Skip to main content

Posts

Showing posts with the label ৬৩তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০ মে ২০২৩

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৬৩তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০ মে ২০২৩

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। রবীন্দ্রনাথের রাশিয়া ভ্রমণ ।। বিক্রমজিত ঘোষ প্রবন্ধ ।। জায়ফলের অভিশাপ ।। সৌম্য ঘোষ আজকের দুনিয়ায় মে দিবসের তাৎপর্য ।। রণেশ রায় গল্প ।। ইঁদুর কল ।। স্মরজিৎ ব্যানার্জি কবিতা ।। ক্রিমশন রঙের জানালা ও বারোটি পাঁজরের আদিম উপপাদ্য ।। নিমাই জানা কবিতা ।। অচেনা প্রতিশ্রুতি ।। পিঙ্কি ঘোষ কবিতা ।। ব্যাধি বা বাতিক ।। জগবন্ধু হালদার কবিতাগুচ্ছ ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। ছুঁয়ে যায় ।। সুমিত মোদক কবিতা ।। রেখা চিত্র ।। দীপঙ্কর সরকার ছোটগল্প ।। অন্তঃসত্ত্বা ।। উত্তম চক্রবর্তী গল্প ।। আলেয়া ।। আবদুস সালাম অণুগল্প ।। বাঘ ।। চন্দন মিত্র অণুগল্প ।। পারমিতা আজও দাঁড়িয়ে ।। অঞ্জনা গোড়িয়া সাউ ঝড়ের পাখির খোঁজে ।। নিরঞ্জন মণ্ডল অণুগল্প ।। হৃদয় অকৃতজ্ঞ ।। প্রদীপ কুমার দে কবিতা ।। জেদ ।। বিবেকানন্দ নস্কর ঐতিহাসিক মে দিবসের তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা ।। পাভেল আমান সোনার পাহাড় : বদ্রিনাথ ।। শোভন লাল ব্যানার্জি কবিতা ।। এল ডোরাডো ।। রশ্মিতা দাস কবিতা ।। চাঁদনী রাতে মনের সাথে ।। জয়শ্রী সরকার ছড়া ।। লেখাপড়া ।। অবশেষ দাস কবিতা ।। প্রশ্ন আজও ।। সান্ত্বনা ব্যানার্জী গল্প ।। ...

নিবন্ধ ।। রবীন্দ্রনাথের রাশিয়া ভ্রমণ ।। বিক্রমজিত ঘোষ

রবীন্দ্রনাথের রাশিয়া ভ্রমণ বিক্রমজিত ঘোষ  কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৩০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়া সফরে যান । তাঁর বয়স তখন ৬৯ বছর। অনেকেই তাঁকে এই বয়সে এতদূর ভ্রমণ করতে বারণ করেছিলেন। কিন্তু কবিগুরু কারোর কথা শোনেননি। সেইসময়ে রাশিয়ার জনসংখ্যা অনেক ছিল। যা দেখে রবীন্দ্রনাথ খুবই অবাক হন। এখানকার সংস্কৃতিকে এখানকার মানুষ অনেক উচাসনে বসিয়েছিলেন। তার সাথে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে উন্নত মনোভাব দেখে তিনি আরও অবাক হন। তাও তিনি এখানকার গতানুগতিক শিক্ষা পদ্ধতিকে সমর্থন করতে পারেননি। রাশিয়ায় হয় তিনি কোনরকম বড়লোক- গরীব লোক পার্থক্য উপলব্ধি করতে পারেননি। সেখানকার মানুষ কেউ অহংকারী ছিলেন না -- এই অনুভূতি কবিগুরুর হয়েছিল। তিনি আপ্লুত হয়েছিলেন।             তিনি রাশিয়ার মানুষের আচার- ব্যবহার দেখে মন্তব্য করেন --" মানুষে- মানুষে ব্যবহার কী আশ্চর্য সহজ হয়ে গেছে ।" ১৯৩০ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর রাশিয়ায় পৌঁছবার পর সেখান থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর পরিবারকে চৌদ্দটি চিঠি লেখেন। এই চিঠিগুলো একসাথে করে ১৯৩১ সালে ' রাশিয়ার চিঠি' নামে একটা বই প্রকাশিত হ...

আজকের দুনিয়ায় মে দিবসের তাৎপর্য ।। রণেশ রায়

  আজকের দুনিয়ায় মে দিবসের তাৎপর্য রণেশ রায় দিনটা ১লা মে ১৮৭৬। স্থান আমেরিকার শিকাগো শহর। শ্রমজীবী মানুষের এক ঐতিহাসিক জমায়েত তাদের অধিকারের দাবিতে। রাষ্ট্রের সহযোগিতায় পুঁজিবাদী অর্থনীতির নিয়ম মেনে শ্রমিক শোষণ চালিয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন শ্রম সময় কমানোর দাবীতে। এই আন্দোলন সংগঠিত হয় শ্রমিক সংগঠনের সংগঠিত নেতৃত্বে। তথাকথিত 'গণতান্ত্রিক' আমেরিকায় পুঁজিপতির স্বার্থে শ্রমিকের শ্রম সময়ের লাগামহীন যথেচ্ছ ব্যবহারের মাধ্যমে অবাধে শ্রম সময় চুরি করে অবাধ পুঁজিবাদী শোষণ চালু হয় সে দেশে পুঁজিবাদের আবির্ভাব লগ্ন থেকেই। তার বিরূদ্ধে শ্রম সময় কমাবার দাবীতে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষিত হয় এই দিন। 'রাষ্ট্র' পুঁজিবাদের অনুগত থেকে আন্দোলন দমন করার জন্য গুলি চালায় যাতে ১১ জন শ্রমিক মারা যায়। সারা দুনিয়ার কাছে পুঁজিবাদী নিয়মে চলা গণতন্ত্রের আসল চরিত্র উদঘাটিত হয়।রাষ্ট্রের ভূমিকা দুনিয়ার মানুষের কাছে ধিকৃত হয়।মার্কিন দুনিয়াক বাধ্য হয় আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করে শ্রম সময় কমিয়ে আট ঘণ্টায় নামিয়ে আনতে।  এ জয় শিল্প জগতে সংগঠিত বিভাগে দুনিয়ার মজদুরের ঐতিহাসিক প...

