ? হেদুয়ার মোড় থেকে সাপ নদী একে বেকে এসে গর্জন তুলেছে, তবু ত বিক্রেতা দোকানের দরজা খোলাই রেখেছে , শঙ্কায় শঙ্কায় বন্ধ করেনি তো হৃদয়ের দ্বার। দেখেছ কি তুমি ? তাহলে কি করে  পারিষদ মাঝে এসে বসবে গো তুমি ? কলেজ স্ট্রিটের গন্ধ  যদি তুমি গায়ে'ই মাখনি তাহলে কি করে  পারিষদ মাঝে এসে বসবে গো তুমি স্বগতোক্তি  বারো ঘর একটা উঠান একটা মাত্র মাঝি নৌকা চালায় সাতটা দাড়ি সারাদিনের বকম বকম উঠান পুকুর চলতে থাকে অনেক দিন অনেক দিন। ...

তিনটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর

তিনটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর  পর্ণা পিঠের ওপরে উল্কি বাহুতে নগ্ন জরুল  পুঁথি শ্বাস বধির । কতবার বেআব্রু জীবন  নোংরা সোহাগে অতিষ্ঠ ঠোঁট  কাঁটা শয্যা শরীর। ফণিমনসার তৃষ্ণা  ধূ ধূ প্রান্তরে উঠে শুধু বালিঝড় । ঘৃণা দাগ ঘৃণিত স্বাদ এভাবেই পর্ণা বাসর । অন্ধ স্রোতে অন্ধ স্রোতে  ভেসে যাচ্ছে মানুষের ঢেউ আতস চোখে অন্ধ কিনারে ভালো বাসা এঁকেছে কেউ । স্রোতের টানে আজন্ম যন্ত্রণা আঁচলের গিঁটে বাঁধা শোক  মসৃণ চূড়ার হোঁচট  অবাধ্য অনন্তলোক । অন্ধ মুনীর চোখ অন্ধত্বের নিকষতায় চুপ গহীন অন্ধ স্রোতে  এসো কে দেবে মৃত্যু ডুব ।   ক্ষতস্থানে যেখানে ক্ষতস্থান  সেখানে আঙুল পরশ যন্ত্রণার পান্ডুলিপির আগুনে পুড়েছে প্রেমিক সারস । সোনা ঝুরি বাগানের আলপথে  রাধ...

চারটে কবিতা ।। রণেশ রায়

চারটে কবিতা ।। রণেশ রায় ইচ্ছের জাগরণ তুমি করতে পারো না তা নয়, তুমি করতে চাও না; তাই তো হয়ে যাও অকর্মা। তুমি বলতে পারো না তা নয়, তুমি বলতে চাও না; তাই রয়ে যাও অবলা। তুমি চলতে পারো না তা নয়, তুমি চলতে চাও না; তাই হয়ে পড়ো অচলা। তুমি চোখে দেখো না তা নয়, তুমি দেখতে চাও না; তাই জীবনটা রয়ে যায় অদেখা। তুমি শুনতে পারো না তা নয়, তুমি শুনতে চাও না; তাই রয়ে যাও অশ্রুতা। তুমি বোঝো না তা নয়, তুমি বুঝতে চাও না; তাই হয়ে পড়ো অবুঝ। তাই তো বলি তোমায়— ইচ্ছেটা এবার জাগিয়ে তোলো; করো, চলো, বলো, দেখো, বোঝো আর শোনো। অকর্মণ্য হয়ে থেকো না আর, জেগে উঠুক তোমার প্রাণসত্তা; ফিরে পাও নিজেকে নিজে। আকাশ, বাতাস, মানুষ আর প্রকৃতি, এই সুন্দর জীবন— সবাই হয়ে উঠবে আপনজন। রাগ, অনুরাগ, বিরহ কিংবা মিলন— হাতছানি দিয়ে যায় সবাইকে; তুমি...

