Skip to main content

কেল্লা দেখতে রাজস্থান ।। দীপক কুমার পাল

 

কেল্লা দেখতে রাজস্থান

 দীপক কুমার পাল

সকালের পড়া বাংলা খবরের কাগজটা সন্ধ্যেবেলা আর একবার নেড়ে-চেড়ে দেখছিলাম, আমার ছেলে শুভ ইনস্টিটিউশন থেকে ফিরে সোজা আমার ঘরে এসে জিজ্ঞেস করলো,

- ' বাবা রাজস্থান ঘুরতে যাবে নাকি? ' আমি তো অবাক।

- ' আরে না। এই বয়সে আমি ও তোর মা পারবো নাকি কেল্লা সব ঘুরে দেখতে? সবই তো পাহাড়ের ওপরে। আমাদের পক্ষে একেবারই অসম্ভব। তুই বৌমা আর নাতিকে নিয়ে ঘুরে আয়। আমরা এখানেই থাকবো।'

- ' তুমি বলেছিলে না যে তোমার মরুভূমি দেখা হয় নি। এবার সেই সুযোগটা এসেছে। আসলে এলটিসি টা একবছর আরও এক্সটেনশন হয়েছে। তুমি প্ল্যান বানাও। তোমাদের ঘুরিয়ে আনার দায়িত্ব আমার। আমরা সবাই যাবো, যেটা মনে হয় পারবে না সেখানে যাবো না। কিন্তু আমরা সামসান্ড ডিউনসে যাবই। তৈরি হও।'

              ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো শুভ। ওর নিজের ঘরে ঢুকতেই বাবুসোনার কথা কানে এলো, 'বাবা, দাদুকে তুমি কোথায় নিয়ে যাবে?'

শুভর কথা ভেসে আসলো ‘শুধু দাদুকে নয় আমরা সবাই সোনার কেল্লা দেখতে রাজস্থান

যাবো। মরুভূমি দেখতে যাবো।'

'কি মজা হবে! আমি সেখানে বালির পাহাড় বানাবো।' আনন্দে বাবুসোনা হাততালি দিয়ে উঠলো। যদিও কয়েক মাস আগেই ও দুবাইয়ে মরুভূমি দেখেছে, উটেতেও চরেছে। আমি কিন্তু আমার স্ত্রী শীলার কথা চিন্তা করছি। আমাদের দুজনের জন্য ওদের রাজস্থান ভ্রমণ মাটি হবে না তো?

              ২৪সে ডিসেম্বর, ২০২২। কলকাতা বিমান বন্দর থেকে ডাইরেক্ট ফ্লাইটে উদয়পুর বিমানবন্দরে পা রাখলাম। ঘড়িতে তখন সকাল সওয়া এগারোটা। শুভ আগে থেকে ঠিক করে রেখেছিল এক গাড়ির ড্রাইভার। পরে তার নাম জেনেছিলাম, গোপাল ভূঁইন। আমরা তার খোঁজে বিমানবন্দরের বাইরে এসে দাঁড়ালাম। গোপাল ভূঁইন গাড়ি নিয়ে আসতেই আমরা তাতে চেপে বসলাম। আমাদের হোটেল বুকিং করেছে শুভ জগদীশ মন্দিরের কাছে। দূর আছে এয়ার পোর্ট থেকে। গাড়ি রওনা দিল।

উদয়পুর শহরটা খুব সুন্দর। বিদেশি পর্যটকদের ভিড় খুব। উদয়পুর রেলওয়ে স্টেশনটাও সুন্দর খুব। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সাথে রেলওয়ে যোগাযোগ আছে। অতি সুন্দর ব্যবস্থা। এছাড়া আছে অতি সুন্দর পিচের রাস্তা, যা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে গেছে। সেই রাস্তা দিয়ে ছুটে চলেছে বাস, ট্যাক্সি, ক্যাব বিভিন্ন দিকে অনবরত। কোনোটা যাচ্ছে চিতোর বা রনকপুর, কুম্ভলগড় হয়ে আজমীর বা আরও এগিয়ে রাজধানী জয়পুর। কোনোটা যাচ্ছে আবু রোড হয়ে মাউন্ট আবু বা গুজরাটের আমেদাবাদে। আবার কোনটা যোধপুর বা বিকানির হয়ে মরুভূমির দেশ জয়সালমিরে। এছাড়া উদয়পুর একটা ঐতিহাসিক শহর, এখানে আছে রাজপুত রানাদের নানা বীরত্ব কাহিনী। মহরানা উদয় সিংহ, রানা প্রতাপ সিংহ, মহরানা সংগ্রাম সিংহ ইত্যাদির বীরত্ব গাঁথা মিশে আছে এর পথের ধুলায়। দিল্লির বাদশা আকবরের কাছে চিতোর পতনের পর মহরানা উদয় সিংহ ১৫৬৯ সালে সমুদ্র প্রিষ্ঠ থেকে পাহাড়ের ৫৭৭ মিটার উঁচুতে এই শহর গড়ে তোলেন। তার নামেই এই শহরের নাম হয় উদয়পুর। তিনি ছিলেন সূর্য্য বংশীয় রাজা।

              আমাদের হোটেলটি ছিল জগদীশ মন্দিরের কাছাকাছি। আমরা হোটেলে ঢুকে স্নান খাওয়া দাওয়া করে বেরিয়ে পড়লাম। গোপাল ভূঁইন গাড়ি নিয়ে নিচেই অপেক্ষা করছিল। শুভ গোপাল ভূঁইনের সাথে আমাদের গোটা টুর নিয়ে আলোচনা করে নিলো। আমরা তিনদিন উদয়পুর থাকবো। এখানে থেকে দুদিন লোকাল টুর করে তৃতীয় দিন চিতোর গিয়ে গোটা দিন চিতোর দেখে ফিরে আসবো। চতুর্থ দিন মাউন্ট আবু ঘুরে, থাকবো। পঞ্চম দিন সকালে যোধপুর যাবো, উমেইদ ভবন প্যালেস দেখে হোটেলে থাকবো। পরদিন সকালে মেহেরনগড় দুর্গ দেখে সোজা জয়সলমির। জয়সালমিরে দুদিন থেকে, অষ্টম দিন আবার যোধপুরে থেকে, নবম দিন সকালে বিমানবন্দর পৌঁছে দিয়ে ওর ছুটি। গোপাল ফিরে যাবে উদয়পুর।