গল্প ।। ইঁদুর কল ।। স্মরজিৎ ব্যানার্জি

  ইঁদুর কল স্মরজিৎ ব্যানার্জি দাদা একটা ইঁদুর কল দেবেন তো। প্রশ্ন শুনে দোকানে জিজ্ঞেস করলেন কিরকম নেবেন আঠা না অন্য কিছু , আমি বললাম ভালো কিছু একটা দিন। একটু পরে দোকানে একটা খাঁচা আমার হাতে দিয়ে বলল এটা নিয়ে যান দাদা খুব মজবুত আর টেকসই জিনিস। খাঁচাটা সত্যিই ভালো। একদিকে একটা চাকার মত লাগানো, জিজ্ঞেস করাতেই দোকানদার বলল এটা দিয়ে ইঁদুর উপরে উঠতে চাইলেও উপরে উঠতে পারবে না ‌, খাঁচাটা নিয়ে বাড়ি চলে এলাম। আসলে কদিন ধরে বাড়িতে ইঁদুরের উৎপাত খুব বেড়েছে খাবার দাবার ফেলে ছড়িয়ে নষ্ট করছে জামা কাপড় কেটে কুটো কুটি  করছে সেদিন বাড়িতে অতিথি আসবে বলে মিষ্টি এনেছিলাম আগের দিন মা দিতে গিয়ে দেখল তার মধ্যে বেশিরভাগই আধ খাওয়া। সে সেই চা বিস্কুট দিয়ে অবস্থা সামলালো মা, আজ অফিস থেকে ফেরার পথে ঠিক করেছিলাম ইঁদুর কল কিনব‌ই। বাড়ি ফিরে মাকে জিনিসটা দেখাতেই মা বললো খুব ভালো করেছিস বাবু আমি তোকে বলতেই যাচ্ছিলাম। রাতে খাওয়ার পর রান্নাঘরের এক কোণে কলটা পেতে শুতে চলে গেলাম। কাল থেকে সব ঝামেলা শেষ সকালে মায়ের ডাকাডাকি শুনে ঘুমটা ভেঙে গেল, রান্নাঘরে গিয়ে দেখি একটা বড় ইঁদুর কলে আটকা পড়েছে মা...

প্রবন্ধ ।। জায়ফলের অভিশাপ ।। সৌম্য ঘোষ

জায়ফলের অভিশাপ সৌম্য ঘোষ                 প্রকৃতির বিপর্যয়ের কথা উঠলেই আমরা শুনি, এটা মনুষ্যসৃষ্ট। গত কয়েক দশক ধরে পৃথিবী ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা থেকে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, বন্যা, তুফান ইত্যাদির প্রকোপে মানুষের জীবন দুর্বিসহ ওঠার পিছনে মানুষের আচরণ সবচেয়ে বেশি দায়ী। কিন্তু মানুষ বলতে আমরা কোন্ শ্রেণীর মানুষকে এর জন্য দায়ী করবো?               ভারত মহাসাগরে জাভার পূর্বদিকে ছোট্ট একটি ভূখণ্ড বান্দা দ্বীপ। এই দ্বীপে প্রাকৃতিক ভাবে ফলতো জায়ফল (Nutmeg)।  সেই দ্বীপে হাজার হাজার বছর ধরে বাস করা আদিবাসী, জায়ফল গাছ এবং নানান পশুপাখি, গাছপালা, তৃণগুল্ম , আদিবাসীদের ভাষা, সঙ্গীত, সংস্কৃতি ও বিশ্বাস -- এই নিয়েই সেখানকার প্রকৃতি। সামগ্রিক অংশ। বান্দা দ্বীপের লোকেরা মনে করত, প্রকৃতি হচ্ছে তার অন্তর্ভুক্ত সমস্ত প্রাণী ও উদ্ভিদ, আকাশ ও ধরিত্রী, জল ও বাতাস -- সকলের।              ১৬২১ সালে বর্বর ওলন্দাজ ঔপনিবেশিকরা তাদের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এই শান্ত নিরীহ বান্দা দ্বীপ দখল ক...

