Skip to main content

কাব্য : অদৃশ্য অস্তিত্বের দরোজা ।। কবি : নাসির ওয়াদেন ।। আলোচনা : আবদুস সালাম

কবি নাসির ওয়াদেনের 'অদৃশ্য অস্তিত্বের দরোজা'  চলমান জীবনের জীবন্ত চিত্রনাট্য

পাঠপ্রতিক্রিয়া : আবদুস সালাম


       কবি নাসির ওয়াদেন মফস্বলের জীবন ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে তার সাহিত্যের আঙিনায় বিচরণ।

মফঃস্বল শুধু ভৌগোলিক পরিচয় নয়—এটি তাঁর সাহিত্যচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর কবিসত্তার একটি উল্লেখযোগ্য  দিক।তার বৈশিষ্ট্য হলো বিজ্ঞানমনস্কতা। বাস্তবতার সঙ্গে জাদু-বাস্তবতার মিশ্রণ তাঁর কবিতার একটি পছন্দের প্রবণতা।
কবিতাকে শুধু আবেগের বিষয় হিসেবে দেখেননি; কবিতার ভাষা, শব্দনির্মাণ ও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক বোধ তার কবিতায মূল সুর।
ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি দারিদ্র্য, শোষণ, বিশ্বাসভঙ্গ, সামাজিক অসাম্য ও মানুষের অস্তিত্বের সংকট উঠে আসে।  ভাষা ও চিত্রকল্পের ব্যাবহারে নিজস্বতার স্বাক্ষর  রেখে চলেছেন।তার কবিতায় উঠে আসে প্রকৃতি, গ্রামবাংলা, ঋতু, পাখি, আলো-আঁধারি ইত্যাদির সঙ্গে আধুনিক জীবনের সংকট।
[অদৃশ্য অস্তিত্বের দরোজা] কাব্যগ্রন্থটি একটি ভাবনাপ্রধান, প্রতীকনির্ভর ও অস্তিত্বসচেতন এবং পরীক্ষামূলক আধুনিক কবিতার বই। তার বড়ো সাফল্য তিনি কাব্য ভাষা তৈরী করতে পেরেছেন।কবিতা চোখে পড়লেই চিনতে পারি লেখককে।এখানেই কবির বড়ো সাফল্যের দিক।
[অদৃশ্য অস্তিত্বের দরোজা ]সাতাশটি কবিতার জমাট সংকলন।
যেসকল কবিতা ভালো লাগলো তার অনুভূতিটুকু তুলে দিলাম।

কবিতা :-আটকে আছি

. এটি স্পষ্টভাবে অস্তিত্বের বন্ধন ও বুদ্ধির সংকটের কবিতা
“জন্ম আর মৃত্যুর সত্য জেনেও কেন
হলুদপাতার ঝরে থাকা পতনের ঝরণা...”
—জীবন ও মৃত্যুর অনিবার্যতা জেনেও কবির মনে প্রশ্ন আসে। যুক্তি ও জ্ঞানের সংকটে।
শেষের দুটি লাইন—
“আমি যুক্তির কানাগলির চোরাপথে আটকে
আটকে আছি দুর্বোধ্য জ্ঞানের ছুরির ফলায়”
—কবিতার মূল বক্তব্যকে বেশ শক্তিশালী ভাবে ধরে আছে।
জ্ঞান মানুষকে মুক্ত করবে—এই প্রচলিত ধারণার বিপরীতে অতিরিক্ত জ্ঞান ও যুক্তিই কখনও কখনও মানুষকে বন্দি করে—এখানে সেই দার্শনিক বার্তা অজ্ঞাতসারে দিতে চেয়েছেন।

কবিতা:- নদীর কাছে পাহাড়ের কাছে

কবি এখানে প্রকৃতি, প্রেম, স্মৃতি ও বিচ্ছেদের অনুভূতি একসঙ্গে এনেছেন। নদী ও পাহাড় এখানে নিছক প্রাকৃতিক উপাদান নয়—দুটি মানসিক অবস্থারও প্রতীক হিসেবে নিয়ে এসেছেন।
“নদী চোখে জলে লেখা আলোকথা”
অথবা
“নিভৃত যৌবন জুড়ে আসে জোয়ারের পর ভাটা”
—এই চিত্রকল্পগুলিতে প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক অন্তর্রলীন মিশে থাকার বার্তা এনেছেন
নদী ও পাহাড়ের কাছে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা কবিতাটিকে এক ধরনের স্মৃতিমেদুরতায় ডুবিয়ে দিতে চেয়েছেন।

