চিনা লোককথা
সাপের ছায়াও মানুষকে অসুস্থ করে তুলতে পারে
বাংলা রূপান্তর: চন্দন মিত্র
জিন রাজবংশের আমলে চিনে লে-গুয়াং নামের একজন সৎ সাহসী চরিত্রবান ও বন্ধুবৎসল ব্যক্তি বাস করতেন। এক প্রিয় বন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘদিন দেখাসাক্ষাৎ না হওয়ায় তিনি লোক পাঠিয়ে তাঁকে আমন্ত্রণ জানান।
বন্ধুকে দেখে লে-গুয়াং-এর চোখে জল এসে যায়। এ কী চেহারা হয়েছে তার, চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। তিনি বন্ধুর কাছে জানতে চাইলেন, ‘বন্ধু, তুমি কি কোনো কঠিন সমস্যায় পড়েছ? তোমার মুখ এত ম্লান কেন?’ বন্ধুটি কাঁপতে কাঁপতে বললেন, ‘গতবছর তোমার দেওয়া ভোজসভায় আমি উপস্থিত ছিলাম তোমার নিশ্চয় মনে আছে। ওই ভোজসভার দিন থেকেই আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি। খাওদাওয়ার পরে তুমি আমার হাতে যে পানীয়ের গেলাসটি ধরিয়ে দিয়েছিলে তার মধ্যে একটি ছোট্ট সাপ উঁকি দিচ্ছিল। সেই দৃশ্য দেখার পর থেকে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি।’
লে-গুয়াং বন্ধুর কথা শুনে ধন্ধে পড়ে যান। তারপর বসার ঘরের চারিদিকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে দেয়ালে টাঙানো একটি সাপ-আঁকা ধনুকে তাঁর চোখ আটকে যায়। সহসা তিনি হাহা করে হেসে ওঠেন। বন্ধুটি খুব ভয় পেয়ে যান। লে-গুয়াং চেয়ার ছেড়ে উঠে পড়েন, বন্ধুকেও উঠে পড়তে বলেন। তারপর টেবিলটিকে ঘরের মাঝামাঝি জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যান। টেবিলের পাশে একটি চেয়ার পেতে তাতে বন্ধুকে বসিয়ে দেন। এরপর লে-গুয়াং একটি সুরাপূর্ণ স্বচ্ছ কাচের পানপাত্র বন্ধুর সামনে রেখে বলেন, বন্ধু একবার পানপাত্রের ভিতরে তাকিয়ে দ্যাখো।’ বন্ধুটি পানপাত্রে চোখ রেখে আর্তনাদ করে ওঠেন, ‘এই সেই সাপ।’ দেরি না-করে লে-গুয়াং দেয়াল থেকে সাপ-আঁকা ধনুকটি খুলে নিয়ে বলেন, ‘বন্ধু, এবার দ্যাখো তো গেলাসে সাপ দেখতে পাচ্ছ কি না?’ বন্ধুটি বলেন, ‘না, নেই তো।’ অতঃপর লে গুয়াং-এর হাতে ধরা ধনুকটি দেখে সাপের ছায়ার রহস্য বুঝতে বন্ধুটির আর অসুবিধা থাকে না। এক লহমায় তাঁর অসুস্থতা কেটে যায়। হাসতে হাসতে তিনি পানপাত্রে চুমুক দিয়ে বসেন।
শত শত বছর ধরে গল্পটি চিনের মানুষকে এই শিক্ষা দিয়ে আসছে যে, ‘যাচাই না-করে কোনো সন্দেহকে প্রশয় দেওয়া নেহাতই বোকামি।’
================
Comments
Post a Comment