Skip to main content

Posts

Showing posts with the label ১২শ # মাতৃভাষা দিবস সংখ্যাঃ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ ফাল্গুন ১৪২৫

সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র

সম্পাদকীয়  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ব্লগ-নবপ্রভাতের এই সংখ্যাটি প্রকাশিত হল। বাংলার সন্তান হিসাবে গর্বিত ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী আমরা । সেই গর্ব থেকেই এই সংখ্যা। সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।  সূচিপত্র  গদ্যঃ অরুণ চট্টোপাধ্যায়    আশিস চৌধুরী   মনীষা কর বাগচী   বনশ্রী রায় দাস   মানসী বিশ্বাস   শেফালি সর   অমৃতা বিশ্বাস সরকার   রণেশ রায়   রাণা চ্যাটার্জী    স্বরূপা রায়। কবিতা/ছড়াঃ জয়ীতা চ্যাটার্জী    কবি আর্যতীর্থ   সোমের কৌমুদী   হীরক বন্দ ‍ ্যোপাধ ‍ ্যায়   অর্ণিশা সেন   অবশেষ দাস   সুমন কুমার সাহু   অনুরূপা পালচৌধুরী   আবদুস সালাম   সোমনাথ বেনিয়া   শুভাশিস দাস   নৃপেন্দ্রনাথ মহন্ত   সুমন নস্কর     স্বপনকুমার বিজলী   অমিত পাটোয়ারী   নির্মল করণ  ...

অরুণ চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধ

ভাষা নিয়ে ভাবনা কিন্তু কেন? অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় বহু জিনিস নিয়ে ভাবনায় মানুষ যখন জেরবার হচ্ছে তখন ভাবনার ভাঁড়ারে ভাষার মত অতিরিক্ত আর একটি বিষয় ঢোকান হল কেন? স্বভাবতই মনে হয় সুখে-স্বাচ্ছন্দে দিন কাটানো মানুষ অথবা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিন গুজরান  করা লোকগুলোর কাছে ভাষা নিয়ে এই ভাবনার পরিসর কতখানি – বিশাল অথবা ক্ষুদ্র? বিষয়টিতে আবেগ কতখানি আর বাস্তব কতখানি? অনেকেই হয়ত এমন আছেন ভাষা বিষয়টিতে আবেগাশ্রিত একটা বাড়াবাড়ি বা পাগলামি বলে মনে করেন। বিশেষ তাঁরা যারা বাংলা মাধ্যমে পড়ার চেয়েও হিন্দী ও ইংরিজি মাধ্যমে পড়াশোনার ওপর জোর দেন। আজ বিশ্বের দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ায় চাকরি, শিক্ষা, গবেষণা বা অন্যান্য বহু কারণে আমাদের বহির্মুখী স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতেই হচ্ছে। এই গা ভাসানোতে কোনও অন্যায় নেই, নেই কোনও নীতিহীনতা। কথাতেই আছে 'গরজ বড় বালাই'। তাই আন্তর্জাতিকতা আদায় করতে তুখোড় হতে হয় ইংরেজিতে। কারণ এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিকতায় ইংরিজি ভাষার কোনও বিকল্প গড়ে ওঠে নি। তাই ইংরিজির প্রচার, প্রসার আর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। জাতীয় ক্ষেত্রে এখন সেই স্থান বোধহয় দখল করেছে বা করতে চলেছে...

আশিস চৌধুরীর প্রবন্ধ

'মোদের গরব মোদের আশা আ-মরি বাংলা ভাষা'  তাড়িত দুঃখের মত চতুর্দিকে স্মৃতির মিছিল/রক্তাক্ত বন্ধুদের মুখ,উত্তেজিত হাতের টঙ্কারে/তিরের ফলার মত ভাষার চীৎকার /বাংলা বাংলা.../কে নিদ্রামগ্ন আমার মায়ের নাম উচ্চারণ কর?'আল মাহমুদের এই কবিতা পড়লেই কেন জানি না ভেসে ওঠে সেই মুখগুলি যারা ঢাকায় এবং অসমের শিলচরে ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন.১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরর শান্তিপুর্ন  আন্দোলনে পুলিশের বর্বরোচিত গুলি চালনায় আব্দুস সালাম,রফিক উদ্দিন আহমেদ,আবুল বরকত এবং আবদুল জব্বর নিহত হন। পরবর্তীকালে অরথাত১৯৬০ সালে অস্ম সরকার অসমিয়াকে একমাত্র সরকার স্বীকৃত ভাষা ঘোষনা করলে  শিলচরের বাংলাভাষী মানুষ আন্দোলনে শামিল হন।সেই একই বর্বরোচিত কায়দায় পুলিশের গুলি চালনায় সেদিন শিলচর রেলস্টেশনে ১১ জনের মৃত্য হয়.১১ টি প্রাণের বিনিময়ে অসম সরকার পিছু হঠতে বাধ্য হয় এবং বাংলাভাষা তার স্বমর্যাদা ফিরে পায়। এই নিহত ১১ জনের মধ্যে একজন মহিলা ছিলেন তাঁর নাম কমলা ভট্টচার্য।ইনিই পৃথিবীতে ভাষা আন্দোলনে নিহত প্রথম মহিলা শহিদ। পরবর্তীকালে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এবং আমাদের দেশে আপন ভাষার...