            গাড়িতে উঠতেই গাড়ি ছেড়ে দিল। রানা প্রতাপ মিউজিয়ামের গেটে গাড়ি দাঁড়ালো। ঢুকে প্রথমেই চোখে পড়লো প্রিয় ঘোড়া চেতকের পিঠের ওপর রানা প্রতাপ সিংহের অপূর্ব ব্রোনচ্ মূর্তী। ওর কাছেই আছে লোহার তৈরি নানা সাইজের পুরুষ ও নারী মূর্তী। মূর্তিগুলোর মাথার দিকটা এমন ভাবে ফাঁকা আছে যে, যে কেউ ঐ ফাঁকা জায়গায় নিজের মুখটা রাখলে মনে হয় একজন রাজপুত বা রাজপুতানি দাঁড়িয়ে আছে। কোনো কোনোটা আছে যুদ্ধের বেশে। সেখানে তাই ফটো তোলার ভিড়। ভিতরে বিভিন্ন  রানা মহারানাদের ফ্রেস্কো চিত্র সমেত নানা মূর্তী এমন ভাবে রাখা আছে যা গাইড নিয়ে না গেলে বোঝার অসুবিধা হবে। যদিও ঘটনা দেয়ালে সব লেখা আছে, সেটা শুধু হিন্দিতে। তাই অনেকের অসুবিধা হতে পারে। গাইড থাকলে সেই বুঝিয়ে দেবে একের পর এক ঘটনাগুলো। সেই সব ঘটনা রাজপুত রানাদের সব বীরত্বের ইতিহাস। এছাড়া আছে সাউন্ড অ্যান্ড লাইট। বেশ কয়েকটা ঘরের মধ্যে আছে পরপর রাজপুত ও মোঘল পাঠানদের নিয়ে সমগ্র ইতিহাসের সম্পূর্ণ ধারা বিবরণী। এরপর আমরা গেলাম পিছলা লেক। সিটি প্যালেসের পশ্চিমে প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে মহারানা উদয় সিংহ ১৪ শতকে এই পিছলা কাটিয়ে ছিলেন। আমরা যেখানে পৌঁছলাম সেটা সানসেট পয়েন্ট। বেশ অনেকটা জায়গা জুড়ে। এখান থেকে সূর্যাস্ত দেখতে ভারী সুন্দর লাগে। আকাশে একদম নিচের দিকে একটা মেঘের আস্তরণ থাকায় সূর্যাস্ত পুরোটা দেখতে পেলাম না। লেকে বোটিং এর ব্যবস্থা আছে।

 

            পরদিন আমরা গেলাম সিটি প্রাসাদ দেখতে। বুকিং কাউন্টারগুলোতে ভীষণ ভিড়। ওই দিন ছিল ২৫সে ডিসেম্বর, তায় রবিবার, তাই এত লোকারণ্য। পূর্ণ বয়স্ক লোকের টিকিটের মূল্য ৩৫০ টাকা, ছোটদের ১৫০ টাকা আর বয়স্কদের জন্য ২৫০ টাকা। ১৬ শতকে এই দুর্গ বানান উদয় সিংহ। এরপর ১৭ শতকে জগৎ সিংহ আরও কিছু মহল তৈরি করান বিদেশি ঘরানায়। বড়ি মহল, শিশু মহল, দিলখুশ মহল, কৃষ্ণ ভিলা, ভীম ভিলা ইত্যাদির দেওয়ালের গায়ে কারুকার্য অতি মনোরম। চোখে দেখে মনে তৃপ্তি আনে। দেওয়ালে আঁকা চিত্র ও নানা ফ্রেস্কচিত্র অপূর্ব। অত্যন্ত ভিড় থাকায় ভালো করে দেখতে পারিনি। বিভিন্ন মহলে কাঁচ ও পোর্সিলিনের মূর্তী, মিনিয়েচারের কাজ, ফ্রেস্কচিত্র দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। চিনি মহলের টালির অলঙ্করণ অতীব মনোহর। প্রচন্ড ভিড়ের মধ্যেও যতটুকু দেখলাম সেটুকুই যথেষ্ট। এরপর লাঞ্চ খেতেও অনেক বেগ পেতে হলো। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর যদিও বসতে পেলাম তো, অর্ডার নিতে আসেনা কেউ। যদিও অর্ডার নিলো তো টেবিলে খাবার আর আসে না। মোটামুটি ১ ঘণ্টার ওপর লাগলো হোটেল থেকে বেরিয়ে আসতে। তবে রাস্তার ওপারেই ফতে সাগর লেক ছিল বলে খাওয়ার টেবিলে বসে চারিদিকে পাহাড় ঘেরা লেক তার ওপর প্রাসাদ ও লেকে বোটিং এর দৃশ্য দেখতে দেখতে সময় কেটে যায়। এরপর গেলাম ফতে সাগরের পুব পাড়ে সহেলীও কি বাড়ি ও বাগান। অবশ্য নেহেরু পার্ক দেখার পর। ওই পার্কে আমার নাতি বাবুসোনা কিছুটা সময় দৌড়াদৌড়ি করে নিল। সহেলিওকি বাড়ি দিল্লির সম্রাট ভেট দেন ১৮ শতকে মহরানা সংগ্রাম সিংহকে। এর ভিতর ঢুকতেই মনে হলো কি অপার প্রশান্তি বিরাজ করছে এখানে। কি সুনিবিড় পরিবেশ। পুকুরের ঠিক মাঝখানে ছত্রিশ আর তাকে ঘিরে পুকুরের চার পাশে অসংখ্য ফোয়ারা। পারে গেলে  ফোয়ারার হালকা জলে ভিজে যায় জামাকাপড়। অপূর্ব লাগে। পিছনের পুকুর পদ্মফুলে ঢাকা। সেটাও দেখতে দারুন সুন্দর। এই পুকুরগুলোতে সব সময় বৃষ্টির শব্দের মত ঝির ঝির শব্দ হতে থাকে তাই এর নাম বিন বাদল বরসাত। এছাড়া এখানের বাগানগুলো খুবই সুন্দর। কত রকমের ফুলগাছ আর তাতে কতরকমের যে ফুল কি বলবো। একেক রকম জাতের ফুলগাছের কত রঙের যে ফুল হয় না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। সত্যি  ভীষণ ভালো লাগলো।

