
বাংলা পঞ্জিকার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
তুষার ভট্টাচার্য
আধুনিক এই ডিজিটাল যুগেও বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বিক্রিত বই হচ্ছে বাংলা পঞ্জিকা। নতুন বঙ্গাব্দ বছর শুরু হবার আগে থেকেই হাটে বাজারে বইয়ের দোকান, মুদিখানার দোকানে বাংলা পঞ্জিকা বিক্রি হয় হট কেকের মতো। দোকান পাটের বাইনব রে জনবহুল বাস স্ট্যান্ড, ট্রেনেও অনেক হকার বন্ধু বিক্রি করেন নতুন বছরের বাংলা পঞ্জিকা। এই বাংলা পঞ্জিকা এখনও কলকাতার বই পাড়া কলেজ স্ট্রিটের সবচেয়ে বেস্ট সেলার।
বাংলা সালের বা বঙ্গাব্দের পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করেই নতুন পাঁজি বা পঞ্জিকা ছাপা শুরু হয় আজ থেকে প্রায়২০৬ বছর আগে। ১৮১৮খ্রিস্টাব্দ নাগাদ প্রথম বাংলা ভাষায় মুদ্রিত পঞ্জিকা ছাপা শুরু হয়। এরপরে ১৮৩৫খিস্টাব্দে কলকাতার দীনবন্ধু প্রেসের পঞ্জিকা বাংলার ১২ মাসের শুভাশুভ দিনক্ষণের তালিকা ভাষায় সংগৃহীত করে প্রকাশ করে।
সেই সময়ে ১বৈশাখে নতুন পাঁজি কিনে বাড়িতে পাঠ করার জন্য পাঁজিতেই নির্দেশ দেওয়া থাকত এরকমভাবে -
"শুনিবেক শুদ্ধ চিত্তে শুদ্ধান্বিত মনে
পূর্ণ পাত্র সম্মুখে বেষ্টিত বন্ধুগণ
ফলপুষ্প হস্তে করি পঞ্জিকা শ্রবণ
শ্রবণেতে সবার আয়ু বৃদ্ধি হয়
নৃপ নাম শ্রবণেতে রাজপীড়া ক্ষয়।"
বস্তুতপক্ষে এত বছর পেরিয়ে যাবার পরেও বাংলা পঞ্জিকার চাহিদা এই আধুনিক সময়েও একটুও কমেনি l এখনও হাটে বাজারে দোকানপাটে ঘুরলেই দেখতে পাওয়া যায় গুপ্ত প্রেস, ডাইরেক্টরি প্রেস বেণীমাধব শীল, বেণীমাধব ভট্টাচাৰ্য, মদন গুপ্তের পঞ্জিকা l
সাম্প্রতিককালে বাংলা নববর্ষ, পয়লা বৈশাখ আসার অনেকদিন আগে থেকেই বাজার হাটে নতুন বছরের বাংলা পঞ্জিকা চলে আসে l তবে এই আবহে কিছুটা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে l ইদানীং বাংলা পঞ্জিকাও ডিজিটাল মাধ্যমে অর্থাৎ গুগুল, ফেসবুক প্রভৃতি ডিজিটাল মাধ্যমে ক্লিক করলেই পাওয়া যাচ্ছে l এতে করে অদূর ভবিষ্যতে মুদ্রিত পঞ্জিকার বিক্রিবাটা অনেকটাই কমে যাবে বলে প্রকাশকরা মনে করছেন ।
আধুনিক এই অফসেট মুদ্রণের যুগে বাংলা পঞ্জিকাগুলির নিউজ প্রিন্টে বিবর্ণ কালিতে ছাপা নিতান্তই ম্যাড়মেড়ে রয়ে গেছে এখনও l যে বাংলা পঞ্জিকার বিক্রি প্রচুর পরিমাণে হয় সেই পঞ্জিকাগুলি এখনও ভাষা বিন্যাসে মুদ্রণ সৌকর্যে আদৌ আধুনিক নয় l বিপুল সংখ্যক পাঠকদের বা ক্রেতাদের জন্য বাংলা পঞ্জিকা আরও চিত্রাকর্ষক আকর্ষণীয় করে ছাপানো উচিৎ বলে মনে হয়।
.............................
তুষার ভট্টাচাৰ্য
বহরমপুর
মুর্শিদাবাদ
Comments
Post a Comment