জয়ীতা চ্যাটার্জীর কবিতা

এবার একুশে অদৃশ্য এক হলদে হাওয়া  ঘুরে বেড়ায় উদাস হয়ে।  রক্তে আমার তুফান ওঠে মাতৃভাষা পড়ছে নুয়ে।  হিম নিশিতে কেঁপে উঠি আমার বাংলা হচ্ছে ক্ষয়।  কোথায় রবি, কোথায় দুখু বাংলা ভাষায় থমকে ভয়।  আকাশ জুড়ে জ্যোৎস্না থামে রঙটা কেনো গাঢ় নীল?  কবিতা জুড়ে কবির ছায়া আগের মতো পাই না মিল।  এ দুঃখ আমার অস্তিত্বের,  চোখের পাতা থেকে আঙুলে ধায়। যন্ত্রনারা শিরশিরিয়ে উঠছে বুকে মাতৃভাষার শিকড় টাকে ধরবি আয়।। ====================== Jayeeta Chatterjee C/o= Shyama Prasad Chatterjee Add: 22/4 R.N.T.P Bye Lane Shyamnagar north 24 parganas West bengal-743127

কবি আর্যতীর্থর কবিতাগুচ্ছ

।  একুশে। আমার ভাষাতে শহুরে পালিশ, তোমার ভাষায় ঘাসের গন্ধ তোমার মননে লালন ফকির, আমার পঠনে জীবনানন্দ,  আসলে আমরা দুই সৈনিক, পরণে বাংলা ভাষার উর্দি, গান লিখে যাই মায়ের ভাষাতে, যতই ভিন্ন ভিন্ন সুর দি। আজন্মকাল বিদেশে থেকেও, কারোর বাংলা এখনও শুদ্ধ, কারোর বাংলা কথাদের মাঝে ভিনভাষাদের প্রবল যুদ্ধ, গ্রাম থেকে আসা উড়োখই লোক, মুখে অন্ত্যজ শব্দ অচেনা  বইছে সবাই একটা পতাকা, সক্কলে এরা বাংলার সেনা। শেকড় গেড়েছে বুকের ভেতর, ভাষার হয়না জাত বা ধর্ম, ভাষার সেনারা ঘরে ঘরে আছে, বাংলার নামে পরেছে বর্ম, অতীতে ছিলাম, এখনো রয়েছি, আমরা থাকবো  ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে কোটি কোটি হাতে মশাল জ্বলবে একুশের পথে।  । শাক মাছ। (শুনলাম কিছু লোকে ধর্মের বেড়া টানে রবি নজরুলে....) কাঠকুটো দাও, জ্বালবো আগুন, পুড়বো ধিকি ধিকি, জ্বলুক কলম, আগুন দিয়ে ভাষার  দলিল লিখি। ভেজা মনের গা শ...

মনীষা কর বাগচীর নিবন্ধ

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বের ইতিহাসে এক স্বর্ণোজ্জ্বল দিন। কোনো ভাষাকে নিয়ে এমন ভয়ঙ্কর আন্দোলন এর আগে কোনোদিন হয়নি। 1947 সালে দ্বিজাতি তত্বের ভিত্তিতে ব্রিটিশ ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তানের উদ্ভব হয়।1948 সালে পাকিস্তান সরকার উর্দুকে রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। স্কুল ও মিডিয়াতে উর্দু ভাষাকে মাধ্যম করা হয়। মুদ্রার নোট ‌ও স্ট্যাম্প থেকে বাংলা মুছে ফেলা হয়। এই অন্যায্য সিদ্ধান্তকে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ, মাতৃভাষা যাদের বাংলা তাঁরা  মন থেকে মেনে নিতে পারেননি। গভীর ভাবে মর্মাহত হয়ে তাঁরা রাগে দুঃখে ফেটে পড়েন। বাংলা ভাষা বাঙালির প্রাণ , যে ভাষায় বাঙালি শ্বাস নেয়, গান গায়, প্রথম মা বলে ডাকে, যে ভাষায় প্রিয় মানুষটিকে প্রেম নিবেদন করে,যে ভাষাকে সে যাপন করে সেই ভাষার অবমাননা কি করে তাঁরা সহ্য করবে ....তাইতো প্রাণের মায়া না করে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন অসংখ্য তাজা ত‍রুণ প্রাণ। 1952 সালের 21 ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন ১৩৫৮) আদেশ অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও কিছু রাজনৈতিক দলের কর্মী মিছিল শুরু করেন।144 ধারা অবমাননার ...

সোমের কৌমুদীর কবিতাগুচ্ছ

সব ভাষারই সবার উপর যে ভাষার তরে ঝরেছে হৃদয় চেরা রক্ত, আমরা তবে হলাম কেন ভিন ভাষারই ভক্ত! অনেক প্রাণের বিনিময়ে পেয়েছি এই ভাষা, তবে কেন হচ্ছে আজ ভিন ভাষাতে ভাসা! অনেক প্রাণের বিনিময়ে এই ভাষাটা পোক্ত, হৃদয় মাঝে এই ভাষাকে রাখব করে শক্ত। কান্না-হাসি, ভাবের প্রদান এই ভাষাতে করব, সব ভাষারই সবার উপর বাংলা ভাষা রাখব। আর কি আছে এমন দামি ভাষা যে ভাষাটা মা শেখালো               ভাইরা তাঁদের প্রাণ হারালো, এই ধরাতে আর কি আছে এমন দামী ভাষা                     বল না তোরা, বল না। যে ভাষাতে পাখিরা গায় শুনলে সবার হৃদয় জুড়ায়, এই ধরাতে আর কি আছে এমন মধুর ভাষা                            বল না তোরা, বল না। যে ভাষাতে স্বপ্ন বোনা দিন যাপনের ...

