Skip to main content

মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান ।। দিব্যেন্দু ঘোষ

প্রচ্ছদ নবপ্রভাত এপ্রিল ২০২৬
 
বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক গল্প

মাটি, বঁড়শি ও রক্তের আখ্যান

দিব্যেন্দু ঘোষ


বাঁকুড়ার একেবারে শেষ প্রান্তের গ্রাম খয়েরবনি। চৈত্রের দুপুরে গ্রামটাকে দেখলে মনে হয় যেন কোনও রাক্ষস তার সর্বস্ব শুষে নিয়ে ছিবড়ে করে ফেলে রেখে গেছে। মাঠের পর মাঠ ফুটিফাটা, ধানের গোলাগুলো খাঁ খাঁ করছে। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু নদীটা কবেই শুকিয়ে কাঠ, সেখানে এখন শুধু বালি আর নুড়িপাথরের কঙ্কাল। এই প্রবল খরা আর খিদের জ্বালা, এ দুইয়ের সঙ্গেই খয়েরবনি গ্রামের মানুষের নাড়ির টান। এখানে জীবন মানে প্রতিদিনের ক্লান্তিহীন যুদ্ধ, যেখানে জেতার কোনও আশা নেই, শুধু টিকে থাকাটাই একমাত্র লক্ষ্য

গ্রামের একেবারে শেষ মাথায় বুড়ো শিবতলার প্রাচীন নাটমন্দির। সেটারও ভগ্নদশা, পলেস্তারা খসে গিয়ে ভিতরের নগ্ন ইটগুলো বেরিয়ে পড়েছে। নাটমন্দিরের এক কোণে বসেছিল রতন। ওর বয়স পঁচিশ কি ছাব্বিশ হবে, কিন্তু অভাব আর রোদের তাপে চামড়া পুড়ে গিয়ে ওকে আরও অন্তত দশ বছরের বড় দেখায়। পরনে শতচ্ছিন্ন ফতুয়া, চোখের নীচে গভীর কালি, বুকের পাঁজরগুলো গোনা যায় আর মাত্র দু'দিন পরেই গাজন। গ্রামের প্রাচীন নিয়ম অনুযায়ী, রতন এবার শিবের মূল সন্ন্যাসী বা ভক্তাসারা চৈত্র মাস ধরে একবেলা খেয়ে, শিবের মাথায় জল ঢালা, বাড়ি বাড়ি ঘুরে চাল ভিক্ষে করা, আর শেষে চড়ক সংক্রান্তির দিন পিঠে লোহার বঁড়শি গেঁথে শূন্যে ঘোরা, সবই তাকে করতে হবে। কিন্তু রতন এ সব পুণ্য বা ভক্তির জন্য করে না। ওর শরীরে ভক্তি নেই, পেটে দাউদাউ করে জ্বলছে খিদের আগুন। এই চরম কষ্ট সহ্য করতে ও রাজি হয়েছে স্রেফ টাকার জন্য গ্রামের একচ্ছত্র অধিপতি, সুদখোর মহাজন সদানন্দ চৌধুরী কথা দিয়েছে, এবার চড়কগাছে সবচেয়ে বেশি সময় পাক খেলে এবং দর্শকদের সবচেয়ে বেশি আমোদ দিতে পারলে তাকে পাঁচ হাজার টাকা ইনাম দেওয়া হবে। পাঁচ হাজার টাকা তো রতনের কাছে স্বর্গের চাবিকাঠি। গৌরীকে কিনে আনার দাম গৌরী। সদানন্দর বাড়ির বাঁধা দিনমজুর পরাণ দাসের একমাত্র মেয়ে। ভরা যৌবন, শরীরে যেন এই রুক্ষ রাঢ় মাটিরই বুনো, আদিম গন্ধ। পরাণ দাস বছর দুয়েক আগে খরায় ফসল নষ্ট হওয়ার পর সদানন্দের কাছ থেকে মেয়ের বিয়ের নাম করে হাজার তিনেক টাকা ধার নিয়েছিল। অভাবের তাড়নায় সেই টাকা আর শোধ করতে পারেনি। সুদে-আসলে সেই তিন হাজার টাকা এখন দশ হাজার ছুঁয়েছে। সদানন্দ চৌধুরী গ্রামের মাতব্বর, তার কথার ওপর কথা বলার সাহস এই তল্লাটে কারও নেই। সে ফতোয়া দিয়েছে, আগামী বৈশাখের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে টাকা শোধ না হলে পরাণ দাসকে ভিটে ছাড়তে হবে এবং গৌরীকে সে সদানন্দর বাড়িতে কাজের মেয়ে হিসেবে রেখে দেবে। খয়েরবনি গ্রামের সবাই জানে, সদানন্দর বাড়িতে যুবতী মেয়ের কাজ করার আসল অর্থ কী। গৌরীকে সে নিজের রক্ষিতা করে রাখবে

-কী রে, পিঠের চামড়া শক্ত করছিস?

পিছন ফিরে তাকাল রতন। কড়া রোদের পটভূমিতে গৌরী দাঁড়িয়ে আছে। পরনে বিবর্ণ, তালি-মারা সুতির শাড়ি, ঘামে লেপ্টে আছে শরীরের সঙ্গে। ওর চোখে একটা অদ্ভুত ক্লান্তি, অথচ ঠোঁটের কোণে বাঁকা, তিক্ত হাসি

-শক্ত আর কী করব। এমনিতে খিদের জ্বালায় চামড়া হাড়ের সঙ্গে সেঁটে আছে।

রতন শুকনো হাসল গৌরী এগিয়ে এসে রতনের পাশে বসল। নাটমন্দিরের এই নির্জন কোণটায় ওদের লুকিয়ে দেখা হয়। গ্রামের আর পাঁচজনের মতো ওদের প্রেমে কোনও আদিখ্যেতা নেই, কোনও রোমান্টিক স্বপ্ন নেই। ওদের প্রেম হল একসঙ্গে না খেতে পাওয়ার প্রেম, একসঙ্গে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচার প্রেম। গৌরী রতনের হাতটা নিজের কোলের ওপর টেনে নিল। ওর আঙুলগুলো রুক্ষ, কাজ করতে করতে কড়া পড়ে গেছে, কিন্তু ছোঁয়াটা রতনের কাছে জিয়নকাঠির মতো

-তুই পারবি তো রতন? সদানন্দ কিন্তু মানুষ নয়, জানোয়ার। ও চায় তুই চড়কগাছ থেকে ছিটকে পড়ে মরিস। তাহলে আমাকে আটকে রাখতে ওর আর বাধা থাকবে না। ও তোকে টাকা দেবে বলে মনে হয় তোর?

গৌরীর গলায় হতাশা আর ভয় স্পষ্ট রতন গৌরীর চোখের দিকে তাকাল। সেই দৃষ্টিতে শুধু ভয় নয়, জ্বলজ্বল করছে আদিম খিদে, যে কোনও মূল্যে বেঁচে থাকার খিদে। রতন গৌরীর ঘামে ভেজা গলার কাছে মুখ নামাল। ফিসফিস করে বলল,

-আমি মরব না গৌরী। তোর শরীরের ওই গন্ধটা আমাকে মরেও বাঁচিয়ে আনবে। পাঁচ হাজার টাকা আমি আদায় করবই। বাকিটা তুই তোর বাপের জমানো খুঁদকুঁড়ো, বাসনপত্র বেচে জোগাড় করবি। টাকাটা সদানন্দের মুখের ওপর ছুড়ে দিয়ে আমরা পালাব। বর্ধমান বা দুর্গাপুরের দিকে চলে যাব, ওখানে কারখানায় কাজ জুটবে ঠিক।

গৌরী রতনকে দু'হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। সূর্যটা মাথার ওপর গনগন করছে। সেও বোধহয় রতনদের মতোই চির-ক্ষুধার্ত, না হলে ওই হলকা চিরকাল কেন পাঠায় পৃথিবীতে? সবকিছু শুষে নিতে চায় কেন? দুপুরেই বোধহয় ওর খিদেটা বাড়ে, না হলে সারা দিনের মধ্যে এই সময়টাতেই কেন এত তেতে ওঠে ধরা? তবে তপ্ত দুপুর হোক, দেবতার মন্দিরের ঠান্ডা ছায়া তো আছে। সেই ছায়ায় দুটো প্রান্তিক মানুষের শরীর মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল। চরম হতাশা থেকে জন্ম নেওয়া বন্য যৌনতা খেলা করে বেড়াচ্ছে, যেখানে দুজনেই একে অপরের শরীর থেকে শুষে নিতে চাইছে বেঁচে থাকার শেষ রসদটুকু। ঠিক সূর্যের মতো। ওরা জানে না কাল ওদের ভাগ্যে কী আছে, তাই আজকের এই মুহূর্তটুকু ওরা পাগলের মতো আঁকড়ে ধরতে থাকে

গাজনের উৎসব পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। চারদিকে ঢাকের গুরুগম্ভীর আওয়াজ, কাঁসরের তীক্ষ্ণ শব্দ আর ধুনোর গন্ধে বাতাস ভারী। রতনদের উপবাস চলছে। সারাদিন রোদে পুড়ে টো টো করে ঘুরে ভিক্ষে করা আর রাতে শিবের সামনে বসে নামগান করা আজ নীল পুজোর রাত। আজ 'মড়া খেলা' বা কালিকা পাতারি নাচ। গ্রামের পিছনের পুরনো শ্মশান থেকে মানুষের মাথার খুলি আর হাড়গোড় এনে ঘোর অন্ধকারে মশাল জ্বালিয়ে সে এক বীভৎস, উদ্দাম নৃত্য শুরু হয়েছে। রতনদের মুখে কালি মাখা, গায়ে ছাই। সারাদিনের উপোস আর ক্লান্তি কাটানোর জন্য ওরা আকণ্ঠ তাড়ি গিলেছে। তাড়ির নেশায় চোখগুলো জবা ফুলের মতো লাল। এই ভক্তি আসলে ভক্তি নয়, এই নেশাই ওদের চাবুক মারা শরীরের ব্যথা, খিদের জ্বালা আর ভবিষ্যতের ভয়কে ভুলিয়ে রাখেনাচের ফাঁকে, মশালের আলো-আঁধারিতে রতন হঠাৎ দেখল, ভিড় থেকে একটু দূরে অন্ধকারে বিশাল শিমুল গাছটার আড়ালে গৌরী দাঁড়িয়ে আছে। রতন চুপিচুপি ভিড় থেকে সরে গেল। টলমল পায়ে সে গৌরীর সামনে গিয়ে দাঁড়াল

-কী হয়েছে? এত রাতে তুই এখানে?

রতন হাঁপাতে হাঁপাতে জিজ্ঞেস করল। ওর মুখ থেকে তাড়ির গন্ধ বেরোচ্ছে ভক করে নাকে এসে লাগছে গৌরীর। ওর চোখ দুটো আজ অস্বাভাবিক শান্ত, যেন কোনও গভীর দিঘির কালো জল। সে এদিক-ওদিক একবার দেখে নিয়ে রতনের হাতের মধ্যে একটা ছোট, ধারালো ক্ষুর গুঁজে দিল

-এটা কী?

রতন অবাক হয়ে ক্ষুরটার দিকে তাকাল। চাঁদের আলোয় ব্লেডটা চকচক করে উঠল

-কাল চড়ক। সদানন্দর লোকেরা তোকে বঁড়শি গাঁথবে। আমি আজ বিকেলে সদানন্দর বাড়ির পিছনের দাওয়ায় লুকিয়ে ওদের কথা শুনেছি। ওরা বঁড়শিটা এমনভাবে গাঁথবে যাতে তুই শূন্যে ঘোরার সময় তোর পিঠের মাংস ছিঁড়ে তুই নীচে পড়ে যাস। গাছটা অনেক উঁচু, আর নীচে ইট-পাথর ছড়ানো। তোর মৃত্যু নিশ্চিত।

গৌরীর গলা বরফের মতো ঠান্ডা, আবেগের লেশমাত্র নেই রতনের বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। নেশাটা যেন এক লহমায় ছুটে গেল।

-তাহলে? আমি কি কাল চড়কে উঠব না? কিন্তু টাকাটা না পেলে তোকে যে ও...

