Skip to main content

গল্প ।। আলেয়া ।। আবদুস সালাম


আলেয়া

আবদুস সালাম


এক:


জেলের কুঠরীতে বসে আছে শ্রাবণী ।চোখের কোনে  জড়ো হয়েছে কালি।এই কয়দিন খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো হয়নি । ঔজ্বল্য ভরা যৌবনে কে যেন মাখিয়ে দিয়েছে কালি । 

     নিজেরই উচ্ছলতা শ্রাবণী কে বিভ্রান্ত করে তুলেছিল। সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে সন্দীপ । সংসারে কোনো কিছুরই কমতি নেই । একদম গেরস্ত ঘর বলতে যা বোঝায় ।গ্রামে বসেই  শহরের সকল রকম সুবিধা ভোগ করতো । বউমা  হিসেবে  শ্রাবণী কে পেয়ে বিধবা শাশুড়ি আহ্লাদে আটখানা। প্রাণ দিয়ে ভালবাসেন শ্রাবণী কে ।একদিকে  শ্রাবণী যেমন বৌমা অন্যদিকে তেমনি মেয়ে ।সারাদিন মা মেয়ে মিলে নিজেদের উজাড় করে দিতো।

     বিশাল জমি জায়গা দেখাশোনা করা ,চাষের সময় মাঠে গিয়ে কাজের লোকদের কাজ বুঝিয়ে দেওয়া। এই নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয় সন্দীপ কে। সন্দীপ থাকে ঘোর সংসারী হয়ে।  আর শ্রাবণী চাই বাহির জীবনে নিজেকে ছড়িয়ে দিতে। শিমুল পলাশের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে  মেতে থাকতে চাই। মোড়ল মানুষের বাড়িতে সব সময় লোকজনের আনাগোনা লেগেই আছে ।এদিকটা অবশ্য যতটুকু পারে সরযূবালা সামাল দেয়। এনামি বেনামী তে অনেক জায়গার মালিক। জমি জায়গা টিকিয়ে রাখতে উকিল-মোক্তারদের  সাথে যোগাযোগ রাখতে হয় । গিন্নি মার  স্নেহধন্য উৎপল বাবু এই বাড়ির পারিবারিক উকিল। জমি জায়গার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও  পরামর্শের জন্য এই বাড়িতে তার বিস্তর আনাগোনা।


     দুই:


   সারাদিন জঙ্গিপুর বটতলায় মক্কেলকে  ঠেঙিয়ে ক্লান্ত মনের জানলা খুলে অবসাদ গুলোকে চাঙ্গা করতে শ্রাবনীর হাতে চা যেন ওষুধের কাজ করে । সাঁঝের বেলায় সন্দ্বীপ বাড়িতেই থাকে। জমিয়ে গল্প করে আটটা -নটা নাগাদ  বাড়ি যায় ।বিশেষ করে মায়ের স্নেহধন্য বলে সন্দ্বীপ কিছু মনে করে না ।বরং বিনা পয়সায় কিছু আইনি পরামর্শ পেয়ে যায়।

    শ্রাবনীর ক্রমবর্ধমান উচ্ছলতায় উৎপল যেন ক্রমশঃ দুর্বল হয়ে পড়ছে। ক্রমশঃ দিন দিন  যেন শ্রাবণীময়  হয়ে উঠছে উৎপল । কোর্ট থেকে ফেরার পথে সন্ধ্যায়  শ্রাবণীর হাতের চা আর জমিয়ে আড্ডা দেওয়া  যেন প্রতিদিনের কর্মসূচিতে রূপান্তরিত হতে চলেছে। ওর   হাতের এক কাপ চা না খেলে নিজেকে  আজ শূন্য মনে হয়  উৎপলের ।

শ্রাবণী ও সেজেগুজে অনুষ্ঠানের শ্রেষ্ঠ কলাকার হতেও কুণ্ঠাবোধ করে না , গল্প-গুজবে মেতে ওঠে অবগুণ্ঠন খুলে ।সারা দিনের জমানো ক্লান্তি দূর করে নিতে চেষ্টা করে । সরযুবালা ও কাছে এসে জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা এনে  হাজির করে ।  সাধ্যমত উৎপল ও সেগুলোকে আইনি পরামর্শ দেয় । উৎপলের  নিত্য আসা-যাওয়া সন্দ্বীপের মনে কোনো সন্দেহের উদ্রেক  করতো না । সন্ধ্যা হলেই উৎপল এর জন্য প্রহর গুনতে শুরু করে শ্রাবণী । যদি কোনদিন না আসে তবে একরাশ শূন্যতা যেন তাকে ঘিরে ধরে। অযাচিত একটা মিথ্যা প্রেমের  ফল্গুধারা যেন বইতে শুরু করে।

       সরযুবালা হঠাৎ একদিন অসুস্থ হয়ে পড়েন । মাদারল্যান্ড নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয় ।উৎপল নিজের কাজ ছেড়ে সন্দ্বীপ এবং সরযূবালা কে আগলে রাখে। এদিকে শ্রাবণী বাড়িতে একা ছটফট করে । এত বড় বাড়ি ফেলে আসতেও পারছেনা ।  একদিকে শাশুড়ি ঠাকুরণ  অন্য দিকে সন্দ্বীপ কি খাচ্ছে না খাচ্ছে তার ঠিক ঠিকানা নেই । তবে ঘন্টায় ঘন্টায় উৎপলের মোবাইলে ফোন করে জানতে পারছে ওদের  চলমান পরিস্থিতি । নার্সিংহোমে  রাতে একজনের  বেশী  লোক এ্যালাও করে না । কাছাকাছি রাতে থাকার মতো  ঘর দেখার চেষ্টা করেছেন । খুব চিন্তা । কিভাবে উদ্ধার হওয়া যায় ।  সঙ্গে সঙ্গে উৎপলের মনে পড়ে   বাল্যবন্ধু সালাম মাষ্টারের কথা । ও তো মাদারল্যান্ডের কাছেই থাকে । খোঁজ নিয়ে  দেখে   একদম মাদারল্যান্ড নার্সিংহোমের উল্টো দিকের বাড়ি খানায় বন্ধুর বাড়ি । উদ্ভূত পরিস্থিতির কথা জানায় । বন্ধুর কথা ফেলতে পারে না , রাজি হয়ে যায়     ।    উৎপল  সন্দীপের রাতে থাকার ব্যবস্থা করতে পেরে  একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ।

 সালাম মাস্টার বাড়ি  একদম ফাঁকা ।দোতলায় উঠে গেছে  । নিচেরটা ফাঁকা পড়ে আছে । ছেলেরা মেয়েরা কেউ থাকে না ।  বড়ো ছেলে বি বি সির এক্সিকিউটিভ ইন্জিনিয়ার , দূর্গাপুরে  থাকে । মেজো ছেলে ডাক্তার  ।সে ও থাকে না।মেয়ে ও  বিলাসপুরে পড়াশোনা করে ভাড়া দেয়ার কথা  মাথায় নেই । সামান্য কয়েকটা টাকার জন্য বাইরের লোক কে বাড়িতে ভরা । মোটেই না পছন্দের কাজ । মাঝে মাঝে মনে হয় ভাড়া দিলে অন্তত একজন বিনিপয়সার নাইট গার্ড পেয়ে যাবেন। অন্যান্য পাড়ার চেয়ে এখানে ভাড়ার অঙ্কটা ও বেশী । ইচ্ছে  থাকলে ও  গিন্নি বিস্তর বিরোধিতা করে । 

 উৎপল মাস্টার  নিচের তলার চাবিটা  চেয়ে নেয় । যতদিন থাকবে ততদিন নির্বিঘ্নে থাকতে পারবে টাকা পয়সা কিছুই লাগবেনা । তোর বন্ধুর মা  মানে আমার বন্ধুর মা । পড়ে আছে  তো । নির্বিঘ্নে থাকতে পারে বলে দে তোর বন্ধুকে । 

আলাদা  ঘরের ভীষণ দরকার 

 প্রচুর লোকজন আসছে । ফোনের পরে ফোন ।   গ্রামের লোকজন তো  পালা করে আসছে ।ঘরটা  পাওয়া তে কৃতজ্ঞতায় সন্দীপন একেবারে  গদগদ। বিষাক্ত ধর্মীয় বাতাস বইছে এখন । মানবিক দিকটা  এখন মানুষ ভুলতে বসেছে সবাই।এই অসময়ে একজন  ভিন্নধর্মী লোক কোন দ্বিধা না করে  চাবির গোছা তুলে দেন সন্দিপের হাতে। উৎপলের  বন্ধুত্ব ও সালাম মাষ্টারের মহানুভবতার কথা কোনদিন ভুলবে না সে।