শেফালি সরের নিবন্ধ

 ।।আ মরি বাংলা ভাষা।।            বাংলা ভাষা আমার মায়ের মুখের ভাষা।এই ভাষা মাতৃ দুগ্ধ সময় অমৃত ধারা বর্ষী জীবন দায়ী ভাষা। এই ভাষা আমাদের ভাব প্রকাশের মাধ্যম। আমাদের এই ভাষা রূপ কথার জীয়ন কাঠি। এই ভাষা আমাদের সার্বিক উন্নতির চাবিকাঠি।অথচ আমাদের মধ্যে ইংরেজি ভাষা শেখার জন্য এতো বেশি আগ্রহ এতো বেশি মোহ যে সেখানে বাংলা ভাষা ভীষণ ভাবে অবহেলিত।আর আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ও সেই ধাঁচে সাজানো হয়েছে।এই প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন-"আমাদের মন যে সময় তেরো চৌদ্দ বছর বয়স হ আসতেই জ্ঞানের আলোকে এবং ভাবের রস গ্রহন করিবার জন্য ফুটিবার উপক্রম করিতে থাকে,সেই সময় অহরহ যদি তাহার উপর বিদেশী ভাষার ব্যাকরণ এবং মুখস্ত বিদ্যার শিলাবৃষ্টি বর্ষন হ ইয়ে থাকে, তবে তাহা পুষ্টি লাভ করিবে কী করিয়া    অত এব এই বিষয়ে সঠিক অনুধাবন করলেই বোঝা যাবে যে এই বিদেশি ভাষা চর্চার জন্য ই মাতৃভাষার ভাব শক্তির বিনাশ ঘটেছে। স্বাধীন ভারতের স্বপ্নকে সার্থক করতে হলে আমাদের জাতীয় জীবনে বিদেশী ভাষার রাহু গ্রস্ত অশুচি দশা দূর করতে হবে। বাস্তব জীবনের সঙ্গে, আত্মা...

হীরক বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের কবিতা

মাতৃভাষা কত কত লেখা, কত কত অক্ষর কিন্তু তোমার কথা কোথাও নেই, মাতৃভাষা আমি খুজি শব্দে ছন্দে লেখনক্রিয়ায় শ্রম রক্ত ব‍্যয় করে পড়ি  চশমার পাওয়ার বাড়ে  ঢুকে পড়ি ঘোরতর জঙ্গলে যেখানে কামিনী কাঞ্চন থাকে  ছাপ ,চিহ্ণ ভবিতব্য নিয়ে, সুদূর আত্মীয় স্বজন অপেক্ষা ক‍রে অথচ একদিন বরকত আব্দুস সালাম শুধু ভাষার জন্যে... আর মাটি হয়ে যাওয়া সেই কবরস্থানে মেঘ বৃষ্টি নিয়ে নেপথ্যে বাজনা বেজেছিল  আমি মনে করতে পারছি না কেউ কি ধুয়ে দিয়েছিল তাদের গায়ের ঘাম রক্ত ফের আমি ঢুকে পড়ি গূহায় শব্দে ছন্দে লেখনক্রিয়ায়... ============================== হীরক বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় # 10,DPL officer s cooperative malancho, Durgapur 713214 Burdwan

অর্ণিশা সেনের পদ্য

।।ককটেল।। হিন্দি এল, উর্দু এল, ফারসি আংরেজি বাংলা এখন বাংলা তো নেই,  হচ্ছে 'বাংরেজি'। মূল ভাষাটি ত্যগিয়ে আজি, ভুল ভাষাটি ট্যাগিয়েছি--- নানান দেশের নানান ভাষা আপন করে ব্যাগিয়েছি। # একছত্র বাক্যবন্ধে চারছত্র ভিনদেশি বেঁচেবর্তে থাকবে বাংলা এই ভাবে ভাই দিন বেশি। বাংলা নাকি ক্যালাস ক্যালাস, গ্যালাস ঠুকি ইংলিশে,  বাংলা ভাষার ককটেল আজ বঙ্গদেশে থাক মিশে।। # মিক্সচারে তাই থাকুক হিন্দি ইংরেজি রূপ বঙ্গীয় নয়তো ভ্যাবলা ক্যাবলা হবে ঢং দেখাবে ঢঙিও। উচ্চারণেও কায়দা যে চাই কাঁপিয়ে তোমার ভোকাল কর্ড দু-চার ফোড়ন বিলিতি মিক্স, তবেই আমরা আল্ট্রামর্ড।। # আগেই তো 'মা' হয়েছে 'মাম্মি' 'বাবা'-ও বদলে হয়েছে 'ড্যাড' 'স্বামী-স্ত্রী' আজ 'হাবি-ওয়াইফি', বলতে সঠিক খাচ্ছি 'ল্যাদ'। 'বাছা' যে আজ হয়েছে 'বেটা' 'প্রিয় বন্ধু' 'বেস্টি' গো বাংলা খাদ্যে বিলিতি টপিংস আহা কী দারুণ টেস্টি গো! ======================== অর্ণিশা সেন ঝিলিক এপার্টমেন্ট  সি. সি. ৫৭/৪, নজরুল পার্ক,...