তিনটি কবিতা ।। শুভেন্দু বিকাশ চৌধুরী

তিনটি কবিতা ।। শুভেন্দু বিকাশ চৌধুরী শিক্ষা আমি দোকানটাতে গিয়ে জানতে চাইলাম- গরম চা হবে? কত করে? লোকটা বলল- এক ভাঁড় সাত টাকা। আমি রেগে বললাম - এত বেশি দাম নাও কেন? লোকটা হেসে বলল -আমার এটাই রেট।  আমি বললাম - এক কাপ দাও। আমি কিন্তু পাঁচ টাকাই দেব। লোকটা জানতে চাইলো - বিস্কুট লাগবে? আমি আবার প্রশ্ন করলাম - কত করে নিচ্ছো? লোকটা মুচকি হেসে বলল - খেতে মন চাইলে খান না, পয়সা নিয়ে অত ভাবছেন কেন? লোকটার কথাতে আমার একটু রাগ হলো। একটা কাজে যাচ্ছি বলে কিছু বললাম না।  চা, বিস্কুট খাওয়ার পরে, ছেলেটাকে পাঁচ টাকার একটা কয়েন দিলাম। ছেলেটা কিছু না বলে রেখে দিলো। আমি আবার একটু রেগে বললাম - আর কত দিতে হবে?  বলবে তো নাকি? ছেলেটা বলল- কিছু দিতে হবে না। পরদিন ফেরার পথে দেখি দোকানটা আর নাই। আমি অবাক হয়ে ভাবছি দোকানটা গেল কোথায়? এমন সময় ছেলেটা পাশে এসে দাঁড়ালো। সঙ্গে রয়েছে গরম চা'এর পাত্র আর একটা প্লাস্টিকের প্যাকেটে বিস্কুট। আমি জানতে চাইলাম -দোকান কি হলো? ছেলেটা হেসে বলল -ঝড়ে ভেঙে গেছে। আমি বললাম - কালকের কত টাকা বাকি আছে? ছেলেটা হ...

তিনটি কবিতা ।। প্রসেনজিৎ দাস

তিনটি কবিতা ।। প্রসেনজিৎ দাস   পরিত্যক্ত ফল অনেকের সাথে আমার জন্ম এক বাগানে - প্রতিশ্রুত মিষ্টি এবং মনোরম রঙের। বীজ থেকে অংকুর হয়ে পাপড়ি ছড়িয়ে,  আমি প্রতিটি প্রত্যাশীর মতো একটি - সাধারণ সুন্দর স্বপ্ন দেখেছিলাম।  আমি বৃষ্টি, শিলা, রৌদ্র, খরা, ঝড়ের - সাথে মুখোমুখি হয়েছি বহুবার।  স্বপ্নের মতো ছিল এই অভিজ্ঞতা।  ছিল সে অনেক মজার আমার বেড়ে ওঠা।  ভাগ্যের বিদ্রুপে এলো এক নতুন বাঁক।  আমার আত্মার পবিত্রতা, হয়তো আমার - স্রষ্টার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি এই জন্মে।  ধরণীর বুকেই পেলাম শেষ ঠাঁই।   হলো ত্বক ক্ষতবিক্ষত, দেখলো না কেউ,  শুনলো না আমার বিধাতা, আমার ঈশ্বর ! কান্নায় করেনি কর্ণপাত, দেহের জ্বালা, কেউ - দেখতে চায়নি, স্বীকৃতি হারালাম সেইমুহূর্তে।  সমাজের অনেক অভূত প্রাণের মতনই - আমি জায়গা পেলাম নোংরা বর্জনের স্থানে। চোখের জলের অধিকার, প্রতিবাদের অধিকার - এই অসম সমাজে সবার জন্যে নয় । দুর্গের প্রহরী পাথরে সাজানো, পাথরের বানানো পথ - খাড়া দেয়াল, আজও গলিগুলো অন্ধকার । যুদ...

