কবিতাগুচ্ছ ।। বিশ্বজিৎ মানিক
আমি না থাকলেও
নাম পরিচয় শিক্ষা সবই অন্যের দান
তবু আমি ভাবি
এ জীবন শুধু আমার
গর্ব করি ক্ষমতার মোহে ডুবে থাকি
ভুলে যাই কাল হয়তো থাকবই না।
একদিন রাজত্ব থেমে গেলে
অন্যের কাঁধে চড়ে
পৌঁছে যাবে অন্তিম ঠিকানায়
চারপাশের বাতাস নদী পাখির কূজন
কিছুই স্তব্ধ হবে না কারোর জন্য।
শিকড়ে যারা ছিল তারা এখন নেই
তবু তাদের অভাব কেউ টের পায় না
আমারও জীবন শেষ হবে একদিন
তবু সংসার চলবে সময়ের নিয়মে।
অহংকার কেন
কেন এই মায়ার জট!
আমি না থাকলেও বসবাস চলবে
সূর্য হাসবে জ্যোৎস্না ঝরবে পৃথিবী ঘুরবে
নতুন কবিতা লেখা হবে নতুন কারোর নামে।
মৃত্যুর পর যদি ঈশ্বরকে দেখি
আমি এখনো ঈশ্বর দেখিনি
তাই জীবনকে ধরে আছি
এক অচেনা মানচিত্রের মত।
মৃত্যুর পর যদি সত্যিই ঈশ্বরকে দেখি
তাহলে হয়তো দেখা নয় বোঝা হবে অনেক।
হয়তো তখন বুঝবো
ঈশ্বর কোন মুখ বা আকার নয়
আমার প্রতিটি কাজের অবধারিত কর্মফল।
যে মানুষকে বাঁচাতে পারতাম
যাকে ভালবাসতে পারতাম
যে অন্যায় দেখে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছি
যার পাশে দাঁড়াইনি ভয়ে বা সুবিধায়
এসবের শূন্যতায় হবে তাঁর দর্শন।
ঈশ্বরকে দেখলেও হয়তো ভয় হবে না
হবে লজ্জা
এই ভেবে যে
তাকে খুঁজতে খুঁজতে
আমি মানুষকে কতবার এড়িয়ে গেছি।
অথবা হতে পারে
ঈশ্বর দেখা মানে
কোন সত্তার সামনে নয়
নিজের সামনে দাঁড়ানো
যেখানে কোন অজুহাত কাজ করে না।
আর যদি কিছুই না দেখা যায়
তাতেও ক্ষতি নেই
কারণ তখন প্রশ্নটা বদলে যাবে
মৃত্যুর পর ঈশ্বরকে দেখব কি-না নয়
এ যাবত আমি কতটা মানুষ হতে পেরেছি?
কাঁদুন উচ্চস্বরে কাঁদুন
কাঁদুন
উচ্চস্বরে কাঁদুন
কান্না চোখের জন্য বেশ উপকারী।
কিন্তু কান্না যদি ভাড়া করা হয়
ঘন্টাপিছু সহানুভূতির দরে
তবে সমাজে সংক্রমণ ছড়ায় মিথ্যে মায়ার
আর মানুষ আক্রান্ত হয়
নকল মানবতার জ্বরে।
তাই কাঁদার আগে কেন কাঁদবেন
কী জন্য কাঁদবেন
এসব খুঁটিনাটি শিখে নেওয়া জরুরি
কাঁদার আগে জেনে নিন
এই কান্না ব্যথা থেকে
না কি সুবিধা থেকে জন্মেছে।
এসব শিক্ষা কোথায় শিখবেন?
কেন গুগল আছে না!
সন্ধান করুন ঠিক পেয়ে যাবেন।
আর যদি না পান
নিজের ভেতর ঢুকে দেখুন
দেখবেন বিবেক নামে ক্লাসরুমে
এখনো কিছু বেঞ্চ খালি আছে।
ভর্তি হয়ে দেখুন
পাশ করার শতভাগ নিশ্চয়তা আছে
শর্ত শুধু একটাই-- কান্না যেন সত্যি হয়।
================
বিশ্বজিৎ মানিক
নবগ্রাম,মনুবাজার,দক্ষিণ ত্রিপুরা
পিন-৭৯৯১৪৩
Comments
Post a Comment