-তুই উঠবি,

গৌরী রতনের ঠোঁটে আঙুল রাখল।

-কিন্তু তুই ঘুরবি না। যখন তোকে বঁড়শি গেঁথে শূন্যে তোলা হবে, তুই আমার দিকে তাকাবি। আমি ভিড়ের মধ্যে একেবারে সামনের দিকে থাকব। আমার মাথায় একটা লাল শালু জড়ানো থাকবে। আমি যখন শালুটা মাথা থেকে নামাব, ঠিক সেই মুহূর্তে তুই এই ক্ষুরটা দিয়ে নিজের পিঠের চামড়া নিজেই কেটে ফেলবি!

-কী বলছিস তুই, পাগল হয়েছিস! আমি এত উঁচু থেকে পড়ব, আমার হাড়গোড় সব গুঁড়ো হয়ে যাবে। আমি তো মরেই যাব।

রতন শিউরে উঠল

-তুই পড়বি ভিড়ের ওপর। নীচে হাজার হাজার মানুষ থাকবে। কিছু মানুষ জখম হবে, তুইও খুব ব্যথা পাবি। কিন্তু তুই মরবি না। আর ঠিক ওই সময়টায় এমন একটা কিছু ঘটবে, যা এই গ্রামের কেউ কোনওদিন ভাবেনি। তুই শুধু আমার ওপর ভরসা রাখ রতন। তুই যদি আমাকে চাস, যদি আমাদের এই নরক থেকে বের হতে চাস, কাল এইটুকু কষ্ট তোকে করতেই হবে।

গৌরী আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। অন্ধকারের মধ্যে শিমুল গাছের ছায়ায় মিলিয়ে গেল। রতন বোকার মতো ক্ষুরটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর সেটা সযত্নে কোমরের কাছে ধুতির গিঁটের আড়ালে লুকিয়ে রাখল। ওর শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল। গৌরী কী ছক কষছে? ভাবতে থাকে রতন। গৌরী ওকে খুব ভালবাসে, জীবন পর্যন্ত দিতে পারে, জানে সে, তাই ওর ওপর অগাধ আস্থা।

চৈত্র সংক্রান্তির বিকেল। গ্রামের খোলা মাঠে চড়কের মেলা বসেছে। মেলা মাঠে তিল ধারণের জায়গা নেই। জিলিপি, পাঁপড় ভাজা আর মাটির পুতুলের দোকানের মাঝখানে মাথা উঁচু করে দম্ভের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল চড়ক গাছটা। নীচে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। শুধু খয়েরবনি নয়, আশপাশের পাঁচটা গ্রাম থেকে মানুষ ভেঙে পড়েছে রোমহর্ষক খেলা দেখার জন্য সদানন্দ চৌধুরী একটা দামি কাঠের চেয়ারে বসে পান চিবোচ্ছে। তার দু'পাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তার সাগরেদরা। সদানন্দর চোখে নিষ্ঠুর, পৈশাচিক উল্লাস। সে আজ একটা গরিবের ছেলের মৃত্যু দেখবে, আর তার বিনিময়ে এক যুবতী মেয়েকে ভোগ করবে রতনকে আনা হল। সে উপবাসে, নেশায় আর অজানা ভয়ে রীতিমতো টলছে। সদানন্দর চারজন তাগড়াই লোক রতনকে ধরে উপুড় করে শুইয়ে দিল। রতনের পিঠের চামড়া টেনে ধরল। চকচকে দুটো বিশাল লোহার বঁড়শি। কোনও মন্ত্র নেই, কোনও দৈব শক্তি নেই, রক্তমাংসের শরীরে ঠান্ডা, ভোঁতা লোহা ঢুকে যাওয়ার নারকীয় যন্ত্রণা। রতনের মুখ থেকে জান্তব আর্তনাদ বেরিয়ে এল, যা অগণিত ঢাকের কানফাটানো আওয়াজে তলিয়ে গেল রক্তে ভেসে যাচ্ছে রতনের পিঠ। তাকে মোটা কাছি দিয়ে বেঁধে চড়ক গাছের মাথায় ঝুলিয়ে দিল সদানন্দর সাগরেদরা। নীচ থেকে লোক লাগিয়ে চড়ক গাছ ঘোরাতে শুরু করল। বনবন করে ঘুরছে রতন শূন্যে ঝুলতে ঝুলতে রতনের মনে হল ওর পিঠের চামড়া কেউ যেন সাঁড়াশি দিয়ে ছিঁড়ে নিচ্ছে। চারপাশের দুনিয়াটা ঘুরছে। কোথাও কোনও ভক্তি নেই, একটা গরিব মানুষের অসহায়তার যন্ত্রণা গোটা খয়েরবনি গ্রামকে ফালাফালা করে দিচ্ছে। ঘুরতে ঘুরতেই হঠাৎ রতনের চোখ পড়ল ভিড়ের একেবারে প্রান্তে। একটা লাল শালু। গৌরী! সে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে রতনের দিকে। ঠিক সেই মুহূর্তে, গৌরী তার মাথার লাল শালুটা খসিয়ে দিল রতনের মনে পড়ে গেল সেই ক্ষুরের কথা। সে জানে না এর পরিণতি কী, কিন্তু গৌরীর প্রতি অন্ধ প্রেম আর বেঁচে থাকার মরিয়া তাগিদ তাকে চালিত করল। সে অতি কষ্টে নিজের শরীরটাকে একটু বাঁকিয়ে, হাত ঘুরিয়ে নিজের ধুতির খুঁটের ভেতর থেকে ক্ষুরটা বের করল। দড়ির প্রবল টানে বঁড়শি এমনিতেই চামড়া ছিঁড়ে বেরিয়ে আসার উপক্রম করছিল, রতন ক্ষুরটা দিয়ে নিজের পিঠের সেই টান-ধরা মাংসে একটা শক্ত পোঁচ বসাল পরমুহূর্তেই এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখল গ্রামবাসীরা। চড়কগাছ থেকে ছিটকে, রক্তে ভেসে যাওয়া একটা শরীর সোজা এসে পড়ল দর্শকদের নিবিড় ভিড়ের ঠিক মাঝখানে চারদিকে ভয়াবহ আর্তনাদ, হুড়োহুড়ি, চিৎকার শুরু হয়ে গেল

-পড়ে গেছে, ভক্তা পড়ে গেছে, মরে গেল রে!

সদানন্দ চৌধুরী চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে উঠল। তার পরিকল্পনা সফল হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ভিড়ের মধ্যে পদপিষ্ট হওয়ার ভয়ে তার লোকেরাও ছিটকে এদিক ওদিক সরে গেল। মেলা মাঠে তখন রীতিমতো ধুন্ধুমার। মানুষ দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ছুটছে ভিড়ের মধ্যে পড়ে গিয়ে রতনের জ্ঞান প্রায় শেষের পথে। দুটো পা আর একটা হাত মনে হচ্ছে ভেঙে গুঁড়ো হয়ে গেছে। পিঠ থেকে গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে। ধুলো আর রক্তে সে একাকার। শুধু মানুষের পায়ের জুতোর তলাগুলো দেখতে পাচ্ছিল রতন হঠাৎ কেউ একজন তার কলার ধরে হ্যাঁচকা টানে ভিড়ের তলা থেকে টেনে বের করল। গৌরী!

-চল, উঠতে হবে তোকে

গৌরী প্রায় হিসহিস করে উঠল। তার গায়ে তখন অভাবনীয় জোর

-আমি... আমি আর পারছি না গৌরী, আমি মরে যাব,

রতন গোঙাতে গোঙাতে বলল

-পারতেই হবে, মরলে চলবে না

গৌরী রতনকে আধা-পাঁজাকোলা করে মেলার পেছনের একটা অন্ধকার বাঁশবাগানের দিকে টেনে নিয়ে গেল। সেখানে একটা পুরনো সাইকেল ভ্যান আগে থেকেই দাঁড় করানো ছিল। গৌরী রতনকে সেটার ওপর শুইয়ে দিল রতনের ঘোলাটে চোখ হঠাৎ আটকে গেল গৌরীর কোমরে গোঁজা একটা কাপড়ের পুঁটলিতে। পুঁটলিটা বেশ ভারী, আর সেখান থেকে উঁকি মারছে একতাড়া একশো আর পাঁচশো টাকার নোট, আর কিছু সোনার গয়না চাঁদের আলোয় গয়নাগুলো চিকচিক করে উঠল

-এগুলো... এগুলো কী গৌরী?

রতন অস্ফুট স্বরে, অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল গৌরী ভ্যানের প্যাডেলে পা রেখে রতনের দিকে তাকাল। তার মুখে এখন আর কোনও ভয় বা হতাশা নেই। সেখানে ফুটে উঠছে বিজয়ী, ক্রূর হাসি

-তুই যখন চড়কগাছে ঝুলছিলি, আর গ্রামের সব লোক, সদানন্দর সব পাহারাদার হাঁ করে তোর দিকে তাকিয়ে ছিল, ঠিক সেই সময় আমি সদানন্দর বাড়ির পিছনের জানলা ভেঙে ওর ঘরে ঢুকেছিলাম

গৌরী হাঁপাতে হাঁপাতে বলল রতনের চোখ কপালে উঠল। যন্ত্রণাও যেন সে মুহূর্তের জন্য ভুলে গেল।

-তুই... তুই সদানন্দর সিন্দুক চুরি করেছিস?

-চুরি নয় রতন, নিজের পাওনা আদায় করেছি, আর গরিব মানুষের রক্তচোষা টাকা ফেরত নিয়েছি

গৌরী ভ্যান চালাতে শুরু করল অন্ধকার কাঁচা রাস্তা ধরে।

-সদানন্দ ভেবেছিল আমাকে ওর ভোগের সামগ্রী বানাবে। তুই ভেবেছিলি নিজের পিঠের চামড়া ছিঁড়ে তুই আমাকে উদ্ধার করবি। কিন্তু এই গরিবের দুনিয়ায় কেউ কাউকে উদ্ধার করে না রতন। ভগবানও না। নিজেকেই নিজের রাস্তা বানাতে হয়।

-কিন্তু তুই আমাকে গাছ থেকে পড়তে বললি কেন?

রতন যন্ত্রণায় কোঁকাতে কোঁকাতে প্রশ্ন করল

-কারণ আমার একটা বড় মাপের হট্টগোল দরকার ছিল,

গৌরীর গলায় কোনও অনুশোচনা নেই।

-তুই গাছ থেকে না পড়লে মেলায় ওই চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হত না। আর ওটা না হলে সদানন্দর বাড়ির চারপাশের পাহারাদাররা বাড়ি ছেড়ে মেলা প্রাঙ্গণে ছুটে আসত না। আমি বাড়ি ফাঁকা পেতাম না। তুই ছিলিস আমার ওই বিশৃঙ্খলা তৈরির হাতিয়ার।

রতন হতবাক হয়ে শুয়ে রইল ভ্যানের পাটাতনে। তার শরীর যন্ত্রণায় ফালাফালা, কিন্তু মনের ভেতর এক অদ্ভুত, শূন্য অনুভূতি হচ্ছে। যে মেয়েটাকে সে নিজের প্রাণ দিয়ে ভালবাসে, সেই মেয়েটা তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করেছে কিন্তু পরক্ষণেই রতন দেখল, গৌরীর চোখ দিয়ে অঝোরে জল পড়ছে। ভ্যান চালাতে চালাতেই গৌরী ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল,

-আমাকে ক্ষমা করে দিস রতন। আমার কাছে আর কোনও উপায় ছিল না রে। তুই পাঁচ হাজার টাকা পেলি কি না পেলি, সদানন্দ আমাকে কোনওদিন ছাড়ত না। তোকে ও মেরেই ফেলত। আমি শুধু তোর মৃত্যুকে একটা অস্ত্র বানিয়েছিলাম আমাদের দুজনের বাঁচার জন্য। এই পুঁটলিতে যা আছে, তা দিয়ে আমরা অনেক দূরে, শহরে গিয়ে নতুন করে বাঁচব। তোর চিকিৎসা করাব। তুই আর কোনওদিন আমার ওপর রাগ করে থাকবি না তো?