              পরদিন সকাল ৯ টায় স্নান ও ব্রেকফাস্ট সেরে রওনা দিলাম রাজপুত রানাদের বীরত্ব গাঁথা চিতোরে। এখানে চিতোরের রানী পদ্মাবতী জহর ব্রত পালন করে সমস্ত সখি সমেত অগ্নিতে আত্মাহুতি দিয়েছিলেন। ছোট বেলায় ইতিহাসে এটা পড়ে মন খারাপ হতো খুব। বিশাল জায়গা জুড়ে এই চিতোর দুর্গ ও তার আশপাশটা গড়ে উঠেছে। এখন মনে হয় কিছুটা জায়গা দখলীকৃত হয়ে কিছু দোকান পাট গড়ে উঠেছে। বলা যায় ব্যবসা কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। আবার কিছু বাসস্থান তৈরিও হয়েছে ও বসবাস করছে লোকে। প্রশাসনের অবহেলার ছাপ লক্ষ্য করা যায়। রাস্তায় আমরা লাঞ্চ করে নিয়েছিলাম।  দুর্গে ঢুকতে পৌনে একটা। এই চিতোর দুর্গের ইতিহাস অতি দীর্ঘ। ১৩০৩ সালে আলাউদ্দিন খিলজীর হাতে ধ্বংস হয় এই নগরী। রানা রতন সিংহের পতনী রানী পদ্মাবতীর রূপে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিবাহ করতে চাওয়ায় ঐতিহ্য বজায় রেখে রাজপুত পুরুষ ও রমনীরা প্রতিবাদ করে ওঠে। কিন্তু আলাউদ্দিন খিলজী কৌশলে রতন সিংহকে বন্দী করে সৈন্য সামন্ত নিয়ে দুর্গ আক্রমণ করে প্রবেশ করে দুর্গে। রানী পদ্মাবতী বহু রাজপুত রমনীকে নিয়ে আগুনে আত্মাহুতি দেন। খিলজী দখল করে দুর্গ। এর বহু বছর পরে রানা কুম্ভ পুনরায় দখল করে এই দুর্গ। গড়ে তোলে এক বিজয়স্তম্ভ। এরও পরে ১৫৬৮ সালে দিল্লির সম্রাট আকবর চিতোর আক্রমণ করে চিতোর দুর্গ দখল করে। রানা উদয় সিংহ পালিয়ে গিয়ে রাজ্য স্থাপন করেন উদয়পুরে। জাহাঙ্গীর দিল্লির সিংহাসনে বসে ১৬১৫ সালে চিতোর প্রত্যর্পণ করে রানাদের হাতে। কিন্তু রানাদের রাজ্যপাট থাকে উদয়পুরেই। কিন্তু এর আগে রানা প্রতাপ সিংহের বীরত্বের কথা ইতিহাস সমৃদ্ধ। তিনি কখনো বশ্যতা স্বীকার করেন নি। যুদ্ধে তিনি পরাজিত ও নিহত হন ১৫৯৭ সালে। আমরা গভর্নমেন্ট নির্দিষ্ট রেটে গাইড নিলাম। ৪ জন পর্য্যন্ত হলে ফুল ডে ৪০০ টাকা হাফ ডে ২৮০ টাকা ৫ জন বা তার বেশি হলে ফুল ডে ৫৩০ টাকা আর হাফ ডে ৪০০ টাকা। ঘুরে দেখতে দেখতে একটা অদ্ভুত অনুভূতি হয়। রানা রতন সিংহ অন্য মতে ভীম সিংহের প্রাসাদ রানী পদ্মিনীর মহল চতুর্দিকে জলের মধ্যে অবস্থিত। এই জলেই রানী পদ্মিনীর ছায়া দেখে তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয় খিলজী। রানী পদ্মিনী ঘৃণার সাথে সে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। খিলজী দুর্গ অবরোধ করে। যেখানে রানী পদ্মাবতী সহ অনেক রমণী আত্মাহুতি দেয় সেই জায়গাটি ২০০১ সালে সরকার পুরোটা ভরাট করে এবং ওর ওপর সৌধ স্থাপন করে। রানীর সাজগোজ করার প্রাসাদ ও বারাতির পালকি ইত্যাদি তার সাথে সহেলিদের এবং দাসদাসীদের থাকার জায়গা যে প্রাসাদে ছিল সেই সব প্রাসাদের কারুকাজ দেখার মতো। এছাড়া মীরা বাইয়ের মন্দির যেখানে মীরাবাই নিজেই থাকতেন সেটা ভারী সুন্দর। রাজপ্রাসাদে রাজার সাথে মতের মিল না হয়ায় তিনি নিজেই এই ব্যবস্থা করেন। যুদ্ধ ক্ষেত্রটিও বেশ বড়ো। খুব  ভারাক্রন্ত মন নিয়ে চিতোর ছেড়ে যাত্রা করলাম উদয়পুরের দিকে।

পরের দিন অর্থাৎ ২৭ সে ডিসেম্বর সকাল সাড়ে আটটায় হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে পড়লাম মালপত্র নিয়ে মাউন্ট আবুর উদ্দেশ্যে। মসৃণ রাস্তায় গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিলো গোপাল। একসময় গাড়ি আবু রোড ছেড়ে পাহাড়ী পথ ধরলো। আবু শহরের উচ্চতা ৪০০০ ফুট। পাহারের রাস্তা সুন্দর এবং দৃষ্টি নন্দন। তবে পাহাড়ে সবুজের আধিক্য দেখা যায় না। পথের ধারে গার্ড ওয়ালে শয়ে শয়ে লম্বা লেজওয়ালা হনুমান বসে থাকতে দেখা যায়। পথ চলতি সব গাড়ি ও বাইককে ওরা নিরীক্ষণ করে পুলিশের মতো। দেখতে বেশ মজা লাগে। বেলা ১২ টার আগেই আমরা হোটেলে পৌঁছে গেলাম। রাস্তার ধারে হোটেলটি ভারি সুন্দর। লাঞ্চ সেরে আমরা বেরিয়ে পড়ি দিলওয়ারা টেম্পল দেখার উদ্দেশ্যে। সত্যি বলতে কি মনে মনে  একটা সুপ্ত বাসনা ছিল মাউন্ট আবুতে দিলওয়ারা টেম্পল দেখার বহু বছর ধরে। তাই এক দুর্গাপূজা নবমী সকালে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে ছুটে গিয়েছিলাম যোধপুর পার্কের পূজা মন্ডপে। সে বছর সেখানে মন্ডপ তৈরি হয়েছিল দিলওয়ারা টেম্পলের আদলে। সেই মন্ডপ দেখে আসলটা দেখার ইচ্ছেটা আরও বেড়ে গিয়েছিল। মনে মনে তাই খুব রোমাঞ্চিত হচ্ছিলাম খুব। কিন্তু মামনি আসতে পারে নি ওর ইমার্জেন্সী ডিউটির জন্য। তাই একটু খারাপও লাগছিল। কিন্তু এটাও জানি যে সেও খুব তাড়াতাড়ি এই জৈন মন্দির দেখতে আসবে।

