তিনটি কবিতা ।। বিকাশ দাশ আমন এত যে টেরিকাটে লাঙলের ফলা কতটা সংগ্রাম লেখা হয় তাতে জানে কৃষক আমনের অভিষেক পর্বে বেজে ওঠে খামারের বাজনা গ্রামান্তরে ভেসে বেড়ায় ফসলের গান মাঠ জুড়ে লাঙল কী লেখে এত মানুষের ভবিষ্য, নাকি রক্ত মাংস হাড়? বাজনা ধ্বনিত হয় আমন অভিষেকে জড়ো হয় এক বারান্দা কান্নার স্বরলিপি ঝরঝর ধারাপাতে কেঁপে ওঠে মাটির কোরক মাটি পাথর জল কিম্বা আগাছাও জানে না কতটা মায়া লেপে দেবে মুনিশ-কামিন তবুও লাঙলের ফলায় নেচে উঠবে শস্যখেতের অহংকার। সন্ধি দুটো পথ যখন একবিন্দুতে একীভূত হয় তখন বিস্তার শূন্য হয়, জেগে ওঠে নম্রতার গান, আত্মবিশ্লেষণ দু-পাশের অর্জুনগাছও টের পায় না পথিক তবু বাঁক নেয়, প্রতিটি বাঁকের শেষে সন্ধির সুগন্ধি বাতাসে ছড়ায়। আমাদের সন্ধির ইতিহাস একইরকম বিবর্ণ ই...
ইন্দ্রজাল ডা: মোহাম্মদ নাঈম ভাসান দ্বীপের মাঝে আমি বাধিয়াছি ঘর, বন্ধু স্বজন করিয়া আপন, দুঃখ করিয়া পর। ফুল ফসল আর সম্পদের হেথায় ছিল পূর্ণতা, এতো কিছুর মাঝেও কিসের যেন শূন্যতা। শ্বাপদসংকুল দ্বীপে ছিলাম আমরা সবাই মিলে, ঝড় ঝাপটায় দাগ কাটেনি আমাদেরই দিলে। প্রকৃতির ঐ ইন্দ্রজালে অন্তর ছিল বাধা একটু ভুলে গ্রাস করিবে চোরাবালির কাদা। গোলপাতার ছাউনি ছিল স্বপ্নজালে বোনা, কত কেয়া ফুটেছে ঝোপে হয়নি কভু গোনা। মিষ্টি পানি তৃষ্ণা মেটাতো, জুড়িয়ে যেতো প্রাণ, নোনা বায়ু বয়ে আনতো সাগরকন্যার গান। প্রকৃতির এই লীলাখেলা দেখে গড়িয়ে যায় দিন, ভাবিয়া দেখিনি কি করে শোধিব প্রকৃতির এই ঋণ। এত কাল ধরে ভেবে এসেছি করেছি অনেক পুণ্য, গোধূলি লগ্নে আসিয়া দেখি অর্জন আমার শূন্য। ==================== ডা: মোহাম্মদ নাঈম সরিষাবাড়ী, জামালপুর, বাংলাদেশ