রাতের অন্ধকার চিরে ভ্যানটা এগিয়ে যাচ্ছে। পিছনে পড়ে থাকছে গাজনের মেলা, চড়কের রক্ত, সদানন্দর আস্ফালন আর হাজার বছরের পুরনো শোষণ রতন আস্তে আস্তে তার রক্তমাখা হাত বাড়িয়ে গৌরীর পা ছুঁল। এই প্রথম রতন বুঝল, রূপকথার প্রেমের গল্পের সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। এই প্রান্তিক, ধুলোমাখা পৃথিবীতে ভালবাসা মানে হল একসঙ্গে নরক থেকে বেঁচে ফেরার যে কোনও নিষ্ঠুর চক্রান্তে একে অপরের শরিক হওয়া পিঠের বঁড়শির ক্ষতটা জ্বলছে, কিন্তু রতনের ঠোঁটে তখন স্বস্তির হাসি। অপ্রত্যাশিত এই মোচড় তাদের জীবনটাকেই ঘুরিয়ে দিল চিরকালের মতো। ওরা হেরে গিয়েও আসলে জিতে গেল

ভ্যানটা ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ করতে করতে খানাখন্দে ভরা মাটির রাস্তা ধরে এগোচ্ছে। দু'পাশে সারি সারি বাঁশবাগান আর ন্যাড়া মাঠ। চাঁদের আলো যেন ভৌতিক ছায়া তৈরি করেছে। গৌরীর সারা শরীর ঘামে ভেজা, শাড়ির আঁচল কোমরে শক্ত করে জড়ানো। তার পায়ের পেশিগুলো ব্যথায় টনটন করছে, কিন্তু সে প্যাডেল করা থামায়নি। একবার থামা মানেই মৃত্যুভ্যানের পাটাতনে শুয়ে থাকা রতনের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। পিঠের ক্ষত থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে রক্ত পড়ছে ভ্যানের কাঠের তক্তায়। ধুলো আর রক্ত মিশে কালচে কাদার মতো তৈরি হয়েছে ওর পিঠের কাছে। যন্ত্রণায় ওর মুখ দিয়ে গোঙানির শব্দ বেরোচ্ছে, মাঝে মাঝে খাবি খাচ্ছে

-আর একটু রতন, আর একটু সহ্য কর,

হাঁপাতে হাঁপাতে পিছন ফিরে না তাকিয়েই বলল গৌরী।

-আমরা বড় রাস্তায় উঠে গেলেই কোনও লরি বা ট্রাক ধরে নেব। তুই চোখ বন্ধ করিস না রতন, আমার সঙ্গে কথা বল

-আমার... খুব ঠান্ডা লাগছে রে গৌরী...

রতনের গলা দিয়ে স্বর বেরোচ্ছে না। শরীর থেকে প্রচুর রক্ত বেরিয়ে যাওয়ায় ওর হাত-পা হিম হয়ে আসছে গৌরী এক হাতে প্যাডেল করতে করতেই নিজের শাড়ির কিছুটা অংশ ছিঁড়ে নিল। তারপর এক হাতে সেটা দলা পাকিয়ে রতনের পিঠের ক্ষতের ওপর চেপে ধরল রক্তপাত কমানোর মরিয়া চেষ্টায়

-ঠান্ডা লাগলে চলবে না তুই মরতে পারবি না রতন তুই যদি আজ মরে যাস, আমি এই মাঝরাস্তায় সদানন্দর টাকাগুলো আর তোর লাশ নিয়ে কী করব? আমাকে তো কাল সকালেই শকুনে ছিঁড়ে খাবে

গৌরীর গলায় কান্নার বদলে বন্য আক্রোশ জেগে উঠছে। রাত তখন আড়াইটে। ওরা অবশেষে হাইওয়েতে এসে পৌঁছল। দূরে একটা ধাবার টিমটিমে আলো জ্বলছে। গৌরী ভ্যানটা রাস্তার ধারের ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে রাখল। রতনকে প্রায় কাঁধে তুলে নিয়ে সে ধাবার পিছনের অন্ধকারে গিয়ে বসল। ওর কোমরের পুঁটলি থেকে একটা একশো টাকার নোট বের করে সে ধাবার একটা খালাসি ছেলেকে দিল

-দাদা, আমার সোয়ামির অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। একটা লরি ঠিক করে দাও না গো, বর্ধমান হাসপাতালে যাব। অনেক পুণ্যি হবে তোমার।

টাকার গন্ধ আর গৌরীর করুণ মুখ দেখে খালাসি ছেলেটা মালবোঝাই একটা লরির পেছনের ডালা খুলে দিল। আলু বোঝাই ট্রাক। সেই আলুর বস্তার ওপরেই রতনকে নিয়ে উঠে পড়ল গৌরী। ট্রাক ছুটতে শুরু করল শহরের দিকে। অন্ধকারে আলুর বস্তার ওপর শুয়ে রতনের মাথাটা নিজের কোলে তুলে নিল গৌরী। রতন তখন প্রায় অচেতন। গৌরী ওর কপালে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বিড়বিড় করে বলল,

-আর কোনওদিন তোকে কারও পায়ের তলায় থাকতে দেব না। তুই শুধু বেঁচে ওঠ।

পরদিন সকালে খয়েরবনি গ্রামে যেন বাজ পড়ল। চড়কের মেলার হট্টগোল আর রতনের গাছ থেকে পড়ে যাওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন খবর রটে গেল, সদানন্দ চৌধুরীর বাড়ির পিছনের দরজা ভাঙা, সিন্দুক হাঁ করে খোলা। নগদ লাখ খানেক টাকা আর বাড়ির বউদের প্রায় সব সোনার গয়না গায়েব সদানন্দ চৌধুরী নিজের বাড়ির উঠোনে বাঘের মতো পায়চারি করছে। তার চোখ দুটো রক্তজবার মতো লাল। হাতের মোটা লাঠিটা দিয়ে সে তার তিনটে পাহারাদারকে পিটিয়ে আধমরা করে ফেলেছে

-হারামজাদার দল, মেলায় একটা ভিখারি গাছ থেকে পড়েছে বলে তোরা সব বাড়ি ছেড়ে মেলা দেখতে চলে গেলি? তোদের আমি খেতে দিই না?

সদানন্দ গজরাতে থাকল হঠাৎ তার নায়েব ছুটে এল।

-কত্তা, একটা খবর আছে। পরাণ দাসের মেয়ে গৌরী কাল রাত থেকে নিখোঁজ। পরাণ বলছে সে নাকি মেলা দেখতে গিয়েছিল, আর ফেরেনি।

সদানন্দর চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। মাথার মধ্যে অঙ্কটা নিমেষে মিলে গেল তার। রতনের গাছ থেকে পড়া, গৌরীর নিখোঁজ হওয়া, আর ঠিক সেই সময়ে তার বাড়িতে চুরি, এগুলো কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। দুটো শুয়োরের বাচ্চা মিলে তাকে, সদানন্দ চৌধুরীকে, বোকা বানিয়েছে!

-ওই রতন শালা মরেনি। ও ইচ্ছা করে পড়েছে ভিড়ের ওপর। আর ওই মাগিটা... ওই গৌরী মাগিটা আমার ঘরে ঢুকেছিল!

সদানন্দর গলা দিয়ে সাপের মতো হিসহিস শব্দ বেরোল।

-ওদের আমি খুঁজব। পাতাল থেকে টেনে বের করব। পুলিশের কাছে খবর দিস না। পুলিশ জানলে আমার কালো টাকার হিসেব চাইবে। আমার লোক লাগা। রেল স্টেশন, বাস স্ট্যান্ড, হাসপাতাল, সব জায়গায় খোঁজ। ওদের জ্যান্ত বা মরা, আমার পায়ের কাছে চাই।

খয়েরবনির মাটি আরও তেতে উঠল। পরাণ দাসকে লাথি মেরে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিল সদানন্দ। কিন্তু তার বুকের ভেতর অপমানের যে আগুন জ্বলছিল, সেটা কোনওভাবেই নিভল না। একটা গরিব, অশিক্ষিত দিনমজুরের মেয়ে তাকে পথে বসিয়ে দিয়ে গেছে!

বর্ধমানের একটা ঘিঞ্জি বস্তি এলাকা। রেললাইনের ধার ঘেঁষে পরপর টালি আর টিনের চালের ঘর। সেরকমই একটা বদ্ধ, স্যাঁতসেঁতে ঘরে গত এক মাস ধরে পড়ে আছে রতন সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার সাহস গৌরীর হয়নি। সদানন্দর হাত অনেক লম্বা, হাসপাতালে পুলিশ কেস হলে ওরা ধরা পড়ে যেত। তাই শহরের প্রান্তে এক হাতুড়ে ডাক্তারকে মোটা টাকা খাইয়ে রতনের চিকিৎসা করিয়েছে গৌরী। ডাক্তার কোনও প্রশ্ন করেনি, শুধু টাকা গুনে নিয়ে সেলাই করে দিয়েছে রতনের পিঠ। হাড় জোড়া লাগার ওষুধ দিয়েছে রতন এখন উঠে বসতে পারে, অল্প অল্প হাঁটতেও পারে। কিন্তু তার পিঠে চড়কের বঁড়শি আর নিজের ক্ষুরের সেই আঘাত এমন একটা বীভৎস কালশিটে আর এবড়ো খেবড়ো দাগ রেখে গেছে, যা দেখলে শিউরে উঠতে হয় গৌরী এই এক মাসে অনেক বদলে গেছে। গ্রামের সেই ভীতু, লাজুক মেয়েটা আর নেই। সে এখন বস্তির কলতলায় অন্য মেয়েদের সঙ্গে সমান তালে ঝগড়া করে। সদানন্দর বাড়ি থেকে চুরি করা গয়নাগুলো সে একসঙ্গে বেচেনি। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট ছোট দোকানে গিয়ে একটা একটা করে বেচেছে, যাতে কারও সন্দেহ না হয়

একদিন রাতে রতন জানলার বাইরে রেললাইনের দিকে তাকিয়ে বসেছিল। গৌরী এসে ওর পাশে বসল

-শরীর কেমন আজ?

গৌরী জিজ্ঞেস করল

-আগের চেয়ে ভাল,

রতন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

-কিন্তু গৌরী, এরপর কী? টাকা তো এক দিন শেষ হয়ে যাবে। আর সদানন্দ ঠিক আমাদের খুঁজছে। আমরা কি সারাজীবন ইঁদুরের মতো লুকিয়ে থাকব?

গৌরী রতনের চোখের দিকে তাকাল।

-লুকিয়ে থাকব কেন? আমরা এবার নিজেদের সাম্রাজ্য বানাব।

-সাম্রাজ্য? আমরা? কী বলছিস তুই?

-আমি এখানকার লোকাল ক্লাবের ছেলেদের সঙ্গে কথা বলেছি,

গৌরী শান্ত গলায় বলল।

-বস্তির পেছনের ওই সরকারি জমিটায় একটা দেশি মদের ঠেক খুলব। টাকা আমি দেব, ওরা পুলিশ আর প্রশাসন সামলাবে। আমি বুঝে গেছি রতন, এই দুনিয়ায় ভাল মানুষ হয়ে বাঁচার কোনও জায়গা নেই। যে যত বড় জানোয়ার, সে তত বেশি রাজা। সদানন্দ আমাদের জানোয়ার বানাতে চেয়েছিল, আমরা জানোয়ারই হব।

রতন অবাক হয়ে গৌরীর দিকে তাকিয়ে রইল। এই মেয়েটাকে সে চিনতে পারছে না। কিন্তু গৌরীর কথার মধ্যে অদ্ভুত সত্যি লুকিয়ে আছে। ওদের প্রেম, ওদের ভালবাসা সবকিছুই ওই চৈত্র সংক্রান্তির রোদে আর রক্তে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন যেটা আছে, সেটা হল শুধু টিকে থাকার বন্য চুক্তি

-তুই আমাকে দিয়ে কী করাতে চাস?