কবিতা ।। ক্রিমশন রঙের জানালা ও বারোটি পাঁজরের আদিম উপপাদ্য ।। নিমাই জানা

  ক্রিমশন রঙের জানালা ও বারোটি পাঁজরের আদিম উপপাদ্য নিমাই জানা ২π দৈর্ঘ্যের অ্যাক্রেলিক পর্ণমোচী নদীর ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা মৃতপ্রায় রেচনতন্ত্রের মতো উট পরিবাহী মানুষদের সংক্রমণ খচিত ক্রিমশন রঙের জাহাজের পাঠাতনে হলুদ মায়াবী মাছেরা নদীর জানালার বারোটা পাঁজর খুলে খুলে আগুন পাহারা দিচ্ছে , অসংখ্য মৃত মানুষের খাঁজ কাটা হাড়ের সব উপাঙ্গগুলো প্লাস্টিক কোটেড নীল মহাগোলকের ভেতরে ঝুলিয়ে রাখি প্রতিটি দরজার দ্বাররক্ষী ভেবে , মাথার করোটি দুলছে পেন্ডুলামের মতো , এখানে প্রতিদিন রাতের দ্রোণাচার্য রেখে যেতেন এ সংসারের পিরামিড কথা চোখ আসলে একটা নিম তরঙ্গের নৌকা যার ভিতর অসদ বিম্বের সব ঘোড়াগুলো একদিন আত্মহত্যার দেশলাই কাঠি জ্বেলেছিল কাঁচ ঘরের অবৈধ চুম্বন বহির্ভুত বিষাক্ত সঙ্গম পরবর্তী শিথিল অঙ্গাণুর রক্তাক্ত চন্দ্রগ্রহণের ভেতর , আমার দুটো পা গলে যাচ্ছে নীল ইমালসানের ঝাঁঝালো অ্যামোনিয়াম গন্ধে মধ্য রাতের অ্যানাটমী ছিন্ন করা জলজ নাবিক মাথার ভিতরে দাঁড়িয়ে মৃত মানুষের গলে যাওয়া হাড় , পাঁজর , রক্ত মাংসের উত্তপ্ত স্ফুটনাঙ্কহীন তরল পদার্থ গুলো ঢেলে দিচ্ছে আমার ক্ষয়ে যাওয়া অক্ষিকোটরের ভেতর , মৃত ভার...

কবিতা ।। অচেনা প্রতিশ্রুতি ।। পিঙ্কি ঘোষ

  অচেনা প্রতিশ্রুতি পিঙ্কি ঘোষ বহুদিন ধরে অপেক্ষায় আছি  তবুও ধোঁয়াশার চাদর সরেনি সময়‌ আর সম্পর্কের গাঁটছড়া বাঁধা যায় না বেহিসাবী আবদারে আপনতার বেড়াজালে বন্দী প্রেম বিবর্ণ আকাশে রামধনুর খোঁজে আঁচল উড়িয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরে  আবারও হারিয়ে যাই চন্ডালিকায়,                        পর্দার আড়ালে চেনা চেনা মুখ নিয়তি- নতুন সূর্য, নুতন সকাল, অচেনা প্রতিশ্রুতি। ............................................... পিঙ্কি ঘোষ, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ ...............................................

কবিতা ।। ব্যাধি বা বাতিক ।। জগবন্ধু হালদার

  ব্যাধি বা বাতিক জগবন্ধু হালদার বৃষ্টি এলেই ব্যামো বাড়ে মাথায় এবং বুকে একটি শালিক কার্নিশে খুব চ্যাঁচায় বাসিমুখে । একলা ভেজে এবং কাঁদে, একাই ভোগে জ্বরে মেঘে মেঘে বেলা গড়ায়, আঁধার জমে ঘরে । ভ্যাপসা যেমন অন্ধকার, বৃষ্টিও খুব জেদি দেয়াল জুড়ে স্ব-কাল ক্ষত মোহন মেহেদি । ভর দুপুরে ঢিলে স্বরে জোড়া ঘুঘু ডাকে একটি ফিঙে পোড়ো ডাঙায় আঁকড়ে মৌনতাকে মেঘ গুড়গুড় বুকের ভিতর অশনিসংকেত বৃষ্টি এলেই চক্ষু ভাসে, আবার অনিকেত ! আবার যুদ্ধ শিলা-স্রোতে, পথের দু'মুখ খোলা স্মৃতি-সত্তা জুড়ে গেঁথে, বিরামবিহীন চলা।  পথের বাঁকে আকাশ-নদী স্বজন সুখে-দুখে বৃষ্টিতে রোজ ব্যামো বাড়ুক মাথায় এবং বুকে ।।

কবিতাগুচ্ছ ।। তীর্থঙ্কর সুমিত

  কবিতাগুচ্ছ ।।  তীর্থঙ্কর সুমিত বিশ্বাস কথা চিৎকার ____ সবুজ ঘাস খেয়ে যাচ্ছে ছাগলেরা নদীর জল খাচ্ছে কুমির সাগরে ভেড়ানো জাহাজ হাওয়ায় দুলছে অসময়িক চাহিদার নাম দেওয়া অধিকার সম্পাদ্যের অঙ্কন পাটিগণিতে মুখ গুঁজে তুমি যার নাম দিয়েছিলে ভালোবাসা এ এক দারুণ অভিজ্ঞতা  প্রতিদিনের... কৌটো ভরে তুলে আনি একমুঠো বিশ্বাস। রঙ বদল ফিরে দেখা  মনোনয়ন পত্রে তোমার ঠিকানা বেশ কিছু বছর পর ফিরে এলাম দৈনন্দিন ঘেরাটপে ফিরে পাওয়া লড়াইয়ে আমরা প্রত্যেকে সৈনিক মাত্র অনন্তকালের যাত্রায় ক্রমশঃ বিবর্তন লেগে থাকা মুহূর্তে আমরা এগোচ্ছি প্রত্যেকে একবিংশ শতাব্দী ধরে, পায়ে পা মিলিয়ে চলছি অজানার উদ্দেশ্যে... হাত বদলালেই মুখমন্ডলের বিবর্তন ঘটে  নিদারুন বাক্যালাপ অজানাকে ঘিরে তবুও আমরা প্রত্যেকে... একটা অন্ধকারের রঙ বদল করি। প্রতিদিনের অন্তরালে উঠোনে বটের চারাটা ক্রমশঃ বেড়ে উঠছে জল না পেয়েও নির্লজ্জের মত ছড়িয়ে যাচ্ছে তার শেকড় ডালপালা, পাতা ------ আমার টালির চাল জুড়ে তার অবাধ বিচরণ বটের ফলে কত বট, আগামীর সভ্যতার দাঁড়িয়ে প্রতিদিনের অন্তরালে... আমরা সকলে ট্রেন থামতেই একটা বিকেল পেলাম গোধূলির বিকেল সবুজে সব...