            এই ৫ টি জৈন মন্দিরগুলো তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ২০০ বছর। ১১ শতক থেকে ১৩ শতক। তখন তো রাস্তাঘাট ছিল না যাতায়াতের কোনো সুব্যবস্থা ছিল না। পাহাড়ের রেঞ্জ বেয়ে হাতির পিঠে চাপিয়ে এই মার্বেল পাথরগুলো আনা হয়েছিল। কারিগরেরাও আসে এই পাহাড়ের রেঞ্জ বেয়ে। এই সব কারিগরদের হাতের কাজ দেখলে বিস্মিত হতে হয়। কি আশ্চর্য ছিল তাদের শিল্প প্রতিভা যা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। পাঁচটি মন্দিরের নাম আদিনাথ, নেমিনাথ, মহাবীর, ঋষভদেব ও পার্শ্বনাথ। এর মধ্যে পার্শ্বনাথ মন্দিরটি সবচাইতে পুরানো ও ভগ্নাবস্থা। কিন্তু  আদিনাথ আর নেমিনাথ মন্দির দুটোর কারুকাজ অসাধারণ। মন্দিরের ভিতরের স্থাপত্য ভাস্কর্য ও মর্মর পাথরে অতি সূক্ষ কারুকাজ দেখতে দেখতে মোহিত হতে হয়। প্রতিটা পিলারের আলাদা আলাদা সূক্ষ কারুকাজ। কোনটার সাথে কোনটার মিল নেই। আবার দুটো পিলারের মাঝের সিলিংগুলোরও আলাদা আলাদা কাজ। করভিং মার্বেল পাথরে কি করে যে খোদাই করে বিভিন্ন দেব দেবী, ফুল, লতাপাতা, পশুপাখি, মানুষে টানা পালকি ও রথ ইত্যাদি দিয়ে সিলিং, দেওয়াল ও পিলারগুলো সেটিং করেছে যে অবাক হয়ে খালি চেয়ে থাকতে হয়। চোখ ফেরানোকঠিন। একটাই আফসোস এ সবের কোনো ফটো তোলা গেলো না। কারণ ফটো তোলা নিষেধ। ক্যামেরা তো দূরের কথা মোবাইল পর্য্যন্ত কাউন্টারে জমা দিয়ে যেতে হয়। অতি আচ্ছন্ন চিত্তে বাইরে বেরিয়ে এলাম।

              এরপর আমরা গেলাম নাককি লেক। লেকটি ভারী মনোরম। চতুর্দিকে উঁচু পাহাড় দিয়ে ঘেরা, লেকের মাঝে খুব সুন্দর সুন্দর ফোয়ারা আছে। লেকে বোটিং এর ব্যবস্থাও ভালো। এই সুন্দর পরিবেশের জন্য কিছুটা সময় বসতেই হলো। তারপর দু একটা ছোটখাটো পয়েন্ট দেখে গাড়ি সোজা গিয়ে দাঁড়ালো সানসেট পয়েন্টের অদূরে।  এখান থেকে অনেকটা ওপরে উঠতে হয় সূর্যাস্ত দেখতে।  ঘোড়ার চাহিদা খুব। আছে ট্রলির ব্যবস্থা। এতে সামনে পেছনে দুটো সিট আছে। পাশাপাশি দুজনকে নিয়ে ঠেলে ঠেলে দুজনে উপরে নিয়ে যায়। আমি আর শীলা ট্রলিতে আর শুভ ও শ্বেতা নাতিকে নিয়ে ঘোড়ায় উঠলো। সানসেট পয়েন্টে পৌঁছলাম। এই উপত্যকাটি এখানেই শেষ। নিচে গভীর খাদ। বেশ নির্জন জায়গাটা। ভিড় জনিত কারণে এখন কোলাহলে পরিপূর্ণ কিন্তু এর পরে আবার নির্জনতা নেমে আসবে। হেঁটে আর একটু ওপরে উঠলাম রেলিং ধরে দাঁড়ালাম। সত্যি এখান থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য অপূর্ব। একটু সময় নিয়ে পশ্চিম আকাশটাকে লাল করে দিয়ে ধীরে ধীরে ডুবতে থাকে সূর্য্য। তারপর একসময় টুপ করে ডুবে যায়। কিন্তু তবুও আকাশটা লাল থাকে কিছুক্ষণ। এর পরেই শীত বাড়তে থাকে। বহু লোক এসেছিল সূর্যাস্ত দেখতে। সবার সাথে আমরাও হেঁটে ফিরলাম গাড়ির কাছে। অবশ্য গাড়িটা খুঁজে পেতে একটু সময় লেগেছিল। হোটেলে ফিরলাম। যা দেখা হলোনা, ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরের মন্দির ৫০০০ ফুট ওপরে অন্য পাহাড়ে। আর আচলগড় দুর্গের শিব মন্দির। এই শিবমন্দিরে শিবের পায়ের আঙ্গুল পূজিত হয়।

পরের দিন সকাল সাড়ে নটায় স্নান  ব্রেকফাস্ট সেরে বেরিয়ে পড়লাম যোধপুরের উদ্দেশ্যে। পথে লাঞ্চ করে নিয়েছিলাম। হোটেলে ঢোকার আগেই বিকেল ৪টায় আমরা গাড়ি নিয়ে উমেদ ভবনের সামনে গাড়ি দাঁড় করালাম। ঘড়িতে তখন বাজে বিকেল চারটা। পাঁচটায় এ প্যালেস বন্ধ হয়ে যায় পাবলিকের জন্য। শুভ টিকিটের জন্য লাইন দিলো। টিকিটের মূল্য বড়দের ৬০ টাকা আর ছোটদের জন্য ৩০ টাকা। লাল রঙের বেলে পাথরে তৈরি এই প্যালেস। উমেইদ সিং ১৯২৯ সালে এই ভবন নির্মাণ শুরু করেন ও শেষ করেন ১৯৪২ সালে। এই প্যালেসেই তিনি ১৯৪৭ সালে মারা যান।  প্রাসাদের মিউজিয়ামে আছে দেওয়ানী খাস দেওয়ানী আম ও লাইব্রেরি ভবন। সোনায় মোড়া বহু চিত্র ঐতিহাসিক বা পৌরাণিক খুবই যত্ন করে সাজানো আছে। আর আছে ঘড়ি ঘর। কত রকমের ছোট বড়ো মাঝারি ও ক্ষুদ্র ঘড়ি যা বহু পুরানো আমলের ও নানা ডিজাইনের একটা বড় ঘরে দেওয়ালের ওপর থেকে নিচে পর্যন্ত সাজানো আছে দেখলে অবাক হতে হয়। বড়ো বড়ো টেবিলে কাঁচের বাক্সেও আছে। হাত ঘড়ি এমন কি আঙ্গুলের ঘড়িও  আছে এখানে। বাইরের বাগানে আছে কলা শিল্পের নিদর্শন। বিভিন্ন জীব-জন্তু-পাখি ইত্যাদির সুন্দর প্রতিকৃতি। আর আছে কম করে ১২টা বিদেশি অতি দামী গাড়ির সংগ্রহশালা। rols rayes ই আছে ৪/৫ টা। এছাড়া আছে বুইক, মার্সিডিজ বেনচ্, ডজ ইত্যাদি। দেখে টেখে হোটেলে ঢুকলাম সন্ধ্যেবেলা।             

