শীতের ছুটির শেষে
দীপঙ্কর সাহা
এক
ছুটির পরে
সময়টা
যতদুর মনে আছে উনিশশো ষাট বা একষট্টি সালের প্রথম দিক, দার্জিলিংয়ের কাছে
ঘুমের নিকটবর্তী এক রেসিডেন্সিয়াল স্কুল। লম্বা শীতের ছুটির শেষে সদ্য
স্কুল খুলেছে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়।
সে আমলে স্কুল অনেক ছোট ছিল, মাত্র শ দুয়েক ছাত্র নিয়ে স্কুল। শীতও পড়তো জবরদস্ত, আজকের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
স্কুল
ছোট হলেও নিয়ম নিষ্ঠায় বেশ কঠোর ছিল। স্কুল বিল্ডিং এর কাছেই ছাত্রদের
থাকার হস্টেল, আধা কিলোমিটার দুরে গুটিকয়েক শিক্ষকদের কোয়ার্টার।
ধারেকাছে আর কিছুই নেই, না দোকানপাট না হোটেল, তবে চারদিকে গাছপালার অভাব
নেই। ফাকা জায়গা ভরাট করে রেখেছে পাইন ইত্যাদি বৃক্ষে।
স্কুলের
নন-টিচিং স্টাফদের দেওয়া হতো ব্যাচেলর্স একোমোডেশন, হস্টেল-বিল্ডিং এর
একতলায়। শিক্ষকদের ছোট ছোট কোয়ার্টার দেওয়া হলেও বেশির ভাগই শিক্ষকই একা
বসবাস করতেন, এই নির্জন জায়গায় ফ্যামিলি সচরাচর আনতেন না।
যে সময়ের কথা বলছি, তখন শিক্ষকদের মধ্যে একমাত্র প্রিন্সিপাল বা হেডস্যার সুবিমল কানুনগোই সপরিবারে বসবাস করতেন।
সপরিবারে
অর্থে স্ত্রী সুজাতা ও শিশুপুত্র সন্দীপ বা দীপুকে নিয়ে। সন্দীপের বয়স
মাত্র তিন, দেবশিশুর মতো চেহারা। স্বভাবে লাজুক, ঘরে সামান্য দুরন্ত হলেও
বাড়ির বাইরে অত্যন্ত শিষ্ট স্বভাবের। বেশি বয়সের সন্তান, তাই বাবা-মায়ের
নয়নের মণি।
সুজাতার
পিতা ভুবনেশ্বর বাবু শিলিগুড়ি পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার। থাকেন
শিলিগুড়ির কদমতলায়। স্কুলের ছুটিছাটায় সুজাতা সপুত্রক বাপের বাড়ি চলে
আসে। সদা কর্মে ব্যাস্ত সুবিমল বাবুর অবশ্য কোনও অসুবিধা নেই, রুরু তামাং
তো আছেই। রুরু ওদের সর্বক্ষণের কাজের লোক, সকালে আসে সন্ধ্যায় বাড়ি যায়।
শীতের
শুরুতে এ্যানুয়াল পরীক্ষা শেষ হতেই লম্বা ছুটি পড়ে যায় স্কুলে, ছুটি
শেষ হতেই পরীক্ষার ফল ঘোষণার রেওয়াজ। পরীক্ষার খাতা দেখা ছাড়াও স্কুলের
নানান রকমের ছুটকো কাজকর্ম থাকে, সুবিমল বাবুর তাই ছুটি নেই।
বাকি
শিক্ষকদের কেউই অবশ্য থাকেন না, সবাই তো এইরকম ছুটির প্রতিক্ষায় থাকেন,
তারা পরীক্ষার খাতাপত্র সহ বাড়ি চলে যান ছুটির শুরুতেই।