    শ্রাবণী বাড়িতে একলা ।সন্দ্বীপের অনুপস্থিতিতে উৎপলের বেড়ে চলেছে ঘনিষ্ঠতা । সন্দ্বীপের অনুপস্থিতিতে বন্ধুপত্নীর দেখভাল তো তাকেই করতে হচ্ছে ।এছাড়া  কোর্টে আসার সময় বন্ধু এবং বন্ধু মাতার জন্য বাড়ি তৈরি খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাড়িতে আসতে হচ্ছে  রোজ । 

 শ্রাবণীও  শাশুড়ি- স্বামীর খাবার তৈরি করে অপেক্ষা করে থাকে উৎপলের জন্য ।এটা যেন উৎপলের প্রতিদিনের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  এই কাজের বোঝাটুকু হাসিমুখে বয়ে চলেছে উৎপল । সন্দ্বীপের অবর্তমানে দুজনে দুজনের  কাছাকাছি আসা ও বাড়িয়েছে ।

মাতৃসমা শাশুড়িকে দেখার জন্য শ্রাবণীর মন আনচান করে উঠেছে। সমস্যা হচ্ছে যাওয়ার ।উৎপল কে এই কথা জানাতে উৎপল বলে শ্রাবণী তুমি যদি চাও তো চাঁদে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে পারি, এ তো সামান্য নার্সিংহোম যাওয়া কথা। কালই তোমাকে দেখে নিয়ে আসব।

    পরদিন সকালে শাশুড়ি আর স্বামীর জন্য চটপট খাবার তৈরি করে হটপটে ভরে উৎপলের জন্য অপেক্ষা। হালকা ক্রিম রঙের শাড়ীর সাথে ম্যাচিং ব্লাউজ। আজ দারুন দেখাচ্ছে শ্রাবণী কে ।যেন শ্রাবণের মেঘ ঝরার অপেক্ষা শুধু। উৎপলের বেজে উঠতেই  সদর   দরজা  গেল খুলে । বিন্দুবৎ অপেক্ষা না করে বাইকের পিছনে গিয়ে  বসল ।গাড়ি চলতে শুরু করল মেঠো পথ ধরে।  হাইওয়ে না  ধরে গ্রামের পাশ দিয়ে যে রাস্তাটা মির্জাপুর হয়ে রঘুনাথগঞ্জে উঠেছে সেই রাস্তা ধরে চলতে শুরু করল তার বাইক ।    এবড়োথেবড়ো রাস্তায় নিজেকে সামলে রাখতে পারছেনা শ্রাবণী ।শত্রুতা করছে বাতাস আর সিল্কের শাড়ি ।  উৎপল বলে   দুই হাতে আমার কোমর  চেপে ধর ,নইলে পড়ে যাবে।

      সাহস পেয়ে কোমর ধরলো জাপটে ।           তপ্ত নিঃশ্বাস আর যৌবনের চাক্ষুষ অঙ্গের ঘষটানিতে দুজনে যেন মাতোয়ারা। অনাবিল আনন্দে নিজেকে ডুবিয়ে নিতে চাইছে যেন। কেউ মুখ ফুটে কিছু বলছে না। অথচ শরীরের প্রতিটি প্রত্যঙ্গ  বিদ্রোহের ভঙ্গিতে বোবালোকের মতো আকার-ইঙ্গিতে জানিয়ে দিচ্ছে প্রাণের আকুলি-বিকুলি । "বাগিড়া এন্ড সন্স মিষ্টান্ন ভান্ডার "মির্জাপুরের বিখ্যাত মিষ্টির দোকান ।  সব ধরনের স্পেশাল মিষ্টির নির্ভর যোগ্য প্রতিষ্ঠান । এখান সকালে  গরম গরম পুরী আর ল্যাংচা  । এর স্বাদই আলাদা। একবার যে খেয়েছে তাকে  মনে রাখতেই হবে এর স্বাদ। এখানে দুজনে  সেরে নেয় সকালের টিফিন টা । শ্রাবনী ও তো কোনদিন  এখানের  পুরী ল্যাংচা খাইনি শ্রাবণী  চেপে বসে  বাইকের পিছনে ।সুপ্ত আগ্নেয়গিরি যেন অব্যক্ত কোনো শক্তির ছোঁয়ায়   ধোঁয়া উড়াতে শুরু করেছে।

অনেকদিন না দেখা শাশুড়িকে দেখে প্রাণ ফিরে পেল শ্রাবণী । দুজনে চোখের জলে ভাসালো কিছুক্ষণ। মনের জানালা দিয়ে বাতাস প্ গতি পেলো ।মা আপনার অবর্তমানে আমি যে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম । আপনি না থাকলে যে আমি সর্বহারা হয়ে যায়  ।ভগবান আপনাকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করুন । প্রায় সাত দিন স্বামী প্রেম থেকে বঞ্চিত শ্রাবনী । যতটা পারলো স্বামীকে আর শাশুড়ি কে সেবা-যত্ন দিয়ে ভরিয়ে দিল ।এতে শাশুড়ি যেমন বৌমা কে পেয়ে  খুশি তেমনি সন্দীপ ও  বউকে কাছে পেয়ে খুব খুশি। সালাম সাহেবের ঘরে সব জমানো বিরহের অবসান ঘটিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুললো দুজনে ।

         এদিকে উৎপলের মন উতলা  ।কিছুতেই কোর্টের কাজে মন বসাতে পারছে না । মোহরী  সুজয় উৎপলকে  বলে কি ব্যাপার উকিল বাবু আপনাকে আজ এত উদাস লাগছে কেন? কিছু হয়েছে নাকি? শরীর ঠিক আছে তো !  উৎপল কিছুই খুলে বলতে পারছেনা  ।কিছু হয়েছে বয়কি। শ্রাবণীর কাছে আসা  আজ তার মনে ধরিয়েছে আগুন । অলীক ভাবনার বুনো হরিণ দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করছে  । অলীক কল্পনার জাল বিস্তার করে চলেছে মনে । কখন ছুটি হবে কোর্ট? মন যে আজ বাঁধা পড়ে আছে শ্রাবণীর আঁচলে----

 আরে না না   কিছু হয়নি । শরীর টা  সহযোগিতা করছে নং মোহুরী সাহেব ।শরীরটা খারাপ লাগছে তাই কাজে মন বসাতে পারছি না । অজুহাত দেখিয়ে  সুজয়ের কাছ থেকে অব্যাহতি পেলে ও কিছুতেই নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেনা আজ।

"মন যে আমার হারিয়ে গেছে কোন খানে

কেউ জানে না কেউ জানে মন জানে"------

 নির্দিষ্ট সময়ের আগেই যুবরাজ মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকে সরজু বালার পছন্দমত সন্দেশ, রসমালাই ,আর কিছুই নিমকি নিয়ে নিল। সঙ্গে কিছু ফল আপেল ,বেদানা । সন্দীপ বলে উৎপল এত কিছু আনার কি দরকার ছিল তোমার ! মা তো এগুলো খেতে পারছেনা। ডাক্তার অবশ্য খেতে নিষেধ করেননি ।

 আরে যতটুকু পারবেন খাবেন , না হয় তুমি তো আছো। আর এই কয়দিনে তোমার যে কি হাল হয়েছে ।তুমিও রোগী  বনে  গেছ  সন্দীপদা ।


সাঁঝালী  শীতে বিকেলের সূর্য যেন তাড়াতাড়ি ছুটছে দিগন্তে  বিলীন হওয়ার জন্য ।কোথাও দূরে গেলে গরু যেমন বাড়িতে   যত দ্রুত সম্ভব তাড়াতাড়ি ফিরে আসবার জন্য উদগ্রীব থাকে তেমনি  উৎপলের হয়েছে  তেমনি  হাল। সূর্যটাও যেন গোধুলীর রঙে নিজেকে রাঙিয়ে মেশাতে চাইছে তাড়াতাড়ি অস্তাচলে । প্রকৃতি নিজেকে  আজ অপরূপ  সাজে  নিজেকে সাজিয়ে তুলেছে ।উৎপল বলে  আজ তুমি থেকে যাও । আমি বাড়ি দেখছি ‌। আমাকে নিঃসন্দেহে ভরসাকরতে কর পারো । বাড়ি পাহারা আমি দেবো ।আমাকে চাবিটা দিয়ে দাও ।

বৌমা রাত হয়ে যাবে। রাতে যেতে তোমাদের   অসুবিধা হবে ।মে সব রাস্তা খারাপ । আমি তো মোটামুটি এখন ভালোই আছি। তোমরা এসো । গাড়িতে স্টার্ট দিলো উকিল সাহেব । ঝড়ের গতিতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো ওরা দুজন । দুজন দুজনের মনের আবেগের কথা বলতে বলতে এসে ঢুকলো বাড়ি।