কবিতা . ‘এগিয়ে যাচ্ছি’

এটি তুলনামূলকভাবে দার্শনিক ও আত্মঅন্বেষণমূলক কবিতা।
“কেন যাই সামনের দিকে
পিছনের দিকে নয়”—এই প্রশ্নটি খুব সাধারণ হলেও এর মধ্যে জীবনের গভীর দর্শন আছে। মানুষ কেন অতীতের দিকে না ফিরে ভবিষ্যতের দিকে এগোয়—কবিতাটি সেই প্রশ্নের মধ্যেই যাত্রাকে নিশ্চিত করার অনুভব তুলে ধরেছেন।
“শান্তি কিনতে গেলাম অশান্তির দোকানে”—অসাধারণ এক পরস্পরবিরোধী চিত্রকল্পের অবতারণা করেছেন। কবি যে এখানে কতটা সুচতুর এবং জ্ঞানী তার নিদর্শন অবলীলায় পাঠকের দরবারে মেলে দিয়েছেন।
মহাশূন্যে ঈশ্বরের কাছে”
এখানে কবি অস্তিত্ব বাদীর  মাত্রাকে বড়ো করে দেখিয়েছেন।  ঈশ্বর এখানে কেবল ধর্মীয় সত্তাকে  কবির চূড়ান্ত আশ্রয়ের মাথা নত করতে চান নি বরং, এক অনিশ্চিত প্রশ্নের দিকে ছুঁড়ে দিয়েছেন।

কবিতা:-‘ধোঁয়া রঙের মৃত্যু’

অসাধারণ ও অন্যতম ঘন ও চিত্রকল্পনির্ভর কবিতা।  মৃত্যু সরাসরি মৃত্যুর কথা নয়  বরং ক্ষয়, হারিয়ে যাওয়া, স্মৃতি ও অস্তিত্বের বিলীন হয়ে যাওয়ার প্রতীক।
“প্রসন্ন বিকেল সারাদিন জমে থাকা শেকড়ের স্বাদে”—এই বাক্যবন্ধ প্রয়োগে  তিনি সময়, স্মৃতি ও প্রকৃতিকে একাকার করে দিয়েছেন।
শেষ লাইন টি ও অসাধারণ।
“টুকরো টুকরো আলো কিংবা দু’মুঠো বিষাদে
লেগে আছে ধোঁয়া রঙের মৃত্যু”
এখানে আলো এবং বিষাদকে পাশাপাশি রেখে মৃত্যু সম্পর্কে একটি অস্পষ্ট অথচ অনুভবযোগ্য আবহ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন । কবিতাটি অনেক খানি অস্পষ্ট এবং  পরাবাস্তববাদী ধারণায় প্রবাহিত করতে চেয়েছেন ।  পাঠককে তিনি অনুভব করতে বাধ্য করেছেন।

. কবিতা:-‘বসতবাটি’

নিরাশ্রয়তা, দারিদ্র্য ও অস্তিত্বসংকটের কবিতা।
‘নিজস্ব বসতবাটি নেই’,
‘ঘরদোরটার ছিল না’ কথাগুলির অভিজ্ঞতা শুধু একটি ব্যক্তির নয়; এখানে যেন প্রান্তিক মানুষের সামগ্রিক অনিশ্চিত জীবনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

ঠাম ছিল, ঠাঁই ছিল না তাদের জন্যে”
বিপরীতার্থক চিত্রকল্পের অবতারণা করেছেন। পৃথিবীতে সৌন্দর্য আছে, অথচ মানুষের থাকার জায়গা নেই—এই বৈপরীত্য  কবিতাটি গভীরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

কবিতা:- "মাটির শপথ"

বিভেদ নাই, কর্ম আছে:* 
"তোমাতে আমাতে তফাৎ বিবর্ণ ধোঁয়াশা ধর্মের
এস হাত দিয়ে স্বপ্ন দেখি। অযথা ঘুম ঘোরে স্বপ্নের কথা বলেন নি। কর্মের মাধ্যমে স্বপ্নের অবতারণা করেছেন।
হাতদুটো শুধু কর্মের" 
কবি বলছেন ধর্ম-বর্ণের তফাৎ সব "বিবর্ণ ধোঁয়াশা"। বাস্তবের মাটিতে আমরা সবাই এক। স্বপ্ন দেখতে হবে, কিন্তু হাত দিয়ে, কাজ করে।
  "রাত্রি আঁধার, চারদিকে ডাইনীদের দাপাদাপি  রাতের শেষ, ভোরের আলো, আসে না একাকী" 
সমাজে অন্যায়, কুসংস্কার "ডাইনি"র মতো দাপাচ্ছে। কিন্তু ভোর মানে পরিবর্তন, সেটা একা একা আসে না।  সম্মিলিত জনগণের যোগদানই একমাত্র সম্ভব।