পরদিন সকালে একটু তাড়াতাড়ি ব্রেকফাস্ট করে হোটেল ছেড়ে দিলাম। প্রথমে গেলাম মেহেরনগড় দুর্গ। যোধপুরের এই দুর্গটি তৈরি করান যোধা রাও ১৪৫৯ সালে। চতুর্দিকে খুব উঁচু প্রাচির ও বাইরে পরিখা বেষ্টিত এই দুর্গটি অত্যন্ত সুরক্ষিত। এর পরিধি দৈর্ঘ্য ৪৫৭ মিটার ও প্রস্থে ২২৮ মিটার। উচ্চতাও এর অনেক। দুর্গের বাইরের কারুকাজ দেখার মতো। বাইরের ফটক পেরিয়ে ভিতরে না ঢুকলে বোঝা যায় না এর বিশালত্ব। যুদ্ধে মুঘলরা এই দুর্গ করায়ত্ব করতে পারে নি। বরং বৈবাহিক সূত্রে তাদের সাথে মিত্রতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। উদয় সিংহের বোনের সাথে দিল্লির নবাব আকবরের ও আকবরের পুত্র জাহাঙ্গীরের সাথে উদয় সিংহের কন্যার বিবাহ হয়েছিল। তবে ১৭৬৮ সালে ঔরঙ্গজেব এই দুর্গ জয় করেন এবং নগরী ধ্বংস করেন। পরে অজিত সিংহ পুনরায় এই দুর্গ দখল করেন। যুদ্ধ জয়ের স্মারক স্বরূপ দুর্গের পশ্চিমে গেটওয়ে অফ্ ভিকট্রি তৈরি করেন অজিত সিং ১৭০৮ সালে। সম্মিলিত ভাবে জয়পুর ও বিকানীর রাজাদের আক্রমণ পরাজিত করতে পারেনি যোধপুরের রাজাকে। দুর্গের দেওয়ালে কামানের গোলার চিনহ এখনো দেখতে পাওয়া যায়। দুর্গের স্থাপত্য শৈলী, ভাস্কর্য, অলঙ্করণ এবং জানালায় জাফরির কাজ অনিন্দ্য সুন্দর বলা যায়। ফুল মহল ৮০ কিলো সোনা দিয়ে তৈরি অনেকটা শীষমহলের মতো যা এক কথায় অনবদ্য। মতিমহলে রাজা রানিদের হাতির পিঠের হাওদা নানারকমের বা বিভিন্ন রকমের সুন্দর সুন্দর পালকি দেখে ভালো লাগে। রাজকীয় ব্যবস্থা ছিল দেখার মত। অস্ত্রশলায় অস্ত্রশস্ত্রের বিরাট প্রদর্শনী। দুর্গের প্রাসাদের বৈভব, রাজকীয়তা আর প্রাচুর্য্য প্রতিটি মহলে মহলে বিদ্যমান। দুর্গের প্রাকার হতে শহরের দৃশ্য ভারী সুন্দর। পাশেই আছে যশোবন্ত থারা। মহারাজা যশোবন্ত সিংহের স্মারক সৌধ। নির্মাণ করেন রানী ১৮৯৯ সালে। আরও তিনটি সৌধ আছে। সবগুলোই শ্বেত পাথরের তৈরি।

              মেহেরনগড় দুর্গ আর যশোবন্ত থারা ভালো ভাবে দেখে নিয়ে আমরা জয়সলমিরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। যোধপুর থেকে ১৮০ কিলোমিটার যাওয়ার পর বাম দিকে পড়লো বুলেট বাবা টেম্পল। কথিত আছে ওম সিং রাঠর নামে এক বাইক আরোহী এই রামদেওরাতে রাতে হঠাৎ রাস্তার পাশে একটা গাছে ধাক্কা মেরে পাশে এক ট্রেনচে পড়ে গিয়ে মারা যায়। বাইকটা ছিল রয়েল এনফিল্ড বুলেট। স্থানীয় থানা থেকে পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করে ও বুলেটটা থানায় নিয়ে গিয়ে জমা করে। কিন্তু সকালে দেখে যেখানে বুলেটটা রেখেছিল সেখানে নেই।  থানার আশপাশে কোথাও বাইক টাকে খুঁজে না পেয়ে আবার যেখান থেকে নিয়ে গিয়েছিল সেখানে গিয়ে দেখে বাইক ঠিক সেখানে একই ভাবে পড়ে আছে। আবার সেটাকে তুলে থানায় নিয়ে গিয়ে চেন দিয়ে বেঁধে রাখে। পরদিনও গিয়ে দেখে যথারীতি বাইকটা নেই। পরে দেখে বাইক অ্যাক্সিডেন্টের জায়গাতেই আগে যেভাবে ছিল ঠিক সেই ভাবেই পরে আছে। বিস্মিত গ্রামবাসীরা বাইকটা গাছের পিছনে একটা বড়ো কাঁচের ঘর বানিয়ে তার ভিতরে সাজিয়ে রেখে নিয়মিত পূজা করে। কাঁচের ঘরে একটা দরজা রাখা হয়েছে নিয়মিত পরিষ্কার করার জন্য। এই অ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল ২ রা ডিসেম্বর ১৯৯১ তে। ওই গাছটিতে ওম বান্না নামে একটা স্ট্যাচু ও একটা বড়ো ফটো আর ওই বাইকটা নিয়ে একটা মন্দির প্রতিষ্ঠা করে গ্রামবাসীরা নিয়মিত পূজা দেয়। জয়সলমিরের যাত্রীরা সেফ জার্নির জন্য এই মন্দির দর্শন করে যান। যারা সেটা না করেছে তাদের নাকি জয়সলমির যাত্রা শুভ হয়নি।

পথে লাঞ্চ সেরে আমরা জয়সলমির ফোর্টের পাশে হোটেলে পৌঁছলাম তখন বিকাল ৫টা বেজে গেছে। হোটেলের জানলা খুললে বা বারান্দায় গেলে ফোর্টের কিছুটা আর ছাদে গেলে পুরোটা দেখা যায়। এই ছাদে রান্না আর খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। যারা কনকনে ঠাণ্ডা হাওয়া সহ্য করতে পারেন তারা ছাদে বসে কেল্লার দৃশ্য দেখতে দেখতে আহারের মজা উপভোগ করতে পারেন। আমরা অবশ্য দুদিন ঘরে খাবার আনিয়ে খেয়েছি।

