Skip to main content

গল্প ।। রণেশ রায়






দিল্লী কা লাড্ডু


ভারতের রাজধানী দিল্লির উপকন্ঠে হরিয়ানা প্রদেশে গড়ে উঠেছে গুরগাঁও শহর যার বর্তমান নাম গুরুগাঁও। আমাদের কলকাতার গুরুকুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামের আদলে এই আধুনিক শহরের নামকরণ।এ এক নয়া চমকপ্রদ আধুনিক ভারত। রাজপথের দুধার ধরে গড়ে উঠছে আধুনিক আবাসন, এক একটি হাজার দুহাজার ফ্ল্যাট নিয়ে আধুনিক জীবন যাপনের উপকরনে সজ্জিত সোসাইটি। যেন এক একটা উপগ্রহ নগর। তার সঙ্গে অফিস বাড়ি মল ব্রিজ। গ্রামের পর গ্রাম সাফ করে নগর নির্মাণ কাজ চলছে  যেখানে কাজ করতে আসছে দেশের বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জ থেকে লাখ লাখ শ্রমিক যারা নির্মাণ কাজের কাছে শিবিরে বা বস্তিতে থাকে যতদিন কাজ চলে ততদিন। তারপর নতুন জায়গায় নতুন নির্মাণ কাজে চলে যায়। এদের কাজের স্থায়ীত্ব নেই, স্থায়ী আশ্রয় নেই। এরা দিন মজুর। রোজএর কাজ, রোজ মজুরী। কোন শ্রম আইন এদের জন্য প্রযোজ্য নয়। নেই স্বাস্থ্য নেই শিক্ষা। এরা যাযাবর শ্রমিক যার অভিজাত নাম পরিযায়ী শ্রমিক।শ্রমিকরা বেশিরভাগ ঘরবাড়ি ছেড়ে দেশের এ প্রান্তে হাজির। কারো কারো সঙ্গে বউ বাচ্চা।ঘেষাঘেষি করে থাকে ছোট্ট একটা এসবেষ্টার বা তাবুর ঘরে। সঙ্গে কোনমতে আট দশজনের জন্য একটা তথাকথিত শৌচাগার।এই নির্মাণ প্রকল্পের মালিকরা দেশী বিদেশি বড় বড় শিল্পপতি হলেও শ্রমিকরা শ্রমিক কন্ট্রাক্টরের হাত ধরে এখানে কাজ করতে আসে। সুপারভাইজারের অধীনে কাজ করে। এদের প্রতি নির্মাণ মালিকের কোন দায় নেই। এই ধরনের নির্মাণ কাজে বিনিয়োগ খুব বেশি নয়। ফলে এই প্রকল্পগুলো অসংগঠিত বিভাগ বলে পরিচিত।


অন্যান্য রাজ্যের মত পশ্চিমবঙ্গ থেকে এখানে একটা প্রকল্পে এসেছে এমন শ দুই পরিযায়ী শ্রমিক। সুন্দরবন  অঞ্চল থেকে এদের আগমন। হিন্দু মুসলমান নিম্নবর্ণ দলিত মিশ্রিত শ্রম সমাবেশ। রাম রহিম লালু কালু নাম এই শ্রমিকদের। এদের অনানুষ্ঠানিক নেতা ছোটু যে কথাবার্তায় কিছুটা চনমনে। হিন্দিটা ভালো বলতে পারে। এখানে এরা বছরখানেক হল এসেছে। সব প্রদেশের ভিন্ন ভাষাভাষী ভিন্ন আচার ধর্মের সহকর্মীদের সঙ্গে এদের বাস।কাজের পাশাপাশি একসঙ্গে খাওয়া পরা। দিব্যি হেসে খেলে কেটে যায়। বহুর মধ্যে একের সমাহার। কাজের সূত্রে বসবাস, থাকা খাওয়া। গড়ে ওঠে একটা কমরেডশিপ যেটা নেহাত বন্ধুত্ব নয় তার থেকে বেশি কিছু যা অনুভব করা যায় কিন্তু বলে ওঠা যায় না।এটা নিয়ে আনন্দে থাকায় বাড়ি থেকে এত দূরে বিচ্ছিন্ন থাকার একাকিত্ব ভুলে এরা থাকে। প্রথম প্রথম ভাষা আচার ধর্মগত পার্থক্যের দরুন অসুবিধে হত। বছর না ঘুরতেই অসুবিধেটা দূর হয়ে গেছে। আজ যেন সবাই মিলে একটা পরিবার, শ্রমিক পরিবার। এরই মধ্যে যে যার আচার ধর্ম পালন করে। বাড়াবাড়ি নেই, ধর্ম বর্ণ নিয়ে বিভেদ বিবাদ নেই। এই জীবনে গ্রাম্য সংস্কারাচ্ছন্নতা যেমন উবে গেছে তেমনি নগরের আর্থিক স্বাচ্ছন্দতা ভিত্তিক অহংটাও নেই। এক সহজ সরল কোন মতে টিকে থাকার জীবন। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি। তার বাইরে এই সমষ্টি জীবনের আনন্দ হাজার কষ্টের মধ্যেও। অথচ এদেরই শ্রমে গড়ে ওঠে উচ্চবিত্তদের জন্য এক স্বাচ্ছন্দের নগর জীবন। সেটার কোন সুযোগ এরা পায় না বলে এদের কোন নালিশ নেই। ঈর্ষা পরায়ণ হওয়ার সময় নেই।