"মাটির শপথ, আজন্ম রয়েছি হেথা
প্রপিতামহের মাটির অঙ্গে শেষ পর্যন্ত ছুঁয়ে রবে মাথা।" 
" জন্ম থেকে মৃত্যু — এই মাটিতেই থাকা। পূর্বপুরুষের মাটিকে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আঁকড়ে থাকা। এটাই শেকড়ের টান।
ধর্মের বিভেদ ভেঙে, অন্ধকারের বিরুদ্ধে লড়ে, কাজের মাধ্যমে স্বপ্ন দেখার কথা বলা হয়েছে। কবি এখানে মননশীল অনুভব সুক্ষ্ম  ভাষায়  তুলে এনেছেন।

কবিতা:-‘আলোর দেওয়ালে দরজা নেই’

   শিরোনামটিই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আলো সাধারণত মুক্তির প্রতীক ।অথচ সেই আলোর দেওয়ালে দরজা নেই ।
মুক্তির আকাঙ্ক্ষা আছে, কিন্তু প্রবেশের পথ অনিশ্চিত। ‘বেনজির মৃত্যু-মিছিল’, ‘অনিশ্চিত মেঘ’, ‘ভয়’, ‘শৈশবের মাঠ’—এসব চিত্রকল্পের মধ্যে ব্যক্তিমানুষের স্মৃতি ও বৃহত্তর অস্তিত্ব-সংকটকে পাশাপাশি এসে দাঁড় করিয়েছেন অসাধারণ দক্ষতায়।
কবিতা :-ত্রিশূল
‘ত্রিশূল’ কবিতায় ধর্মীয় প্রতীকের ব্যবহার সবচেয়ে স্পষ্ট। ত্রিশূল, ত্রিনয়ন, তেত্রিশ কোটি দেবতা, মন্ত্র, মঙ্গলকারী, পাপ, হিংসা, লোভ—এসবের মধ্য দিয়ে কবি ধর্মের বাহ্যিক দিকে আঙুল তুলেছেন। মানুষের অন্তর্গত আত্মা অহংকার  ক্রমে নৈতিকতাকে  প্রশ্ন চিহ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছেন।
   বিশেষত “অন্ধত্ব” ও “অহংকার”-এর বিরুদ্ধে কবিতাটির অবস্থান মানবমুক্তির  প্রতীক হিসেবে দেখা দিয়েছে ।এখানে ধর্মীয় প্রতীককে মানবিক মূল্যবোধের আলোয় পুনর্বিবেচনা করার চেষ্টা করেছেন। এখানেই কবিতাটির দৃঢ় দিক লক্ষণীয়। সমাজের মুখে যেন সজোরে একটা থাপ্পড় দিয়ে তাকে সচেতন হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।

কবিতা :-নভেম্বরের ভালোলাগার মাস’

        প্রেমের সঙ্গে ইতিহাস ও সমকাল মিশে গেছে। শহীদের অসমাপ্ত কাজ, শ্রমিকের রক্ত, আগুনের উত্তাপ, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ—সবকিছু মিলিয়ে ভালোবাসা এখানে নিছক ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; তা হয়ে ওঠে সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং মানবতার আকাঙ্ক্ষা।
“তিনভাগ কালো আর একভাগ আলো”—এই চিত্রকল্পটি কবিতাটির সমগ্র দর্শনকে যেন এক লাইনে ধারণ করেছে।কবির দার্শনিক স্বত্তা এখানে প্রকট আকার ধারণ করেছে।

কবিতা:-‘আগুন পাখির ডানা’

এখানে কবি সময়, স্মৃতি, প্রেম ও মানবতার মধ্যে একটি সেতুবন্ধনের আকাঙ্ক্ষা আছে। ‘আগুন পাখি’ এখানে ধ্বংসের পাশাপাশি পুনর্জন্ম ও আলোরও প্রতীক। “এক আলো থেকে অন্য আলোকে গমন”—এই ভাবনাটি কবির ইতিবাচক ও মানবিক বিশ্বাসকে দৃঢ়ভাবে  প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন । “পাখির ডানা”দিয়ে কবি স্বাধীনতা আকাঙ্ক্ষা কে পুষে রাখার বার্তা দিয়েছেন। এটি নিছক সৌন্দর্যের কবিতা নয়। এতে কবি অন্ধকার ভেদ করে উড়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন অজান্তেই।

কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি  কবিতায় কবি নিজস্ব কাব্যভাষা ও চিন্তার একটি স্পষ্ট  মানচিত্র তৈরীর প্রবণতা দেখানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁর কবিতায় প্রচলিত কাব্যরীতির বাইরে গিয়ে প্রতীক, চিত্রকল্প ও আপাত-বিচ্ছিন্ন শব্দবন্ধের মাধ্যমে বক্তব্য নির্মাণের প্রবণতা পুষে রেখেছেন।
নাসির ওয়াদেনের এই কবিতাগুলির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য আমার চোখে পড়ে তা হলো “চিত্রকল্পের ভিতর দিয়ে বক্তব্য নির্মাণ”। তিনি সরাসরি বলেন না—ইঙ্গিত করেন। তাঁর কবিতায় প্রকৃতি, দারিদ্র্য, প্রেম, মৃত্যু, ঈশ্বর, স্মৃতি, যুক্তি ও অস্তিত্ব—সবকিছু পরস্পরের সঙ্গে মিশে যায়।
আর একটি বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়—প্রচলিত সুন্দর ও মসৃণ কবিতার ভাষার বদলে তিনি অনেক সময় খসখসে, অপ্রত্যাশিত এবং ধাক্কা-দেওয়া শব্দবন্ধ ব্যবহার করেন। এটি তাঁর কাব্যভাষার স্বাতন্ত্র্য। প্রচলিত ছন্দ-অলংকারের বাইরে মুক্ত, চিত্রকল্পনির্ভর ও ‘অ্যান্টি-পোয়েট্রি’ ভাবনার প্রতি তাঁর আগ্রহের স্পষ্ট ইঙ্গিত লক্ষ্য করি।
কাব্যকৌশল হয়, তা গ্রহণযোগ্য; কিন্তু কয়েকটি জায়গায় সামান্য শব্দ-সংযম ও নির্মাণের শৃঙ্খলা কবিতাগুলিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
সব মিলিয়ে, অদৃশ্য অস্তিত্বের দরোজার কবিতাগুলিকে আমি সহজপাঠ্য লিরিকের কবিতা বলব না; বরং এগুলি ভাবনাপ্রধান, প্রতীকনির্ভর, অস্তিত্বসচেতন এবং পরীক্ষামূলক আধুনিক কবিতা।
কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতা নতুন প্রজন্মের কাছে দলিল হিসেবে পরিগণিত হবে।



Uploaded Image

প্রথম প্রকাশ বইমেলা-২০২৬
পূর্ণ প্রতিমা প্রকাশনী, ৯২ জাফরপুর রোড ,কলকাতা ১২২
কবির মোবাইল নম্বর: 7908327569


 

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতা ।। রাতের আকাশে ।। ইমরান খান রাজ

রাতের আকাশে  ইমরান খান রাজ  রাতের আকাশেও এক নীরব মায়া উড়ে যায় কেউ দেখতে পায়, আর কেউ পায় না।  যারা দেখতে পায়, তাঁরা ছুঁতে চায়  কিন্তু সবাই তো ছুঁতে পারে না।  রাতের আকাশেও উড়ে যায় মেঘ আর বকপক্ষী  একটি শুধু ভেসে বেড়ায় সীমাহীন পথে,  আরেকটি উড়ে চলে গন্তব্যে, প্রিয়জনের নিকটে।  ================  ইমরান খান রাজ   সাতভিটা, নারিশা, দোহার-ঢাকা ১৩৩২।