রতন নিচু গলায় জিজ্ঞেস করল

-ঠেকটা আমি চালাব। আর তুই হবি আমার পাহারাদার। তোর পিঠের ওই দাগগুলো দেখে মানুষ ভয় পাবে। তুই হবি এই বস্তির নতুন ত্রাস

গৌরীর চোখ অন্ধকারে বাঘিনীর মতো জ্বলজ্বল করে উঠল

দেখতে দেখতে তিনটে বছর কেটে গেল। বর্ধমানের সেই বস্তি এলাকায় এখন গৌরী আর রতনের একচেটিয়া রাজত্ব। ছোট দেশি মদের ঠেক থেকে এখন ওদের জুয়ার আসর আর তোলা আদায়ের ব্যবসা চলে। রতন এখন আর সেই দুর্বল 'ভক্তা' নেই। তার গায়ে জোর ফিরেছে, চোখের চাহনিতে হিমশীতল ক্রূরতা এসেছে। এলাকার লোক ওকে 'কাটা রতন' বলে ডাকে, কারণ ওর পিঠের সেই ভয়ঙ্কর কাটা দাগটার কথা সবাই জানেকিন্তু ওদের দুজনের মাঝখানের সম্পর্ক অদ্ভুত মোড় নিয়েছে। ওরা এক ঘরে থাকে, এক বিছানায় শোয়, কিন্তু সেই খয়েরবনি গ্রামের নাটমন্দিরের ছায়ায় যে আদিম, নিবিড় প্রেমটা ছিল, সেটা আর নেই। এখন ওদের সম্পর্ক সফল ব্যবসায়িক চুক্তির মতোমাঝে মাঝে রাতে রতনের ঘুম ভেঙে যায়। সে স্বপ্নে দেখে চড়ক গাছটা বনবন করে ঘুরছে, আর নীচে সদানন্দ চৌধুরী হাসছে। তার পিঠের পুরনো ক্ষতটা যেন আবার নতুন করে চিনচিন করে ওঠে। রতন জানে, ওরা অনেক টাকা কামিয়েছে, কিন্তু পাপ ওদের ছাড়েনি। খয়েরবনি গ্রামের সেই বিশ্বাসঘাতকতার পাপ, সদানন্দর সিন্দুক চুরির পাপ

একদিন গৌরী টাকা গুনছিল। রতন মদ খাচ্ছিল বসে

-গৌরী, তোর কি একবারও বাপের কথা মনে পড়ে না? সদানন্দ নিশ্চয়ই বুড়োটাকে জ্যান্ত রাখেনি।

রতন হঠাৎ জিজ্ঞেস করল গৌরীর হাত এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। তারপর সে আবার টাকা গুনতে শুরু করল।

-মনে করে কী হবে? দুর্বল মানুষের বাঁচার কোনও অধিকার নেই রতন। আমার বাপ দুর্বল ছিল, তাই ভুগেছে। আমরা সবল হয়েছি, তাই বেঁচে আছি।

-আমরা সবল হয়েছি, না কি আমরাও সদানন্দর মতো জানোয়ার হয়ে গেছি?

রতন তেতো হাসি হাসল গৌরী উত্তর দিল না। সে জানে রতন ঠিকই বলছে। কিন্তু এই পঙ্কিল পথ থেকে ফেরার আর কোনও উপায় নেই সময় বড় অদ্ভুত জিনিস। সে কাউকে ক্ষমা করে না

শীতের এক সন্ধে। রতন ওদের মদের ঠেকের বাইরে একটা টুলে বসে বিড়ি টানছিল। হঠাৎ তিনটে লোক এসে ঠেকের সামনে দাঁড়াল। তাদের পরনে কালো চামড়ার জ্যাকেট, চোখেমুখে ঠান্ডা খুনে ভাব

-কাটা রতন কে?

একজন জিজ্ঞেস করল রতন উঠে দাঁড়াল।

-আমি। কী চাই?

লোকটা পকেট থেকে একটা ছবি বের করে রতনের মুখের সামনে ধরল। ছবিটা খয়েরবনি গ্রামের। চড়ক মেলার ছবি

-সদানন্দ কত্তা পাঠিয়েছে। তিন বছর ধরে তোদের খুঁজছে কত্তা। তোরা ভেবেছিলি বর্ধমানের এই বস্তিতে লুকিয়ে পার পেয়ে যাবি?

লোকটা কোমর থেকে একটা ভোজালি বের করল রতনের বুকের ভেতরটা একবার কেঁপে উঠল। অবশেষে সেই দিনটা এল। কিন্তু রতন ভয় পেল না। সে জোরে একটা শিস দিল মুহূর্তের মধ্যে ঠেকের পেছন থেকে, বস্তির গলি থেকে অন্তত দশ-বারোটা ছেলে বেরিয়ে এল। সবার হাতে রড, চেন, হাঁসুয়া। এরা সবাই রতন আর গৌরীর লোক সদানন্দর পাঠানো লোক তিনটে ঘাবড়ে গেল। তারা বুঝতে পারল, তারা শিকার করতে এসে নিজেরাই শিকার হয়ে গেছে ঠিক সেই সময় ঠেকের ভেতর থেকে বেরিয়ে এল গৌরী। পরনে দামি শাড়ি, গায়ে ভারী সোনার গয়না। সে ধীর পায়ে এগিয়ে এল সদানন্দর লোকগুলোর সামনে

-কত্তাকে গিয়ে বলবি, গৌরী আর রতন এখন আর খয়েরবনির ওই গরিব দিনমজুর নেই,

গৌরীর গলা ছুরির ফলার মতো তীক্ষ্ণ।

-তোদের কত্তা আমাদের রক্ত চুষে খেতে চেয়েছিল। আমরা ওর সিন্দুক ফাঁকা করে দিয়েছি। আর এবার যদি ও আমাদের ছায়াও মাড়ানোর চেষ্টা করে, আমি আমার ছেলেদের পাঠিয়ে ওর খয়েরবনির বাড়িটা আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেব। ও যেন ভুলে না যায়, চড়কের গাছের দড়ি কীভাবে কাটতে হয়, সেটা রতন খুব ভাল করেই জানে।

লোক তিনটে আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না, লেজ গুটিয়ে পালাল রতন গৌরীর পাশে এসে দাঁড়াল। দুজনে দুজনের চোখের দিকে তাকাল। সেখানে প্রেম নেই, ভক্তি নেই, রূপকথার শেষে সুখে শান্তিতে বসবাস করার প্রতিশ্রুতি নেই। সেখানে আছে শুধু দুটো শিকারির একে অপরের প্রতি ঠান্ডা সম্মান গাজন আর চড়ক তাদের রক্ত নিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু বদলে তাদের শিখিয়ে দিয়েছিল, এই পৃথিবীতে দেবতা বলে কিছু নেই। এখানে টিকে থাকতে হলে, নিজেকেই নিজের ভগবান হতে হয়, অথবা শয়তান। ওরা শয়তান হওয়াটাই বেছে নিয়েছে রাতের অন্ধকারে ট্রেনের হুইসেলের শব্দে বস্তির কোলাহল ঢাকা পড়ে গেল। রতন আর গৌরী আবার গিয়ে ঢুকল তাদের নিজেদের তৈরি করা সেই পাপ আর ক্ষমতার অন্ধকার জগতে, যেখান থেকে ফেরা যায় না, শুধু এগিয়ে যেতে হয়

…………………………………….

Dibyendu Ghosh

Dibyendu Ghosh

Vill & p.o. Sankrail,

Dist. Howrah

Pin- 711313


Comments

বিধিবদ্ধ স্বীকার্য :

লেখার বক্তব্যের দায়িত্ব লেখকের, পত্রিকার নয়। আমরা বহু মতের প্রকাশক মাত্র।

সাম্প্রতিক বাছাই

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ…।। আবদুল্লাহ আল আদীব

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও গোলামির ভয়ংকর ফাঁদ … আবদুল্লাহ আল আদীব     ক্ষমতা ও শোষণের ঐতিহাসিক বিবর্তন : প্রস্তরযুগ থেকে জ্ঞাননিয়ন্ত্রণের যুগ … মানবসভ্যতার ইতিহাসকে যদি একটিমাত্র প্রশ্ন দিয়ে পড়া যায় , তবে সেই প্রশ্নটি হতে পারে — ক্ষমতা কার হাতে এবং সেই ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে ? কৃষির আবির্ভাবের আগে মানুষের জীবন ছিল মূলত শিকার , সংগ্রহ ও পারস্পরিক সহযোগিতানির্ভর । কৃষির বিকাশের সঙ্গে জমি , উদ্বৃত্ত উৎপাদন ও সম্পত্তির ধারণা তৈরি হলো । সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জন্ম নিল সামাজিক শ্রেণিবিভাগ , করব্যবস্থা , শ্রমের বিভাজন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব । ক্ষমতা আর কেবল শারীরিক শক্তির বিষয় রইল না ; তা হয়ে উঠল সম্পদ ও মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা । প্রাচীন মিশর , সুমের , ব্যাবিলন , পারস্য , গ্রিস ও রোম — বিভিন্ন সভ্যতা তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র ও সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল । সাম্রাজ্যের বিস্তারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ , দখল , কর ও শ্রমের নিয়ন্ত্রণ । বিজিত জনগোষ্ঠীর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ...

ভ্রমণ ।। মেঘালয়ের মেঘবালিকা ।। কুহেলি রায়

মেঘালয়ের মেঘবালিকা কুহেলি রায় গারো খাসিয়া জয়ন্তিকা পাহাড় এগুলি আমরা ছোটবেলায় বইয়ের পাতায় পড়েছি। কখনো চোখে দেখা হয়নি। সেই পাহাড়ের কোলেই অবস্থিত মেঘালয়। আমাদের ভারতের আরেক রাজ্য যে রাজ্য জলপ্রপাত বৃষ্টি রাজ্য বলেই খ্যাত। মেঘালয় যাওয়ার জন্য আমরা সকলে মিলে গুয়াহাটি স্টেশনে নামার কথা ছিল কিন্তু আমরা হঠাৎ করেই কামাখ্যার স্টেশনে নামলাম; কারণ আমাদের হোটেল বুক করা ছিল নীলাচল। নীলাচল হোটেলে ওঠার পর আমরা মা কামাখ্যা, প্রেমানন্দ ও একটা দিন পুরো আরো চারপাশের নানান ছোট্ট ছোট্ট বিখ্যাত জায়গা দর্শন করলাম। এ প্রসঙ্গে বলে রাখি দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের “ভীমা শংকর” আমরা দর্শন করেছিলাম। জানিনা সত্যি সেটা ভীমা শংকর কিনা কিন্তু জায়গাটি ছিল অপূর্ব সুন্দর।তারপরের দিন সকালে গাড়ি নিয়ে চললাম শিলং এর দিকে মেঘালয়ের দৃশ্য অনুভব করব।চার দিনের জন্য একটা গাড়ি বুক করে নেওয়া হল। শিলং শহর ছাড়তেই আচমকা বদলে গেল দৃশ্যপট। মেঘালয় রাজ্যের অসামান্য দৃশ্যপঠ ক্রমশ খোলা হয়ে গেল। রূপকথার ঘুমন্ত পরীর মতো চারিদিক নিরালা। অলস চোখে চেয়ে থাকবে শুধু কালো পিঠের রাস্তাটা। চারিদিকে পাহাড়ের চূড়াটা যেন কেউ করাত চালিয...