রাত হয়ে যাওয়ায় কাজের মেয়ে বিমলা বাড়ি চলে গেছে। দরজা খুলতেই একরাশ দমকা হাওয়া খাঁ খাঁ করে ছুটে এল । এতবড় বাড়িতে একলা রাত্রিযাপন । শ্রাবণীর গা শিউরে উঠল । উৎপল বলে শ্রাবণী থাকো । আমি বাড়ি রায় । শ্রাবণী কিছুতেই হাতছাড়া করতে চায়না উৎপল কে। কি যে হয়েছে আজ কে জানে ।ওরা কি কোন নতুন খেলায়  হারিয়ে যাবে আজ । হায়রে  নারী মন ---কথায় আছেনা " জল জঙ্গল নারী, তিন জানের বরি"-----।


      বহুদিনের সুপ্ত কামনার আগুনে উৎপল কে আজ পোড়াবেই । অজানা নেশায় সে যেন আজ মত্ত। নিজেকে  সে  আজ উজাড় করে দিতে চাই ,সপে দিতে চাই  তার মন প্রাণ। উৎপলের আপত্তি অজুহাত কোন কিছুই সে আজ মানতে রাজি নয় ।পুলিশ যেমন থানায় নিয়ে গিয়ে অপরাধী কে জোর করে জবানবন্দি আদায় করে, ইচ্ছে মতো কাগজে সই করিয়ে নেয়। শ্রাবণী ও তেমনি আজ উৎপলকে বন্দী করে ঘরে তুলেছে।  ইচ্ছার বিরুদ্ধে  যা খুশি করিয়ে নিতে আজ বদ্ধ পরিকর । আর পেয়ে গেছে সেই সুযোগ ।কামনার আগুনে ঝলসে দেবে আজ । মাতাল মন  ভুলে গেছে পত্নীপ্রাণা স্বামী আর শাশুড়ির কথা । আজ সে  দিশে হারা । নিজেকে  আজ সামলে রাখতে পারছে না কিছুতেই।


     তিন


       অবৈধ প্রেমের খেলায় মত্ত শ্রাবণী নিখুঁত অভিনয় করে চলেছে । দিন  দিন  শাশুড়ির অসুখ কমতে চাইছে না। জীবন দায়ী ওষুধ গুলো ঠিক মতো খাওয়াচ্ছেনা । অবস্থা  ক্রমশঃ খারাপ হতে শুরু করে। দিন কয়েক পার হতে না হতেই মৃত্যুর      কোলে   ঢলে পড়ে  প্রাণাধিক শাশুড়ি । ভগবান  তাঁকে নিয়ে যায় অচিনপুরে ।

অঢেল সম্পত্তি, নামে-বেনামে রাখা ।এই সকল সম্পত্তি কে বৈধ করতে উৎপল ই  একমাত্র ভরসা। ক্রমশঃ উৎপল এর উপর নির্ভরতা বাড়ে সন্দীপের । এদিকে শ্রাবনী ও বাড়তি  সুযোগ পেয়ে  তার সদ্ব্যবহার করতে ছাড়ছেনা । একই টেবিলে সব  আলোচনা হওয়ায় বহু কিছু তথ্য তার জানা হয়ে গেছে । নিখুঁত অভিনয় করে চলেছে  কুহুকিনীর ভূমিকায়। কুটিল ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে চলেছে মনে মনে । চাষা সন্দীপের ঘর ছেড়ে স্মার্ট  উকিল উৎপলের ঘর করতে তার ইচ্ছে জাগে ।  শাশুড়ি গত হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই হাওয়া উল্টোদিকে  বইতে শুরু করে । কোন বাধা  কে  সে বাধা হিসেবে মনে করছে না। স্মার্ট  উকিল সাহেব যেহেতু সঙ্গে আছে  । অদ্ভুতএক নেশা তাকে আচ্ছন্ন করে নিয়েছে । শুরু হলো ষড়যন্ত্র ।শুরু হলো পূর্ণ সুযোগের অপেক্ষায় দিনগোনা।

   

     আশ্বিন মাস পুজোর গন্ধ আসছে আকাশে-বাতাসে ।সবাই একটু বাড়তি আমোদের জন্য দেশি-বিদেশি এনে  রেখেছে বাড়িতে ।   উকিল বাবু সন্দীপের জন্য  এনে দেয় খাঁটি বিলেতি । নেশা কোনদিন করে না সন্দীপ । উকিলের পাল্লায় পড়ে একটু খানি চেখে দেখা।    শ্রাবণী উৎপলকে পাওয়ার নেশায় মাতাল  ।দু একদিন এভাবে চলতে চলতেই শ্রাবণী  সন্দীপের  গ্লাসে দিল ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে। উৎপল হয়ে যায় অচৈতন্য। অচৈতন্য তার  সুযোগে  ওরা  নিজেদেরকে বিলীন করে দিতে ছাড়েনা।  বন্ধুর সাথে বন্ধুর বাড়িতে চালিয়ে যায় রাসলীলা। চাষা সন্দীপের সান্নিধ্য একদম ভালো লাগছে না শ্রাবণীর । শ্রাবণী একেবারেই নিজের করে পেতে চাই উৎপল কে ।  উৎপল বলছে এই তো ভালই চলছে । এমনি করেই চলুক না। কোনো টেনশন নেই।    এই  উত্তর কিন্তু কিছুতেই শ্রাবণী কে সন্তুষ্ট  করতে পারছে না ।একেবারেই পেতে কি করতে হবে এই পরামর্শ চাইছে  বারবার উৎপলের কাছে ।  উৎপল যতই নিরস্ত করার চেষ্টা করে ততো ই শ্রাবণী আজ নাছোড়বান্দার মতো গোঁ ধরে বসে আছে।

  উৎসবের দিন গুলো সন্দ্বীপের খুব ভাল যাচ্ছে না । মাত্র মাতৃবিয়োগ এর ধাক্কায় তার শরীর ও মন ভেঙে গেছে । যে বটগাছের  ছায়ায় নিশ্চিন্তে দিন যাপন করছিলেন , সেই বট গাছ টা আর নেই ।  কালবৈশাখী ঝড় যেমন ক্ষণিকে সব লন্ড ভন্ড করে দিয়ে যায় তেমনি সরজুবালার মৃত্যু  জীবনের সব মানে কে লন্ড ভন্ড করে দিয়ে গেছে।তার মাথার উপর থেকে  ছাদ উড়ে গেছে।


     ডাক্তার দেখাতে শহরে যেতেও একমাত্র ভরসা সেই উৎপল। শ্রাবণী মায়াকান্না কাঁদে ।সন্দ্বীপকে সান্ত্বনা দেয়  দু তিন দিন কোর্টের কাজে খুব ব্যাস্ত থাকবে উৎপল দা। ভুল ওষুধ খাইয়ে সন্দ্বীপ কে  দিন দিন  দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে  ভিতর ভিতর । ঘুমের ওষুধের মাত্রা দিয়েছে বাড়িয়ে । স্বভাবতই দিন দিন  নেতিয়ে পড়েছে সে।   অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে পাশের ঘরে  প্রায় প্রতিদিনই ওরা মেতে উঠছে  রাশলীলায়। অন্যান্য ঘরগুলো শাশুড়ির অবর্তমানে  খাঁ খাঁ করছে।    কাজের মেয়ে টাও চলে গেছে।

    রাত বেড়েছে।  ডবল ঘুমের ওষুধ খাওয়াতে গলা শুকিয়ে কাঠ ।  চোখ জড়ানো অবস্থায় সন্দ্বীপ জল খাব  জল খাব বলে  চেঁচামেচি করে।   এদিকে ওরা রঙ্গলীলায় মগ্ন শুনতে পাই নি । ভাবছে শ্রাবণী হয়তো অন্য কাজে ব্যস্ত আছে ‌। থামতে না পেরে অগত্যা বিছানা ছেড়ে উঠে আসে জল  খাওয়ার জন্য।

    সন্দীপ  নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না  যেন ।প্রায় বিবস্ত্র হয়ে দুজন দুজনে মিশে আছে। সন্দীপের  চিৎকারে যখন  নিজেদের বিচ্ছিন্ন করেছে তখন  ওরা সম্পুর্ন বিবস্ত্র। যেন দুটো আদিম মানব মানবী । সন্দীপ যেন ভূত দেখছে ।শ্রাবণী এখন সন্দীপের চোখে একটা নষ্ট মেয়ে ছাড়া কিছুই নয় ।