কবিতা ।। রক্ত গোলাপ ।। অমিত কুমার রায়

রক্ত গোলাপ  অমিত কুমার রায় এস অতুলপ্রসাদী গান গাই  'আ - মরি বাংলা ভাষা,  এসো, প্রতুলের গাওয়া গান গাই  'আমি বাংলার গান গাই  আমি বাংলায় গান গাই....." যারা মাতৃভাষায় কলঙ্ক লেপে উল্লাসে উঠেছে ক্ষেপে উপেক্ষা বাতাসে ভাসিয়ে দাও প্রতিবাদ ঝড় তীব্রতর হোক  তাদের বুকের ভেতর অশ্রদ্ধা উঠুক কেঁপে। এসো বাংলার ঘরে বাংলা স্বরে  বাংলা ভাষার ডিঙ্গা ভাষাই।  এসো বাংলার পথে বাংলার সত্য  ব্রতে লালনের গান গাই  লালনের গান গাই। এসো ফাগুনের কবি বৈশাখী রবি  আগুন শহীদ পাখি  এসো আগুনের ফুল ফাগুনের ফুল  আকাশের তারা আখি। ভাসে ভাষা ফুল মানবতাব গুল  রক্ত গোলাপে রাখী রক্ত গোলাপে ঢাকি।   ================== --- অমিত কুমার রায় হাওড়া  পশ্চিমবঙ্গ  ভারত

ছড়া ।। ভোর হয়েছে খুকুমণি ।। বিদ্যুৎ মিশ্র

ভোর হয়েছে খুকুমণি  বিদ্যুৎ মিশ্র  ভোর হয়েছে খুকুমণি জাগলো সারা পাড়া  ফুল ফুটেছে বাগান জুড়ে হাসছে দ্যাখো তারা। মৌমাছিরা ভিড় জমিয়ে করছে খেলা এসে  তুমিও ঠিক মিশে যেও ফুল পরীদের দেশে।  দেখবে কেমন সোনালী রোদ ঝরছে পাহাড় বনে  শীতল বাতাস লাগবে গায়ে খুশির পরশ মনে।  ভোরের পাখি তখন থেকে করছে ডাকাডাকি  এবার যদি না ওঠো সব থাকবে পড়ে বাকি।  ভিড় জমেছে গাঁয়ের হাটে দেখতে যাবে যদি  পথের মাঝে মিলবে দেখা ছোট্ট একটা নদী।  সোনালী রোদ নদীর জলে করছে কেমন খেলা  উপচে ওঠে ঢেউগুলো তার ছুঁড়লে নাকি ঢেলা।  আঁকাবাঁকা মেঠো পথে থাকবে শিশির ঝরে  এমন সময় কেমন করে থাকবে তুমি ঘরে। ============= বিদ্যুৎ মিশ্র  কাশীপুর, পুরুলিয়া।

কবিতা ।। সাইফুল ইসলাম

  বিয়োগফল শূণ্য সাইফুল ইসলাম  অর্ধশতক নাঙাপায়ে হেঁটে বহু পথ শূন্য রহিল হিসাবখানি পুরিল না মনোরথ। উত্তাল সিন্ধু আঘাতে আঘাতে জীর্ণ করেছে তরী আপন করি তপ্তবালু উটের লাগাম ধরি। রক্তে রাঙা চরণ দুটি কন্টক দংশনে সকল বাধা অনায়াসে লঙ্ঘি দৃঢ় পণে। বসতবাটি সকল ছাড়ি হয়েছি যাযাবর কেবা পুত্র,কেবা কন্যা সকল করেছি পর। লক্ষ্য শুধু সামনে পানে ছিনিয়ে আনি জয় পর্বতসম সংকল্প মোর হৃদয় অকুতোভয়। উত্তর -দক্ষিণ এক করেছি স্বর্ণ আকর আশে ভাগ্য বিরুপ তাই বলে কী সবই জলে ভাসে। সারাজীবন যোগের অঙ্কে হিসাব টেনে এসে শেষের পাতায় বিযোগ করি শূণ্য পেলাম শেষে। -----------------------------------------------------------------     বর্দ্ধনপাড়া,বীরভূম।