অণুগল্প ।। বাঘ ।। চন্দন মিত্র

বাঘ চন্দন মিত্র মার্চের শেষ সপ্তাহ। খান তিনেক পলিশি জমা না-করলে মান বাঁচানো মুশকিল। মুশকিল আসান হয়ে এল সুব্রত, আমার অন্যতম প্রিয় বন্ধু। সে নিয়ে চলল তার পিসির বাড়িতে। একেবারে সুন্দরবনের গর্ভে গ্রাম। গ্রাম ছুঁয়ে বয়ে চলেছে মৃদঙ্গভাঙা নদী। দুপুরে বেরিয়ে পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় রাত হয়ে গেল। পিসিদের শুটকি মাছের ব্যবসা। পলিশি নিয়ে সুব্রতর পিসেমশাই আশ্বাস দিলেন। খাওয়া-দাওয়ার পরে আমাদের শোবার ব্যবস্থা করে দেওয়া হল উঠানের একটি তক্তাপোষে। গরমের সময় বেশ ভালোই ব্যবস্থা। কদিন আগের এক ঝড়ে গাছপালা ভেঙে পড়ায় বেশ কয়েকদিন কারেন্ট অফ। ফলে ঘরের মধ্যে শোয়াটা আমাদের মতো শহুরে ছেলেদের পক্ষে নিদারুণ কষ্টের।                   শোয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লান্তিতে চোখ জুড়ে এল। ঘুমের মধ্যে বাঘের গর্জন শুনে ধড়মড় করে জেগে উঠলাম। আমাদের বিছানা থেকে হাত কুড়ি দূরে নানান গাছের জঙ্গল, তারপরেই খাঁড়ি। আওয়াজটা  আসছে ওই জঙ্গল থেকে। তবে কী খাঁড়ি পেরিয়ে বাঘ ঢুকে পড়েছে লোকালয়ে! আড়াল বলতে সামান্য এক নাইলনের মশারি। সুব্রত সমানে...

কবিতা ।। রেখা চিত্র ।। দীপঙ্কর সরকার

রেখা চিত্র   দীপঙ্কর সরকার নির্জন অভিমানে ফিরে যায় হাওয়া দূরত্ব বজায় রেখে জ্বলে ওঠে চাঁদ , তারারা মিটি মিটি হাসে । মহাশূন্যের বুকে নীল ছায়া অপস্রিয়মান দু-একটি নিশাচর ডেকে ওঠে , বাকি সব নীরব স্তব্ধতা । কোথাও জলযান ভেসে যায় তটে লাগে ঢেউ , ঢেউয়ের রেখায় লেখা হয় আলো- গান ছায়া । ঘাসের ডগায় জমে শিশিরের ঘ্রাণ ঝিঁঝিঁ পোকার করুণ সুরে যেন অকাল বসন্ত নামে, ঘরে ঘরে দেবীর বোধন । ================ দীপঙ্কর সরকার কাঁঠাল পুলি (সিংহের হাটের কাছে) চাকদহ নদীয়া

ছোট গল্প ।। অন্তঃসত্ত্বা ।। উত্তম চক্রবর্তী

অন্ত্বসত্তা। উত্তম চক্রবর্তী। বুদ্ধিটা ওকে কথায় কথায় ওর ছোট বেলার বন্ধু সুদীপই দিয়েছিল সেদিন , সকালে বাজারে দেখা হবার পর। আসলে রাশিকে নিয়ে কথা হচ্ছিল তখন। অয়নের বিয়ে হয়েছে প্রায় দশ বছর হয়ে গেল , কিন্তু এখনো ওদের কোন বাচ্চাকাচ্চা না হওয়ায় রাশি যে দিনদিন কিভাবে ভেঙ্গে পড়ছে অয়ন বন্ধুর সাথে সেটা নিয়ে কথা বলছিল তখন। আর সেই কথা আলোচনা করবার সময়েই বুদ্ধিটা দিল সুদীপ। সুদীপ অয়নের ছেলে বেলার বন্ধু আর একই পাড়ায় থাকার দৌলতে রাশি আর সুদীপের স্ত্রী দুজন বেশ বন্ধু হয়ে উঠেছে। সুদীপের স্ত্রী বনলতা নাকি ওর সাথে প্রায়ই রাশির মনের এই কষ্টের কথা শেয়ার করে। কিন্তু অয়ন রাশিকে অনেক বড় বড় ডাক্তার দেখিয়েছে , বড় বড় হাসপাতালে গিয়ে বিভিন্ন রকমের টেস্টিং করিয়েছে । এই সব কিছুই বনলতা এমনকি সুদীপ নিজেও ভালই জানে। তথাপি আজ পর্যন্ত ভগবান মুখ তুলে তাকায়নি আর রাশি মা হতে পারেনি। অয়নের বড়দার এক মেয়ে দুই ছেলে , ওর দিদিরও দুই মেয়ে। একমাত্র অয়নই আজ পর্যন্ত বাবা হতে পারল না। অয়নের বাবা অনেক দিন আগেই মারা গেছেন , ওর মা অয়নের দুঃখে নিজেও খুব কষ্ট পান আর সারাদিন ঠাকুরের কাছে মানত করেন যাতে অয়নটা বাবা হতে...

