প্রদ্যুম্ন-মায়াবতীর প্রেমকথা মিঠুন মুখার্জী আজ কলিযুগে দাঁড়িয়ে দ্বাপর যুগের এক ভালোবাসার কাহিনী শোনাব, যা অনেকেরই অজানা। কলিযুগের ভালোবাসার সঙ্গে দ্বাপর যুগের ভালোবাসার অনেক পার্থক্য আছে। এখনকার ভালোবাসা আর দ্বাপর যুগের ভালোবাসার মধ্যে দিনরাত্রের পার্থক্য। তখন ভালবাসায় ত্যাগছিল আর এখন ভোগ। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের কথা সকলেই জানে। কিন্তু আজ যাদের প্রেমের কথা ব্যক্ত করব তাদের প্রেমের কাহিনী সর্বজনবিদিত নয়। কৃষ্ণ পুত্র প্রদ্যুম্ন ও সম্বর অসুরের পত্নী মায়াবতী। পূর্বজন্মে এরা ছিলেন কামদেব ও তার পত্নী রতি। দুজনেরই কিছু মনে ছিল না। পূর্ব নির্ধারিত হিসাবে কৃষ্ণ ও রুক্মিণীর পুত্র প্রদ্যুম্ন সম্বর অসুরের বংশ ধ্বংস করবে বলে দেবতারা ঘোষণা করেছিলেন। অসুর সম্বর সেটি জানতেন। তাই প্রদ্যুম্ন জন্মের পর অসুর সম্বর তাকে অপহরণ করে একটি সমুদ্রে ফেলে দেন। শিশু প্রদ্যুম্নকে একটি রুইমাছ ভক্ষণ করে। সেই মাছটি জালে ধরা পড়ে এবং খাবার জন্য সেই অসুরের বাড়িতেই আনা হয়। মাছটি কাটতে গিয়ে সম্বরের পত্নী মায়াবতী মাছের পেটের ভিতরে একটি পুত্র শিশুকে দেখতে পান। তার কোনো সন্তান ছিল ...
অনুর অপেক্ষা নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...