খোলাকথা ।। টান ।। মনোরঞ্জন ঘোষাল

টান মনোরঞ্জন ঘোষাল মহাকর্ষ সব কিছুই টানে। আর তড়িৎ বা চুম্বকের দুটি বিপরীত মেরু পরস্পরকে টানে। এই টান তোমার নগন‍্য মনে হয়। দুটি বিপরীত লিঙ্গের জীবের কাছে। তবে অবশ‍্য তাদের প্রাপ্ত বয়স্ক হতে হবে। এর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ আমার চোখের সামনে ঘটে গেল। আমার ঘরে আমাদের সঙ্গে কটা পশু পাখির বাস আছে। তাদের মধ‍্যে কটা মোরগ মুরগি রয়েছে। একটা মজার ব‍্যাপার হল, এক সঙ্গে একাধিক মুরগি একটু কামড়া কামড়ি করে থাকলেও। এক সঙ্গে একাধিক মোরগ কখনোই থাকতে পারে না। সঙ্গে সঙ্গে তারা মারপিট শুরু করবে। এবং আমৃত‍্যু পর্যন্ত চলবে সেই মারামারি। একজন অপরের থেকে আলাদা না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ দ্বন্দ থামে না।  ঝামেলা শুরু হল আমার ঐ খানে। এইবার তিনটি মুরগি হলে কী হবে, সঙ্গে জন্ম নিল দুটি মোরগ। তারা যখন ছোট ছিল পশু জন্তুদের মত দুই ভাইয়ে মিলে লড়াই লড়াই খেলা খেলতো। তবে সে খুব বেশি সময়ের জন‍্য নয়।  যখন বড় হল। মানে প্রাপ্ত বয়স্ক। তখন ওদের সেই ভাই ভাই সম্পর্ক কেমন যেন শত্রুতাতে পরিণত হল। তা দেখে আমি তাদের আলাদা রাখার ব‍্যবস্থা নিলাম। একটি মোরগ আর তার সঙ্গে মুরগি তিনটিকে রেখে দিলাম  নীচের খোঁয়াড়ে। আর শুধু একটি মোরগকে রে...

কবিতা ।। মেহেদি হাসান

ভুল ছন্দ তুমি আমার জীবনের বিভীষিকাময় অন্ধকার তুমি আমার হৃদয়ের বিক্ষত হওয়া তলোয়ার। তুমি আমার অশ্রুসিক্ত আঁখির বেদনা মুছনের জল; সেই তুমিই আবার, কান্না ঝরার লুকায়িত গোপন স্থল। তুমি আমার হাসির মাঝে লুকিয়ে থাকা বেদনা তুমি আমার যাপিত জীবনের নিংড়ানো যন্ত্রণা। তুমি আমার হারিয়ে যাওয়া সুখের গড়িয়ে পড়া আকাশ; সেই তুমিই আবার,শোকের দাবানলে মিলিত তপ্ত বাতাস। তুমি আমার গান গাওয়া পাখির সুর হারানো তাল তুমি আমার বিচিত্র জীবনের মধু হয়ে আসা মাখাল। তুমি আমার ছিদ্র হওয়া দেহের রক্ত দেওয়া প্রাণ; সেই তুমিই আবার,আত্মা হারানোর নোংরা পঁচা ঘ্রাণ। তুমি আমার বর্ষাকালের স্থল ডুবানো বর্ষণ তুমি আমার ইংরেজি মাসের চৌঠা বছরের ঘর্ষণ। তুমি আমার হঠাৎ উদিত হওয়া ভালো লাগার সেই চন্দ্র; না,না! তুমিই আমার গুপ্ত হৃদয়ে,মিশে থাকা ভুল ছন্দ। =======০০০====== ঠিকানা- জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া,উপজেলা-আশুগঞ্জ, গ্রাম-তারুয়া। জাতীয়তা: বাংলাদেশি মোবা: ০১৭২৪০৫৮৭০০ সহযোগিতা কাম্য এই সংখ্যার সমস্ত লেখা একত্রিত করে একটি সুসজ্জিত ইবুক তৈরি করা হয়েছে। আপনি যদি সংগ্রহ করতে আগ্রহী হন তাহলে ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ নম্বরে ন্যুনতম ১০ টাকা google pay, phon...