গল্প ।। আলেয়া ।। আবদুস সালাম

আলেয়া আবদুস সালাম এক: জেলের কুঠরীতে বসে আছে শ্রাবণী ।চোখের কোনে  জড়ো হয়েছে কালি।এই কয়দিন খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো হয়নি । ঔজ্বল্য ভরা যৌবনে কে যেন মাখিয়ে দিয়েছে কালি ।       নিজেরই উচ্ছলতা শ্রাবণী কে বিভ্রান্ত করে তুলেছিল। সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে সন্দীপ । সংসারে কোনো কিছুরই কমতি নেই । একদম গেরস্ত ঘর বলতে যা বোঝায় ।গ্রামে বসেই  শহরের সকল রকম সুবিধা ভোগ করতো । বউমা  হিসেবে  শ্রাবণী কে পেয়ে বিধবা শাশুড়ি আহ্লাদে আটখানা। প্রাণ দিয়ে ভালবাসেন শ্রাবণী কে ।একদিকে  শ্রাবণী যেমন বৌমা অন্যদিকে তেমনি মেয়ে ।সারাদিন মা মেয়ে মিলে নিজেদের উজাড় করে দিতো।      বিশাল জমি জায়গা দেখাশোনা করা ,চাষের সময় মাঠে গিয়ে কাজের লোকদের কাজ বুঝিয়ে দেওয়া। এই নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয় সন্দীপ কে। সন্দীপ থাকে ঘোর সংসারী হয়ে।  আর শ্রাবণী চাই বাহির জীবনে নিজেকে ছড়িয়ে দিতে। শিমুল পলাশের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে  মেতে থাকতে চাই। মোড়ল মানুষের বাড়িতে সব সময় লোকজনের আনাগোনা লেগেই আছে ।এদিকটা অবশ্য যতটুকু পারে সরযূবালা সামাল দেয়।...

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী

শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান শিবাশিস মুখার্জী বাংলা সাহিত্য কখনও কখনও এমন কিছু লেখকের জন্ম দেয়, যাঁরা শুধু গল্প লেখেন না—সময়ের ভেতর দিয়ে মানুষের জীবনকে নথিভুক্ত করেন। মণি শঙ্কর মুখার্জী, যিনি 'শঙ্কর' নামে পাঠকের কাছে চিরপরিচিত, ছিলেন তেমনই এক বিরল কথাশিল্পী। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি সাহিত্যিক জীবনের সমাপ্তি নয়; এটি বাংলা নগরসাহিত্যের এক দীর্ঘ, উজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান।   শঙ্করের সাহিত্যিক যাত্রা বিশ শতকের মধ্যভাগে শুরু হলেও তাঁর রচনার প্রাসঙ্গিকতা একবিংশ শতাব্দীতেও অটুট। তিনি ছিলেন এমন এক লেখক, যিনি বাংলা সাহিত্যে নগরজীবনের এক নতুন ভাষা তৈরি করেছিলেন। গ্রামকেন্দ্রিক সাহিত্যধারা যখন দীর্ঘদিন বাংলা কথাসাহিত্যের প্রধান সুর ছিল, তখন শঙ্কর শহরকে কেন্দ্র করে মানুষের নতুন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসেন। তাঁর কলমে কলকাতা কেবল একটি শহর নয়; এটি এক বহুমাত্রিক জীবন্ত সত্তা—যেখানে স্বপ্ন, প্রতিযোগিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ভয়, নিঃসঙ্গতা ও প্রেম একসঙ্গে সহাবস্থান করে।   শঙ্করের সাহিত্যচর্চার মূল ভিত্তি ছিল অভিজ্ঞতা। তিনি জীবনের বাস্তব ক্ষেত্র থেকে উপাদান সংগ্রহ করতেন—কর্...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

তোকে পাইনি বলে ।। সমীর মন্ডল

তোকে পাইনি বলে সমীর মন্ডল তোকে পাইনি বলে, আজো ভীষণ কষ্ট হয় সবুজ ঘাসে শিশিরের স্পর্শ, মুক্তময় হওয়ার পর যেমন আগের অবস্থায় ফিরে যায় তেমনি মরুভূমির বুকে সবুজ গালিচার প্রাচুর্য থেকে আবারও তুষার ঝড় আসার মতো ঘটনায় বার বার বদল হয়েছে, সুখ স্মৃতির। কেউ বুঝতেও পারে না, কিভাবে মা মাটির গভীরে, রহস্যময় পটপরিবর্তনে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে, দু- চারটি পাখি যারা সময়ের হিসাব না রেখে, গেয়ে যাচ্ছে গান উড়ে যাচ্ছে আকাশে,ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলছে বিচ্ছেদের নীহারিকা। কী করবো বল্? ওদের সাথেই কেটে যাচ্ছে, দুঃখ যাপনের সুখগুলি। ডেকে ডেকে যাকে পাওয়া যায় না সেই নিঠুরকে নিজেকে সমর্পণের পর আপসোস করা সত্যিই, বিলাসিতা! .............................. সমীর মন্ডল  শাঁকারীপাড়া, কাঞ্চননগর, পূর্ব বর্ধমান, পিন-৭১৩১০২