গল্প ।। জলমাতালের ঘর ।। মামুন সরকার

গল্প জলমাতালের ঘর মামুন সরকার চেহারা সুরত রাজপুত্রের মত না কিন্তু নাম তার রাজা মিয়া। পোষাক পরিধানে সাহেব বাবু। চালচলন আর দশটা মানুষ থেকে আলাদা। চার বার মেট্রিক পরীক্ষা দিয়ে টেনেটুনে পাশ করলেও আড্ডাতে বাকপটু। মগজ ভর্তি কথার পাহাড়। একবার কথা শুরু করলে আর থামে না। হাসি ঠাট্টায় মজমা মাতিয়ে রাখে। একসপ্তাহ হয় নতুন বিয়ে করেছে। বউ শিক্ষিত এবং সুন্দরী। গায়ের রং দুধসাদা না হলেও নজর কাড়ার মত আর্কষণী মুখমণ্ডল। বন্ধুদের একজন বলে, দোস্ত একটা কতা কই রাগ করিছ না। সত্যিই তর রাজ কপাল। খুব সুন্দর একটা বৌ পাইছস। ভাবী সাহেবার আঁচল ছাড়িস না। চোখে চোখে রাখিস। তর দুর্বলতার সুযোগ নিয়া কেউ যেনো ভাবী সাহেবার সাথে ফুসুরফাসুর না করতে পারে। তর যা স্বভাব। জানি না ভবিষ্যতে তর কপালে কি আছে। রাজা মিয়া বলে, বৌ আমার। মাইনষে ফুসুরফাসুর করব মানে? কি বুঝাইতে চাইলি বুঝলাম না দোস্ত। আছমানে চান উঠলে সবাই সবাই গায়ে জোছনা মাখতে চায়। আমার ভাবী সাহেবা হইল আকাশে চান। রাজা মিয়া কথা বাড়ায় না। বুঝতে পারে তার দোস্ত কি বুঝাতে চেয়েছে। সুন্দরের প্রতি সবাই দুর্বল। রাজা মিয়ার বাবা একজন চেয়ারম্যান। অঢেল ধন-সম্পদের মালিক তি...

কবিতা ।। অভ্যন্তরীন প্রেম ।। জহির খান

অভ্যন্তরীন প্রেম জহির খান খুব দূরে খুব করে বসে থাকে পোষা কুকুর মাছের কাঁটায় তখন বিড়ালের ঠোঁটে চোট কোলাহলে মেতে পাতিহাঁসের ছানা- পোনা সদর উঠোন জুড়ে হাসে সোনালী রোদেরা ভাব করে হেঁটে যায় কোমল ভেষজ শরীর টেরাচোখ ফেরানোটা বড় দায় হয়ে পড়ছে আর বারান্দায় বসে এক কোকিল বসন্তের ভোর কামভাব ছলাকলায় পিনিক উঠায় জিহ্বায় অথচ উষ্ণ বৌ এর গায়ের গন্ধে মাতোয়ারা দুপুর এই-সব প্রেমে পোয়াতি হয় বিকেলের গান সুসন্ধ্যা লজ্জায় মুখ লুকায় প্রতিবেশী ডেরায় এখন নির্বোধ রাত সুরা পান করে পাহাড়ে উঠে    ========০০০=======     জহির খান  বাংলাদেশ

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

স্মৃতিকথা ।। হারানো ছাতা ।। সেখ নাজিরুল ইসলাম

হারানো ছাতা  সেখ নাজিরুল ইসলাম    বৃষ্টি হলেই আজকাল আমার পুরোনো ছাতাটার কথা খুব মনে পড়ে। ছাতাটা এখন আর আমার কাছে নেই। কোথায় হারিয়ে গেছে, সেটাও মনে নেই। শুধু মনে আছে, তার রং ছিল হলুদ। খুব উজ্জ্বল হলুদ নয়—বরং বহু বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া, একটু ফিকে হয়ে আসা হলুদ। সেই ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে আমরা একদিন অনেকক্ষণ বৃষ্টি দেখেছিলাম। রাস্তার ওপারে ট্রাম চলে যাচ্ছিল, ফুটপাথে মানুষের ব্যস্ততা, আর কফির কাপ থেকে উড়তে থাকা ধোঁয়া। কলেজ থেকে ফেরার ব্যস্ত ভিড়ের ডানকুনি লোকালে ওঠার সময়, ছাতাটা ঠিক যত্ন করে গুছিয়ে ঢুকিয়ে নিতাম ব্যাগের এক পাশে। কোনো এক নিম্মচাপের মেঘলা দিনে লোকচক্ষুর আড়ালে ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে পড়তাম প্রেমিকার হাত ধরে। ছাতাটার নিচে যখন পাশাপাশি হাঁটতাম তখন আমাদের হাত দুটো ছুঁয়ে যেত বারবার। ছোট্ট ছাতায় বৃষ্টির ফোঁটা এড়াতে গিয়ে আমরা আরও কাছাকাছি এসে দাঁড়াতাম। ছাতা মাথায় হাঁটার সময় সে দুষ্টুমি করে হাতের মধ্যে জল নিয়ে ছিটিয়ে দিত আমার মুখে, আর আমি চলতি রাস্তায় ছাতাটা মুড়ে দিতাম। সর্দির ধাত আমার। কত বার ভেজা গায়ে বাড়ি ফিরে...

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ ।। শিকদার বাসির

জীবনানন্দ দাশ: বাংলার নিসর্গে যে কবি রেখে গেছেন বিষণ্ন আলোর দাগ  শিকদার বাসির বাংলা কবিতার আকাশে কিছু নক্ষত্র আছে, যারা আলো ছড়ায় না—আলো হয়ে থাকে। তাদের দীপ্তি চোখ ধাঁধায় না; বরং ধীরে ধীরে এসে বসে মনের গভীরে। জীবনানন্দ দাশ তেমনই এক কবি। তিনি উচ্চকণ্ঠে বাংলা কবিতার দরজায় কড়া নাড়েননি; নিভৃত অন্ধকারের ভেতর দিয়ে হেঁটে এসে কবিতাকে দিয়েছেন এক নতুন চোখ, এক নতুন শ্রুতি, এক নতুন বিষণ্ন সৌন্দর্য। তাঁকে পড়লে মনে হয়, আমরা যেন কোনো অচেনা অথচ বহুদিনের পরিচিত বাংলার ভেতর প্রবেশ করেছি—যেখানে কুয়াশায় ভেজা ধানক্ষেত, শালিকের ডানা, শিশিরে নুয়ে পড়া ঘাস, নদীর ধূসর জল, সন্ধ্যার পাখি আর দূর কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা নিঃসঙ্গতার সুর একাকার হয়ে আছে। সেই বাংলার নাম জীবনানন্দের কবিতায় কখনো বনলতা সেন, কখনো ধানসিঁড়ি, কখনো রূপসী বাংলা। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মেছিলেন জীবনানন্দ দাশ। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন শিক্ষক ও ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গে যুক্ত; মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। মায়ের কাছ থেকেই যেন কবিতার প্রথম আলো তাঁর জীবনে প্রবেশ করেছিল। বরিশালের প্রকৃতি, নদী, পাখি, গাছপালা এবং নিসর্গের সঙ্গে তাঁর যে গভীর ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

শিল্পী ।। সুকান্ত ঘোষ

শিল্পী সুকান্ত ঘোষ কেরামত দাকে চিনি সেই ছেলে বেলা থেকে। কেরামত দা মোটেই আমার দাদার বয়সী নয়। পাড়ার কাকারা যখন ক্লাবের মাঠে ফুটবল খেলত তখন কেরামত দাকে অসাধারণ গোল কিপিং করতে দেখেছি। সেই হিসাবে তাকেও আমার কাকা বলে ডাকাই উচিত।কিন্তু,সবাই দাদা ডাকে বলে আমিও ' কেরামত দা ' বলেই ডাকি।তাছাড়া বয়স হলেও শরীর টা বেশ ঝরঝরে রেখেছে এখনো। কেরামত দা আমাদের মতো ফুটবল প্রেমী কিশোর দের কাছে খুব প্রিয়।প্রথমত যদি হয় আমরা ছেলেবেলায় তার অসাধারণ গোল কিপিং দেখেছি সেই জন্য,বিশেষত একটু লাফিয়ে বল রিসিভ করে শূন্যে একটা ডিগবাজি দেবার দৃশ্যটা চোখের উপর আমাদের ভেসে থাকে।দ্বিতীয়ত,তার অমায়িক ব্যবহার। আমাদের খুব ভালবাসে কেরামত দা। তাই আমাদের কাছে কেরামত দা খুব প্রিয়। কম বয়সে নিজে খুব ভালো গোলকিপার ছিল কেরামত দা একথা আগেই বলেছি।মহমেডান জুনিয়র টিমে খেলতে গিয়ে বুকের পাঁজর ভেঙে গেলে ফুটবলার হবার আশা শেষ হয়ে যায় তার।  পাড়ার ক্লাবে নিয়মিত আসতো। তবে,বছর দুয়েক আগে ক্লাবে সরস্বতী পুজো হবে নাকি বিশ্বনবী দিবস এই বিতর্ক দানা বাধার পর থেকেই এত প্...

জনপ্রিয় লেখা

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ : "ত্রয়ী কাব্য" -- সুনন্দ মন্ডল

সাহিত্যের মাটিতে এক বীজ -- "ত্রয়ী কাব্য" ------------------------------------------------------------------------------ সুনন্দ মন্ডল নবীনচন্দ্র সেন সাহিত্যে তথা বাংলা কবিতার জগতে এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি চট্টগ্রাম জেলার নওয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ১৮৪৭ সালে তাঁর জন্ম এবং মত্যু ১৯০৯ সালে। বঙ্কিমচন্দ্র তাঁকে 'বাংলার বায়রন' বলেছেন। ‎জীবৎকালীন যুগে আত্মপ্রত্যয়ের মধ্যে জাতীয় চরিত্র আত্মস্থ করে নতুন সংস্কারে প্রয়াসী হয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছেন।মধুসূদন-হেমচন্দ্র-নবীনচন্দ্র--এই তিন কবি বাংলা কাব্যধারায় প্রাণ সঞ্চার করেছিলেন। বিশেষত মহাকাব্য লেখার দুঃসাহস দেখিয়েছিলেন। এদিক থেকে মধুসূদন দত্ত একজন সফল মহাকাব্যিক। তাঁর 'মেঘনাদ বধ' কাব্যের মত গভীর ও ব্যঞ্জনাময় না হলেও নবীনচন্দ্র সেনের 'ত্রয়ী' কাব্য বিশেষ মর্যাদা দাবি করতেই পারে। তাছাড়া 'ত্রয়ী' কাব্যে ধর্মীয় ভাবধারার আবেগ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ‎ ‎নবীনচন্দ্র সেন বহু কাব্য লিখেছেন। যেমন- 'অবকাশরঞ্জিনী','পলাশীর যুদ্ধ', 'ক্লিওপেট্রা', 'রঙ্গমতী', 'খ্রীষ্ট', ...

প্রবন্ধ ।। লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা ।। শ্রীজিৎ জানা

লুপ্ত ও লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ জীবিকা শ্রীজিৎ জানা "সময় চলিয়া যায় নদীর স্রোতের প্রায়"। স্রোতের ধারা তার দু'প্রান্তে রেখে যায় ভাঙাগড়ার চিহ্ন। কালের দৃশ্যপটেও পরিবর্তনের ছবি অনিবার্যভাবেই চোখে পড়ে। সমাজ সময়ের ছাঁচে নিজেকে গড়ে নেয় প্রতিনিয়ত।  সেখানে মনে নেওয়ায় বাধা থাকলেও,মেনে নেওয়ার গাজোয়ারি চলে না। ফলত কাল বদলের গাণিতিক হিসেবে জীবন ও জীবিকার যে রদবদল,তাকেই বোধকরি সংগ্রাম বলা যায়। জীবন সংগ্রাম অথবা টিকে থাকার সংগ্রাম।  মানুষের জীবনযাপনের ক্ষেত্রে আজকে যা অত্যাবশ্যকীয় কাল তার বিকল্প রূপ পেতে পারে অথবা তা অনাবশ্যক হওয়াও স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে উক্ত বিষয়টির পরিষেবা দানকারী মানুষদের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এক কালে গাঁয়ে কত ধরনের পেশার মানুষদের চোখে পোড়তো। কোন পেশা ছিল সম্বৎসরের,আবার কোন পেশা এককালীন।  সব পেশার লোকেরাই কত নিষ্ঠা ভরে গাঁয়ে  তাদের পরিষেবা দিত। বিনিময়ে সামান্য আয় হত তাদের। আর সেই আয়টুকুই ছিল  তাদের সংসার নির্বাহের একমাত্র উপায়। কালে কালান্তরে সেই সব পেশা,সেই সব সমাজবন্ধুরা হারিয়ে গ্যাছে। শুধুমাত্র তারা বেঁচে আছে অগ্রজের গল্পকথায়,আর বিভিন...