  সন্দীপ চোখে সর্ষেফুল দেখছে ।তার সব বিশ্বাসের ইমারত যেন হুড়মুড়িয়ে পড়তে প চলেছে ।  বিশ্বাস ঘাতকিনীর সাথে সংসার যাপন করার কোন মানেই হয়না ।তুমি নষ্টা , তুমি  নষ্টা, তুমি বেশ্যা তুমি বেশ্যা-----

 শ্রাবণী উৎপল কে পাওয়ার নেশায় বিভোর । কাছে ছিল ফল কাটা ছুরি, ঢুকিয়ে দিল সন্দ্বীপের পেটে ।রক্তাক্ত হয়ে গেল সারা ঘর । দুর্বল সন্দীপ দুচার বার  লাফালাফি করে মৃত্যুকে কাছে টেনে নিলো ।  চোখদুটি আধবোজা অবস্থায় দেখে নিচ্ছিলো তার বিশ্বাস ঘাতক  প্রাণাধিক স্ত্রী কে।  সুযোগ বুঝে উৎপল বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে । চালাক মহিলা চোর চোর  বোলে  জুড়ে দিল   চিৎকার ।  পাড়ার লোকেরা ছুটে এসে দেখে পড়ে আছে সন্দীপের রক্তাক্ত  নিথর  দেহটা। ওরা অগত্যা খবর  দেয় পুলিশে । হাজির হয় পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠিয়ে দেয় মর্গে।পুলিশের প্রাথমিক অনুমান প্রেম ঘটিত মনে হওয়ায়  শ্রাবণীকে   ধরে নিয়ে যায় থানায় ।


     শ্রাবণী ভেবেছিল উৎপল তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে। কেননা এই কাণ্ড  তো উৎপলকে ঘিরেই। কিন্তু না চতুর উকিল  ত্রিসীমানায় বাড়ায়নি । একজন বিশ্বাসঘাতকের কথায় পাগলীনি হয়েছিল সে। 

অনুশোচনায় জেলখানায় বসে বসে   ছিঁড়ে চলেছে  নিজের মাথার চুল।


###

     

    


আবদুস সালাম
প্রয়াস, শ্রীকান্তবাটি, মাদারল্যান্ড,
ডাক রঘুনাথগঞ্জ , মুর্শিদাবাদ ৭৪২২২৫



Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

মতামত/লেখা এখানে জমা দিন

Name

Email *

Message *

সাম্প্রতিক বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

প্রবন্ধ ।। বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার

নীরবতার মহাকাব্যকার:  বেলা তার ও চলচ্চিত্রের দর্শন উৎপল সরকার বিশ শতকের শেষ ভাগ ও একবিংশ শতকের শুরুর দিকের বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে এমন কিছু নির্মাতার নাম উজ্জ্বল হয়ে আছে, যাঁরা মূলধারার বিনোদনমুখী সিনেমার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সময়, নীরবতা ও অস্তিত্বের গভীর প্রশ্নকে চলচ্চিত্রের ভাষায় রূপ দিতে চেয়েছেন। হাঙ্গেরীয় চলচ্চিত্রকার বেলা তার ছিলেন সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যাঁর সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা কেবল গল্পগ্রহণ দর্শননার আস্বাদন নয়—বরং ধৈর্য, মনোসংযোগ ও আত্মঅনুসন্ধানের এক দীর্ঘ যাত্রা।এই সেদিন ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি বুদাপেস্টে তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব চলচ্চিত্র হারাল ধীরগতির চলচ্চিত্র ধারার এক অগ্রপথিককে। ১৯৫৫ সালের ২১ জুলাই হাঙ্গেরির পেচ শহরে জন্ম নেওয়া বেলা তার কৈশোর থেকেই সমাজ ও মানুষের প্রতি গভীর আগ্রহ অনুভব করেছিলেন। তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ তাঁকে বাস্তবতার খুব কাছ থেকে জীবন দেখার সুযোগ দেয়। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীকালে তাঁর চলচ্চিত্রে রূপ নেয় নিরাবরণ, নিষ্ঠুর অথচ মানবিক এক ভাষায়। তিনি ছিলেন কেবল একজন পরিচালক নন—একজন চিন্তাবিদ, যিনি ক্যামেরাকে ব্যবহার করেছেন দর্শনের অনুসন্ধানী ...

গুচ্ছকবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী

গুচ্ছকবিতা ।। স্নেহা ঘণ্টেশ্বরী বিস্মৃত ঐতিহ্যের অবগাহন পৌষের শেষ প্রহরে যখন কুয়াশার চাদর নামে ধরণীর গায়, মহাকালের এক দীর্ঘশ্বাস প্রতিধ্বনিত হয় আদিগন্ত নীলিমায়। পঞ্জিকার পাতা ওল্টানো মানে তো কেবলই তিথি বদল নয়, সংক্রান্তি মানে জরাজীর্ণের মৃত্যু, এক নতুনের শুভ্র উদয়। এ এক সন্ধিক্ষণ—যেখানে শীতের রিক্ততা আর বসন্তের হাতছানি, মৃতপ্রায় পত্রপল্লবে জাগে প্রাণের এক গোপন শিরশিরানি। উত্তরায়ণের সেই ধ্রুব আহ্বানে সূর্য ফেরেন মকর রাশিতে, পৃথিবী হাসে এক শাশ্বত সত্য আর ত্যাগের আদিম হাসিতে। গঙ্গাসাগরের পুণ্য তোরণে যখন আছড়ে পড়ে নোনা জল, তীরে তীরে জেগে ওঠে লক্ষ মানুষের এক অমোঘ মোক্ষফল। কপিল মুনির আশ্রম থেকে ধোঁয়া ওঠা আগুনের কুণ্ডলী— সাক্ষী দেয়, আমরা ভুলেছি আমাদের শিকড়, ভুলেছি সব পদাবলী। সেখানে রাজা সাগরের পুত্রের দীর্ঘশ্বাস আজও বাতাসে ভাসে, বিগত দিনের পাপ আর গ্লানি কি মোছে কেবল গঙ্গার গ্রাসে? আমাদের সংস্কৃতি—সে তো কেবল পিঠে-পুলির বিলাসিতা নয়, সে তো এক সংগ্রামের ইতিহাস, যেথা মেধা আর শ্রমের হয় জয়। মাটির হাঁড়িতে যখন ধোঁয়া ওঠে নতুন আমন ধানের সুঘ্রাণে, এক বিষণ্ণ কৃষকের তৃপ্তি জেগে ওঠে মাটির নিভৃত কোণে। যান্ত্র...

দুটি কবিতা ✍️ সিদ্ধার্থ লাহা

দুটি কবিতা ✍️ সিদ্ধার্থ লাহা নষ্ট চাঁদ   নষ্ট চাঁদ তুমি চলে গেলে। শিরায় শিরায় লবণ জলের জোয়ার,  বদ্যি দেখাতে হবে—তুমি ভাবেছো কখনো? সাদাকালো শীর্ণ জলছবিরা  ভেসে বেড়ায় এদিক সেদিক বেঁচে আছে , আছে বেঁচে তবু! কোন একদিন কোজাগরী চাঁদ দেখবে বলে,  নিজেরাও জেগে ফেরে আমাকেও  দেয় না ঘুমাতে। নষ্ট চাঁদ—আমার শরীরে লবণ জলের জোয়ার। গাল দিয়ে নেমে যায় সাগরে  মেশাবে বলে। কদম ছায়াতল তপ্ত মনের বালুকামাঝে —   সবুজ বনানী  আঁকে। বন্যার জলে—নৌকা বাড়িয়ে দেয়, সাঁতার জানো না বলে। রাত-গভীরে স্বপ্নের মাঝে প্রজাপতি হয়ে উড়ে— তুমি দুঃস্বপ্ন দেখো পাছে। তেষ্টা কালে মরু তৃষ্ণার শ্রাবণধারা হয়ে হৃদয় শীতল করে। তুমি  তাকে চিনেছো কি? রাস্তার ধারে কদম ছায়া তলে — হাতভর্তি  কদমফুল, চোখভর্তি আলো তোমা পানে চেয়ে। দিও না ফিরায়ে সে ফুল,  দিও না শুখায়ে যেতে। চেয়ে নিও দু’হাত ভোরে। আকাশ ভর্তি ভালোবাসা কাজলা কালো মেঘ হয়ে তোমার শুষ্ক মুখ দেবে মুছে। ফিরাওনা তারে । -------------------------- Siddhartha Sankar Laha, Durgapur

রবীন্দ্রনাথের গান—"তাই তোমার আনন্দ আমার পর"—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল

রবীন্দ্রনাথের গান  "তাই তোমার আনন্দ আমার পর" — একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ভুবনেশ্বর মন্ডল  রবীন্দ্রনাথের গান শুনলে এবং পাঠ করলে একটা বিশেষ অনুভূতি জাগে মনের মধ্যে। রবীন্দ্র সংগীতের জন্ম যেন রবীন্দ্রনাথের হৃদয়ের অতল গভীর থেকে। আমার মনে হয় এ এই গান কৃত্রিমভাবে সাজানো কোন কথা নয়। এক বিশেষ মুহূর্তের বিশেষ উপলব্ধি জাত সত্য। কবি যেন ধ্যানতন্ময় হয়ে অনুভূতির গভীরে ডুবে হৃদয় সমুদ্র মন্থন করে থেকে রত্ন তুলে এনেছেন তাঁর গানে। রবীন্দ্রনাথের গান যেন কোন বিশেষ ব্যক্তির কথা নয়। এ এক বিশ্বজনীন অনুভূতি ও সত্য। বিশ্বের যে কোন মানুষই নিজেকে মেলাতে পারেন কবির ওই অনুভূতির সঙ্গে। তাঁর মনে হবে এ যেন আমারই কথা, আমারই অনুভব, আমারই উপলব্ধি জাত সত্য। রবীন্দ্রনাথের গানে রয়েছে এক মহাব্যাপ্তি। রবীন্দ্রনাথ তাঁর গানে যেন সত্য দ্রষ্টা ঋষি তুল্য। মনের সূক্ষ কোমল অনুভূতি গুলি নিয়ে নাড়াচাড়া করেছেন তাঁর গানে। গানগুলি স্বতঃস্ফূর্ত ঝর্ণাধারার মতো। কবি যেন আত্মসমাহিত। তাঁর বিভিন্ন পর্যায়ের গান রয়েছে। প্রেম, প্রকৃতি, পূজা,আনুষ্ঠানিক, স্বদেশ প্রেম মূলক ইত্যাদি। রবীন্দ্রনাথের উপর উপনিষদের গভীর প্রভাব...

কবিতা ।। নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল

নৈকট্য রহিত ঘোষাল  আমি এখন বেসিনে হাত ধুয়ে নিচ্ছি অত্যন্ত অশালীন ভাষায়,  বেরোনোর সময় আমরা এতটা কাছাকাছি এসে পড়লাম যে চোখ এড়ানো গেল না, সে আমাকে জিজ্ঞাসা করল, কতক্ষণ আমি কথা না বলে আছি  এবং যা আমাকে এতটা নোংরা করে ফেলেছে, সে আমাকে বারবার জিজ্ঞাসা করল, আমি মনে মনে ভাবলাম ঠিক যতদিন আমি প্রয়োজনীয়তা ও বিলাসিতার মধ্যে তফাত করতে পারিনি।  সে আমাকে আবার জিজ্ঞাসা করল,  এবার আমার হাত ধরে,  তারপর সে আমার সঙ্গে এই ভার ভাগ করে নিতে চাইল। ================== রহিত ঘোষাল বাঁশদ্রোণী সোনালী পার্ক কলকাতা ৭০

মানরক্ষে ।। অরবিন্দ পুরকাইত

  মানরক্ষে অরবিন্দ পুরকাইত ভক্তজনে মনে মনে দেয় যে কত গালি সামনে এনে সাজিয়ে কি নেয় কেড়ে কেউ থালি! দিলাম এমন জয়ধ্বনি জেতার আগে জিতে কেমন বিড়ম্বনায় ফেলে! কাটব কীসের ফিতে! কত কথাই বলে ফেলি খুব বড় মুখ করে  খাড়া করে যতেক শত্রু পরে এবং ঘরে। এমন করলে মান কি থাকে একটা কিছু করো রাঘববোয়াল নাই বা পার, চুনোপুঁটি ধরো। পরের শাস্তি ভীষণ কঠিন, আছে তার উপরে  ঘরের শাস্তি, নেহাত কি কম! কে শব্দ টুঁ করে? নজরকাড়া ছাড়ো যা হোক সেটাই বা কম কীসে ব্যর্থতাটা ঢাকুক কিছু মিলুক খানিক দিশে। ==========

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

কবিতা ।। বটগাছ ।। জীবন সরখেল

বটগাছ  জীবন সরখেল  আশ্রয় নির্ভরতার প্রতীক  শান্তি সুখের ছায়া  পশু পাখি প্রাণীর জন্য  মায়ায় ভরা কায়া! স্বয়ং ভগবান প্রতিরূপ  জীবনের সাম্-গানে বটগাছ এক উঁচু পতাকা  ত্যাগ তিতিক্ষার মানে। ষষ্ঠী ঠাকুর বা ভৈরব স্থান  পথিকের ঠিকানায়  বটগাছ যেন শেষ সমাধান  জীবনের দোটানায়। কড়া রোদ হোক বৃষ্টি ঝড়ের  বিপদ নিবারণে  বটগাছ পরিত্রাতা হয়ে  দাঁড়ায় এসে সামনে। পঞ্চপল্লব মিষ্টি ফলের বিকল্প কিন্তু নাই  ধর্ম কর্মে জীবন চর্যায়  আজ বটগাছ খুঁজি তাই.... _________________

কবিতা ।। জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক

জেগে ওঠে সুমিত মোদক  বাউলের গলা টিপে ধরলে  লালন সাঁই সমাধি মধ্যে কাঁদে; কাঁদে বাংলা ভাষা, মাটির সুর… মানুষ পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় ভবিষ্যতের; ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে  সর্বহারা চোখ; মাটির প্রতিমার মুণ্ড কেটে নিলে চুপ করে থাকে দখিনা বাতাস, প্রীতি ও বুদ্ধি; হারিয়ে যায় জন্ম ভিটে; দিন দুপুরে নাবালিকা তুলে নিয়ে যায় নেকড়ের দল; সনাতনী শরীর নিয়ে উল্লাসে মাতে; ফাঁকা মাঠে পড়ে থাকে  গোটা এক জাতি, মানচিত্র; ঠাকুর শিল্পীর  রক্তাক্ত মৃত দেহের উপর উৎসব  শুরু হলে জেগে ওঠে  কর্ণসুবর্ণের শশাঙ্ক, গৌড়ের মাটি।

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

কবিতা ।। বসন্তের কোকিল তুমি ।। বিচিত্র কুমার

বসন্তের কোকিল তুমি   বিচিত্র কুমার                      (০১) তোমার দু-আঁখির গহীন অরণ্যে একটা স্বপ্নের বহমান নদী রয়েছে, তারই রেশ ধরে আমি হেঁটে চলি অজানা বসন্তের পথে নীর উদ্দেশ্যে। সে চলার কোন শেষ সীমা নেই তাই আমার বিষণ্ণ একতারা সন্ন্যাস খুঁজে ফিরে , কবে তুমি বুঝবে অনুশ্রী মনের পর্দা খুলে একুশ বসন্ত তোমার রঙ ছিটিয়ে যাচ্ছে অচিনপুরে। এদিকে আমার দেহের প্রতিটি শিরা ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে তোমার ভালোবাসার একটু উষ্ণতা পাবার জন্যে, শুধু অনুভবে তাণ্ডব উচ্ছাসিত হচ্ছে--- যেদিকে তাকাই --- ফুলে ফুলে ভ্রমর গুনগুনিয়ে উড়ে উড়ে পরে বসন্তের কোকিল গান গায় নব বসন্তে, তোমার দুই চোখে আমার একই ছায়া রয়ে যায় উতলা ভালোবাসার সীমান্তে।                 (০২)        এক রক্তাক্ত বসন্তের স্মৃতি কোন এক উতলা বসন্তের সকালে পুষ্পবনে ফুটেছিল একটি টকটকে লাল গোলাপ, তার সাথে হয়েছিলো দেখা প্রথম ফাগুনে হয়েছিল দুজনার এ জীবনের আলাপ।  তারপর প্র...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

বছরের বাছাই

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৮৭তম সংখ্যা ।। জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ মে ২০২৫