              পরের দিন ৩০সে ডিসেম্বর, শুক্রবার আমাদের কাছে একটা বিশেষ দিন হিসাবে চিরদিন মনে থাকবে। ঠিক সকাল ৯.৩০ মি: একটা গাইড নিয়ে জয়সলমির ফোর্টএ প্রবেশ করলাম। ফোর্ট এর দৈর্ঘ্য ৪৫৭ মিটার ও প্রস্থ ২২৯ মিটার তৈরি হয় ১১৫৬ খ্রিষ্টাব্দে। দুর্গের প্রবেশ পথ ৪টি। গণেশ পোল, সুরজ পোল, ভূটা পোল, হাওয়া পোল। মোট ৮টি জৈন মন্দির ও ৪টি হিন্দু মন্দির আছে। আর আছে আম দরবার। রাজা বসতেন পাথরের সিংহাসনে। চলতো বিনোদনের আসর। একটি মন্দিরে মহাবীরের মূর্তী পান্নায় তৈরি। পর্শ্বানাথজী মন্দিরের কারুকাজ ভারী সুন্দর। পাথরের কারুকাজ করা জাফরী দেখতে অনিন্দ্য সুন্দর। সিলিং রঙিন অলঙ্করণে সমৃদ্ধ। আছে বেশ কয়েকটি হাভেলী। পাটওয়ান কি হাভেলির বৈশিষ্ট্য অতুলনীয়। সরকার অধিকৃত এর ছাদ থেকে চতুর্দিকের দৃশ্য দেখার মতো। এছাড়া আছে নাথমলজির হাভেলি, সেলিম সিংজিকি হাভেলীর মুরাল জাফরির কাজ বিশ্ব বিখ্যাত। রাজা কি মহলেও তাই। এখানে বাজারও বসেছে প্রচুর। সোনা রঙের বা বালী রঙের তৈরি পাথরের কাজ করা জিনিস পাওয়া যায়। এরকম একটা দোকানে ঢুকে ছিলাম যেই দোকানে বিশ্ব বিখ্যাত চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় তার তৈরি 'সোনার কেল্লা' বইটির শ্যুটিং করেছিলেন। এখানকার বসবাসকারী লোকেদের বা দোকানিদের কাছে তিনি অতি প্রিয়। সিনেমাটিও ওদের খুবই প্রিয়। কলকাতা থেকে এসেছি বললে ওরা খুব খাতির করে বলে, 'মুকুল বাড়ি দেখা? ঔর নেহি দেখা তো অভি দেখ লিজয়ে।' ভারী ভালো লাগলো ওদের ঐরকম ব্যবহারে। আমরা দেখেছিলাম সোনার কেল্লার শ্যুটিংয়ের জায়গাগুলো। মুকুল বাড়ি এখন প্রায় ধ্বংসস্তুপ। মেরামত চলছে।

              কেল্লা থেকে বেরিয়ে গেলাম গদিসর লেকে। এটা দুর্গের কাছেই। এমন কিছু নয় তবে সুন্দর। বোটিংএর ব্যবস্থা আছে। অনেক দোকানপাটও আছে। এরপর আমরা সাম স্যান্ড ডিউনসে যাবার জন্য প্রস্তুত হলাম। যাবার পথে আমাদের গাড়ির ড্রাইভার গোপাল একটা সুন্দর দ্রষ্টব্য স্থান দেখাতে নিয়ে গেলো। কুলেধারা সেই জায়গার নাম। ১৩০০ শতাব্দীতে এটা ছিল পালিয়াল ব্রাহ্মণদের এক বর্ধিষ্ণু গ্রাম। কথিত আছে আজ থেকে ২০০ বছর আগে কোনো এক দেওয়ান কুলধারা গ্রামের উপর ধার্য্য কর আদায় করতে এসে গ্রামের মুখিয়ার মেয়েকে দেখে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিবাহ করতে চায়। কিন্তু মুখিয়া আর তার মেয়ে কেউই এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। তখন দেওয়ানজী ফিরে যায় কিন্তু যাবার আগে বলে যায় যে সে আবার পরদিন লোকজন নিয়ে প্রস্তুত হয়ে আসবে, তারা রাজি না হলে তাকে জোর করে নিয়ে যাবে। তাকে কে আটকায় সে দেখতে চায়। এদিকে গ্রামের কেউই এই অসবর্ণ  বিবাহ মানতে চাইলো না। এই খবর আশেপাশের প্রায় ৮৪টি গ্রামে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লো। তারপর গ্রামের মূখিয়ার নির্দেশে এক রাতের মধ্যে সব গ্রামের অধিবাসী যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল। পরদিন দেওয়ানজী সম্পূর্ন প্রস্তুত হয়ে এসেও গ্রামগুলোর অধিবাসীদের কোনো হদিস করতে পারেনি। গ্রামগুলো সব শূন্য এবং খাঁ খাঁ করছে। এরপর এই গ্রামে আর কেউ থাকতে পারে নি। সব সময় খালি পড়ে থাকে। সম্প্রতি নাকি সরকার এখানে সার্ভের কাজ করছে। দেখতে পাইনি আমরা।

এরপর আমরা পৌঁছলাম সাম স্যান্ড ডিউনসে এ যাবার টিকিটের জন্য। টিকিটের মূল্য ২৫০০ টাকা জন প্রতি। এই টিকিটের মূল্যের মধ্যে বাইক সাফারি আর কেমেল সাফারি ধরা আছে। আমি আর আমার স্ত্রী শীলা কোনো সাফারি করি নি। তবে শুভ শ্বেতা আর বাবুসোণা সাফারি করেছে। আর dunes এ আমরা বহুক্ষণ আনন্দে কাটিয়েছি। আমার নাতি বাবুসোণা মনের সুখে বালি নিয়ে আপন মনে খেলা করেছে। খালি সাফারির সময় আর একবার চা খাবার সময়টুকু বাদ দিয়ে পুরোটা সময় বালিতে খোঁড়া খুঁডি করে গেছে অতি উৎসাহে। সবার শেষে পশ্চিম আকাশে দেখলাম এক অসাধারণ সূর্যাস্ত। সারাটা আকাশ কি সুন্দর লাল হয়ে গিয়ে একসময় ডুবে গেলো সূর্য্য। রেখে গেলো হিমেল হাওয়ার স্পর্শ। মনটা একদম ভরে গেলো। আমরা আরও দু ঘন্টা পরে হোটেলে ফিরলাম। শেষ হলো আমাদের রাজস্থান ভ্রমণ। এবার যোধপুরে এক রাত থেকে কলকাতায় ফেরা।

পরদিন যোধপুর শেষ বিকালে পৌঁছলাম অবশ্য যোধপুর বাজারটা ঘুরে। এত বিশাল ও আধুনিক বাজার এবং খুব সুন্দরও বটে, না দেখলে সেটা বাকি থেকে যেত। আমরা অবশ্য জয়সলমির থেকে ফেরার পথে ওয়ার মিউজিয়ামটি দেখে নিয়েছিলাম।

তার পরদিন অর্থাৎ ২০২৩ সালের প্রথম দিন গোপাল ভুঁই আমাদের সকাল ১০.৪৫ মিনিটে যোধপুর বিমান বন্দরে পৌঁছে দিয়ে নমস্কার করে আমাদের কাছে বিদায় নিয়ে উদয়পুর চলে গেলো। আমাদের ফ্লাইট টাইম ছিল ১২.৩০ মিনিটে। আমরা বেলা ৩টায় কলকাতার অতি চেনা মাটিতে পা রাখলাম।

০-০-০-০-০-০-০-০-০-

 

Dipak Kumar Paul,

DTC Southern Heights,

Block-8, Flat-1B,

Diamond Harbour Road,

Kolkata - 700104.

