হালখাতা
সেখ জিয়াউর রহমান
সবারই বুকের বাঁ পকেটে একটা হালখাতা রাখা থাকে
সেখানে লেখা -
মিনুর মা'কে চার চামচ নুন, ছোট জা বোনের বিয়েতে মিনাকরা বড়ো নেকলেসটা নিয়ে একমাস পর ফেরত দিয়েছিলো,
কেউ লিখে রাখে -
"ঠাকুরপো ওই দিকেই তো যাবে তোমার দাদার খাবারটা একটু নামিয়ে দেবে!"
আরও কত কী-
রামুর ভূষিমাল দোকানে একশো টাকা বাকি
সেও হালখাতার কার্ড পাঠিয়েছে,মলিন কাগজে গণেশের ছবি ছাপা,
দেবে তো সেই দশ বারোটা বোঁদে একটা নিমকি আর একটা গজা
সবই হিসাবে বাঁধা!
আচ্ছা মেঘ তো কোনোদিন কার্ড পাঠায়নি!
চুড়ুই পাখি,
নাম না জানা ওই ফুলটা সন্ধেবেলা মন ফুরফুরে করে দেয় যে
বা ওই সাঁওতালি বাঁশিওয়ালা!
হিসেবের খাতায় কত পাওনা জমা হলো
কে জানে!
তোমার-আমার হিসেব খোলা খাতা —
পাতা উল্টালেই দেখি
কত না-দেওয়া, কত না-পাওয়া
এই খাতা কখনো যেন বন্ধ না-হয়,
নইলে কোনো একদিন
তুমি খাতা ছুঁড়ে ফেলে বলবে—
"আমার জন্যে কী করেছো?"
তখন—
সমস্ত না-লেখা ভালোবাসা,
সব গোপন স্পর্শ,
সব নিঃশব্দ পাশে থাকা—
হাওয়ায় ভেসে যাবে,
আর আমরা দাঁড়িয়ে থাকবো
একটি শূন্য হিসেবের সামনে...
...................................
সেখ জিয়াউর রহমান
পূর্ব বর্ধমান, মনোহর সুজাপুর
৭১৩৪০৬

Comments
Post a Comment