অবশেষ দাসের কবিতা

একুশের গান ভক্তি,শ্রদ্ধা অন্তরে থাক বুক হতে যাক বুকে  রক্তের রঙে মাতৃভাষা  যেন লাল টুকটুকে । অমর একুশে সমর তো নেই বন্দুক বোমা ঘুমে জননী আমার বাংলা আমার  তোমার চরণ চুমে। একুশের কাছে অঞ্জলি আজ  পুণ্যব্রতের দিনে  আজও দেখি বাবা, ফিরছে গৃহতে বিদ্যাসাগর কিনে•••• আমি তো বাবার বাধ্য বালক মায়ের সাধের ধন বাংলা ভাষার দিনমজুরের অশ্রু বিসর্জন । ফুলে ফুলে ভরা শহীদের বেদী  প্রদীপ শিখা তো জ্বলে  আজ তো একুশে ফেব্রুয়ারি  হৃদয়-কুসুম বলে •••

সুমন কুমার সাহুর কবিতা

মাতৃভাষা                                         যে ভাষায় গল্প ছিল; - আজো গল্প আছে বেঁচে ... সে ভাষায় দাঁড়াই এসে আমি তোমায় ভালোবেসে । আমি সোচ্চারে বাঁচি তুমি একুশে সূর্য্য তারা চাঁদের আলোয় মাখি ওগো আমার  মাতৃভাষা  । তুমি আগামী একুশের, -গল্পে ইতিহাস হয়ে যাও তুমি বার বার ফিরে আসো, আর গল্পটা গলা ছেড়ে গাও ! পাথরেই হোক কিংবা রক্তে মাংসে ছবিতেই হোক কিংবা কবিতায় গল্পটা অনুভব করি মাতৃ-ক্রোড়ে জন্মভূমি তোমারি স্পর্শে। গল্পটা স্বপ্ন দেখায় - ,  উঁকি ছুঁকি ভোর বেলায় – গল্পটা বলছি তোমায় আমার  মাতৃভাষা য় গল্পটা ছন্দ বাঁধায় ফিরে আসে কবিতায় গল্পটা তোমার ছোঁয়ায় – ইতিহাস হয়ে যায় - ...............ইতিহাস হয়ে যায় !

অনুরূপা পালচৌধুরীর কবিতা

ভাষাতীত শহীদ আকাশপৃষ্ঠ -------------------------------------- স্বাধীন অথচ পরাধীন ঘুমবেগ চাইলেই উল্লাস ফাটা মিছিলকারী মেঘ ছিঁড়ে যাচ্ছে রক্তের ফাঁসি  তবু মা, তোমার গোপন আলোয় বাতিল তরল কাগজ খুঁজে যাই চশমাভর্তি আড়াল  এখন জলসঞ্চয়। বিপদগামী বৈঠার বুক।   হয়তো : জখম মাটির আবেদনে শিকড়ের চিৎকার ১ম বিচ্ছেদের ভোর। ২য় মেরুদেশে আর্তনাদ সাময়িক শব্দভেদ : কয়েকশো সভ্যআলোয় চারুলতা শেষতম শিকারি হত্যা বন্দিত্বের খুন করে   আদিমতম যোনিপথে সারিবদ্ধ দিবসের দরজা ভেদ করি 'ব' ফলার মাতৃঋণ। তুলে রাখি শব্দময় লাশঘর ===================== অনুরূপা পালচৌধুরী।

বনশ্রী রায় দাসের ভাবনা

               "আ মরি বাংলা ভাষা" "আমরি বাংলা ভাষা " মুখে ভাবলে এবং বললে ও কতটুকু হৃদয়ের অন্তস্তলে ধারণ করতে পেরেছি আমরা । বাঙালি ভাবার কতদূর সম্ভাবনা রয়েছে ভাবি কালের কন্ঠে ? এ বড়ো কঠিন কথা।আন্তর্জাতিক বাজারে ফুরফুরে মেজাজ মাখতে মাখতে ক্রমশ কোন সুদুরে ভেসে যাচ্ছে ভাষা স্রোতের ঢেউ?বাঙালীর রক্তে রাঙানো  ইতিহাসের পাতা জমাট বেঁধে কালো হচ্ছে   মেঘ  ক্রমশ । ধূসর মানচিত্র  : বাংলা বিভাজনের ফলে পূর্ব বাংলা  সরে গেল পূর্ব পাকিস্তানের দিকে ফলত তাদের ওপর চাপানো হলো পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু ।এই বলপুর্বক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে  প্রতিবাদী আন্দোলন  সংগঠিত করলেন ঢাকার ছাত্র যুব সমাজ 1952  সাল  শুরু হলো মিটিং মিছিল  ধর্মঘট  বাংলা ভাষাকেই  রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা দেওয়ার জন্য গর্জে উঠলো যুবছাত্র সমাজ । অবশেষে উপস্থিত সেই দিন একুশে  ফেব্রুয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আন্দোলনে উত্তাল ,থামাতে পারেনি সরকারের রক্ত চক্ষু ।পুলিশের অত্যাচার, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের দা...