  প্রচ্ছদ চিত্র: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সূচিপত্র রবীন্দ্রনাথ এবং কয়েকজন নারী ।। অনিন্দ্য পাল পরাবাস্তববাদ ও বাংলায় জীবনানন্দের কাব্যচর্চা ।। রণেশ রায় প্রতীক্ষা ।। চন্দন দাশগুপ্ত আশ্রয় ।। সায়নী সাহা বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র ।। দেবাংশু সরকার প্রণামের প্রভু ।। সুপ্রভাত মেট্যা দুর্ভাগ্যের সম্মুখ সমরে ।। সমীর কুমার দত্ত আচমকা শরৎ ।। অর্ণব সামন্ত প্রতিধ্বনি ✍️ সুবীর কুমার ঘোষ জীবন যেখানে যেমন ।। আরজু মুন জারিন বছর সীমান্তে হিসেব নিকেশ ।। রানা জামান চারটি কবিতা ।। বিবেকানন্দ নস্কর আমরা আছি ।। লালন চাঁদ চাওয়া ।। মাথুর দাস কাগজ ফুলে ।। সফিউল মল্লিক সময়ের স্রোত ।। দুর্গাদাস মিদ্যা তুমি মানুষ ।। বদরুল বোরহান দিঘার সমুদ্র ।। মাখনলাল প্রধান পুস্তক-আলোচনা ।। অরবিন্দ পুরকাইত সংযম ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত  চেনা প্রতিবেশী (প্রথম পর্ব) ।। দীপক পাল খেলার মাঠ ।। তূয়া নূর বন্ধু শ্যামলকান্তি ।। শংকর ব্রহ্ম তুমি তোমার মতো থাকলে ।। সত্যেন্দ্রনাথ বেরা গ্রীষ্মে খুবই হিংস্র রবি ।। জগবন্ধু হালদার স্বপ্ন দর্শন ✍️ পার্থ প্রতিম দাস মৌন মুখরতা ।। মুসা মন্ডল রুদ্র বৈশাখ ।। দীনেশ সরকার চিহ্নিত পদযুগ পদাঘাত ।। দেবাশীষ...

সূচিপত্র ।। ৮৯তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩২ জুলাই ২০২৫

সূচিপত্র   প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস কবিতা ।। মশালের রং তুলি ।। তূণীর আচার্য কবিতা ।। জললিপি ।। রূপক চট্টোপাধ্যায় গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম নিবন্ধ ।। পূনর্জন্ম ।। শংকর ব্রহ্ম মুক্তভাবনা ।। কোলাহল তো বারণ হলো ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত গল্প ।। গানের হাড় ।। শুভজিৎ দত্তগুপ্ত গল্প ।। শিকড়ের খোঁজে ।। সমীর কুমার দত্ত সুপ্রভাত মেট্যার পাঁচটি কবিতা গ্রন্থ-আলোচনা ।। আবদুস সালামের কাব্যগ্রন্থ 'অলীক রঙের বিশ্বাস'।। তৈমুর খান অণুগল্প ।। হরিবোল বুড়ো ।। সুমিত মোদক রম্যরচনা ।। গোয়েন্দা গোলাপচন্দ আর প্রেমের ভুল ঠিকানা ।। রাজদীপ মজুমদার দুটি গল্প ।। মুহাম্মদ ফজলুল হক দুটি কবিতা ।। তীর্থঙ্কর সুমিত কবিতা ।। মেঘমুক্তি ।। বন্দনা পাত্র কবিতা ।। ব্যবচ্ছিন্ন শরীর ।। কৌশিক চক্রবর্ত্তী কবিতা ।। শমনচিহ্ন ।। দীপঙ্কর সরকার কবিতা ।। ভালোবাসার দাগ ।। জয়শ্রী ব্যানার্জী কবিতা ।। ফণীমনসা ।। বিবেকানন্দ নস্কর ছড়া ।। আজও যদি ।। বদ্রীন...

প্রচ্ছদ, সম্পাদকীয় ও সূচিপত্র ।। ৮৬তম সংখ্যা ।। বৈশাখ ১৪৩২ এপ্রিল ২০২৫

সম্পাদকীয় এই সংখ্যাটি বাংলা নববর্ষ বিষয়ক সংখ্যা। নৱৰ্ষকেন্দ্রিক বহু তথ্যপূর্ণ লেখা এই সংখ্যাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস, রীতিনীতি, উৎসব, পার্বন, লোকাচার, রূপান্তর বহুবিধ বিষয় প্রকাশিত হয়েছে এই সংখ্যার লেখাগুলিতে। এই সংখ্যার বাছাই কিছু লেখার সঙ্গে আগামীতে আরও কিছু লেখা সংযুক্ত করে বাংলা নববর্ষ বিষয়ক একটি মুদ্রিত সংখ্যা প্রকাশ করার ইচ্ছে রইল।  সকলকে নববর্ষের আন্তরিক শুভকামনা জানাই। উৎসবে আনন্দে থাকুন, হানাহানিতে নয়। ধর্ম-ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত ব্যর্থ করে সহনাগরিকের পাশে থাকুন। মনে রাখুন, ধর্মকে মানুষই সৃষ্টি করেছে। ঈশ্বর আল্লা গড ইত্যাদির জন্মদাতা মানুষই। মানুষকে ভালোবাসুন। মানুষের পাশে থাকুন।  নিরাশাহরণ নস্কর  সম্পাদক, নবপ্রভাত।  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ-স্মৃতিকথা পয়লা বৈশাখ ।। সিদ্ধার্থ সিংহ নববর্ষকেন্দ্রিক মেলা, পার্বন, উত্সব, লোকাচার ।। সবিতা রায় বিশ্বাস নববর্ষ আবাহন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিভিন্ন দেশে ।। তুষার ভট্টাচার্য নববর্ষের সেকাল ও একাল ।। হিমাদ্রি শেখর দাস নববর্ষের হাল-হকিকৎ ।। শংকর ব্রহ্ম বোশেখি বাঙালি নাকি পোশাকি বাঙালি? ।। দিব্যেন্দু...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। নবপ্রভাত ৮৫ ।। চৈত্র ১৪৩১ মার্চ ২০২৫

  সূচিপত্র নিবন্ধ ।। মরিয়ম মির্জাখানি: এক অনন্য গণিতসূর্য ।। ... নিবন্ধ ।। নারী দিবসে যা ভাবা উচিত ।। বিশ্বনাথ পাল প্রবন্ধ ।। প্রাচীনকাল থেকে নারীরা অবহেলিত, বঞ্চিত,... নিবন্ধ ।। আমার চোখে আদর্শ নারী ।। জয়শ্রী বন্দ্... ফিচার।। এই মুহূর্তে বাংলা সাহিত্যে নারীদের লেখালেখ... আফ্রিকার লোককথা ।। করোটিকে বিয়ে করা অবাধ্য মেয়েটি ... ছোটগল্প ।। মানবী ।। ভুবনেশ্বর মন্ডল নিবন্ধ ।। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অন্যতম নারী মু... নিবন্ধ ।। প্রিয় মহিলা সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী ।। ... গল্প ।। উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।। রবীন বসু প্রবন্ধ ।। নিপীড়িতা ।। শ্যামল হুদাতী ফিচার ।। রমণী রতন ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত প্রবন্ধ ।। নারী সমাজ : তখন-এখন ।। তপন মাইতি নিবন্ধ ।। বহমান কালের ধারায় নারী ।। দীপক পাল গল্প ।। আমার দুর্গা ।। অঞ্জনা গোড়িয়া (সাউ) গল্প ।। যোগ্য জবাব ।। সমীর কুমার দত্ত ছোটগল্প ।। আমি দুর্গাকে দেখেছি।। চন্দন দাশগুপ্ত গল্প ।। সম্পর্ক ।। গৌতম সমাজদার কবিতা।। নারী মানে ।। গোবিন্দ মোদক কবিতা।। নারী ।। সমর আচার্য্য ছড়া ।। নারী অসামান্যা ।। সৌমিত্র মজুমদার কবিতা ।। নারী দিবসে ।। বিবেকানন্দ নস্কর কবিতা ।। না...

প্রবন্ধ ।। বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় ।। মাখনলাল প্রধান

বাংলা যাত্রা ও নাট‍্যশিল্পে অবক্ষয় মাখনলাল প্রধান বাংলার শিল্প-সংস্কৃতির জগতে যাত্রা শিল্প তথা নাট‍্যশিল্পে মড়ক নেমে এসেছে । যাত্রা শিল্পের মড়কে শুধু কোভিড নয় তার বহুপূর্ব থেকেই অর্থনৈতিক বিপর্যয় , শিক্ষাক্ষেত্রে বন্ধ‍্যাত্ব এবং গ্ৰাম বাংলার পটপরিবর্তন শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। যাত্রা-শিল্পের লীলাভূমি ছিল গ্ৰাম বাংলা। গ্ৰামে প্রচুর যাত্রাপালা হত নানা উৎসবকে কেন্দ্র করে । জমিদারি ব‍্যবস্থা লুপ্ত হওয়ার পর গ্ৰামীণ মানুষের উদ‍্যোগে শীতলা পূজা,  কালীপূজা, দুর্গাপূজা, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা, চড়ক ইত‍্যাদিকে উপলক্ষ‍্য করে যাত্রাপালার আয়োজন না হলে কেমন যেন ম‍্যাড়ম‍্যাড়ে লাগতো। সেই সঙ্গে কলকাতার বড়বড় কোম্পানির যাত্রাপালা ঘটা করে, টিকিট সেল করে হত মাঠে। খুব বড় মাপের খেলার মাঠ যেখানে ছিল না সেখানে ধানের মাঠ নেওয়া হত ‌। ত্রিশ-চল্লিশ হাজার মানুষ দেখতে আসত। স্পেশাল বাস পাঠাত  আয়োজক কর্তৃপক্ষ। বিনা ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করত যাত্রার দর্শকেরা। কিন্তু বিকল্প ধানচাষ শুরু হলে জমিগুলো সময় মতো ফাঁকা পাওয়া গেল না । প্রথম দিকে ব‍্যাপকহারে ধান শুরু না হওয়ায় খুব একটা অসুবিধা হত না। বহুক্ষেত্রে  ধান কা...