তিনটি কবিতা ।। অসীম ভুঁইয়া

তিনটি কবিতা ।। অসীম ভুঁইয়া দুটো স্মৃতি দুটো স্মৃতি জুড়ে দিলে  একটি ঝরনা  প্রসব করে জন্মের ঋণ তার অশ্রু-পথে অকারণ বাঁধ  মোহনাও থমকে আছে  নিশ্চল প্রতীক্ষায়  অদূরে শুকনো বালির চিত্রপট ভালোবেসে তবে এই বুঝি অমোঘ সঞ্চয়  তবে তাই হোক  ধীরে ধীরে নিভে যাক "সন্ন্যাসিনী চাঁদ।" আঁচড় একটি আঁচড়ে দুটি সংলাপ... জুড়ে আছে নৈঃশব্দ্যে  দুদিকে পাড়। মাঝে অশ্রু-গাথা  সেতুহীন এই যন্ত্রণার বিন্যাস অসমাপ্ত ত্রিকোণ দ্বীপে  হৃদয় বন্দি  একটি চাঁদ কখন যেন খসে পড়ে পল্লবে। চলমান ভেঙে পড়ছে একটি সরণী  শব্দহীন। নিস্তেজ। কথা সব অবিশ্বাসীর মতো  উড়ে উড়ে চলে যাচ্ছে দূরে নির্বোধ প্রতিশ্রুতির ডানা থেকে ছিটকে পড়ছে বৃষ্টির তির  এমন দিন। এমন রাত যেন ব্রহ্ম-জীবন ...

কবিতাগুচ্ছ ।। বিশ্বজিৎ মানিক

কবিতাগুচ্ছ ।।  বিশ্বজিৎ মানিক আমি না থাকলেও নাম পরিচয় শিক্ষা সবই অন্যের দান তবু আমি ভাবি  এ জীবন শুধু আমার গর্ব করি ক্ষমতার মোহে ডুবে থাকি ভুলে যাই কাল হয়তো থাকবই না। একদিন রাজত্ব থেমে গেলে অন্যের কাঁধে চড়ে  পৌঁছে যাবে অন্তিম ঠিকানায় চারপাশের বাতাস নদী পাখির কূজন কিছুই স্তব্ধ হবে না কারোর জন্য। শিকড়ে যারা ছিল তারা এখন নেই তবু তাদের অভাব কেউ টের পায় না আমারও জীবন শেষ হবে একদিন তবু সংসার চলবে সময়ের নিয়মে। অহংকার কেন  কেন এই মায়ার জট! আমি না থাকলেও বসবাস চলবে সূর্য হাসবে জ্যোৎস্না ঝরবে পৃথিবী ঘুরবে নতুন কবিতা লেখা হবে নতুন কারোর নামে। মৃত্যুর পর যদি ঈশ্বরকে দেখি আমি এখনো ঈশ্বর দেখিনি তাই জীবনকে ধরে আছি এক অচেনা মানচিত্রের মত। মৃত্যুর পর যদি সত্যিই ঈশ্বরকে দেখি তাহলে হয়তো দেখা নয় বোঝা হবে অনেক। হয়তো তখন বুঝবো ঈশ্বর কোন মুখ বা আকার নয় আমার প্রতিটি...

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী

কবিতাগুচ্ছ ।। সুমিতা চৌধুরী দীর্ঘ গ্রহণকাল  এ যেন এক দীর্ঘ গ্রহণের কাল     নিকষ কালো অন্ধকারে   ডুবছে সবটুকু....   চারিদিকে পড়ে আছে  ধ্বংসের চিহ্ন ইতস্তত  আলো ডুবে গেছে কোন সে ধূধূ..... কত শত খোলস  নিত্য খসছে সরীসৃপের গমনাগমনের পথে.... বসতি ছেড়ে গড়ে উঠছে সরীসৃপেরই বসতি দিনে-রাতে দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণকালের সাথে!! ফাঁদ হিংসার লেলিহান শিখায়  পুড়ছে ঘর-বার, সমাজ-সংসার,  দগ্ধ অন্তর.... রঙিন পসরায় লহুর নিশান    জীবন দুস্তর,     যাপন যাযাবর....  জয়-পরাজয়ে ত্রাসের আবহ    বাড়ছে লাশের বহর,     জুড়ে মাঠ-ঘাট প্রান্তর.... তুমি-আমি আজ ফাঁদে বন্দী     না জানি কার শিকার!      কি হবে অতঃপর.... অলীক অপেক্ষারা  ...

