তিনটি কবিতা ।। অমিত কুমার রায়
১) অস্তিত্ব
অস্তিত্ব হারিয়ে তুমি বসে আছো।
বিশ্বাস করেছ গান্ধারির মতো।
পিছনে তোমার যারা দাঁড়িয়ে ছিল
আজ আর তারা কেউ নেই।
ডায়ে নেই বায়ে নেই সামনে নেই শুধু
ধুধু পড়ে আছে সাম্রাজ্যের হাড়গোড়
ধ্বংসস্তূপ।
এভাবেই ধ্বংস হয়েছে রোম
ধ্বংস হয়েছে ট্রয় নগরী।
বিশ্বাস করে করে তৈরি করেছিলে
অজস্র চাটুকার।
সাপ তার নিজস্ব নিঃশ্বাসকেও বিশ্বাস করে না তুমি
তুমি তা করেছো।
আজ এক গ্লাস জল কেউ এগিয়ে দেয় না কারণ
তোমার প্রতি অবিশ্বাস ঘৃণা সু- প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তুমি ভাত দিয়েছো
বস্ত্র দিয়েছো
আশ্রয় দিয়েছো অর্থ দিয়েছো
তবু তারা সর্বহারা কারণ
তোমার চোখে পড়েনি
একটা কিছু ন্যায় পথে তাদের হাতে পৌঁছায়নি।
তোমাকে তাই টেনে হিচড়ে পথে নামালো ওরা।
পৃথিবীতে অধিকার পেতে হলে
অধিকার কেড়ে নিতে হয়।
ওরা তাই করেছে বেশ করেছে।
শুধু খেলা দিয়ে রাজ্য জয় হয় না
চেয়ারের পিছনের দুটো পায়া
সুরঙ্গ তার নিচে
সাম্রাজ্য তাই পাতালে প্রবেশ করেছিল।
এই অস্তিত্বের আর এক নাম দেওয়া যেতে পারে
ভূমিকম্প।
২) সত্যি মিথ্যে
আমরা সত্যের জন্য লড়াই করতে করতে
কখনো কখনো স্বার্থপর হয়ে যাই।
লোভের পাহাড় ভাঙতে ভাঙতে
ছোঁয়াচে রোগের মতো লোভী হয়ে পড়ি।
সমস্যা সমাজ সেবা করতে করতে
অসামাজিক হয়ে পড়ি কখন যে।
আমজনতার আম সত্য কথা শুনতে শুনতে
কোথাও মিথ্যা গন্ধ মুচকি হাসে।
মিথ্যের অহংকারে আমিত্বের অহংকারে চাঁদ ধরতে
নিজের তৈরি করা সুরঙ্গের প্রাসাদে বন্দী হই।
আমাদের পেটের ক্ষুধার চেয়ে মনের
ক্ষুধার ধার অনেক অনেক বেড়ে যায়।
একটা মানুষের জন্য কত জমি প্রয়োজন
মৃত্যুর বিছানায় আবির দিয়ে দাগ কেটে দাও।
৩) সংলাপ প্রতিধ্বনি ছুটি
--- ভাত বসাতে হবে
--- তবে
--- চাই ভাতের চাল
--- ডাল
--- লাগবে তো বটে
--- ঘটে
--- যেতে হবে হাটে
--- কাটে
--- যেতেই তো হবে
--- কবে
--- আজই
--- রাজি
--- আনবো কিনে হাঁ ড়ি
--- বাড়ি
--- হ্যাঁ তবে আর কোথায়
--- ভোতায়
--- চড়ুইভাতি হবে
--- তবে
--- আনতে হবে আলু
--- ভালু
--- পালাই ছুটে
--- উঠে
--- তবে গাছে উঠি
--- ছুটি
..................................
অমিত কুমার রায়
ঝিখিরা জয়পুর হাওড়া ৭১১৪০১
।
Comments
Post a Comment