তিনটি কবিতা ।। উজ্জ্বল দত্ত
পাতাল দ্যাখার পুলকি
খুব অল্প বয়স থেকেই
শুনে আসছি পাতালের কাহিনী,
বেশ রোমখাঁড়া ভয়ার্ত
রাক্ষস ক্ষোকসের নানান গল্প;
মনের কৌতূহল মেটানোর জন্য
পাতাল দ্যাখার পুলকি জেগেছে,
মাটির কত মাইল তলায় আছে
সেটার গল্প কেউ শোনায়নি;
গর্ত খুঁড়তে খুঁড়তে বেশ শ্রান্ত কাহিল
গর্তের পর গর্ত খুঁড়েই চলেছি,
একেবারে মানুষধরা ঘুটঘুটে অন্ধকার
কোথাও একডিবরি আলো নেই;
শুনেছি মানুষে গন্ধ পেয়ে নাকি
দৌড়ে আসে রক্তখেকো রাক্ষস ক্ষোকস,
ভয়ের পারদ ধীরে ধীরে উঠছে শরীরের ছাদে
ভয়ক্লান্ত শরীরে চলে যাই অবশেষে ঘুমের দেশে।
কুড়কুড়ে ছাতু
এখন বর্ষার অখণ্ড কীর্তন
ক্লান্ত হয়নি বৃষ্টির পা,
শহর বাজারে নেমেছে কত
কুড়কুড়ে ছাতুর ঢল;
মেঘছোঁয়া দামে বিক্রি হচ্ছে
ছুঁলেই আঙুলে ছ্যাঁকা,
ছাতুর কাছে খাসির মাংসও
লজ্জায় নত হয়ে যায়;
যে রান্নাঘরে ছাতুর প্রবেশ
অন্যান্য পদের ছুটি হয়,
নিম্নবিত্তের পক্ষে ছাতু ক্রয়
হাত বাড়ালেও অসম্ভব;
মধ্যবিত্ত ঘরে ছাতুর রান্নাটা
একেবারে আঙুল চাটা,
বর্ষা এলে ছাতুর গল্প আরম্ভ
বৃষ্টিপাঠ বন্ধ হলে শেষ।
পাঠশালা
পাঠশালার পাশ দিয়ে যখন পার হই
কচিবেলার গল্পগুলো
খেলে মনের পাড়ায়,
ওই বদরাগী অভয় পণ্ডিতের কাহিনী
আজও মনের শ্লেটে
বেশ দাগ কেটে আছে;
খোলামেলা এক দুর্গামেলার প্রাঙ্গণে
পাঠশালাটি খুঁটি গেড়ে
আজও বসে আছে,
এখনও পঙক্তি করে সমবেত কণ্ঠে
ঘুরে ঘুরে খেলাছলে
নামতা পড়ার রেওয়াজ;
আজও অভয় পণ্ডিতের বেতের মার
মনের উন্মুক্ত উঠোনে
বেশ ঘুরঘুর করে,
এই অবেলার তীরে বসে এখন ভাবি
তাঁর বেত মারার জন্য
আজ আমি মানুষ;
পাঠশালাটির পাশ দিয়ে যখন পার হই
তখন মনে সাধ জাগে
সহজপাঠ নিয়ে বসি,
টিফিনে সহপাঠীদের সাথে খুনসুটি করি
অভয় পণ্ডিতের সাথে
দুষ্টুমির গল্প অল্প নয়।

Comments
Post a Comment