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল

তিনটি কবিতা ।। সমীর মন্ডল  শীতল জলের বাঁধ তুমি তো কোন মানবী নও তুমি শীতল জলের বাঁধ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তৃষ্ণার্ত চিত্তে পান করি অবাধ। ভালোবেসে আবার মুক্তও করি অলিখিত এক ধারায় সিক্ত করো চরাচর তবু ফিরে এসে ডাকো না আর আমায়। তোমার আকাশে উড়ে বেড়ায়  দুরন্ত পানকৌড়ি ডুবে ডুবে সে খুঁজেও নেয় নীরব ভাষার সুগন্ধি মৌরি। আরো কত অজানা নামে কাটায় দীর্ঘ দিন শীতের দিনের একটি বেলায় দেখা হলো, বেহিসাবী ঋণ। চমক ভাঙে নৌকা বিহারে দোদুল্ল্যমান বেশ যতবার মনে পড়ে তোমায় তুমি থাকো বিশেষ। অকাল বর্ষনে অকাল বর্ষনে বজ্র বিদ্যুৎ সঙ্গে নিয়ে  কে তুমি ডাকো? একলা পথে ভিজে রোদ্দুরে লজ্জা শরমের বালাই না রেখে  অসহায় আত্মসমর্পণ। কর্দমাক্ত পিচ্ছিল পথে গন্তব্যে স্থির উচ্ছ্বসিত আবেগ  ফুলের গন্ধে বুদ হয়ে থেকেও  আপন মনে কাজ করে চলে। ঝড়ে কাঁপা...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

নিঃশব্দ বন্ধুত্ব ।। সুচন্দ্রা বসু

  নিঃশব্দ বন্ধুত্ব সুচন্দ্রা বসু  মেঘলা সকালে জঙ্গল যেন নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে। পাখির কিচিরমিচির, পাতার উপর শিশিরের ঝরঝরে শব্দ, দূরে নদীর স্রোতের খশখশ ধ্বনি—সবই মিলে তৈরি করছে এক ধীর, স্বপ্নের মতো পরিবেশ।  নন্দিনী এক বছর ধরে এই জঙ্গলে বসবাস করছেন, শুধু একটি ছোট তাঁবু, কিছু খাতা আর ক্যামেরা নিয়ে। প্রতিদিন সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তিনি বসে থাকতেন—চুপচাপ, গরিলাদের দিকে তাকিয়ে। নন্দিনী লিখে রাখতেন—গরিলাদের দোলন, হাস্যোজ্জ্বল খেলা, সন্তানদের যত্ন, এবং দলীয় প্রধানের হঠাৎ রাগ। তিনি লক্ষ্য করতেন, তারা মানুষের উপস্থিতিতে মোটেও আতঙ্কিত নয়, বরং কৌতূহল প্রকাশ করে। তার লক্ষ্য ছিল ধীরে ধীরে এই গরিলাদের বিশ্বাস অর্জন করা। তিনি জানতেন, প্রকৃতির নিয়মে বন্ধুত্ব সময় নেয়। দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল। কখনও কখনও গরিলারা তাঁকে দেখে থমকে যেত, আবার তাদের কাজে ফিরে যেত। তিনি জানতেন—তাদের মধ্যে কিছুটা আস্থা তৈরি হয়েছে। সিলভারব্যাক রূপালি-রঙের পুরুষ গরিলার দিকে তাঁর নজর সবচেয়ে বেশি থাকত। রূপালি শক্তিশালী, গরিলাদের নেতা। মাঝে মাঝে তার চোখে অদ্ভুত এক কৌতূহল দেখা যেত। নন্দিনী লিখে রাখতেন— "রূপালি আজ চারপ...

মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ

  বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক গল্প মাটি , বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান দিব্যেন্দু ঘোষ বাঁকুড়ার একেবারে শেষ প্রান্তের গ্রাম খয়েরবনি। চৈত্রের দুপুরে গ্রামটাকে দেখলে মনে হয় যেন কোনও রাক্ষস তার সর্বস্ব শুষে নিয়ে ছিবড়ে করে ফেলে রেখে গেছে। মাঠের পর মাঠ ফুটিফাটা , ধানের গোলাগুলো খাঁ খাঁ করছে। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু নদীটা কবেই শুকিয়ে কাঠ , সেখানে এখন শুধু বালি আর নুড়িপাথরের কঙ্কাল। এই প্রবল খরা আর খিদের জ্বালা, এ দুইয়ের সঙ্গেই খয়েরবনি গ্রামের মানুষের নাড়ির টান। এখানে জীবন মানে প্রতিদিনের ক্লান্তিহীন যুদ্ধ , যেখানে জেতার কোনও আশা নেই , শুধু টিকে থাকাটাই একমাত্র লক্ষ্য । গ্রামের একেবারে শেষ মাথায় বুড়ো শিবতলার প্রাচীন নাটমন্দির। সেটারও ভগ্নদশা , পলেস্তারা খসে গিয়ে ভিতরের নগ্ন ইটগুলো বেরিয়ে পড়েছে। নাটমন্দিরের এক কোণে বসেছিল রতন। ওর বয়স পঁচিশ কি ছাব্বিশ হবে , কিন্তু অভাব আর রোদের তাপে চামড়া পুড়ে গিয়ে ওকে আরও অন্তত দশ বছরের বড় দেখায়। পরনে শতচ্ছিন্ন ফতুয়া , চোখের নীচে গভীর কালি , বুকের পাঁজরগুলো গোনা যায় । আর মাত্র দু ' দিন পরেই গাজন। গ্রামের প্রা...

প্রবন্ধ ।। বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি ।। শ্যামল হুদাতী

বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি শ্যামল হুদাতী  বাংলা ভাষা বাঙালিদের মাতৃভাষা। পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষা সরকারি ভাষা। মোট ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনুসারে, বাংলা ভাষা বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম ভাষা। মাতৃভাষীর সংখ্যা অনুসারে, বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের পঞ্চম স্থানে রয়েছে।  বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। বাংলা ভাষার উৎপত্তি দশম শতাব্দীতে। বাংলা একটি ধ্রুপদী ইন্দো-আর্য ভাষা। বাংলা ভাষার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দ থেকে বাংলায় হিন্দু ব্রাহ্মণগণ সংস্কৃত ভাষার চর্চা করত, কিন্তু স্থানীয় বৌদ্ধরা প্রাকৃত ভাষার কোনো কোনো রূপে কথা বলত। গুপ্ত সাম্রাজ্যের সময়, বাংলা ছিল হিন্দু যাজক বা পুরোহিতদের জন্য সংস্কৃত সাহিত্যের একটি কেন্দ্র, যা স্থানীয়দের কথ্য ভাষাকে প্রভাবিত করে।‌ প্রথম সহস্রাব্দে বাংলা যখন মগধ রাজ্যের একটি অংশ ছিল তখন মধ্য ইন্দো-আর্য উপ ভাষাগুলি বাংলায় প্রভাবশালী ছিল।  বাংলা ভাষার উৎপত্তি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশ থেকে। সংস্কৃতকে বাংলা ভাষার জননী বলা হয়।  বাংলা বর্ণমালার উৎপত্তি ব্রাহ্মী লিপির পরিবর্...

কবিতা ।। গাঁয়ের বধূ ।। কে দেব দাস

গাঁয়ের বধূ  কে দেব দাস          "দিঘী ভরা জল করে টলমল- ভাদ্রের ভরা নদী করে কল কল"! ঝিল ভরা লাল শালুক- ষোড়শীর দৃষ্টি-লাজুক লাজুক! ঝিঙেফুল কানের দুল - নববধূর অশ্রুজলে ভাসে দুই কুল! মায়ের আদর,  বাপের স্নেহ ভূলিতে সে নারে-  পতিগৃহে পরবাসে, যেন সে-ডুবিল সাগরে! গাঁয়ের বধূরা চলে দলে বলে - জল আনিতে যায় নদীর কূলে! নদীর জল সুশীতল - বধূরা সবে মিলে করে গোসল ! নববধূ পথ চলে ছন্দে- দেখে তাঁর রূপ-ভরে মন আনন্দে! জলভরা কলসী কাঁখে, ফিরে তাকায় পথের বাঁকে! পায়ে তার বাজে নূপুরের নিক্কন- হৃদয়ে তার প্রতিধ্বনি-বাজে অনুক্ষণ! হৃদয় দোলায় ছন্দে,  না জানি কি আনন্দে- কতকাল তারে দেখিনি এই অলিন্দে! কল্পনার জানালায় রোজ দেখি তারে- সে বুঝি থাকে, মিশিগানের ওপারে! মনে হয় দেখেছি কতবার তারে- সে যেন পূর্ব জনমের প্রথমা প্রিয়া রে! দৃষ্টি নন্দন তার ছবি-বুকে আঁকে নবীন কবি! নৌকা করে টালমাটাল-  নদীর ঢেউ উথাল পাথাল। বেলাশেষে ক্লান্ত মাঝি - নোঙর ফেলার সময় হয়েছে বুঝি! ঐ ডাকে দূরে-যেতে হবে সুদূরের পারে! পথচেয়ে অভিমানী যামিনী- ভাঙ্গাতে হবে মান তার, সে যে আমার কামিনী! ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৯তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ মে ২০২৬