হঠাৎ খবর আসে করোনা নামে এক মারাত্বক সংক্রমক মারণ রোগ রাজধানীতে হানা দিয়েছে। এগিয়ে আসছে এদিকে । কাউকে নাকি রেহাই দেবে না। বিদেশ থেকে উড়োজাহাজে তার আগমন। সারা পৃথিবীজুড়ে তার ভয়ঙ্কর প্রতাপ। এর কোন ওষুধ নেই। একমাত্র প্রতিষেধক একজনের আরেকজনের থেকে দূরে থাকা। এই দূরে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার প্রয়োজনে যান বাহন স্কুল কলেজ কল কারখানা ক্ষেতের কাজ সব বন্ধ করে দিতে হয়। সরকারও তাই ভাবছে। তিনটে কথা মুখে মুখে চালু হয়ে যায়: লক ডাউন, সামাজিক দূরত্ব আর পরিচ্ছন্নতা। লক ডাউন আর পরিচ্ছন্নতা কথা দুটির মানে বোঝা যায়। শ্রমিকদের জীবনে লক আউট কথাটা চালু, ওটা শ্রমিক জীবনের অঙ্গ। সেটাই আজের লক ডাউন। শুধু কোন কারখানা নয় পুরো জীবন স্তব্ধ হয়ে যাওয়া লক ডাউন। আর পরিচ্ছন্নতা তো সমাজ জীবনের অঙ্গ। সংক্রমক রোগ হলে ঘটি বাটি আলাদা করে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার সনাতনী নিয়মটা সবাই জানে। গ্রামে গঞ্জে পক্স যক্ষা কলেরা হলে পরিবারে এই নিয়ম চালু হয়। কিন্তু সামাজিক দূরত্বটা কি? অসুখ হলে মা বোনের সেবা পাওয়া যাবে না। খেলাধুলো বন্ধ রোগ না হলেও রোগের ভয়ে। একে অন্যের থেকে দূরত্ব রেখে চলবে। এটাই নাকি আগামী সমাজের নিয়ম হয়ে যাবে। তবে জীবনটার আর থাকে কি? আর এই ছোট্ট ঘরে ঠাসাঠাসি করে থাকা মানুষদের কাছে এর মানে কি? কেউ বোঝে না। একরাশ দুশ্চিন্তা। সবচেয়ে দুশ্চিন্তা হল রুটি রোজগারের হবে কি? তবে এখনো কাজ বন্ধ হওয়ার খবর আসে নি। কাল কাজে গিয়ে বোঝা যাবে। সবাই একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে ঘরে ফেরে।


পরের দিন সবাই কাজে যায়। যথারীতি কাজ হয়। ছোট্টু আর কয়েকজন মুখিয়াস্থানীয় শ্রমিক সুপারভাইজারের কাছে জানতে পারে দিল্লিতে লক ডাউন চালু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ভারতব্যাপি লকডাউন ঘোষণা করতে চলেছে। ওদের মালিক কাজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত জানায় নি। ওদের নির্মাণকাজ পুরোদমে চলছে। সেটা বন্ধ হয়তো মালিক করতে চায় না। সেটাই একমাত্র সান্ত্বনা। তবু ভয় কেন্দ্রীয় সরকার যদি লক ডাউন করে তবে তো এই নির্মাণ প্রকল্প বাদ যাবে না। স্বস্তি কোথায়? রুটি রোজগার বন্ধ হলে ওরা কি করবে? খাওয়া দাওয়া বন্ধ ঘরভাড়া না দিতে পারলে ঘাড় ধাক্কা। আর অঞ্চলের মুখিয়া শিবিরের মালিককে সবাই এর মধ্যে চিনে গেছে। তবে কি ঘরে ফিরে যেতে হবে? প্রশ্নগুলো সবাইকে ছিড়ে খেতে থাকে।


এভাবে দুদিন চলার পর লক ডাউন ঘোষণা হয়। নির্মাণ কাজ বন্ধের নোটিশ আসে। শ্রমিকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসে। আলোচনায় প্রশ্ন ওঠে তবে কি সবাই ঘরে ফিরে যাবে? জানা যায় যে মালিক জানিয়েছে কয়েকদিন কষ্ট করে অপেক্ষা করতে। লক ডাউন উঠলেই আবার কাজ শুরু হবে। লক ডাউন একমাসের জন্য। কিন্তু ওরা থাকবে খাবে কি? ঘরে ভাড়া না দিতে পারলে তাদেরতো রাস্তায় বসতে হবে। তবে সরকার আর কাছের একটা সাহায্যকারী গোষ্ঠী একবেলার খাবার ব্যবস্থা করবে বলে আশ্বাস দেয়। কিন্তু সেটা আর কতদিন? তবে বাড়ি  ফেরার ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে পারছে না। না মালিক কোন ভরসা দিচ্ছে না সরকার। আর যানবাহন ট্রেন বন্ধ থাকলে সেটা কি করে সম্ভব। অথচ এই অবস্হায় সকলের বাড়ি ফেরার তাগিদটা বাড়তে থাকে। সকলে ঠিক করে পরেরদিন সুপারভাইজারের কাছে এ ব্যাপারে ওদের দাবিটা জানাবে। আর আসার সময় ট্রেনে লরিতে গাদাগাদি করে হলেও মালিক পয়সা খরচ করে ওদের আনিয়েছে। এবারে যদি সেরকম একটা ব্যবস্থা করা যায়। এর পর নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখে থাকার প্রশ্নটা আসে। সেটা নিজেদের স্বার্থে দরকার আর সরকারি নির্দেশ নামা। পুলিশ এসে জানিয়ে গেছে। এর মধ্যে ছোট্টু ফোনে গ্রাম থেকে জানতে পেরেছে যে গ্রামে মানুষরা বাইরে প্লাষ্টিকের তাঁবুতে বা গাছে মাচা বেঁধে থাকছে। সেটা সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হয়। সবাই ঘরে ফেরে।