আবদুস সালাম এর কবিতা

মানচিত্র   অজন্তার গুহায় খুঁজি জীবনের আশ্রয়  সন্দিপন আলোয় ভেসে ওঠে জীবনের বীজ  একটা সকাল রঙের মুখ দেখার অনন্ত প্রয়াস  জীবনের ঘ্রাণ চেটে পুটে নেয় স্বপ্নীল বিশেষণ  বিষাদ বীণার তারে ঝঙ্কার তোলে নষ্ট দিনের গান   সর্বগ্রাসী  অহংকার যেন প্রেমের ফিনিক্স পাখি দহন জুড়ে খেলা করে আইবুড়ো চৈতন্য বিবস্ত্র চাঁদ গেয়ে ওঠে পিচ্ছিল ভাটিয়ালী  পরিবর্তনে পুড়ে মরে কলঙ্কের নৌকা দুর্ভেদ্য জীবন এঁকে যায় অন্তঃস্বারশূন‍্য ভৌগোলিক মানচিত্র @@@ আমার ভাষা        এখনো অতৃপ্ত আত্মারা ঘুরে ঘুরে আসে রোজ দেখতে পায় দিন বদলের কানামাছি খেলা  পলাশ বনে উঁকি মারে অসমাপ্ত অভিসার ভাষার আফিম খেয়ে নাচে কৃষক মজুর ভাটিয়ালীর সুরে পূজা হয় বাঙলা মায়ের ভাষার সন্তানেরা  রোদ জলে ভিজে ভাষালুটেরা গুলি চালায় নির্বিচারে আবেগের পাখিরা ডানা ঝাপটায় রোদ জমা হয় আলোর প্রান্তরে ভাষার নগ্নডানায় জড়ো হয় অমানবিক -ক্ষত  কুটিল আবর্তে পাক খায় ভ্রষ্ট বিবেক সারা পৃথিবীর মুখে  চুনকালি মাখায়...

মানসী বিশ্বাসের মুক্তকথা

"আ মরি বাংলা ভাষা" খাবার টেবিলে পাঁউরুটিতে বাটার মাখাতে মাখাতে চিন্তার পাহাড় জমেছে সুধার।আজ গোগোলের রেজাল্ট। মাধ্যমিকের রেজাল্ট আজ।গোগোলের রেজাল্ট নিয়ে চিন্তা বলা ভুল, কোন পজিশন–কত র‍্যাঙ্ক এসব মাথায় ঘুরছে সুধার।একমাত্র ছেলে কিনা। একটু কিছুতেই চক্ষু চড়ক গাছ হয় ওর।দেখা যাক...এই ভেবে মনে মনে 'জয় মা তারা'বলে উঠল সুধা। বাথরুম থেকে স্নান সেরে এসেছে গোগোলের বাবা নিলয়।খুব টেনশনে আছে সেও।সুধার দিকে তাকিয়ে বলল —"এখনো ঘুম থেকে ওঠেনি তো?তোমার ওই বাঁদর ছেলে?পড়ে পড়ে বেলা ৯টা অব্ধি ঘুমোক। আজ রেজাল্ট কোন ভ্রুক্ষেপ আছে? কী জানি!... "আ!তুমি টেনশন করো না।গোগোল তো স্কুলে ফার্স্ট হয়।এবারেও..." কথাটা থামিয়ে দেয় নিলয়।বলে,"এটা স্কুল নয়,রাজ্য।রাজ্যতে ওকে ফার্স্ট হতে হবে।" সকাল দশটা।বারোটায় রেজাল্ট হাতে এলেও,অনলাইনে ছেড়ে দিয়েছে রেজাল্ট। এই সময় নেটওয়ার্ক সার্ভিসেরও কিছু সমস্যা দেখা হয়।"ঠিক সময়েই কেন যে টাওয়ার পাই না,বুঝি না"—বল্র গটগট করে ছাদে চলে যায় নিলয় টাওয়ারের আশায়।অগত্যা সুধা টিভি খুলে বসে।আনন্দ সংবাদ চোখে ভেসে ওঠে। চোখ জুড়িয়ে...

সোমনাথ বেনিয়ার কবিতা

বাংলা, ভাষা আমার  আমার ভাষা আমাকে আগলে রাখে আগন্তুকের স্মার্ট বুলির উপর -                           হাসির দুধেল সর ফেলে দেয় স্পর্শ দিয়ে বুঝে নেয় পরিচয়, চাহিদা, আড়াল কিছু নিঃশর্ত ক্ষমা আমার ভাষার কাছেই শেখা যত সংশয়, কষ্ট, অতিপ্রাকৃতিক বিষয় সুচালো ফলক ভাষার মিষ্টি তরঙ্গে ভেসে যায় ঘুমের ভিতর স্বপ্ন আসে, ছায়ামুখ বাংলা ভাষা আমার মা, দেবী বরাভয়ে জন্মকে বাজি রেখে -                           মৃত‍্যুর সাথে হাডুডু খেলি ... ======================================== সোমনাথ বেনিয়া ঠিকানা - ১৪৮, সারদা পল্লি বাই লেন ডাক + থানা - নিমতা জেলা - উত্তর ২৪ - পরগনা কলকাতা - ৭০০ ০৪৯ ফোন - 8697668875.