লেখা-আহবান-বিজ্ঞপ্তি   আগামী মাসে প্রকাশিত হবে নবপ্রভাত ওয়েব ম্যাগাজিনের ১০০তম সংখ্যা ।   কোনো বিশেষ বিষয় থাকছে না। শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোনও বাঁধন নেই।     বিভাগ-১: প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার, বিভাগ-২: সব ধরনের গল্প, বিভাগ-৩: ভ্রমণকাহিনি-মুক্তগদ্য-রম্যরচনা, বিভাগ-৪: কবিতাগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি)-ছড়াগুচ্ছ (ন্যূনতম ৩টি) পাঠাতে পারেন।   নির্বাচিত লেখাগুলি (সর্বোচ্চ ৯৯টা) প্রকাশিত হবে এবং প্রতি বিভাগ থেকে একটি করে সেরা লেখার লেখককে মানপত্র ও নবপ্রভাত প্রকাশনীর বই উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হবে। সম্ভব হলে সংখ্যাটির মুদ্রিত সংস্করণও হতে পারে। সুতরাং মানসম্মত ভালো লেখা পাঠান।   e-mail: nabapravatblog@gmail.com   পাঠানোর শেষদিন : 12/06/2026 পত্রিকা প্রকাশ : ১লা আষাঢ় ১৪৩৩ ( 15/06/2026) সূচিপত্র দেবাশিস সাহার গুচ্ছকবিতা ভবরোগবৈদ্যম ।। শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার ছড়াকারের পরিচয়-সঙ্কট ।। জাহাঙ্গীর আলম জাহান Gen Z-এর প্রভাব : সমাজতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।। শিবশিস  মুখার্জী আধুনিক সমাজ ও সক্রেটিস: প্রশ্নের ভেতর দিয়ে মানুষের যাত...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

কবিতা ।। ইন্দ্রজাল ।। ডা: মোহাম্মদ নাঈম

ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ====================  ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ

সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী ।। মো: বিপুল রহমান

  সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী মো: বিপুল রহমান এক নীল আকাশের নীচে, স্বপ্নের ঝিলিক, মাটির গন্ধে মেশে হৃদয়ের টান, হিন্দু–মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, এক সুরে বাঁধা, এক প্রাণের সম্মিলন। দুর্গার দীপ্ত আলোয় জ্বলে উৎসবের রাগ, ঈদের চাঁদ ছড়ায় শান্তির অমৃত জ্যোৎস্না, বড়দিনের প্রার্থনা গায় কোমল সুরের ডাক, বুদ্ধ পূর্ণিমার প্রদীপে মুখরিত নীরব প্রভা— এক হৃদয়ে জাগে, এক দীপশিখার আলো। ভাষার তুফানে, স্বাধীনতার অগ্নিশপথে, কাঁধে কাঁধ মিলে দাঁড়ায় বাঙালী অটল, ভ্রাতৃত্বের মন্ত্রে জেগে ওঠে জাতির প্রাণ, এক স্বরে, এক ছন্দে-চির অম্লান। পাড়ার উঠোনে, ছায়ায়-আলোয়, হাসির রঙে, কান্নার সুরে, হাতে হাত গেঁথে ওঠে সেতু-অটুট, নির্মল, নাম তার সম্প্রীতির মেলবন্ধনে বাঙালী। এই মাটির ধূলি, এই আকাশের নীল, হৃদয়ের গভীরে বাজে একতার সুরলীল, বাঙালী-তুই চির অখণ্ড, চির জাগ্রত, সম্প্রীতির কাব্যে লেখা, তুই চিরন্তন। উৎসর্গঃ এই কবিতা উৎসর্গ করছি সকল বাঙালীর প্রতি, যারা সময়ের সব বাঁধা-বিপত্তি, ভাষা, ধর্ম বা সংস্কৃতির ভেদাভেদ ভুলে একতার বন্ধন গড়ে তোলেন। যারা নিজেদের হৃদয়ে ভ্রাতৃত্বের দীপ জ্বালিয়ে রাখেন, আনন্দে ও দুঃখে পাশে থাকেন, উদযাপনে অংশ ...