ঘরে ফিরে সবাই দুশ্চিন্তা ছুড়ে ফেলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে থাকার ব্যবস্থায় কাজে লাগে। ঘরে বাইরে ফাঁকা  জায়গায় প্লাস্টিকের তাবু করা হয়। গাছে মাচা বাঁধে। আর কেউ কেউ নির্মাণ প্রকল্পে গিয়ে থাকবে ঠিক করে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সব ব্যবস্থা হয়। আর বসন্তের শেষে দক্ষিণা হাওয়া। বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। না ঠান্ডা না গরম তাই তেমন অসুবিধে হয় না। সবাই খাওয়া দাওয়া সারে। পরের দিন কাজ নেই। তাই ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে সবাই গল্প আড্ডায়। তবে সবার মাথায় দুশ্চিন্তা, বাড়ি ফেরার তাগিদ। বাড়িতে সবাই কেমন আছে। ভাবে বাড়ি গেলে সবার মধ্যে থাকা খাওয়াটা হয়ে যাবে। কিন্তু এখানে কদিন চলবে? আর অনুগ্রহের ওপর নির্ভর করে তো বেশিদিন বাঁচা যায় না। গল্প আড্ডায় প্রশ্ন ওঠে এ কি ধরণের রোগ! একটু বয়ঙ্করা জানায় এই কোন মতে টিকে থাকা মানুষদের আবার ভয় কি? অপুষ্টি  মারি মহামারি বন্যা খরা তো এদের নিত্য সঙ্গী। ম্যালেরিয়া ওলাওঠা এ সব নিয়েইতো ঘর করা। এই তো সেদিন আয়লা। সে কি ভয়ংকর। সব ধ্বংস হয়ে গেল। আবার ওরাই গড়ে তুললো। জীবনটাই ওদের ভাঙা গড়ার খেলা। সুতরাং কবিতার ভাষায় এই করোনা সম্পর্কে বলতে হয়:


শুনেছ কি নি:শব্দের বিস্ফোরণ

অকাল বৈশাখীর তান্ডব

ক্ষুদ্র সে অণুর ভয়ংকর গর্জন

সভ্যতার বুকে বর্বরের প্রলয় নাচন

সে মানে না ভেদ বিভেদ

মানে না ধর্ম বর্ণ বিদ্বেষ

ধ্বংসের মধ্যে তার সৃষ্টির বার্তা

শোন ওই নবজীবনের স্পন্দন

ভাঙি এসো দাসত্বের শৃঙ্খল

গড়ে তুলি সে পৃথ্বী নতুন।


পরের দিন। কাজ নেই। সবাই মিলে সুপারভাইজারের ঘরে যায়। ছোট্টু সহ পাঁচজন ঘরে ঢোকে। সুপারভাইজার জানায় ওরা যেন ঘরে যাবার কথা এখন না ভাবে। লক ডাউন উঠলেই কাজ শুরু হবে। ওরা ঘরে ফিরতে বাধ্য হলে ওদের মালিক যেন ব্যবস্থা করে সে আর্জি জানায় শ্রমিকরা। সুপারভাইজার জানায় সে মালিককে বলবে। হয়তো মালিক ওদের আর্জি মেনে নেবে। সুপারভাইজার জানায় দুতিনদিনের মধ্যে উনি একটা কিছুর হয়তো ব্যবস্থা করবেন। সবাই আশ্বস্ত হয়ে ফিরে আসে।


দিন পাঁচেক কেটে গেছে। যেন বরফের নিস্তব্ধতা। মালিকের কাছ থেকে কোন খবর আসে না। একবেলার খাওয়া দাওয়া সরকারি বা বেসরকারি সাহায্যকারী সংস্থার বদান্যতায় চলে যাচ্ছে। কিন্তু শিবিরের মালিক যে আর অপেক্ষা করতে রাজি না। ভাড়া না দিতে পারলে ওদের উঠে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। শ্রমিকদের বাড়ি যাওয়ার তাগিদ বাড়ে। তারা আবার আলোচনায় বসে। ওরা পাঁচজনের একটা প্রতিনিধি দল ঠিক করে। এই প্রতিনিধি দলই ওদের শ্রমিক সংগঠন যেটা আইনত স্বীকৃত নয়। শ্রমিকরা বোঝে বাঁচার জন্য কেন সংগঠন দরকার। ওদের বাড়ি ফেরার ব্যাপারে সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা বলবে এই প্রতিনিধি দল। এদিকে ট্রেন চালাবার সরকারি উদ্যোগ নেই। এরই মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্য অন্য রাজ্য থেকে নিয়ে আসে এমন লরি মেটাডোরের সঙ্গে কেউ কেউ কথা বলেছে। ওরা যে টাকা চাইছে তা দেবার ক্ষমতা শ্রমিকদের নেই। তাই মালিকের ওপর চাপ সৃষ্টি করার দাবি ওঠে। কিন্তু মালিক না মানলেও ওদের যেতেই হবে। এর মধ্যে দেখা যায় নির্মাণ কাজে সুরক্ষাবাহিনী জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ মধ্যে মধ্যে আসছে। রাতে যারা নির্মাণ প্রকল্পে শুতে যাচ্ছে তাদের বাধা দেওয়া হচ্ছে এই বলে যে ওখান থেকে নির্মাণের মাল চুরি হচ্ছে।