নৃপেন্দ্রনাথ মহন্তর কবিতা

      ভাষা আমার, জননী আমার                             **************** গর্ভের অন্ধকারে পৌনে তিনশো দিন লুকিয়ে রেখে অবশেষে দিনমণি সূর্যের আশ্বাসে তুমি যাকে ভূমিষ্ঠ করেছো মাগো,আলোর জগতে সে আর ফিরে যাবে না অন্ধকারে কোনোদিন। জন্মমাত্র বক্ষসুধায় পুষ্ট করেছো এই দেহ ক্রমে মুখে দিয়েছো মাতৃদুগ্ধে স্নিগ্ধ এক ভাষা মুখের ভেতর দিয়ে বুকের গভীরে সেই ভাষা হৃদয়ের উত্তাপে কেলাসিত হয়ে বহুমূল্য রত্ন হয়ে আছে। জীবনের চলার পথে এই রত্ন ছাড়া আমার আর অন্য পাথেয় নেই। আমার ভাই,বোন, বন্ধু আছে যত সকলেই বাংলার,বাংলাভাষার সন্তান আমার সন্তান-সন্ততির মুখের ভাষাও বাংলা ভিন্নভাষীরাও আমার তুতো ভাইবোন তাদের ভাষা মনে মনে বাংলায় অনুবাদ করে বঙ্গবাসী আমি ভারতবাসী,বিশ্ববাসী হই। ভাষা আমার, জননী আমার,আমি অকৃতজ্ঞ নই। ****************************************** Sender: Nripendranath Mahanta Vill.&Post-HEMTABAD Dist.Uttar Dinajpur PIN-733130     ---------------...

সুমন নস্করের ছড়া

আমার ভাষা বাংলা ভাষা আমার ভাষা বাংলা ভাষা এই বুকেতেই জাগে, সবার চেয়ে এই ভাষাটাই  মিষ্টি বড়ো লাগে৷ বাংলা আমার প্রাণের ভাষা পল্লি বাউল গানে, বুকের মাঝে উথাল পাথাল আবেগ বয়ে আনে৷ মার শেখানো মিষ্টি ভাষা শিশুর আধো বোলে, দুখের মাঝে সুখের ছোঁয়ায় খুশির তুফান তোলে৷ আমার ভাষা বাংলা ভাষা ছন্দ এবং সুরে, ছড়ায় গানে দেয় যে দোলা হৃদয়খানা জুড়ে৷ এই ভাষাতেই আদর স্নেহ মিষ্টি মায়ের কোলে, ঘুম পাড়ানি মায়ের গানে আজকেও মন ভোলে৷ আমার ভাষা বাংলা ভাষা সদাই জাগে প্রাণে, মায়ের মত বাংলা আমার কোলের কাছে টানে৷ ============================== সুমন নস্কর গ্রাম+পোষ্ট- বনসুন্দরিয়া থানা- মগরাহাট জেলা- দক্ষিণ ২৪ পরগনা পিন- ৭৪৩৩৭২

. স্বপনকুমার বিজলীর ছড়া

   বাংলা ভাষা  বাংলা ভাষায় লিখি পড়ি  বাংলা তে গান গাই  এমন মধুর ভাষা যে আর এই ভুবনে নাাই । সকল মানুষ ঈদ পুজোতে বাংলা তে গায় গান বাংলা আমার মাতৃভাষা  বাংলা কে দিই মান । বাংলা ভাষা যাক ছড়িয়ে  দেশের চারিদিক  বাংলা ভাষা সব মানুষের  মন ভরাবে ঠিক । ---------------------------------- স্বপনকুমার বিজলী  জোকা, কলকাতা ,  Sent from my Samsung Galaxy smartphone.

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি

বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক তপন মাইতি বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়; এটি বাঙালির সামষ্টিক স্মৃতি, কৃষিনির্ভর সভ্যতার চিহ্ন, অর্থনৈতিক বিন্যাসের সূচনা এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক। সময়কে মানুষ ক্যালেন্ডারে বন্দি করলেও, নববর্ষ আসলে মানসিক পুনর্জন্মের এক সামাজিক অনুষঙ্গ। বছরের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে বাঙালি নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সংকল্প করে। পুরোনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলা—এই ধারণা বাঙালি জীবনদর্শনের গভীরে প্রোথিত। নববর্ষ মানে শুধুই উৎসব নয়; এটি স্মৃতি, শ্রম, আশা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের একটি সামাজিক চুক্তি। বাংলা নববর্ষ তাই একদিকে কৃষিজীবনের ঋতুচক্রের সাথে যুক্ত, অন্যদিকে নাগরিক সংস্কৃতির আধুনিক উৎসবে রূপান্তরিত এক ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা। বাংলা সনের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও সাধারণভাবে মনে করা হয় মুঘল সম্রাট আকবর রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে সৌরভিত্তিক বাংলা সাল চালু করেন। কৃষিভিত্তিক সমাজে ফসল কাটার সময় অনুযায়ী কর আদায় প্রয়োজন ছিল।হিজরি চান্দ্র সন কৃষির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।ফলে সৌরবর্ষভিত্তিক বাংলা সনের প্রবর...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতা ।। সবুজের অভিযান ।। অশোক দাশ