গ্রন্থ আলোচনা: শর্মিষ্ঠা দেবনাথ

প্রতিবাদ যখন অগ্নিবাণী বাংলাদেশে নারীমুক্তি ও নারী আন্দোলনের পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ১৯৯তম জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদিত হল " আসিফা এবং.." কাব্য সংকলনটির মধ্যদিয়ে।সংকলনটির বিশেষত্ব হল,এটি উৎসর্গ করা হয়েছে নারীর সম্মান রক্ষার আন্দোলনের যোগ্যতম ব্যক্তি শহীদ শিক্ষক বরুন বিশ্বাসকে। সংকলক প্রকাশক সন্দীপ সাহু নিজে এবং বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকদের দিয়ে লিখিয়ে নিয়েছেন এমন কিছু কবিতা, যা শুধুমাত্র শব্দ ও ছন্দের অনুবন্ধ নয়, এক একটি অগ্নিবাণী।আসলে জীবনকে দেখার স্বাতন্ত্র‍্যে কবিরা সব সময়ই অগ্রগণ্য এবং অনন্য।যুগ ও জীবন দ্বন্দ্বের কণ্ঠস্বরকে আশ্রয় করে,একদিকে মনের প্রবল দাহ ও অন্যদিকে  নির্যাতিতা শিশুকন্যা ও নারীর প্রতি মনের গভীর আকুলতা থেকে প্রকাশ পেয়েছে "আসিফা এবং" এর  কবিতাগুলি।এক অন্ধকার সময়ের মুখোমুখি আমরা,সেই অন্ধকার আমাদের নিয়ে এসেছে সামাজিক অবক্ষয়ের শেষধাপে যেখানে নৈতিকতা,পাপবোধ,গ্লানিকে সরিয়ে রেখে, সমাজের বানানো নিয়মকে তোয়াক্কা না করে,অনায়াস দক্ষতায় ও ক্ষিপ্রতায় নিজেরই ধর্মচেতনাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কিছু মানুষ তার পশুত্বের পরিচয় দিয়েছে ধর্ষণ ও ন...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

শ্যামাপদ মালাকারের কবিতা

চোখ """"""" নদী, অরণ্য, রাতের ফালি চাঁদ- সবেই তো আমার...স্বর্ণপিঁড়িটাও!। সেদিন, শুকতারাটার গা' মাপতে গিয়ে মনে হল, --ওরা আমার চেয়েও সুখী? দেখিনা একবার গাইতি-শাবল চালিয়ে... চালালাম। জল-মাটি ভেজা একটা 'চোখ' কুড়িয়ে ফিরলাম! সেই চোখদিয়ে দেখি-- শেষ বিকেলের নিরন্ন আঁচে ঝলসানো বুকে নীড়ে ফিরছে ধূলিমাখা কত কাল পা, কি শান্তি - কি তৃষ্ণা! পাতাক্ষোয়া কোদালেরর মাথায় ঝরেপড়া ললাটের ঘামে, কারা যেন জীবন শাণ দেয়! রুক্ষঠোঁটের আবরণে এক সময় নেমে আসে শিশিরস্নাত কালনিশি-- মাঝের ব্যবধান মুছে দেয় প্রতিশ্রুতির ভীড়- - পূর্বজনমের নিদর্শনচুম্বন শেষে হেরে যায় কার মমতাজ-- ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লান হয়ে যায় কত পিঁড়ি! ... ম্লা...

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা: এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায় ।। পার্থ সারথি চক্রবর্তী

  কোচবিহারের রাস উৎসব ও রাসমেলা : এক ঐতিহ্যবাহী অধ্যায়  পার্থ সারথি চক্রবর্তী  কথায় বলে বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। রাজার শহর কোচবিহারের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা আরো অনেক বেশি। দুর্গাপূজা আর দীপাবলির মতো দু'দুটো বিরাট মাপের উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই, এ শহর ভাসে রাস উৎসবের উন্মাদনায়। মদনমোহন ঠাকুর কোচবিহারের প্রাণের ঠাকুর। তাঁকে নিয়ে সবার আবেগ আর শ্রদ্ধা ও ভালবাসা এখানে বাঁধনছাড়া। এক অপূর্ব মিলনোৎসবের চেহারা নেওয়া এই উৎসব ঐতিহ্যবাহী ও ঐতিহাসিক। জন, মত, সম্প্রদায়ের উর্ধে এই উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা। সময়ের কষ্টি পাথরে পরীক্ষিত! এক প্রাণের উৎসব, যা বহুদিন ধরেই গোটা উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ উৎসবে পর্যবসিত।কোচবিহারের এই রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে যে মেলা হয় তাও সময়ের হাত ধরে অনেক বদলে গেছে। এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া! শৈশবে বাবার হাত ধরে যে মেলা দেখেছি তা চরিত্র ও আকৃতি দু'দিক থেকেই বদলে গেছে। গত পঁচিশ বছর ধরে খুব কাছে থেকে এই উৎসব ও মেলা দেখা, অনুভব করার সুযোগ হয়েছে। যা দিনদিন অভিজ্ঞতা ও প্রাপ্তির ঝুলিকে সমৃদ্ধ করে গেছে প্রতি ক্ষেত্রেই।  খুব সংক্ষেপে এই উৎসবের ইতিহাস না জানাটা কিন্তু অবিচারই ...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা 2024 সংখ্যার জন্য লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি (লেখক ও সম্পাদকীয় দপ্তরের কথোপকথন আকারে) --কী পত্রিকা? --নবপ্রভাত। --মুদ্রিত না অনলাইন? --মুদ্রিত। --কোন সংখ্যা হবে এটা? --বইমেলা 2024। --কোন কোন ধরনের লেখা থাকবে? --প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া। --বিশেষ কোন বিষয় আছে? --না। যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে। --শব্দ বা লাইন সংখ্যার কোন বাঁধন আছে? --না। নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো (যেমন, কবিতা 12-14 লাইনের মধ্যে, অণুগল্প কমবেশি 200/250শব্দে)। তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়। --ক'টি লেখা পাঠাতে হবে? --মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। --ফেসবুক বা অন্য কোন প্লাটফর্মে প্রকাশিত লেখা কি পাঠানো যাবে? --না। সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। --পত্রিকা কোন সময়ে প্রকাশিত হবে? --জানুয়ারি 2024-এর দ্বিতীয় সপ্তাহে। --লেখা পাঠানোর শেষতারিখ কত? -- 17 ডিসেম্বর 2023। --কীভাবে পাঠাতে হবে? --মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। --লেখার সঙ্গে কী কী দিতে হবে? --নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) --বিশেষ সতর্কতা কিছু ? --১)মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন '...

উৎসবের সৌন্দর্য: সেকালে ও একালে।। সৌরভ পুরকাইত

  উৎসবের সৌন্দর্য:  সেকালে ও একালে   সৌরভ পুরকাইত বাংলার উৎসব বাংলার প্রাণ। প্রতিদিনের জীবনযাপনের মধ্যে যখন মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাকে বেঁচে থাকার রসদ যোগায় এই উৎসব। কথায় বলে 'বারো মাসে তেরো পার্বণ'।মন আনন্দই চায়।তাই তাকে সজীবতা দিতে,পরিবারের,সমাজের ভালো-মন্দের কথা মাথায় রেখে মানুষ নিজেই সৃষ্টি করে নিয়েছে নানাবিধ উৎসবগুলিকে। একেবারে প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত মানুষ কখনোই উৎসব বিমুখ ছিল না।উৎসবই তাকে ঘর থেকে বাইরে টেনে এনেছে,চিনতে শিখিয়েছে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আনন্দকে। উৎসব আসলে প্রাণের সাথে প্রাণের যোগ, হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের যোগ।রবীন্দ্রনাথ বলেছেন 'সত্য যেখানেই সুন্দর হয়ে প্রকাশ পায় সেইখানেই উৎসব'।হৃদয়ের সেই সুকোমল বৃত্তির জাগরণ যেন ফুটে ওঠা ফুলেরই মতো সত্য ও সুন্দর।এই জাগরণই উৎসব। তাই নানা কিছুর মধ্য দিয়ে,নানা উপলক্ষ্যে এই উৎসব প্রকাশ পায়। প্রাচীনকালে মানুষের হাতে না ছিল পসার, না ছিল পসরা।ছিল মনের আন্তরিকতা,মানুষকে কাছে টেনে নেবার ক্ষমতা।সেটাই ছিল উৎসবের সৌন্দর্য। তাই সেদিনের উৎসবে ক্ষুদ্র,তুচ্ছ উপকরণও প্রাণের উচ্ছ্বাসে মহৎ হয়ে উঠত।সেকালের উৎসবে লোক দেখানো ব্যাপার কিছু ...

বছরের বাছাই

ভৌতিক গল্প ।। পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ ।। মিঠুন মুখার্জী

পাঁচ ভূতের প্রতিশোধ মিঠুন মুখার্জী  বহু বছর আগের এক ঘটনা। বর্ধমানের শক্তিগড়ের কাছেই সেই গ্ৰামটি। তখন জনসংখ্যা খুবই কম ছিল ।দুটি বাড়ির মধ্যে একশো গজ দূরত্ব। একজনের ঘরের খবর অন্যজন জানতে পারতেন না। গ্ৰামে কারেন্ট ছিল না। সন্ধ্যার পর সারা গ্ৰামের ঘরে ঘরে টেমি ও হ্যারিকেন জ্বলত। কারো বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠান হলে হ্যাচাকলাইট জ্বালানো হতো। একটু সচ্ছল পরিবারে জেনারেটর ভাড়া নিতেন। কেউ মরে গেলে নদীর পাড়ে পুড়াতে যেত। সঙ্গে যাওয়ার জন্য খুব বেশি লোক পাওয়া যেত না। ঐ গ্ৰাম থেকে বাজারের দূরত্ব তিন কিলোমিটার হবে। বাজারে সন্ধ্যার পর জেনারেটরের লাইন ভাড়া নিয়ে সকলে লাইট জ্বালাত ও ফ্যান চালাত। বাজারে যাওয়ার সময় একটা বিরাট মাঠ পার হতে হত। যে মাঠের পুরোটা একজায়গায় দাঁড়িয়ে দেখা যেত না। গ্ৰামের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করত, সন্ধ্যার পর এই মাঠে ভূতেদের আখরা বসে। তারা অনেকেই রাত্রি বেলা ওই মাঠে ভূতেদের দাঁড়িয়ে কখনো বসে জটলা পাকাতে দেখেছে। এই মাঠের উত্তর দিকে একটি বিশাল তেঁতুল গাছ ছিল। এই গাছ থেকেই ভূতেরা মাঠে নেমে আসত নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য। তাদের আলোচনার বিষয়...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬

  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠালে  অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে হলে ভালো। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) যতিচিহ্নের আগে স্পেস না দিয়ে পরে দেবেন। ৪) বিশেষ কোন চিহ্ন (যেমন @ # ...

মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র

  মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৬ সংখ্যার চূড়ান্ত সূচিপত্র প্রকাশিত হল।     যত লেখা রাখা গেল, তার দ্বিগুণ রাখা গেল না। বাদ যাওয়া সব লেখার 'মান' খারাপ এমন নয়। কয়েকটি প্রবন্ধ এবং বেশ কিছু (১৫-১৭টা) ভালোলাগা গল্প শেষ পর্যন্ত রাখা যায়নি। আমাদের সামর্থ্যহীনতার কারণে।     তবুও শেষ পর্যন্ত দশ ফর্মার পত্রিকা হয়েছে। গত দুবছরের মতো A4 সাইজের পত্রিকা।    যাঁদের লেখা রাখা গেল না, তাঁরা লেখাগুলি অন্য জায়গায় পাঠাতে পারেন। অথবা, সম্মতি দিলে আমরা লেখাগুলি আমাদের অনলাইন নবপ্রভাতের জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারি।    পত্রিকাটি আগামী ৯-১৩ জানুয়ারি ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি আয়োজিত কলকাতা লিটল ম্যাগাজিন মেলায় (রবীন্দ্র সদন - নন্দন চত্বরে) পাওয়া যাবে।     সকলকে ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।

কবিতাঃ চন্দন ঘোষ

এক টুকরো রুটি বস্তির রাস্তায় একটা বৃদ্ধ মানুষ সারাদিন বসে আছে। উত্তরে দেখে দক্ষিনে দেখে বহুদূর কেউ একটুকরো রুটি দিয়েযায় পাছে। চক্ষু কোটোরা গত শরীর মাস হীন, হাড় মাত্র। হয়তো স্বাধিনতা আন্দোলনের বিপ্লবী! হয়তো কলেজের আদর্শ ছাত্র। হয়তো ব্রিটিশ গোরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল  তার ছোট্টো ঝুঁপরির উপর। সে বাধা দিয়েছিল প্রতীবাদী হাতে। হয়তো পঙ্গু হয়েছিল সেই রাতে। আমি এক প্রশ্ন তুলেছিলাম, কেমনে হইল এ অবস্থা? বাক সরেনা মুখে সরকার কেন করেনা কোনো ব্যাবস্থা?? শরীর বস্ত্রহীন এই রাতে। নিম্নাঙ্গে একটা নোংগরা ধুতি। কী জানি কত দিন খায়নি? কত দিন দেখেনি এক টুকরো রুটি! রাজধানী শহরের আকাশটা দেখছে। দেখছে নেতা মন্ত্রী গন। হাইরে কেউতো তারে উঠিয়ে তোলেনি। দেখেনি কোনো কোমল মন। আজ ভারতবর্ষ উন্নতশীল রাষ্ট্র!   কথাটা অতীব মিথ্যা মাটি। এমন কতযে মানুষ ক্ষুদার্থ, দেখেনা এক টুকরো রুটি। নতুন মন্ত্রী, নতুন রাষ্ট্রপতি সবাই আসে সবার হয় আবর্তন। হাইরে পিছিয়ে পড়া মানুষ গুলো! তাদের হয়না কোনো পরিবর্তন। আজ 71 বছর আজাদ হয়েও  বোধহয় যে...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

গল্প ।। জাতিস্মর ।। আশীষ কুমার বিশ্বাস

    জাতিস্মর   আশীষ  কুমার   বিশ্বাস    গল্পের শুরুটা প্রায় ষাট বছর আগের কথা । যার নাম গৌতম, ডাক নাম ছিল বাবু ।  তার বছর তখন ছয়-সাত হবে । আমরা বা আমি তখন একটু বড় । এক সাথেই চলতো খেলা । গোল্লা ছুট, দাঁড়িয়া বান্দা, চোর-পুলিশ । যে মাঝে মাঝে খেলা থেকে বিরত থাকতো ; সে-ই জাতিস্মর । মাঠের পাশেই ছিল একটা খেঁজুর গাছ । তাতে হাত রেখে দূরের এক গ্রামের দিকে এক মনে তাঁকিয়ে থাকতো "বাবু" । গ্রামটির নাম "বিনয় পল্লী " । মাঝে বড়ো মাঠ । হাঁটা শুরু করলে তিরিশ - চল্লিশ মিনিট লাগবে । মাঝে জলে ভরপুর দেখে কখনো যাওয়া হয়নি । বাবু কে যখন বলতাম, ওপারে কি দেখছিস? ও বলতো, ওখানে আমার ছোট মা থাকে, দিদি থাকে, আমার ভুলু কুকুর থাকে । এ কথা আমাদের বিশ্বাস হতো না । আবার খেলায় ফিরে যেতাম, খেলতাম ।  কিন্তু ও বসে বসে , ওপারের গাছ পালা , বাড়ি ঘর দেখতো । কাছে গেলে বলতো , ওই যে সবুজ ,কচি কলাপাতা রঙের দালান বাড়ি, ওটাই আমাদের বাড়ি !  এই ভাবে মাস ছয়, বছর গড়াতে লাগলো । মনে প্রশ্ন জাগতে লাগলো, এ টা কি মন গড়া , বা বানিয়ে বানিয়ে বলছে? সত্যি প্রকাশ হোল এক দিন ।  সে বাড়িতে কিছু ...

উন্মুক্ত পাগলামি ।। আশরাফুল মণ্ডল

উন্মুক্ত পাগলামি আশরাফুল মণ্ডল আহা, অপরূপ নিজস্বতার দাহ! কুঁকড়ে যায় আবহমান, সজনে পাতার বোঁটায়! ভাপওঠা ভাতের কাছে মাছি সত্তায় কী নিপুণ! তবুও ঘোর লাগা বসন্তের ডাক, হাঁকে! খেদিয়ে দেয় পা দোলানো প্রস্তাব, ওই ধুনুরি চোখ! রাংতায় মোড়া ডাকের সাজ, দে দোল দোল! হুইসেল বাজিয়ে কে রুখে দ্যায় সেই নাকছাবির রুদালি কাঁপন! খালবিল ছেঁচে পাঁচসিকের  মানত কুড়িয়ে আনে, বাংলা বাজার। ঠ্যাং নাচানো সুরে চোখ মারছে, দ্যাখো ভ্যানতারা! মুখ খোলা মানেই পাঁজরের স্রোত ভাবা যেন উগরানো টালমাটাল! ঢিল মারা প্রশ্নের রোয়াকে বক্রচোখে যেন মেধাবী কবিতা! মুছে দিও তবে লাজুক গুপ্ত রোগ, দিনরাত্রি! ভালো থেকো তোমরা বাছাধন, রং মাস সে আর কতদিন... ================    ASRAFUL MANDAL Chandidas Avenue, B-zone, Durgapur, Paschim Bardhaman, Pin - 713205,  

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

কবিতা ।। মনোজকুমার রায়

জল সিঁড়ি চেক বইয়ের পাতা ফুরিয়ে যেতে থাকে -- ঝরে পড়ে বৃদ্ধ গাছটির পত্রমুকুল কাঁচা গন্ধ বেয়ে চলে সময়ের স্রোতে  সারা ভোর জেগে থাকি ঘুমের টলে তাড়া দেয় একগ্রাস অবিশ্বাসী বায়ু দিন ফুরনো লাল সূর্যের টানে নেমে আসে পাড় ছোঁয়া জল সিঁড়ি ================= মনোজকুমার রায় দঃ ঝাড় আলতা ডাউকিমারী, ধূপগুড়ি জলপাইগুড়ি -৭৩৫২১০ মো ৭৭৯৭৯৩৭৫৬৬

মাসের বাছাই

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০১তম সংখ্যা ।। শ্রাবণ ১৪৩৩ জুলাই ২০২৬

: ঘোষণা : এই সংখ্যার নির্বাচিত কিছু লেখা অপ্রকাশিত রয়ে গেল। সেগুলি ১০২তম সংখ্যায় প্রকাশিত হবে।  সংখ্যাটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাতে। দেখবেন এই সাইটে:  https://www.nabapravat.com/ আগ্রহীরা প্রবন্ধ-নিবন্ধ, প্রতিবেদন-ফিচার, মুক্তগদ্য, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনি পাঠাতে পারেন। (গল্প, কবিতা, ছড়া এই সংখ্যার জন্য পাঠাবেন না।)   একসঙ্গে মেলবডিতে লিখে বা পেস্ট করে পাঠাবেন।  একই লেখা দুটি মেল আইডিতেই ( nabapravat.online@blogger.com এবং nabapravatblog@gmail.com)  পাঠাতে হবে কথাটা স্মরণে রাখবেন।      সাবজেক্ট লাইনে লেখার শিরোনাম ও আপনার নাম লিখবেন।  প্রয়োজনে কথা বলতে পারেন এই নম্বরে : ৯৪৩৩৩৯৩৫৫৬ (নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত) ............................. সূচিপত্র ----------------- প্রেমের অনন্ত অনুরণন : ক্রিস্টোফার মার্লো ও কাজী নজরুল ইসলাম ।। আহমেদ বেলাল ২৯ জুলাই : বিদ্যাসাগর—একটি যুগের বিবেক, একটি আলোর নাম ।। উৎপল সরকার যাত্রা এবং ফাত্রা লোক ।। অরবিন্দ পুরকাইত দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম দক্ষিণ-পূর্ব এশি...

ছোটগল্প ।। নীলিমার আত্মজাগরণ ।। পরেশ চন্দ্র মাহাত

নীলিমার আত্মজাগরণ পরেশ চন্দ্র মাহাত নীলিমা মাহাত, বয়স পঁচিশ প্লাস —তার বাবা মায়ের পঞ্চম তথা শেষ সন্তান। দুই দাদা —বড়দাদা শঙ্কর ও ছোটদাদা বিজয়। বড় দাদা শঙ্কর আর দুই দিদি তাদের কিন্তু বিয়ে হয়ে গেছে। একমাত্র নীলিমা আপাতত স্বামীর কোমল হাতের স্পর্শ ও সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত এবং আদৌ কবে অথবা সেই সৌভাগ্য আসবে সেটা ঈশ্বরের নিকটই একমাত্র জ্ঞাত। সেই সঙ্গে দুবছরের সিনিয়র ছোটদাদা বিজয়েরও নীলিমার মতো অবস্থা। তারও জীবনসঙ্গিনী জুটেনি। মোট সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সংসার নীলিমাদের পরিবার। মধ্যবিত্ত পরিবার —মধ্যবিত্ত পরিবার না বলে যদি নিম্নবিত্ত বলা হয় তবুও কোনো অত্যুক্তি করা হয় না। বাবার প্রত্যেকদিনের আয়ের উপর ভিত্তি করেই চলে সংসার। এই কঠোর এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও নীলিমার মা শ্রীমতী মেনকা‚ সংসার সামলে তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনার প্রতি যথেষ্ট তৎপর ও সহানুভূতিশীল। তাদের পড়াশুনায় কোনো খামতি রাখেননি। যথা সময়ে তাদেরকে বিদ্যালয়ের মুখ দেখিয়েছে – টিউশনের বন্দোবস্ত করেছে। তাদের জীবন যাতে সুখকর হয় সেটাই প্রতিদিন ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছে। পাঁচ-পাঁচটি ছেলেমেয়ের মধ্যে সবাইকে উচ্চশিক্ষিত করে তোলা একপ...

প্রচ্ছদ ও সূচিপত্র ।। ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬

নবপ্রভাত ১০০তম সংখ্যা ।। আষাঢ় ১৪৩৩ জুন ২০২৬ এই সংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলোর মধ্যে প্রতি বিভাগের একজন করে নির্বাচিত লেখককে নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে সম্মান জানানোর কথা আছে। সেই নামগুলো আগামী সংখ্যার সূচিপত্রের সঙ্গে প্রকাশিত হবে। (পাঠক হিসাবে আপনিও জানাতে পারেন আপনার ভালোলাগার কথা।) ---নিরাশাহরণ নস্কর, সম্পাদক, নবপ্রভাত। সূচিপত্র  প্রবন্ধ-নিবন্ধ-ফিচার  প্রবন্ধ  ।। ভয় ।। শ্রীশুভ্র প্রবন্ধ ।। প্রবীণ জনগণ ।। শ্যামল হুদাতী একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশ... প্রবন্ধ ।। ধাঙড় ।। মোঃ চাঁন মিয়া ফকির প্রবন্ধ ।। অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো ।। কুহেলী... প্রবন্ধ ।। নারীর সম্মান ও অধিকার — অলীক কল্পনা, না... আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক প... প্রবন্ধ ।। কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার ।। সুমন বিপ্লব     ফিচার ।। চা দিবস ।। অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়   ফিচার ।। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্...   রম্যনাটিকা ।। পাত্র দেখা ।। সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়   ভ্রমণকাহিনি মাজান্দারান: কাস্পিয়ান সাগরের তীর... ঝরণার গান শুনতে ।। ...