পরের দিন পাঁচজন প্রতিনিধি আর বেশ কয়েকজন সুপারভাইজারের কাছে যায়। নির্মাণ অঞ্চলটা সুরক্ষা বাহিনী ঘিরে রেখেছে। একটা পুলিশ ভ্যান অপেক্ষারত। বাইরে সবাই অপেক্ষায়। পাঁচজনের প্রতিতিধিদল সুপার ভাইসারের ঘরে ঢোকে। আলোচনা শুরু হয়। সুপারভাইসার জানায় মালিকের ইচ্ছে থাকলেও লক ডাউনের জন্য কাজ চালু করা যাচ্ছে না। বলাও  যাচ্ছে না কবে খুলবে কারণ সরকার লক ডাউন বাড়াবে বলে শোনা যাচ্ছে । এই অবস্থায় শ্রমিকরা বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থা করতে বলে। কিন্তু সুপারভাইসার জানায় লকডাউন থাকায় সেটা কি করে সম্ভব। তখন শ্রমিকরা মালিকের আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার দাবি তোলে কারণ এর জন্য তো তারা দায়ী নয়। গাড়ির ব্যবস্থা শ্রমিকরাই করবে। কিন্তু মালিক গররাজি। তর্কাতর্কি শুরু হয়। বাইরে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। পুলিশ এসে সামাজিক দূরত্ব না মানাটা অপরাধ বলে জানায়। লাঠি চালায়। ভেতর থেকে প্রতিনিধি দল বেরিয়ে আসে। তারা শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে গেলে পুলিশ ছোট্টু সহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। শ্রমিকরা একজোট হয়ে থানায় যায়। থানা ঘেরাও করে। কিছুক্ষণ থানায় আটকে রাখার পর পুলিশের উঁচুতলার অফিসাররা করোনার ভয়ে আর সরকারের ব্যাপারটা নিয়ে বেশি না এগোবার আদেশ আসায় ধৃতদের কেস দিয়ে ছেড়ে দেয়। ওরা বেরিয়ে আসে। ঘেরাও তুলে নেওয়া হয়। বাইরে দাঁড়িয়ে কিছু আঞ্চলিক নেতা ওদের নিয়ে ফেরে। যেন ওদের জন্যেই এরা মুক্তি পেয়েছে। ওরা শ্রমিকদের খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে বলে জানালেও ওদের ঘরে ফেরার ব্যাপারে নিশ্চুপ। শ্রমিকরা বোঝে নিজেদের ব্যবস্থা যে করেই হোক নিজেদের করতে হবে। তারা ফিরে আসে।


ঘরে ফিরে সবাই একজোটে বসে । সন্ধ্যা হয়ে আসছে। সূর্যাস্তের আলো আবছা হয়ে এসেছে। আজ এক নতুন অতিথি। শ্যমলালের পনের ষোল বছরের মেয়ে কিছুদিন হলো এসেছে বিহারের ভাগলপুর থেকে। বাহন তার বাবার সাইকেল। সে অসুস্থ বাবাকে ঘরে নিয়ে যাবে সাইকেলে করে। সবাই অবাক হয়। কি করে সম্ভব।পারবে না।অঘোরে রাস্তায় মরবে। সবাই বারণ করে। কিন্তু সে নাচার। চোখে মুখে প্রত্যয়। বাবাকে সে বুঝিয়েছে। এখানে হয় করণায় নয় অনাহারে পড়ে মরতে হবে। তার চেয়ে ভালো শেষ চেষ্টা করা। দীর্ঘ অজানা পথ তাদের পাড়ি দিতে হবে। সময় লাগে লাগুক। পথই পথ দেখাবে। অদ্ভুত প্রাণশক্তিতে ভরপুর একটা পাতলা রোগা মেয়ে। বাবার প্রতি অগাধ ভালোবাসা। সব বিপদ তুচ্ছ করে এই পৃথিবীটাকে সে জয় করবে। সবাই মেয়েটির প্রত্যয়ের কাছে হার মানে। জেগে ওঠে নিজেদের ওপর আস্থা। তারাও ঠিক করে ঘরের পানে তারা রওনা দেবে। ইতিমধ্যে রাজপথে পারিযায়ী শ্রমিকের রোজের মিছিল দেখা যাচ্ছে। সবাই ঘর মুখো। হেঁটে সাইকেলে মেটাডোরে লরিতে চলেছে তো চলেছে। সবাই পারছে তারাই বা পারবে না কেন। সিদ্ধান্ত নেয় রাতের মধ্যে সবাই প্রস্তুত হবে। কাল তাদের যাত্রা শুরু । যেন মরু তীর্থ হিংলাজ। তীর্থ যাত্রা। ঘরই তাদের তীর্থ ক্ষেত্র। সবাই আলোচনা সেরে ঘরে ফেরে। বাক্স পোটলা বাধে। সঙ্গে বই বাচ্চা। কেউ কেউ অসুস্থ কারো বউ পোয়াতি। বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয় টানা গাড়ি যাতে অক্ষমদের টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। মুড়ি চিড়ে যা সামান্য আছে সঙ্গে নেওয়া হয়। পুঁজি নেই বললেই হয়। কিছু নেই, তাও আছে প্রাণশক্তিতে ভরপুর অদম্য ইচ্ছে শক্তি, আছে শ্যমলালের মেয়ের প্রত্যয় যা সবার দেহে ত্বরিতের মত প্রবাহিত।