  সবুজের অভিযান অশোক দাশ ঘাম ঝরে দর -দর খোকা -খুকি জব্দ, রোদে নয় ছোটা -ছুটি  ঘর দোর বন্ধ। ঢক -ঢক জল খায় বুড়ো-বুড়ি সুনন্দ, প্রকৃতির  রোষানলে  ঘর  পোড়া গন্ধ। দহন তাপে খাঁ খাঁ মাঠ ফুটি ফাটা চৌচির, কৃষকের   নেই    ঘুম    হাঁসফাঁস   অস্থির। বাতাসে আগুনে হালকা শরীরে ধরে জ্বালা, সব কাজ ফেলে রেখে প্রাণ বাঁচা ঘরেতে পালা। পশুপাখি ছায়া খোঁজে বনানীতে বৃক্ষের আকাল, লালসায়  বৃক্ষ ছেদন  কেড়ে নেয় শীতল সকাল। পতিত জমিতে ছড়াও বীজ সৃজন করো কিশলয়, বাঁচবে প্রকৃতি বাঁচবে প্রাণ খুশিতে ভরবে  আলয়। সবুজের  অভিযান  চলুক  নিত্য  আনন্দ উৎসবে, বাঁচুক চারা গাছ বন বনানী ভালবাসার নিবিড় বন্ধনে। ===================== অশোক দাশ ভোজান, রসপুর, হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত।

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

নারী ।। সুশান্ত সেন

নারী সুশান্ত সেন  নারী তুমি জন্ম দিও না পুরুষ সন্তান কারণ পুরুষই পাপী পুরুষই হত্যাকারী যুগে যুগে কালে কালে। পৃথিবী তে যত যুদ্ধ যত অস্থিরতা তার মূলে পুরুষ শাসক, তাহারাই তৈরি করে মারণাস্ত্র আত্মরক্ষা করিবার ছলে ও কৌশলে। দেশে দেশে মৃত্যু ডেকে আনে। আবার দেখেছ নিশ্চয়  তাহারাই প্রবর্তন করিয়াছে ধর্মগুলি তাহারাই ধর্ম ছলে নিয়ে আসে বিবেধ শাসন নিয়মের নাম করে, সম্পত্তিকে কুক্ষিগত করে। তাই দোহাই মিনতি,  নারী তুমি পুরুষ সন্তান আর জন্ম দিও নাকো। তাহলেই শুদ্ধ হবে পৃথিবীর কোমল প্রকৃতি। ============= সুশান্ত সেন  ৩২বি শরৎ বোস রোড কলিকাতা ৭০০০২০

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৮তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩৩ এপ্রিল ২০২৬

  শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সকলকে জানাই শুভ বাংলা নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।  সকলের মঙ্গল হোক। পারস্পরিক সৌহার্দ্যে নন্দিত হোক জীবন। বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক লেখাগুচ্ছ এই সংখ্যায় রইল। অন্যান্য লেখা পরে প্রকাশিত হবে। —নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত।   সূচিপত্র পহেলা বৈশাখ : অদ্বিতীয় বাঙালির সর্বজনীন উৎসব ।। অলোক আচার্য বোশেখের ঘুড়ি ।। শাহ মতিন টিপু পয়লা বৈশাখ : বাঙালির প্রাণের উৎসব ।। উৎপল সরকার মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ হালখাতা — বাঙালিয়ানা ।। শ্যামল হুদাতী বাংলা নববর্ষ : বাঙালির সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতীক ।। তপন মাইতি বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ।। তুষার ভট্টাচার্য হালখাতা ।। চন্দ্রমা মুখার্জী নববর্ষের গৌরচন্দ্রিকা ।। অভীক চন্দ্র নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক নববর্ষের নবতম আশা ।। সমীর কুমার দত্ত দুই আকাশ, এক নববর্ষ ।। রাজদীপ মজুমদার আমার সন্ন্যাস ।। অংশুদেব পয়লা থেকে একলা হওয়া ।। সুকান্ত ঘোষ পহেলা বৈশাখে আনন্দ নগরের স্মৃতি ।। সারাবান তহুরা মৌমিতা বাংলা নববর্ষ ।। পার্থপ্রতিম দত্ত স্মৃতির পাতায় পয়লা ।। দেবশ্রী চক্রবর...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

হালখাতায় বেহাল দশা ।। দীপক পাল

  হালখাতায় বেহাল দশা দীপক পাল পার্কের বেঞ্চে তিন মক্কেল সবে এসে বসেছে। তিন মক্কেল মানে বাবলা সৌম্য ও বিশ্বরূপ। তিনজনেই এবছর উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে। সৌম্য আর বিশ্বরূপ স্টার পেয়েছে। কিন্তু বাবলা তিনবারের চেষ্টায় মোটামুটি ভাল নম্বর পেয়ে পাশ করেছে। তাই ওদের আনন্দ আর ধরে না। সৌম্য ও বিশ্বরূপ ভাল কলেজে ভর্তি হয়েছে আর বাবলা গড়িয়াহাটায় ইনিডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ড্রাফ্টসম্যান ট্রেণিংর জন্য ভর্তি হয়েছে। বাবলা বললো, - ' এই শোন, কাল তো পয়লা বৈশাখ, নববর্ষ, এই দিনটাকে আমরা অন্য রকম করে পালন করতে পারি না?' বিশ্বরূপ বলে, - ' তুমিই বলো কি ভাবে আমরা নববর্ষটা পালন করতে পারি?' - ' এই ধর কাল বিকেলে যদি আমরা সবাই ধুতি পাঞ্জাবী পরে বেরোই তবে কেমন হয়?' - ' ও বুঝেছি, কাল আমরা নববর্ষ উপলক্ষে নিপাট বাঙালী সেজে বেরোব।' সৌম্য বলে। - ' অ্যায় একদম ঠিক বলেছিস তুই।' এবার ওরা বললো, - ' কিন্তু ধুতি পাঞ্জাবীতো আমাদের নেই, তবে?' - ' আরে বাবা সেতো আমারও নেই। শোন আ...