এবছর
শীতও পড়েছে জাঁকিয়ে, সুবিমলের জন্য চিন্তা হলেও কিছু করার উপায় নেই
সুজাতার। সে আমলে তো টেলিফোনের তেমন সুবিধা ছিল না, ট্রাঙ্ককল বুক করে
ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকো, তারপর হ্যালো হ্যালো করতে করতেই লাইন যাবে
কেটে।
মাঝ বয়সী রুরু
অত্যন্ত কর্তব্য পরায়ণ এবং কখনও কাজে কামাই করতে দেখা যায়নি তাকে।
চিন্তা সেজন্য নয়, এবার যে প্রচন্ড ঠান্ডা পড়েছে, সেই শীতে কেমন আছেন
সুবিমল, সুজাতার চিন্তা তাই নিয়ে।
শীতের
শেষে স্কুল খোলার সময় হলে সুজাতা ফিরলো সুবিমলের কাজের জায়গায় অর্থাৎ
ঘুমে। ফিরে দেখে কাজ-পাগলা সুবিমল বহাল তবিয়তে তার কাজে ডুবে আছেন।
একতলা
ছোট কোয়ার্টার, সামনে এক প্রশস্ত বাগান। সুজাতার বাগানের শখ, বিকেল
বেলায় বাগানের কাজ করতে করতে কখন যে সন্ধ্যা নেমে এসেছে, খেয়াল করে নি।
পাহাড়ী জায়গায় সন্ধ্যা নামেও ঝপ করে। মুহুর্তে অন্ধকার নেমে আসে।
এমন
সময় বাগানের গেটে এক আগন্তুক এসে হাজির হল, রামলাল ছেত্রী। রামলাল
স্কুলে পিওনের চাকরি করে, আঠারো উনিশ বছর বয়স, রোগা ছিপছিপে চেহারা, মুখে
সব সময় একটা অম্লান হাসি লেপ্টে আছে।
রামলাল
দীপু বা সন্দীপকে খুব ভালোবাসে, দীপুও রামলাল এলে খুব খুশি হয়। রামলাল
দীপুর সাথে নানা রকম খেলাধুলা করে আর হাতে সময় নিয়ে এলে দীপুকে বেড়াতে
নিয়ে যায়।
- কি রে রামলাল, কেমন আছিস ? অনেক দিন পরে এলি। কিন্ত আজ তো সন্ধ্যা হয়ে গেছে, দীপুর তো পড়তে বসার সময় হয়ে এলো।
- না, আজ আর খেলবো না। আমি শীঘ্রই এসে নিয়ে যাবো দীপুকে।
- ঠিক আছে, আজ তাহলে যা, তুই এসেছিস, বুঝলেই দীপু আবার বায়না ধরবে খেলতে হবে।
রামলাল চলে যায়, দেখতে দেখতে দুরের অন্ধকার রাস্তায় ওর অপসৃয়মান অবয়বটা মিলিয়ে যায়।
রাতে খাওয়ার টেবিলে বসে সুজাতা আর সুবিমল কথা বলছিল, দীপু ততক্ষণে ঘুমিয়ে পড়েছে।
- জানো, আজ সন্ধ্যার পর রামলাল এসেছিল।
- কি যা তা বলছো? রামলাল কোত্থেকে আসবে? ধনরাজ আসে নি তো? অন্ধকারে তুমি বোধহয় ভুল দেখেছো!
-
ধনরাজ না রামলালই এসেছিল। আমি রামলালকে চিনতে ভুল করবো! ধনরাজ প্রয়োজন
ছাড়া কবার এসেছে এই বাড়িতে? আর রামলাল সময় পেলেই দীপুর সাথে খেলতে আসে,
ওকে বেড়াতে নিয়ে যায়! আমি রামলালকে চিনতে ভুল করবো?