Mobile No. 9007139853

 

Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...

গল্প ।। অনুর অপেক্ষা ।। নাজিরুল ইসলাম

অনুর অপেক্ষা  নাজিরুল ইসলাম গ্রামের নাম জলামাদুল। গ্রাম বললে অবশ্য ভুলই বলা হবে, আসলে সেটি এক অজপাড়া গাঁ। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেই জীবন ধারণ করে। শহরের আধুনিক হাওয়া এখানে এখনো এসে পৌঁছায়নি। কাঁচা-পাকা রাস্তা, তাই বর্ষাকালে জল জমে কাদা প্যাচপ্যাচে হয়ে থাকে। গ্রামে গাছপালা, জলাজমি, পুকুর, ধান রাখার মরাই আর খড়ের গাদা—সবই আছে। এই প্রাকৃতিক সুন্দর পরিবেশে মানুষের সংখ্যা খুব কম। সব মিলিয়ে কুড়ি-বাইশটি ঘর হবে, সবাই সবাইকে চেনে। সন্ধ্যার পর গ্রামের বয়স্ক মানুষেরা একজোট হয়ে আড্ডা জমায়, তারপর হুঁকোয় টান দিতে দিতে যে যার বাড়ি চলে যায়। গ্রামের ঠিক মাঝখানে একটা একলা দোকান—চায়ের দোকান। দোকান বলতে বাঁশের খুঁটি, টালির ছাউনি আর সামনে পাতা দুটো কাঠের বেঞ্চ। দোকানটা চালায় অনু। অনুর বয়স ১৯ কিংবা ২০ হবে। শ্যামবর্ণের রোগাটে চেহারা, গোলগাল মুখ। তবে তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো জোড়া ভুরুর নিচে একজোড়া নীল চোখের মণি, যা তাকে আর পাঁচটা মানুষের থেকে আলাদা করে। অনু অনাথ। কীভাবে সে মানুষ হয়েছে, সে নিজেও তা ভালো করে জানে না। আপনজন বলতে এক দাদি ছ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রবন্ধ রচনা ।। একটি রাজপথের আত্মকথা

একটি রাজপথের আত্মকথা “ওগো পায়ে চলার পথ, অনেক কালের অনেক কথাকে তোমার ধূলিবন্ধনে বেঁধে নীরব করে রেখো না। আমি তোমার ধুলোয় কান পেতে আছি, আমাকে কানে কানে বলো।” —রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভূমিকা: আমি রাজপথ, পথিক মানুষের চিরসখা। আমার জন্মের কথা আজও আমার ক্ষীণ মনে পড়ে, তবে এ কথা সত্যি আমার শেষ ঠিকানা কোথায় তা আমিও জানি না। বহু যুগ আগে ঘন জঙ্গলের বুক চিরে মানুষ আমাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। গাছগাছালির ফাঁকে ফাঁকে এই ক্রমাগত চলাতেই তো আমার আনন্দ। এভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়াই তো জীবন। ধুলো-মাটি দিয়ে তৈরি আমার শরীরে কত কাল ধরে কত কিছুর প্রলেপ পড়ল। ক্রমে শক্ত-জমাট হয়ে উঠলাম আমি। মেঠোপথ থেকে আজ আমি রাজপথ। মেঠো ধূলিবন্ধনে নয়, মোরামের মর্মরে নয়, আজ আমার হৃদয়ের সব কথা প্রযুক্তির পীচের নীচে গুমরে গুমরে কাঁদে। হে পথিক, তুমি শুনতে চাও, তাই হৃদয়-উজাড়ি বলব তোমাকে আজ আমার আত্মকথা। আত্মকথা: আমি ই.এম. বাইপাস। উত্তর কলকাতার উল্টোডাঙ্গা থেকে শুরু করে বারুইপুর পুরাতন বাজার পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার আমার বিস্তৃতি। আমি পশ্চিমবঙ্গের একটি অন্যতম প্রধান রাজ্যসড়ক। আমার দু-পাশে কত গাছপালা, কৃষিক্ষেত, কলকারখানা, দোকান, বাড়ি! দিনরাত শত-সহস্র...

রমেশ দাসের কবিতা

   বাঙালি মোরা বাঙালি                                                                         বাংলাকে   ভালবাসি বাংলায় কথা বলি বাংলা কবিতা মোদের জীবন। বাংলার নদী নালা বাংলার গাছ পালা বাংলার মাটিতে মোদের মরণ।। বাংলার ঘর মাঠ বাংলার খেত ঘাট বাংলা বাতাস আর সুস্থ জীবন। বাংলার নেওয়া শিক্ষা বাংলার দেওয়া দীক্ষা বাংলাকে ভালোবেসে মোদের রচন।। ভালো লাগে বাংলার পাঠ্য বই পড়তে। ভালো লাগে বাংলার সুরে গান গাইতে।। বাংলা ছাড়া মোরা যে পারিনা কিছু বুঝতে। বাংলার ঋণ এখনও পারিনি শেষ করতে।। মাতা তবুও সম্মতি দেন বিদেশের জ্ঞান নিতে। না মা যাবো মোরা তোমার বাণী দিয়ে ।। বাংলাদেশে জন্ম মোদের বাংলা নিয়ে পড়বো। বাংলার শিক্ষায় মোরা বাংলা পথ চলবো।। বাংলার মধুরতা আদৌ পারিনি শেষ করতে। বাংলার মিলনমেলায় ভালো লাগে লিখতে।। ========================= (   রমেশ দাস,...