ভোর হতে হতে শ্যমলালকে সাইকেলে চাপিয়ে তার মেয়ে রওনা দেয়। বউ বাচ্চা নিয়ে বাকিরা এসে রাজপথে জড়ো হয়। পুলিশ পথ আটকায়। আসে পাশে প্রকল্প থেকে পদব্রজে পারিযায়ী শ্রমিকের দল হাজারে হাজারে। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সবাই চলতে থাকে। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ। রাষ্ট্র এই জোটবদ্ধ  নিরস্ত্র সহায় সম্বলহীন মানুষের মেজাজের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়। শুরু হয় চলা। বিভিন্ন ভাষায় দেহাতি গান ছড়া। এ যেন এক মহাযাত্রা। আমরা এ যাত্রার বর্ণনা দিতে পারি কয়েক ছত্রে:

নিঃশব্দে যাত্রা তাদের

শহর থেকে গ্রামে ফিরবে তারা ঘরে,

সহায় সম্বলহীন লোটা কম্বল কাঁধে

যেতে হয় সেই সুদুরে লম্বা যাত্রা পথে,

অসহায় তারা ফিরতে হয় নিজ দুয়ারে

এসেছিল খাবার সন্ধানে এ অজান শহরে।

করোনার থাবায় সবহারা সম্বলহীন

কাজ হারা রুটির সন্ধানী

আদেশ ভেঙে নামে এসে পথে,

কত যোজন যেতে হবে কত দূরে জানা নেই তাদের

নিজের অজান্তেই খিদের তাড়নায় রাষ্ট্রদ্রোহী তারা

ভাঙে রাষ্ট্রের নির্দেশ করোনার সংক্রমণ রুখতে,

জানে তারা ডাক এসেছে মরতে হবে খিদেতে নয় করোনায়।


মানুষ হেটে চলে এক বন্ধুর পথে। রাজপথ ধরে রেল লাইন ধরে গ্রাম নগর জঙ্গল পেরিয়ে। হাত গাড়িতে বসিয়ে পোয়াতি বউ বাচ্চাদের টেনে নিয়ে চলা। কাঁধে পিঠে চড়িয়ে শিশুদের। অভাবনীয় এক পথ চলা। এরই মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়ির চাকায় বা ট্রেনে চাপা পড়ে বহু মানুষের প্রাণ যায়। অনেকে না খেতে পেয়ে সহ্য করতে না পেরে মারা যায়। একই সঙ্গে এক  অভাবনীয় দৃশ্য। যে লরি মেটাডোর তাদের চুক্তিতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশাল অংক দাবি করেছিল তারাই অনেকে গাড়ি থামিয়ে অনেককে গাড়িতে করে যতটা সম্ভব এগিয়ে দেয়। এতে সহজ হয় পথ চলা। শহরে গ্রাম গঞ্জে মানুষ খাবার দিয়ে জল চা দিয়ে সাহায্য করে। এ পথে যারা চলে তারাই পারে এর বর্ণনা দিতে। আমরা বড়জোর কল্পনায় মিশিয়ে একটা ছবি আঁকতে পারি এদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে যা সবটা তুলে ধরতে পারে না। এই প্রাণশক্তিতে ভরপুর মানুষগুলো কিছু মানুষের লাভের হাতিয়ার হিসেবে কলে কারখানায় ব্যবহৃত হয় মাত্র। এদের সৃষ্টিশীল ব্যবহার সম্ভব হয় না। যে সম্পদ এরা সৃষ্টি করে তার ভগ্নাংশও এরা পায় না।


এইভাবে পথ চলে, বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে দেশের বিভিন্ন মানুষ তাদের ঘরে ফেরে। পশ্চিমবঙ্গের সুন্দর বনের মানুষরাও ফেরে দীর্ঘ কুড়ি দিনের যাত্রা সেরে। ইতিমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে আমফুয়ের তান্ডব। সুন্দরবন নোনা জলে তলিয়ে যায়। এই শ্রমিকরা গ্রামে ফিরে দেখে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে এক একটা অঞ্চলে এক একটা দল গ্রাম পুনর্গঠনের কাজে লেগেছে। কিছুটা সরকারি সাহায্য কিছুটা মানুষের সাহায্যে তাদের অল্প মজুরি দেওয়া হয়। শ্রমিকরা বেশি সময় ধরে স্বেচ্ছা শ্রম দেয়। মহিলা পুরুষ শিশু বৃদ্ধ সবাই কাজে নেমেছে। প্রলয়ের মুখে বেঁচে থাকার লড়াই। চুক্তি শ্রম নয় স্বেচ্ছা শ্রমে কাজ। জীবনের পুনর্গঠন। একদিকে করোনা অপরদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে এক অসম যুদ্ধ। যুদ্ধে জিততেই হবে। অনিশ্চয়তা, হাড়ভাঙা খাটুনির মধ্যেও যেন এক সৃষ্টির আনন্দ।কবিতার ভাষায়:

নির্ঘুম চোখে ঘুম আমার

অচলা পৃথ্বী চলা শুরু করে

নির্বাক রাতের শেষে সবাক সকাল

কর্মের চাঞ্চল্য নিষ্কর্মের ঘরে

নিঃশব্দ জীবনে শব্দ ডেকে ফেরে

শীতের ঠান্ডায় পাতা ঝরে

নতুন কিশলয় জড়ায় বৃক্ষরে

স্রোতস্বিনী নদী আবার বয়ে চলে

জীবন ফেরে নিজ ছন্দে

আকাশ মুখর পাখির কলোরলে।


এভাবে চলতে থাকে। স্কুল বাড়ি ক্লাব বা কোথাও ভেসে যাওয়া মানুষের থাকার ব্যবস্থা। কমিউনিটি রান্না খাওয়া। একটু একটু করে গঠন কাজ চলতে থাকে। স্বাভাবিক জীবন ফিরতে থাকে। আবার একসঙ্গে বসবাসের স্বপ্ন। এর মধ্যে খবর আসে সেই শ্রম কন্টাক্টটার শ্রমিকদের কাছে আর্জি নিয়ে এসেছে। গুরুগাঁয়ে কাজ আরম্ভ হবে। লকডাউন উঠে গেছে। মালিক উড়োজাহাজে করে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে যাবার ব্যবস্থা করবে। এবার আর গরু গাধার মত লরিতে বা ট্রেনে একজনের ঘাড়ে আরেকজনকে চাপিয়ে নয়। একেবারে উড়োজাহাজে। বাপের জন্মে যা শ্রমিকরা ভাবতে পারে নি।এদিকে এত অভাবের মধ্যেও তাদের পূর্গঠনের কাজ চলছে। ওরা কি করবে ভাবতে পারে না। এরই মধ্যে উড়োজাহাজের হাতছানি। আর ওখানকার শ্রমিক জীবনটাকে অনেকটা ওরা মানিয়ে নিয়েছে। সবাই ছোট্টুর কাছে আসে। ওর পরামর্শ নিয়ে ঠিক করবে।


ছোট্টুর সঙ্গে সবাই স্কুল বাড়িতে বসে। আলোচনা করে। ছোট্টু বোঝে কেউ কেউ বিভ্রান্ত দোটানায়। আবার কেউ কেউ ফিরতে চায়। তবে অনেকেই ফিরে এসে এই জীবনটার নতুন এক স্বাদ পায়। ফিরতে চায় না। ছোট্টু কোন সিদ্ধান্ত দেয় না। ওদের কাছে একটা গল্প বলে। গল্পটা এইরকম:


সুমিতা, সবাই সুমি বলে ডাকে। এই ফ্ল্যাটে সেই ফ্ল্যাটে ঘরমোছা কাপড় কাঁচার কাজ করে। ফ্ল্যাটের  মালিকরা বলে খুব বিশ্বস্ত। ভালবাসে সবাই। সেটাই তার উপরি পাওনা।


সুমিতার মল্লিকের ঘরের কাজটা গেল। আজ মল্লিকগিন্নী টা টা করে দিয়েছেন। কিন্ত কেন? সে জানে না। তার দুশ্চিন্তা কাল আবার কেউ না দেয়। ভাবতে ভাবতে সে সন্ধ্যে নাগাদ বাড়ি ফেরে। বাড়িতে আরেকটা খবর তার জন্য অপেক্ষা করছিল। ননদ জানাতে ভোলে না যে থানার বড়বাবু তাকে থানায় দেখা করতে বলেছে। ননদ বেশ রসিকতা করে বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। ননদের অভিযোগতো সারা বছর কিন্তু থানার কি অভিযোগ থাকতে পারে?  সুমিতা ভেবে পায় না।


সুমিতার স্বামী শম্ভু আজ তাড়াতাড়ি ফিরেছে। সেই সাত সকালে গায়ে জ্বর নিয়েই রিক্সা নিয়ে বেরিয়েছিল। সব শুনে সে সুমিতাকে থানায় নিয়ে যায়। ঘন্টা দুয়েক অপেক্ষা করার পর বড়বাবু তার ঘরে কোন এক ভদ্রলোকের সংগে কথা বলা শেষ করে তার উপস্থিতিতেই সুমিতাকে ডাকে। থানায় এটাই নিয়ম। ভদ্রলোক থাকলে তাদের প্রাধান্য আগে। ছোটলোকদের আবার গুরুত্ব কি? 