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায়

বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য  সৈকত প্রসাদ রায়  জানালা দিয়ে ভোরের আলো এসে পড়েছে শৌনকের মুখে। কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই,স্বপ্নটা এখনও যেন বুকের ভেতর কাঁপছে। সে উঠে দাঁড়িয়ে জানালার পাশে এসে দাঁড়াল। বাইরে শীতের সকাল, কুয়াশার চাদরে ঢাকা শহর। কিন্তু শৌনকের চোখে ভাসছে শুধু সেই লাল বেনারসি, সেই জলভরা চোখ। শৌনক চোখ বন্ধ করল। মনে পড়ল সেই দিনটা। তিন বছর আগে, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, সকালবেলা ফোন করেছিল সোনিয়া,গলায় উচ্ছ্বাস। "শৌনক! আজ কী দিন জানিস?" "ভ্যালেন্টাইন্স ডে। আর আমাদের বিয়ের শপিং এর দিন!" শৌনক হেসেছিল। "ঠিক! দশটায় রেডি থাকবি। আমরা নিউ মার্কেট যাব। আমার বেনারসি শাড়ি দেখতে হবে, তোর শেরওয়ানি, আর..." "আর তোর অসংখ্য শপিংয়ের লিস্ট!" শৌনক হাসতে হাসতে বলেছিল। "হ্যাঁ! আর মা বলেছে লাল বেনারসি নিতে। ট্র্যাডিশনাল। তুই কী বলিস?" "তুই যেটা পরবি, সেটাই সবচেয়ে সুন্দর হবে সোনিয়া।" ফোনের ওপাশ থেকে সোনিয়ার খিলখিল হাসি ভেসে এসেছিল - " আচ্ছা, দশটায় আমার বাড়ির সামনে, দেরি করবি না কিন্তু!" শৌনক ঠিক সাড়ে নয়টায় পৌঁছে গিয়েছিল সোনিয়ার ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

দুটো কবিতা ✍️ সিদ্ধার্থ লাহা

    দুটো কবিতা ✍️ সিদ্ধার্থ লাহা   সোনালী শঙ্খচিল ডাইনে বা বামে , জানালা বা রাস্তার মোড়ে - দেখ নানা অজুহাতে, অনুভব করি বারেবার। কেন জানাওনি আমায় আকারে, ইঙ্গিতে, ভাষায়? আমি-ও জানতে চাইনি - এক সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে বুঝি  - বুকের ভেতর খালি । রক্তক্ষরণের অনুভতি। জানলায় চেয়ে দেখি— তুমি, তুমি, তুমি। ও সোনালী শঙ্খচিল, ফুলে-ঢাকা কৃষ্ণচূড়া ডালে ঠুকরে ঠুকরে আনন্দে খাও, আমার হৃদয়খানি । এত, এত ক্ষুধা— কোনোদিন বলনি কেন? শোনো গো সোনালী শঙ্খচিল, পরের জন্মে হয়ো নোটন পায়রা— এস সাদা ঝোটন বেঁধে বনের ধারে, বুড়ো শিবের মন্দিরচূড়ে। রও না চুপ  - এ জন্মের মতো। দুজন মুখোমুখি - ঠোঁটের কাছে  এনে ঠোঁট, বলো অনেক, অনেক কথা - বকম বকম বকম। মনে থাকবে।     কচ্ছপ হৃদয়  ​তুমি চলে গেলে স্বর্ণমূর্তি রেখে— কনক মূর্তিতে কাজ নেই, রক্ত-মাংসের স্বর্ণকে  চাই। ​আকুল নয়নে রাস্তার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে রই। ​মুঠো মুঠো চুল আকাশে উড়িয়ে— হাসি-কান্নার স্বর্ণকে চাই। ​আগের মতো শীর্ণ হাত মোর বুকে ঠুকে বারবার, মাথা ঠুকে শতবার— বলবে বারে বারে, “হৃদয় তোমার কচ্ছপের মতো, শক্ত খোলাতে ঢাকা, শাওলা...

সুরঞ্জনা ।। অজিত কুমার সিংহ

সুরঞ্জনা অজিত কুমার সিংহ সুরঞ্জনা, নোতুন চরের মতো জেগে উঠেছে তোমার কনক কতোরা; আমি কি এখন থাকতে পারি তোমাকে ছাড়া। নদীর জলে চান করতে যখন দেখি তোমার ছায়া; জলকেলি করার জন্যে কাঁদে আমার কায়া। চৈত্রের মধ্যাহ্নে যখন দেখি তোমাকে বাড়ির উঠানে ; তোমার হৃদয় নিঙড়ানো সরবত খেতে চায় আমার পরানে।

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। প্রথম পর্ব : 'প্রেম' বিষয়ক লেখাগুচ্ছ

সূচিপত্র   গদ্য-গল্প-কবিতা প্রেম বিষয়ক কবিতা ।। উত্তম চৌধুরী   উদভ্রান্ত আমি ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || অভিজিৎ হালদার   প্রেম: মানুষের অন্তরে জ্বলে থাকা অনন্ত আলোর নাম ।। আদিল হোসেন মাহি অসমাপ্ত ভালোবাসা ✍️ শিবাশিস মুখার্জী অসমাপ্ত শ্রুতি ।। জয় মণ্ডল রম্যরচনা ।। ভালোবাসা প্রাইভেট লিমিটেড ।। অভীক চন্দ্র প্রেমিক-জন্ম ।। নবনীতা সরকার সুব্রতাসম্ভব, সহজ গান ।। অর্ণব সামন্ত যৌবনের বিগত ঋণ ।। শম্পা সামন্ত দেখা ।। রাজশ্রী দে খেলাঘর ।। অদিতি চ্যাটার্জি ক্ষণস্থায়ী ।। শ্যামল হুদাতী মন ।। লালন চাঁদ আনমনে ।। সন্দীপ গাঙ্গুলী রজনীর গন্ধে ভেজা রাত ।। কৃষ্ণনীল মিস্টার ব্যানার্জী || আরজু মুন জারিন দুটি কবিতা ।। জয়শ্রী দাস কড়ানাড়া ।। মলয় সরকার অদেখা চিঠির নদী ।। দেবব্রত মণ্ডল অপূর্ণতা ।। ​সুখেন সিনহা জুলি এবং আমি ।। মাখনলাল প্রধান প্রেমের আরেক নাম ।। সুমিত মোদক হৃদয় ঘটিত ।। চঞ্চল পাণ্ডে তোমার জন্য ।। বনশ্রী চক্রবর্তী কল্পপ্রেম ।। প্রদীপ সেন বেনারসিটা শুধুই তোর জন্য ।। সৈকত প্রসাদ রায় তিনটি কবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৬তম সংখ্যা ।। ফাল্গুন ১৪৩২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। পর্ব: ২ ।। বিষয় : মাতৃভাষা