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা

  ১০০তম সংখ্যার বাছাই ৩টি লেখা (লেখা ও লেখকের নামে ক্লিক করলে লেখাগুলি পড়া যাবে) প্রবন্ধ একাকীত্বের ছাদ থেকে পতন : অনিক দত্ত ও মানুষের নিঃশব্দ ভাঙনের গল্প ।। উৎপল সরকার গল্প  দহনবৃত্ত ।। দিব্যেন্দু ঘোষ কবিতা আমন, সন্ধি, কৃষক উবাচ ।। বিকাশ দাশ (তিনজন লেখককে অভিনন্দন।  পূর্ব ঘোষণামতো নবপ্রভাতের পক্ষ থেকে তাঁদের পুরস্কৃত করা হবে।  –  সম্পাদক, নবপ্রভাত। ) ....................... ১০০তম সংখ্যার পূর্ণাঙ্গ সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/06/cover-n-contents.html ১০১তম সংখ্যার  পূর্ণাঙ্গ  সূচিপত্র :  https://www.nabapravat.com/2026/08/cover-n-contents.html

বিজয়ন্ত সরকার

    নির্ভয়া খুঁড়ে আসা শরীরে লাগায় স্রোত তীব্রতা কোনোদিন লগ্নজাত ছিলনা, জরা হয় লুঠ । বিক্রি হয়ে যাওয়া খবরটা পুরোনো থেকে তোলপাড়... যেভাবে সময় উপত্যকা আজ । ওরা টেনে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে দিলেই ক্ষেপনাস্ত্র যৌবন পায় । এরপর একবগগা... অজ্ঞাত চুমুর বদলে চিরে-ছিঁড়ে দিতে হয় । ধর্ম পেট না ভরাতে পারলে জল হয়ে যাক । সাহস বেঁধে-বেঁধে সাঁকো, বিনিময়ে প্রজাপতির ভিড় বাড়ুক । ...এবং মাথা নুইয়ে নেওয়াদের ইন্তেকাল । পাতায়-শাখায় দেখা মনোত্তমা ঝরা-ঘাম শিউলি... দিনশেষে পাতে রোদ সাজায় রোধহীন । কাল্পনিক চরিত্ররা এখনও চোখে চোখ ঠুকেই বেঁচে থাকে স্বরচিত ।                     ........................ বিজয়ন্ত সরকার মিলন পাড়া, রায়গঞ্জ উত্তর দিনাজপুর

কবিতাগুচ্ছ ।। “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে… ।। আবদুল্লাহ আল আদীব

কবিতাগুচ্ছ: “বাংলাবিদ”: অনামা আলোর বিচ্ছেদে…  আবদুল্লাহ আল আদীব তোমাকে ভালবাসি বলেই… বন্ধুবরেষু “বাংলাবিদ”, আমার কোমল প্রাণ মৌমাছি, অতি নরম-স্নিগ্ধ রোদে হেসে ওঠা মুক্তোদানা শিশির- দুঃখ করো না। তোমাকে ভালবাসি বলেই আজ এই দূরত্ব— যেন আমার কোন কিছু তোমার ক্ষতি না করতে পারে! তোমাকে ভুলিনি— তুমি আমার অন্তরের ইচ্ছের অন্তঃপুরে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে বসে আছো, এ যেন সভ্যতার এক ধ্বংসাবশেষ। প্রতিটি নিঃশ্বাসে তোমার নাম প্রকম্পিত হয়, যেন ধারালো ছুরি বুক চিরে রক্ত ঝরায়। ভুলতে চেয়েছি— কিন্তু স্মৃতিগুলো আমার রক্তে জমাট বেঁধে আছে, যেন পাথরখচিত প্রাচীন লিপি। তুমি হয়ে গেছো আমার নীরব কান্না, প্রতিটি লিখতে না পারা কবিতা আমার ভাঙা আত্মার লুকানো আর্তনাদ। তোমার স্পর্শ নেই, নেই আমাদের সম্পর্কের কোন নাম— তবু তুমি আছো অদৃশ্য, অমোঘ, যেন প্রতিটি ক্ষতচিহ্নে চিরন্তন বসবাস করা এক নিঃশব্দ মৃত্যু। ক্ষত-নিবদ্ধ বাঁশি… প্রিয় “বাংলাবিদ” আমার, কি এক আশ্চর্য সমর্পণ তন্ময়তা, মোহময় আকর্ষণ, বকুলের বিহ্বল ঘ্রাণ তোমার সত্তায়! তোমার বিস্তীর্ণ গালিচা থেকে বিদীর্ণ হয়ে আজ আমি বিচ্ছেদের নিঃ...

যেখানে শিকড় রয়ে গেছে ।। কাবেরী মিত্র

যেখানে  শিকড় রয়ে গেছে কাবেরী মিত্র কিছু দরজা শুধু কাঠের হয় না, স্মৃতির ও হয় একবার খুললেই বহু বছরের চাপা পড়ে থাকা জীবন আবার ভীড় করে সামনে এসে দাঁড়ায়  "যেখানে শিকড় রয়ে গেছে"   প্রায় পঁচিশ বছর পর নীলা ফিরে এলো তার ছেড়ে যাওয়া শিকড়ের কাছে। বাইরের ভারী দরজাটা দু'হাত দিয়ে ঠেলে খুলতেই ক্যাঁচ করে এক বিকট শব্দ তুলে খুলে গেল। নীলা ধীরে ধীরে ভিতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর! অথচ মনে হলো, সময় যেন এই বাড়ির উঠোনে এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে। আজও একইভাবে দাঁড়িয়ে আছে উঠোনের একধারে নিজে থেকে বেড়ে ওঠা সেই শিউলি গাছটা। শরৎ এলেই যার ফুলের গন্ধে চারদিক ভরে উঠত। সেই গন্ধই যেন জানিয়ে দিত—মা দুর্গা আসছেন। ভোরবেলা ফুল তোলা নিয়ে নীলা আর ওর বোনের মধ্যে রোজ ঝগড়া বাঁধত। কেউই এত সকালে ঘুম থেকে উঠে ফুল তুলতে রাজি হতো না। অথচ ঠাম্মির হুকুম—দুই বোনকেই ফুল তুলতে হবে। দেখতে দেখতে মহালয়ার দিন এসে যেত। ভোরবেলায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুরু হতেই সারা বাড়ি যেন এক মঙ্গলময় আবহে ভরে উঠত। সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যেত মা, কাকিমা আর জেঠিমাদের ব্যস্ততা। পুজোয় আসা অতিথিদের জন্য নানারকম মিষ্টি তৈরির ধুম পড়ে ...

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা ।। আবদুস সালাম

দাদা ঠাকুর ও কাজী নজরুলের দ্বিমুখী সখ্যতা আবদুস সালাম কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে দাদাঠাকুরের পরিচয় কীভাবে হয়, সেই প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন আবদুল আযীয আল-আমান। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, নলিনীকান্ত সরকার মহাশয়ের মাধ্যমে দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম পরিচয় হয়। নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তখনও প্রকাশিত হয়নি। মোসলেম ভারতে প্রকাশিত কবির কয়েকটি কবিতা নিয়ে বাংলার সাহিত্যিক, কবি, পাঠক, সমালোচক মহলে রীতিমতো উঠেছে আলোড়ন। সেই সময় দাদাঠাকুরের সঙ্গে নজরুলের প্রথম আলাপ। *"দাদাঠাকুর" ওরফে শরৎচন্দ্র পণ্ডিত – ১৯ শতকের শেষ আর ২০ শতকের প্রথম দিকের এক তুখোড় ব্যঙ্গকার, সাংবাদিক এবং নাট্যকার। উনার "জঙ্গম" পত্রিকা তখন কলকাতার সাহিত্য-রাজনীতির আখড়া ।সবাই মুখিয়ে থাকতো কখন আসছে “জঙ্গম”। সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আর শ্লেষাত্মক ছড়া। কাজী নজরুল ইসলাম তখন সদ্য সাহিত্য জগতে এসেছেন। এসেই সাহিত্যের আঙিনায় তুলেছেন ঝড়। অসহ্য।কোথাকার এক গেঁয়ো- ভূত এসে তছনছ করে দিচ্ছে সব হিসেব । কিছুতেই কেউ যেন মেলাতে পারছে না অঙ্ক ।বিভিন্ন আলাপ আলোচনা ও সমসাময়িক বহু কলমচীর কথায় উঠে আসে দাদা ঠাকুর ও নজরুল প্রসঙ...

বাংলা সাহিত্যের সেরা কয়েকটি চরিত্র ।। মানস কুমার সেনগুপ্ত

বাংলা সাহিত্যের সেরা কয়েকটি চরিত্র মানস কুমার সেনগুপ্ত সাহিত্যের পাতা থেকে চলচ্চিত্রের পর্দায় চিত্রায়িত কিছু সেরা চরিত্র আজও আমার মনের মণিকোঠায় ভীড় করে আসে।  কিশোর বয়সে দেখেছিলাম মনোজ বসুর আংটি চাটুজ্যের ভাই' অবলম্বনে নির্মিত 'পলাতক ' ছায়াছবি ‌। ছবির মূল চরিত্র বসন্ত জমিদার বাড়ির সুখ আরাম বিসর্জন দিয়ে গ্রামের পথে, মুক্ত প্রকৃতির মাঝে নিজেকে সঁপে দিতে চেয়েছে। গানপাগল বসন্ত চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে একাত্ম করে নিয়ে ভেবেছি, এমনটা যদি আমি পারতাম। ছবিতে বসন্ত জীবন পথের পথিক হয়ে সংসার ছেড়ে, ঠিকানাবিহীন হয়ে বেরিয়ে পড়েছিল মনের খবর খুঁজতে।  রবীন্দ্রনাথের 'অতিথি ' গল্প নিয়ে নির্মিত ছায়াছবির মূল চরিত্র তারাপদও কৈশোরকালেই বেড়িয়ে পড়েছিল ঘরের বাঁধন ছেড়ে। মুক্ত প্রকৃতির কোলে তারাপদর সঙ্গে গেয়ে উঠেছি-' 'এই আকাশে আমার মুক্তি আলোয় আলোয়, আমার মুক্তি ধূলায় ধূলায় ঘাসে ঘাসে।  যৌবনকালে দেখা রমাপদ চৌধুরীর উপন্যাস 'বনপলাশীর পদাবলী অবলম্বনে নির্মিত ছায়াছবির মূল চরিত্র উদাস গেয়ে উঠেছে -' মনের কথা কারে বলি আর,...

লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি : মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা ২০২৫

   মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  লেখা-আহ্বান-বিজ্ঞপ্তি মুদ্রিত  নবপ্রভাত  বইমেলা ২০২৫ সংখ্যার জন্য  প্রবন্ধ-নিবন্ধ, মুক্তগদ্য, রম্যরচনা, ছোটগল্প, অণুগল্প, কবিতা ও ছড়া পাঠান।  যে-কোন বিষয়েই লেখা যাবে।  শব্দ বা লাইন সংখ্যার কড়াকড়ি বাঁধন  নেই। তবে ছোট লেখা পাঠানো ভালো,  তাতে অনেককেই সুযোগ দেওয়া যায়।  যেমন, কবিতা/ছড়া ১২-১৬ লাইনের মধ্যে, অণুগল্প/মুক্তগদ্য কমবেশি ৩০০/৩৫০শব্দে, গল্প/রম্যরচনা ৮০০-৯০০ শব্দে, প্রবন্ধ/নিবন্ধ ১৫০০-১৬০০ শব্দে। তবে এ বাঁধন 'অবশ্যমান্য' নয়।  সম্পূর্ণ অপ্রকাশিত লেখা পাঠাতে হবে। মনোনয়নের সুবিধার্থে একাধিক লেখা পাঠানো ভালো। তবে একই মেলেই দেবেন। একজন ব্যক্তি একান্ত প্রয়োজন ছাড়া একাধিক মেল করবেন না।  লেখা  মেলবডিতে টাইপ বা পেস্ট করে পাঠাবেন। word ফাইলে পাঠানো যেতে পারে। লেখার সঙ্গে দেবেন  নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন ও whatsapp নম্বর। (ছবি দেওয়ার দরকার নেই।) ১) মেলের সাবজেক্ট লাইনে লিখবেন 'মুদ্রিত নবপ্রভাত বইমেলা সংখ্যা ২০২৬-এর জন্য'।  ২) বানানের দিকে বিশেষ নজর দেবেন। ৩) য...