প্রবন্ধ ।। নারীমর্যাদা ও অধিকার ।। হিমাদ্রি শেখর দাস

নারীমর্যাদা ও অধিকার হিমাদ্রি শেখর দাস  নারীর মর্যাদা বলতে বোঝায় নারীর সম্মান, অধিকার, এবং তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এটি সমাজে নারীর অবস্থান এবং তার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিকে নির্দেশ করে। নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং তাদের অধিকার গুলি সুরক্ষিত থাকে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এই শ্রেণি সংগ্রাম শুরু হয়েছিল অনেক আগে।  একদিকে শ্রেণী বৈষম্য অপরদিকে নারী পুরুষের বৈষম্য এই দুটি ছিল শ্রেণীবিভক্ত সমাজের অন্যতম দুটি মূল ভিত। নারীর অধিকারহীনতা বা দাসত্ব শুরু হয় পরিবার ও সম্পত্তির উদ্ভাবনের ফলে। বহু যুগ ধরে নারী সমাজকে পারিবারিক ও সামাজিক দাসত্বের বোঝা বহন করতে হয়েছে বিনা প্রতিবাদে। সভ্যতার ক্রম বিকাশের সাথে সাথে নিপীড়ন ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে - দাস সমাজব্যবস্থা এবং সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীরা পুরুষ ও পরিবারের অধীনতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হয়েছে। সামাজিক উৎপাদনের কাজে নারীদের বঞ্চিত রেখেই তাদের পরাধীন জীবন যাপনের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নারীর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামের সূচনা হয় ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পরবর্তী সময়ে। নতুন করে নারীদের সামাজিক উৎপাদনের কাজে ...

প্রবন্ধ ।। ভিনগ্রহীদের সন্ধানে ।। শ্যামল হুদাতী

ভিনগ্রহীদের সন্ধানে  শ্যামল হুদাতী  ইতিহাসের শুরু থেকে বারবার মানুষকে একটা প্রশ্ন কুঁড়ে কুঁড়ে খায় – এই মহাবিশ্বে আমরা কি একা? পৃথিবীর মতো আরও গ্রহ রয়েছে, যেখানে মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণীরা বাস করে – এই সম্ভাবনা বরাবর মানুষকে মুগ্ধ করেছে। আমাদের প্রত্যেকের জীবনের কখনও না কখনও এই ভাবনা এসেছে। দীর্ঘ কয়েক দশকের গবেষণার পরও, এই বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। জেমস ওয়েব মহাকাশ টেলিস্কোপ, বহু দূরের এমন কিছু গ্রহের সন্ধান দিয়েছে, যেগুলিতে প্রাণ থাকতেই পারে। তবে, নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভিনগ্রহীদের খুঁজতে বহু দূরে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তারা এই পৃথিবীতেই মানুষের ছদ্মবেশে মানুষের মধ্যেই বসবাস করতে পারে। আমরা ভিনগ্রহীদের যেমন কল্পনা করি, এরা তার থেকে আলাদা। এরা অনেকটাই, দেবদূতদের মতো। মানব জগতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক প্রযুক্তিগত নয়, বরং জাদুকরি। মহাকাশে সৌরজগতের গ্রহ পৃথিবী ছাড়া অন্য কোথায় প্রাণ রয়েছে কি না তা নিয়ে চলছে বিস্তর গবেষণা। একই সঙ্গে পৃথিবী ছাড়া অন্য কোনো গ্রহে মানুষ বসবাস ক...

প্রবন্ধ ।। শ্রমিকের অধিকার ।। চন্দন দাশগুপ্ত

শ্রমিকের অধিকার  চন্দন দাশগুপ্ত          এই নিবন্ধের পরিধিটি বিশাল। ভারতবর্ষের বিভিন্ন শ্রম- আইনানুসারে শ্রমিকদের বেশ কিছু অধিকার সুনিশ্চিত করা হয়েছে। বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এই ক্ষুদ্র নিবন্ধে নেই, তাই শুধু কয়েকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য বিষয়েই আলোকপাতের চেষ্টা করা যাক।            [১] কাজে নিযুক্ত হবার সময়েই প্রত্যেক শ্রমিক একটি নিয়োগপত্র [ পশ্চিমবঙ্গ দোকান ও সংস্থা আইন-১৯৬৩ -র অধীনে থাকা শ্রমিকেরা এক্স (X) ফর্মে ] পাবেন ।           [২] (ক) জুট মিলে কর্মরত কোনও শ্রমিকের পাক্ষিক উপস্থিতি ১২ দিন হলে, তিনি বেতন ছাড়াও অতিরিক্ত ২০ টাকা পাবেন।                 (খ) 'ঠিকা'-তে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চাপাতা সংগ্রহ করলে বাগিচা শ্রমিকেরাও নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অতিরিক্ত টাকা পাবেন।            [৩] (ক) ১০ বা তার বেশি শ্রমিক কাজ করেন, অথবা বিগত ১২ মাসের যেকোনও একদিন ১০ বা তার বেশি কর্মী ছিলেন ( সিনেমা হলের ক্ষেত্রে এটি ৫ জন )-- এমন সংস্থ...

মাসের বাছাই

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৫তম সংখ্যা ।। মাঘ ১৪৩২ জানুয়ারি ২০২৬

সূচিপত্র   রঙ-চোর ও ধূসর পৃথিবী ।। জয় মণ্ডল বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার রবীন্দ্রনাথের গান—একটি ব্যক্তিগত অনুভব ও বিশ্লেষণ ।। ভুবনেশ্বর মণ্ডল জন্মশতবর্ষে ভুপেন হাজারিকা ।। হিমাদ্রী শেখর দাস ক্লান্তশ্বাস ।। দীপালি ভট্টাচার্য প্রতীক্ষা ।। মেখলা ঘোষদস্তিদার দুটি কবিতা ।। জয়িতা চট্টোপাধ্যায়  অক্ষরের আগুন ।। শম্পা সামন্ত বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা ।। মেশকাতুন নাহার এক কৃপণ কৃষকের কিসসা ।। ভাষান্তর : চন্দন মিত্র কাজ এখনও বাকি ।। সৈকত প্রসাদ রায় পালা বদল ।। অদিতি চ্যাটার্জি দুটি কবিতা ।। শামীম নওরোজ ঝুমুরের ঝঙ্কার ।। কল্যাণ কুমার শাণ্ডিল্য রঙিন বৃষ্টির ফেরিওয়ালা ।। সঙ্গীতা মহাপাত্র জেগে ওঠে ।। সুমিত মোদক ভালো থাক ।। জয়শ্রী ব্যানার্জি আধ ডজন ছড়া ।। স্বপনকুমার পাহাড়ী ঘাসের ডগায় হীরক কণা ।। বদরুল বোরহান পণ্ডশ্রম ।। লালন চাঁদ সে আমার ছোট বোন ।। সঙ্ঘমিত্রা দাস ভঙ্গুর ।। তূয়া নূর নৈকট্য ।। রহিত ঘোষাল অতিপ্রাকৃত ।। শাহ মতিন টিপু বাঙালি মানসে পৌষ সংক্রান্তি ।। পাভেল আমান ভাগের বাবা ।। দীনেশ সরকার বিরতিবিহীন অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে পরিযায়ী জীবন ।। শেখ আব্...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ৯৪তম সংখ্যা ।। পৌষ ১৪৩২ ডিসেম্বর ২০২৫