  সূচিপত্র শঙ্করের প্রস্থান : বাংলা নগরসাহিত্যের এক মহাযুগের অবসান ।। শিবাশিস মুখার্জী মাতৃভাষা: অস্তিত্বের শেকড়, ঐতিহ্যের ধারক ও সংগ্রামের ফসল ।। উৎপল সরকার অগ্নিগর্ভ একুশে ফেব্রুয়ারি ।। মুক্তি দাশ সঙ্কটে আমাদের মাতৃভাষা চর্চা।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মাতৃভাষা: হৃদয়ের প্রথম স্বর ।। বাসিরা খাতুন আমি বাংলাকে ভালবাসি ।। সৌম্য পাল মাতৃভাষা ।। এস এ বিপ্লব সুখে দুঃখে মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি ।। সামসুজ জামান শেকড়ের খতিয়ান ।। মামুন চাকলাদার মধুর ভাষা বাংলাভাষা ।। রবীন বসু মাতৃভাষা ।। দিলীপ সামন্ত ভাষার কথা ।। বি এম মিজানুর রহমান স্মৃতির স্বরলিপি ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র একুশ মানে মাতৃভাষা রক্ষায় যুদ্ধ ।। রানা জামান প্রিয় বাংলা ভাষা ।। চিরঞ্জিত ভাণ্ডারী প্রবন্ধ ভাষার অবমাননা ।। গৌতম সমাজদার আমার প্রাণের ভাষা ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত একুশের লড়াই ।। বিধাত্রী চট্টোপাধ্যায় আমার ভাষা ।। অজয় বিশ্বাস মায়ের ভাষা ।। নজমুল ইসলাম খসরু মাতৃভাষা ।। শোভন চট্টোপাধ্যায় কবিতা ।। মাতৃভাষার স্বাদ ।। রুহুল আমিন বাংলা আমার মা ।। অশোক দাশ একুশের গান ।। দীপঙ্কর সাহা মাতৃভা...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

প্রবন্ধ ।। বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার

নীরবতার মহাকাব্যকার:  বেলা তার ও চলচ্চিত্রের দর্শন উৎপল সরকার বিশ শতকের শেষ ভাগ ও একবিংশ শতকের শুরুর দিকের বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে এমন কিছু নির্মাতার নাম উজ্জ্বল হয়ে আছে, যাঁরা মূলধারার বিনোদনমুখী সিনেমার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সময়, নীরবতা ও অস্তিত্বের গভীর প্রশ্নকে চলচ্চিত্রের ভাষায় রূপ দিতে চেয়েছেন। হাঙ্গেরীয় চলচ্চিত্রকার বেলা তার ছিলেন সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যাঁর সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা কেবল গল্পগ্রহণ দর্শননার আস্বাদন নয়—বরং ধৈর্য, মনোসংযোগ ও আত্মঅনুসন্ধানের এক দীর্ঘ যাত্রা।এই সেদিন ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি বুদাপেস্টে তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব চলচ্চিত্র হারাল ধীরগতির চলচ্চিত্র ধারার এক অগ্রপথিককে। ১৯৫৫ সালের ২১ জুলাই হাঙ্গেরির পেচ শহরে জন্ম নেওয়া বেলা তার কৈশোর থেকেই সমাজ ও মানুষের প্রতি গভীর আগ্রহ অনুভব করেছিলেন। তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ তাঁকে বাস্তবতার খুব কাছ থেকে জীবন দেখার সুযোগ দেয়। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীকালে তাঁর চলচ্চিত্রে রূপ নেয় নিরাবরণ, নিষ্ঠুর অথচ মানবিক এক ভাষায়। তিনি ছিলেন কেবল একজন পরিচালক নন—একজন চিন্তাবিদ, যিনি ক্যামেরাকে ব্যবহার করেছেন দর্শনের অনুসন্ধানী ...