কবিতা ।। রান-মেশিন ।। আনন্দ বক্সী

রান-মেশিন আনন্দ বক্সী  গৃহবধূ মাতা তাঁর কোহলি সরোজ  পিতা প্রেম রাখতেন যাঁর সব খোঁজ, বড় দাদা-দিদি যাঁর ভাবনা-বিকাশ  শিশুকাল থেকে পায় প্রতিভা প্রকাশ।  যাঁর ব্যাটে মজে আজ গোটা ধরাধাম  দিল্লিতে বাস তাঁর 'চিকু' ডাকনাম।  মজা দেন খেলে তিনি রাত হোক দিন  মাঠে নেমে হয়ে যান রানের মেশিন।  এ যুগের তিনি এক সেরা ব্যাটধারী  বিরাট কোহলি ভাই নামটা যে তাঁরই। তিন বছরেই নেয় ব্যাট হাতে তুলে  বাবার বোলিংয়ে সে খেলে প্রাণ খুলে। পিতার নয়ন তাকে চিনলো খুঁটিয়ে  প্রতিভা রয়েছে তাঁর মধ্যে লুকিয়ে। মানুষ করতে তাঁকে মনের মতন  সেই মতো পিতা তাঁর নিলেন যতন।  দিল্লির অ্যাকাডেমি হলো যে ঠিকানা  সুপ্ত প্রতিভা তাঁর মেলে দিলো ডানা। রাজকুমারের কাছে নিলেন তালিম বের করে আনলো সে ভিতরের ক্রিম।  পরিপূর্ণতা পেল ক্রিকেট জীবন  বড়ো খেলোয়াড়রূপে চিনলো ভুবন।  দিল্লির হয়ে তিনি অপরূপ খেলে  ঘরোয়া ক্রিকেটে দেন জোর সাড়া ফেলে। প্রয়াত হলেন পিতা বেশ তাড়াতাড়ি  আর্থিক সংকট দেখা দিলো ভারি।  তাঁর কাঁধে এসে গেল পরিবার ভার  ক্রিকেটের প...

কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার

শমনচিহ্ন দীপঙ্কর সরকার  আমার ও তো ভয় হয় আঁতকে উঠি  শিয়রে শমনচিহ্ন এড়াই কী করে!  মৃত্যু অমোঘ জানি দুয়ারে এলে কী দিয়ে আপ্যায়ন জানি না সবিশেষ।  কেউ কি শিখিয়ে দেবে শেখাবে পাবে সে যথাযথ নগদ পারিশ্রমিক।  আমাকে বিশ্বাস কি ভরসা কোথায় সে এক প্রশ্ন বটে তা ভেবে আমিও অধীর।  আসলে তুমিও জানোনা, জানো না  তোমরাও, জানে এক সাবিত্রী যে কিনা  ফিরিয়েছিল সত্যবানের প্রাণ। একা সেই  জানে দুয়ারে মৃত্যু এলে কীভাবে আপ্যায়ন।  ================ দীপঙ্কর সরকার  কাঁঠাল পুলি  (সিংহের হাটের কাছে)  চাকদহ  নদীয়া  ৭৪১২২২

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। মাসিক নবপ্রভাত ওয়েবম্যাগ ।। ১০২তম সংখ্যা ।। ভাদ্র ১৪৩২ আগস্ট ২০২৬

সূ ~ চি ~প~ত্র ==================== প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার-স্মৃতিকথা  আকাশের রহস্য থেকে বৈজ্ঞানিক বোধ: জ্যোতিষ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের সন্ধিক্ষণে ।। উৎপল সরকার সুকান্ত ভট্টাচার্য : কবিতার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণ বিপ্লবী ।। তানভীর আহমেদ হৃদয় নারী জাগরণের দিশারী বেগম রোকেয়া ।। আবু রাইহান জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ণ আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির   স্থানীয়  কিছু কথ্যশব্দ, উচ্চারণ, বাগ্‌ধারা ইত্যাদি ।। অরবিন্দ পুরকাইত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লা আল আদীব সূত্র থেকে বৃহৎ ইতিহাস কার্লো গিনজবার্গ, মাইক্রোহিস্ট্রি জানার নতুন পদ্ধতি ।। শিবাশিস মুখার্জি ফ্রুক্টোজ এবং ক্যানসার বিস্তার ।। অনিন্দ্য পাল বিবেকের অভিষেকে মানবধর্মের নন্দনভূমি ।। মেশকাতুন নাহার জনাই আর মালদহের মনোহরা ।। সোনালী সরকার অতিরিক্ত সাবান মাখা কি স্বাস্থ্যকর ।। গৌতম সমাজদার ফুচকা থেরাপি ।। অরিন্দম পাল স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম বিভিন্ন পত্রিকার লেখা-আহ্বান বিষয়ক ভাবনা ।। মাখনলাল প্রধান পুঁটুর স্মৃতিচারণা ।। মৌমিতা চ্যাটার্জী  দুরন্ত ও দুর্দান্ত শৈ...