  সূচিপত্র প্রবন্ধ-নিবন্ধ শিকড়ের সন্ধানে: আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে ললোকজ শিল্প ।। ভাস্কর সিনহা রাশিয়ার তুষারে একাকিত্ব ।। শিবাশিস মুখার্জী  নোবেলের সাতকাহন ।। পুলকরঞ্জন চক্রবর্তী মানবজীবনের সৃজনশীলতা ।। অনন্তকুমার করণ শিক্ষক ও ছাত্র সম্পর্কের সেকাল-একাল ।। দীপক পাল মাটি বিনা সবই মাটি ।। রমলা মুখার্জী রম্যরচনা-ভ্রমণকথা-মুক্তগদ্য রম্যগল্প ।। কাদের কিংবা কেদার ।। সন্তোষ ঢালী ভ্রমণ–ডায়েরি : মহাদেবের পথে ।। দীনেশ চ্যাটার্জী হেমন্তের ভ্রমণমুখর জুমু'আ ।। জুয়াইরিয়া সারাহ মুক্তগদ্য ।। শীতের অদৃশ্য উষ্ণতার ।। আবু সাঈদ কবিতাগুচ্ছ দুটি কবিতা ।। শোভন মণ্ডল  বোধি ।। পুণ্যব্রত মুখোপাধ্যায়  আলোর অন্তরালে ।। অরিন্দম চট্টোপাধ্যায়  ডিসেম্বর ।। কমল মজুমদার গুচ্ছকবিতা || শিশির আজম দুটি কবিতা ।। শম্পা সামন্ত এই সেই মুহূর্ত ।। অর্ণব সামন্ত  সময়ের নৌকা ।। আবদুস সালাম দুটি কবিতা ।। সুশান্ত সেন নীড়হারা পাখি ।। ইকবাল খান আবার দেখা হবে ।। প্রণব কুমার চক্রবর্তী নুন ভাতের স্বপ্ন ।। কল্যাণ সুন্দর হালদার  স্বরাজ আসেনি আজও ।। অঞ্জন বল  কার্ফু ।। তপন দাস অন্ধকারের মহাক...

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

বাঘাযতীন আলাপ-এর 'পদ্মা নদীর মাঝি' একটি বলিষ্ঠ নাটক ।। কাকলী দেব

বাঘাযতীন আলাপ-এর ' পদ্মা নদীর মাঝি '  একটি বলিষ্ঠ  নাটক কাকলী দেব  S I R এর সময়ে দাঁড়িয়ে আবার নতুন করে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের " পদ্মা নদীর মাঝি "   কে নাট্যরূপ দেওয়া ,   একটা সাহসী পদক্ষেপ ।  নাট্যকার একটি কঠিন কাজ অত্যন্ত দক্ষতায় সম্পন্ন করেছেন।  বংশ পরম্পরায় মানুষগুলোর যে মাটিতে বসবাস, তাদের শেকড় যেখানে, সেখানে তাদেরকেই আবার তার প্রমাণ দিতে বাধ্য করছে তখনকার জমিদার আর এখনকার সরকার। সময় টা শুধু বদলেছে, কালচক্রের রথে এগিয়েছে পৃথিবী । কিন্ত শোষণের ধারাটা একই রয়ে গেছে এখনও। নাট্যকার অত্যন্ত মুন্শী‌য়ানার পরিচয় দেন, এরকম একটি উপন্যাসকে মঞ্চস্থ করতে।  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এইসব প্রান্তিক মানুষদের সাথে থেকে, তাদের জীবনের সুখ দুঃখ, প্রতিকূলতা, অসহনীয় দারিদ্রকে কী নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তার লেখনীর মাধ্যমে। আজ তা ভেবে আমাদের অবাক লাগে।  পৃথিবীর যেসব অসাধারণ সাহিত্য কর্ম রয়েছে, তার মধ্যে এটি অনায়াসে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। প্রত্যেকটি কুশীলব যে নিজের নিজের চরিত্র এইভাবে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন, সেটার কৃতিত্বের দাবীদার ও পরিচালক। প...

চিরকুটের কবিতা

নতুন পৃথিবী আজ সকালে রোদ্দুর নামুক ভেজা বর্ষার মতো গা ধুয়ে কিছুটা পবিত্র হবো যত জীর্ণ মলিন দ্বেষ বিলীন হোক সব সময়ের তটে গা ভাসিয়ে কিছুটা বিলাসী হবো যা ছিল অতীত যা ছিল কষ্ট সবকিছু ভুলে নবীনে ব্রতী হবো আসুক ধেয়ে সতেজ হাওয়া দূর হোক যত কুণ্ঠা ব্যথা পুরানো যত বিবাদ ভুলে ভালোবাসার আবার বেড়া দেবো কিছুটা আশাবাদী কিছুটা কর্মঠ কিছুটা জেদি কিছুটা শপথ আসুক ছুঁয়ে বাঁচার আলো হাতে হাত রেখেই বিশ্বাসের ঘরে আবার নতুন দীপ জ্বালাবো

কবিতা: জয়তী রায়

এক ভ্রষ্টা নারী ও আদর্শ " অ্যই মেয়ে তোর দাম কত রে ,,,,? "  ক্রসিং এ দাঁড়ানো অটোতে বসে  কথাটা কানে যেতেই মুখ ঘুরিয়ে দেখতে পেলাম মেয়েটাকে। সস্তার চুমকি বসানো চড়া সবুজ রঙের শাড়ি পরা , লাল রক্তের মতো রাঙানো ঠোঁট আর সস্তার স্নো পাউডার মাখা মৃত মুখ। স্বপ্নসুন্দরী তিলোত্তমার বিশেষ কিছু এলাকায় পথের ধারে  এমন বেসে অনেক রূপমতিকেই দেখতে পাওয়া যায়। চট করে মনে পড়ে গেল অতীতের কথা ,,,,,,, রূপমতি ওরফে রূপা। হ্যাঁ আজ আমি অনেকের কাছে পরিচিত ' রূপা '। একটা সময় আমারও অস্তিত্ব ছিল এই রাজপথ। খট খট ,,,,,,,,খট খট ,,,,,,,, আজও মনে পড়ে সেদিনের কথা ,,,,,,,,, দরজার জোর শব্দে ঘুমটা ভেঙে গেল। " কে ,,,,,,,? কে ওখানে ,,,,,,,,?" ভয় মিশ্রিত গলায় জিজ্ঞেস করে উঠলে  প্রথম তোমার গলা শুনলাম ,,,,,,, " দরজা খোলো , ভয় নেই কোনো ক্ষতি করবো না ,,,,,,,," কি ছিল সেই গলায় জানি না। মন্ত্রমুগ্ধের মতো দরজা খুলতেই হুড়মুড়িয়ে তুমি ঢুকে পড়লে ঘরে। উস্কো খুস্কো চুল ক্লান্ত অথচ আগুন ঝরা দুটো চোখ ,,,,,, প্রথম তোমায় দেখলাম।  কেন জানি না দেখা মাত্রই ম...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রবন্ধ ।। বেলা তার (Béla Tarr) ও তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শন ।। উৎপল সরকার

নীরবতার মহাকাব্যকার:  বেলা তার ও চলচ্চিত্রের দর্শন উৎপল সরকার বিশ শতকের শেষ ভাগ ও একবিংশ শতকের শুরুর দিকের বিশ্ব চলচ্চিত্রের মানচিত্রে এমন কিছু নির্মাতার নাম উজ্জ্বল হয়ে আছে, যাঁরা মূলধারার বিনোদনমুখী সিনেমার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সময়, নীরবতা ও অস্তিত্বের গভীর প্রশ্নকে চলচ্চিত্রের ভাষায় রূপ দিতে চেয়েছেন। হাঙ্গেরীয় চলচ্চিত্রকার বেলা তার ছিলেন সেই বিরল শিল্পীদের একজন, যাঁর সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা কেবল গল্পগ্রহণ দর্শননার আস্বাদন নয়—বরং ধৈর্য, মনোসংযোগ ও আত্মঅনুসন্ধানের এক দীর্ঘ যাত্রা।এই সেদিন ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি বুদাপেস্টে তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব চলচ্চিত্র হারাল ধীরগতির চলচ্চিত্র ধারার এক অগ্রপথিককে। ১৯৫৫ সালের ২১ জুলাই হাঙ্গেরির পেচ শহরে জন্ম নেওয়া বেলা তার কৈশোর থেকেই সমাজ ও মানুষের প্রতি গভীর আগ্রহ অনুভব করেছিলেন। তাঁর পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ তাঁকে বাস্তবতার খুব কাছ থেকে জীবন দেখার সুযোগ দেয়। সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীকালে তাঁর চলচ্চিত্রে রূপ নেয় নিরাবরণ, নিষ্ঠুর অথচ মানবিক এক ভাষায়। তিনি ছিলেন কেবল একজন পরিচালক নন—একজন চিন্তাবিদ, যিনি ক্যামেরাকে ব্যবহার করেছেন দর্শনের অনুসন্ধানী ...