হালখাতা ।। সেখ জিয়াউর রহমান

  হালখাতা সেখ জিয়াউর রহমান সবারই বুকের বাঁ পকেটে একটা হালখাতা রাখা থাকে সেখানে লেখা -  মিনুর মা'কে চার চামচ নুন, ছোট জা বোনের বিয়েতে মিনাকরা বড়ো নেকলেসটা নিয়ে একমাস পর ফেরত দিয়েছিলো, কেউ লিখে রাখে - "ঠাকুরপো ওই দিকেই তো যাবে তোমার দাদার খাবারটা একটু নামিয়ে দেবে!" আরও কত কী- রামুর ভূষিমাল দোকানে একশো টাকা বাকি সেও হালখাতার কার্ড পাঠিয়েছে,মলিন কাগজে গণেশের ছবি ছাপা, দেবে তো সেই দশ বারোটা বোঁদে একটা নিমকি আর একটা গজা সবই হিসাবে বাঁধা! আচ্ছা মেঘ তো কোনোদিন কার্ড পাঠায়নি! চুড়ুই পাখি,  নাম না জানা ওই ফুলটা সন্ধেবেলা মন ফুরফুরে করে দেয় যে  বা ওই সাঁওতালি বাঁশিওয়ালা! হিসেবের খাতায় কত পাওনা জমা হলো   কে জানে! তোমার-আমার হিসেব খোলা খাতা — পাতা উল্টালেই দেখি কত না-দেওয়া, কত না-পাওয়া এই খাতা কখনো যেন বন্ধ  না-হয়, নইলে কোনো একদিন তুমি খাতা ছুঁড়ে ফেলে বলবে— "আমার জন্যে কী করেছো?" তখন— সমস্ত না-লেখা ভালোবাসা, সব গোপন স্পর্শ, সব নিঃশব্দ পাশে থাকা— হাওয়ায় ভেসে যাবে, আর আমরা দাঁড়িয়ে থাকবো একটি শূন্য হিসেবের সামনে... ................................... সেখ জিয়াউর রহমান...

নববর্ষের সেকাল একাল ।। মিতা ভৌমিক

নববর্ষের সেকাল একাল মিতা ভৌমিক মুছে যাক গ্লানি,ঘুচে যাক সব জীর্ণ স্মৃতির ভার, তবুও মন থেকে মোছে না কিছু জমে থাকা হাহাকার। কিছু হাহাকারে থাকে পুরোনোকে ফিরে পাবার আকুলতা। যেমন প্রতি বছর বৈশাখের প্রথম দিনে হাহাকার জাগে পঞ্জিকার ডানার ওপর নববর্ষের রোদ ঝলসানো ভোরের। পুরোনো দিনগুলো উঁকি দিয়ে যায় স্মৃতির জানলা ধরে। প্রতিবছর ক্যালেন্ডার বদলায়,সময় এগিয়ে যায়, আমরা ধীরে ধীরে যান্ত্রিক মানবে রূপান্তরিত হয়ে উঠি। তবু কোথাও যেনো হৃদয়ের মণিকোঠায় অক্ষয় হয়ে থাকে শৈশবের নববর্ষরা ,রঙিন স্মৃতির ক্যানভাস জুড়ে। সেকালের নববর্ষ মানেই ছিলো ভোরের আলো ফুটতেই নতুন জামা পড়ে ঠাকুরঘরের পূজোতে চন্দন-ধূপের সুঘ্রাণ। "গাছে গাছে ফুল ফুটেছে, নববর্ষের ডাক এসেছে তুমি আমার বন্ধু হও, নববর্ষের কার্ড লও" বাবার এনে দেওয়া নববর্ষের কার্ডগুলোতে এই কবিতার ছড়া লিখে দাদুর হাত ধরে বিলি করতে বেরোতাম বন্ধুদের বাড়ি বাড়ি।পরিবর্তে নিজের সংগ্রহেও জমা হতো বহু নববর্ষের কার্ডের সম্ভার। ক্যালেন্ডারের পাতায় গণেশঠাকুরের মূর্তি আর লাল খেরোর খাতার গন্ধে ম ম করতো পাড়ার দোকানগুলো। মিষ্টির বাক্স আর বগলদাবা করে কিছু...

নববর্ষের একাল সেকাল ।। অয়নী মুখার্জী

নববর্ষের একাল সেকাল  অয়নী মুখার্জী  নতুন নতুন আশা নিয়ে     নতুন বছর আসে, চড়ক আর গাজন শেষে      বৈশাখ মাসে| আগে চলত বিকেল থেকেই    হাল খাতার বহর, নোনতা-মিষ্টির প্যাকেট হাতে      মেতে উঠত শহর| পাড়ার দোকানে মানুষের ঢল     উপচে পড়া ভিড়, নতুন জামা গায়ে চড়িয়ে     চোখ ক্যালেন্ডারে স্থির| এখন সেই উন্মাদনা    হারিয়ে গেছে প্রায়, অনলাইন কেনা-কাটায়      অনেক সাশ্রয় হয়! পাড়ার দোকান ঝিমিয়ে গেছে     লোক হয়না আর, পয়লাতেও বিদেশি পোশাক     চাই ভিনদেশি খাবার|  যুগের সাথে তাল মিলিয়ে    ...