কবিতা ।। রাতের আকাশে ।। ইমরান খান রাজ

রাতের আকাশে  ইমরান খান রাজ  রাতের আকাশেও এক নীরব মায়া উড়ে যায় কেউ দেখতে পায়, আর কেউ পায় না।  যারা দেখতে পায়, তাঁরা ছুঁতে চায়  কিন্তু সবাই তো ছুঁতে পারে না।  রাতের আকাশেও উড়ে যায় মেঘ আর বকপক্ষী  একটি শুধু ভেসে বেড়ায় সীমাহীন পথে,  আরেকটি উড়ে চলে গন্তব্যে, প্রিয়জনের নিকটে।  ================  ইমরান খান রাজ   সাতভিটা, নারিশা, দোহার-ঢাকা ১৩৩২।

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

কবিতা ।। রক্ত গোলাপ ।। অমিত কুমার রায়

রক্ত গোলাপ  অমিত কুমার রায় এস অতুলপ্রসাদী গান গাই  'আ - মরি বাংলা ভাষা,  এসো, প্রতুলের গাওয়া গান গাই  'আমি বাংলার গান গাই  আমি বাংলায় গান গাই....." যারা মাতৃভাষায় কলঙ্ক লেপে উল্লাসে উঠেছে ক্ষেপে উপেক্ষা বাতাসে ভাসিয়ে দাও প্রতিবাদ ঝড় তীব্রতর হোক  তাদের বুকের ভেতর অশ্রদ্ধা উঠুক কেঁপে। এসো বাংলার ঘরে বাংলা স্বরে  বাংলা ভাষার ডিঙ্গা ভাষাই।  এসো বাংলার পথে বাংলার সত্য  ব্রতে লালনের গান গাই  লালনের গান গাই। এসো ফাগুনের কবি বৈশাখী রবি  আগুন শহীদ পাখি  এসো আগুনের ফুল ফাগুনের ফুল  আকাশের তারা আখি। ভাসে ভাষা ফুল মানবতাব গুল  রক্ত গোলাপে রাখী রক্ত গোলাপে ঢাকি।   ================== --- অমিত কুমার রায় হাওড়া  পশ্চিমবঙ্গ  ভারত

ছড়া ।। ভোর হয়েছে খুকুমণি ।। বিদ্যুৎ মিশ্র

ভোর হয়েছে খুকুমণি  বিদ্যুৎ মিশ্র  ভোর হয়েছে খুকুমণি জাগলো সারা পাড়া  ফুল ফুটেছে বাগান জুড়ে হাসছে দ্যাখো তারা। মৌমাছিরা ভিড় জমিয়ে করছে খেলা এসে  তুমিও ঠিক মিশে যেও ফুল পরীদের দেশে।  দেখবে কেমন সোনালী রোদ ঝরছে পাহাড় বনে  শীতল বাতাস লাগবে গায়ে খুশির পরশ মনে।  ভোরের পাখি তখন থেকে করছে ডাকাডাকি  এবার যদি না ওঠো সব থাকবে পড়ে বাকি।  ভিড় জমেছে গাঁয়ের হাটে দেখতে যাবে যদি  পথের মাঝে মিলবে দেখা ছোট্ট একটা নদী।  সোনালী রোদ নদীর জলে করছে কেমন খেলা  উপচে ওঠে ঢেউগুলো তার ছুঁড়লে নাকি ঢেলা।  আঁকাবাঁকা মেঠো পথে থাকবে শিশির ঝরে  এমন সময় কেমন করে থাকবে তুমি ঘরে। ============= বিদ্যুৎ মিশ্র  কাশীপুর, পুরুলিয়া।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতা ।। সাইফুল ইসলাম

  বিয়োগফল শূণ্য সাইফুল ইসলাম  অর্ধশতক নাঙাপায়ে হেঁটে বহু পথ শূন্য রহিল হিসাবখানি পুরিল না মনোরথ। উত্তাল সিন্ধু আঘাতে আঘাতে জীর্ণ করেছে তরী আপন করি তপ্তবালু উটের লাগাম ধরি। রক্তে রাঙা চরণ দুটি কন্টক দংশনে সকল বাধা অনায়াসে লঙ্ঘি দৃঢ় পণে। বসতবাটি সকল ছাড়ি হয়েছি যাযাবর কেবা পুত্র,কেবা কন্যা সকল করেছি পর। লক্ষ্য শুধু সামনে পানে ছিনিয়ে আনি জয় পর্বতসম সংকল্প মোর হৃদয় অকুতোভয়। উত্তর -দক্ষিণ এক করেছি স্বর্ণ আকর আশে ভাগ্য বিরুপ তাই বলে কী সবই জলে ভাসে। সারাজীবন যোগের অঙ্কে হিসাব টেনে এসে শেষের পাতায় বিযোগ করি শূণ্য পেলাম শেষে। -----------------------------------------------------------------     বর্দ্ধনপাড়া,বীরভূম।