ঘরে ঢুকে সুমিতা দেখে যার জন্য সুমিতাকে অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে এতক্ষণ বসে থাকতে হয় তিনি  মল্লিক বাবু, সেখানে বসে। বড়বাবু তাদের উদ্দেশ্য করে বলেন:

"এই যে এসেছো। তবে আর দরকার নেই। তুমি যেতে পার। বেঁচে গেলে। মল্লিকবাবু মোরাইলটা বাড়িতেই পেয়েছেন"।


মল্লিকবাবু লজ্জা লজ্জা ভাব করে বলেন:

"সুমি, তুমি কাল কাজে এস"।


সুমিরা বেরিয়ে আসে। শম্ভু রহস্যটা বোঝে। সে বলে, "বাবুদের ভালোবাসা হল মুর্গিপোষা। যখন তখন জবাই করে যে কোন অজুহাতে "।


গল্পটা শেষ করে সবাইকে ছটু বলে নিজেরা ভেবে চিন্তে যেন সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী মালিককে জানান হবে কটা উড়ানের টিকিট সে পাঠাবে।

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

তারা খসার আলোয় ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

তারা খসার আলোয়  তীর্থঙ্কর সুমিত  কিছু বলার থেকে  চুপ থাকাটাই শ্রেয় মতামতের পেন্ডুলামে সময় আটকে আছে  ইতিহাসের চোরাস্রোতে  তাই এখনও জোয়ার কিম্বা--- মনে পরে যায় ফেলে আসা অতীত  মুখে-চোখে  বিবর্ণতায় ঢেকে যায় শহর  তোমার কথায় জেগে থাকা রাত  অন্ধকারে মাখামাখি বারুদ এখন! তারা খসার আলোয় নিজেকে দেখি।  ============== তীর্থঙ্কর সুমিত  মানকুণ্ডু, হুগলী  পিন -৭১২১৩৯

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

কবিতা ।। সুশান্ত সেন

কবিতা সুশান্ত সেন কোবতে লেখা সহজ নয় ত মোটে কল্পনা নেই। কি নিয়ে সে ছোটে! ছুটবে কেন? সে কি রেসের ঘোড়া বাজি জেতার তার নেই কি জোড়া? বাজি?  সে ত কালি পুজোয় ফাটে ভয় পাই যে দাঁড়িয়ে চৌকাঠে। চৌকাঠ টা বেজায় বড় বাঁধা পেরিয়ে যাওয়া বেজায় শক্ত, দাদা! অন্বেষণে বিরাট বিকট শব্দ কোবতে খানা তাতেই হবে জব্দ।   ============ সুশান্ত সেন ৩২বি , শরৎ বসু রোড কলিকাতা ৭০০০২০

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

অনুভবে, অনুধ্যানে অনালোকিত কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী ।। সুপ্রিয় গঙ্গোপাধ্যায়

"এ কালে একটু লেখাপড়া জানা থাকাতে, এবং বঙ্গভাষায় অনেক গুলি পাঠ্য পুস্তক হওয়াতে কেবল পরনিন্দা করিয়া সময় কাটাইতে তাঁহাদের আবশ্যকও হয় না, প্রবৃত্তিও হয় না। …নিতান্ত সখ্যতা বা আত্মীয়তা না থাকিলে, সকল পেটের কথা খুলিয়া নিঃশ্বাস ছাড়িয়া তৃপ্তিলাভ করা, এ কালের মেয়েরা পছন্দ করেন না। তাঁহারা বইখানি, কার্পেটটুকু, নিজের স্বামী পুত্র লইয়া দিন যাপন করিতে বা একেলা থাকিতে কষ্ট বোধ করেন না।" —শরৎকুমারী চৌধুরাণীর এই লেখা (ভারতী ও বালক/ আশ্বিন কার্তিক, মাঘ/ ১২৯৮) দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না উনিশ শতকে নারীর লেখাপড়া শেখার উদ্দেশ্য ছিল মূলত আত্মমুক্তির জন্য। শুধু লেখাপড়া শেখা নয়, সাহিত্য সৃষ্টিতেও ছয়'এর দশক (উনিশ শতকের) থেকে নারীরা যে ধারা সূত্রপাত করেছিল তা নারীর আত্মমুক্তির পথকেই প্রসারিত করেছিল। ছয়'এর দশকের পূর্বেই ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ছাপার হরফে নারী রচিত কাব্য 'চিত্তবিলাসিনী' প্রকাশিত হয়। লেখেন কৃষ্ণকামিনী দাসী। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে কবি ঠাকুরাণী দাসীর নাম উঠে আসতে থাকে, যিনি কবিতার পাশাপাশি গদ্যও লিখতেন। ঠিক সেই বছরই জন্মগ্রহণ করেন কবি গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী, যাঁর কবিতা লেখা আত্মমুক্...

বছরের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৪তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

  এই সংখ্যায় একটি গ্রন্থ আলোচনা ও একটি ধারাবাহিক রচনা ছাড়া সব লেখাই ভাষা দিবস, মাতৃভাষা, ভাষাচেতনা ও ভাষা সমস্যা বিষয়ক রচনা। লেখাগুলি এই সংখ্যাকে অনেকটাই সমৃদ্ধ করেছে। পড়ুন। শেয়ার করুন। মতামত জানান। লেখকগণ নিজের নিজের লেখার লিঙ্ক শেয়ার করুন যতখুশি, যে মাধ্যমে খুশি। কিন্তু স্ক্রিনশট শেয়ার নৈব নৈব চ!  অন্য বিষয়ের লেখাগুলি আগামী সংখ্যার জন্য রইল।  সকলকে ধন্যবাদ, অভিনন্দন। ভালো থাকুন।   --সম্পাদক, নবপ্রভাত। ==  সূ  চি  প  ত্র  == প্রবন্ধ-নিবন্ধ অমর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালীর বাংলা ভাষা দুর্জয় দিবস।। বটু কৃষ্ণ হালদার ভাষা শহীদদের পঁচাত্তর বছর।। অনিন্দ্য পাল একুশে ফেব্রুয়ারি : বাঙালির শ্রেষ্ঠ অশ্রুবিন্দু।। জীবনকুমার সরকার কবিগানের সাহিত্যিক ও সমাজতাত্ত্বিক মূল্য।। বারিদ বরন গুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি।। শ্যামল হুদাতী মায়ের দুধ আর মাতৃভাষা।। প্রদীপ কুমার দে একুশে ফেব্রুয়ারি : কিছু কথা।। বনশ্রী গোপ বাংলায় কথা বাংলায় কাজ।। চন্দন দাশগুপ্ত বিপন্ন মাতৃভাষা ও তার মুক্তির পথ।। মিঠুন মুখার্জী. হে অমর একুশে, তোমায় ভুলিনি, ভুলব না।। মহম্মদ মফিজুল ইসলা...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী

ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে দীনেশ চ্যাটার্জী যে পথ শরীরে ক্লান্তি আনে, সেই পথেই আত্মা খুঁজে পায় মুক্তি। দিবস ১ — যাত্রার সূচনা মানুষের জীবনে কতকগুলি আকাঙ্ক্ষা থাকে—যাহার ব্যাখ্যা বুদ্ধির দ্বারা মেলে না, তৎসত্ত্বেও হৃদয় তাহার প্রতি অদম্য আকর্ষণ অনুভব করে। কেদারনাথ যাত্রা আমার কাছে তেমনই এক আকাঙ্ক্ষা ছিল। বহুদিন ইচ্ছা ছিল—কখনো পূর্ণ করি নাই। আজ তাহারই প্রথম অধ্যায় আরম্ভ হইল। ভোররাতে ঋষিকেশে পৌঁছিলাম। স্টেশন হইতে বাহির হইবার মাত্রই অনুভব করিলাম—বাতাসে এক গভীর প্রশান্তি। শহুরে কোলাহল, ধুলো, অধৈর্যতার পরিবর্তে এখানে নীরবতা, শীতলতা, আর যেন স্নিগ্ধ তপস্যার আবহ। গঙ্গার তীরে এসে দাঁড়াইলাম। নদী এখানে শুধু জলের স্রোত নহে—সে যেন জীবন্ত ধর্ম; যাহার মধ্যে কালান্তরে সঞ্চিত স্নেহ, পবিত্রতা ও শক্তি। তাঁর জলে ভোরের সূর্যালোক পড়িয়া মৃদু ঝিলিক তুলিতেছিল। মনে হল—মহাশান্ত পৃথিবীর বুকে আমি ক্ষুদ্রমাত্র। বিকেলে লক্ষ্যণঝুলা দেখিবার উদ্দেশ্যে পা বাড়াইলাম। সেতুর ওপর দাঁড়াইলে নিচে গঙ্গার প্রবল স্রোত দেখি—হৃদয় থমকায়ে দাঁড়ায়। সেতুটি হালকা দুলিতে থাকে, কিন্তু ভয়ের পরিবর্তে সেখানে ছিল এক অদ্ভুত আহ্বান—যেন প্রকৃতি বলি...

কবিতা ।। ভাষার জন্য লড়াই ।। চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু

ভাষার জন্য লড়াই চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু মুখের ভাষা বাংলা ভাষা মাকে ডাকি মা, সারা বিশ্বে তোমার মাগো নেই তো তুলনা। তোমার মুখের প্রথম ভাষা আমার মনের সকল আশা তোমার ভাষায় বলবো মাগো আমার মনের কথা, এই ভাষাতেই জড়িয়ে আছে সকল স্বাধীনতা।  এই ভাষাকে আনতে গিয়ে তাজা বুকের রক্ত দিয়ে রাজপথে সব লড়াই হলো করলো লড়াই কারা, আমার মায়ের দামাল ছেলে রক্ত পলাশ যারা।  তোমার ছেলে লড়াই করে আনলো ভাষা ঘরে ঘরে সেদিন থেকে শহীদ মিনার সাজাই ফুলে ফুলে, বীর শহীদের ত্যাগের কথা যাইনি আজও ভুলে।    ++++++++++++++++++++++++++++++++    চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু শহীদ আবুল কাশেম সড়ক, বড় বাজার, চুয়াডাঙ্গা, বাংলাদেশ।

চন্দন সুরভি নন্দর কবিতা

টাকার মেশিন                      মায়ের ওষুধ নিয়ে শহর থেকে ফিরল রতন সবে সন্ধ্যা নেমেছে  রাস্তায় আলো কম হাসপাতাল অনেক দূরে  অদৃশ্য যম খেলাকরে  মৃত্যুর সীমান্তে শায়িত মা   শেষ রক্ষা হল না  আস্তে আস্তে ভোরের আলো ফোটে রাতের আঁধারে ঘরের দেওয়াল গুলো রাঙিয়ে গেছে কারা  তুলেছে রং বেরং এর তোরন  এসেছে নির্বাচন  শোনাযায় এবার নাকি এ টি এম চিহ্নে দাঁড়িয়েছে একজন! টাকার মেশিন........  জিতলে সবাইকে দেওয়া হবে! সামনে বসে উল্লাসে ফেটে পড়া রোবট গুলো মানুষ কবে হবে?  ====================== Chandansuravi Nanda Revenue Office  BL&LRO,Manbazar-ll Boro Purulia PIN-723131 Phone-9163332432