রবীন্দ্রনাথের গান—"তাই তোমার আনন্দ আমার পর"—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল

রবীন্দ্রনাথের গান  "তাই তোমার আনন্দ আমার পর" — একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ভুবনেশ্বর মন্ডল  রবীন্দ্রনাথের গান শুনলে এবং পাঠ করলে একটা বিশেষ অনুভূতি জাগে মনের মধ্যে। রবীন্দ্র সংগীতের জন্ম যেন রবীন্দ্রনাথের হৃদয়ের অতল গভীর থেকে। আমার মনে হয় এ এই গান কৃত্রিমভাবে সাজানো কোন কথা নয়। এক বিশেষ মুহূর্তের বিশেষ উপলব্ধি জাত সত্য। কবি যেন ধ্যানতন্ময় হয়ে অনুভূতির গভীরে ডুবে হৃদয় সমুদ্র মন্থন করে থেকে রত্ন তুলে এনেছেন তাঁর গানে। রবীন্দ্রনাথের গান যেন কোন বিশেষ ব্যক্তির কথা নয়। এ এক বিশ্বজনীন অনুভূতি ও সত্য। বিশ্বের যে কোন মানুষই নিজেকে মেলাতে পারেন কবির ওই অনুভূতির সঙ্গে। তাঁর মনে হবে এ যেন আমারই কথা, আমারই অনুভব, আমারই উপলব্ধি জাত সত্য। রবীন্দ্রনাথের গানে রয়েছে এক মহাব্যাপ্তি। রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানে যেন সত্য দ্রষ্টা ঋষি তুল্য। মনের সূক্ষ কোমল অনুভূতি গুলি নিয়ে নাড়াচাড়া করেছেন তাঁর গানে। গানগুলি স্বতঃস্ফূর্ত ঝর্ণাধারার মতো। কবি যেন আত্মসমাহিত। তাঁর বিভিন্ন পর্যায়ের গান রয়েছে। প্রেম, প্রকৃতি, পূজা,আনুষ্ঠানিক, স্বদেশ প্রেম মূলক ইত্যাদি। রবীন্দ্রনাথের উপর উপনিষদের গভীর প্রভাব...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

দুটি কবিতা ✍️ সিদ্ধার্থ লাহা

দুটি কবিতা ✍️ সিদ্ধার্থ লাহা নষ্ট চাঁদ   নষ্ট চাঁদ তুমি চলে গেলে। শিরায় শিরায় লবণ জলের জোয়ার,  বদ্যি দেখাতে হবে—তুমি ভাবেছো কখনো? সাদাকালো শীর্ণ জলছবিরা  ভেসে বেড়ায় এদিক সেদিক বেঁচে আছে , আছে বেঁচে তবু! কোন একদিন কোজাগরী চাঁদ দেখবে বলে,  নিজেরাও জেগে ফেরে আমাকেও  দেয় না ঘুমাতে। নষ্ট চাঁদ—আমার শরীরে লবণ জলের জোয়ার। গাল দিয়ে নেমে যায় সাগরে  মেশাবে বলে। কদম ছায়াতল তপ্ত মনের বালুকামাঝে —   সবুজ বনানী  আঁকে। বন্যার জলে—নৌকা বাড়িয়ে দেয়, সাঁতার জানো না বলে। রাত-গভীরে স্বপ্নের মাঝে প্রজাপতি হয়ে উড়ে— তুমি দুঃস্বপ্ন দেখো পাছে। তেষ্টা কালে মরু তৃষ্ণার শ্রাবণধারা হয়ে হৃদয় শীতল করে। তুমি  তাকে চিনেছো কি? রাস্তার ধারে কদম ছায়া তলে — হাতভর্তি  কদমফুল, চোখভর্তি আলো তোমা পানে চেয়ে। দিও না ফিরায়ে সে ফুল,  দিও না শুখায়ে যেতে। চেয়ে নিও দু’হাত ভোরে। আকাশ ভর্তি ভালোবাসা কাজলা কালো মেঘ হয়ে তোমার শুষ্ক মুখ দেবে মুছে। ফিরাওনা তারে । -------------------------- Siddhartha Sankar Laha, Durgapur

রিভিউ ।। উপন্যাসঃ এক নদী দুই স্রোত ।। লেখকঃ বিশ্বনাথ প্রামানিক ।। আলোচকঃ জয়শ্রী ব্যানার্জি

গভীর এক উপলব্ধির প্রেমের উপন্যাস 'এক নদী দুই স্রোত' জয়শ্রী ব্যানার্জি    এই গল্প গড়ে উঠেছে শ্রীমন্ত, লক্ষ্মী,হাসিনাকে কেন্দ্র করে। তাদের ত্রিকোণ প্রেমের বাতাবরণে যেমন এক গভীর গোপন ভালোবাসার জন্ম নিয়েছে তেমনই প্রকাশিত হয়েছে মানুষের মধ্যে ঈর্ষা, সংকীর্ণতা, দুর্বলের প্রতি সবলদের দম্ভ ! যেসব চরিত্রগুলো উঠে এসেছে তাদের সবাই আর পাঁচজনের মতোই আলো আঁধারে মিশে আছে । কখনও ভালো কখনও কিছু মন্দ দিক দেখি । শ্রীমন্ত যাকে ভালো শান্ত, পরোপকারী হিসাবে দেখি, হাসিনার প্রতি তার যে গোপন এক  ভালোবাসা, ভালোলাগা ..আবার লক্ষ্মীকেও সে ঠিক উপেক্ষা করতে পারে না, এর মধ্যে কোথাও কোনো বাড়াবাড়ি নেই। ঠিক যেনো পাড়ার ছেলেটি! তার ভালোবাসা স্বপ্ন, ইচ্ছা, হতাশা অভিমান, অপেক্ষা, রাগ ক্ষোভ তার বেকারত্ব  তার প্রতি কিছুজনের কটূক্তি বা উপেক্ষা তার ভিতরের পুরুষকে কখনো জাগিয়ে তোলে কখনও যেন দমিয়ে রাখে!  অপরদিকে মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠা হাসিনাকে দেখি লাজুক, শান্ত পড়াশোনায় ভালো মেয়েটি । সেও যেনো খুব চেনা কোনো মেয়েটি । শ্রীমন্তর প্রতি তার যে আকর্ষণ তা পবিত্র লাগে । ওর জন্য নিজের জীবন দেওয়া হাসিনার...