সুবিমল
সুজাতাকে কি যেন বলতে গিয়েও বললেন না, সুজাতা হয়তো ভয় পেয়ে যাবে।
নিঃশব্দে খাওয়া শেষ করে উঠে পড়লেন। পরে এক সময় সব ঘটনা গুছিয়ে বলতে হবে
সুজাতাকে।
দুই
শীতের ছুটিতে
সুবিমল
কি এমন কথা সুজাতাকে বলতে গিয়েও বললেন না। সুজাতার ভয় পেয়ে যাওয়ার
কারণই বা কি, জানতে হলে আমাদের কিছুটা সময় পিছিয়ে যেতে হবে।
আগেই
বলেছি এবার শীতে জবরদস্ত ঠান্ডা পড়েছিল। ছুটির মাঝখানে এখানে লোক বলতে
সুবিমল, রামলাল, ধনরাজ, ড্রাইভার রঘু সিং, আর মাত্র দুই একজন। বাকি সব লোক
ছুটিতে বাড়ি চলে গেছে। স্কুলের বাস সব প্রাইভেট অপারেটররা চালায়। ছুটির
মাঝে এই অঞ্চলে যানবাহন বলতে স্কুলের একটি জীপগাড়ি মাত্র ভরসা।
সময়টা
জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ, সেদিন সকাল থেকেই তুষারপাত হয়ে চলেছে।
শীতে বরফ জমে রাস্তাঘাট সব বন্ধ। অন্তত এক থেকে দেড় ফুট বরফে ঢাকা সব
রাস্তা।
রাত তখন সাড়ে
নয়টা বেঁজে গেছে, সুবিমল রাতের খাওয়া সেরে, কম্বল মুড়ি দিয়ে পরীক্ষার
খাতা দেখতে ব্যাস্ত, এসময় সদর দরজার কড়া নাড়ার শব্দ বেঁজে উঠলো। এতো
রাতে কে এলো ! আগন্তুক অধৈর্য্য ভাবে কড়া বাঁজিয়ে চলেছে।
- কে ?
সুবিমল দরজা খুলে দেখেন ডবল কম্বল মুড়ি দিয়ে ধনরাজ শীতে কাঁপছে।
- কি হয়েছে ধনরাজ?
- স্যার রামলালের অবস্থা খারাপ। জ্বর একশো চার, ভুল বকছে, সারা শরীরে কাঁপুনি। এখন কি করি ?
দু'দিন ধরে রামলালের জ্বর, আশেপাশের মধ্যে কোনও ডাক্তার নেই। সুবিমল রামলালকে প্যারাসিটামল দিচ্ছিলেন, জ্বর ওঠানামা করছিল।
- ওকে এক্ষুনি হসপিটালে ভর্তি করা দরকার, রঘু সিং কোথায়?
- রঘু সিংকে রামলালের কাছে বসিয়ে তো আমি এলাম।
- চল আমি যাচ্ছি, একটা ব্যাবস্থা তো করতে হবে!