ছড়া ।। লিচু ।। আনন্দ বক্সী

লিচু  আনন্দ বক্সী 'গোয়াঙডঙ প্রদেশ' জায়গাটি চিনে  শুরু হয় চাষ এর অতীতের দিনে। টক আর মিষ্টিতে মজাদার খেতে  ছোটো-বড় সকলেই চায় স্বাদ পেতে। আকারে লম্বা-গোল ছোটো ছোটো ফল  থোকা থোকা ঝুলে থাকে গাছে অবিরল।  ছূঁচালো অগ্রভাগে খসখসে দেহ  কাঁচায় সবুজ ত্বক নেই সন্দেহ।  পাকলে গোলাপি লাল বাইরের ছাল  ভিতরের অংশটা সাদা চিরকাল।  আঁটিটা শক্ত খুব পয়জনে ভরা  বাদামি রঙেই এর দেহখানি গড়া। গ্রীষ্মের ফল এটি ভরপুর রসে  স্বাদ এর মনটাকে করে নেয় বশে। ভেবে বলো এর নাম পেলে নাকি কিছু? ঠিকই চিনেছ একে ফলটি যে লিচু। খোসাটা ছাড়িয়ে খাও কাঁচা হোক পাকা  স্যালাড-মিষ্টি-জুসে পাবে এর দেখা। শর্করা-চিনি-জল নেই এতে কম  ভিটামিন-ফাইবারে ভরা একদম। খনিজের আছে স্থান এই ফল মাঝে  শরীরের উপকারে লাগে যেটা কাজে। লোহিত কণিকা গড়ে আমাদের দেহে  হার্টকে সুস্থ রাখে অপরূপ স্নেহে। দেহ-ত্বকে ধরে রাখে এর যে সতেজতা  ওজনটা কমাতেও করে সহায়তা। রক্তচাপকে করে করতলগত  মধুমেহ রোগ এর হয় অনুগত। বশে রাখে লিচু শুনি বাত-হাঁপানিকে নানা কাজে প্রয়োজন এই ফলটিকে। খালি পেট...

অনুসরণ ।। সমীর মন্ডল

অনুসরণ সমীর মন্ডল অসীম কে কি মনে পড়ে? পড়ে! পড়ে! পড়ে! কাবেরীকে কি মনে পড়ে? পড়ে!পড়ে!পড়ে! অর্ধেক জীবন পার করেছো সঙ্গী অন্য কেউ জলের দরে সময় ফুরায়  নৌকা ভাসাও কই? মাঝে মাঝে দেখা হয় অল্প কথায় দাঁড়ি অনেক কিছু চাওয়ার থাকে গোপন ব্যথায় পাড়ি। পথের দেখা পথের মতোই হাতছানি দেয় দূরে যেখানে যাও, যেখানে থাকো গান বাঁধি সেই সুরে। ছিন্ন বীণায় ফুটেছে ফুল ভুলের কাঁটায় জীবন অভিসারে দিনগুলি যায় নিভৃতে অনুসরণ। ============= সমীর মন্ডল  শাঁকারীপাড়া, কাঞ্চননগর, পূর্ব বর্ধমান, পিন-৭১৩১০২