তিনটি কবিতা ।। প্রণব শংকর গাঙ্গুলী
অতি দর্শন
সে এক আশ্চর্য আলো,
ব্য প্ত হয়ে আছে দশ দিক।
জ্বালা নেই, তাপ নেই,
হিমেল দংশন নেই,
গতি নেই অন্হিক বার্ষিক।
তাই ঋতু নেই,
নেই রাত্রি -দিন তাই;
শুধু আলো, ছায়া নেই, যে দিকে তাকাই।
সুর গন্ধ গলে গলে
মিশে যায় সেই আলোতেই।
প্রেম নেই ,আলিঙ্গন,
অখণ্ডিত অবয়ব,
আলোময়, বুঝি সত্য সেই।
ক্ষুধার পারে
এমন চন্দ্রিমা আমি দেখেছি যা পূর্ণিমার ও বেশী।
সুর ও সুগন্ধের প্রলোভন ফেলে ,
মধু চন্দ্র যাপনের রাত পার হয়ে,
এসেছি শান্তির দেশে ।
অসংখ্য ক্ষুধার দাঁতে রক্তাক্ত চেতনা শান্তি চেয়েছিল ;
তাই মানুষের সঙ্গ ত্যাগ করে এসেছি নির্জনে।
কোলাহল নেই ,
বাতাস নি:শব্দে বয়ে যায় ।
বহু রাত্রি জাগরণ শেষে,
এখন শান্তিতে ঘুম আসে।
ছায়া পথ পার হয়ে
অস্থি-র পিঞ্জরে আমি চাইনি তৃপ্তিকে খুঁজে নিতে ।
তোমার দু চোখে চেয়ে করেছি যে আলো অন্বেষণ,
সে আলো আমাকে দাও ,করে তোলো অনন্ত এ ক্ষণ,
আস্বাদের সাধ্যাতীত সাধনার সে সুধা অমৃতে।
ফুলের কোমলতায় যদি জাগে নক্ষত্রের ভাষা;
মৃত্তিকায় পদ চিন্হ রেখে তবু দৃষ্টি উর্ধ পানে ,
আকাশগঙ্গায় গিয়ে ডুবে যায় কিসের সন্ধ্যানে ?
ছায়াপথ পার হয়ে সে শুধু খুঁজেছে ভালোবাসা।
এ শরীর মাটি হয়ে মাটিতে মেশার পরে যদি,
তবুও চেতনা থাকে ইন্দ্রিয় বিহীন কোনো বোধে;
তবে সে আলোর তৃষ্ণা,পৃথিবীর ঋণ পরিশোধে,
সে আর ভিখারী নয় ,
নিজেই সে চিরন্তন নদী।
----------------------------
প্রণব শঙ্কর গাঙ্গুলী
মোহন লাল স্ট্রীট কলকাতা -৭০০০০৪
Comments
Post a Comment