সম্পাদকীয় ================== প্রকাশিত হল ব্লক-নবপ্রভাতের ২৯তম সংখ্যা। কোরোনাকালের এই ঘোরসংকটে আমরা সাহিত্যচর্চায় ব্রতী আছি। দরজার বাইরে উঁচিয়ে আছে ভয়। এখন সাহিত্য সৃষ্টিই আমাদের একান্ত নির্ভরতার স্থল। আমাদের বাঁচার, ভয়কে জয় করার নিরাপদ আশ্রয়। সকলে ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন -- এই একান্ত কামনা। ব্লগ-নবপ্রভাতের পাঠক লেখক শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আমাদের আবেদন, আপনারা প্রকাশিত লেখাগুলো পড়ুন এবং লেখার নিচে কমেন্ট বক্সে আপনাদের মন্তব্য জানান। লেখকরা উৎসাহিত হবেন। আমরাও প্রীত হব। লেখক বন্ধুদের কাছে বিশেষ অনুরোধ, আপনারা নিজের লেখা ছাড়াও অন্যের লেখাও পড়ুন। মতামত জানান। তাহলে আপনার লেখা সম্বন্ধে অন্যের মন্তব্য আশা করতে পারেন। আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা, লেখকলেখিকারা নিজের নিজের লেখার লিংক শেয়ার করুন -- ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে। কিন্তু কোন কোনভাবেই স্ক্রিনশট শেয়ার করবেন না। যদি নিজের লেখার লিংক না পেয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আমাদের জানান আমরা আপনার লেখার লিংক পাঠিয়ে দেব। আমরা চাই পাঠক-পাঠিকারা লিংকের মাধ্যমে ব্লগে আসুন এবং আপনার লেখার পাশ...
অনুর অপেক্ষা নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...