শীতের
কাঁপুনি ও পথের বরফ উপেক্ষা করে সুবিমল গেলেন ওদের আস্তনায়। গিয়ে রঘু
সিংকে বললেন যে করেই হোক রামলালকে হসপিটালে পাঠাতে হবে। কাছাকাছির মধ্যে
ভাল হসপিটাল একমাত্র শিলিগুড়িতে আছে। কিন্তু সেখানে যাওয়া প্রায়
অসম্ভব।
রঘু সিং সাহসী মানুষ, সে বলে, চেষ্টা করে তো দেখতে হবে। এখানে ফেলে রাখলে ওকে বাঁচানো যাবে না।
শুরু
হলো ওদের বরফে ছাওয়া দুর্গম পথে শিলিগুড়ি যাত্রা। মাত্র চার কিলোমিটার
মতো গিয়ে দেখে ধ্বস নেমে রাস্তা বন্ধ, তার উপর পুরু বরফ জমে আছে অর্থাৎ আজ
সকাল থেকেই রাস্তা বন্ধ।
রাস্তা
আজ রাতে আর কে পরিস্কার করে দেবে! আগামী কাল সকালে যদি মিউনিসিপ্যালিটির
লোক এসে পরিস্কার করে দেয়। কোনও উপায় নেই দেখে রঘু সিংরা ফিরে এলো।
সে রাত আর কাটলো না রামলালের, ভোর হওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আগে সে দেহ ত্যাগ করলো।
রামলালের
শেষকৃত্য কে করবে? সুবিমল কিংকর্তব্যবিমূঢ়! অবশেষে স্কুলের খাতাপত্র
দেখে উদ্ধার হলো রামলালের বাড়ির ঠিকানা। রামলালের বাড়ি রিনচেংপংএর কাছে
এক গ্রামে।
সুবিমল
শুধুমাত্র জানতেন রামলালের বাবা মা কেউ বেঁচে নেই, ছেলেবেলায় হারিয়েছে
দুজনকে। বাবার এক দুর সম্পর্কের ভাইএর কাছে অযত্নে মানুষ হয়, তারপর অনেক
ঘাটের জল খেয়ে এই স্কুলে এসে থিতু হয়েছে।
অনেক
খুঁজে খুঁজে তিনি রিনচেংপংএর তিন চারটি টেলিফোন নাম্বার জোগাড় করলেন,
ওদের গ্রামের কোনও টেলিফোন নাম্বারের হদিস পাওয়া গেল না।
রিনচেংপংএর
টেলিফোনে সব নো রেসপন্স হলো, কেবল একটি নাম্বার সব কথা শুনে জানালো দেখছি
কি করা যায়। কিন্তু তিন দিন হয়ে গেল, কোনও খবর পাওয়া গেল না। রামলালের
দেহ পড়ে রইলো বরফের নিচে। এরপর সব কয়টি টেলিফোনেই নো রেসপন্স, কেউ
উঠাচ্ছে না টেলিফোন, নাকি এই শীতে সবাই যে যার বাড়ি চলে গেছে বোঝা গেল
না।
কিন্তু আর তো মৃতদেহ
ফেলে রাখা যায় না। রঘু সিং একজন পুরোহিত ধরে নিয়ে এলো কাছের এক জনবসতি
থেকে, শ্মশানে কাঠ যা জোগাড় হলো তা সবই বরফ জলে সিক্ত। ঘি ও তেল ঢেলে
সেগুলো জ্বালানোর ব্যাবস্থা করা হল। কিন্তু অল্পক্ষণ পরেই শুরু হয়ে গেল
প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি। সেই তুষার ঝড়ে দাড়িয়ে থাকা প্রায় অসম্ভব।
সারারাত
ধরে চললো ঝড় বৃষ্টির তান্ডব, পরদিন সকালে গিয়ে দেখা গেল পড়ে আছে
রামলালের অর্ধ দগ্ধ দেহ। ধরে আনা হল সেই পুরোহিতকে, সে জানালো দ্বিতীয় বার
মুখাগ্নি করা যাবেনা। একমাত্র উপায় গঙ্গা বা কোনও পবিত্র নদীর জলে দেহ
ভাসিয়ে দেওয়া।
কিন্তু
সেসব তো অনেক দুরের পথ। রঘু সিং আর ধনরাজ শেষ পর্যন্ত বরফের নিচে মাটি
খুঁড়ে রামলালের আধপোড়া শরীরটা পুঁতে দিল। শীত একটু কমলে ওর বাড়ির লোকজন
যদি কেউ আসে, তখন দেখা যাবে।