বিজয়ন্ত সরকারের গল্প

// রাস্তার ছেলে মন্টু // গতরাতে যখন অঝোর ধারা... স্বস্তির গন্ধ দালানের মালিকদের উরুভাঁজে-কার্নিশে তখন ভেজা শরীরে বছর নয়ের মন্টু আশ্রয় নিয়েছিল একটা জীর্ণ একচালায়। যার নীচে দাঁড়িয়ে শরীরটা অন্তত একটু কম ভেজে ।  বৃষ্টিস্নাত রাতে এই একটাই সমস্যা মন্টুর । সকালে মবিন মিঞাঁকে দেখেই- - আরে চাচা, গতরাতে যা বৃষ্টি, তোমার এই একচালার নীচেই তো ছিলাম । - কী কইতাসস্ ! এই চালায় যত ফুটা, দিনে বারিষ আইসলে মুই বুঝবার পারিনা জুতা সিলাইয়ের জিনিস রাকপো কই আর মুইবা খাড়াবো কই ! - যাই বল চাচা, ভগবান আমার জন্যই তোমাকে পাঠিয়েছে । তা না হলে খদ্দের তো তেমন আসেনা, তবু ওই কটা পুরানা জুতা-কালি-সুতা নিয়ে বসে থাকো।  - হা হা হা (প্রাণখোলা হাসি) সহী বাত্ বেটা...সহী বাত্ । 'যাই ওদিকে হয়তো চা ফুটছে, পরে এসে নিউজ শোনাব তোমাকে' মন্টু বলতে বলতে ঝটপট্ বেরিয়ে যায়।  দাস টিফিন সেন্টারে কাজ করে মন্টু । সারদিন খেটে নাম মাত্র টাকা পায় আর কখনও কখনও পায় এক বেলার টিফিন । অথচ কথায়, চাল-চলনে, ফুরফুরে-উড়ে বেড়ায় বেশ । (ব্যাগ হাতে এপাড়ার গন্যিমান্যি গগন বাবুর আগমন) - আরে ও মবিন...

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর ।। উত্তম ভট্টাচার্য

একটা মেয়ে-মানুষের শরীর উত্তম ভট্টাচার্য 'দাদা আমি একটু মারব?' ভিড় ঠেলে অল্প বয়সী এক কলেজ ছাত্রীর আর্তি! এবং অনুমতি আদায়ের আগেই একেবারে সপাটে চড়! ঠিক জানোয়ারটার দক্ষিণ গালে। তারপর পরপর ওগালে, এগালে,  দু'গালেই! জানোয়ারটা দেখতে ঠিক মানুষের মত! পকেটে তিনতিনটে দামি কম্পানির পেন, বিদেশি দামি কম্পানির ফুলহাতা শার্ট, প্যান্ট,দামি জুতা পরে জানোয়ারটাকে ঠিক মানুষের মতোই দেখতে লাগছিল। সিস্টেমের ছকে একজন অঙ্কের প্রফেসর! জানোয়ারটার কামনা শক্তি নাকি ভীষন প্রবল। জানোয়ারটা নারীর শরীর পেতে চায়। প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন মেয়েমানুষকে নিয়ে মত্ত থাকতে চায় জানোয়ারটা। নিজের পদাধিকার বলে ক্লাসে ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে, কলেজ থেকে বের করে দেবার হুমকি দিয়ে, অশ্লিল ছবি পাঠিয়ে-জানোয়ারটা কামনা শক্তি মেটায়! মেয়েটা তারই কলেজের নির্যাতিতা এক ছাত্রী! হতদরিদ্র ঘর থেকে উঠে আসা অত্যন্ত মেধাবী অসহায় ছাত্রীটা প্রায় প্রতিদিনই জানোয়ারটার শিকার! ...

তিনটি কবিতা ।। আবুল কালাম তালুকদার

তিনটি কবিতা ।। আবুল কালাম তালুকদার   f‡i _vKyK AvKvk N„Yvq bq fv‡jvevmvq R‡g DVzK wgZvwj AvnZ mg‡q b‡ivg el©‡Y AvmyK cÖkvwšÍ emšÍ w`‡bi g‡Zv KvUzK ev‡iv gvm G‡K Ac‡ii mnvbyf~wZ‡Z f‡i _vKzK †`k mevi Kcv‡j †j‡M _vKzK Avb‡›`i wUc my‡Li cÖ`xc R¦‡j DVzK mevi `ytL N‡i mKv‡ji ‡mvbv †iv‡` f‡i _vK mvivw`‡bi mgq ‡KvZ~nj bq Avb›` D”Qv‡m f‡i _vKzK mevi Ni Sjmv‡bv Av‡jvq f‡i _vKyK mevi AvKvk|   Zzwg mgy‡`ªi g‡Zv A‰_ ü`‡q Avgvi AvKvOÿvi N‡i G‡b‡Qv fv‡jvevmvi e„wó my‡Li bvgZvq Rxe‡bi avivcvZ f‡i‡Qv fv‡jvjvMvi evZv‡m f‡i‡Qv wb:k‡ãi Kÿ iv‡Zi wb¯ÍäZvq G‡b‡Qv †RvbvwKi evmi|   Avn¬v`x Av`‡i nv‡Z nvZ †i‡L wb`viæY my‡L f‡i‡Qv gb k~Y¨Zvi †PŠnÏx‡Z Zz‡j‡Qv my‡Li †`qvj Avuav‡i R¡vwj‡q‡Qv Av‡jvi †ivkbvB em‡šÍi e„wó‡Z gb wfwR‡q nvRv‡iv dz‡ji M‡Ü K‡i‡Qv gvZvj|     Zzwg Kv‡Q Avmvq   Zzwg Kv‡Q G‡j fv‡jvevmvq Av‡m c~Y©Zv emšÍ evZv‡m D‡o gy³ cvwL`j g‡bi K...

মুক্তভাবনা: আবদুস সালাম

 ট্র‍্যাজিক   নায়ক : সুভাষচন্দ্র বসু       দ্বিখণ্ডিত হয়ে স্বাধীন হলো ভারত । ফিরে এলেন না আমাদের যৌবনের প্রতীক নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু।বিমান দুর্ঘটনায়  মৃত্যু কাহিনী দেশময় চাউর হলেও আজও তা আমাদের কাছে অবিশ্বাস্য।বিমান দুর্ঘটনার কাহিনী তে এতো বেশী ছিদ্র যে অলীক কথকথার জল সহজেই‌ সেখানে ঢুকে  পড়ছে।      এত বড়ো মাপের একজন  নেতার মৃত্যু কাহিনীর তথ্য প্রমাণ  এতো বেশি অকিঞ্চিৎকর যে পরস্পর বিরোধী স্বাক্ষ‍্য এবং গোপনীয়তার চেষ্টা নানা রকম সন্দেহের উদ্রেক করে । জাপানের রনকেজী মন্দিরে অবস্থিত ছাই কাহিনী ও আমাদের মনে বিশ্বাসের তত্ত্ব উপস্থিত করতে পারে না।    বিশ্ববরেণ্য সর্বভারতীয় নেতার প্রতি আমাদের আবেগ, আমাদের আবেগের  উচ্ছলতা স্বাভাবিক ভাবেই উথলে ওঠে।তিনি ছিলেন  একাধারে কবি গুরুর স্নেহ ধন‍্য,চিত্তরঞ্জন দাশের পুত্র তুল‍্য এবং স্বামী বিবেকানন্দের উত্তরসূরী।উচ্ছল তারুণ্যের মূর্ত প্রতীক সুভাষচন্দ্র  বাঙালি জাতিকে সাহস ও তারুণ্যের দীক্ষা দিয়েছেন।ভীরু বাক‍্যবাগীশ বাঙালি জাতি একজন উচ্চ শিক্ষিত, প্র...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...