তিন
ছুটির পরে
শীতের
ছুটি শেষ হয়ে স্কুল খুলে গেছে, রামলালের প্রসঙ্গ ওদের তিন জনের কেউই আর
ভুলেও কখনও তোলে না। হাসিখুশি ছেলেটির শেষকৃত্যে যে গোলমাল হয়ে গেছে,
সেকথা ভুলেও কেউ স্মরণ করতে চায় না। স্কুল খোলার পরদিন এক মিনিট নিরবতা
পালন করা হলো, এছাড়া স্কুলের খাতায় সে যে মৃত সেইটুকু লিপিবদ্ধ করা
থাকলো।
স্কুলে নতুন পিওন
নিযুক্ত হয়েছে বালকিষেণ নামের একটি ছেলে। মাস দুই কেটে গেছে, এখন এপ্রিল
মাসের মাঝামাঝি। ভরা বসন্ত কাল, দখিনা বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। পাইন
গাছের ফাঁকে ফাঁকে নাম না জানা রঙ বেরঙের ফুল ফুঁটে আছে, হাওয়ায় ভেসে আসছে
একটা মৃদু মিষ্টি সুগন্ধ।
সুজাতা আজ সকাল থেকেই বেশ একটু উদ্বিগ্ন, দীপুর গাটা গরম, থার্মোমিটার দিয়ে দেখে জ্বর একশো এক।
সুবিমল ছুটি নিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে আনেন দীপুকে। ডাক্তারের মত ভাইরাল ফিভার, সারতে এক সপ্তাহ লেগে যাবে।
কিন্ত
ওষুধ বিষুধে জ্বর নামছে না, উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। তিন দিন হয়ে গেল,
দীপু বিছানায় শয্যাগত, মুখটা শুকিয়ে গেছে। সুবিমল দার্জিলিং থেকে বড়
ডাক্তার ডেকে আনলেন।
বড়
ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে ওষুধ বিষুদের সাথে, রক্তের কিছু কিছু পরীক্ষার কথা
লিখে দিলেন, গা হাত পা শীতল জলে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছিয়ে দিতে এবং কপালে
জল পট্টি দিয়ে যেতে বলে গেলেন।
দীপুর জ্বর ওঠানামা করছে, কখনও একশো ডিগ্রীর নিচে আবার কখনও একশো চার পাঁচ ডিগ্রী, এটাই বিশেষ করে চিন্তার বিষয়।
সন্ধ্যার
পরে সুজাতা দীপুর গা হাত পা মুছিয়ে, কপালে জল পট্টি দিচ্ছিল, এমন সময়
হঠাৎ এক শীতল বাতাসের প্রবাহ ঘরে ঢুকে সুজাতাকে চমকে দিল। দরজা জানালা তো
সব বন্ধ, তাহলে?
চেয়ে
দেখে কেউ যেন দাড়িয়ে আছে ওর সামনে। আগন্তুকের আবছা চেহারাটা ক্রমশ স্পষ্ট
হয়, সামনে দাড়িয়ে রামলাল, দুই হাত সামনের দিকে প্রসারিত
- আমি দীপু কে নিতে এসেছি….
ততদিনে
সুজাতা রামলালের কথা সুবিমলের কাছে সব শুনেছে। ওর শিরদাঁড়া বেয়ে এক
হিমশীতল স্রোত বয়ে চলেছে। সুজাতা দীপু কে ওর বিছানা থেকে নিজের কোলে আকড়ে
ধরে প্রাণপনে ইষ্ট নাম জপ করতে থাকে।
কিছূক্ষণের
মধ্যেই ঘরের মাঝের হিমশীতল ভাবটি কেটে যায়, দেখে রামলালের আবছা চেহারাটা
আর নেই। কিন্তু ঘরের দরজা জানালা সব আগের মতোই বন্ধ।
সুজাতা
রাত জেগে দীপু কে জল পট্টি দিয়ে যেতে থাকে। ভোর বেলায় ওর চোখ দুটি একটু
লেগে এসেছিল, হঠাৎ ঘুম ভাঙতেই দেখে সকালের আলোয় ঘর ভরে গেছে।
দীপুর কপালে হাত দিয়ে সুজাতা দেখে, ওর শরীর ঠান্ডা হিমশীতল…

Comments
Post a Comment